📄 আল কুরআনে ইবলিস শয়তানের ঘোষণা
আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে ইবলীস [শয়তান] বলল: আমি এদের (মানব জাতির) সামনে থেকে আসবো, পিছন থেকে আসবো, ডান দিক থেকে আসবো, বাম দিক থেকে আসবো এবং তুমি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবে না। (সূরা আরাফ ৭: ১৭)
সে [শয়তান] বললঃ হে আমার রব! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করলেন তারজন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপকাজকে শোভনীয় করে তুলবো এবং আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করবো। (সূরা হিজর ১৫: ৩৯)
সে [শয়তান] বলল: আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করবো, তবে ওদের মাঝে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের নয়’। (সূরা সা’দ ৩৮: ৮২-৮৩)
📄 কিন্তু মহান আল্লাহ বলছেন
হে মু'মিনগণ! তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামের দিকে আসো এবং শয়তানের পথ অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা আল বাকারা ২: ২০৮)
📄 মুসলিম কাকে বলে?
মানব শিশু মানুষই হয়, পশু বা পাখি হয় না। কিন্তু একজন শিক্ষকের ছেলে কি জন্মগতভাবেই শিক্ষক হতে পারে? না। কারণ শিক্ষকতার জন্য যেসব গুণ থাকা দরকার তা অর্জন না করলে শিক্ষক হওয়া যায় না। মুসলিম পরিচয়টাও একটা গুণ। এটা জন্মগত কোন গুণ নয় বরং এটা চেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। প্রত্যেক গুণই অর্জন করতে হয়। নাবীর ঘরে জন্ম নিয়েও নূহ (আ.)-এর ছেলে কাফির হয়েছিল। কারণ মুসলিম হবার গুণ সে অর্জন করেনি। তাই বুঝতে হবে যে কী কী গুণ থাকলে মুসলিম হিসেবে গণ্য হওয়া যায়।
ইসলাম শব্দটি আরবী। আমাদের দেশে মুসলমান শব্দটাই বেশী চালু। এ শব্দটি ফার্সী ভাষা থেকে এসেছে। ইসলাম শব্দ থেকেই মুসলিম শব্দটি এসেছে। যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে তাকেই মুসলিম বলে। ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ। নিজের খেয়াল খুশী ও প্রবৃত্তির মর্জি মতো না চলে যে আল্লাহর মর্জি ও পছন্দের নিকট আত্মসমর্পণ করে তারই পরিচয় হলো মুসলিম। এখন চিন্তা করি যে, আমরা যদি মুসলিম হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে চাই তাহলে আমাদের কী কী গুণ অর্জন করতে হবে।
প্রথমত: আমাকে জানতে হবে যে, ইসলাম কী?
দ্বিতীয়ত: আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমি ইসলামকে মেনে চলতে প্রস্তুত আছি কিনা।
তৃতীয়ত: ইসলামকে মেনে চলতে চাইলে সব ব্যাপারেই আল্লাহ ও রসূল ﷺ-এর আদেশ নিষেধ কী তা জানতে হবে এবং তা পালন করে চলতে হবে।
📄 আমি কি ইসলাম মেনে চলতে বাধ্য?
উপরে যে ৩টি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা অর্জন করার জন্য আল্লাহ তা'আলা মানুষকে বাধ্য করেন না। স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার মানুষকে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন:
"বস্তুতঃ আমি তাকে (মানুষকে) দু’টি পথ [সরল পথ ও পাপের পথ] প্রদর্শন করেছি।” (সূরা আল-বালাদ: ১০)