📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 অনেক স্কুল-কলেজে মেয়েদের হিয়াব হি‌নি‌য়ে নেয়া হচ্ছে

📄 অনেক স্কুল-কলেজে মেয়েদের হিয়াব হি‌নি‌য়ে নেয়া হচ্ছে


• आजकल দেখা যাচ্ছে অনেক স্কুল-কলেজেই মেয়েদেরকে হিযাব পরতে দেয়া হয় না, বোরকা পরতে দেয়া হয় না। অনেক জায়গায়ই হিযাব পড়ার কারণে স্কুল-কলেজের কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদেরকে স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দিয়েছেন। এমনও ঘটনা ঘটেছে যে ছাত্রীরা ফুল হাতা জামা পড়ে স্কুলে যাওয়ার কারণে স্কুলের প্রিন্সিপাল ও কর্তৃপক্ষ কেচি দিয়ে ছাত্রীদের জামার হাতা কেটে দিয়েছেন। আমরা জানি যে স্কুল-কলেজ হচ্ছে চরিত্র গঠনের প্রতিষ্ঠান। একটি মুসলিম মেয়ের হিযাব হচ্ছে তার চরিত্রের একটি মূল্যবান অংশ। আর যে স্কুল-কলেজের প্রিন্সিপাল বা শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্রীদের চরিত্রের মূল্যবান অংশ পোশাক খুলে নেয় সেই জায়গাতো চরিত্র গঠনের জন্য নয় বরং চরিত্র হরণের জায়গা। তাই কুরআন-সুন্নাহ মতে ও ইসলামিক স্কলারদের মতে সেইসকল স্কুল-কলেজে মেয়েদের পড়ানো জায়েজ নেই। সন্তানদেরকে সেই সকল স্কুল-কলেজে পাঠনো ঠিক নয়। হতে পারে তাদের লেখা-পড়ার মান অনেক উন্নত। কিন্তু সন্তানের চরিত্রই যদি চলে যায় তাহলে আর ঐ উন্নতমানের পড়াশোনা দিয়ে কী হবে! যে স্কুল-কলেজ সন্তানদের চরিত্র গঠনের জন্য সহায়তা করে সেখানে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে নিজেদের এই ধরণের আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শিক্ষণীয় হিসেবে ভুক্তভুগী একজন ছাত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হলো। আমরা পত্রিকায় দেখেছি যে, ঢাকার উত্তরার একটি স্কুলের কর্তৃপক্ষ হিযাব পরিহিতা মেয়েদেরকে স্কুল থেকে বহিস্কার করে দিয়েছে। স্কুলের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ যে মেয়েদেরকে হিযাব পড়তেই হবে কেন? তখন তাদের মধ্য থেকে একটি মেয়ে উত্তরে বলেছিল যে, "যে মহান আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় ফরয করেছেন, তিনিই মেয়েদের জন্য পর্দা বা হিযাব ফরয করেছেন, যার হুকুম পালন করার জন্য আমরা পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করি, তারই হুকুম পালন করার জন্য আমরা হিযাব পরি"। আমরা মুসলিমরা কি আমাদের সন্তানদের এভাবে গড়তে পারছি যেন আমাদের সন্তানরা সত্য কথা বলতে ভয় না পায়। যেভাবে এই মেয়েটি বলেছে?

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 তরুণদের ভাবনা

📄 তরুণদের ভাবনা


এক তরুণের বক্তব্য। সে তার বন্ধু মহলে আড্ডার মাঝে কুরআন থেকে দু'একটা পয়েন্ট তুলে ধরেছে। এতে অন্যান্য বন্ধুরা মন্তব্য করছে যে, "তোর মাথায় ইসলামের ভূত চেপেছে, ইসলাম তোর ব্রেইন ওয়াশ করে দিয়েছে"। আমরা একটু গভীরে চিন্তা করে দেখি। যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই পৃথিবীতে সুখে শান্তিতে থাকার জন্য একটি সুন্দর জীবন বিধান দিয়ে দিয়েছেন আর আমাদের তরুশ সমাজ তাকে বলছে ভূত, তাকে বলছে ব্রেইন ওয়াশ!
আমাদের তরুণ সমাজ আজকাল ইসলামকে শত্রু ভাবছে। তারা ইসলামকে ভয় পায়। তাদের ধারণা ইসলাম পালন করলে হয়তো জীবনে অনেক কিছুই করা যাবে না। এখন যা ইচ্ছে করছি তা হয়তো আর করা যাবে না।
তারা ইসলামী বই পড়ে মজা পায় না, এছাড়া তারা ইসলামী বই পড়তেও চায় না।
আমাদের অধিকাংশ ট্রেডিশনাল হুজুররা অনেক সময় ইসলামকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে, তরুণ সমাজের কাছে তা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তারা সারাক্ষণ নেগেটিভ ওয়াজ করতে থাকেন যে এইটা করা যাবে না... ঐটা করা যাবে না... ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা কোন আশার আলো দেখান না। যার কারণে তরুশরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। অধিকাংশ হুজুরদের বক্তব্যের মধ্যে হয়তো কোথাও একটা বড় ধরণের গ্যাপ রয়েছে, যার কারণে কঠিন মনে হয়। আসলে ইসলাম মানুষের জীবনকে কঠিন করার জন্য আসেনি, এসেছে আরো সহজ করার জন্য।
আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে যে, ইসলাম Extremism সমর্থন করে না। ইসলাম আত্মঘাতি বোমা হামলা (Suicide bombing) সমর্থন করে না। এগুলো ইসলামের অংশ নয়। কেউ বা কোন দল যদি এই ধরণের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড করে তাহলে বুঝতে হবে যে এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই, এটা তার বা তাদের নিজস্ব বিষয় এবং এর জন্য সে নিজে দায়ী। এর জন্য তাদেরকে আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হতে হবে। ইসলামের শত্রুরা মিডিয়ার মাধ্যমে এই অপকর্মগুলোকে ইসলামের সাথে সংযুক্ত করে মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চায়।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ‘মধ্যযুগ' বা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ' নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি

📄 ‘মধ্যযুগ' বা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ' নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি


প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যায় যে এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীরা বলেন যে ইসলাম দ্বারা দেশ চালালে দেশ আবার মধ্যযুগে ফিরে যাবে, দেশ আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে চলে যাবে, দেশ ১৪শ বছর পিছিয়ে যাবে।
আমাদের কাছে হয়তো এই বিষয়টা পরিষ্কার না যে, আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ বলতে আসলে কী বুঝায়? এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য আমাদের মুহাম্মাদ ﷺ-এর বিস্তারিত জীবনী পড়া প্রয়োজন। মুহাম্মাদ ﷺ ৪০ বৎসর বয়সে নবুয়ত পেয়েছেন (৬১১ খৃষ্টাব্দে)। নবুয়ত পাওয়ার বছর থেকে শুরু করে মোট ২৩ বছর সময় ধরে কুরআন নাযিল হয়েছে। আল কুরআনের একেকটা আয়াত নাযিল হয়েছে আর তিনি তা সমাজে বাস্তবায়ন করেছেন। আল কুরআনের এই একেকটা আয়াতই হচ্ছে ইসলাম। পরিপূর্ণ ইসলাম আসার আগ পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ। আইয়ামে জাহিলিয়াত আরবী শব্দ এর মানে হচ্ছে অজ্ঞতার যুগ। ঐ সময়ে মানুষ ইসলাম বিরোধী সকল কাজ-কর্ম করতো। এখন আমরা নিজেদেরকে নিজে প্রশ্ন করতে পারি যে, ইসলাম সমাজে প্রতিষ্ঠা হলে কিভাবে দেশ আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে চলে যাবে? ইসলামের মাধ্যমেইতো আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ পরিবর্তন হয়ে সুস্থ সমাজে ফিরে এসেছে। আল কুরআনের একেকটা আয়াত নাযিল হয়েছে আর জাহিলিয়াতের যুগের একেকটা অন্যায় ও অপকর্ম দূর করা হয়েছে।
ইসলাম আসার আগ পর্যন্ত সময়টা ছিল আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ। বরং এখন দেখা যাচ্ছে আমরা মুসলিমরা দিন দিন ইসলাম ত্যাগ করে সমাজকে আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। যেমন একটি বাস্তব উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরো পরিস্কার হবে। আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে মেয়েরা সংক্ষিপ্ত কাপড় পরতো, অশালিন পোশাক পরে পর পুরুষকে আকর্ষণ করতো। এতে পুরুষরাও উত্তেজিত হতো, মেয়েদেরকে রাস্তা-ঘাটে ইভটিজিং (Eve Teasing) করতো, অসম্মান করতো। ইসলাম এসে মেয়েদেরকে সঠিক কাপড় পরিয়েছে, শালিন পোশাক দিয়েছে, বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করে অসম্মান থেকে সম্মান দিয়েছে। আর আজকে এই শতাব্দিতে এসে আমাদের মেয়েরা আবার আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগের ন্যায় সংক্ষিপ্ত কাপড় পরছে, অশালিন পোশাক পরে বাইরে যাচ্ছে আর নিজেরা পরপুরুষের কাছে অসম্মানিত হচ্ছে, সমাজে ইভটিজিংয়ের পরিমান বাড়িয়ে দিচ্ছে, নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 যাকাতের সঠিক ব্যবহার না করা

📄 যাকাতের সঠিক ব্যবহার না করা


আল্লাহ বলেছেন: তাদের জন্যে দুর্ভোগ যারা যাকাত দেয় না (সূরা হা-মীম সাজদাহঃ ৭) বেশীরভাগ মুসলিমই প্রতি বছর হিসাব করে ঠিক মতো যাকাত আদায় করেন না। যাকাত যাতে আদায় না করতে হয় বা যত কম যাকাত দেয়া যায় সে জন্য হুজুরদের কাছে যাওয়া হয় নানা রকম ফতোয়ার জন্যে।
অনেকেই যাকাত দিয়ে থাকেন কমদামি শাড়ি ও লুঙি। আর এই সকল নিম্নমানের শাড়ি ও লুঙি তৈরীর জন্য এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী ফ্যাক্টরী খুলে বসেছে। তারা এই পণ্যের নামই দিয়েছে যাকাতের শাড়ি ও লুঙি। এতেই সবাই বুঝে যায় যে এই কাপড় সাধারণ লোকদের জন্য না। অথচ মহান আল্লাহ বলছেন তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করবে তা অপর ভাইয়ের জন্য ও পছন্দ করবে। কিন্তু আমরা করছি তার উল্টো।
যাকাতের এই কাপড় এতোই নিম্নমানের যে একবার বা দুবার ধোয়া হলেই দফা শেষ। এক শ্রেণীর বড়লোক ঘটা করে প্রচার করে যাকাতের এই নিম্নমানের শাড়ি-লুঙি বিতরণ করতে গিয়ে ভির সামলাতে না পেরে প্রতি বছর অনেক লোক মেরে ফেলেন।
এই নিম্নমানের কাপড় বিতরণ ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। আর যাকাত প্রদানের সাধারণ নিয়ম হলো কোন ব্যক্তি বা পরিবারকে যাকাতের টাকা দিয়ে এমনভাবে সাবলম্বী করে দেয়া যেন তার আর দ্বিতীয়বার যাকাত নিতে না হয় এবং তিনি যেন পরবর্তীতে অন্যকে যাকাত দিতে পারেন। কিন্তু আমরা যা করছি এতে গরীব গরীব-ই থেকে যাচ্ছে, সমাজের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00