📄 তাগুতের প্রভাব
তাগুত হলো আল্লাহ বিরোধী শক্তি, এবং সেটা কোন মানুষও হতে পারে অথবা মানুষের তৈরী আইন-কানুনও হতে পারে।
তাগুত বলতে সুস্পষ্টভাবে এমন শাসককে বুঝায় যে নিজে আল্লাহর আইন মানে না এবং অন্যকেও না মানতে বাধ্য করে। এবং যে আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য কোন আইন অনুযায়ী ফায়সালা করে। আবার তাগুত বলতে এমন বিচার ব্যবস্থাকে বুঝানো হয়েছে যা আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার আনুগত্য করে না এবং আল্লাহর কিতাবকে চূড়ান্ত সনদ হিসেবে স্বীকৃতিও দেয় না।
তাই তাগুত অর্থ হলো যে কোন আল্লাহ বিরোধী বিদ্রোহী শক্তি। কাফির ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করে মাত্র। কিন্তু তাগুত মানুষকে আল্লাহর দাসত্ব করতে বাধা দেয়, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার আনুগত্য করতে বাধ্য করে এবং রাষ্ট্রে ইসলাম-বিরোধী কার্যক্রম বিস্তার করতে সহায়তা করে। তাগুতের ভালো উদাহরণ হলো ফিরাউন যে মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য করতে বাঁধা দিত। আল কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, হে নাবী! তুমি কি তাদেরকে দেখোনি, যারা এই মর্মে দাবী করে চলছে যে, তারা ঈমান এনেছে সেই কিতাবের প্রতি যা তোমার ওপর নাযিল করা হয়েছে এবং সেই সব কিতাবের প্রতি যেগুলো তোমার পূর্বে নাযিল করা হয়েছিল; কিন্তু তারা নিজেদের বিষয়গুলোর ফায়সালা করার জন্য 'তাগুতে'র দিকে ফিরতে চায়, অথচ তাদেরকে তাগুতকে অস্বীকার করার হুকুম দেয়া হয়েছিল? শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে সরল সোজা পথ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। (সূরা আন নিসা ৪:৬০)
কুরআনের দৃষ্টিতে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ও আল্লাহ বিরোধী তাগুতকে অস্বীকার করা, এ দু'টি বিষয় পরস্পরের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত (Interconnected)। আল্লাহ ও তাগুত উভয়ের সামনে একই সাথে মাথা নত করাই হচ্ছে সুস্পষ্ট মুনাফিকী।
📄 বিভিন্ন ফিলোসফি বা মতবাদের প্রভাব
এগুলো শত শত বছরের আনইসলামী চিন্তাধারা। তর্ক শাস্ত্র (লজিক), - বিভিন্ন রকম ইজম যেমন : কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম, সেক্যুলারিজম; বিভিন্ন রকম ফিলোসফি যেমন : গ্রীক ফিলোসফি, পারসিয়ান ফিলোসফি, সম্রাট আকবরের প্রতিষ্ঠিত দ্বীন-ই-ইলাহী; বিভিন্ন রকম সংস্কৃতি যেমন : ধ্রুপদী সংস্কৃতি, লালন সংস্কৃতি; বিভিন্ন রকম কলা যেমন : শিল্পকলা, ললিতকলা ইত্যাদিও আমাদের সন্তানদের উপর দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ফেলে আসছে।
ফিলোসফি মানে হচ্ছে অলীক, অস্তিত্বহীন বস্তুর পেছনে ধাওয়া করা। যেমন বলা হয়ে থাকে : Philosophy is like searching for a black cat in a dark room where the cat is absent. ফিলোসফি হচ্ছে কল্পনা, যার সঠিক কোন ভিত্তিই নেই। এসব মানুষের জীবনে কোনই কাজে আসে না। বরং সেসব মানুষকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দেখানো সরল- সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে নয়, পথভ্রষ্ট করে দেয়।
📄 শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রভাব
স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির অনেক শিক্ষকরাই নাস্তিক অর্থাৎ আল্লাহকে বিশ্বাস করেন না। এই সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মহান আল্লাহ তা'আলা যথেষ্ট ট্যালেন্ট দিয়েছেন অথচ তাদের এই ট্যালেন্টকে তারা আল্লাহ যে নেই তা প্রমাণ করার কাজে ব্যয় করেন। তাদের ট্যালেন্ট ও নানা ধরনের গুণের কারণে এক শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী অনুসরণ করে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকারকারী ধর্মবিরোধী নাস্তিকে পরিণত হয়।
আবার দেখা যায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকারা নাস্তিক নয় অর্থাৎ তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করেন কিন্তু আল্লাহকে মানেন না। ইসলামের কথা শুনলেই তাদের মাথা ব্যথা করে। তারা আসলে ইসলাম বিদ্বেষী।
📄 স্কুল-কলেজের প্রভাব
স্কুল ম্যানেজমেন্ট যদি ইসলামী মনমানসিকতার না হয় তাহলে তাও শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
যেমন, স্কুলে যদি যোহর ও আসর সলাতের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে তো তা কারোরই পড়া হয় না। তার উপর যদি স্কুল থেকেও কোন চাপ না থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই।
কোন কোন স্কুলের কর্তৃপক্ষ মেয়েদেরকে হিজাব করতে দেয়া হয় না, ছাত্রীদেরকে বেপর্দা হতে বাধ্য করে।
এতো গেল বাংলা মিডিয়ামের স্কুলগুলোর কথা। কিন্তু নন-ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর অবস্থাতো আরো খারাপ। সেখানে তো ইসলাম চর্চা করার কোন সুযোগই নেই, যদি কোন ছেলেমেয়ে আগে থেকে কিছুটা ইসলামী মনমানসিকতার হয়েও থাকে তাহলে তাও তারা দিন দিন হারিয়ে ফেলে।
আমরা যারা ইসলাম প্রাকটিস করি, সন্তানদের স্কুল নির্বাচনে যথেষ্ট সচেতন থাকবো। বাংলাদেশের ৭ বছরের দু'টি মেয়ের ঘটনা না বলে পারছি না। মেয়ে দু'টি তাদের স্কুলকে খুব ভালোবাসতো। চমৎকার সেই স্কুলের পাঠ দান পদ্ধতি। টিচারগণও খুব আপন যোগ্যতা সম্পন্ন। অনেক প্রশংসা ঐ স্কুলের। ঐ স্কুলে ৪ বছর ধরে অধ্যয়ন করে আসছিলো তারা। ৭ বছরের মেয়ে একদিন তার টিচারকে প্রশ্ন করেছিলো অনেকটা এভাবে "এই স্কুলের মেয়েরা তো হিজাব করে না। আমি এখন মাঝে মাঝে হিজাব করি। যখন বড় হবো তখন সব সময় হিজাব করবো ইন্শাআল্লাহ। আমি কি তখন স্কুলেও হিজাব পড়ে আসতে পারবো?” এমন প্রশ্নের উত্তরে টিচার বলেছিল "না"। এই ঘটনা ছাড়াও আরো কিছু Anti-Islamic কার্যকলাপের জন্য এত পছন্দের আর ভালোবাসার স্কুল ত্যাগ করার জন্য মেয়ে দুটি তাদের মা-বাবাকে জানায়। এবং পরের বছরেই তারা অন্য স্কুলে চলে যায় যেখানে ইসলামী পরিবেশ আছে।