📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 প্রকৃত সফলতার দীক্ষা

📄 প্রকৃত সফলতার দীক্ষা


প্রত্যেক পিতা-মাতাাই সন্তানদের সফলতা কামনা করে। স্বপ্নও দেখেন; যদিও সফলতার সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। সফলতার সাথে আত্মবিশ্বাসের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সফলতার অর্থ হলো—ভারসাম্যপূর্ণ উপায়ে দুনিয়া ও পরকালীন জীবনের কল্যাণ অর্জন এবং একএকটির কারণে অপরটির ক্ষতিসাধন না করা। অর্থাৎ একই সঙ্গে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ অর্জনই হচ্ছে চূড়ান্ত সফলতা।
আল্লাহর রাসূল ﷺ সহ অন্য সকল প্রেরিত নবী-রাসূল মানবতার মহান শিক্ষক ছিলেন। পবিত্র কুরআনে শোয়াইব -এর কথা এভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে—
‘আমার সফলতা একমাত্র আল্লাহর দ্বারাই ওপরই নির্ভরশীল।’ সূরা হূদ : ৮৮
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এটি বিশ্বাস করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, সফলতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। সচেতন অভিভাবকগণ উত্তম শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সন্তানদের মঙ্গলের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। পিতা-মাতাকে অবশ্যই সন্তানদের জন্য মানসম্মত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, নিজের ঘরই সবচেয়ে বড় আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এখানেই জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই শিশুদের প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয়। খলিফা উমর (রা)-এর মতে, এর সময়কাল হচ্ছে বাচ্চার জন্য থেকে সাত বছর। এটি এমন একটি সময়, যখন পিতা-মাতার কর্তব্য হলো নিজের বেশিরভাগ সময় ও শক্তি সন্তানদের পেছনে বিনিয়োগ করা, তাদের সাথে খেলাধুলা করা এবং খেলার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 পর্যায়ক্রমিক উন্নতি

📄 পর্যায়ক্রমিক উন্নতি


সফলতার জন্য মানবীয় যোগ্যতা, তথা ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায়, সহনশীলতা ও নিয়ন্ত্রিত জীবন অপরিহার্য উপাদান। এই সকল গুণাবলি হঠাৎ করে বা কাকতালীয়ভাবে অর্জিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা এবং ধাপে ধাপে উন্নয়ন। সকল মানুষ সমানভাবে এই সকল গুণের অধিকারী হয় না। অনেকের মধ্যে ছোটোকাল থেকেই এগুলোর একটি কিংবা একাধিক গুণাবলিই ঘাটতি থাকে। পরিবার ও চারপাশের ইতিবাচক পরিবেশই এই সকল ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারে। সন্তানদের মধ্যে এই সকল গুণাবলি অর্জনে পিতা-মাতার বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
নিজেদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে সন্তানদের উৎসাহের প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে তাদের সাহস জোগানোর পাশাপাশি সকল ধরনের চাপমুক্ত রাখতে হবে। তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি, লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রেরণা এবং পিতা-মাতার সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় কাটানোর সুযোগ দিতে হবে। পিতা-মাতা যদি সন্তানদের চরিত্রের মাঝে কার্যকর উপায়ে আল্লাহ ও রাসূল (স)-এর প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস, আত্মনির্ভরশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মপর্যালোচনার সমন্বয় ঘটাতে পারে, তাহলে তা তাদের ভারসাম্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পিতা-মাতার সন্তানদের সাথে চিরকাল থাকতে পারবে না, কিন্তু নিম্নোক্ত কাজগুলো মাধ্যমে তারা সন্তানদের জীবনে সফলতার বীজ বপন করে যেতে পারে—
১. জোর-জবরদস্তির পরিবর্তে উৎসাহদানের মাধ্যমে তাদের আগ্রহী করে তোলা।
২. স্বেচ্ছাচারিতার পরিবর্তে যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান।
৩. নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে তাদের মেধার মূল্যায়ন।
৪. সহজ উপায়ে তাদের জন্য দৈনন্দিন কাজের রুটিন নির্ধারণ।
৫. নিয়ন্ত্রণ ও চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান।
৬. কোনো ধরনের অযথা হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের নিজ নিজ পদের প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের থেকে অল্প সময়ে বিশাল কিছু প্রত্যাশা না করা। তবে তাদের শক্তি-সামর্থ্যের যথাযথ প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে অবশ্যই যত্নশীল হতে হবে। কারণ, এর মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়। 'পৃথিবী একটি জটিল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ জায়গা। এখানে জীবন চলার পথ কণ্টাকাকীর্ণ'—এই বিশ্বাস জীবনকে চ্যালেঞ্জিং ও দুঃসাহসিক করে তোলে। এই বিশ্বাসকে সন্তানদের হৃদয়ে বদ্ধমূল করার মাধ্যমে তাদের জীবনকে উপভোগ্য করে তুলতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে—জীবন খুবই কঠিন, কাউকে উপরে উঠতে হলে সফল হওয়ার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে। আন্দালুসিয়ার কিংবদন্তি ইমাম কুরতুবি (রহ.) একবার বলেছিলেন—
'একটি প্রথম শ্রেণির ইচ্ছা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির মেধা, একটি প্রথম শ্রেণির মেধা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ইচ্ছার ওপর জারী হয়।'

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 ব্যর্থতার মোকাবিলা

📄 ব্যর্থতার মোকাবিলা


মানুষ প্রতিনিয়ত ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়। কিছু সাময়িক সফলতাও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। ব্যর্থতাকে যেকোনো প্রচেষ্টার সর্বপ্রথম উপায় হিসেবে না ভেবে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের সামর্থ্যকে কাজে লাগানো উচিত। ব্যর্থতাকে আত্মোপলব্ধির অন্যতম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থতাই সফলতার সোপান হিসেবে কাজ করে। এক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে—আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর সফলতার জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করব। যে মুসলিম প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যায়, তার ব্যর্থতার কোনো কারণই নেই; যদিও তা মাঝেমধ্যে ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে মনে হতে পারে।
আমরা জীবনে যা কিছু করি না কেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত মহান প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন। কারণ, আমাদের নিয়াযত ও প্রচেষ্টার ভিত্তিতেই প্রতিফল নির্ধারিত হবে।
'মানবজাতি সর্বদা দ্রুত সফলতা আশা করে।' সুরা আস-সাফ: ১১
'আর আমরা খুবই তাড়াহুড়া প্রবণ।' সুরা বনি ইসরাইল: ১০
পুরো জীবনজুড়ে সন্তানরা নিশ্চিতভাবে অনেক ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে। একে মোকাবিলা করার জন্য অভিভাবকদের সন্তানদের ব্যর্থতাকে আলাদা করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কেউ সবকিছুতে দক্ষ হতে পারে না। সুতরাং এক জায়গায় ব্যর্থতার অর্থ এই নয়—সে সারাজীবনই ব্যর্থ। ব্যর্থতা ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন তরুণদের লক্ষ্য অর্জনের আরও শক্তি এবং একবারের মধ্যে অনুপ্রেরণা জোগায়। ব্যর্থতার মাধ্যমে তারা নতুন নতুন যোগ্যতা অর্জন করে এবং ব্যর্থতাকে কাটিয়ে ওঠার পথ ও পাথেয় জানতে পারে। এটি তাদের মাঝে আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করে। ব্যর্থতার সময়ে পিতা-মাতার কর্তব্য হলো—সন্তানদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। যাতে তারা এই সকল বিপদসংকুল অবস্থা থেকে শিক্ষা অর্জন করে পূর্বের চেয়ে জোরালোভাবে এবং বিজয়ের সাথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 কিশোর মননে উৎসাহদান

📄 কিশোর মননে উৎসাহদান


তরুণরা কর্মজনিত রূপে: তারা পুতুল তুল্য নয়। তারা সৃষ্টিশীল ও প্রতিভাবান। তাদের মধ্যে একই সঙ্গে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয় ও উদ্যমিতা কাজ করে। পিতা-মাতার দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সার্বিক যত্ন নেওয়া। তাদের স্বতঃপ্রণোদিত করতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা ও দুআ করা এবং তাদের ব্যাপারে নেতিবাচক হওয়া থেকেও বিরত থাকা।
কিশোর মনে উৎসাহদান
সন্তানদের বেড়ে ওঠার সাহায্যর জন্য পিতা-মাতার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রিধারী হওয়া আবশ্যক নয়; কিংবা খুব বিশাল হওয়াও জরুরি নয়। এই বিষয়গুলো হয়তো সন্তান প্রতিপালনে বাড়তি সুবিধা যোগ করতে পারে, কিন্তু কিশোরদের অনুপ্রাণিত করার জন্য এগুলো অত্যাবশ্যকীয় নয়। আমাদের যা দরকার, তা হলো—সন্তানদের সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া, লেগে থাকা এবং বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে তাদের সাথে সময় কাটানো। স্কুল ও সামাজিক পরিবেশ কিশোরদের স্বতঃপ্রণোদিত (Self-motivated) হওয়ার দিকে ধাবিত করে।
কেবল যে সাফল্য প্রদর্শন এর সাথে সারাদিন কাটালাম, তা আমাদের পিতামাতা এবং অসাধারণভাবে কিশোর সন্তানকে উপলব্ধি করতে পারে। ভালোবাসার ভাষা সকলেই বোঝে। তাই সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালোবাসা প্রকাশ এবং তাদের ভালো বিষয়ের প্রতি পিতা-মাতার আগ্রহ সন্তানদের মাঝেও ভালোবাসা তৈরি করে।
বিদ্যালয়ে উৎসাহ: সন্তানদের জন্য এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে এবং প্রতিনিয়ত উৎসাহ-উদ্দীপনা পাবে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে কিশোররা উৎসাহ পেয়ে থাকে—
* শিক্ষার পরিবেশ
* ভালো নিয়মনীতি
* উচ্চাকাঙ্ক্ষা
* বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে পাঠ্যসূচি নির্ধারণ
* অধিকার ও দায়িত্বে স্বীকৃতি
* স্পষ্ট ও অনুকূল শৃঙ্খলা
* পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন
* ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ও
* সৃষ্টিশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ
একদিকে কঠোর শৃঙ্খলা, সুন্দর আচার-আচরণ পদ্ধতি, পাঠ্যক্রমের বাইরে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম এবং ভালো ফলাফল, অন্যদিকে একটি নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে সন্তানদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে এবং তাদেরকে প্রবৃত্তিও রাখতে সহায়তা করে।
ঘরের পরিবেশে উৎসাহ: পরিবারে পিতা-মাতাকে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে সন্তানরা সবার ভালোবাসা অনুভব করবে এবং নিজেদেরকে একজন বিবেচনাযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে চিন্তা করবে। পিতা-মাতাকে মনে রাখতে হবে, সন্তানদের সফলতার পূর্ণাঙ্গ মালিকানা আল্লাহ তায়ালার হাতে। তাই সন্তানরা কোনো ভুল করলে লজ্জাও না হয় তবে ভুল ধরিয়ে দিতে হবে এবং ভুলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। ভুল করা মানবজাতির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। ইসলামে শুধু প্রচেষ্টার জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার। আর সফল প্রচেষ্টার জন্য রয়েছে পুরস্কার।
সন্তানরা যদি শৃঙ্খলা এবং ইসলামী আচার-আচরণের সীমা-পরিসীমার ব্যাপারে জ্ঞাত থাকে, তাহলে এই সকল সীমা-পরিসীমার মধ্যেই থেকেই তারা সফলতা অর্জন করতে পারবে। অভিভাবক হিসেবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে—
* সন্তান এবং আমাদের মাঝে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা না রাখা।
* রসিক মনোভাবাপন্ন হওয়া, যাতে সন্তানরা আমাদের সাথে মিশতে পারে। মনে রাখতে হবে, রসহীন ব্যক্তি জড়পদার্থ তুল্য।
* যেকোনো কাজে তাদের ওপর আস্থা রাখা।
* যেকোনো কাজের দায়িত্ব গ্রহণে তাদের উৎসাহিত করা।
* কোনো কাজের নির্দেশনা দেওয়ার আগে তাদের পরিপূর্ণতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা।
* নিয়মিত উপদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন উপায়ের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা দেওয়া।
* তাদের পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া (বিভিন্ন রকমের পছন্দের সুযোগ থাকলে তা তাদের সামনে তুলে ধরা)।
* বড়ো বড়ো লক্ষ্যকে বাস্তবানুযায়ী তাদের সামনে তুলে ধরা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্জনের অনুভূতির মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা।
* তাদের নতুন নতুন ধারণার সাথে পরিচিত করানো। আমাদের সাথে হিম্মত করে সক্রিয় তাদের চিন্তা-ভাবনার উপকারী দিকের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
* তাদের ভুলগুলোকে স্বাভাবিকতা হিসেবে গ্রহণ করা।
* খুব চাপের মুহূর্তে সঙ্গ দেওয়া।
* সন্তানদের প্রশংসা করা এবং সৎ কাজের স্বীকৃতি দেওয়া।
প্রশংসা করার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি
* নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রশংসা করা।
* স্পষ্টবাদিতা ও সততা অবলম্বন করা। শর্তযুক্ত শব্দ যেমন: 'যদি' 'কিন্তু' ইত্যাদি পরিহার করা।
* স্বতঃস্ফূর্ততা প্রকাশ করা।
* শারীরিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করা। যেমন: হাসি, আলিঙ্গন, চুমু দেওয়া।
* তাদের কৃতিত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে উদার মনের পরিচয় দেওয়া।
* সতর্কতা অবলম্বন করা। অতিরিক্ত প্রশংসা মাধ্যমে তাদের স্বভাবকে নষ্ট না করা।
সামাজিক উৎসাহ: সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রে পরিবার যে সমস্ত বিষয়ে কঠোর সংগ্রাম করে, সমাজের উচিত এই ব্যাপারে তাদের পাশে থাকা। মুসলিম সমাজে ইসলামি মূল্যবোধের অনুশাসন এবং সমাজের সার্বিক অগ্রগতির জন্য সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে ইমাম ও সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বিরাট ভূমিকা রাখতে পারেন।
মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে ইসলামি সমাজের কর্তব্য হচ্ছে—
* উন্নত মুসলিম ও সচেতন নাগরিক তৈরির উদ্দেশ্যে তরুণদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
* তরুণদের জন্য সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণের দরজা খোলা রাখা, যেন তারা উৎসাহের সাথে সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
* তরুণদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ করানো।
* তরুণদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা।
* একজন আত্মপ্রত্যয়ী মুসলিম হিসেবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তরুণরা যেন সমাজে নিজেদের অর্থ মনে করে–এমন শিক্ষা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।
* তরুণদের তাদের ইসলামি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00