📄 বিজ্ঞাপচিত্রের প্রভাব
আমাদের সন্তানদের ইসলাম বিমুখ করার পেছনে যতোগুলো শক্তি কাজ করছে তার মধ্যে অন্যতম হলো বিজাতীয় দেশ। ইসলামের শত্রুরা সুকৌশলে আমাদের মধ্যে তাদের অশ্লীল সংস্কৃতি ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
ডিস এবং ক্যাবল কানেকশনের কারণে শতশত বিজাতীয় চ্যানেল আমাদের দেশে প্রচারিত হচ্ছে। তাদের সিরিয়াল-নাটক-সিনেমা-নাচ-গান, ম্যাগাজিন, অখাদ্য-কুখাদ্য সব আমাদের মধ্যে চলে আসছে।
এখন এমন হয়েছে যে, বাংলাদেশের একটি ছোট্ট শিশুও হিন্দিতে কথা বলতে পারে এবং হিন্দি কথা বুঝে। অথচ ১৯৫২-তে আমরা উর্দুর কালো থাবা থেকে বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছি। আর আজ উর্দুর বদলে হিন্দি এসে বাংলা ভাষাকে আক্রমণ করছে।
বিজাতীয় ফ্যাশন ও সংক্ষিপ্ত কাপড়-চোপড়ে আমাদের বাজার সয়লাব। বাংলাদেশে এক ঈদ-উল-ফিতরে মার্কেটে মেয়েদের একটা পোশাক উঠেছিলো যে পোশাকটির নামকরণ করা হয়েছিলো এক পর্ন-অভিনেত্রীর নামানুসারে এবং বেশ কাটতি হয়েছিলো সেই পোশাকের। আমরা অভিভাবক হিসেবে একবার চিন্তা করে দেখি, যে দেশের ৯৮% মুসলিম, সেই দেশে পর্ন-অভিনেত্রীর নামে পোশাক বের হয় আর আমাদের সন্তানরা সেই পোশাক পড়ে গর্ববোধ করে। আমরা অভিভাবকগণ আমাদের সন্তানদের কতটুকু শিক্ষা দিতে পেরেছি যে, তারা পর্ন-অভিনেত্রীকে আদর্শ মনে করে!
📄 মিডিয়ার প্রভাব
• কিছু জ্ঞানপাপী এবং বুদ্ধিজীবী অর্থলিপ্সায় পড়ে মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে যাচ্ছেন।
• নাটক-সিনেমায় সাধারণত খারাপ চরিত্রের অভিনেতাদের মুখে দাড়ি লাগিয়ে, মাথায় টুপি পরিয়ে, পায়জামা-পাঞ্জাবি পড়িয়ে, মাথায় পাগড়ী পড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। ভাবখানা এমন যে হুজুর-মাওলানারা হলেন যত বাজে কাজের মূল।
• নাটক-সিনেমায় কোন মহিলাকে বোরকা পরিয়ে তাকে দিয়ে খারাপ কাজের অভিনয় করাচ্ছে। সমাজকে বুঝাতে চাচ্ছে যারা পর্দা করে যারা বোরকা পরে আসলে তারা বোরকার আড়ালে খারাপ কাজ করে থাকে।
• টিভিতে যেসব বিজ্ঞাপন দেয়া হয় তার বেশীরভাগই আপত্তিজনক, আমাদের ছেলেমেয়েরা সেগুলো থেকে কী শিখে? দিন দিন এগুলো দেখে তাদের কোমল অন্তরে কু-প্রভাব ফেলছে, তাদেরকে কু-শিক্ষা দিচ্ছে। আজ একটি শিশু ছেলে ছোট বেলা থেকেই টিভিতে দেখছে একটি যুবতী মেয়ে অর্ধনগ্ন হয়ে সাবান দিয়ে গোসল করছে বা একটি যুবক অপর একটি যুবতীর হাত ধরে দৌড়াদৌড়ি করছে।
• টিভিতে প্রায় প্রতিটি নাটক-ই প্রেমের নাটক। এছাড়া পরিবারের সবাই মিলে দেখছি কীভাবে পরকীয়া প্রেম করতে হয়। এই বিষয়টা যেন আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক, এতে আপত্তিকর কিছু নেই!
• মোবাইল ফোন কোম্পানী বিজ্ঞাপন দিচ্ছে যে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে রাতভর গল্প করছে কারণ রাত ১২টার পর বিল কম বা ফ্রী টক টাইম।
• আমরা কি কখনো গভীরভাবে চিন্তা করে দেখি যে আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে গভীর রাত পর্যন্ত একটা ছেলের সাথে গল্প করছে এর ফলে তার নৈতিক চরিত্র কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে? আর আমরা পিতামাতা হয়েও এগুলোতে কিছুই মনে করছি না!
• সঠিক ইসলামকে তুলে ধরার জন্যে ভালো মিডিয়া ও পত্র-পত্রিকা বা বইপত্র তেমন একটা নেই। বাজারে অনেক বই পাওয়া যায়, কিন্তু মানসম্পন্ন ও রুচিশীল ইসলামী বইয়ের খুব অভাব।
📄 ড. জাকির নায়েকের শর্ত
• ড. জাকির নায়েকের একটি উচুমানের ইসলামী স্কুল আছে। ড. জাকির নায়েক ক্যানাডার একটি কনফারেন্সে বলেছিলেন যে, তার এই স্কুল থেকে তার চেয়েও আরো উন্নতমানের শতশত Comparative religion-এর স্কলার প্রতিবছর বের হবে, ইনশাআল্লাহ। এই স্কুলে সন্তান ভর্তি করার পূর্বশর্ত হচ্ছে "বাড়ি থেকে ডিশ এন্টেনার লাইন আগে কাটতে হবে"।
• সন্তানের চরিত্র গঠনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্ট্রাটেজীর অংশ হিসেবে হলিউড-বলিউডের কুখাদ্যের বিপরীতে যে সকল পদক্ষেপ আমরা নিতে পারি তার মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজ বাড়িতে একটি পারিবারিক পাঠাগার (Family Library) প্রতিষ্ঠা করা। ছোটদের উপযোগী ইসলামিক ডিভিডি, ভিসিডি ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারি। আল-কুরআনের তাফসীর, সহীহ হাদীস গ্রন্থ, রসূল -এর জীবনী, ইসলামী অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী সমাজ, চার খলিফার বিস্তারিত জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, অন্যান্য নাবীদের জীবনী, Comparative religion, ইসলামী শিক্ষা ইত্যাদি দিয়ে নিজ ঘরে একটি পারিবারিক ইসলামিক লাইব্রেরী তৈরী করতে পারি। নিজে পড়তে পারি, সন্তানদেরও পড়ার উৎসাহ দিতে পারি।
• আমাদের মেয়ের বয়স দশ বছর। আলহামদুলিল্লাহ, তার জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে কোন হিন্দি সিনেমা, সিরিয়াল, নাটক, নাচ-গান স্পর্শ করেনি অর্থাৎ এই ধরণের কিছু সে দেখেনি। কারণ আমাদের বাসায় কখনোই ডিসের লাইন ছিল না এবং আজও নেই। হ্যাঁ, সে টিভি দেখে, আমরা তাকে খুব বড় স্ক্রিনের টিভি কিনে দিয়েছি যেন সে উৎসাহ পায় এবং তার সাথে ডিভিডি প্লেয়ার সংযুক্ত করে দিয়েছি। আমাদের বাসায় ইসলামিক ডিভিডি দিয়ে তাকে একটি লাইব্রেরী করে দিয়েছি। তার বুঝ হওয়ার পর থেকেই টিভি দেখার প্রয়োজন হলে সে নিজেই লাইব্রেরী থেকে ডিভিডি বাছাই করে তা নিজে নিজে প্লে করে উপভোগ করে।
• এছাড়াও ইন্টারনেট তো রয়েছেই। কম্পিউটারে পাসওয়ার্ড দেয়া রয়েছে। তার নির্দিষ্ট সময়ানুযায়ী তাকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেই এবং কতগুলো ইসলামিক ওয়েবসাইট তাকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি যেখান থেকে সে শিক্ষামূলক কিছু উপভোগ করে।
📄 টিভিতে নিউজ বা খবর দেখা
• অনেক ইসলামী পরিবার বাসায় ডিস এন্টেনার লাইন নিয়েছেন খবর (নিউজ) দেখার জন্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে ২৪ ঘন্টার মধ্যে খবর হচ্ছে মাত্র অল্প কিছু সময়। আর বাকী পুরো সময়টাতেই প্রচার হচ্ছে অনৈসলামী অনুষ্ঠান। পরিবারে বাবা-মা, ছেলেমেয়ে সবাই মিলে আস্তে আস্তে খবরের পাশাপাশি অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখাতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। এমন কি খবরের মাঝখানেও কয়েকবার বেপর্দা মেয়েদের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে, তাও সবাই মিলে উপভোগ করছে!
• যে সকল মেয়েরা সাধারণত টিভিতে খবর পড়েন তারা দেখতে হয় খুবই সুন্দরী, আকর্ষণীয় ফিগার, কন্ঠস্বর হয় খুবই আকর্ষণীয় আর বয়স তো অবশ্যই কম। তার উপর আকর্ষণীয় সাজগোজ। এটা তাদের কোন দোষ নয়। টিভিতে আজকাল খবর পড়ার জন্য চাকুরীর যোগ্যতারই অংশ এটা। কিন্তু সমস্যাটা হলো ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে। যারা খবর দেখতে বসেন তারাও খবর উপভোগ করার পাশাপাশি খবর পাঠিকাকেও দেখতে থাকেন।
• ইসলামের নামেও কিছু কিছু টিভি চ্যানেল বের হয়েছে। তারা ইসলামী অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে নাচ-গান সম্মিলিত বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছে। কোথাও রেহাই নেই।