📄 টিভিতে নিউজ বা খবর দেখা
• অনেক ইসলামী পরিবার বাসায় ডিস এন্টেনার লাইন নিয়েছেন খবর (নিউজ) দেখার জন্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে ২৪ ঘন্টার মধ্যে খবর হচ্ছে মাত্র অল্প কিছু সময়। আর বাকী পুরো সময়টাতেই প্রচার হচ্ছে অনৈসলামী অনুষ্ঠান। পরিবারে বাবা-মা, ছেলেমেয়ে সবাই মিলে আস্তে আস্তে খবরের পাশাপাশি অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখাতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। এমন কি খবরের মাঝখানেও কয়েকবার বেপর্দা মেয়েদের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে, তাও সবাই মিলে উপভোগ করছে!
• যে সকল মেয়েরা সাধারণত টিভিতে খবর পড়েন তারা দেখতে হয় খুবই সুন্দরী, আকর্ষণীয় ফিগার, কন্ঠস্বর হয় খুবই আকর্ষণীয় আর বয়স তো অবশ্যই কম। তার উপর আকর্ষণীয় সাজগোজ। এটা তাদের কোন দোষ নয়। টিভিতে আজকাল খবর পড়ার জন্য চাকুরীর যোগ্যতারই অংশ এটা। কিন্তু সমস্যাটা হলো ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে। যারা খবর দেখতে বসেন তারাও খবর উপভোগ করার পাশাপাশি খবর পাঠিকাকেও দেখতে থাকেন।
• ইসলামের নামেও কিছু কিছু টিভি চ্যানেল বের হয়েছে। তারা ইসলামী অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে নাচ-গান সম্মিলিত বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে। কোথাও রেহাই নেই।
📄 টক শো (Talk Show)
• প্রতিটি চ্যানেলে প্রতিদিন কয়েকটি করে টক শো হয়। এই টক শোগুলোতে যারা গেষ্ট স্পিকার হিসেবে আসেন তারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত, সরকারের আমলা, এমপি, মন্ত্রী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, প্রফেসর, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র, ব্যরিষ্টার, রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার, রাজনীতিবিদ ইত্যাদি লেভেলের। আলহামদুলিল্লাহ, এই টক শোর মাধ্যমে দেশের অনেক উপকার হচ্ছে। আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যা চিহ্নিত হচ্ছে এবং অনেক সমস্যার সমাধানও বের হয়ে আসছে। দুই গ্রুপের বা দুই বক্তার আলাপ আলোচনায় অনেক সত্য বের হয়ে আসছে এবং দেশের জনগণ যা জানতো না তা প্রকাশ্যে জেনে যাচ্ছে।
যেহেতু এই অনুষ্ঠানটি খুবই জনপ্রিয় তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই উপভোগ করেন। এই টক শোর মাধ্যমে আমাদের সন্তানেরাও অনেক সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যায়। কারণ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরাই জাতির সামনে অবাধে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরেন, অনেকে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করেন, অনেকে ইসলামকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন।
📄 অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু আপত্তিকর দৃশ্য শিশুদের মনে কু-প্রভাব ফেলে
পিতামাতারা যখন সন্তানদের নিয়ে বাইরে বের হন তখন রাস্তা-ঘাটের নানা রকম আপত্তিকর দৃশ্য কোমল মনের সন্তানদের হৃদয়ে আঘাত হানে। যেমন,
রাস্তা-ঘাটে, পার্কে, শপিং সেন্টারে, ইউনিভার্সিটিতে ইয়ং ছেলেমেয়েরা (বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড) সকলের সামনে একে অপরের হাত ধরে নির্দ্বিধায় হাঁটাহাঁটি করছে।
পার্কে একে অপরের সাথে এমন আচরণ করে যেন তারা bed-roomএ অবস্থান করছে।
এডাল্ট মেয়েরা অশালীন পোশাক পরে সর্বত্র চলাফেরা করছে।
কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ব্যানার এবং পোষ্টারে মেয়েদের অশ্লীল ছবি টাঙানো আছে।
📄 পর্যবেক্ষীর সমজলোতা
খুব সহজেই এখন বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফীর সিডি-ডিভিডি পাওয়া যায়। এছাড়া তো রয়েছে আনলিমিটেড ইন্টারনেট ভার্শন। আমাদের মেয়ে বা ছেলে সারারাত কম্পিউটারে কী এতো এসাইনমেন্ট করছে পিতামাতা হিসেবে আমরা কি কখনো খোঁজ-খবর নিয়ে দেখেছি?
• এখন পর্নগ্র্যাফী শুধু কম্পিউটারে নয়, এটি চলে এসেছে ছেলেমেয়েদের হাতের মুঠোতে, মোবাইলে। এমনও জানা যায় যে গ্রামের কৃষক ছেলেরাও এখন তার মোবাইলে পর্নগ্র্যাফী উপভোগ করে。
• ইউনিভার্সিটির কোন কোন হলের 'কমন রুমের' টিভিতে সকল ছাত্ররা একসাথে সারারাত পর্নগ্র্যাফী উপভোগ করে।
• আরো লোমহর্ষক ঘটনা হলো, আজকাল ইউনিভার্সিটি-কলেজের ছেলেরা বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড জীবনের অংশ হিসেবে মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলেই একান্তে সময় কাটায় এবং যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলে। অনেক ছেলেরাই তার গার্লফ্রেন্ডের অজান্তে সেই দৃশ্য ওয়েব ক্যামেরা দিয়ে অথবা হিডেন ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করে ইন্টারনেটে আপলোড করে থাকে। আমাদের মুসলিম ঘরের ইউনিভার্সিটি-কলেজের অনেক ছেলেমেয়েদের পর্নগ্র্যাফীর ভিডিও ক্লিপ এখন ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।