📄 আত্মমর্যাদাবোধ
প্রেরণা কী?
পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে এটা হচ্ছে—
* সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া এবং কাউকে অনুপ্রাণিত করার যোগ্যতা।
* দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও মনোবল; কোনো কিছু অর্জনের বাস্তব আকাঙ্ক্ষা।
* পরিবর্তন আনার মানসিকতা।
* সফলতাকে লক্ষ্য বানিয়ে নেওয়া।
* সফলতা অর্জন করা যায়—এমন লক্ষ্যে পৌঁছানোর যোগ্যতা।
* নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের প্রতিজ্ঞা।
প্রেরণা মানুষের সফলতার মূল চালিকাশক্তি। এটি অভ্যন্তরীণ প্রেরণা, উৎসাহ, আসক্তি ও অগ্নি—যা কোনো কিছু অর্জনের প্রতিজ্ঞাকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রেরণা মানুষের প্রতিজ্ঞার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এটি বিমূর্ত, যা পরিমাপ করা যায় না। প্রেরণা বা উৎসাহকে জিইয়ে রাখার জন্য জ্বালানির প্রয়োজন। কিশোরদের জীবনের শুরুতে পিতা-মাতা, গুরুজন ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কিশোরদের অন্তরে উক্ত জ্বালানির জোগান দেওয়া উচিত।
কোন বিষয় তরুণদের স্পন্দিত করে? কোন জিনিস তাদের মধ্যে কোনো কিছু অর্জনের প্রেরণা জোগায়? শারীরিক চাহিদা, সমাজ, আত্মকেন্দ্রিকতা ও তুষ্টি মানুষের আচরণে কোনো পরিবর্তন আনে কি? মানবজাতির মধ্যে কিছু করার ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক প্রবণতা কি স্বভাবগত? অর্জন হিসাবেই কি মানবজাতি সংপ্রবণ অথবা অসংপ্রবণ?
এগুলো দার্শনিক জিজ্ঞাসা মনে হতে পারে। তবে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এর গুরুত্ব ব্যাপক। সভার্তার শুরু থেকেই মানুষ এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আসছে, কিন্তু কোনো ধরনের ঐশ্বরিক নির্দেশনা ছাড়া এগুলোর উত্তর অসম্পূর্ণ থাকবে।
ইসলামের আগমনের পর আরব ও অন্যান্য জাতি বিষয়কর সব মানবীয় গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়েছিল। এই বিষয়টিতে আজকের পৃথিবীর পথ দেখিয়েছে। এর মূল কারণ হলো—তারা ছিল ওই ধারা অতিমাত্রায় অনুপ্রাণিত। তাদের ঈমানের গভীরতাও ছিল সীমাহীন। জীবনর মহান উদ্দেশ্যকে তারা বুঝতে পেরেছিল। পরবর্তী সময়ে ইসলামের সাথে মুসলিমদের আত্মার সম্পর্ক দুর্বল হওয়ার কারণে সেই গৌরব তারা হারিয়ে ফেলে। চিন্তার ক্ষেত্রে তারা স্থবির হয়ে পড়ে এবং কর্মের ক্ষেত্রে হয় নিষ্ক্রিয়। কর্মদক্ষতা, গৌরব, আত্মনিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা, দায়িত্বানুভূতি, সৃজনশীলতা, লক্ষ্য অর্জনের অঙ্গীকার ও উদ্যোগসহ যে সকল যোগ্যতা তাদের শ্রেষ্ঠতর আসনে বসিয়েছিল, তার সবগুলোতে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
📄 উৎসাহ
প্রত্যেক কিশোরই স্বতন্ত্র গুণাবলি রয়েছে এবং তাদের সেভাবেই মূল্যায়ন করতে হবে। এটা মানুষের প্রকৃতিগত ব্যাপার; কিশোর হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক হোক, মানুষ তার প্রয়োজনদের নিকট থেকে সম্মানভাবে সম্মান ও স্বীকৃতি পাবে। এই বিষয়টি আল্লাহর রাসূল ﷺ খুব ভালোভাবে বুঝেছেন। এজন্য তিনি প্রত্যেক সাহাবীর প্রতি এমনভাবে মনোযোগ দিতেন—সবাই মনে করত, রাসূল ﷺ তাকেই বেশি আপন ভাবেন। ছেলেমেয়েদের ইতিবাচক যোগাতাকে প্রশংসার মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়া পিতা-মাতার দায়িত্ব। তবে প্রশংসা হতে হবে যথাযথ ও সময়োপযোগী। অতিরিক্ত প্রশংসায় দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এর ফলে কিশোরদের পদস্খলনও ঘটতে পারে। কারণ, এটি তাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগায়।
কিশোররা শিক্ষার্থী; তাই তাদের দ্বারা যেকোনো ভুল সংঘটিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সচেতন অভিভাবক বাচ্চার সব দিকে সতর্ক নজর রাখেন। যেহেতু তারা ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল জীবনে পদার্পণ করবে, তাই তারা যাতে ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, এজন্য তাদের ছোটো ছোটো অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো মার্জনা করা উচিত; কিন্তু ইচ্ছাকৃত বড়ো ভুলগুলো ব্যাপারে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। বুদ্ধ বয়সে রূঢ়ভাবে অর্জনের কাছ থেকে শিক্ষা অর্জনের চেয়ে কিশোর বয়সে উত্তম ও যথাযথ পরিবেশে সংশোধিত হওয়া উচিত।
সন্তানদের সংশোধনের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিত পরিস্থিতি নিজ হাতে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে পূর্ববর্তী ভুলগুলো পুনরায় সংঘটিত না হয়। দয়া ও শ্রদ্ধা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে কঠোরতা ও অপমানের চেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে। পিতা-মাতা কখনোই সন্তানদের ব্যাপারে কটু মন্তব্য করা কিংবা তাদের হীন করা উচিত নয়। কারণ, এটা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সন্তানদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এবং তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মাতা-পিতার প্রত্যাশাও গুরুত্বপূর্ণ। অতি নিম্নমানের প্রত্যাশা সন্তানদের আত্মমর্যাদা ও গৌরবকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আবার অতি উচ্চমানের প্রত্যাশা তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপের অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের সফলতার সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দেয়।
অতি সম্ভাবনাময়ী সন্তানদের অভিভাবকদের উচিত তাদের শারীরিক, মানসিক ও অনুভূতিগত উৎকর্ষের দিকে লক্ষ রাখা। তত্ত্বিৎকর্মা কিশোররা বড়ো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। সুতরাং তাদের সুশীল পরিমাণ প্রদান প্রয়োজন,
যেতে তারা কোনো ধরনের বিরক্তি ছাড়াই নিজেদের তৈরি করতে পারে। অনাদিকে কম সম্ভাবনাময়ী সন্তানের পিতা-মাতার উচিত কিশোরদের যথাযথ যত্নও নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা।
বর্তমান সময়ে (Inclusive) অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অনেক বেশি আলোচিত হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা সবার অংশগ্রহণমূলক এমন একটি সমাজ সৃষ্টি করে, যেখানে সমাজ গঠনে সবার অবদান থাকে এবং কেউ কারও বোঝা হয়ে থাকে না। কিশোরদের মধ্যে যদি শিক্ষাগত, আচরণগত বা অন্য কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয় অথবা শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা দেখা দেয় কিংবা বিশেষ কোনো গুণাবলি তাদের মধ্যে প্রকাশিত হয়, তবে কোনো অবস্থায় তাদের যেন হেয় করা না হয়। এই সময়ে তাদের প্রয়োজন পূর্ণ সমর্থন ও বিশেষ যত্ন। যে সকল কিশোরকে বিশেষ প্রয়োজনীয়তা অতিক্রম করতে হয়, তাদের অনেকেই এমন সোনার মানুষে পরিণত হয়—যারা সভ্যতা বিনির্মাণে বিশেষ অবদান রাখে।
উপসংহার
কিশোররা সাধারণত আবেগপ্রবণ, ধারণাশূন্য ও সংবেদনশীল হয়। ফলে তারা জীবনের বাস্তবতা ও জটিলতার পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না। তাই এই সময়ে তাদের প্রয়োজন গুণজনদের পক্ষ থেকে অবিরত উৎসাহ, প্রশংসা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি। এগুলো না করা হলে তারা কর্মের উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলে।
তাদের ব্যাপারে অকর্মা, ব্যর্থ, নিরাশাবাদী, বেয়াদব, বোকা ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কারণ, এগুলো তাদের কর্মস্পৃহা ধ্বংস করে দেয়। আপনার সন্তানের সাথে অন্যের সন্তান কিংবা দুই সহোদরের মধ্যে তুলনা করা হয়তো যেতে পারে, কিন্তু অহেতুক তুলনা তাদের আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয় এবং তাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে।
বিদ্যালয়ের কার্যক্রম কিংবা পরীক্ষার ফলাফল কিশোরদের হতাশার কারণ হতে পারে। এই বিষয়ে পিতা-মাতার সতর্ক থাকতে হবে। কিশোরদের শিক্ষাজীবনের প্রত্যেকটি পরীক্ষায় এবং সকল কার্যক্রমে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক। বিদ্যালয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত চাপ জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাতেও সন্তানের সফলতার হারকে নষ্ট করে দিতে পারে।
যে সকল কিশোর কর্ম-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলে, তারা শুধু আত্মবিশ্বাসহীনতায়ই ভোগে না; বরং কর্মপথীরে আগ্রহানুমূলক আচরণ দিয়ে ঝুঁকে পড়তে পারে। তারা নিজেদের নির্দিষ্টভাবে শুরু করে এবং নিজের ক্ষতিও করতে উদ্ধত হয়। আর এমন আচরণের কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের বোঝাকরা করতে থাকে। এতে সন্তানদের সাথে পিতা-মাতার দূরত্ব তৈরি হয় এবং তাদের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়া মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এগুলো পরিস্থিতিতে আরও জটিল করে তোলে। অবসাদগ্রস্ত সন্তানদের যত্ন সহকারে লালন-পালন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তাদের সাথে আচরণ ও কথাবার্তায় পিতা-মাতাকে যত্নবান ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সন্তানেরা নিজেদের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করে এবং নিজেদের সন্তানকে পুনরায় কাজে লাগানোর মানসিক শক্তি লাভ করতে পারে। আমাদের সন্তানদের নিকট তাঁর অসাধারণ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে হবে এবং এই সন্তানকে সর্বোত্তম উপায়ে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
📄 অনুকরণীয় আদর্শ
অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব তরুণদের মাঝে একধরনের আদর্শ মনস্তাত্ত্বিক নেতৃত্বের আভাস দেয়। ইসলামের ইতিহাসে অনুসরণীয় আদর্শিক নারী-পুরুষে ভরপুর। রাসূল ﷺ সকল বয়সের মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শিক ব্যক্তিত্ব।
আল্লাহ তায়ালা বলেন—
‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তাদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর আস্থা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ সূরা আহজাব : ২১
বর্তমানে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব কারা? এই ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলিম তরুণরা এক নিরাশাপূর্ণ চিত্র অবলোকন করছে। তাদের চারদিকের পরিবেশ আজ উদ্ভাবনার ব্যর্থতা ও অক্ষমতার পরিপূর্ণ। বর্তমান বিশ্ব চরম নিপীড়িত অবস্থায় মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান মুসলিম নেতাদের প্রতি মুসলিম জনসাধারণের আস্থা নেই বললেই চলে। অনুকরণীয় আদর্শিক ব্যক্তিত্বের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দৃষ্টান্তমূলক খুবই কম। এই শূন্য জায়গাটা দখল করে নিয়েছে তথাকথিত সেলিব্রিটিরা, যাদের জীবনের লক্ষ্যই হলো ‘খাও-দাও, ফুর্তি করো!’ তারা ভোগবাদী সংস্কৃতি ও বস্তুবাদী আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থের হঠকারিত্বরূপে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সর্বোপরি সমাজ ও রাষ্ট্রে যোগ্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের ঘাটতিও মুসলিম তরুণদের জন্য এক বিশাল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সন্তানদের জন্য সফলতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাদের জানতে হবে—এই সফলতার অর্থ কী? সময়ের মধ্যে লক্ষ্য নির্ধারণের সাহস এই অর্জন করার সক্ষমতা থাকতে হবে। এজন্য তাদের এমন এক আদর্শিক ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন, যে তাদের সফলতার পন্থা বাতলে দেবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রেরণা জোগাবে। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার চেয়ে তাদের আপনজন আর কে আছে? পিতা-মাতাকেই সন্তানের অনুকরণীয় ব্যক্তি হতে হবে।
পিতা-মাতা সন্তানদের আকাশ ছোঁয়া লক্ষ্য নির্ধারণে সহযোগিতা করবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে এই ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি কাম্য নয়। তাদের জন্য এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত, যা নির্ধারিত সময়ে অর্জন করা তাদের জন্য সম্ভব। সন্তানের সামর্থ্যের সীমা মাথায় রেখেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
সন্তানদের সামনে সফলতার আসল অর্থটা তুলে ধরাও আমাদের দায়িত্ব। আল্লাহ মানুষের অন্তরের মধ্যে আত্মতৃপ্তি ও প্রশান্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মত করে দিয়েছেন, যা শুধু অর্থপূর্ণ উপায়ে সময়কে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন—
‘হে নবি! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে।’ সূরা আহজাব : ৪৫
মুসলিমদের প্রথম প্রজন্ম তাঁদের সাহাবীদের মাঝে অসামান্য নিদর্শন উপস্থাপন করে গিয়েছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। তাঁদের ইসলামের প্রতি আহ্বানের ধরণ ও উপকরণ উগ্র আরবদের মাঝে অগ্রসরণা এগিয়ে গিয়েছিল। এই অনুপ্রেরণায় ইসলামের প্রতি তাঁদের যে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়েছিল, তা তাঁদের সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। সাহাবীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদেরও এমন অনুকরণীয় চরিত্র উপস্থাপন করা উচিত, যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ পায়।
📄 ভারসাম্যপূর্ণ লালন-পালন
সন্তান লালন-পালনে সফলতা তখনই আসে, যখন পিতা-মাতা সন্তানের শারীরিক- মানসিক অনুভূতি ও আধ্যাত্মিক প্রয়োজনে সব সময় নজর রাখেন।
এ সময়ে পিতা-মাতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্তানদের মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি এবং তাদের ঈমানকে জাগ্রত করা। যে সকল সুস্থির ব্যবস্থা মুসলিম রাষ্ট্রের তরুণদের তৎপরশীলতা পছন্দ করে দিয়েছে, সেগুলো অর্জনের পরিবর্তে মুসলিম তরুণদের তৎপরশীল হতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বৈধিক জ্ঞান অর্জন এবং উম্মাহর শ্রেষ্ঠ অর্জনের জন্য প্রেরণা দেওয়া উচিত।
যে কারও জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা সর্বাবস্থায় সহজ হয়ে ওঠে না। এটি বাস্তবায়নের চেয়ে বলা অনেক সহজ। প্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চারা সাধারণত অনুসরণকৃত ব্যক্তিত্ব কিংবা সমাজের রোলমডেলদের অনুসরণ করতে পছন্দ করে। তাই পিতা-মাতার উচিতও এমন কারও সাথে সন্তানদের সংযোগ স্থাপন করে দেওয়া, যাদের সাথে তারা ইতিবাচক ভারসাম্যপূর্ণ জীবন পরিচালনা করতে পারে; যারা নিজেরাও ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। এই ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ-এর জীবনী অধ্যয়নকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। যাতে তরুণরা পবিত্র জীবন থেকে অনুপ্রেরণা পায়, তাঁকে ভালোবাসতে পারে এবং তাঁর পবিত্র জীবন পদ্ধতিকে অনুসরণ করতে পারে। ইসলামের ইতিহাসে এমন অসংখ্য আদর্শিক মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছে, যাদের থেকে মুসলিম তরুণরা অনুপ্রেরণা পেতে পারে।