📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 ব্যাধির প্রসার

📄 ব্যাধির প্রসার


সুস্থতা নয়, অসুস্থতা অতি দ্রুত এবং খুব স্বাভাবিকভাবে ছড়ায়। অনুকূল পরিবেশে মহামারি রোগ যেভাবে ছড়ায়, অসচেতন ও অতি উদার পরিবেশে সামাজিক ব্যাধি এর চেয়েও দ্রুত গতিতে ছড়ায়। কোনো ব্যক্তির পক্ষে এই পরিবেশে নিজেকে ঠিক রাখা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে তা আরও জটিল। বয়ঃসন্ধিকালে পরিপক্কতা ও স্থিতিশীলতার ঘাটতি থাকে, তখনও জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জন্য তারা প্রস্তুত থাকে না এবং জীবনের প্রকৃত অর্থও যথাযথভাবে বুঝতে পারে না।
সন্তানদের চারপাশের পরিবেশের ব্যাপারে পিতাকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে তাদের পথ প্রদর্শন করতে পারে এবং জীবনের যে সকল বিষয়ে তাদের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে তাদের পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে। তরুণদের সাথে সম্পর্কিত আধুনিক সমাজের মূল সমস্যাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
উত্যক্ত (Bullying) ও হুমকি : শুধু স্কুলই নয়; কর্মক্ষেত্রও উত্যক্তের শিকার হওয়া খুব ব্যাপক একটি সমস্যা। ক্রমবর্ধমান ইসলামাতঙ্ক পরিবেশে কিশোরদের জন্য এটি মারাত্মক সমস্যা।
হেনস্তার শিকার ব্যক্তির ওপর এর মারাত্মক মানসিক প্রভাব রয়েছে, যা তার আত্মবিশ্বাসে ধ্বংস করে দেয়। হেনস্তাকারী ব্যক্তির মধ্যে আত্মসম্মানবোধের অভাব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিজেদের জীবনে তারা কোথাও না কোথাও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়। ফলে তারা নিজেদের মধ্যে জমে থাকা ক্রোধ ও হতাশা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়। যে কেউ-ই হেনস্তার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে একাকী ব্যক্তি, সামাজিকভাবে নির্ভরশীল মানুষ কিংবা সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা বেশি।
এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের মাঝে আত্মসম্মানবোধ ও আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করা। ছোটোকালেই সন্তানদের মাঝে আস্থা ও ভরসা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কারও দ্বারা হেনস্তার শিকার হলে পিতা-মাতাকে নিঃসঙ্কোচে জানাতে পারে। অপরদিকে তাদের এটিও শিক্ষা দিতে হবে, সকল মানুষই নিষ্পাপ হয়ে জন্মায় এবং ইসলামে পরস্পরকে হেনস্তার কোনো স্থান নেই। সূরা হুজুরাত : ১০
সমাজবিরোধী আচরণ : সকল ধরনের আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড কিংবা যা অন্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, মানুষের ওপর যার বিরূপ প্রভাব রয়েছে এবং যা সমাজ জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে—এমন সমস্ত কর্মকাণ্ডই সমাজবিরোধী কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর উৎপত্তি হয় উদাসীন পরিবারে। যেখানে দুর্বল পারিবারিক পরিবেশে সন্তান প্রতিপালন করা হয়। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ে শিক্ষাঙ্গনের জটিলতা, সমাজের ব্যর্থতা, মানসিক অসুস্থতা কিংবা প্রেরণার অভাব কিশোরদের মধ্যে সমাজবিরোধী কার্যক্রমের প্রবণতা তৈরি করতে পারে। সমাজবিরোধী কার্যকলাপের উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলো নিম্নরূপ—
১. খোলামেলা জায়গায় সকলের সামনে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ
২. পাড়ায় হইচই এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা
৩. জনগণের সম্পদ বিনষ্ট করা, দেয়ালে অযথা ছবি কিংবা পোস্টার লাগানো
৪. রাস্তায় মাদকদ্রব্য কেনাবেচা করা
৫. ফুটপাত বা রাস্তায় আবর্জনা ফেলা
৬. ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ পানীয় গ্রহণ।
নিরাপত্তার খাতিরে সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে কী উদ্দেশ্যে চলাফেরা করছে, এই ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত। নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত
সন্তানদের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এই সকল পদক্ষেপ তাদের সমাজবিরোধী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পথে বাধা দেবে এবং তাদের এই ধরনের অপরাধের শিকার হওয়া থেকেও রক্ষা করবে।
চরমপন্থা : বর্তমানে তরুণদের মধ্যে চরমপন্থা ও মৌলবাদ ইস্যুতে মুসলিম সম্প্রদায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আধুনিক বিশ্বে মুসলিম যুবকদের চরমপন্থার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে এটাকে Unhelpful Over Generalisation মনে করে। অথচ আল্লাহ পাক কোরআনে মুসলিমদের 'উসাত' ও 'ওসাতাত' তথা মধ্যমপন্থা জাতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (সূরা বাকারা : ১৪৩)
ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা সর্বদা স্বয়ং চরমপন্থাকে পরিত্যাগ করতে বলে। এটি খুবই দুঃখজনক, সংখ্যায় খুব হলেও আমাদের তরুণদের একটি অংশ মধ্যমপন্থা থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে এবং নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী মানুষের বিচার করে। বিপরীতে এটাও অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মুসলিম যুবকরা বিশ্বব্যাপী তাদের ভীন ভাই-বোনদের সাথে সংহতিও সকল ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিবাদও ব্যক্ত করেছে। সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর কোনো অংশ যখন ব্যথিত হয়, তখন একই শরীরের ন্যায় সবার উচিতও উক্ত ব্যথা নিজেদেরও ব্যথিত হওয়া। কিন্তু কেউ যতই রাশিকৃত কিংবা ব্যথিত হোক না কেন, যেকোনো ধর্ম-বর্ণের বিনা অপরাধী ব্যক্তিদের হত্যা করা কিংবা তাদের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করা মোটেও সংগত নয়। তরুণদের জানতে হবে—পরিচিতি যতই অস্বাভাবিক হোক না কেন, ইসলামি নীতি ও আইনবহির্ভূত কোনো ধরনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিভাবকদের উচিত সন্তানরা কাদের সাথে মিশেছে, কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা-আড্ডায় অংশ নিচ্ছে, অনলাইনে তারা কী করছে এবং কোন ধরনের বই অধ্যয়ন করছে, এই সকল বিষয়ে সতর্ক ও প্রজ্ঞাবান দৃষ্টি রাখা। পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও স্পর্শকাতর বিষয়াবলির ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করা। তবে তাদের এমনভাবে, এমন উপায়ে প্রতিপালন করতে হবে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। তরুণদের বেশি অধ্যয়ন ও শ্রবণে উৎসাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের দিতে হবে পুস্তক ও বিশ্বস্ত বাস্তব অনুসন্ধান।
কিশোর মাদক : সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো এলাকায় মুসলিম তরুণদের মধ্যে দণ্ডসহ সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী এবং অনেক সামাজিক নেতৃবৃন্দের মতে, এই সমস্যা সমাজে সামাজিক বঞ্চনা, দারিদ্র্য, অনিশ্চিত বেকারত্ব এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতার বিরাট প্রভাব রয়েছে। অনেক কিশোর দলভুক্ত গ্রহণযোগিতার জন্য বিভিন্ন কিশোর গ্যাং-এ যোগ দেয়। কারণ, নিজের পরিবার বা তারা পারিবারিক ও বন্ধুতাপূর্ণ পরিবেশ খুঁজে পায় না। অনেকে এই এই এসব গ্যাং-এ যোগ দেয়, এর থেকে দূরে থাকলে তারা বন্ধুদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলতে পারে। এদের বেশিরভাগই মাদক ও রাস্তার সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত। যে সকল পিতা-মাতা সন্তানদের জন্য সৌহার্দ্যপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি করেন, তাদের পর্যাপ্ত সময় দেন এবং তাদের সৎভাবনাকে মাদকাসক্ত কাজে লাগানোর নিশ্চয়তা প্রদান করেন, তাদের সন্তানদের এই যাওয়ায় সম্ভাবনা খুবই কম।
মাদক ও ধূমপান : অ্যালকোহল, মাদক ও ধূমপানের মধ্যে আসক্তি সৃষ্টি করার ক্ষমতা রয়েছে। অনেক তরুণ অন্যের অনুপ্রেরণা কিংবা বড়োদের আহ্বানে ধূমপান কিংবা নেশাজাতীয় মাদক গ্রহণ করে থাকে। অনেকে এই এই ব্যাপারে কৌতুহলী হয়ে মাদকদ্রব্যের মাধ্যমে চাপমুক্ত হতে হয়।
কোনো তরুণ অল্প সময়ে মাদকাসক্ত হলে এটি তাদের অধঃপতিত হওয়ার রাস্তা খুলে দেয় এবং অন্যান্য সমস্যাবলি দানা বাঁধার নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে লিভার, হার্ট ও পেটের মধ্যে মারাত্মক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ধূমপান ফুসফুসের মারাত্মক ব্যাধির মূল কারণ। এই সব ধ্বংসাত্মক শারীরিক ক্ষতি ছাড়াও সমাজের ওপর ধূমপানের আরও অনেক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, যা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতির অন্যতম কারণও বটে। মাদক গ্রহণের ফলে তরুণদের মাঝে অনেক আচরণগতও সমস্যা দেখা দেয়। যেমন—চোরি হওয়া, অর্থ যোগাড় করার জন্য চুরি এবং নেওয়া ইত্যাদি। এর ফলে আহত হওয়া, যুক্তিবরণ করা কিংবা কারাগারের প্রবেশের মতো শাস্তিও হতে পারে।
সমুদায় কিশোরদের মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। সুতরাং সন্তানরা কাদের সাথে মেলামেশা করছে, এই ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের উচিত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সন্তানদের সাথে মাদকদ্রব্য এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে আলাপ এবং তাদেরকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী স্বাস্থ্য, অর্থ, নৈতিকতার বিষয়, মাদকের বিক্রিয়া ও ভয়াবহতার ব্যাপারে সতর্ক করা।
বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ ও ইসলামভীতি : বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ—এগুলো অমানবিক ও ঘৃণ্য সামাজিক ব্যাধি। এগুলোর ফলে ইতিহাসে মানবজাতির বারবার ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। দাসপ্রথা, উপনিবেশবাদ, ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ, হলোকাস্টও এগুলোরই অনিবার্য ফল। জাতিগত বিদ্বেষের কারণে পূর্বে অনেকগুলো জাতি বিলীন হয়ে গেছে। বিগত শতাব্দীর দুটি ধ্বংসাত্মক বিশ্বযুদ্ধও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ের ফলাফল। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ জাতিগত নিধনের সম্মুখীন। জাতিগত নিধনের অন্যতম মূল কারণ হলো ঘৃণ্য বর্ণবাদ, যা ঘরগুলিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি বয়ে আনে। দৈনন্দিন জীবনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে বর্ণবাদ অবিশ্বাস ও ভীতির সৃষ্টি করে এবং সমাজে ঘৃণা ছড়ায়।
মুসলিম ছেলেমেয়েরা তাদের গায়ের রং এবং ধর্মের কারণে অনেক নেতিবাচক আচরণের সম্মুখীন হয়। তাদের দাড়ি ও হিজাবের কারণেও অনেক সময় নেতিবাচক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। বর্ণবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষের সবচেয়ে কম ক্ষতির দিক হলো—তা অন্যের জন্য ঘৃণা সৃষ্টি করে। এর সবচেয়ে হানিকর ও খারাপ দিক হলো—এটি তাদের একাডেমিক অর্জন এবং সামাজিক কার্যক্রমে মারাত্মকভাবেও ব্যাঘাত করতে পারে। যে সকল মুসলিম ছেলেমেয়েরা দ্বীনের সৌন্দর্য হিজাব ও দাড়ি রাখার কল্যাণকে উপলব্ধি করতে পারে এবং তাদের ওপর পরিবারের অকৃত্রিম সমর্থন রয়েছে, নেতিবাচক আচরণের দ্বারা তাদের মনোক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বর্ণবাদ ও ইসলামভীতি দূরীকরণের ক্ষেত্রে মুসলিম অভিভাবকদের দুইভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রথমত, আমাদের সন্তানদের এমন জ্ঞান ও শিষ্টাচারিতায় সমৃদ্ধ করতে হবে—যাতে তারা বর্ণবাদ ও ধর্মবিরোধী সকল কার্যক্রমকে বিরুদ্ধে মর্যাদার সাথে মোকাবিলা করতে পারে এবং এই সকল ঘৃণিত সামাজিক ব্যাধির বিপক্ষে যথাযথ উপায় প্রয়োগে ক্রোধের বিষয় মনে করে। তারা যেখানেই থাকুক না কেন, আমাদের উচিতও মানবজাতির বৈচিত্র্যের ব্যাপারে তাদের কুরআনভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করা—যা ধর্মভিত্তিক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (সূরা হুজুরাত : ১৩)
মুসলিম তরুণদেরকে তাত্ত্বিকতার বাহক হিসেবে বর্ণবাদবিরোধী মানসিকতা অর্জন করতে হবে। কারণ, আল্লাহর কাছে মর্যাদার অর্জনের এটাই পূর্বশর্ত। এদেরকে এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য কাঠুত্বের হিসেবে উলটো বর্ণবাদ বা ঘৃণার চাষ করলে কখনোই বিজয় লাভ করা সম্ভব না।
মুসলিমরা এতটাই বর্বাদ কিংবা ইসলামবিরোধীদের দ্বারা আক্রান্ত হোক না কেন, আমাদের উচিতও মর্যাদার সঙ্গে এই সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। প্রতিশোধপরায়ণ নয়; বরং মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহারই আমাদের মূল অস্ত্র।
যৌন বিশৃঙ্খলা : তিন বর্ণের শব্দ Sex (সেক্স), যা বর্তমান সময়ের উত্তরাধুনিক সমাজে জীবন ধারণের অনেক কিছুই নির্ধারণ করে দেয়। এটি এমন একধরনের দুরন্ত আকাঙ্ক্ষা, যা ব্যক্তি ও সমাজের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। যিনা বা ব্যভিচার ইসলামে খুবই গুরুতর অপরাধ। মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যভিচার কিংবা যিনাকে শুধু নিষিদ্ধই করেননি; বরং যৌন চিন্তার উদ্রেক ঘটায় এমন যেকোনো বস্তুর কাছে ভিড়তেও নিষেধ করেছেন (সূরা ইসরা : ৩২)। যৌন-কামনা মানব-প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং অনেকগুলো কারণে পুরুষ মানুষের মধ্যে যৌন-কামনা বেশি মাত্রায় দেখা যেতে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, এই যৌনশক্তি যেন কখনো হিংস্র রূপ ধারণ না করে; নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে যথাযথ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এর ব্যবহার করতে হবে।
অবৈধ যৌনতার ব্যাপারে অতি উদার মানুষ যা-ই বলুন না কেন, শুধু ব্যক্তিগত উপভোগ্য বিষয় হলেও সমাজে এর ব্যাপক ধ্বংসাত্মক দিক রয়েছে। অবৈধ যৌনতার ফলে মানুষ অনেক ধরনের যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে এইচআইভি, ক্ল্যামিডিয়া, সিফিলিস অন্যতম; যেগুলো পরবর্তী সময়ে সন্তান জননদানে অক্ষমতা ও মরণব্যাধিরূপে রূপ নেয়।
যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো বিষয়গুলো খুব স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক এখন অনেকটাই সামাজিকভাবে স্বীকৃত। বিবাহ বিচ্ছেদের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর থেকে কিশোররা প্রতিনিয়ত যা শিখছে, সেগুলো থেকে তাদের রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সন্তানদের মধ্যে ইসলামি জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতার অনুভূতি জাগ্রত করা অভিভাবকদের সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব। অভিভাবকদের উচিতও সন্তানদের সাথে যৌনতার ব্যাপারে, ইসলামে এর অবৈধতার ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা। তরুণদের আগে জানতে হবে—যিনা ও ব্যভিচার এমন হারাম, যা আরও দশটা হারামের দুয়ার খুলে দেয়।
সমকামিতা : বিশ্বব্যাপী সমকামিতা কিংবা সমলিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্ক খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে অনেক উন্নত সমাজে সমকামীদের অধিকার সংক্রান্ত সংগঠনগুলো সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করছে।
ফলে অনেক রাষ্ট্রই সমকামিতার বৈধতা দানে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সমলিঙ্গের মধ্যে বিবাহ অথবা যৌন সম্পর্ক অনেক দেশ আইনগত বৈধতাও দিচ্ছে। কিছু সমাজে এই সকল বিষয়কে সামাজিক মর্যাদা দেওয়া হলেও মূলধারার কোনো ধর্মেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
এই বিষয়টি অন্যান্য সমাজ মতো আমাদের সম্প্রদায়কেও বিভক্ত করার পার্থিব আমাদের উচিতও, অভদ্রতার সাথে সমকামিতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ইসলাম কখনো মানুষের জীবন ধারণের পদ্ধতির ব্যাপারে সাহিত্যসা কিংবা শুধু ঘৃণাভরা মনোভাবকে সমর্থন করে না। কিন্তু ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে ইসলামি বিধানের যথার্থতা তুলে ধরার দায়িত্ব মুসলিমদের রয়েছে। (সূরা ফুসসিলাত: ৩৪)
সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার পূর্বে অভিভাবকদের উচিত এই ব্যাপারে নিজেদের শিক্ষা এবং যথেষ্ট পরিমাণ ধারণা লাভ করা। পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় এই ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ—সূরা আ’রাফ : ৮০-৮১, সূরা হুদ : ৭৭-৭৮, সূরা নামল : ৫৪-৫৫, সূরা আনকাবুত, ২৮-৩৪ এবং সূরা আস-সাফফাত : ১৩৩-১৩৭।
শিশুকামিতা : শিশুরা হলো চারাগাছের মতো, যাদের যথাযথ পরিচর্যা প্রয়োজন। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের অপব্যবহার কিংবা অপকর্মে লিপ্ত হওয়া গুরুতর মানুষের কাজ। দুর্ভাগ্যবশত, প্রায় প্রত্যেক সমাজেই দুর্বল শিশুরা অপরাধীদের দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে; অথচ এই সময়ে তাদের নিঃশর্ত ভালোবাসা ও স্নেহ পাওয়ার কথা ছিল।
শিশুকামিতা কেবল অমানবিকই নয়; বরং জঘন্য অপরাধ—যা শিশুদের নিষ্কলুষতাকে ধ্বংস করে। নিপীড়ন করার পর অনেক ধর্ষক শিশুদের জীবননাশে উদ্যত হয়। সভ্য সমাজের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মানুষের নাগরিক দায়িত্ব পূরণে ক্ষেত্রে এক প্রকারের আত্মার জায়গা হিসাবে কাজ করে। শিশুকামিতার মতো মারাত্মক অপরাধের বিনাশ সাধনের জন্য এই সমস্ত সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানরা কার সঙ্গে মেশামেশি করছে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখছে, এই ব্যাপারে জ্ঞাত হওয়া অভিভাবকদের জন্য আবশ্যক। প্রাপ্তবয়স্কদের অগ্রহণযোগ্য কর্ম এবং এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য আদর্শের ব্যাপারে ছেলেমেয়েদের অবগত করতে হবে। পিতা-মাতারদের সব সময় দায়িত্বশীল ও খোলা মনের হতে হতে, যাতে সন্তানরা যেকোনো বিষয়ে আলোচনার জন্য তাদের নিকট আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
পারিবারিক সহিংসতা : বর্তমান সময়ের তরুণরা অধিকতর রাগ ও হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। বেকারত্ব, মাদকদ্রব্য গ্রহণ কিংবা পারিবারিক চাপ এর মূল কারণ। অধিকাংশ তরুণ চাপাক্লান্ত লোকদের মৌখিক ও শারীরিকভাবে আক্রমণের মাধ্যমে নিজেদের হতাশা কাটাতে চাচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো কোনো জায়গায় এই ধরনের পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এর অধিকাংশ তরুণভোগী নারী; পুরুষ ভুক্তভোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পিতা-মাতা উচিত কিশোর ছেলেমেয়েদের পরিবার ও সমাজের ধার্মিক পুরুষদের সং কর্মের বিষয়ে অবহিত করা। ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হলো—জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের আমানত হিসেবে বিবেচনা করা। তাই তাদের সাথে দুর্ব্যবহার কিংবা অপকর্ম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
অভিভাবকদের উচিতও সন্তানদের ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে রাগ ও হতাশা দূর করার উপায় শিক্ষা দেওয়া। যেমন : স্বাস্থ্যকর খেলাধুলা, ঘোরাফেরা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ হালাল বিনোদনের ব্যবস্থা করা।
বস্তুবাদ ও মূল্যবোধের অবক্ষয় : বিগত কয়েক শতাব্দীতে পশ্চিমা দেশগুলোতে বস্তুবাদ গ্রীষ্মধর্মক তার নৈতিক প্রভাব থেকে সরিয়ে নিজেই এর স্থান দখল করে নিয়েছয় এবং সমাজকে অনেকাংশতো মুখে ঠেলে দিয়েছে। উত্তরাধুনিক পশ্চিমা সমাজে নৈতিক অনৈতিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে জীবনের প্রকৃত মূল্যবোধ উপলব্ধি করার সুযোগ রয়েছে খুব কম। ফলে সততা, বিশ্বস্ততা, নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার এর মতো সর্বজনীন মূল্যবোধগুলো ব্যক্তিত্ববাদ ও আত্মকেন্দ্রিকতার কাছে পরাজিত হয়েছে। ফলাফলের দিকে লক্ষ না রেখে শুধু উপভোগ করার আকাঙ্ক্ষা অল্প বয়সেই প্রাধান্য পাচ্ছে।
তরুণদের কাছে জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধিকাংশই উত্তর দেয়—তারা ধনী হতে চায় কিংবা জীবনকে শুধু উপভোগ করতে চায়। টেলিভিশন, কম্পিউটার প্রভৃতি উপকরনাদি মানুষকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক থেকে এমনভাবে বিরত রাখছে, যার ফলে তরুণরা ভুলেই যাচ্ছে—এর চেয়ে আরও উত্তম উপায়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখা যায়। পরিবারে সবাই একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা এবং পরস্পরের সাথে পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করা আকাঙ্ক্ষণকর হয়ে যাচ্ছে। বস্তুবাদী উপকরণ, বিশাল দালান, দ্রুতগামী গাড়ি এবং জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকের ওপর অধিক হারে তরুণরা জোর করছে। বস্তুবাদী নারী-পুরুষ সবাই এর পেছনে ছুটছে।
আল্লাহ্ মানুষকে নিজ গুণ ও যোগ্যতার কারণে মর্যাদা দিয়েছেন। ইসলামে নারী- পুরুষের ভূমিকা পরস্পরের পরিপূরক। ইসলামে উৎপাদন করার পরিবার চালানোর ধারাধিকারতা নারীদেরও দেওয়া হয়নি।
বর্তমান সময়ে পুরুষের সাথে ক্যারিয়ার গঠনের প্রতিযোগিতায় নারীদের ওপর সমাজ কর্তৃক বিরাট বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তারা কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে গিয়ে নিজেদের আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হয়। একই সঙ্গে গৃহস্থালি কাজেরও সামাল দিতে হবে এবং মায়ের দায়িত্বও পালন করতে হবে।
ইসলামি শিষ্টাচার বস্তুবাদী ধর্মহীন জীবনব্যবহার আরেক চূড়ান্তভোগী। বর্তমানে অনেক মুসলিম যুবকের মধ্যে শিষ্টাচারের অভাব দেখা যাচ্ছে। এমনটি যারা ইসলামি কার্যক্রমে অংশ নয়, তাদের মধ্যেও শিষ্টাচারি অনুপস্থিতি লক্ষ করা যায়। শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ মুসলিমদের মূল ভিত্তি। ইতিহাসজুড়ে মুসলিমরা আদর্শ হিসেবে রাসূল ﷺ-এর চরিত্রের অনুসরণ করেছে। তারা ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও অপরের কল্যাণের দিকে লক্ষ রেখে অনুপম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে অনেক মুসলিম; এমনকী মুসলিম সমাজকর্মীদের আদর্শের মধ্যে অহেতুক ও আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তিমন্যতাও প্রবেশ করছে। তরুণ মুসলিমরা আল্লাহ্ ও মানুষের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
অভিভাবকরা কী করতে পারেন?
সর্বপ্রথম আমাদের বস্তুবাদ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যাতে আমরা তরুণদের উৎসাহিত করতে পারি। একই সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, সালাত আদায় ইত্যাদির মাধ্যমে উপরি পারিবারিক আবহ তৈরি করে তাদের সাথে উপযুক্ত সময় ব্যয় করতে হবে। এই ধরনের প্রচেষ্টা ছাড়া বস্তুবাদী আচরণ থেকে সন্তানদের বিরত রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পিতা-মাতা ও সন্তানদের মাঝে ক্রমবর্ধমান ইতিবাচক ও সম্মানজনক মেলামেশা সন্তানদের অন্যের সাথে কল্যাণকর আচরণ, দয়া ও শ্রদ্ধাশীল আচরণে উদ্বুদ্ধকরণে বিরাট ভূমিকা পালন করে।
অভিভাবকদের অবশ্যই ছেলেমেয়েদের নিকট পুরুষ ও নারীর স্বতন্ত্র ও পরিপূরক ভূমিকার ব্যাপারে আলোচনা করতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের পিতা-মাতা হিসেবে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে।
নারী-পুরুষ উভয়কেই সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্বীন ও দুনিয়ায় বিশেষ সমান্তরালে পারদর্শী হতে হবে। মুসলিমদের উচিতও অন্যদের সাথে মিলে
মাতৃতঙ্কে শ্রেষ্ঠ পেশা উৎপাদন করা, যাতে সন্তানরা মায়ের শর্তহীন ভালোবাসা ও আদর-যত্ন উপভোগ করতে পারে। তরুণ ছেলেদের শিক্ষা দিতে হবে—ভদ্রতা, সততা ও ইসলামের ব্যাপারে বোধগম্যতার মধ্যেই নারীর প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত নয়। তার চেহারা, গায়ের রং, চুলের স্টাইল কিংবা কোমরের পায়ের মধ্যে তাদের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত নয়; একইভাবে কন্যাদেরও জানাতে হবে, চেহারা ও অর্থক অর্থ উপার্জনের মধ্যেই পুরুষের চরিত্র নিহিত নয়; বরং চরিত্র ও দ্বীনের অনুশীলনের মধ্যেই পুরুষের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকায়িত।
বিবেক উপযোগী, প্রাশাদায়ক ও গতিশীল সম্পর্ক হতে হবে। তবে এর জন্য কঠোর পরিশ্রম, পারস্পরিক সম্মান, সহাযোগিতা ও ত্যাগের মানসিকতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারও সতীত্ব রক্ষা, দ্বীনের সঠিকতা ও ভালোবাসার সাথে সন্তান জননদানে ক্ষেত্রে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি। আমরা যখন এই সকলে আচরে আমাদের সন্তানদের অভ্যস্ত করাতে পারব এবং তাদের মধ্যে আমাদের চরিত্রের প্রতিফলন ঘটাতে পারব, তখনই কেবল আশা করতে পারব—তারা জীবনে সফল হবে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 ব্যাধির বিরুদ্ধে সংগ্রাম

📄 ব্যাধির বিরুদ্ধে সংগ্রাম


'আল্লাহ্ তা'আলা প্রজ্ঞাময়ী মানুষকে যে মধ্য ও অসৎ উভয় ধরনের প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।' সূরা শামস : ৮
ন্যায়ভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ সমাজে ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহিত করা হয়, যাতে সমাজে সমৃদ্ধি অর্জন ও অন্যকে দমন করা সহজ হয়। ধর্মপরায়ণতার জন্য সমাজ ও পরিবেশ দরকার। এগুলো শুধু ধর্মের বিকাশের জন্যই দরকার নয়; বরং টিকে থাকার জন্যও দরকার। মানবসভ্যতার ইতিহাসজুড়ে দেখা যায়—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সৎ মানুষ গড়ার লক্ষ্যেই। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধর্মধ্বংসকারী, শিশুকামী, গ্যারাজহীটার, মাদক ব্যবহারকারী কিংবা হত্যাকারীর প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু সমাজ যখন তার এই সমস্ত প্রকৃত আশ্রয়স্থল ও নির্দেশনা (ধর্ম) হারালে, তখন অপকর্মগুলো অধিক হারে বাড়তে থাকে।
সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সংগ্রাম এক বিশাল চ্যালেঞ্জ এবং এটি কেবল মুসলিমদের সমস্যা নয়; বরং সকল সমাজেই এই সমস্যাগুলো খুবই সাধারণ সমস্যা। মুসলিমদের এই সকল ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে করে এর মূলোৎপাটন করতে হবে। মুসলিমদের এমন সব সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করা উচিত—
যেগুলো মিডিয়া ও অন্যান্য বিনোদনমূলক ইন্ডাস্ট্রিতে প্রদর্শিত বেহায়াপনা, অশ্লীলতা এবং সকল ধরনের সামাজিক ব্যাধির মূলোৎপাটন কিংবা হ্রাস করার ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের সমাজে আধ্যাত্মিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকরভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের অংশীদারিত্বমূলক প্রচেষ্টা আরও বাড়াতে হবে। এটি কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা চারদিকটি কী ঘটছে-এর ব্যাপারে সচেতন থাকব এবং সক্রিয়ভাবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও অবিশ্বাসীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারব। কোনো ব্যাপারে শুধু বিলাপ করা কিংবা দুঃখ প্রকাশ করা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কখনোই সহায়ক ভূমিকা পালন করে না। যত দ্রুত আমরা এই বিষয়টিকে বুঝব, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।
পিতা-মাতার উচিতও পারিবারিক পর্যায়ে বিভিন্ন উপায়ে সন্তানদের চারপাশে সুরক্ষাপ্রাচীর তৈরি করা এবং আরও সক্রিয়ভাবে তাদের লালন-পালন সময় দেওয়া, যাতে করে সন্তানরা অনৈতিকতার কালো গহ্বরে পতিত না হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00