📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 দিন দিন টিভি সিরিয়ালের আমূল পরিবর্তন

📄 দিন দিন টিভি সিরিয়ালের আমূল পরিবর্তন


আগে আমাদের দেশে একটি মাত্র টিভি চ্যানেল ছিল যা হচ্ছে বিটিভি। বুঝার সুবিধার্থে আমরা দুই একটা বিষয় উদাহরণস্বরূপ আনতে পারি। যেমন, বিটিভিতে একসময় ছায়াছন্দ নামে মাসে একটি গানের অনুষ্ঠান দেখানো হতো। তাও অনুষ্ঠানটি দেখানো হতো রাত ১০টার ইংরেজী সংবাদের পর যখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পরে। আমরা জানি যে তখনকার যুগে বাংলাদেশী সিনেমাগুলোও ছিল অনেকটা শালিন। শালিন বলে দাবি করে এটাও বলতে চাইছি না যে সেগুলি ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েয ছিল। কিন্তু অন্তত শালিনতা ছিলো। ছায়াছন্দে যদি কোন নাচ-গান একটু অশালিন মনে হতো তাহলে পরিবারের বড়রা তা নিজেরাও দেখতেন না এবং অন্যদেরকেও দেখতে দিতেন না, টিভি বন্ধ করে রাখতেন। তখন বিটিভিতে মাসে মাত্র একটি বাংলা সিনেমা দেখানো হতো তাও বেশীরভাগ সময় সামাজিক। বিটিভিতে সপ্তাহে একটি বা দুটি শালিন ইংরেজী মুভি বা সিরিয়াল দেখানো হতো। বিটিভি যে কোন ইংরেজী মুভি প্রচারের আগে নিজেদের সেন্সরবোর্ড দ্বারা আগে দেখে নিতো এবং যদি কোন অশালিন দৃশ্য থাকতো তা তারা কেটে নিতো। এখন এই যুগে মুসলিম ঘরে ঘরে শতশত অশালিন চ্যানেল, পরিবারের সবাই মিলে কী উপভোগ করছে পূর্বের সাথে তুলনা করে তা কি একটি বার চিন্তা করে দেখেছি যে আমরা কোথায় পৌঁছে গেছি?
এভাবে দিন গড়িয়ে বছর কেটে যাচ্ছে আর আমরা ধবংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি! ঘরে ঘরে একসময় আসলো ভিসিপি, তারপর আসলো ভিসিআর, তারপর আসলো সিডি প্লেয়ার, তারপর ডিভিডি প্লেয়ার, আরও আধুনিক কিছু ইত্যাদি। একসময় আমাদের দেশের লোকেরা মিডিলিষ্টে চাকুরী করতেন। তারা যখন দেশে আসতেন তখন বিদেশ থেকে আর কিছু আনেন আর নাই আনেন সবাই সাথে করে অন্ততপক্ষে একটি ভিসিয়ার নিয়ে আসতেন। এই শুরু হয়ে গেল মুসলিম ঘরে ঘরে শয়তানের অশ্বিল নাচ-গান। আমরা ছোটবেলায় মিডিলিষ্ট থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে শুনেছি যে, হিন্দি ক্যাসেটের বদৌলতে আরবের লোকেরা নাকি অনর্গল হিন্দিতে কথা বলতে পারে, ঐ দেশের একটি ছোট বাচ্চাও অমিতাভ বচ্চনকে চিনে! এটি আশির দশকের কথা।
দিন আরো গড়াতে থাকলো! আমরা উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি! তার পরের উন্নতি হচ্ছে ঘরে ঘরে, বাসে, ট্রেনে, নাইট কোচে, লঞ্চে, স্টিমারে, হোটেলে, রেস্টুরেন্টে, চায়ের দোকানে, গ্রামে, হাটে, বাজারে সর্বত্রই একই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে- "হাওয়া হাওয়া ও হাওয়া খুশবু লুটাদে......"। শুনেছি যে এই জনপ্রিয় গানের কথাগুলোর অর্থ ভাল নয়। যাহোক দেশের বা সমাজের এই যে উন্নতি (?), এতে আমরা মুসলিম পরিবারের লোকেরা কিছুই মনে করছি না!
হিন্দি সিনেমার গানের টপ টেন আর ড্যান্স ড্যান্স অনুষ্ঠান মুসলিম ঘরে ঘরে ঢুকে গেল। সাধারণত আইটেম সং বা সবচেয়ে যৌন আবেদনময়ী হিন্দি সিনেমার গানগুলোই হয় টপ টেন। কোন কোন বাংলাদেশী চ্যানেলে অনুষ্ঠানের মাঝে মাগরিবের আযান দেয়, পরিবারের কেউ কেউ ড্যান্সের মাঝে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে মাগরিব পড়ে এসে আবার বসে রিমোট হাতে। যে নাকি ড্যান্সের মাঝে ছিল মাগরিবের সলাতের মধ্যে তো তার চোখে ঐ দৃশ্যই ভাসার কথা। এক প্রতিবেশী আপাকে দেখতাম তিনি তসবীহ হাতে গুনছেন আর একের পর এক হিন্দি সিনেমা দেখে সময় কাটাচ্ছেন। যাহোক আমরা যে মুসলিম পরিবারগুলো কী করছি তা হয়তো নিজেরাই জানি না। প্রায় প্রতিটি মুসলিম পরিবারেই সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেল।
বিবেকবান পিতামাতার শিক্ষণীয় হিসেবে বর্তমানের টিভিতে প্রচারিত একটি নাটকের ঘটনা তুলে ধরা যাক। নাটকের নায়িকা তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে অবৈধ সম্পর্কের কারণে প্রেগনেন্ট হয়ে গেছে। বেশ কয়েকদিন যাবত বয়ফ্রেন্ড নায়িকার সাথে যোগাযোগ করছে না, তাই নায়িকা বয়ফ্রেন্ডের খোঁজে তার এপার্টমেন্টে গেছে। সেখানে গিয়ে সে তার রুমমেট থেকে জানতে পারলো যে তার বয়ফ্রেন্ড এই বাসা ছেড়ে চলে গেছে! যাহোক নায়িকার পেটের সন্তান কিছুটা বড় হয়ে যাওয়াতে সে আর নিজের বাসায়ও ফিরে যেতে চাচ্ছে না। নায়িকা এবার তার বয়ফ্রেন্ডের রুমমেটের সাথেই বসবাস করা শুরু করলো। এবার রুমমেট নায়িকাকে প্রস্তাব দিচ্ছে গর্ভপাত করে ফেলার জন্য। কিন্তু নায়িকা এতে রাজি না। তখন রুমমেট নায়িকাকে প্রশ্ন করছে, লোকে যখন জিজ্ঞেস করবে যে এই সন্তানের পিতা কে তখন তুমি কী বলবে? নায়িকা উত্তর দিচ্ছে, বলবো "ঈশ্বরের সন্তান"। পাঠক আমি হয়তো সচেতন। আমি হয়তো এমন নাটক/সিনেমা দেখি না। কিন্তু আমি কি নিশ্চিত যে, আমার সন্তান এমন নাটক/সিনেমা দেখছে না? যদি নিশ্চিত না হই তাহলে একবার ভেবে দেখি আমাদের সন্তানরা কি ধরনের কন্টেন্ট গ্রহণ করছে! কতো ভয়ংকর দিকে চলে যাচ্ছে একের পর এক ভবিষ্যত প্রজন্ম।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 নাটক-সিনেমার মাধ্যমে ব্রেইনওয়াশ

📄 নাটক-সিনেমার মাধ্যমে ব্রেইনওয়াশ


আমরা জন্মের পর থেকেই শিখছি যে 'সাদা' মানেই ভালর প্রতীক আর 'কালো' মানেই খারাপের প্রতীক। যেমন শোক দিবসে কালো ব্যাজ, কালো পতাকা, কালো পোশাক। আবার খারাপ দিনকে কালো দিবস বলা ইত্যাদি। একইভাবে ভালোর প্রতিক হিসেবে আমরা দেখছি সাদা, যেমন সাদা পোশাক, সাদা পতাকা, শান্তির প্রতিক সাদা পায়রা ইত্যাদি। অর্থাৎ দিনের পর দিন এমন ভাবে আমাদের মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে সাদা মানে ভাল আর কালো মানে খারাপ, যা মোটেও ঠিক নয়।
একইভাবে কিছু সংখ্যক ইসলাম বিদ্বেষী লোক দিনের পর দিন নাটক-সিনেমার মাধ্যমে আমাদের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে খারাপ চরিত্রের লোক মানেই মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি-পাগড়ী, গায়ে জুব্বা ইত্যাদি। ভাবখানা এমন যে হুজুর-মাওলানারা হলেন যত বাজে কাজের মূল। এই কাজ এক দিনের নয় দুই দিনের নয়, বছরের পর বছর ধরে করে আসছে। বাংলাদেশের ৮৩% লোক মুসলিম হয়েও তা দেখে আসছে, সহ্য করে আসছে। যারা নাটক-সিনেমার মাধ্যমে ইসলামকে এভাবে দীর্ঘদিন ধরে উপস্থাপন করে আসছে তাদের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশী নয় কিন্তু এরা বিশাল প্রভাব বিস্তার করে আসছে মিডিয়ার মাধ্যমে।
এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার মিডিয়ার মাধ্যমে এটাকে সাপোর্ট করে ধামাচাপা দিতে চান। যেমন তারা বলতে চান যে অনেক নাস্তিকের মুখেও তো দাড়ি আছে তাতে কী হয়েছে? হ্যাঁ, আমরা জানি অনেক নাস্তিকরা বড়বড় দাড়ি রাখেন, বড়বড় মোছ রাখেন, চুল কাটেন না। কবি রবীন্দ্র নাথের মুখেও দাড়ি আছে, শিখদের মুখেও লম্বা দাড়ি আছে, তারাও পাগড়ী পরেন, হিন্দুরাও পাঞ্জাবী-পায়জামা পরেন, ইহুদীরাও লম্বা দাড়ি রাখেন, মাথায় টুপি পরেন, খ্রিষ্টান পাদ্রিরাও মুসলিম ইমামদের মতো জুব্বা পরেন, খ্রিষ্টান নান মহিলারাও হিজাব এবং বোরকা পরেন। তাই বলে নাটক সিনেমায় যাদেরকে নিয়ে কটাক্ষ করা হয় সেই গ্রুল্প আর এই গ্রুপ এক নয়। এটা একটা কমনসেন্স যা সকলেই বুঝে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ভুল সংস্কৃতি চর্চা করার প্রভাব

📄 ভুল সংস্কৃতি চর্চা করার প্রভাব


শিরক হচ্ছে আল্লাহ-বিরোধী কাজ। মনে রাখতে হবে যে শিরকের গুনাহ আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করবেন না। আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে আমাদের মনে কালচার আর ফ্যাশনের নামে আল্লাহ-বিরোধী বিশ্বাস নিয়মিত ঢুকছে? যেমন, বৈশাখী মেলার নামে অনেক কাজকর্মই হয়ে থাকে যা সুস্পষ্ট শিরক এবং ইসলাম বিরোধী। বৈশাখী মেলার মঙ্গল শোভা যাত্রার জন্য যেসকল মূর্তি বানানো হয় তা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে আমরা সাধারণত কী ধরণের গান শুনে থাকি? রবীন্দ্র সঙ্গীত বলি, আর পল্লীগীতি বলি, আর মারফতি বলি, আর দেশাত্মবোধক বলি, আর লালনগীতি বলি, আর ব্যান্ড সঙ্গীত বলি এই ধরণের গানের অনেক কথাতেই রয়েছে শিরক!
রক সঙ্গীত: আজকালকার ছেলেমেয়েরা এটা খুব ভালবাসে। আমরা কি জানি এই রক সঙ্গীত (Rock music)-এর অনেক গায়করাই রীতিমতো ইবলিসের (শয়তানের) পূজা করে থাকে? এবং তাদের গানের কথাগুলো হচ্ছে ঐ শয়তানের ইবাদত? যেমন: এ ধরণের একটি গানের লাইন "হে আমার প্রভু শয়তান ... আমাকে টানতে টানতে হেলে (জাহান্নামে) নিয়ে যাও ....."। এই সকল রকষ্টারগণ বিভিন্ন সময় নানা ধরনের চ্যারিটি কাজও করে থাকে। আর আমাদের সন্তানদের চোখে এরা আদর্শ মানুষরূপে গণ্য হয়। আমরা যারা মা-বাবা আমাদের দায়িত্ব সন্তানের চোখের সামনে সত্য ও মিথ্যাকে তুলে ধরা。

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 মোমবাতি জ্বালানোর ইতিহাস

📄 মোমবাতি জ্বালানোর ইতিহাস


• স্যাটেলাইট টিভি আর ইন্টারনেটের বদৌলতে ঘরে ঘরে দেখেছি কিভাবে ভিন্ন ধর্মের মানুষেরা তাদের নিহত আত্মীয়স্বজনদের জন্য শোক প্রকাশ করে থাকে। যেমন তারা মৃতের জন্য ফুল দেয়, কার্ড দেয়, মোমবাতি জ্বালায়। তারপর থেকে আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে কিছু হলেই মোমবাতি জ্বালিয়ে নানা রকম শোক পালন বা উৎসব পালন করা হয়। এর আগে এই মোমবাতি জ্বালানোটা এতোটা প্রকট ছিল না। দিনের পর দিন এই মোমবাতি প্রজ্জ্বলন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মহল্লা, শহর, বিভাগ অর্থাৎ দেশের সর্বত্র পৌছে গেছে。
• অনেকেরই প্রশ্ন এই মোমবাতি জ্বালালে ক্ষতি কী? ইসলাম কেন এর বিরোধিতা করে? আসুন সংক্ষেপে এর ইতিহাস আলোচনা করি :
ইসলামী সন ৪০০ হিজরীর পূর্বেই সকল অগ্নিপূজকদের রাজ্যসমূহ মুসলিমদের দখলে এসে যায়। এরই মধ্যে 'বারামাকা' নামক এক শ্রেণীর অগ্নিপূজক প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে কিন্তু সত্যিকার অর্থে মনেপ্রাণে তারা অগ্নিপূজকই থেকে যায়। তাই এরা মুসলিমদের ছদ্মাবরণে অগ্নিপূজার এক নতুন পন্থা হিসেবে উদ্ভাবন করে শবে বরাত নামক বিদ'আতটি। 'সলাতুর রাগায়েব' নামে চালু করে একটি সালাত (নামায)। এই সালাত ১০০ রাক'আত। এটাই শবে বরাতের সালাত বা সালাত বলে খ্যাত। তারা এ সালাতের জন্য জাঁকজমকের সাথে মুসলিমদের লেবাসে মসজিদে হাজির হত, সাধারণ মুসলিমদের মত সালাত আদায় করতো, কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল অগ্নিপূজা।
এরা শবে বরাতে এই সলাতের জন্য মসজিদের ভিতরে ও বাইরে অসংখ্য আলো জ্বালাতো, সম্পূর্ণ মসজিদকে আলোতে ডুবিয়ে রেখে অগ্নিপূজার মন্দিরে পরিণত করতো। এভাবে আগুন দিয়ে গোটা মসজিদকে সাজিয়ে যখন সলাত আদায় করতো তখন তাদের চারদিকেই থাকতো আগুন। এই সলাত আদায় করার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি নয় বরং আগুন পূজা ও আগুনকে সিজদাহ করানো। বারামাকা নামক সেই মুসলিম নামধারী ছদ্মবেশী অগ্নিপূজকদের ফাঁদে পা দিয়ে সরলমনা মুসলিমরাও মাসজিদে জমা হতো। আর এভাবেই তখন থেকে সওয়াবের কাজ মনে করে চলে আসছে শবে বরাত নামক বিদ'আতি প্রথাটি।
আমাদের দেশেও এই দিনে আলোকসজ্জা করা হয় এবং একটি বিদ'আতি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়, আর আমরা সঠিক না জানার কারণে দেশবাসীরাও তা আনন্দের সাথে উদযাপন করি। যে সব ধরনের কাজ বা অনুষ্ঠান ইবাদত বা সওয়াবের কাজ বলে কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা স্বীকৃত নয়, রসূল নিজে যা কখনো করেননি বা কাউকে কখনো করতে বলেননি, তাঁর সাহাবাদের সময়ও তা ইবাদত হিসেবে প্রচলিত ছিলো না এমন সব কাজ বা অনুষ্ঠানাদি সওয়াবের উদ্দ্যেশে পালন করার নামই বিদ'আত। রসূল বলেছেন: দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত বিষয় বিদ'আত, প্রত্যেক বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণام হল জাহান্নাম। (সহীহ মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
তাই সওয়াবের কাজ হোক আর নাই হোক আগুন জ্বালিয়ে কোন প্রকার অনুষ্ঠান বা উৎসব করা ইসলাম-বিরোধী এবং এটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের দেশের মানুষ এই মোমবাতি জ্বালানোতে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে অনেকেরই হয়তো এটা মেনে নিতে কষ্ট হবে। বিশেষ কারণে এভাবে মোমবাতি জ্বালানোকে মঙ্গল প্রদীপ নাম দিয়ে কাজটাকে আরো প্রবিত্রতার রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১৩ ইং সনে একটা ইস্যুতে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করে বাংলাদেশের একটা বড় অংশ (বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম) নির্ধারিত একটা রাতে যার যার বাসা অফিস দোকানে ১ মিনিট মোমবাতি জ্বালিয়েছে।
তাই এই বিষয়ে আরো পরিষ্কার হওয়ার জন্য "ইসলামী আকীদার" উপর আরো অনেক গভীর জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। কারণ একজন মুসলিমের ঈমানের মূলধনই হচ্ছে সহীহ আকীদা, কারো আকীদাই যদি ঠিক না থাকে তাহলে তার ঈমান নিয়ে সংশয় দেখা দেবে। তাই আগুন নিয়ে মুসলিমরা কী কী করতে পারবে আর কী কী করতে পারবে না তা প্রতিটি মুসলিমেরই জানা থাকা অবশ্যই কর্তব্য, কারণ এটি ঈমানের অংশ।
সমাধান: কয়েকটা বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে ভুলবুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় তর্কবিতর্ক হচ্ছে। বিষয়টা সকলের নিকট পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সে বাঙালি হোক আর অবাঙালি হোক অন্য ধর্মের লোকেরা অবশ্যই মোমবাতি জ্বালিয়ে উৎসব করতে পারবে, শোক পালন করতে পারবে এতে ইসলামের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ইসলামের নির্দেশ হচ্ছে কোন মুসলিম এই ধরণের কোন কাজ করতে পারে না, অর্থাৎ আগুন নিয়ে কোন উৎসব করতে পারে না। আরো অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কোন মুসলিম শিখা অর্নিবানে সম্মান প্রদর্শন করতে পারে না, কোন গেইমস বা অলিম্পিকের শুরুতে মশাল জ্বালাতে পারে না, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালাতে পারে না, মঙ্গল শোভা যাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারে না, পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারে না, শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারে না, কোন সৃতিসৌধে ফুল দিতে পারে না, কোথাও মাথা নত করতে পারে না, একমিনিট নিরবতা পালন করতে পারে না।
এই বিষয়গুলো নিয়ে যেন আমরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করি। এর সাথে দেশের প্রতি ভালবাসার বা শ্রদ্ধার কোন সম্পর্ক নেই এবং এবিষয়ে কোন ভুলবুঝাবুঝির সৃষ্টি করা ঠিক নয়। এগুলো কোন ব্যক্তির মতামত নয়, বিষয়গুলো ইসলাম সমর্থন করে না। এই বিষয়গুলো মুসলিম বাদে সকল ধর্মের লোকেরাই পালন করতে পারবেন এবং তাদেরকে কোন প্রকার বাধাও দেয়া যাবে না। যদি কেউ নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করেন আর তিনি যদি এই কাজগুলো করেন তাহলে গুনাহগার হবেন। এবিষয়ে এটাই শেষ কথা।
মুসলিমদেরতো প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করার কথা কিন্তু মুসলিম নামধারী কিছু মানুষ ঠিক মতো সলাত আদায় করেন না, রোযা রাখেন না, যাকাত দেন না, মিথ্যা কথা বলেন, চুরি করেন, ডাকাতি করেন, সুদ খান, ঘুষ খান, যিনা করেন, মানুষকে ঠকান, গীবত করেন, বেপর্দা চলেন, ওজনে কম দেন, আমানত খিয়ানত করেন, অন্যের হক নষ্ট করেন। এই কাজগুলো ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না তারপরও মুসলিম নামধারী কিছু মানুষ এগুলো অহরহ করে যাচ্ছে। আর এর জন্য তাদেরকে অবশ্যই কাল কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এসময় তাদের পক্ষে কথা বলা বা সুপারিশ করার জন্য কেউ থাকবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00