📄 কঠিন বিষয় মোকাবিলা করার উপায়
খাদ্য গ্রহণে অস্বাভাবিকতার কারণ খুবই জটিল, যা সহজেই বোধগম্য নয়। পরিপূর্ণ নারী হিসেবে বেড়ে ওঠার অনুভূতি একজন মেয়ের মধ্যে এমন অভ্যাস গড়ে তোলে, যার প্রভাবে সে অস্বাভাবিক উপায়ে শরীরে কাঁচিকাচার ভাব রাখার প্রচেষ্টা চালায়। সমাজে স্লিম শরীরের আদর্শ মনে করা হয়। এই কারণে তরুণীরা শরীরের অধিকারী হওয়ার জন্য প্রবল প্রচেষ্টা চালায়। এগুলোর কারণে তারা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। অভিভাবকদের জন্য এটি বোঝা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার, কেন তাদের সন্তানরা খাদ্য-পানীয় গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। তবে সন্তানরা খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করে, খাদ্য গ্রহণ করলে তারা মোটা হয়ে যাবে এবং শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে।
অভিভাবকরা পরিবারে হালাল ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন, ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটের ব্যবস্থা করতে পারেন, যা সন্তানদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালের সময় খাবার গ্রহণে নিময় মন্তব্য করা মোটেই সন্তোষজনক নয়। পরিবারের সবাই যদি অন্তত একবেলা একসঙ্গে খাবার খায়, তাহলে এই ধরনের সমস্যা আগেই ধরে ফেলা যায় এবং দ্রুততার সাথে সমাধান করা যায়।
কঠিন বিষয় মোকাবিলা করার উপায় ছেলেমেয়েদের স্বাতন্ত্র্য উপায়ে বেড়ে ওঠার জন্য অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন স্বচ্ছন্দতার সাথে—
* নিজেদের একজন পরিপূর্ণ পুরুষ ও নারী হিসেবে মেনে নেয়
* পৃথিবী ও নিকটাত্মীয়দের সাথে মানিয়ে নেয়
* পৃথিবীর হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন অবস্থান খুঁজে নেয়।
সকল কিশোর একইভাব বেড়ে ওঠে না। কেউ খুব স্বাভাবিকভাবে ও নির্বিঘ্নে বয়ঃসন্ধিকাল পার করে, আবার কেউ খুব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এই সময়টা পার করে। তরুণরা তাদের কৈশোর বয়সে উজ্জ্বল, অস্বাভাবিক আচরণ, হতাশা, অবসন্নতা, অলসতা ও দেরিতে ঘরে ফেরা ইত্যাদি অভ্যাসের মাধ্যমে পিতা-মাতার সামনে এক যুদ্ধক্ষেত্র হাজির করে। একটি সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ, পরিবার ও সমাজে ইসলামি সংস্কৃতির অনুসরণ, উত্তম ও বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু, পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের পক্ষে প্রশংসাসূচক আচরণ—এই সকল
সমস্যাই সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার অন্যতম উপাদান। একটি অতি উদার ও অবাধ্য স্বাধীনতার সমাজে পিতা-মাতারা রক্ষণশীল হতে চান। কিন্তু ইসলামি সীমানার মধ্যে সন্তানদের যথেষ্ট স্বাধীনতা প্রদান না করার ফলে ফলাফল বেশিভাগ ক্ষেত্রে নেতিবাচক হয়। নিম্নোক্ত প্রায়োগিক ও পরীক্ষিত পরামর্শ বয়ঃসন্ধিকালের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর–
সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য প্রদর্শন : বর্তমান সময়ে কিশোরা বিভিন্ন ধরনের চাপে পিষ্ট। ছেলেমেয়েরা সামাজিক প্রচলনের অনুসরণ, সেলিব্রিটি মডেলদের প্রশংসা করা এবং নিত্য-নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে চরম আগ্রহী। তাদের পোশাক-পরিচ্ছেদ ও আচার-আচরণে এর ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
এই সকল পরিস্থিতিতে কিশোরদের এমন সঙ্গের প্রয়োজন, যা তাদের সহমর্মিতা যোগাবে। এই ক্ষেত্রে পিতা-মাতাই সন্তানদের আদর্শ সঙ্গী। পৃথিবীতে সন্তানদের সঙ্গে কী ঘটছে, সে ব্যাপারে তা পিতা-মাতাকে ভালোভাবে বোঝাতে এবং সন্তানদের মঙ্গলের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্তানদের এমন কাউকে প্রয়োজন, যে তাদের বাচ্যের দিকে নজর দেবে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে এবং পথনির্দেশ করবে।
অবিরত অবসাদগ্রস্তের মধ্যে বড়ো হওয়া কিশোরকে আদর-স্নেহ্হ ও অনুভূতি বোঝানো কোনো সহজ বিষয় নয়। তারপরও এটি কিশোরদের এমন একটি সময়–যখন তাদের সহমর্মিতা পাওয়া খুবই দরকার। শর্তহীন সীমাহীন ভালোবাসা অর্জুন এবং নিজেদের সীমা-পরিসীমা জ্ঞানার হওয়ার মাধ্যমে সন্তানরা দারুণভাবে উপকৃত হয়। যথাযথ উপায়ে সময় কাটানোর ফলে পিতা-মাতার সঙ্গে তাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। পিতা-মাতার সঙ্গে কথা বলা, হাসি-ঠাট্টা করা, আলিঙ্গন করা এবং তাদের সাহচর্য পাওয়া কিশোর-মনের প্রয়োজন পূরণে ব্যাপক অবদান রাখে।
ব্যক্তিগত ও একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ : গোপনীয়তা অবলম্বন এবং ব্যক্তিগত সময় কাটানোর ক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। কিশোরা হঠাৎ করেই আচ্ছন্নচেতক হয়ে পড়ে। ফলে তাদের শরীর ও মনের ব্যাপারে গোপনীয়তা অবলম্বনের সুযোগ এবং একান্ত সময়ের প্রয়োজন–যাতে তারা চিন্তা করতে এবং নিজেদের মতো করে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সদস্যরা অন্যাদি তাদের জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ রাখা উচিত। যদি তাও না হয়, বয়ঃসন্ধিকালের পূর্বে ভাই-বোনদের কক্ষ আলাদা করা উচিত। সন্তানদের বয়স ও উপযুক্ততার ওপর তাদের গোপনীয়তার বিভিন্ন পর্যায় নির্ভর করে।
সন্তানরা কক্ষে কী করবে এবং সেখানে কী রাখে, এই ব্যাপারে বুদ্ধিমত্তার সাথে পিতা-মাতার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কম্পিউটার, ল্যান্ডফোন ও টেলিফোন অবশ্যই খোলামেলা জায়গায় পরিবারের সকলের জন্য উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে হবে। এগুলো কারও ব্যক্তিগত কক্ষে স্থাপন করা যাবে না; যেখানে এগুলোর অপব্যবহার হতে পারে। মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমারেখা নির্ধারণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সম্মানজনক আচরণ : পরিবারের মাঝে সদাচরণের সংস্কৃতি সন্তানদের অপরের সাথে সম্মানজনক আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। শাস্তির সম্ভাব্য ‘আসসালামু আলাইকুম’ পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। কারও কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি প্রার্থনা ইসলামি শিষ্টাচারের অংশ। বিশেষ করে কিশোরদের জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সকল ব্যাপারে অভিভাবকদের উচিত রাসূল ﷺ এর সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং তা সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া। সন্তানদের সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ-এর আচরণ উম্মতের জন্য উদাহরণস্বরূপ। তিনি নিজের বিবাহিত কন্যা ফাতিমা –কে সম্ভাষণ জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তাঁর বসার জন্য নিজের কাপড় বিছিয়ে দিতেন।
মধ্যমপন্থা অবলম্বন : পিতা-মাতা ও সন্তানদের মাঝে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বেচ্ছাচারী অভিভাবক সন্তানদের ওপর নিজেদের মতামত ও ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সন্তান ও নিজেদের বিপদ ডেকে আনে। তাদের অতি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ সন্তানদের গতিশীলতা ও সৃষ্টিশীলতা ধ্বংস করে দেয়। ফলে সন্তানদের মধ্যে কৌতূহল জন্ম নেয়, যা পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহী আচরণে রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে উদাসীন অভিভাবকরা অতি প্রয়োজনেও সময়েও সন্তানদের আচার-আচরণে হস্তক্ষেপ করে না; এরা হয় অভিমাত্রায় উদার কিংবা সন্তানদের ব্যাপারে উদাসীন। প্রান্তবস্থয় হওয়ার আগেই তারা সন্তানদের পরিপক্ক মনে করে। এগুলো কিশোরদের জীবনে মৌলিক নিয়মানুবর্তিতা থেকে বিচ্যুতি ঘটায়। এই উভয়মুখিতার যুগে এই সকল অতি উদার মনোভাব কিশোরদের জীবনে ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।
কঠোরতার সাথে বা কোমলতা অথবা কড়া আচরণের সাথে নরম আচরণ (Carrot and stick) খুবই গুরুত্বপূর্ণ পন্থা, যা শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা কিশোরদের শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। যেকোনো কাজে ইসলাম মধ্যমপন্থা এবং মধ্যমপন্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুহাম্মাদ ﷺ সব সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতেন। যথাযথ ও ইনসাফপূর্ণ আচরণের ওপর অভিভাবকদের সফলতা নির্ভর করে।
উচ্চিষ্ঠ বয়সের অভিভাবকত্ব এড়িয়ে চলা : যে সকল পরিবারে একই বয়সের ভাই- বোন রয়েছে, সেখানে সহোদরদের মধ্যে ঝগড়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সহোদররা কীভাবে সময় কাটায়, তাদের সময়কে কীভাবে উপভোগ করে এবং কীভাবে বিশ্রাম নেয়–সকল কিছুর দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শৈশবকালে সঠিক উপায়ে এই সমস্ত কাজ সম্পাদন উৎসাহিত করতে হবে। তারা যুক্তি, পাল্টা যুক্তি, চিৎকার-চ্যাঁচামেচি এবং বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে একে অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখে। কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা, অভিযোগ ও কান্নাকাটির মাধ্যমে তারা পারিবারিক মাটিয়ে খোলে। সন্তানদের এই সমস্ত আচরণ মাতা-পিতার নিকট অনেক সময় কষ্টকর মনে হতে পারে। তবে শাসন করা খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তাদের আচার-আচরণে হস্তক্ষেপ না করে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নিজের মতো করে চলতে দেওয়া। হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে মাতা-পিতাকে পক্ষপাতিত্ব থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণত বড়ো সন্তানের ওপর দোষ চাপানো হয় এবং ছোটোরা পিতা-মাতার অধিক সহমর্মিতা পেয়ে থাকে। এই বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার। ছোটোদের স্নেহ করা এবং বড়োদের সম্মান করা শিক্ষা বাচ্চাদের দিতে হবে। অন্যান্য জটিলতর মতো সহোদরদের মধ্যকার বিরোধও একসময় কেটে যাবে এবং এটি মায়াবী ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কে রূপ নেবে, ইনশাআল্লাহ।
জীবনের অর্থবহ দিকগুলোতে সন্তানদের অংশগ্রহণ : উদ্দেশ্যহীনভাবে জীবনের পেছনে না ছুটে অর্থবহ জীবন পরিচালনা করাও সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে তরুণরা পরবর্তী জীবনে নিজেদের সন্তানকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়। বর্তমানে অনেক উন্নতমানের নির্ভরযোগ্য সঙ্ঘ, ক্লাব ও সংস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি অনেক সংগঠনও রয়েছে–যেগুলো সমাজে পারস্পরিক সহাবস্থান, ইতিবাচক পরিবর্তন এবং অন্যদের সেবা প্রদানে উৎসাহিত করে। দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য মুসলিম তরুণদের উৎসাহিত করতে হবে। অভিভাবকদের উচিতও ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুণাবলির পরিপূর্ণ কোনো সঙ্ঘ খুঁজে পেতে সন্তানদের সাহায্য করা–যাতে তারা একজন সক্রিয় মুসলিম নাগরিক হিসেবে নিজের জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে।
সুনির বিনোদনের ব্যবস্থা : কারণও শক্তিকে পুনরুদ্ধারজনিত কারণে বিনোদন অপরিহার্য। মানবজাতি যতো কাজ করতে পারে না। যথাযথ উপায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের শরীর ও মনের বিনোদনের প্রয়োজন। অর্থহীন বিনোদন মন ও আত্মার কোনো কাজেই আসে না; মাদকদ্রব্যের ব্যবহার শরীরকে ধ্বংস করে দেয়। ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আধ্যাত্মিক অনুভূতি বিনষ্ট করে দেয়।
মুহাম্মাদ ﷺ তরুণদের ঘোড়দৌড়, তির-ধনুকের ব্যবহার ও সাঁতার কাটার মতো শারীরিক ব্যায়ামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি শেখানোর ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। কুশলী খেলাধুলা ও ব্যায়াম শারীরিক সুস্থতা, আনন্দ ও শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম উৎসব–যা একজন ব্যক্তির কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। এই সকল ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সন্তানদের উৎসাহ দেওয়া উচিত, যাতে তারা এই সকল বিষয়ে অগ্রাভি হতে পারে। অতিরিক্ত আদেশ-নিষেধ সন্তানদের মনে বঞ্চনার মনোভাব সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা পিতা-মাতা এমনকী ধর্মের প্রতিও বিরক্তি প্রকাশ করে।
পারিবারিক কাজে অংশগ্রহণ : মুসলিম তরুণদের উচিতও পরিবারকে পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। একমাত্র এর মাধ্যমেই তারা মুসলিম সম্প্রদায় এবং সমাজের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠতে পারবে। টেকসই মুসলিম পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সন্তানদের মাঝে বিশ্বস্ততা ও ঐক্যের অনুভূতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরদের উচিতও ছোটো ছোটো গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবারকে পারিবারিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়া। নিয়মিত পারিবারিক বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই সমস্ত বিষয় পরিবারের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তরুণদের মতামতও ব্যক্ত করার ব্যাপারে উৎসাহিত হতে হবে, যাতে তারা আত্মবিশ্বাস অর্জনের পাশাপাশি সকলের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে। প্রাথমিক সময়গুলোতে তাদের ভাবনা ফুটে ওঠে। শিশুরা যখন কিশোর বয়সে পদাপর্ণ করে, তখন তাদের খামখেয়ালি মনোভাবের পরিবর্তে পরিপক্ক ও দায়িত্বশীল আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে। তাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে উৎসাহ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা। তাদের বোঝাতে হবে, জীবনটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং এরওপর সাথে পরিচালনা করতে হবে।
ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ : কোনো পরিবারের সাথে মারাত্মক সংকট সংঘটিত হলে কী করতে হবে? এই সকল পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, তা হলো–চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও যৌক্তিক সমাধান বের করা। আমরা মাঝেমাঝে শুনতে পাই, নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতির বাইরের কারও সাথে সম্পর্ক রাখার ফলে ক্রোধবশত অনেক পিতা তাদের কন্যাদের শারীরিককে আঘাত দিয়ে থাকেন।
অনেক পিতা-মাতা ইসলামিক মৌলিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে আপস করেন, পারিবারিক মর্যাদা ও গৌরবকে অধিক প্রাধান্য দেন। অনেকেই আবার অন্যের দ্বারা পশ্চাৎপদ (Backdated) উপাধি পাওয়ার ভয়ে সন্তানদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এর ফলে যখন তাদের নৈতিকভাবে অধঃপতিত সন্তানরা ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়, তখন অভিভাবকরা হঠাৎ জেগে ওঠেন এবং তাদের ওপর জোরপূর্বক নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে উদাসীন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
মানবজাতিতে ক্রোধটা নতুন নয়, যা হঠাৎ করে থামে। হতাশা ও রাগ কখনোই ভালো কিছু বয়ে আনে না। এগুলো আগুনের মতো কাজ। যার ফলে মানুষ আবেগতাড়িত হয় এবং সর্বনাশা পরিবেশ তৈরি করে। রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নবিজি প্রত্যক্ষ জ্বলন্ত উদাহরণ।
“রাগ মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। শয়তানকে সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন দিয়ে; পানির মাধ্যমে যাকে নির্বাপিত করা যায়। সুতরাং তোমাদের কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন অজু করে নেয়।” আবু দাউদ
“তোমাদের কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন চুপ থাকে।” আহমদ
“দাঁড়ানো অবস্থায় তোমার কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন বসে পড়ে। যদি এমতাবস্থায়ও তার রাগ প্রশমিত না হয়, তবে সে যেন শুয়ে পড়ে।” আহমদ
“যখন যোগাযোগগুলো খোলা থাকে, তখন শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি বাঞ্চনীয়। জীবনের অন্য অনেক ক্ষেত্রের মতো কোনো সমস্যারই দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করা যায় না। দুর্ভাগ্যবশত মানুষ অতি দ্রুততাশ্রয়ী।” সুরা ইসরা : ১৯
সাহায্য-সহযোগিতা কামনা : জটিল স্বভাবের সন্তানকে লালন-পালন করা অনেক পিতা-মাতার জন্যই বিতিকর। এই ক্ষেত্রে উত্তম সমাধান হলো–এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টির আগেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ, তাদের আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ, মানসিকতা বোঝা এবং সমস্যা সমাধানে যথাযথ প্রচেষ্টা চালানো। এই ক্ষেত্রে তাদের বাজিকর, মসজিদের ইমাম ও সন্তান প্রতিপালনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে। ত্বরিত ফল লাভের জন্য তাড়াহুড়ো কখনো আশানুরূপ ফলাফল বয়ে আনে না। প্রজ্ঞা ও সতর্কতার সাথে যথাসময়ে পদক্ষেপ গ্রহণই এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে।