📄 টেকনোলজির অপব্যবহার
• আমরা আমাদের সন্তানদের পারসোনাল কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নোটবুক, আইপ্যাড, ট্যাবলেট, আইফোন, আইপড, পিএস গেমিং ডিভাইস, এক্সবক্স গেমিং ডিভাইস সাথে লার্জ স্ক্রীন থ্রীডি টিভি ইত্যাদি কিনে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের সন্তানেরা এগুলো দিয়ে কী করছে তার কি কোন খোঁজ-খবর রাখছি? এগুলো কতটুকু সঠিক কাজে ব্যবহার করছে আর কতটুকু বাজে কাজে ব্যবহার করছে তার কি কোন ট্র্যাক রাখি? বাস্তবে দেখা গেছে যে কলেজ-ইউনিভার্সিটির কাজের পাশাপাশি তারা এগুলোতে পর্নগ্রাফী দেখছে, আজেবাজে নাচ-গান দেখছে, ইন্টারনেটে অবৈধ চ্যাটিং করছে, আল্লাহ রসূলের বিরুদ্ধে ব্লগিং করছে! মোবাইলে গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করছে! আমরা বাবা-মারা এতে কিছু মনে করছি না।
• ডিশের লাইনের অপব্যবহার বাংলাদেশে এখন এক ডজনেরও উপরে রয়েছে দেশী টিভি চ্যানেল। আর ক্যাবলের বদৌলতে তো রয়েছে শতশত আজেবাজে চ্যানেল। টিভি খুললেই অশ্লীলতা। আর এই অশ্লীলতা দেখতে দেখতে অবস্থাটা এমন হয়ে গেছে যে সকলের কাছে তা খুবই নরমাল। পরিবারের সবাই মিলে একসাথে দেখছে অশ্লীল হিন্দি নাচ-গান, সিনেমা আর পরকীয়া প্রেমের নাটক ইত্যাদি। এতে কেউ কিছু মনে করছে না।
📄 ফেইসবুকের অপব্যবহার
• আমাদের সন্তানেরা দিন-দিন ফেইসবুকের মাধ্যমে নানা অপসংস্কৃতিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে এর নেগেটিভ দিকগুলো কী কী? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে এই আসক্তি এতো প্রকট আকার ধারণ করেছে যে তা কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাচ্ছে। যেমন নিম্নে ফেইসবুকের কিছু নেগেটিভ দিক তুলে ধরা হলো। এই বিষয়ে আমাদের বাবা-মায়েদের সময় থাকতে সচেতন হওয়া উচিত।
১) অনেক ক্ষেত্রেই সন্তান তার আশেপাশের অন্যদের কেয়ার করে না। তখন সে শুধু তার নিজের জগৎ নিয়ে মত্ত থাকে।
২) সামাজিক বন্ধন কমে যেতে থাকে। সে আস্তে আস্তে তার সামাজিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।
৩) সময়ের অপব্যবহার। আমাদের সন্তানেরা যে কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেইসবুকের মধ্যে সময় কাটায় তা হিসাব করলে দেখা যাবে যে তারা জীবনের একটা দীর্ঘ মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলছে, যা অন্য কিছু দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়।
৪) দীর্ঘক্ষণ ফেইসবুকে সময় কাটানো মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
৫) পরিবারের অন্যান্যদের সাথেও সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। দিন দিন তার কাছে পরিবারের সদস্যদের চেয়ে বন্ধু-বান্ধবদের গুরুত্ব বেশী হতে থাকে।
৬) তৃতীয় পক্ষের সাথে দ্বন্দ্ব। ফেইসবুকের মাধ্যমে অনেক অপরিচিত লোকদের সাথে বন্ধুত্ব হয়। এই গ্রুপে থাকে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ ও মহিলা। কার চরিত্র কেমন কেউ জানে না। এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে যে একে অপরের সাথে দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে বড় ধরণের ক্রাইমের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
৭) ব্ল্যাকমেইল। ফেইসবুকে সাধারণত সবাই তাদের নানা রকম নানা ভঙ্গির ছবি আপলোড করে দিয়ে থাকে। সকলেই সকলের ছবি দেখতে পায়। যেকেউ এখান থেকে ছবি ডাউনলোড করে নিয়ে cutting and pasting এর মাধ্যমে বা এনিমেশনের মাধ্যমে অন্যান্য এডাল্ট ছবির সাথে মিলিয়ে পর্নগ্রাফি তৈরী করতে পারে।
৮) Islamic point of view। আমি যদি মেয়ে হয়ে থাকি তাহলে আমি আমার ছবি অন্যকে দেখাবো কেন? আমার ছবি দেখে পরপুরুষরা তো খারাপ চিন্তাভাবনা করতে পারে। যেখানে ইসলাম মেয়েদেরকে কোমল স্বরে পরপুরুষের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছে সেখানে নিজের নানা ভঙ্গির ছবি তো ওদের সামনে তুলে ধরার প্রশ্নই উঠে না।
৯) আরেকটি কমোন চিত্র প্রায় দেখা যায় যে, কোন কোন ফেইসবুক ইউজার ভালোর সাথে মন্দ মিলিয়ে ফেলছেন। যেমন সে আল-কুরআনের আয়াত অথবা সুন্দর সন্দর হাদীস শেয়ার করছেন অথবা কোন ইসলামী শিক্ষণীয় আর্টিক্যাল পোষ্ট করছেন আবার তার পাশাপাশি হিন্দি গান, বা কোন ইন্ডিয়ান নায়ক-নায়িকার ছবিও পোষ্ট করছেন!
ফেইসবুকের সঠিক ব্যবহার: উপরে আমরা ফেইসবুকের নেগেটিভ দিক সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেছি। কিন্তু এর পজিটিভ দিকও রয়েছে। হ্যাঁ, আমরা এই ফেইসবুককে সঠিক কাজে লাগিয়ে আবার অনেক উপকারও পেতে পারি। যেমন: কেউ ফেইসবুকের মাধ্যমে friend circle তৈরী করে তাদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াতি কাজ করতে পারে, তাদেরকে নিয়মিত সঠিক দ্বীন সম্পর্কে সচেতন করতে পারে, নানারকম ইসলামিক ডকুমেন্টারির ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করতে পারে, ভাল ভাল স্কলারদের লেকচারের লিংক শেয়ার করতে পারে, বিভিন্ন রকম শিক্ষণীয় আর্টিক্যালস পাঠাতে পারে। এটাকে আমরা ডিজিটাল দাওয়াত বলতে পারি। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে আজকাল মানুষ পড়ার চাইতে ভিডিও দেখতে বেশী পছন্দ করে। তাই আমাদেরও উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো। ইসলামের দাওয়াতি কাজে এই আধুনিক টেকনোলজির সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আদেশ পালন করা যেতে পারে। কারণ রসূল বলেছেন "আমার কাছ থেকে একটি বাক্য হলেও তা লোকদের কাছে পৌঁছে দাও” (সহীহ বুখারী)। এটা প্রতিটি মুসলিম নরনারীর জন্য সার্বক্ষণিক ফরয কাজ।
📄 ব্লগিং-এর অপব্যবহার
ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানীগুলো ব্লগিং কমিউনিকেশন ম্যাথড আবিষ্কার করেছিলেন ইউজারদের ভালোর জন্য। বিশেষ করে যারা গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে রিসার্চ করেন, মতামত ব্যক্ত করেন, সাজেশন আদান-প্রদান করেন, নলেজ শেয়ার করেন ইত্যাদি। পৃথিবীর কোন দেশে এই ব্লগিংয়ের অপব্যবহার হয়নি যা বাংলাদেশীরা করেছে। ইনফরমেশন টেকনোলজির একটা সুবিধাকে উন্নয়নের কাজে না লাগিয়ে নেগেটিভ কাজে ব্যবহার করে নিজেরা নিজেরা বিভেদ সৃষ্টি করে একরকম গৃহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।
মনে হচ্ছে বাংলাদেশে মানুষজন ব্লগিং ইনটারফেইস ব্যবহার করে-ই একজন আরেক জনের দোষ ধরার জন্য; খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এক ভাই অপর ভাইয়ের ভুল-ত্রুটি বের করার জন্য; একজন অপরজনকে গালি-গালাজ করার জন্য; অপমান করার জন্য; তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার জন্য; হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। সামনা-সামনি যে কাজ করতে পারছে না সেই কাজ ইচ্ছে মতো ব্লগিংয়ের মাধ্যমে করে মনের ঝাল মিটাচ্ছে।
ব্লগিংয়ের মাধ্যমে cyber bulling শুধু নিজেদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একসময় একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। বিশেষ করে ইসলামের উপর নানাভাবে আক্রমণ করছে! যা পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মের লোকেরা করছে না। কারা করছে এই কাজ? যারা মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করেছে তারাই তাদের সৃষ্টা মহান আল্লাহ তা'আলাকে নিয়ে নানা রকম কটুক্তি করছে, রসূল ﷺ -কে নানা রকম অবমাননা করছে।
আল্লাহ ও রসূলকে অবমাননা করা, ইসলামকে অবমাননা করাটা যেন নতুন প্রজন্মের কাছে একটি আধুনিকতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে সন্তানদের উপর বাবা-মার কোন কন্ট্রোল নেই এবং দ্বিতীয়ত হচ্ছে ওদের প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা নেই।
📄 নাটক-সিনেমার প্রভাব
আমি কি কখনো চিন্তা করেছি যে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই মিলে নিয়মিত কী ধরণের নাটক-সিনেমা (অপসংস্কৃতি) দেখছি? এই ধরণের নাটক-সিনেমা, হিন্দি সিরিয়াল, হিন্দি মুভি আমাদেরকে কুরআনের পথ থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক হিন্দি মুভির মধ্যেই থাকে হিন্দুদের পূজা যা আমি দেখছি এবং শিরকের প্রশ্রয় দিচ্ছি। আবার হিন্দি মুভি যখন শুরু হয় তখন দেব-দেবীর নামে শুরু হয়। আসুন, একটিবার গভীরভাবে ভেবে দেখি: আমার ঘরে আমি এই টেকনোলজির মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে হিন্দুদের মূর্তি পূজার আশ্রয় দিচ্ছি তার মানে নিজেদের ঘরেই ভার্চুয়াল পূজা হচ্ছে। কত বড় শিরকি অপরাধ এটা একবার ভেবে দেখেছি কি কখনো?
আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যারা মনে করেন যদি নাটক সিনেমায় অশালীন কিছু না থাকে তাহলে তাতে সমস্যা নেই। আবার অনেকে মনে করেন যদি নাটকে/নাটিকায় নামায আদায়ে, রোযা রাখায় উৎসাহিত করা হয়, তাহলে সেই নাটক দেখা যাবে। অথচ তারা এটা ভেবে দেখেন না যে, এমন ভালো নাটকে যারা স্বামী-স্ত্রীর অভিনয় করছেন তারা কি সত্যিই স্বামী-স্ত্রী? এমন বেশ কিছু ইসলামী নাটক দেখা গেছে যেখানে নারী পুরুষের পর্দার বিষয়টি আদৌ খেয়াল রাখা হয়নি।