📄 বিভিন্ন স্টারদের অনুসরণ করার ধ্রুবতা
• আমাদের যুবতী মেয়ে ক্রিকেট তারকাদেরকে শয়নে-স্বপনে ধারণ করে, তাদের ছবি বালিশের নিচে নিয়ে ঘুমায়, তাদের পোষ্টার নিজ রুমের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখে, এতে আমরা পিতামাতারা কিছুই মনে করি না।
• আমাদের কলেজ বা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে ইন্ডিয়ান নায়িকাদের পোষ্টার ঘরে টাঙ্গিয়ে রেখেছে এতে আমরা কিছুই মনে করছি না। আমাদের মেয়ে কোন আধুনিক যুবক গায়কের আদর্শ অনুসরণ করছে তাতে আমরা কিছুই মনে করছি না।
• কোথাও একটি কন্সার্ট হচ্ছে, সেখানে লাইন দিয়ে উচ্চ মূল্য দিয়ে টিকেট কিনে আমাদের মেয়ে তা উপভোগ করে গভীর রাতে বাসায় ফিরছে এতে আমরা পিতামাতারা কিছুই মনে করছি না। কন্সার্ট দেখতে গিয়ে গানের সাথে সাথে ছেলেমেয়েরা একাকার হয়ে নাচানাচি করছে এতে আমরা কিছুই মনে করছি না।
• আমাদের ছেলেমেয়েরা কার আদর্শ অনুসরণ করে বড় হচ্ছে আমরা বাবা-মায়েরা তা কখনো গভীরভাবে চিন্তা করে দেখিনি। আবার অনেকে দেখেশুনেও কিছুই মনে করছি না।
📄 অলির লোকের ক্ষমতার অপব্যবহার
আমাদের দেশের অবস্থা এখন এমন হয়ে গেছে যে কেউ নিজ বাসায় আল-কুরআনের তাফসীর সমগ্র, হাদীস গ্রন্থ, ইসলামী বইপত্র রাখতে রীতিমতো ভয় পান, কখন এসে পুলিশ হামলা করে!
অনেকে কুরআন-হাদীস এবং ইসলামী বইপত্র নিয়ে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতেও নিরাপদ মনে করেন না, কখন পুলিশ এরেষ্ট করে এবং জিহাদী বই পাওয়া গেছে বলে কোর্টে চালান করে দেয়!
একজন মুসলিমের জন্য দাড়ি রাখা ওয়াজিব। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি এখন এমন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যে পুরুষরা দাড়ি রাখতে ভয় পান কখন মৌলবাদী বলে পুলিশ এরেষ্ট করে ফেলেন। যুবকরাতো দাড়ির বিষয়ে আরো বেশী ভীত-সন্ত্রস্ত। তাহলে দেখা যাচ্ছে, যারাও ইসলাম প্রাকটিস করতে চায়, তারাও করতে পারছে না।
📄 ফাটাকেষ্টি বা মৌলবাদী বলে গালি দেয়া
দাড়ি-টুপি যেন আমাদের দেশে একটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক শ্রেণীর লোকের তো দাড়ি-টুপি দেখলেই শরীর জ্বালা-পোড়া করে। তারা পরিবেশটা এমন তৈরী করেছেন যে দাড়ি-টুপি মানেই ফান্ডামেন্টালিষ্ট, মৌলবাদী, সন্ত্রাসী।
অথচ আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা ও পড়ালেখা করলেই জানতে পারি যে ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী কাকে বলে। যিনি কোন একটি বিষয়ের উপর খুব ভালভাবে গভীরভাবে জানেন অর্থাৎ যিনি কোন একটি বিষয়ের মূল বা ফান্ডামেন্টালস সম্পর্কে জ্ঞাত তাকেই ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী বলা হয়। যেমন কেউ যদি অংকের মূল ফরমূলা বুঝেন এবং তা নিয়ে গবেষণা করেন তিনি অংকের ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী। আবার যিনি কেমিস্ট্রির মূল তথ্য ভাল করে বুঝেন তিনি কেমিস্ট্রির ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী। আবার যিনি কোন একটি ধর্মের মূল বিষয়গুলো খুব ভাল করে বুঝেন এবং জানেন তিনি হচ্ছেন ঐ ধর্মের ফান্ডামেন্টালিষ্ট বা মৌলবাদী, হতে পারে সেটা হিন্দু ধর্ম, খ্রীষ্টান ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে মৌলবাদী বলে গালি দেয়া হচ্ছে শুধু মাত্র ইসলাম ধর্মের আলেমদেরকে।
• যে সকল মুসলিম নরনারী আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী অর্থাৎ কুরআন এবং রসূলের সূন্নাহ অনুযায়ী ইসলামের সকল নিয়ম কানুন মেনে জীবনযাপন করেন তাদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলা হচ্ছে ধর্মীয় গোঁড়ামির শিকার, ফান্ডামেন্টালিষ্ট। অথচ আল্লাহ বলছেন তোমরা ততক্ষণ প্রকৃত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিপূর্ণভাবে ইসলাম মেনে চলবে।
📄 টেকনোলজির অপব্যবহার
• আমরা আমাদের সন্তানদের পারসোনাল কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নোটবুক, আইপ্যাড, ট্যাবলেট, আইফোন, আইপড, পিএস গেমিং ডিভাইস, এক্সবক্স গেমিং ডিভাইস সাথে লার্জ স্ক্রীন থ্রীডি টিভি ইত্যাদি কিনে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের সন্তানেরা এগুলো দিয়ে কী করছে তার কি কোন খোঁজ-খবর রাখছি? এগুলো কতটুকু সঠিক কাজে ব্যবহার করছে আর কতটুকু বাজে কাজে ব্যবহার করছে তার কি কোন ট্র্যাক রাখি? বাস্তবে দেখা গেছে যে কলেজ-ইউনিভার্সিটির কাজের পাশাপাশি তারা এগুলোতে পর্নগ্রাফী দেখছে, আজেবাজে নাচ-গান দেখছে, ইন্টারনেটে অবৈধ চ্যাটিং করছে, আল্লাহ রসূলের বিরুদ্ধে ব্লগিং করছে! মোবাইলে গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করছে! আমরা বাবা-মারা এতে কিছু মনে করছি না।
• ডিশের লাইনের অপব্যবহার বাংলাদেশে এখন এক ডজনেরও উপরে রয়েছে দেশী টিভি চ্যানেল। আর ক্যাবলের বদৌলতে তো রয়েছে শতশত আজেবাজে চ্যানেল। টিভি খুললেই অশ্লীলতা। আর এই অশ্লীলতা দেখতে দেখতে অবস্থাটা এমন হয়ে গেছে যে সকলের কাছে তা খুবই নরমাল। পরিবারের সবাই মিলে একসাথে দেখছে অশ্লীল হিন্দি নাচ-গান, সিনেমা আর পরকীয়া প্রেমের নাটক ইত্যাদি। এতে কেউ কিছু মনে করছে না।