📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 একটি মুসলিম যুব-সংস্কৃতি তৈরি

📄 একটি মুসলিম যুব-সংস্কৃতি তৈরি


কাঙ্ক্ষিত প্রজন্ম গড়ার জন্য একটি চমৎকার ও যুগোপযোগী মুসলিম সংস্কৃতি প্রয়োজন। এটি মুসলিম তরুণদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মুসলিম তরুণদের বিভিন্ন ঘরানা ও সংস্কৃতির মানুষের সাথে পরিচিতি হওয়া প্রয়োজন, এটি ইসলামি মূল্যবোধের অংশ। সমাজের সকল ধরনের মানুষের সাথে
তাদের বন্ধুত্ব রাখা প্রয়োজন। তবে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তৈরির ক্ষেত্রে এমন মানুষ বাছাই করতে হবে —যাদের সাথে তার মূল্যবোধের মিল রয়েছে; অন্ততপক্ষে নিজেদের মূল্যবোধবিরোধী যেন না হয়।
শিশুরা যে বয়স থেকে মসজিদে আদাব রক্ষা করতে পারে, সে বয়স থেকেই তাদের মসজিদ নিয়ে যাওয়া উচিত। এতে তাদের নিকট বিভিন্ন বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের সাথে খোলামেশার সুযোগ তৈরি হয়।
ইসলামের ইতিহাসে মসজিদ সব সময় সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভূমিকা রেখে এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত বর্তমানে অনেক মসজিদই নিষ্ফল। শুধু সালাতের সময় ছাড়া বাকি সময় বন্ধই থাকে। মসজিদগুলো যদি শুধু সালাতের জন্যই ব্যবহার করা হয়, তাহলে উম্মাহর পুনর্গঠনের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। মদিনায় সমাজের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাসূল ﷺ-এর মসজিদ। সুতরাং বর্তমান সময়ের মসজিদগুলোও সেভাবে পরিচালনা করা উচিত।
জামাতের সাথে সালাত আদায় এবং কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি মসজিদগুলোতে আরও কিছু সামাজিক কার্যক্রম আয়োজন করতে হবে। যেমন: জীবনধর্মী আলোচনা, কুইজ, সিরাত, ইতিহাস, গণিত, বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা, নারীদের জন্য নারী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পৃথকভাবে প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। মসজিদের ইমামদের মানুষের সাথে যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সমাজ সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা রাখতে হবে—যাতে তারা বৃদ্ধ, কিশোর সবার সাথে মিশতে পারে। মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমে তরুণদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ দিতে হবে।
ছুটির দিনে কিংবা বিভিন্ন উপলক্ষে মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে আনন্দ ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে। এতে কিশোরেরা একদিকে যেমন সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পায়, অন্যদিকে তেমনি ভালো মানুষদের সাথে একটি বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা প্রকৃত মুসলিম হিসেবে সবার সাথে বেড়ে ওঠে। এই সকল কার্যক্রম অন্যের সাথে বন্ধুত্ব তৈরির সুযোগ করে দেয়, যা কিশোরদের সামাজিক জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরেরা খুব সহজেই বন্ধুত্ব তৈরি করতে এবং তা ভাঙতে পারে। অনেক বন্ধু গ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের এবং চারদিকের বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারে। পিতা-মাতার কর্তব্য হলো উপযুক্ত বন্ধু বাছাইয়ে সন্তানদের সহযোগিতা করা। কারণ, তাদের আচার-আচরণে বন্ধু-বান্ধবের সাহচর্যের ভূমিকা অনেক বেশি। চরিত্রবান বন্ধুরা একে অপরকে কল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করে, যা প্রধানত একাডেমিক নির্দেশনামূলক বক্তৃতা থেকে অনেক শক্তিশালী।
পিতা-মাতা এই বিষয়েও যত্নবান হবে—যাতে সন্তানরা এমন ছেলেদের সাথে না মিশে, যারা তাদের বিপথে নিয়ে যেতে পারে কিংবা অসৎ কাজে উৎসসাহিত করে। তরুণ যুবকরা সাধারণত জীকম্পকর্ম সংস্কৃতিতে অধিক অভ্যস্ত। অর্থ বর্তমান কর্পোরেট সংস্থাগুলো নিজেদের আর্থিক লাভের জন্যই এই সকল সংস্কৃতি তৈরি করে।
রাসূল ﷺ তাই সতর্ক করে বলেছেন— ‘মানুষ তার বন্ধুর দীনের অনুসরণ করে। সুতরাং বন্ধু হিসেবে কাকে গ্রহণ করেছ, এই ব্যাপারে লক্ষ রাখো।’ আবু দাউদ, তিরমিজি
যদি সময় ও প্রয়োজনীয় অর্থ থাকে, তাহলে ছুটির দিনগুলো পরিবার নিয়ে ইসলামিক ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে কাটাতে উচিত। এক্ষেত্রে উমরাহ পালন সবচেয়ে উত্তম। এই সকল ভ্রমণের মাধ্যমে পূর্ব ইতিহাসের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। এতে কিশোরেরা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়।
মুসলিম কিশোরদের সম্ভাবনা বিকাশের অন্যতম উপায় হলো ছোটোবেলা থেকেই তাদের বিভিন্ন ইসলামিক আসরে নিয়ে যাওয়া এবং মুসলিম ভাবাপন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। নবিজি৬৯৯৯৯ তরুণ বয়সে হিলফুল ফুজুল নামক সমাজকল্যাণমূলক একটি সংস্থার সদস্য হয়েছিলেন। ছোটোবেলা থেকে এসব কাজ অনুসরণ করার ফলে কিশোররা চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব গ্রহণে সাহস পায়। একই সঙ্গে তারা বেড়ে ওঠার জন্য যথাযথ ইসলামিক পরিবেশেও পায়।
মুসলিম পিতা-মাতার উচিতও সন্তানদের প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়া, যাতে তারা নিজেদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থেকে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য এটিই আমাদের উত্তম বিনিয়োগ। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিতও সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ অথবা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ থেকে বিরত থাকা।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

📄 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ


সহযোগিতাপূর্ণ ও ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি করা একটি বিশাল কাজ। ঠিক কীভাবে এই কাজ শুরু করতে হবে, তা নির্ধারণ করা সহজ নয়।
তবে কিছু পরামর্শ অনুসরণ করা যেতে পারে, যেগুলো এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে—

● যথাসময়ে সালাত আদায় করুন। সম্ভব হলে সন্তানদের মসজিদে নিয়ে যান। নির্দেশপক্ষে ঘরেই একসাথে নামাজ আদায় করুন。
● প্রত্যেক দিন কুরআন তিলাওয়াত করুন। এটি ঘরে কল্যাণ বয়ে আনে এবং শ্রোতা ও পাঠক উভয়ের অন্তরে প্রশান্তি জোগায়。
● যেকোনো ব্যাপারে কষ্ট পরামর্শ চাইলে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ করতে বলুন। এই দুই প্রধান উৎস মানবজীবনের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সমস্যার সমাধান পেশ করে। তাই সকল ক্ষেত্রে মুসলিমদের এগুলোর শরণাপন্ন হওয়া উচিত。
● দৈনন্দিন কার্যক্রমে আল্লাহর দেওয়া নির্দেশ এবং রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহর অনুসরণ করুন। সর্বদা আল্লাহর স্মরণ ও তওবার মধ্যে থাকুন। প্রতিটি কাজে রাসূল ﷺ-এর শেখানো মাসনুন দুআগুলো পাঠ করুন。
● কথা ও কাজে ইসলামের অনুসরণ করুন। কারণ, এটিই মুসলিম হওয়ার মূলকথা। এর মাধ্যমে সন্তানরা আপনাকে নিজেদের রোলমডেল মনে করবে এবং আপনার কাছে ইসলামের সঠিক বার্তা পাবে。
● সকল নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীর সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখুন। এগুলো কিশোরদের সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং অভাবীদের সাহায্য করার মানসিকতা তৈরি করে। এগুলো নবি-রাসূলদের কাজ, যা একটি সুখী ও সফল সমাজ গঠনের অন্যতম উপাদান。
● নিয়মিত পারিবারিক প্রোগ্রামের আয়োজন করুন। এই ধরনের প্রোগ্রাম পরিবারের সদস্যদের মাঝে বন্ধনকে আরও মজবুত এবং ইসলামের প্রতি বিশ্বাস ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। সন্তানদের পারিবারিক বিষয়ে পরামর্শদানের সুযোগ দিন। পরিবার নিয়ে চিন্তা করার ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহিত করা উচিত。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00