📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 সাহাবা (রাদিআল্লাহু আনহু)-দের সম্পর্কে না জানা

📄 সাহাবা (রাদিআল্লাহু আনহু)-দের সম্পর্কে না জানা


রসূল ﷺ-এর পরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চারজন সফল রাষ্ট্রপ্রধান আবুবকর, ওমর, উসমান, আলী (রাদিআল্লাহু আনহুম) সম্পর্কেও আধুনিক যুগের ছেলেমেয়েরা তেমন কিছু একটা জানে না। এই চারজনকেই আল্লাহ তাদের জীবিত অবস্থায় জান্নাতের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। ওমর (রাদিআল্লাহু আনহু)-র সময়কে বলা হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যুগ। তিনি প্রশাসন সিস্টেম প্রবর্তন করেন, যেমন: তিনি যাকাতের মাল সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যাংক এবং রিজার্ভ ফান্ড চালু করেন, স্বেচ্ছাসেবকদের ভাতা প্রদান এবং নীতিমালা প্রণয়ন করেন। এছাড়া বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, ভূমি কর ও অন্যান্য কর নির্ধারণ করেন, চাষাবাদের জন্য খাল খনন করেন। তিনি কুফা, বসরা, ফুসতাত, মুওতাত, মুওসাল শহরগুলোতে কৃষি উন্নয়ন করেন। বিজিত রাষ্ট্রসমূহকে প্রাদেশিক রাজ্যে বিভক্ত করেন। উশর আদায়ের জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করেন। জেলখানা ও পুলিশ বাহিনী গঠন করেন। মুক্ত আবহাওয়ার পরিবেশে সৈন্যদের জন্য শেল্টার তৈরী করেন। দেশের খবরাখবরের জন্য পত্রিকার ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন শহরে সার্কিট হাউজ তৈরী করেন। দরিদ্র ইহুদী-খ্রীষ্টানদের জন্য ফুড ব্যাংক চালু করেন। শিক্ষকদের জন্য বেতন ধার্য করেন। মদীনা হতে মক্কার পথে রেষ্ট হাউজ তৈরী এবং বিনা মূল্যে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। আজকের উন্নত দেশগুলোর যে ওয়েলফেয়ার সিস্টেম আছে তা ওমর (রাদিআল্লাহু আনহু) প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থার আদলে তৈরী।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 বাংলা একাডেমীর বই মেলা

📄 বাংলা একাডেমীর বই মেলা


প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে বাংলা একাডেমীতে এক মাস ব্যাপী বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই বই মেলাতে হাজার হাজার বই প্রকাশিত হয়। শতশত বইয়ের দোকানের মাঝে কোন ইসলামী বইয়ের দোকান থাকে না। শোনা যায় শুধু মাত্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি স্টল থাকে। যাহোক, এই বই মেলাতে লক্ষ লক্ষ আধুনিক ছেলেমেয়েদের সমাগম ঘটে, তারা নানা রকম গল্প সমগ্র, কবিতা, উপন্যাস ইত্যাদি কিনে এবং আগ্রহ করে পড়ে।
যদি এই বই মেলাতে কিছু উন্নতমানের এবং সহীহ (অথেন্টিক) ইসলামী বইপত্র পাওয়া যেতো তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখান থেকে কিছু ইসলামী বইও কিনতো এবং নিশ্চয়ই তা থেকে উপকৃত হতো। এছাড়া অন্যান্য উপন্যাসের পাশাপাশি রসূল ﷺ-এর তথ্যবহুল জীবনী পাওয়া গেলে অনেকেই মানব জাতির জন্য তাঁর অবদানের কথা জানতে পারতো। তাহলে হয়তো (তথাকথিত) আধুনিক ছেলেমেয়েরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটি সম্পর্কে আজেবাজে কটুক্তি করতো না।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 আলেমদের পাণ্ডিত্যি

📄 আলেমদের পাণ্ডিত্যি


মুসলিম আলেমগণ (যারা ইসলাম মানেন, বুঝেন ও পালন করেন) তারা বর্তমানে আধুনিক ছেলেমেয়েদের কাছাকাছি আসতে পারছেন না। এসব ছেলেমেয়েরা ইসলামের প্রতিনিধি অর্থাৎ আলেমদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস অত ভালো নয় বলে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে না। আবার আলেমরাও ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদেরকে আধুনিক ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখেন, তাদের কাছেও যান না আবার তাদেরকে নিজেদের কাছেও আসার পথও তৈরী করে দিচ্ছেন না। দীর্ঘ দিন ধরে এই দুই গ্রুপের মাঝে ব্যাপক ব্যবধান সৃষ্টি হয়ে আছে যা দূর হওয়া প্রয়োজন।
ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা এই ছেলেমেয়েরা যেমন জানেন না বা ইসলামের আসল রূপ ও সৌন্দর্য্য দেখার সৌভাগ্য তাদের হয়নি, ঠিক তেমনি আমরা যারা ইসলাম জানি, বুঝি, মানি ও ভালোবাসি, তারাও ইসলাম প্রচারের দায়িত্বকে ফরয মনে করে ইসলামকে তাদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করিনি অথচ বিশাল অংকের টাকার চুক্তিতে ওয়াজ মাহফিল করে বেড়াচ্ছি।

📘 মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা কেন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে > 📄 ইসলামিক লাইব্রেরীর অভাব

📄 ইসলামিক লাইব্রেরীর অভাব


আমেরিকা, ক্যানাডা, সিঙ্গাপুরে দেশের প্রতিটি এলাকায় একটি করে উন্নতমানের রেফারেন্স লাইব্রেরী রয়েছে। অর্থাৎ পুরো দেশের আনাচে কানাচে শতশত লাইব্রেরী রয়েছে। যে কেউ বিনা পয়সায় মেম্বার হতে পারেন এবং লাইব্রেরীতে বসে পড়া-লেখা এবং রিসার্চ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে বই, ডিভিডি বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। প্রতিটি লাইব্রেরীতেই কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। সব সার্ভিসই ফ্রী। এই লাইব্রেরীগুলোতে বিভিন্ন ধর্মের উপর নানা ভাষায় বই রয়েছে।
কিন্তু আমাদের দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি লাইব্রেরী ছাড়া দেশের আর কোথাও কোন ইসলামিক লাইব্রেরী নেই। অনেক এলাকাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা কোন সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে লাইব্রেরী থাকতে পারে কিন্তু তা রয়েছে শুধুমাত্র গল্প-উপন্যাসে ভরপুর। সেখানে শুধু অথেন্টিক ইসলামী বইয়ের অভাব।
বাংলাদেশ এখন মসজিদের জন্য বিখ্যাত এবং এই দেশ মসজিদের দেশ হিসেবে সারা পৃথিবীতে প্রথম স্থান পেয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা খরচ করে মসজিদ বানানো হচ্ছে কিন্তু মসজিদগুলোর তাকে হয়তো কিছু আরবী কুরআন রয়েছে তাও শুধু তিলওয়াত করার জন্য। কিন্তু ইসলামকে জানার জন্য, কুরআনকে জানার জন্য কোন ইসলামী সাহিত্য এবং তাফসীর নেই। রসূলকে জানার জন্য কোন সীরাত গ্রন্থ নেই।
প্রায় প্রতিটি শিক্ষিত পরিবারের ড্রইংরুমে একটি বইয়ের আলমিরা থাকে এবং সেখানে অনেক সাহিত্যের বই-ই থাকে কিন্তু শুধু থাকে না ইসলামের উপর অথেন্টিক বই। যদিও কারো কারো ঘরে 'মকসুদুল মোমিনুন' বা 'নিয়ামুল কুরআন' এই জাতীয় দুই একটা বই থাকে যা মানুষকে সঠিক ইসলাম থেকে আরো দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং ইসলামের নামে কিছু বিদ'আত ঘরের মধ্যে পালিত হয়।
আমরা যদি ইতিহাস দেখি যে মুঘল সম্রাটরা কোটি কোটি রুপি খরচ করে প্রাসাদ বানিয়েছে, প্রেমের নিদর্শন স্বরূপ তাজমহল নির্মাণ করেছে, মার্বেল পাথর দিয়ে খুবই চাকচিক্যময় মসজিদ নির্মাণ করেছে কিন্তু তারা মুসলিমদের সঠিক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য কোন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি, লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেননি, ইসলামী গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেননি।
ধনী আরব দেশগুলো ডোনেশন দিয়ে আমাদের মতো গরীব দেশেগুলোতে পাঁচওয়াক্ত সলাত আদায় করার জন্য অনেক মসজিদ তৈরী করে দিয়েছে, যা সলাত শেষে তালা মেরে রাখা হচ্ছে অন্য কোন কাজে লাগছে না। তারা আমাদের প্রতি দয়া পরবেশ হয়ে দেশের আনাচে কানাচে অনেক মসজিদ তৈরী করে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু এই মসজিদগুলো আবাদ করার জন্য লোক তৈরীর ব্যবস্থা করেনি, কোন লাইব্রেরী বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00