📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্বাচন

📄 মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্বাচন


সন্তানদের জন্য সঠিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করা পিতা-মাতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন কাজগুলোর একটি। প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উঠানোর সময়টি অনেক উদ্বেগিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পার করতে হয়। বেশিরভাগ বাচ্চাই এই সময়টিকে জীবনের একটি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত হিসেবে দেখে। আকার-আকৃতি, পরিবেশ, পাঠদানের পদ্ধতি কিংবা খেলার মাঠ ইত্যাদি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনেকটাই আলাদা।
প্রাথমিক বিদ্যালয় বাচ্চাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা শক্ত ভিত্তি গড়ে দেয়, আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে সেই ভিত্তির ওপর বাস্তব কাঠামো নির্মাণ করে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় কিশোরদের সামাজিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত করে, যা তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও বেশি সমৃদ্ধ। মাধ্যমিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সচেতন পিতা-মাতা সন্তানকে সবচেয়ে ভালো বিদ্যালয়ে দিতে চান। কিছু বাবা-মা বাচ্চাদের ভালো বিদ্যালয়ে দেওয়ার আশায় বাসাও পরিবর্তন করেন, যদি বাসার কাছের বিদ্যালয়ের মান সন্তোষজনক না হয়।
মুসলিম বাবা-মায়ের জন্য ভালো একটি বিদ্যালয় নির্ধারণ করা খুব খুবই কষ্টসাধ্য। কেননা, তাদের লক্ষ্য করতে হয় —শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়, তাদের নীতিবোধ ও সামাজিক পরিবেশ কেমন ইত্যাদি। কারণ, এগুলো বাচ্চার চরিত্র গঠনের সাথে সম্পর্কিত।
তবে এই ধরনের প্রত্যাশা প্রায় অসম্ভব। পিতা-মাতার অবশ্যই এটা মাথায় রাখা উচিত, সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কতটুকু পথ পাড়ি দিতে হবে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো সাধারণত তাদের প্রভাবিত কর্মসুচিগুলো প্রস্পেক্টাস ছাপিয়ে থাকে। সেখানে বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পাশের নিয়মাবলি, উপস্থিতির ওপর নবরসহ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়াদি উল্লেখ থাকে। এই সমস্ত বিষয়াদি ছাড়াও প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে স্কুলের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। তবে যা-ই করি না কেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ভালো বিদ্যালয় সেগুলাই, যেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতির দিকে জোর দেয়, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরিতে কাজ করে থাকে। প্রতিটি বাচ্চাই স্বতন্ত্র। শুধু তাদের উপযুক্ত পরিবেশের মধ্যে দিতে হয়—যেখানে তারা নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম। কোনো কিশোর যদি পড়ুয়া হয়, তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উচ্চ মানসম্পন্ন বিদ্যালয়ে তাকে দেওয়া উচিত। আর অপড়ুয়া বা অমনোযোগী কিশোরকে এমন স্কুলে ভর্তি করানো উচিত, যেখানে আর্ট, খেলাধুলা, কারিগরি ইত্যাদি বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে কাজ করা হয়। এতে অপড়ুয়া ছাত্ররা এই সব বিষয়ের কোনো একটিতে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারবে। সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ও শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্রর্তপূর্ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও উপযোগী করে তোলা। ভালো মানের বিদ্যালয়গুলো সকল ধরনের শিক্ষার্থী জন্য সমান ব্যবস্থা রাখে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিরক্ত কিংবা হতাশ না হয়; একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না পড়ে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য পিতা-মাতার জ্ঞাত থাকা জরুরি, যাতে তারা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। বিদ্যালয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় রাখা উচিত তা হলো—
* শিক্ষার্থীরা কি সহজে বিদ্যালয়ে পৌঁছতে সক্ষম? সামগ্রিক পরিবেশ কি নিরাপদ? সামাজিক স্থিতিশীলতা কি আছে?
* বিদ্যালয় পরিদর্শকদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন এই বিদ্যালয় সম্পর্কে কী বলে?
* বিদ্যালয়টি কী সহশিক্ষায় পাঠদান করে, নাকি শুধু ছেলে অথবা মেয়েদের পাঠদান করে?
* প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনের ক্ষেত্রে এবং বহুমুখী সুযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়টির মান কী?
* এই বিদ্যালয়ে পাঠ গ্রহণ শেষে শিক্ষার্থীরা সাধারণত কেমন প্রতিষ্ঠানে যায়?
* বিদ্যালয়টির র‍্যাগিং ও ইভটিজিং বন্ধ করা ব্যাপারে কী পলিসি আছে? র‍্যাগিং ও ইভটিজিং বিরুদ্ধে তারা কী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে?
* বিদ্যালয়টির কোনো লিখিত আচরণবিধি আছে কি? যদি থাকে, তাহলে তারা কি তা যথাযথ উপায়ে পালন করে?
* বাবা-মা কি বিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার রাখে? তারা কি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারে?
* ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হার কেমন? অনুমোদিত অনুপস্থিতি সম্পর্কে বিদ্যালয় কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে?
* বাচ্চাদের দুর্ব্যবহারজনিত কারণে স্থায়ী ও অস্থায়ী বহিষ্কারের হার কত?
* বিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও বাবা-মায়ের মনোভাব কেমন?
* শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন?
* শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক আচরণ কেমন?
* বাড়ির কাজ (home work) সম্পর্কিত কর্মপন্থা কীরূপ?
* বাচ্চাদের বিশেষ শিক্ষাগত প্রয়োজন (Special Educational Needs–SEN) পূরণে বিদ্যালয় কী ধরনের বিশেষ সুবিধা প্রদান করে?
* বিদ্যালয়টি কি পরিপাটি, পরিচ্ছন্ন এবং শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনুকূল? বন্ধুত্বপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ আছে সেখানে?
**স্বতন্ত্র নাকি মিশ্র বিদ্যালয়**
স্বতন্ত্র পড়াশোনার বিষয়ে বিপরীতমুখী দুটি দৃষ্টিকোণ রয়েছে। সহশিক্ষার প্রভাবগণ বিশ্বাস করে, ছেলেমেয়ে উভয়কে একসঙ্গে বেড়ে উঠা উচিত এবং জীবন সম্পর্কে শেখা উচিত, যেন তারা পরস্পরকে ভালো করে জানতে পারে। অবাধ মেলামেশাকে তারা প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার উপকরণ বলে মনে করে
এবং এতে উৎসাহিত করে। আর এই চিন্তাধারা অনুসারী নয়, তাদের গণ্য করে সেকেলে হিসেবে। তাদের মতে, ছেলেমেয়েরা একে অপরের পরিপূরক নয়; বরং প্রতিযোগী। পুরুষ ও মহিলাকে তাদের নিজস্ব শক্তি কিংবা দুর্বলতা দ্বারা মূল্যায়ন করা হয় না।
এর বিপরীতে একদল লোক রয়েছে যারা ভাবে, মহিলাদের স্থান হচ্ছে ঘরের ভেতরে বিশেষত রান্নাঘরে; শুধু রান্না করার জন্য এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সেবা করার জন্য। তারা মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণকে শুধু সময়ের অপচয় বলেই গণ্য করে না; বরং তারা বিশ্বাস করে, এটা সমাজের জন্য ক্ষতিকারকও বটে। ধর্ম ও সংস্কৃতির নামে অনেক নারীই নিজেদের সাধারণ মানবিক অধিকার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।
ইসলাম এক্ষেত্রে মধ্যমপন্থি। ইসলামে শিক্ষা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। জ্ঞান অর্জন করা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই বাধ্যতামূলক। ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই উচিত এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করা, যা তাদের মেধার বিকাশ সাধনে অধিক সহায়ক।
প্যাটারসন অনেক গবেষক তাদের গবেষণায় খুঁজে পেয়েছেন, ছেলেমেয়ে উভয়ই স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করে থাকে। নিরপেক্ষ ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা শিক্ষাক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থাকে সুপারিশ করেছেন। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাতের ওপর ভিত্তি করে বাবা-মায়ের চাহিদা অনুযায়ী মিশ্র পদ্ধতিও পাঠদানকৃত কিছু বিদ্যালয়ও ভালো পাঠদানের উদ্দেশ্যে দেখা যায়। স্কুল খোলার ব্যবস্থা রাখার জন্য ছেলেমেয়েদের স্বতন্ত্র টিউটোরিয়াল দলে বিভক্ত করে শিক্ষার আয়োজন করে। এই গবেষণায় আরও দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাতে স্বতন্ত্র বিদ্যালয়ের বেশি ভালো ফলাফল করে।
ছেলেমেয়েরা দৈহিক ও মানসিক উভয়দিক থেকেই স্বতন্ত্র। ছেলেরা; বিশেষ করে সদ্য যৌবনে পা দেওয়া ছেলেরা আচরণের ক্ষেত্রে অনেকটা আক্রমণাত্মক। এই সময় তারা শিক্ষকদের থেকে তুলনামূলক বেশি মনোযোগ আশা করে। অন্যদিকে মেয়েরা স্বভাবতই একটু চুপচাপ প্রকৃতির। ফলে মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থায় প্রবেশের ফলে তারা থাকে ছেলেদের দ্বারা কিছুটা অবনমিত অবস্থায়। এতে একাডেমিকতার তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছেলেমেয়ে স্বতন্ত্র হারে পরিপক্কতা অর্জন করে এবং তাদের শিক্ষাগত পদের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। এ সমস্ত যুক্তির ভিত্তিতে গবেষকেরা বলেন—'স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থাই শিক্ষার্থীদের জন্য অধিকতর উপযোগী।'
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম বলে—যৌনবিকারের একদাশ গুণ থেকে যেই যুবক ও যুবতির কর্ড করা হলো, তাদের যৌন জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করা। ইসলাম বিবাহবহির্ভূত যৌনদ্রিগবকে শুধু অসমর্থনই করে না; বরং কঠোরভাবে নিষেধ করে। এমনকী যে সমস্ত বিষয় ও পদক্ষেপ মানুষকে যিনার দিকে ধাবিত করে, সেগুলোকে ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই বিপরীত লিঙ্গের সাথে চোখাচোখি বা মুচকি হাসির মাধ্যমে ভাববিনিময়, প্রেমপ্রলাপ—সবই নিষিদ্ধ। এ বিষয়গুলো থেকে স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থা খুব সহজেই বেঁচে থাকা যায়। কারণ, সেখানে লালসার উপস্থিতি থাকে না। এতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্যের প্রতি মনোযোগী হতে পারে।
**ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বিদ্যালয়সমূহ**
অতি উদার পরিবেশে স্বতন্ত্রতা বিদ্যালয়গুলোকেও সেক্যুলার সংস্কৃতি প্রবেশ করার সুযোগ আছে। কারণ, সমাজে স্বীকৃত চরিত্রগুণহীন বিদ্যালয়ের মধ্যেই ফুট ওঠ। ফল মুসলিম কিশোররা অরোয়া শিক্ষায় পরিবেশ এবং বিদ্যালয়ের অনৈতিক পরিবেশের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলার সম্ভাবনা আছে। এজন্যেই অনেক মুসলিম পিতা-মাতা মনে করেন, তাদের সন্তানরা আরও ভালোভাবে গড়ে উঠবে এবং আরও আত্মবিশ্বাসী হবে—যদি তারা একটি ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে। এতে সন্তানরা ঘর ও বিদ্যালয়ে দেখা মূল্যবোধগুলোকে পরস্পরের সাথে মেলাতে পারবে। ফলে তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
মুসলমানদের উচিত সন্তানদের ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করা। এজন্যে যে ধরনের স্কুলে করানো প্রয়োজন, সেখানে সন্তানদের ভর্তি করা পিতা-মাতার কর্তব্য।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 জীবনের সঠিক ভিত্তি স্থাপনের প্রস্তুতি

📄 জীবনের সঠিক ভিত্তি স্থাপনের প্রস্তুতি


সন্তানদের শিক্ষার জন্য উপযুক্ত বিদ্যালয় নির্বাচন করলেই যে পিতা-মাতার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়—ব্যাপারটি এমন নয়; বরং বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানদের নিয়োগ বিষয়গুলোর প্রতি নজরদারি করা এবং এটা নিশ্চিত করা, তারা বিদ্যালয়ে থেকে সর্বোত্তম শিক্ষা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে।
**প্রাতিষ্ঠানিক অর্জন :** এটা স্বীকৃত যে সঠিক অক্ষরজ্ঞান, সংখ্যাজ্ঞান, তথাপ্রযুক্তিসংক্রান্ত ধারণা এবং যোগাযোগ যোগ্যতা মানুষকে অনেকক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে। এই সকল দক্ষতা ছাড়া পরবর্তী সময়ে বড়ো ক্ষেত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতে হিমশিম খেতে পারে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে অনেকংশেই কমিয়ে দেবে। বড়ো হওয়ার সাথে সাথে যখন তারা স্কুলজীবন শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করবে, তখন মনে হবে—কেউ তাদের পথই দিচ্ছে না। তখন তাদের কাছে মনে হবে পৃথিবীটা অনেক সংকীর্ণ। এই সময় অনেকে সমাজের বোঝাও হয়ে যায়। পিতা-মাতা ও শিক্ষকের দায়িত্ব হলো—কিশোরদের ঝড়ে পড়া থেকে রক্ষা করা। তবে এ বিষয়ে পিতা-মাতার দায়িত্বটাই সবচেয়ে বেশি।
যত্মবান ও দায়িত্ববান বাবা-মায়েরা সন্তানদের খোঁজখবর নেয়। তারা কীভাবে দিন কাটাচ্ছে, স্কুলে তাদের পারফরম্যান্স কেমন, স্কুল থেকে বাড়ির কাজ কী দেওয়া হয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে তারা সন্তানদের থেকে জানতে চায়। সন্তানরা কাদের সাথে মিশেছে, কাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, কোন বিষয়টি তাদের জন্য বেশি উপযোগী, কোন বিষয়টি বুঝতে কষ্ট হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়। খেলাধুলি ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ সন্তানদের সম্ভাবনা বিকাশে সাহায্য করে। একই সঙ্গে তাদের সমস্যা থাকলে জটিল আকার ধারণের আগেই তা জানা যায় এবং সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
বাবা-মা যদি সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলোতে সরাসরি সাহায্য করতে না পারে, তবে অন্তত এতটুকু নিশ্চিত করতে হবে—সন্তান যেন মনে করে, বাবা-মা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনসমূহ এবং নিত্যদিনের কার্যক্রমের ব্যাপারে যত্নশীল।
পিতা-মাতার উচিত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতি লক্ষ্য রাখা—
* বাচ্চা কি স্বেচ্ছায় বিদ্যালয়ে যায়?
* শ্রেণিকক্ষ কিংবা বিদ্যালয় থেকে দেওয়া বাড়ির কাজে কোনো সমস্যা আছে কি?
* বিদ্যালয় কি তাদের ভালো লাগে?
* বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শেষে তারা কি সরাসরি বাসায় ফেরত আসছে?
* তারা কি প্রতিদিনের সতেজ থাকে, নাকি মাঝেমধ্যে চুপসে যায়?
* সামাজিক আচরণে কি তাদের উন্নতি ঘটছে?
* তাদের শিক্ষাগত ফলাফল কি সব সময় একই রকম থাকে?
বাসায় পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন একটি ভালো রুটিন ও সুষ্ঠু নিয়মানুবর্তিতা। তাদের নিজস্ব রুটিন তৈরির ব্যাপারেও উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে, যেন তারা সহজে মেনে চলতে পারে। তাদের দুই ধরনের রুটিন থাকতে পারে; একটি নিত্যনৈমিত্তিক তথা বিদ্যালয় চলাকালীন, অন্যটি বন্ধের দিনের জন্য। বাবা-মা-সন্তান প্রত্যেকেরই গুরুত্ব ও দৃঢ়তার সাথে এগুলো মেনে চলা উচিত। একটি রুটিনে নিচের বিষয়গুলো থাকতে পারে—
* বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা এবং বিদ্যালয় থেকে দেওয়া বাড়ির কাজ (সাধারণ দিনে)।
* বন্ধুদের সাথে মেলামেশা (বন্ধের দিনগুলোতে)।
* নিজের জন্য কিছু ব্যক্তিগত সময় (প্রতিদিন এবং বিশেষ ছুটির দিনে)।
* পড়াশোনার জন্য কম্পিউটাররের ব্যবহার (যখন প্রয়োজন)।
* আরবি শিক্ষা ও কুরআন তিলাওয়াত (প্রতিদিন, বিশেষ ছুটির দিনে)।
* ব্যায়সাকৃতিক কার্যক্রম (খেলাধুলা)।
* সংবাদপত্র পাঠ, খবর ও অন্যান্য ভালো অনুষ্ঠান উপভোগ করা (নিয়মিত)।
স্কুলের সিলেবাসের পাশাপাশি অন্যান্য তথ্যভান্ডার থেকে সহায়ক জ্ঞান অর্জনে সময় দেওয়া জরুরি। যেমন: রেফারেন্স বই, ইন্টারনেটে, সংবাদপত্র, সাময়িকী ইত্যাদি। বাবা-মায়ের উদ্দেশ্য উচিত বাচ্চারা যাতে এই ব্যাপারগুলোতে সময় দিতে পারে—সেদিকে খেয়াল রাখা। একই সঙ্গে ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—যাতে বাচ্চারা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে।
বাবা-মায়ের উদ্দেশ্য উচিত বাচ্চাদের নিজদের কাজ নিজেদেরই করতে দেওয়া। এতো তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে বেড়ে উঠবে। তবে তারা যদি প্রয়োজন অনুভব করে, তাহলে বাচ্চাদের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে পারে।
প্রতিষ্ঠার্নিক সফলতা এবং ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য বাচ্চাদের 'শেখার দক্ষতা' (Learning Skills) অর্জন করতে হবে। এটা তাদের পুরো জীবনের জন্য শেখার ক্ষেত্রে পিছিয়ে হিসেবে কাজ করবে।
অন্যান্য যোগ্যতা
মানুষ একটি জটিল ও উচ্চ মেধাসম্পন্ন সৃষ্টি, যার রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মেধা ও যোগ্যতা। যেমন—
ক. নিজস্ব মেধা (Intelligence): নিজস্ব বুদ্ধি বা মেধা মানুষকে নিজেকে জানার ব্যাপারে, নিজের চিন্তা-চেতনা ও প্রয়োজনের ব্যাপারে সচেতন করে তোলে।
খ. শারীরিক যোগ্যতা: এটি মানুষকে শরীরের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় জানতে এবং শারীরিক যোগ্যতা বিকাশে সাহায্য করে।
গ. অনুভূতিগত (Emotional) যোগ্যতা: এটি মানুষকে অন্যদের সম্পর্কে সচেতন এবং অপরের কল্যাণ অর্জনে উৎসাহিত করে।
ঘ. দৃষ্টিলব্ধ দক্ষতা: এটি মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ের অবলোকন এবং বিভিন্ন মতাবাদ ও স্থান সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করে।
ঙ. ভাষাগত দক্ষতা: ভাষা আমাদের শিখতে, বলতে, পড়তে ও লিখতে সাহায্য করে।
চ. গাণিতিক দক্ষতা: সংখ্যাগত সমস্যার সমাধান এবং যৌক্তিক চিন্তা করতে সাহায্য করে।
ছ. বৈজ্ঞানিক দক্ষতা: বিশ্ব সম্পর্কে জানতে, কৌতূহল, চিন্তা ও অনুসন্ধান সাহায্য করে।
জ. দার্শনিক যোগ্যতা: জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা করতে এবং জানতে সাহায্য করে।
কিশোররা এই যোগ্যতাগুলো নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। জন্মগতভাবে একেকজন এককটি বিষয়ে অধিক দক্ষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু প্রথাগত যোগ্যতা যাচাই করে মাত্র। যে সকল কিশোর অতিরিক্ত প্রতিভাবান, তারা বিদ্যালয়ে ভালো করায় পড়াশোনায় বিরক্ত। বিদ্যালয়ে পড়াশোনায় যাদের বেশি নেমেছে, তারাও কোনো না কোনো বিষয়ে দক্ষ। উদাহরণস্বরূপ—যার কাছে গণিত ও বিজ্ঞান জটিল মনে হয়, সে নবম দিলের অধিকারী হতে পারে, অন্য মানুষের সাথে ভদ্রভাবে চলাফেরা অথবা সে শিল্পমনা হতে পারে। নিজের সন্তানের মাঝে এই সকল যোগ্যতা খুঁজে নিতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের একসঙ্গে কাজ এবং সন্তানের যোগ্যতার বিকাশে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করতে হবে। তবে পাশাপাশি যে সকল বিষয়ে তারা কম দক্ষ, সেই সকল বিষয়ে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়াও জরুরি।
শারীরিক ও মানসিক বিকাশ
একটি সুস্থ জীবন নির্ভর করে সারাজন্মব্যাপী শারীরিক, ভাবাবেগ ও মানসিক বিকাশের ওপর। পিতা-মাতার উচিত সন্তানের যথাযথ বিকাশের জন্য পুষ্টিকর, পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহ। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং তুলনামূলক চাপমুক্ত জীবনের ব্যবস্থা করা। এগুলো তাদের সুস্থ্য অর্জনে সহায়তা করে। বর্তমান সময়ে বাচ্চাদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেলিভিশন ও কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা খুবই সহজ। এগুলো তাদের শারীরিকভাবে অকার্যকর করার পাশাপাশি তাদের অলস, সামাজিকভাবে নিজেস্ব এবং অন্য মানুষদের সাথে মেলামেশায় অক্ষম করে তোলে।
কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করা এবং তার প্রতিফলন ঘটনার দক্ষতা অর্জনকে ইসলাম উৎসাহিত করে। এর জন্য সন্তানদের পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলায় রাখতে হবে, যাতে তাদের মধ্যে নিয়োজিত দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। যেমন—
* তথ্য যাচাই করার দক্ষতা
* যুক্তি প্রয়োগের দক্ষতা
* অনুসন্ধিৎসা
* সৃজনশীল চিন্তা
* সঠিক মূল্যায়নের যোগ্যতা
পিতা-মাতা ও শিক্ষক উভয়ের কর্তব্য হলো, সন্তানদের এ কথা বোঝানো— স্কুলজীবন শুধু মুখস্থ করার সময় নয়, যা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই স্মৃতি থেকে মুছে যায়; বরং স্কুলজীবন হলো চিন্তা করার সময়। যখন চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে, তখন মনে হয় সুস্থির এবং সামনে ওজনের তেজ হারিয়ে যায়। চিন্তাশক্তি মাধ্যমে নিজের মেধাকে সৃজনশীল উপায়ে কাজে লাগানো যায়। তাই চিন্তাশক্তি অর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলাম এই চিন্তাশক্তির সাথে আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতার ভিত্তিতে আত্মচিন্তা ও অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি দায়িত্বানুগতির সংস্থাপন করে। নিজেদের মেধাকে সৃজনশীল উপায়ে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই প্রথম দিকের মুসলিমদের সফলতা নিহিত ছিল। তাঁদের স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া। ফলে তাঁরা সকলের কল্যাণে একটি জ্ঞানভিত্তিক সভ্যতা নির্মাণে সফল হয়েছিলেন। সে সভ্যতা ছিল সৃজনশীল কর্ম ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ। ইউরোপীয় রেনেসাঁ ও সৃজনশীল কার্যক্রম ও গতিশীলতায় ভরপুর ছিল।
কিছু দুঃখজনক হলো, এই সভ্যতা মানুষকে তাদের স্বার্থ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। মানবজীবনে ব্যক্তিাতন্ত্রবাদ ও জাতীয়তাবাদী স্বার্থে যুদ্ধ বাধে। আর এভাবেই ইউরোপ ধর্মনিরপেক্ষ বস্তুবাদবীয় মূল্যবোধের ধারায় হারিয়ে যায়।
**বক্তৃতা, সামাজিক ও জীবনমুখী দক্ষতা**
জীবনে সফলতার জন্য উন্নত শিক্ষা জরুরি। শুধু স্কুলে ভালো ফলাফল অর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ডিগ্রি লাভই শিক্ষা নয়। পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের পছন্দ অনুযায়ী চাকরি, ক্যারিয়ার গঠন এবং সমাজসেবামূলক কল্যাণের কাজ করতে উৎসাহিত করা, যাতে তারা নিজেদের আগ্রহ ও মেধাকে বিকশিত করতে পারে। মুসলিম উম্মাহর এমন জ্ঞানী ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন, যারা বিগত কয়েক শতাব্দীর জরাজীর্ণ ও উদাসীনতা কাটিয়ে নতুন সমাজ গড়তে সক্ষম।
কিশোররা শুধু যেন ভালো একাডেমিক ফলাফল অর্জনের চেষ্টায় ব্যস্ত না থাকে। এর পাশাপাশি যেন নিজেদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্বের ব্যাপারেও সচেতন হয়। দায়িত্ববান হওয়ার জন্য এবং জীবনে আগে আগে স্বাধীনতা লাভের জন্য শিক্ষার্থীন কেরা মধ্যম স্কুলকে এক নতুন ধরনের আবেগ তৈরি করে। এই সকল দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণমূলক কাজ এবং এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের এই সকল কার্যক্রমকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করা। এগুলো তাদের সমাজের পরিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
**ব্যক্তিগত দক্ষতা** হচ্ছে নিজেকে বোঝা। এর সাথে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সম্মানজনক উপায়ে জীবন পরিচালনার জন্য নিজের মর্যাদা অনুধাবন করা। কিছু প্রবাদ রয়েছে। যেমন: 'নিজেকে জানো' কিংবা 'যারা নিজেকে চেনে, তারা তাদের সবকিছু রপ্ত করেছে'। এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও এই কথাগুলো ব্যক্তিস্বার্থকে ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যাপারে জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। এটি মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক ও অহংকারী হওয়ার পরিবর্তে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে।
বাচ্চাদের ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশের জন্য তারা নিজেদের ব্যাপারে কতটুকু জানে, তাদের চালচলন, ব্যক্তিত্ব ও মেধা সম্পর্কে তারা কতটুকু চিন্তা-ভাবনা করে ইত্যাদি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পিতা-মাতার সঠিক দিকনির্দেশনা সন্তানদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অথবা হীনমন্যতা থেকে রক্ষা করবে। আমাদের উচিত
ছেলেমেয়েদের সাথে সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করা এবং তাদের এমন কাজে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের বিকশিত করতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করতে এবং এগুলোকে মোকাবিলা করার উপায়ও জানতে পারে। মনে রাখতে হবে, নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে গভীর সচেতনতা সফলতার মূল চাবিকাঠি।
**সামাজিক দক্ষতা** হচ্ছে অন্যকে বোঝা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে মানুষের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা। কিশোররা সাধারণত পিতা-মাতা এবং চারপাশের মানুষদের সাথে সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে এই ধরনের দক্ষতা অর্জন করে। পিতা-মাতার সঙ্গে অন্যান্য মানুষের সম্পর্ক কিশোরদের প্রভাবিত করে। মানুষ সামাজিক জীব, 'মানুষের দক্ষতা' কিংবা অন্যের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করার সক্ষমতা সামাজিক জীবনের মূল সার। এটি হতে পারে অন্যের সাথে কথা বলা, উত্তম আচরণের মাধ্যমে অন্যকে সম্মান করা, অন্য মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া, তাদের সম্ভাবনা জানানো এবং সকলের সাথে মিলেমিশে কাজ করা। সামাজিক দক্ষতা কিশোরদের ভালো বন্ধু বানাতে, ভিন্নমত সহ্য করা এবং সকলের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে সহায়তা করে।
**জীবনমুখী দক্ষতা** হচ্ছে অন্যকে বিরক্ত না করা কিংবা কোনো প্রকার অসুবিধা সৃষ্টি না করা স্বাভাবিক জীবন চলার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। কিশোররা এই সকল দক্ষতা শিখতে পারে পিতা-মাতার সচেতন পদক্ষেপের মাধ্যমে, যা সন্তান পালনে কষ্টকে সার্থক করে তোলে।
**আধ্যাত্মিক প্রাপ্তি**
আধুনিক বিশ্ব এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যা আধ্যাত্মিকতার দিক দিয়ে বন্ধ্যা। এর ফল উদাসীনতা, অশান্তি, চাপ ও দুশ্চিন্তা মানব-মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। নিজ আত্মাকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে মানব-মন আজ প্রজ্ঞার জীবন থেকে অনেক দূরে। এটি খুবই আড়ম্বরজনক, অপ্রতিরোধ্য বস্তুবাদ আমাদের ‘মেধাবী পশুতন্ত্রে’ রূপান্তরিত করেছে। যেখানে আত্মার খোরাক রয়েছে ফাঁসানো। বর্তমানে মানুষ নিজদের বস্তুবাদী অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক গর্ববোধ করে। আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রাকৃতিক, শিক্ষকতা ও ইন্দ্রিয়পরায়ণতার মতো ‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রভু’ আমাদের জীবনে ফিরে এসেছে। বর্তমানে আমরা ও মারাত্মক আত্মঘাতী পিপাসায় ভুগছি। এই পিপাসা মেটাতে অনেকে অন্য পথ বেছে নিয়েছে।
মানবজাতির সৃষ্টি, এর টিকে থাকা এবং সফলতা সম্পূর্ণরূপে আমাদের স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার ওপর নির্ভরশীল। তিনি আমাদের স্বাধীনতায় দিয়েছেন, যাতে পৃথিবীতে নিজের কর্মের জন্য বিচার দিবসের নিকট জবাবদিহি করতে হয়। বিচার দিবসের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাসই আধ্যাত্মিকতার মূল ভিত্তি। মুসলিমরা কখনো নিজেদের আধ্যাত্মিকতা প্রদর্শন করে বেড়ায় না কিংবা নিজেদের হতাশাবাদী বানায় না। আমাদের মাঝে যখন আধ্যাত্মিকতা বেড়ে ওঠে, তখন তা আমাদের প্রকৃতি, চালচলন, অভিব্যক্তিসমূহ পুরো জীবনে প্রতিফলিত হয়। রাসুল ﷺ-এর সাহাবিদের আধ্যাত্মিকতার ব্যাপারে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন- “তাঁদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়।” সূরা ফাতহ: ২৯
আধ্যাত্মিকতার এই মরুভূমির যুগে সন্তানদের মাঝে আল্লাহ ও রাসুল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা ও আস্থা তৈরি করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আধ্যাত্মিক সফলতা মানুষকে প্রশান্তি ও চিত্তমুক্ত জীবনযাপন করতে সহায়তা করে। এটি সত্য, আধুনিকতার এই যুগে সন্তানদের মধ্যে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। তবে কিশোররা প্রকৃতিগতভাবেই অনুসন্ধিৎসু ও দুঃসাহসী হয়। কিশোরদের যদি আধ্যাত্মিকতা ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশে গড়ে তোলা হয়, তাহলে তারা এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 অন্যান্য চ্যালেঞ্জ

📄 অন্যান্য চ্যালেঞ্জ


মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পাওয়ার পর সন্তান পালনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। স্কুলজীবনের শুরুতেই নতুন একটি বিষয় সামনে চলে আসে, তা হলো—তারা স্কুলের নতুন পরিবেশের সাথে কীভাবে মানিয়ে নেবে; বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাস। কিশোররা সাধারণত খুব দ্রুত বন্ধু বানাতে এবং নতুন সিস্টেমের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। তবে এর জন্য স্কুলের পরিবেশ সহায়ক হতে হয়। যে সকল স্কুলে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং নানা ব্যাকগ্রাউন্ডের কিশোররা ভর্তি হয়, সেই সকল স্কুলে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া কিশোরদের জন্য কষ্টকর। চঞ্চল ও মিশুক স্বভাবের কিশোররা খুব সহজেই নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, কিন্তু চাপা ও লাজুক স্বভাবের কিশোররা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় নেয়। যে সকল কিশোর পিতা-মাতা এবং খুব বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন।
যেহেতু এক্ষেত্রে মাধ্যমিক বিদ্যালয় কিশোরদের আরও স্বনির্ভর হিসেবে দেখতে চায়, তাই এখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নৈতিক ও প্রাথমিকদের মতো নিবিড় সহায়তা পায় না। এক্ষেত্রে পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের উচিত স্কুলের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করা।
মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছাত্র ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও সামাজিক বিষয়াদিসহ আরও বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
বিদ্যালয়ে ইসলামে অনুশীলন
প্রান্তবয়স্ক তরুণ মুসলিমদের জন্য ইসলামের নৈতিক নীতির অনুসরণ অপরিহার্য। এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একধরনের চ্যালেঞ্জস্বরূপ। কারণ, স্কুলেই তাদের নিয়মিত সালাত আদায় এবং রমজান মাসে রোজা পালন করতে হয়। অন্যদিকে মেয়েদের শালীন পোশাক এবং মাথায় হিজাব পরিধান করে স্কুলের নিজস্ব ড্রেসকোডের অনুসরণ করতে হয়। খেলাধুলার সময় ছেলেমেয়েদের উভয়কে নিজেদের সতরের দিকে খেয়াল রাখতে হয়।
বর্তমানে কিছু কিছু স্কুলে হিজাব পরিধানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিকার হলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রধান শিক্ষককে কাজে নিজেদের মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার দাবি করতে হবে। এবং এতে অনেক ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হবে। এইক্ষেত্রে ইসলামের প্রতি ছেলেমেয়েদের দৃঢ় বিশ্বাস, শিষ্টাচারপূর্ণ আচরণ এবং অন্যকে প্রভাবিত করার যোগ্যতা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের মূল মৌলিক নীতি হলো স্কুলের ক্ষেত্রে খুবই শুদ্ধ শর্ত; তবে যুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে রাগান্বিত হওয়া যাবে না। এটি জানানো গুরুত্বপূর্ণ যে, নফল বিষয়ের ক্ষেত্রে ইসলামে বেশ ছাড় রয়েছে। মুসলিম কিশোরদের উচিত ইসলামের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া এবং নিজেদের জ্ঞানের ব্যাপারে গর্ববোধ করা। এই সকল ক্ষেত্রে পিতা-মাতার উচিতও সন্তানদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করা।
বুলিং ও নিরাপত্তা জনিত ইস্যু
স্কুলে বুলিং একটি আলোচিত এবং বড়ো বড়ো ইস্যু, যেটি সমাজে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করে। বুলিং হলো ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার কাউকে উত্যক্ত অথবা আঘাত করা। নিম্নোক্ত উপায়ে বুলিং হয়ে থাকে—
● শারীরিক : আঘাত করা, লাথি মারা কিংবা মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া।
● মৌখিক : কটূ নামে ডাকা, অপমান করা কিংবা বাজেভাবে ইঙ্গিত করা।
● পরোক্ষ : কারও নামে কদর্য গল্প ছড়িয়ে দেওয়া, সামাজিক বন্ধন থেকে কাউকে তাড়িয়ে দেওয়া কিংবা কারও সম্পর্কে জঘন্য মন্তব্য করা।
একটি কিশোর সাধারণত ছয়টি কারণে অন্যের দ্বারা বুলিংয়ের শিকার হয়। যথা—
● বর্ণ
● লিঙ্গ
● শারীরিক কাঠামো
● প্রতিবন্ধকতা
● যৌন দৃষ্টিভঙ্গি
● বয়স ও
● ধর্ম
দুঃখজনকভাবে শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহের অন্যতম হাতিয়ার এই বুলিং অনেক স্কুলেই খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। শিক্ষার্থীদের অনেকেই বুলিং-এর শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্কুলের নতুন শিক্ষার্থীরা এর শিকার বেশি হয়। ভালো মানের স্কুলগুলোতে সুষ্ঠু বুলিংবিরোধী নীতিমালা এবং তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। যে সকল স্কুল বুলিংয়ের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখায়, সেই সকল স্কুলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের অধিক উপস্থিতি দেখা যায়।
নির্যাতনকারীরা মূলত সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, সহজ-সরল, নিরীহদের বুলিংয়ের জন্য টার্গেট করে থাকে। মুসলিম কিশোররা তাদের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বুলিংয়ের শিকার হয়। মাথায় স্কার্ফ পরিধানকারী মুসলিম মেয়েরাও বুলিংয়ের শিকার হয়ে থাকে। পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো সন্তানদের বুলিং মোকাবিলা করার যথাসাধ্য উপায় সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া; তাদের বন্ধু বৃদ্ধি, অন্যের সঙ্গে মেলামেশা, ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জনে উৎসাহিত করা। তবে বুলিংয়ের মোকাবিলা করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে কিংবা বুলিংয়ের জবাবে পাল্টা বুলিংয়ের ঘটনা না ঘটে—এই ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবে।
স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মানব-মনের স্বাভাবিক প্রকৃতি। কিশোররা যখন বড়ো হয় এবং মাধ্যমিক স্কুলে পদার্পণ করে, তখন তারা স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করতে শুরু করে। তারা স্কুল নিজেদের কাজ নিজেরা গুছিয়ে রাখে এবং অনেক ক্ষেত্রে লাঞ্চের সময় বাইরে যাওয়ার অনুমতি পায়। এবং এর স্বাধীনতায় ও সহজতা তাদের মনে সৃষ্টিশীলতা, নতুন চিন্তা, উদ্যোগ ও উৎসাহ যোগায়। অন্যদিকে মাত্রাধিক স্বাধীনতা ‘ছোট্ট কেয়ার’ মানসিকতা সৃষ্টি করে, যা পারিবারিক বন্ধনে ভাঙন সৃষ্টি এবং সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে।
দায়িত্বহীনতা বিপজ্জনক।
যেকোনো সুস্থ সমাজের জন্য স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বহীনতা জড়িত। ইসলামে আল্লাহর নিকট, নিজের ও অপরের নিকট দায়বদ্ধতা স্বাধীনতার পূর্ব শর্ত। এটিও অপরের স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ বলে মনে হলেও তা স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে এবং মানবজাতিকে বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে। সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে নৈরাজ্যের সৃষ্টির কারণ।
সমাজের অনিয়ন্ত্রিত ও বিভ্রান্তিকর স্বাধীনতা স্কুলজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক মাধ্যমিক স্কুলে শ্রেণিকক্ষে নিয়ম রক্ষা সবচেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের আচার-আচরণের কারণে নিজেদের পেশা ছেড়ে দেয়। কিছু ছাত্র আছে যারা শিক্ষক কিংবা প্রতিষ্ঠানকে কোনো সম্মান প্রদর্শন করে না। এক্ষেত্রে সন্তানদের যাবতীয় আদব-কায়দা শেখানো পিতা-মাতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
স্কুল সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়। তরুণদের জীবন টিভি প্রোগ্রাম, ইন্টারনেট, ভিডিও গেম, পিতা-মাতার জীবনযাপন এবং সমাজের অন্যান্য বিষয়ের দ্বারা প্রভাবিত। তরুণরা নিজেদের জীবনে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। যেমন—
ব্যক্তিগত সমস্যা : দুর্বল আত্মসম্মানবোধ, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, আবেগ এবং আচার-আচরণগত সমস্যা।
পারিবারিক প্রভাব : প্যারেন্টিং-এ দুর্বলতা, অর্থনৈতিক দেনাদেনা, পারিবারিক কলহ।
স্কুলের পরিবেশ : পাঠ্যসূচি, সহপাঠীদের চাপ, অলিখিত কারিকুলাম, শিক্ষকদের নিম্নমানের প্রত্যাশা।
সামাজিক সমস্যা : বর্ণ ও সংস্কৃতি, সামাজিক বন্ধন, বেকারত্ব, মিডিয়া চিত্র।
সামাজিক প্রবণতা : নৈতিক অবক্ষয়, অবাধ যৌনতা ও আদর্শগত বাধা।
সমাজের প্রত্যেকের ন্যায় তরুণরাও নিজেরা স্বীকৃতি চায় ও সম্মান চায়। তারা প্রকৃত স্বাবলম্বিতা ও নিজেদেরকে বিত্ত মনে করে, তারা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ করতে শুরু করে। নিজেদের হতাশা প্রকাশ কিংবা সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিজেদের ক্রোধ ব্যবহারের জন্য গ্যাংফাইট, মাদকের অপব্যবহারসহ এমন কোনো সমাজবিরোধী অপকর্ম নেই—যাতে তারা নিজেদের জড়ায় না। অনেক নেতিবাচক পরিবেশে নিজেদের রোলমডেল হিসেবে গ্রহণ করে, যা সমাজের বৃহৎ স্বার্থের পরিপন্থী। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মূল্যবোধবহির্ভূত নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগে এবং অপব্যবহারের তরুণসমাজ আজ ধ্বংসের সম্মুখীন।
তরুণরা সব সময় বিশেষ কিছু চায়। তারা আলোচিত হতে চায়, নিজেদের স্বীকৃতি চায়। এই সমাজের যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা নিজেদেরকে অগ্রভাগে দেখতে চায়। এর অন্যতম দৃষ্টান্ত হচ্ছে মোবাইল ফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। এর মাধ্যমে তারা স্কুল নিজেদের সামর্থ্যের প্রদর্শন করে বেড়ায়। বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, অন্যান্য বিষয়ের মতো মোবাইল ফোনও মর্যাদার অন্যতম চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়—যা আধুনিক তরুণ সংস্কৃতির অন্যতম অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাজারের সৃষ্টি, যাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের তৈরি পণ্যের বিস্তার নিশ্চিত করা। এটি আমাদের সময়ের জীবন্ত আলোচনার বিষয়।
সন্তানদের মাধ্যমিক স্কুলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম উক্ত স্কুলের কঠোর ডিসিপ্লিন পলিসি আছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি স্কুলের বাইরে ছাত্র-ছাত্রীদের আচার-আচরণ কীরকম, সে খোঁজও নিতে হবে। অ্যাকাডেমিক পারফরমেন্সের ব্যাপারেও যথাযথ নজর দিতে হবে। যেহেতু সুস্পষ্টভাবে নিয়মনীতি কার্যকর কোনো কিশোরীই কার্যকর উপায়ে শিক্ষা লাভ করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, মুসলিম পিতা-মাতার উচিত পরিবার ও এলাকায় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি ও দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা থাকবে। সে পরিবেশে কিশোররা অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাফেলার সুযোগ পায় না। এটি শুধুমাত্র ছুটির দিন কিংবা স্কুল ছুটির পর বাড়িতে বা মসজিদে কুরআন ও সামাজিক রীতিনীতি শিক্ষাদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। পিতা-মাতা যখন নিজ গৃহে, রাস্তাঘাটে, মসজিদে কিংবা কমিউনিটি সেন্টারে ইতিবাচক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করবে, তখন কিশোররা প্রকৃতভাবে বেধ.
নিয়মের মধ্য থেকে চলাফেরা করবে। তখন কিশোররা প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার পরিবর্তে ক্রিয়াশীল, হতাশাবাদিতার পরিবর্তে আশাবাদী এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক হওয়ার পরিবর্তে সহযোাগিতাপূর্ণ মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠবে। তারা তখন নিজ কূলে ও সুষ্ঠু পরিবেশে সুন্নিবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচেষ্টা চালায়।
কিশোররা তখনই নিয়মানুবর্তী হয়, যখন তারা দেখে—তাদের পিতা-মাতা এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যরাও নিয়মের মধ্যে চলে। তারা যথাসময়ে সালাত আদায় করে, ওয়াদা রক্ষা করে এবং অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। সন্তানদের নিকট যখন চালচলনের গ্রহণযোগ্য সীমা-পরিসীমা সম্পর্কে পরিষ্কার আলোকপাত করা হয়, পিতা-মাতা যখন নিয়ম-নীতি ভঙ্গকারী সন্তানদের নিয়মিত শাসনের মধ্যে রাখে এবং নিজেরা যখন উক্ত সীমা-পরিসীমা মানার ক্ষেত্রে সন্তানদের নিকট অনুকরণীয় হয়ে ওঠেন, ঠিক তখনই কিশোরদের মাঝে নিয়মানুবর্তিতা গড়ে ওঠে। এই ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে অবশ্যই সন্তানদের মাঝে সততা, সমতা, ও একনিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিশোরদের কখনোই অপরের সামনে লজ্জায় ফেলা, হেয় করা কিংবা অপমান করা যাবে না।
মাতা-পিতাকে এটি অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে, জোর-জবরদস্তি করে কখনো কাউকে নিয়মকানুন শেখানো যায় না। জোর-জবরদস্তি ইতিবাচক মানসিকতা তৈরির পরিবর্তে নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। তরুণরা স্বাধীনচেতা হয়। তারা যেকোনো কিছুর কারণ জানতে চায়। তাই তাদের কারণ না বুঝিয়ে আদেশ-নিষেধ মানার ক্ষেত্রে অবিরামায় নিয়ন্ত্রণ করলে তা হিতে বিপরীত হয়: এমনকী তারা একপর্যায়ে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তাই কার্যকর উপায়ে নিয়মকানুন শেখাতে হবে এবং পিতা-মাতাকে অবশ্যই সন্তানদের সাথে অহেতুক তর্ক এড়াতে হবে।
সন্তানদের স্বাভাবিক উপদেশ প্রদান করার ক্ষেত্রে আগে তাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝুন। তাদের আচার-আচরণের প্রতি স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ করুন। তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করা জরুরি—
* কিশোরদের সামনে নিজের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করুন। অতিমাত্রায় স্বাধীনতাপন্থী তাদের পদস্খলন ঘটাতে পারে, আবার অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ তাদের বিদ্রোহী করে তুলতেও পারে। ইসলাম জীবনযাপনে মধ্যপন্থা অবলম্বনের কথা বলে। সন্তানরা যেন চরমপন্থার মধ্যে বেড়ে না ওঠে—সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* তাদের ভুলের জন্য পাকড়াও করবেন না; শুধরানোর সুযোগ দিন। আত্মসংশোধনের প্রক্রিয়া প্রতি নিয়ত চলুক এবং এর মাঝেই তারা শিখবে। নিজের বিহ্বলতা, ক্রোধ, হতাশা ও বিষণ্নতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য তাদের সুযোগ প্রয়োজন।
* কিশোরদের পছন্দ-অপছন্দ, আচরণ ও কার্যকলাপের ব্যাপারে মজা করা ও নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। এটি তরুণ যুবকদের হতাশ করে।
* 'কখনো এই কাজটি করো না' এই ধরনের শব্দ থেকে পারতপক্ষে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে বলুন—'তুমি যদি এই কাজটি না করতে কিংবা এইভাবে না করতে, তাহলে আমি খুশি হব অথবা হতাম।'
* সন্তানদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করুন। ও ই সকল কথা ও কাজ থেকে দূরে থাকুন, যেগুলোর পুনরাবৃত্তি তাদের কষ্ট দেয়। বর্তমান সময়ে কিশোররা ব্যাপক মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। আমাদের উচিত তাদের অবস্থা উপলব্ধি করা।
* ন্যায়পরায়ণতার সাথে তাদের নিয়মকানুন শেখান। মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রদের নিয়মকানুন শেখানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। কোনো ভুল করে ফেললে, শাসন করার সময় খেয়াল রাখুন—তারা যেন কোনোভাবেই ছোটো ভাই-বোনের সামনে লাঞ্ছিত না হয়। ন্যায়বিচার এর প্রতি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে এবং পিতা-মাতা উভয়কেই এই ক্ষেত্রে সমান অবদান রাখতে হবে।
* বন্ধুদের সামনে নিজ সন্তানদের ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকুন। যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয়, পিতা-মাতার উচিত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর আলাদাভাবে তার সমাধান করা।
* পিতা-মাতার উচিত নিজেদের মিজাজ ও নিয়মকানুন মানার ক্ষেত্রে খারাপী থেকে বিরত থাকা, যাতে সন্তানদের মাঝে কোনোটি সঠিক এবং বাকিগুলি ভুল–এ ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়; অন্যথায় কিশোররা এই ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাবে এবং অনির্দিষ্টভাবে স্বাভাবিক ভাবে তর্ক করবে।
যৌনতা ও যৌনশিক্ষা
মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থার স্কুলগুলোতে মুসলিম কিশোররা সহপাঠীদের সাথে চলাফেরার ক্ষেত্রে ব্যাপক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে থাকে। যদি কোনো কিশোর সঠিক ইসলামি পরিবেশে বেড়ে না ওঠে, তাহলে সে অসংখ্য জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। সন্তানদের বিবাহবিযুক্ত যৌনকর্ম থেকে বিরত রাখতে পিতা-মাতা ও সমাজের কর্তব্য হচ্ছে বহুধা সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সন্তানদের অবশ্যই যথাযথ ইসলামি জ্ঞান ও তাকওয়া অর্জন করতে হবে, যাতে তারা বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনের সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাদের জন্য বিকল্প হালাল বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যেখানে তারা নিজেদের তারুণ্যের শক্তিকে ব্যবহার করতে পারে। মুসলিম তরুণদের অবশ্যই ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা স্মরণে রাখতে হবে, যিনি তাঁর তারুণ্যের সুন্দরী রমণীদের থেকে কুপ্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ্র প্রতি ভালোবাসা ও ভয়ের কারণে নিজের যৌন প্রবৃত্তি বাস্তবায়নের পরিবর্তে কারাগারের জীবনে বেঁচে নিয়েছিলেন।
আধুনিক সমাজে অপ্রয়োজনীয় মেয়েদের অধিক হারে প্রেগনেন্সির কারণে প্রাথমিক স্কুলগুলোতেই যৌনশিক্ষা দেওয়া হয়। মাধ্যমিক স্কুলে অ্যাডজাস্ট রিলেশনশিপের মানবিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিজ্ঞান সম্পর্কিত অংশে বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন এবং সন্তান জন্মদানের সময়ের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়। স্কুলে সন্তানদের কোন ধরনের যৌনশিক্ষা দেওয়া হয় এবং কোন বয়সে কোন ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়, সেই ব্যাপারে পিতা-মাতার সজাগ থাকতে হবে। প্রয়োজনে যৌনশিক্ষা কিছু ক্লাস থেকে তাদের দূরে রাখা যেতে পারে, তবে এই ব্যাপারে অবশ্যই স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করতে হবে।
সন্তানদের বয়ঃসন্ধিকালীন ও গর্ভকালীন কিছু মৌলিক শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে হবে। পিতা-মাতাকে এই সকল বিষয়ে সন্তানদের সাথে আলোচনা করতে হবে শালীন ও সতর্কতার সাথে।
নারী-পুরুষের মধ্যে মেলামেশার ক্ষেত্রে ইসলাম শালীনতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। এই বিষয়গুলো তরুণদের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা অপরিণত ও বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে প্রাকৃতিগতভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। তরুণ ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, জীবনের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহ্র নিকট জবাবদিহিতার বিষয়সমূহ শেখাতে হবে।
তাদের কিশোরকালে থেকেই শালীনতার শিক্ষা দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণীদের শারীরিক সম্পর্ক এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার দীক্ষা দিতে হবে। কারণ, এগুলো পরবর্তী সময়ে তাদের শারীরিক সম্পর্কের দিকে প্ররোচিত করে।
পিতা-মাতাকে সন্তানদের সাথে এই সকল বিষয়ে অবশ্যই খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। বিবাহিত লিঙ্গের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি শালীনতা ও সতর্কতার সাথে সন্তানদের জানাতে হবে। সন্তানরা স্কুল, টেলিভিশন এবং সমাজে প্রচলিত অন্যান্য উৎস থেকে নারী-পুরুষের সম্পর্কের ব্যাপারে শেখার আগেই ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি আলোকে তাদের যৌন শিক্ষা দিতে হবে। তারপরের অতি উদার পরিস্ফুর্তি সত্ত্বেও তাদের আত্মসংযম ও আধ্যাত্মিক কল্যাণ অর্জনের শিক্ষা দিতে হবে। কারণ, ভেতরের দৃঢ় তাকওয়া (আল্লাহ্র উপস্থিতি, অসংখ্য কর্ম থেকে বিরত থাকা এবং সৎকর্ম সম্পাদনের সুফল সম্পর্কে সচেতন থাকা) এই কঠিন সময়ে নিজেকে রক্ষা করার একমাত্র উপায়।
একইসাথে সমকামিতা এবং সমলিঙ্গের সাথে যৌন সম্পর্ক নিয়ে তাদের সাথে শালীন আলোচনা করতে হবে। এই ব্যাপারে ইসলামের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি তাদের জানাতে হবে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 আত্মপরিচয়

📄 আত্মপরিচয়


মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ওঠার পর কিশোরদের জানার আগ্রহের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে তারা আত্মপরিচয় সম্পর্কে সচেতন হতে শুরু করে। শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে তারা ধীরে ধীরে জানতে শুরু করে নিজেদের উৎস, পরিবার ও সমাজের মূল ভিত্তি সম্পর্কে। তারা কীভাবে পালিত হচ্ছে, এর ওপর নির্ভর করে তারা কীভাবে বিশ্বকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই সময় কিশোরকালের প্রশ্নগুলো ধীরে ধীরে মুছে যেতে থেকে এবং তারা শিখতে থাকে—কীভাবে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয় যথা ধর্মীয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা মোকাবিলা করতে হয়। কীভাবে ভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতির বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক গড়তে ইত্যাদি।
পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো—সন্তানদের স্বার্থবাদী ও সংকীর্ণ মানসিকতাপূর্ণ হওয়া থেকে বিরত রাখা। কারণ, মুসলিম সমাজে উদ্দেশ্যে হলো পরস্পরের সাময়িক কল্যাণ সাধন। মুসলিমরা সবাই এক দেহের মতো। এখানে ব্যক্তিবাদের
কোনো স্থান নেই। সুতরাং সন্তানদের প্রকৃতিগতভাবে সামাজিক, আতিথিপরায়ণ, সহিষ্ণুতাপূর্ণ এবং খোলা মনের অধিকারী হতে হবে। ইসলামের সারমর্মই হচ্ছে মানবতার সেবা করা। অন্যের সেবা না করা কিংবা অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ইসলামি চেতনার বিরোধী।
মানুষের বহুমুখী পরিচয় রয়েছে। প্রত্যেকটি পরিচয়ই মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয়, জাতিগত, ভূখণ্ডগত ও অন্যান্য পরিচয় একজন মানুষের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান আধুনিক সমাজে কট্টরপন্থী সেক্যুলাররা ইসলামি পরিচয়ে নেতিবাচকভাবে দেখে। যখন জানতে পারে—কোনো তরুণ ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম অনুসরণ করে চলে, তখন তার সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ শুরু করে। অনেক মানুষের মাঝেই ইসলামের ব্যাপারে ভুল ধারণা রয়েছে। মুসলিম কিশোররা স্কুল, মিডিয়া এবং প্রাত্যহিক জীবনে অনেক নেতিবাচক ধারণার সম্মুখীন হয়। ফলে তাদের অনেকেই নিজেদের দুর্বল মনে করে। তাদের কেউ কেউ নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিতেও ইতস্তত বোধ করে! এই সামাজিক ব্যাধি অনেক মুসলিম তরুণকে হেয় প্রতিপন্ন করে। অনেকে (যদিও তাদের সংখ্যা খুবই কম) নিজেকে গ্রহণযোগ্যে করে তুলতে নিজের নাম পরিবর্তন করে ফেলে কিংবা নিজের শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধব কর্তৃক প্রদত্ত ভিন্ন নাম গ্রহণ করে। এটি খুব সহজেই তাদের আত্মসম্মান নষ্ট করে দেয়।
সন্তানরা ভালো আছে কি না কিংবা তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের উন্নতি হচ্ছে কি না—এই ব্যাপারে মুসলিম পিতা-মাতাকে নজর রাখতে হবে। ইসলাম ও মুসলিমবিরোধীদের মনোগত বিষয় মুসলিম কিশোরদের জীবন-হতাশা ও পরাজিত মনোভাবের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। মাতা-পিতার উচিত সন্তানদের প্রতি অধিক যত্নবান হওয়া, তাদের সময় দেওয়া এবং তাদের কষ্টের ভাগীদার হওয়া, যাতে তারা ‘প্রশান্ত আত্মা’ নিয়ে বেড়ে ওঠে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে। এই শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের বহুমুখী পরিচয়ের ব্যাপারে পরিশোধ করবে। তাদের বোঝাতে হবে, মুসলিম হওয়া মানে এই নয়—নিজের জাতিগত পরিচয়ে ঢেকে রাখতে হবে; বরং জাতিগত পরিচয় একজন মানুষের মূল্যবান সম্পদ, এটি মানুষের বৈচিত্র্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে। সুতরাং নিজের বহুমুখী পরিচয়ে উপস্থাপন করা উচিত। এগুলো সমাজকে সফল দিক দিতে সক্ষম করে। মানব-মর্যাদা এবং সকলের সামাজিক সমতা বিধানের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিষয় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
সন্তানদের নিজেদের ‘মুসলমানিত্বের’ ব্যাপারে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের জানাতে হবে, ইসলাম মানুষের মৌলিক অধিকার অর্জনের জন্য সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার কথা বলে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00