📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 তরুণদের ভাবনা

📄 তরুণদের ভাবনা


এক তরুণের বক্তব্য। সে তার বন্ধু মহলে আড্ডার মাঝে কুরআন থেকে দু'একটা পয়েন্ট তুলে ধরেছে। এতে অন্যান্য বন্ধুরা মন্তব্য করছে যে, "তোর মাথায় ইসলামের ভূত চেপেছে, ইসলাম তোর ব্রেইন ওয়াশ করে দিয়েছে"। আমরা একটু গভীরে চিন্তা করে দেখি। যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই পৃথিবীতে সুখে শান্তিতে থাকার জন্য একটি সুন্দর জীবন বিধান দিয়ে দিয়েছেন আর আমাদের তরুশ সমাজ তাকে বলছে ভূত, তাকে বলছে ব্রেইন ওয়াশ!
আমাদের তরুণ সমাজ আজকাল ইসলামকে শত্রু ভাবছে। তারা ইসলামকে ভয় পায়। তাদের ধারণা ইসলাম পালন করলে হয়তো জীবনে অনেক কিছুই করা যাবে না। এখন যা ইচ্ছে করছি তা হয়তো আর করা যাবে না।
তারা ইসলামী বই পড়ে মজা পায় না, এছাড়া তারা ইসলামী বই পড়তেও চায় না।
আমাদের অধিকাংশ ট্রেডিশনাল হুজুররা অনেক সময় ইসলামকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে, তরুণ সমাজের কাছে তা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তারা সারাক্ষণ নেগেটিভ ওয়াজ করতে থাকেন যে এইটা করা যাবে না... ঐটা করা যাবে না... ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা কোন আশার আলো দেখান না। যার কারণে তরুশরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। অধিকাংশ হুজুরদের বক্তব্যের মধ্যে হয়তো কোথাও একটা বড় ধরণের গ্যাপ রয়েছে, যার কারণে কঠিন মনে হয়। আসলে ইসলাম মানুষের জীবনকে কঠিন করার জন্য আসেনি, এসেছে আরো সহজ করার জন্য।
আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যে, ইসলাম Extremism সমর্থন করে না। ইসলাম আত্মঘাতি বোমা হামলা (Suicide bombing) সমর্থন করে না। এগুলো ইসলামের অংশ নয়। কেউ বা কোন দল যদি এই ধরণের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড করে তাহলে বুঝতে হবে যে এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই, এটা তার বা তাদের নিজস্ব বিষয় এবং এর জন্য সে নিজে দায়ী। এর জন্য তাদেরকে আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হতে হবে। ইসলামের শত্রুরা মিডিয়ার মাধ্যমে এই অপকর্মগুলোকে ইসলামের সাথে সংযুক্ত করে মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চায়।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ‘মধ্যযুগ' বা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ' নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি

📄 ‘মধ্যযুগ' বা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ' নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি


প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যায় যে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীরা বলেন যে ইসলাম দ্বারা দেশ চালালে দেশ আবার মধ্যযুগে ফিরে যাবে, দেশ আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে চলে যাবে, দেশ ১৪শ বছর পিছিয়ে যাবে।
আমাদের কাছে হয়তো এই বিষয়টা পরিষ্কার না যে, আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ বলতে আসলে কী বুঝায়? এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য আমাদের মুহাম্মাদ ﷺ-এর বিস্তারিত জীবনী পড়া প্রয়োজন। মুহাম্মাদ ﷺ ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত পেয়েছেন (৬১১ খৃষ্টাব্দে)। নবুয়ত পাওয়ার বছর থেকে শুরু করে মোট ২৩ বছর সময় ধরে কুরআন নাযিল হয়েছে। আল কুরআনের একেকটা আয়াত নাযিল হয়েছে আর তিনি তা সমাজে বাস্তবায়ন করেছেন। আল কুরআনের এই একেকটা আয়াতই হচ্ছে ইসলাম। পরিপূর্ণ ইসলাম আসার আগ পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ। আইয়ামে জাহিলিয়াত আরবী শব্দ এর মানে হচ্ছে অজ্ঞতার যুগ। ঐ সময়ে মানুষ ইসলাম বিরোধী সকল কাজ-কর্ম করতো। এখন আমরা নিজেদেরকে নিজে প্রশ্ন করতে পারি যে, ইসলাম সমাজে প্রতিষ্ঠা হলে কিভাবে দেশ আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে চলে যাবে? ইসলামের মাধ্যমেইতো আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ পরিবর্তন হয়ে সুস্থ সমাজে ফিরে এসেছে। আল কুরআনের একেকটা আয়াত নাযিল হয়েছে আর জাহিলিয়াতের যুগের একেকটা অন্যায় ও অপকর্ম দূর করা হয়েছে।
ইসলাম আসার আগ পর্যন্ত সময়টা ছিল আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ। বরং এখন দেখা যাচ্ছে আমরা মুসলিমরা দিন দিন ইসলাম ত্যাগ করে সমাজকে আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। যেমন একটি বাস্তব উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরো পরিস্কার হবে। আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে মেয়েরা সংক্ষিপ্ত কাপড় পরতো, অশালিন পোশাক পরে পর পুরুষকে আকর্ষণ করতো। এতে পুরুষরাও উত্তেজিত হতো, মেয়েদেরকে রাস্তা-ঘাটে ইভটিজিং (Eve Teasing) করতো, অসম্মান করতো। ইসলাম এসে মেয়েদেরকে সঠিক কাপড় পরিয়েছে, শালিন পোশাক দিয়েছে, বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করে অসম্মান থেকে সম্মান দিয়েছে। আর আজকে এই শতাব্দিতে এসে আমাদের মেয়েরা আবার আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগের ন্যায় সংক্ষিপ্ত কাপড় পরছে, অশালিন পোশাক পরে বাইরে যাচ্ছে আর নিজেরা পরপুরুষের কাছে অসম্মানিত হচ্ছে, সমাজে ইভটিজিংয়ের পরিমান বাড়িয়ে দিচ্ছে, নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 যাকাতের সঠিক ব্যবহার না করা

📄 যাকাতের সঠিক ব্যবহার না করা


আল্লাহ বলেছেন: তাদের জন্যে দুর্ভোগ যারা যাকাত দেয় না (সূরা হা-মীম সাজদাহঃ ৭) বেশীরভাগ মুসলিমই প্রতি বছর হিসাব করে ঠিক মতো যাকাত আদায় করেন না। যাকাত যাতে আদায় না করতে হয় বা যত কম যাকাত দেয়া যায় সে জন্য হুজুরদের কাছে যাওয়া হয় নানা রকম ফতোয়ার জন্যে।
অনেকেই যাকাত দিয়ে থাকেন কমদামি শাড়ি ও লুঙি। আর এই সকল নিম্নমানের শাড়ি ও লুঙি তৈরীর জন্য এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী ফ্যাক্টরী খুলে বসেছে। তারা এই পণ্যের নামই দিয়েছে যাকাতের শাড়ি ও লুঙি। এতেই সবাই বুঝে যায় যে এই কাপড় সাধারণ লোকদের জন্য না। অথচ মহান আল্লাহ বলছেন তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করবে তা অপর ভাইয়ের জন্য ও পছন্দ করবে। কিন্তু আমরা করছি তার উল্টো।
যাকাতের এই কাপড় এতোই নিম্নমানের যে একবার বা দুবার ধোয়া হলেই দফা শেষ। এক শ্রেণীর বড়লোক ঘটা করে প্রচার করে যাকাতের এই নিম্নমানের শাড়ি-লুঙি বিতরণ করতে গিয়ে ভির সামলাতে না পেরে প্রতি বছর অনেক লোক মেরে ফেলেন।
এই নিম্নমানের কাপড় বিতরণ ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। আর যাকাত প্রদানের সাধারণ নিয়ম হলো কোন ব্যক্তি বা পরিবারকে যাকাতের টাকা দিয়ে এমনভাবে সাবলম্বী করে দেয়া যেন তার আর দ্বিতীয়বার যাকাত নিতে না হয় এবং তিনি যেন পরবর্তীতে অন্যকে যাকাত দিতে পারেন। কিন্তু আমরা যা করছি এতে গরীব গরীব-ই থেকে যাচ্ছে, সমাজের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 একটি প্রচলিত ভুল ধারণার অবসান হোক

📄 একটি প্রচলিত ভুল ধারণার অবসান হোক


আমাদের দ্বীন ইসলামের দাওয়াতী কাজের অংশ হিসেবে আমরা ২০০৭ সালে যাকাতের উপর কুরআন ও সহীহ হাদীসভিত্তিক এবং বাস্তবভিত্তিক একটি authentic বই-এর ৫০০ কপি ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ফ্রী বিতরণ করি। সেই হিসেবে আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেবকেও একটা কপি তার সংগ্রহে রাখার জন্য দেয়া হয়। ইমাম সাহেব বইটি হাতে নিয়েই সর্বপ্রথম জিজ্ঞেস করেন, বইটি কে লিখেছেন? যখন উত্তরে বলা হলো বইটির লেখক সিঙ্গাপুরে বসবাসরত একজন ইঞ্জিনিয়র, তখন ইমাম সাহেব প্রশ্ন করলেন, উনি কি আলেম? উনি কি মাওলানা? উনি ইঞ্জিনিয়র হয়ে ইসলামের উপর বই লিখলেন কিভাবে? যাহোক যাকাতের উপর ঐ বইটি ইমাম সাহেব আর নিলেন না, ফেরত দিয়ে দিলেন।
এখন প্রশ্ন: 'আলেমের' সংজ্ঞা কী? উত্তরে এক কথায় বলা যায় যার ভেতর ‘ইল্ম’ আছে সেই আলেম। ‘ইল্ল্ম’ অর্থ জ্ঞান এবং ‘আলেম’ অর্থ জ্ঞানী, আর ‘ওলামা’ হচ্ছে আলেমের বহুবচন। এই জ্ঞান হতে পারে ইসলামী অথবা নন ইসলামী। ইসলামের পরিভাষায় আরো পরিষ্কার ভাবে বলা যায়, যার ভেতর দ্বীন ইসলামের জ্ঞান আছে তিনি দ্বীনি আলেম। এখন একজন ইঞ্জিনিয়র, ডাক্তার, পাইলট, ব্যাংক ম্যানেজার, ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, ব্যরিষ্টার, এমপি, মিনিষ্টার, থানার ওসি বা একজন বাস ড্রাইভারও দ্বীনি আলেম হতে পারেন যদি তার ভেতর কুরআন ও সহীহ হাদীসভিত্তিক দ্বীন ইসলামের সঠিক জ্ঞান থাকে।
এখন আসুন আমরা বিশ্লেষণে আসি। কুরআন নাজিলের উদ্দেশ্য কী? কুরআন-হাদীসের মধ্যে আছেটা কী? আমরা জানি কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানুষ। উদাহরণস্বরূপ এই পৃথিবীতে যতো জিনিস তৈরী হচ্ছে, যেমন, রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফ্রিজ, গাড়ি, প্লেন, ট্রেন, সেলফোন ইত্যাদি বাজারজাত করার সময় কাম্প্যানী পণ্যের সাথে একটা করে অপারেটিং ম্যানিউয়্যালও দিয়ে দেয়। ঠিক তেমনি, আল্লাহ যখন মানুষকে তৈরী করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তখনও একটা ম্যানিউয়্যাল সাথে দিয়ে দিয়েছেন, যার ভেতরে আছে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবন কিভাবে পরিচালনা করব। মহান আল্লাহ এতই দয়ালু যে তিনি শুধু ম্যানিউয়্যাল পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি আবার সাথে একজন ট্রেনারও পাঠিয়েছেন যিনি ঐ ম্যানিউয়্যালটা তার বাস্তব জীবনে বাস্তবায়ন করে আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন, আর সেই ট্রেনার হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ﷺ। এবং সেই ম্যানিউয়্যালটা হচ্ছে আল কুরআন। রসূল ﷺ পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত সবকিছুই নিজে করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।
আল-কুরআন হচ্ছে মানব জাতির সকল সমস্যার সমাধান। যেমন: ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, অর্থনীতি, পৌরনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধনীতি, শিক্ষানীতি, চিকিৎসানীতি, ধর্মনীতি, আইননীতি, বিজ্ঞান ইত্যাদি। There is no Deen without Dunya, অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম এসেছেই দুনিয়াকে চালানোর জন্য। মানুষের সামাজিক জীবনটা হচ্ছে social engineering, আর এই social engineering হচ্ছে Islamic science-এর একটা অংশ।
* একটা সাধারণ common-sense হচ্ছে যারা বাস্তব জীবনের সাথে জড়িত যেমন : ইঞ্জিনিয়র, ডাক্তার, পাইলট, ব্যাংক ম্যানেজার, ব্যরিষ্টার, এমপি, মিনিষ্টার, থানার ওসি, ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার লোকেরা যদি কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর পড়াশোনা করে এই সমাজ এবং দেশকে পরিচালনা করেন তাহলেই কুরআনের সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব। আর যারা কুরআন-হাদীস পড়ছেন ঠিকই কিন্তু বাস্তব জীবনের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই তাহলে কে এই সমাজ বা দেশকে কুরআনের আলোকে পরিবর্তন করবেন? যেমন, যিনি finance বা economics-এ পড়াশোনা করেছেন বা M.B.A করেছেন তিনি যাকাত বা ইসলামিক ব্যাংকিং ভাল বুঝবেন। তাই আমাদের প্রয়োজন এমন শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে থাকবে সাধারণ শিক্ষা এবং ইসলামী শিক্ষার সমন্বয়।
সত্যিকার চিত্রটা হওয়ার কথা ছিল এমন যে, যখন মাগরিবের আযান হবে ডিউটিরত থানার ওসি সকল পুলিশদের সাথে নিয়ে জামাতে সলাত আদায়ে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং ইমামতি করবেন ওসি সাহেব নিজে, সলাত শেষে ১০/১৫ মিনিট কুরআন হাদীস থেকে ওসি সাহেব সিপাহীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষাস্বরূপ নসিহত করবেন। একইভাবে যখন যোহরের আজান হয়ে যাবে তখন প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসাহেবগণ তার নিজ নিজ ডিপার্টমেন্টের সকলকে নিয়ে জামাতে সলাতের ইমামতি করবেন। আবার একইভাবে যোহর-আসর সলাতের আযান হলে ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরের ইমামতিতে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা জামাতের সাথে সলাত আদায় করবেন। এভাবে যার যার এলাকার এমপি সাহেব জুম্মার সলাতের খুতবা দিবেন এবং ইমামতি করবেন। ঈদের সবচেয়ে বড় জামাতের ইমামতি করবেন রাষ্ট্রপতি নিজে এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্যে খুতবা দিবেন। হ্যাঁ, কুরআন বলে যে, মুসলিমগণের মাঝে যারা সমাজ পরিচালনা করবেন বা দেশ পরিচালনা করবেন অথবা কোন নেতৃস্থানীয় স্থানে থাকবেন, তাদের অবশ্যই কুরআনের উপর যথেষ্ট দখল থাকতে হবে।
আমাদের সকলের মধ্যে একটা ভুল ধারণা সবসময় কাজ করে যে, যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন কুরআন-হাদীস নিয়ে শুধু তারাই ইসলাম চর্চা করবেন এবং এই বিষয়টা শুধু তাদের। আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই তাহলে দেখি যে, হাজার হাজার ইসলামিক স্কলার ইউরোপ, আমেরিকা, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় দ্বীন ইসলামের কাজ করে যাচ্ছেন যাদের মাদ্রাসার কোন ড্রিগ্রি নাই অথচ তারা একেকজন বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডক্টরেট। এদের আহবানে হাজার হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করছেন। যেমন ড. ইউসুফ ইস্টেস, ড. বিলাল ফিলিপস, ড. জাকির নায়েক, ড. ইউসুফ ইসলাম, ড. জামাল বাদই, ড. তৌফিক চৌধুরী, ড. আব্দুল্লাহ হাকীম কুইক, ড. নদভী, ড. রাহমেত শাহ খান, ড. রেদা বদির, নুমান আলী খান, আব্দুর রহমান গ্রীন প্রমুখ স্কলারগণ কোন ট্র্যাডিশন্যাল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন নাই আবার উনাদের মধ্যে অনেকেই ইসলামের উপর যথেষ্ট রিসার্চ করেছেন, তারপর পৃথিবীর বিভিন্ন বড় বড় ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন এবং দ্বীনের প্রচারের জন্য সারা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে সেমিনার করে যাচ্ছেন।
সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে ইউরোপ, আমেরিকা, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকায় অনেক ভাল ভাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, কলেজ, এডুকেশন সেন্টার বা ইন্সিটিটিউট আছে, যারা ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর মাস্টার্স, গ্রাজুয়েশন, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেশন কোর্স ইত্যাদি দিয়ে থাকে, যে কেউ এই ধরনের কোর্সে অংশগ্রহণ করে ইসলামের উপর বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী হতে পারেন। এছাড়া এই আজকাল অনেক ভাল ভাল অনলাইন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে। যেমন- www.islamiconlineuniversity.com
এই কোর্সগুলো আমাদের দেশের গতানুগতিক মাদ্রাসার কোর্সের মতো নয়, এই কোর্সগুলো কুরআন ও সহীহ হাদীসভিত্তিক বাস্তব জীবনধর্মী এবং খুবই হাই কোয়ালিটি সম্পন্ন, অর্থাৎ কোর্সগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা যে ইসলামের সাথে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে integrated করা হয়েছে। আর যারা ক্লাশ নিয়ে থাকেন অর্থাৎ লেকচারার তারাও খুবই প্রফেশনাল।
এই উত্তর আমেরিকাতে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর কনফারেন্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং, সর্ট কোর্স, লং কোর্স ইত্যাদি নিয়মিত হচ্ছে যা খুবই কোয়ালিটি সম্পন্ন। আর এই ধরনের প্রোগ্রামের শিক্ষক এবং বক্তা হিসেবে আসছেন সারা পৃথিবীর সব A-class ইসলামিক স্কলারগণ। আলহামদুলিল্লাহ, এই ধরনের প্রোগ্রাম এবং কোর্সে আমাদের মতো অনেকেই সপরিবারে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন এবং একাডেমিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি Islamic Studies-এর উপর পড়াশোনা করে সঠিক দ্বীন ইসলাম বুঝার চেষ্টা করছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00