📄 অলির লোকের ক্ষমতার অপব্যবহার
আমাদের দেশের অবস্থা এখন এমন হয়ে গেছে যে কেউ নিজ বাসায় আল-কুরআনের তাফসীর সমগ্র, হাদীস গ্রন্থ, ইসলামী বইপত্র রাখতে রীতিমতো ভয় পান, কখন এসে পুলিশ হামলা করে!
অনেকে কুরআন-হাদীস এবং ইসলামী বইপত্র নিয়ে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতেও নিরাপদ মনে করেন না, কখন পুলিশ এরেষ্ট করে এবং জিহাদী বই পাওয়া গেছে বলে কোর্টে চালান করে দেয়!
একজন মুসলিমের জন্য দাড়ি রাখা ওয়াজিব। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি এখন এমন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যে পুরুষরা দাড়ি রাখতে ভয় পান কখন মৌলবাদী বলে পুলিশ এরেষ্ট করে ফেলেন। যুবকরাতো দাড়ির বিষয়ে আরো বেশী ভীত-সন্ত্রস্ত। তাহলে দেখা যাচ্ছে, যারাও ইসলাম প্রাকটিস করতে চায়, তারাও করতে পারছে না।
📄 ফাটাকেষ্টি বা মৌলবাদী বলে গালি দেয়া
দাড়ি-টুপি যেন আমাদের দেশে একটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক শ্রেণীর লোকের তো দাড়ি-টুপি দেখলেই শরীর জ্বালা-পোড়া করে। তারা পরিবেশটা এমন তৈরী করেছেন যে দাড়ি-টুপি মানেই ফান্ডামেন্টালিষ্ট, মৌলবাদী, সন্ত্রাসী।
অথচ আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা ও পড়ালেখা করলেই জানতে পারি যে ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী কাকে বলে। যিনি কোন একটি বিষয়ের উপর খুব ভালভাবে গভীরভাবে জানেন অর্থাৎ যিনি কোন একটি বিষয়ের মূল বা ফান্ডামেন্টালস সম্পর্কে জ্ঞাত তাকেই ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী বলা হয়। যেমন কেউ যদি অংকের মূল ফরমূলা বুঝেন এবং তা নিয়ে গবেষণা করেন তিনি অংকের ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী। আবার যিনি কেমিস্ট্রির মূল তথ্য ভাল করে বুঝেন তিনি কেমিস্ট্রির ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী। আবার যিনি কোন একটি ধর্মের মূল বিষয়গুলো খুব ভাল করে বুঝেন এবং জানেন তিনি হচ্ছেন ঐ ধর্মের ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী, হতে পারে সেটা হিন্দু ধর্ম, খ্রীষ্টান ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে মৌলবাদী বলে গালি দেয়া হচ্ছে শুধু মাত্র ইসলাম ধর্মের আলেমদেরকে।
• যে সকল মুসলিম নরনারী আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী অর্থাৎ কুরআন এবং রসূলের সূন্নাহ অনুযায়ী ইসলামের সকল নিয়ম কানুন মেনে জীবনযাপন করেন তাদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলা হচ্ছে ধর্মীয় গোঁড়ামির শিকার, ফান্ডামেন্টালিষ্ট। অথচ আল্লাহ বলছেন তোমরা ততক্ষণ প্রকৃত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিপূর্ণভাবে ইসলাম মেনে চলবে।
📄 টেকনোলজির অপব্যবহার
• আমরা আমাদের সন্তানদের পারসোনাল কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নোটবুক, আইপ্যাড, ট্যাবলেট, আইফোন, আইপড, পিএস গেমিং ডিভাইস, এক্সবক্স গেমিং ডিভাইস সাথে লার্জ স্ক্রীন থ্রীডি টিভি ইত্যাদি কিনে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের সন্তানেরা এগুলো দিয়ে কী করছে তার কি কোন খোঁজ-খবর রাখছি? এগুলো কতটুকু সঠিক কাজে ব্যবহার করছে আর কতটুকু বাজে কাজে ব্যবহার করছে তার কি কোন ট্র্যাক রাখি? বাস্তবে দেখা গেছে যে কলেজ-ইউনিভার্সিটির কাজের পাশাপাশি তারা এগুলোতে পর্নগ্রাফী দেখছে, আজেবাজে নাচ-গান দেখছে, ইন্টারনেটে অবৈধ চ্যাটিং করছে, আল্লাহ রসূলের বিরুদ্ধে ব্লগিং করছে! মোবাইলে গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করছে! আমরা বাবা-মারা এতে কিছু মনে করছি না।
• ডিশের লাইনের অপব্যবহার বাংলাদেশে এখন এক ডজনেরও উপরে রয়েছে দেশী টিভি চ্যানেল। আর ক্যাবলের বদৌলতে তো রয়েছে শতশত আজেবাজে চ্যানেল। টিভি খুললেই অশ্লীলতা। আর এই অশ্লীলতা দেখতে দেখতে অবস্থাটা এমন হয়ে গেছে যে সকলের কাছে তা খুবই নরমাল। পরিবারের সবাই মিলে একসাথে দেখছে অশ্লীল হিন্দি নাচ-গান, সিনেমা আর পরকীয়া প্রেমের নাটক ইত্যাদি। এতে কেউ কিছু মনে করছে না।
📄 ফেইসবুকের অপব্যবহার
• আমাদের সন্তানেরা দিন-দিন ফেইসবুকের মাধ্যমে নানা অপসংস্কৃতিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে এর নেগেটিভ দিকগুলো কী কী? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে এই আসক্তি এতো প্রকট আকার ধারণ করেছে যে তা কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাচ্ছে। যেমন নিম্নে ফেইসবুকের কিছু নেগেটিভ দিক তুলে ধরা হলো। এই বিষয়ে আমাদের বাবা-মায়েদের সময় থাকতে সচেতন হওয়া উচিত।
১) অনেক ক্ষেত্রেই সন্তান তার আশেপাশের অন্যদের কেয়ার করে না। তখন সে শুধু তার নিজের জগৎ নিয়ে মত্ত থাকে।
২) সামাজিক বন্ধন কমে যেতে থাকে। সে আস্তে আস্তে তার সামাজিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।
৩) সময়ের অপব্যবহার। আমাদের সন্তানেরা যে কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেইসবুকের মধ্যে সময় কাটায় তা হিসাব করলে দেখা যাবে যে তারা জীবনের একটা দীর্ঘ মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলছে, যা অন্য কিছু দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়।
৪) দীর্ঘক্ষণ ফেইসবুকে সময় কাটানো মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
৫) পরিবারের অন্যান্যদের সাথেও সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। দিন দিন তার কাছে পরিবারের সদস্যদের চেয়ে বন্ধু-বান্ধবদের গুরুত্ব বেশী হতে থাকে।
৬) তৃতীয় পক্ষের সাথে দ্বন্দ্ব। ফেইসবুকের মাধ্যমে অনেক অপরিচিত লোকদের সাথে বন্ধুত্ব হয়। এই গ্রুপে থাকে বিভিন্ন বয়সের পুরুষ ও মহিলা। কার চরিত্র কেমন কেউ জানে না। এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে যে একে অপরের সাথে দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে বড় ধরণের ক্রাইমের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
৭) ব্ল্যাকমেইল। ফেইসবুকে সাধারণত সবাই তাদের নানা রকম নানা ভঙ্গির ছবি আপলোড করে দিয়ে থাকে। সকলেই সকলের ছবি দেখতে পায়। যেকেউ এখান থেকে ছবি ডাউনলোড করে নিয়ে cutting and pasting এর মাধ্যমে বা এনিমেশনের মাধ্যমে অন্যান্য এডাল্ট ছবির সাথে মিলিয়ে পর্নগ্রাফি তৈরী করতে পারে।
৮) Islamic point of view। আমি যদি মেয়ে হয়ে থাকি তাহলে আমি আমার ছবি অন্যকে দেখাবো কেন? আমার ছবি দেখে পরপুরুষরা তো খারাপ চিন্তাভাবনা করতে পারে। যেখানে ইসলাম মেয়েদেরকে কোমল স্বরে পরপুরুষের সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছে সেখানে নিজের নানা ভঙ্গির ছবি তো ওদের সামনে তুলে ধরার প্রশ্নই উঠে না।
৯) আরেকটি কমোন চিত্র প্রায় দেখা যায় যে, কোন কোন ফেইসবুক ইউজার ভালোর সাথে মন্দ মিলিয়ে ফেলছেন। যেমন সে আল-কুরআনের আয়াত অথবা সুন্দর সন্দর হাদীস শেয়ার করছেন অথবা কোন ইসলামী শিক্ষণীয় আর্টিক্যাল পোষ্ট করছেন আবার তার পাশাপাশি হিন্দি গান, বা কোন ইন্ডিয়ান নায়ক-নায়িকার ছবিও পোষ্ট করছেন!
ফেইসবুকের সঠিক ব্যবহার: উপরে আমরা ফেইসবুকের নেগেটিভ দিক সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেছি। কিন্তু এর পজিটিভ দিকও রয়েছে। হ্যাঁ, আমরা এই ফেইসবুককে সঠিক কাজে লাগিয়ে আবার অনেক উপকারও পেতে পারি। যেমন: কেউ ফেইসবুকের মাধ্যমে friend circle তৈরী করে তাদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াতি কাজ করতে পারে, তাদেরকে নিয়মিত সঠিক দ্বীন সম্পর্কে সচেতন করতে পারে, নানারকম ইসলামিক ডকুমেন্টারির ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করতে পারে, ভাল ভাল স্কলারদের লেকচারের লিংক শেয়ার করতে পারে, বিভিন্ন রকম শিক্ষণীয় আর্টিক্যালস পাঠাতে পারে। এটাকে আমরা ডিজিটাল দাওয়াত বলতে পারি। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে আজকাল মানুষ পড়ার চাইতে ভিডিও দেখতে বেশী পছন্দ করে। তাই আমাদেরও উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো। ইসলামের দাওয়াতি কাজে এই আধুনিক টেকনোলজির সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আদেশ পালন করা যেতে পারে। কারণ রসূল বলেছেন "আমার কাছ থেকে একটি বাক্য হলেও তা লোকদের কাছে পৌঁছে দাও” (সহীহ বুখারী)। এটা প্রতিটি মুসলিম নরনারীর জন্য সার্বক্ষণিক ফরয কাজ।