📄 ব্যক্তিগত দুর্বলতার ব্যাপারে সচেতনতা
সন্তানরা যখন কিশোর বয়সে পদার্পণ করে, তখন তারা অভিভাবকদের সাথে সময় কাটানোর পরিবর্তে টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল অথবা বন্ধু-বান্ধবের সাথে সময় কাটাতেও অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এই সকল ক্ষেত্রে পিতা-মাতা
কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বশীল অভিভাবক পক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে কিশোররা অপরিণত হোবলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আধুনিক সমাজ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে—এমন অনেক আচরণ ইসলামি জীবনধারার সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। যে সকল অভিভাবক সন্তানদের কিশোর বয়সে পরিচর্যত অবহেলা প্রদর্শন করে কিংবা যথাযথভাবে পূর্ব প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়, তারা কিশোর সন্তানদের নিয়োেক এক বা একাধিক সমস্যায় নিষ্পতি হতে দেখবে।
অহংকারীতা : কিশোর বয়সে শিশুরা সাধারণত দুটি বিপরীতমুখী চরিত্রের অধিকারী হয়: একটি তাদের বহুমুখী চরিত্র, অপরটি অন্তর্মুখী। অর্থাৎ এই বয়সের শারীরিক ও অন্যান্য পরিবর্তনের কারণে তাদের মধ্যে একধরনের অহংবক্তা সৃষ্টি করতে পারে। টেলিভিশন, কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়াবলি দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত হওয়ার ফলে তারা পরিবারের সাথে সময় কাটানো এবং সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারে। যে সকল তরুণের কোনো সহোদর কিংবা কাছের বন্ধু নেই, তারা নিঃসঙ্গতায় ভোগে। অভিভাবকদের অদক্ষতা কিংবা উদাসীনতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সন্তানরা যদি পরিবার ও সমাজের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা দানা বাঁধে এবং তারা নানান খারাপ অভ্যাস ও সামাজিক রোগের শিকার হয়।
অ ভদ্রতা ও অসাধাচরণ : অদ্রু কথা ও খারাপ ভাষা পরিবারের সদস্যদের মধ্যেকার সম্পর্ক দুর্বল করে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বাড়িয়ে দেয়। এজন্য সন্তানদের মধ্যে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কিংবা মন্দ কথা বলার চেয়ে চুপ থাকাটাই উত্তম। কারণ, এটা পরবর্তী সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বই আণতে পারে। ছন্দাতা, সহমর্মিতা, উত্তম বনবৃত্তি ও নয়সম্পূর্ণ পরিবেশে একজন মানুষের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটতে পারে। অপ্রাকৃতিক রাগ, অসাধাচরণ, ক্রোধ ও হতাশ্যপূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কিশোর অপ্রতিভা ও ক্ষতির মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। যে সকল পিতা-মাতা নিজেদের মধ্যে কথা বলার চেয়ে বাড়াবাড়ি ব্যবহার করেন এবং জটিল মুহূর্তেও সন্তানদের সাথে কুরুচিপূর্ণ ব্যবহার পরিহার করেন, তারা সন্তানদের মধ্যেও এই আচরণ প্রভাব দেখতে পান। সন্তানদের মাঝে যদি বদমেজাজে ও অসাধাচরণে বৃদ্ধি ঘটে, তাহলে দ্রুততা ও সতর্কতার সাথে এগুলোকে শান্ত হাতে দমন করতে হবে। সন্তানদের আচার-আচরণ শিক্ষা দেওয়া এবং আদর্শ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই রাগান্বিত হওয়া যাবে না।
অরচিতকর স্টাইল ও ফ্যাশন : বর্তমান সময়ে অরচিতকর ফ্যাশন ও স্টাইলের অন্ধ অনুসরণ খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের উন্মাদনার পেছনের কারণ কী?
আত্মমর্যাদাবোধ ও স্বল্পবোধ প্রত্যেক মানুষের সমৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম, যা জীবনকে উপভোগ করতে তোলে। অনেকে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক, শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ফুটো করা, ট্যাটু ব্যবহার করে কিংবা অদ্ভুত চুলার স্টাইলের মাধ্যমে অন্যের সামনে নিজেকে জাহির করতে চায়। এই সমস্ত চলাফেরার মাধ্যমে তারা চায় বিপরীত লিঙ্গকেও আকৃষ্ট করতে। অনেকে এগুলোর মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ, আত্মপরিচয় অর্জন কিংবা সমাজের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়।
বিষয়টিদের আত্মসম্মানবোধ, পরিচয়বোধ ও জীবন এর অর্থ নির্ধারিত হয় তাদের বিশ্বাস, আল্লাহর সম্পর্ক জ্ঞান এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা ও ওপর ভিত্তি করে। ইসলামে পোশাক, নৈতিকতা ও আচার-আচরণের নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে— যা মুসলিমদের জীবনকে করে সৌন্দর্যমণ্ডিত। এ সকল বিধান পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম সন্তোষজনক উপায়ে মর্যাদা ও আভিজাত্যের সাথে নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারে।
তরুণ-তরুণীরা সাধারণত বুঝতে পারে না, অরচিতকর ফ্যাশন অনুসরণের পোশাক পরিধান এর এর মাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গকে আকৃষ্ট করার আকাঙ্ক্ষা খুবই ক্ষণস্থায়ী। এর ফলে শালীনতা ও আত্মমর্যাদার বিপর্যয় ঘটে। আর এতে অতিমাত্রায় অর্থ উপার্জনকারী ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিগুলো কোনো যায়-আসে না। মুসলিম অভিভাবকগণকে এই ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
মিথ্যাবাদিতা ও প্রতারণা : সত্য কথা বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ভয়ে অনেক মানুষ মিথ্যা বলে। একটি কিশোরের চোখে পৃথিবীটা ভিন্ন ধরনের। তারা বিভিন্ন ব্যাপারে কল্পনা করতে, স্বপ্ন দেখতে কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির করতে পারে। এই ব্যাপারে অন্যদের বলতে সংকোচ বোধ করে। কিশোররা যেহেতু পরিবর্তনের সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, সেহেতু তাদের মধ্যে কোনো কিছু গোপন করা, মিথ্যা কথা বলা কিংবা প্রতারণা করার মতো বিভিন্ন নেতিবাচক অভ্যাসের বিকাশ হতে পারে। এগুলোর অনেক কারণ রয়েছে, যা নিচে উল্লেখ করা হলো—
* মজা করা, খেলার ছলে কিংবা কাউকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য।
* নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা।
* পিতা-মাতা থেকে কোনো কিছু আদায় করা কিংবা তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা।
* সমস্যা এড়িয়ে চলা কিংবা কারো রাগ থেকে রক্ষা পাওয়া।
* নির্মোহ সত্যের মুখোমুখি হওয়া থেকে বিরত থাকা।
* নিজেদের ভেতর জেগে উঠা উদ্ভট কল্পনাকে জিইয়ে রাখা।
* প্রতারণার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস জিইয়ে রাখার চেষ্টা করা, যেহেতু তারা ব্যর্থতাকে বরণ করতে পারে না।
* নিজেদের মন্দ আচার-আচরণের পরিণতি ভোগ থেকে পার পাওয়া।
* অন্যের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্যা ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা।
* ভালো পুরস্কার অর্জন করা ইত্যাদি।
সমস্যা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে এবং অভিভাবকদের অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি, এগুলো তাদের ব্যক্তিগত আচরণের প্রভাব কি না। এমন হলে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠবে। স্বচ্ছ ও স্বাস্থ্যকর পারিবারিক পরিবেশে মিথ্যা ও প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকে না। মিথ্যাকে দ্রুততা ও সচেতনতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে এবং সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে—এটি এক মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়, যা ইসলামে চরমভাবে নিষিদ্ধ। মিথ্যা সকল পাপের মূল এবং মুনাফিকের সবচেয়ে বড়ো আলামত।
‘মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি—
১. কথা বললে মিথ্যা বলে
২. শপথ করলে ভঙ্গ করে
৩. কোনো কিছুর আমানত দিলে আমানতের খেয়ানত করে।’
সহিহ বুখারি
অবসাদতা ও বিদ্রোহী মনোভাব : প্রায় ক্ষেত্রেই কিশোররা নিজের ভেতরের হতাশা ও ক্রোধকে স্পষ্ট করে বলতে পারে না। কথা বলার সময় তারা অন্য কারও কথায় কর্ণপাত করতে চায় না। ফলে তাদের রাগের মাধ্যমে অবসাদতা ও বিদ্রোহী আচরণের প্রকাশ পায়। এটি সহজেই বোধগম্য, যখন পিতা-মাতা সন্তানদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের আচরণগত সমস্যা দেখতে পান, তখন স্বাভাবিকভাবে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে এই সকল ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তাশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই ধরনের আচরণের নিয়ামক ও কারণ কী? বাসার পরিবেশ কিংবা পিতা-মাতার আচরণ কি এই সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে? এই ধরনের আচরণে বড়ো অভিভাবকদের কী করা উচিত? এ সকল প্রশ্নের উত্তর জানা একজন অভিভাবকের কর্তব্য।
আমাদের অবশ্যই আদর্শের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে এবং স্মরণ রাখতে হবে, আল্লাহ পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তির আচরণ সহ্য করছেন এবং তাদের প্রতি প্রতিনিয়ত ঘৃণা বর্ষণ করেছেন। যে ধরনের অন্যায়-ই করুক না কেন, সন্তানদের সাথে এমন রূঢ় আচরণ করা যাবে না, যা সন্তান ও অভিভাবকের মধ্যকার সম্পর্ক বিনষ্ট করে কিংবা তাদের মাঝে বিদ্রোহী মনোভাব জন্মাতো করে। অভিভাবকদের মাঝে সহিষ্ণুতা, রাগ প্রশমন ও নিয়ন্ত্রণের যোগ্যতা অবশ্যই থাকতে হবে। সন্তানদের সাথে সব সময় খোলামেলা আলোচনা ও যোগাযোগ রক্ষা করা জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা : নিজের ক্ষতিসাধন সমাজের অন্যতম প্রধান সমস্যা। Mental Health Foundation (MHF)-এর গবেষণা অনুযায়ী—১১ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের প্রতি ১৫ জনের একজন আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতিসাধন করে। এটি একটি সংকটজনক ব্যাপার। এর ওপর যদিও অনেক গবেষণা হয়েছে, কিন্তু সমাজের অনেকেই এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। বেঁচে থাকার আকুতি এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি। তাই যখন কেউ এই স্বভাবজাত প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, তখন অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়—আত্মহননের জন্য মানসিক ও আর্থ-সামাজিক কারণ রয়েছে। এই কারণগুলোর জন্য মানুষ নিজের জীবনকে অর্থহীন মনে করে এবং নিজের ক্ষতিসাধন করে।
শেষবের কোনো দুঃসহ স্মৃতি যেমন: শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ইত্যাদি পাশাপাশি নিজে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে একজন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে—
* অবহেলার শিকার হওয়া
* ভালোবাসার মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া
* ধমকি বা নির্যাতনের শিকার হওয়া
* পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া
নিজের ক্ষতিসাধন করা বা নিজেকে আহত করার অনেক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো—শরীরকে কোনো অস্ত্র কাটা অথবা পোড়ানো। অন্যান্য উপায়ের মধ্যে আছে অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণ, চল উপড়ে ফেলা, চামড়ার ক্ষতিসাধন এবং শক্ত কিছুর সাথে নিজ আত্মাকে আঘাত করা ইত্যাদি। অনেক তরুণ আবার একেক সময় এ পদ্ধতি অবলম্বন করে।
কিশোররা জীবনের এই মুহূর্তে যদি যথাযথ সমর্থন কিংবা সহানুভূতি মানসিক সহযোগিতা না পায়, তাহলে তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, যা তাদের মধ্যে রাগ ও হতাশার সৃষ্টি করে। এর ফলে তারা নিজের ক্ষতিসাধন করে এবং নিজেকে দোষ দিতে থাকে। যেকোনো কারণেই হোক, নিজের ক্ষতিসাধন ইসলামি ভাবধারার বিপরীত। আল্লাহ পাপের মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষা নেন এবং বিপদে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য বিশাল পুরস্কার ধার্য করেন। (সুরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬)
ধৈর্যশীলতা আল্লাহ প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস থেকে, যা ইসলামের যথাযথ জ্ঞান ও উপলব্ধির মাধ্যমে তৈরি হয়। এর ফলে ব্যক্তি আল্লাহর যেকোনো সিদ্ধান্তকে নিজের জন্য কল্যাণজনক মনে করে। যদি মুসলিম পিতা-মাতা সন্তানদের আদর-যত্ন ও ভালোবাসার মাধ্যমে লালন-পালন করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ, নিজের ক্ষতি করার বিষয়টি কোনোভাবেই তাদের মাঝে আসবে না। সন্তানদের কঠিন মুহূর্ত ও হতাশাজনক অবস্থা মোকাবিলায় অভিভাবকদের দায়িত্বভার জরুরি। এই সময়ে তাদের জন্য সর্বোচ্চ সহনশীলতা হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
খাদ্য গ্রহণে অস্বাভাবিকতা : খাদ্য গ্রহণে অস্বাভাবিকতা হলো—খাওয়া-খাওয়ার সাথে অস্বাভাবিক সম্পর্ক। ওজন কমানোর লক্ষ্যে এটা করলে শরীর ও মন উভয়ের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ Disorder দুভাবে হয়ে থাকে : একটি Anorexia Nervosa এবং অপরটি Bulimia। Anorexia Nervosa এমন একটি অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি চিকন হওয়ায় ভয় পাওয়া সত্ত্বেও খাবার গ্রহণ করেন না বা খুবই অল্প খান। তারা অতিরিক্ত ব্যায়াম করে এবং শরীরকে বমি করার চেষ্টা করে। যারা অতিরিক্ত খায়— যেকোনো ধরনের খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা তারা মোটা হয়ে থাকে। ফলে তারা নিয়মিত খাবার গ্রহণ থেকে মাত্রাতিরিক্তভাবে বিরত থাকে। Anorexia-তে অভ্যস্ত হওয়ার অস্বাভাবিকতাকে চিকিৎসকরা দেখান। Bulimia এমন এক অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি প্রচুর খাদ্য গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু বিশ্বাস করে, খাদ্য গ্রহণ শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি তাদের শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে। ফলে তারা অতিরিক্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও নিজেদের চিকন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মেডিসিন গ্রহণ করে থাকে। এই সকল অভ্যাস তাদের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটায়। Anorexia সাধারণ মধ্যবয়সি কিশোর-কিশোরীদের মাঝে দেখা যায় এবং Bulimia-এর কিছু পরেই শুরু হয়। এই দুটি সমস্যা সাধারণত ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
📄 কঠিন বিষয় মোকাবিলা করার উপায়
খাদ্য গ্রহণে অস্বাভাবিকতার কারণ খুবই জটিল, যা সহজেই বোধগম্য নয়। পরিপূর্ণ নারী হিসেবে বেড়ে ওঠার অনুভূতি একজন মেয়ের মধ্যে এমন অভ্যাস গড়ে তোলে, যার প্রভাবে সে অস্বাভাবিক উপায়ে শরীরে কাঁচিকাচার ভাব রাখার প্রচেষ্টা চালায়। সমাজে স্লিম শরীরের আদর্শ মনে করা হয়। এই কারণে তরুণীরা শরীরের অধিকারী হওয়ার জন্য প্রবল প্রচেষ্টা চালায়। এগুলোর কারণে তারা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। অভিভাবকদের জন্য এটি বোঝা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার, কেন তাদের সন্তানরা খাদ্য-পানীয় গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। তবে সন্তানরা খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করে, খাদ্য গ্রহণ করলে তারা মোটা হয়ে যাবে এবং শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে।
অভিভাবকরা পরিবারে হালাল ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন, ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটের ব্যবস্থা করতে পারেন, যা সন্তানদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালের সময় খাবার গ্রহণে নিময় মন্তব্য করা মোটেই সন্তোষজনক নয়। পরিবারের সবাই যদি অন্তত একবেলা একসঙ্গে খাবার খায়, তাহলে এই ধরনের সমস্যা আগেই ধরে ফেলা যায় এবং দ্রুততার সাথে সমাধান করা যায়।
কঠিন বিষয় মোকাবিলা করার উপায় ছেলেমেয়েদের স্বাতন্ত্র্য উপায়ে বেড়ে ওঠার জন্য অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন স্বচ্ছন্দতার সাথে—
* নিজেদের একজন পরিপূর্ণ পুরুষ ও নারী হিসেবে মেনে নেয়
* পৃথিবী ও নিকটাত্মীয়দের সাথে মানিয়ে নেয়
* পৃথিবীর হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন অবস্থান খুঁজে নেয়।
সকল কিশোর একইভাব বেড়ে ওঠে না। কেউ খুব স্বাভাবিকভাবে ও নির্বিঘ্নে বয়ঃসন্ধিকাল পার করে, আবার কেউ খুব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এই সময়টা পার করে। তরুণরা তাদের কৈশোর বয়সে উজ্জ্বল, অস্বাভাবিক আচরণ, হতাশা, অবসন্নতা, অলসতা ও দেরিতে ঘরে ফেরা ইত্যাদি অভ্যাসের মাধ্যমে পিতা-মাতার সামনে এক যুদ্ধক্ষেত্র হাজির করে। একটি সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ, পরিবার ও সমাজে ইসলামি সংস্কৃতির অনুসরণ, উত্তম ও বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু, পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের পক্ষে প্রশংসাসূচক আচরণ—এই সকল
সমস্যাই সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করার অন্যতম উপাদান। একটি অতি উদার ও অবাধ্য স্বাধীনতার সমাজে পিতা-মাতারা রক্ষণশীল হতে চান। কিন্তু ইসলামি সীমানার মধ্যে সন্তানদের যথেষ্ট স্বাধীনতা প্রদান না করার ফলে ফলাফল বেশিভাগ ক্ষেত্রে নেতিবাচক হয়। নিম্নোক্ত প্রায়োগিক ও পরীক্ষিত পরামর্শ বয়ঃসন্ধিকালের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর–
সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য প্রদর্শন : বর্তমান সময়ে কিশোরা বিভিন্ন ধরনের চাপে পিষ্ট। ছেলেমেয়েরা সামাজিক প্রচলনের অনুসরণ, সেলিব্রিটি মডেলদের প্রশংসা করা এবং নিত্য-নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে চরম আগ্রহী। তাদের পোশাক-পরিচ্ছেদ ও আচার-আচরণে এর ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
এই সকল পরিস্থিতিতে কিশোরদের এমন সঙ্গের প্রয়োজন, যা তাদের সহমর্মিতা যোগাবে। এই ক্ষেত্রে পিতা-মাতাই সন্তানদের আদর্শ সঙ্গী। পৃথিবীতে সন্তানদের সঙ্গে কী ঘটছে, সে ব্যাপারে তা পিতা-মাতাকে ভালোভাবে বোঝাতে এবং সন্তানদের মঙ্গলের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্তানদের এমন কাউকে প্রয়োজন, যে তাদের বাচ্যের দিকে নজর দেবে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে এবং পথনির্দেশ করবে।
অবিরত অবসাদগ্রস্তের মধ্যে বড়ো হওয়া কিশোরকে আদর-স্নেহ্হ ও অনুভূতি বোঝানো কোনো সহজ বিষয় নয়। তারপরও এটি কিশোরদের এমন একটি সময়–যখন তাদের সহমর্মিতা পাওয়া খুবই দরকার। শর্তহীন সীমাহীন ভালোবাসা অর্জুন এবং নিজেদের সীমা-পরিসীমা জ্ঞানার হওয়ার মাধ্যমে সন্তানরা দারুণভাবে উপকৃত হয়। যথাযথ উপায়ে সময় কাটানোর ফলে পিতা-মাতার সঙ্গে তাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। পিতা-মাতার সঙ্গে কথা বলা, হাসি-ঠাট্টা করা, আলিঙ্গন করা এবং তাদের সাহচর্য পাওয়া কিশোর-মনের প্রয়োজন পূরণে ব্যাপক অবদান রাখে।
ব্যক্তিগত ও একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ : গোপনীয়তা অবলম্বন এবং ব্যক্তিগত সময় কাটানোর ক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। কিশোরা হঠাৎ করেই আচ্ছন্নচেতক হয়ে পড়ে। ফলে তাদের শরীর ও মনের ব্যাপারে গোপনীয়তা অবলম্বনের সুযোগ এবং একান্ত সময়ের প্রয়োজন–যাতে তারা চিন্তা করতে এবং নিজেদের মতো করে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সদস্যরা অন্যাদি তাদের জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ রাখা উচিত। যদি তাও না হয়, বয়ঃসন্ধিকালের পূর্বে ভাই-বোনদের কক্ষ আলাদা করা উচিত। সন্তানদের বয়স ও উপযুক্ততার ওপর তাদের গোপনীয়তার বিভিন্ন পর্যায় নির্ভর করে।
সন্তানরা কক্ষে কী করবে এবং সেখানে কী রাখে, এই ব্যাপারে বুদ্ধিমত্তার সাথে পিতা-মাতার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কম্পিউটার, ল্যান্ডফোন ও টেলিফোন অবশ্যই খোলামেলা জায়গায় পরিবারের সকলের জন্য উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে হবে। এগুলো কারও ব্যক্তিগত কক্ষে স্থাপন করা যাবে না; যেখানে এগুলোর অপব্যবহার হতে পারে। মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমারেখা নির্ধারণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সম্মানজনক আচরণ : পরিবারের মাঝে সদাচরণের সংস্কৃতি সন্তানদের অপরের সাথে সম্মানজনক আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। শাস্তির সম্ভাব্য ‘আসসালামু আলাইকুম’ পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। কারও কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি প্রার্থনা ইসলামি শিষ্টাচারের অংশ। বিশেষ করে কিশোরদের জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সকল ব্যাপারে অভিভাবকদের উচিত রাসূল ﷺ এর সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং তা সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া। সন্তানদের সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ-এর আচরণ উম্মতের জন্য উদাহরণস্বরূপ। তিনি নিজের বিবাহিত কন্যা ফাতিমা –কে সম্ভাষণ জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তাঁর বসার জন্য নিজের কাপড় বিছিয়ে দিতেন।
মধ্যমপন্থা অবলম্বন : পিতা-মাতা ও সন্তানদের মাঝে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বেচ্ছাচারী অভিভাবক সন্তানদের ওপর নিজেদের মতামত ও ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সন্তান ও নিজেদের বিপদ ডেকে আনে। তাদের অতি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ সন্তানদের গতিশীলতা ও সৃষ্টিশীলতা ধ্বংস করে দেয়। ফলে সন্তানদের মধ্যে কৌতূহল জন্ম নেয়, যা পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহী আচরণে রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে উদাসীন অভিভাবকরা অতি প্রয়োজনেও সময়েও সন্তানদের আচার-আচরণে হস্তক্ষেপ করে না; এরা হয় অভিমাত্রায় উদার কিংবা সন্তানদের ব্যাপারে উদাসীন। প্রান্তবস্থয় হওয়ার আগেই তারা সন্তানদের পরিপক্ক মনে করে। এগুলো কিশোরদের জীবনে মৌলিক নিয়মানুবর্তিতা থেকে বিচ্যুতি ঘটায়। এই উভয়মুখিতার যুগে এই সকল অতি উদার মনোভাব কিশোরদের জীবনে ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।
কঠোরতার সাথে বা কোমলতা অথবা কড়া আচরণের সাথে নরম আচরণ (Carrot and stick) খুবই গুরুত্বপূর্ণ পন্থা, যা শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা কিশোরদের শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। যেকোনো কাজে ইসলাম মধ্যমপন্থা এবং মধ্যমপন্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুহাম্মাদ ﷺ সব সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতেন। যথাযথ ও ইনসাফপূর্ণ আচরণের ওপর অভিভাবকদের সফলতা নির্ভর করে।
উচ্চিষ্ঠ বয়সের অভিভাবকত্ব এড়িয়ে চলা : যে সকল পরিবারে একই বয়সের ভাই- বোন রয়েছে, সেখানে সহোদরদের মধ্যে ঝগড়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সহোদররা কীভাবে সময় কাটায়, তাদের সময়কে কীভাবে উপভোগ করে এবং কীভাবে বিশ্রাম নেয়–সকল কিছুর দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শৈশবকালে সঠিক উপায়ে এই সমস্ত কাজ সম্পাদন উৎসাহিত করতে হবে। তারা যুক্তি, পাল্টা যুক্তি, চিৎকার-চ্যাঁচামেচি এবং বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে একে অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখে। কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা, অভিযোগ ও কান্নাকাটির মাধ্যমে তারা পারিবারিক মাটিয়ে খোলে। সন্তানদের এই সমস্ত আচরণ মাতা-পিতার নিকট অনেক সময় কষ্টকর মনে হতে পারে। তবে শাসন করা খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তাদের আচার-আচরণে হস্তক্ষেপ না করে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নিজের মতো করে চলতে দেওয়া। হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে মাতা-পিতাকে পক্ষপাতিত্ব থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণত বড়ো সন্তানের ওপর দোষ চাপানো হয় এবং ছোটোরা পিতা-মাতার অধিক সহমর্মিতা পেয়ে থাকে। এই বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার। ছোটোদের স্নেহ করা এবং বড়োদের সম্মান করা শিক্ষা বাচ্চাদের দিতে হবে। অন্যান্য জটিলতর মতো সহোদরদের মধ্যকার বিরোধও একসময় কেটে যাবে এবং এটি মায়াবী ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কে রূপ নেবে, ইনশাআল্লাহ।
জীবনের অর্থবহ দিকগুলোতে সন্তানদের অংশগ্রহণ : উদ্দেশ্যহীনভাবে জীবনের পেছনে না ছুটে অর্থবহ জীবন পরিচালনা করাও সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে তরুণরা পরবর্তী জীবনে নিজেদের সন্তানকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়। বর্তমানে অনেক উন্নতমানের নির্ভরযোগ্য সঙ্ঘ, ক্লাব ও সংস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি অনেক সংগঠনও রয়েছে–যেগুলো সমাজে পারস্পরিক সহাবস্থান, ইতিবাচক পরিবর্তন এবং অন্যদের সেবা প্রদানে উৎসাহিত করে। দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য মুসলিম তরুণদের উৎসাহিত করতে হবে। অভিভাবকদের উচিতও ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুণাবলির পরিপূর্ণ কোনো সঙ্ঘ খুঁজে পেতে সন্তানদের সাহায্য করা–যাতে তারা একজন সক্রিয় মুসলিম নাগরিক হিসেবে নিজের জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে।
সুনির বিনোদনের ব্যবস্থা : কারণও শক্তিকে পুনরুদ্ধারজনিত কারণে বিনোদন অপরিহার্য। মানবজাতি যতো কাজ করতে পারে না। যথাযথ উপায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের শরীর ও মনের বিনোদনের প্রয়োজন। অর্থহীন বিনোদন মন ও আত্মার কোনো কাজেই আসে না; মাদকদ্রব্যের ব্যবহার শরীরকে ধ্বংস করে দেয়। ইন্দ্রিয়পরায়ণতা আধ্যাত্মিক অনুভূতি বিনষ্ট করে দেয়।
মুহাম্মাদ ﷺ তরুণদের ঘোড়দৌড়, তির-ধনুকের ব্যবহার ও সাঁতার কাটার মতো শারীরিক ব্যায়ামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি শেখানোর ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। কুশলী খেলাধুলা ও ব্যায়াম শারীরিক সুস্থতা, আনন্দ ও শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম উৎসব–যা একজন ব্যক্তির কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। এই সকল ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সন্তানদের উৎসাহ দেওয়া উচিত, যাতে তারা এই সকল বিষয়ে অগ্রাভি হতে পারে। অতিরিক্ত আদেশ-নিষেধ সন্তানদের মনে বঞ্চনার মনোভাব সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা পিতা-মাতা এমনকী ধর্মের প্রতিও বিরক্তি প্রকাশ করে।
পারিবারিক কাজে অংশগ্রহণ : মুসলিম তরুণদের উচিতও পরিবারকে পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। একমাত্র এর মাধ্যমেই তারা মুসলিম সম্প্রদায় এবং সমাজের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠতে পারবে। টেকসই মুসলিম পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সন্তানদের মাঝে বিশ্বস্ততা ও ঐক্যের অনুভূতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরদের উচিতও ছোটো ছোটো গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবারকে পারিবারিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়া। নিয়মিত পারিবারিক বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই সমস্ত বিষয় পরিবারের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তরুণদের মতামতও ব্যক্ত করার ব্যাপারে উৎসাহিত হতে হবে, যাতে তারা আত্মবিশ্বাস অর্জনের পাশাপাশি সকলের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে। প্রাথমিক সময়গুলোতে তাদের ভাবনা ফুটে ওঠে। শিশুরা যখন কিশোর বয়সে পদাপর্ণ করে, তখন তাদের খামখেয়ালি মনোভাবের পরিবর্তে পরিপক্ক ও দায়িত্বশীল আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে। তাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে উৎসাহ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা। তাদের বোঝাতে হবে, জীবনটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং এরওপর সাথে পরিচালনা করতে হবে।
ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ : কোনো পরিবারের সাথে মারাত্মক সংকট সংঘটিত হলে কী করতে হবে? এই সকল পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, তা হলো–চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও যৌক্তিক সমাধান বের করা। আমরা মাঝেমাঝে শুনতে পাই, নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতির বাইরের কারও সাথে সম্পর্ক রাখার ফলে ক্রোধবশত অনেক পিতা তাদের কন্যাদের শারীরিককে আঘাত দিয়ে থাকেন।
অনেক পিতা-মাতা ইসলামিক মৌলিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে আপস করেন, পারিবারিক মর্যাদা ও গৌরবকে অধিক প্রাধান্য দেন। অনেকেই আবার অন্যের দ্বারা পশ্চাৎপদ (Backdated) উপাধি পাওয়ার ভয়ে সন্তানদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এর ফলে যখন তাদের নৈতিকভাবে অধঃপতিত সন্তানরা ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়, তখন অভিভাবকরা হঠাৎ জেগে ওঠেন এবং তাদের ওপর জোরপূর্বক নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে উদাসীন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
মানবজাতিতে ক্রোধটা নতুন নয়, যা হঠাৎ করে থামে। হতাশা ও রাগ কখনোই ভালো কিছু বয়ে আনে না। এগুলো আগুনের মতো কাজ। যার ফলে মানুষ আবেগতাড়িত হয় এবং সর্বনাশা পরিবেশ তৈরি করে। রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নবিজি প্রত্যক্ষ জ্বলন্ত উদাহরণ।
“রাগ মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। শয়তানকে সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন দিয়ে; পানির মাধ্যমে যাকে নির্বাপিত করা যায়। সুতরাং তোমাদের কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন অজু করে নেয়।” আবু দাউদ
“তোমাদের কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন চুপ থাকে।” আহমদ
“দাঁড়ানো অবস্থায় তোমার কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন বসে পড়ে। যদি এমতাবস্থায়ও তার রাগ প্রশমিত না হয়, তবে সে যেন শুয়ে পড়ে।” আহমদ
“যখন যোগাযোগগুলো খোলা থাকে, তখন শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি বাঞ্চনীয়। জীবনের অন্য অনেক ক্ষেত্রের মতো কোনো সমস্যারই দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করা যায় না। দুর্ভাগ্যবশত মানুষ অতি দ্রুততাশ্রয়ী।” সুরা ইসরা : ১৯
সাহায্য-সহযোগিতা কামনা : জটিল স্বভাবের সন্তানকে লালন-পালন করা অনেক পিতা-মাতার জন্যই বিতিকর। এই ক্ষেত্রে উত্তম সমাধান হলো–এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টির আগেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ, তাদের আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ, মানসিকতা বোঝা এবং সমস্যা সমাধানে যথাযথ প্রচেষ্টা চালানো। এই ক্ষেত্রে তাদের বাজিকর, মসজিদের ইমাম ও সন্তান প্রতিপালনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে। ত্বরিত ফল লাভের জন্য তাড়াহুড়ো কখনো আশানুরূপ ফলাফল বয়ে আনে না। প্রজ্ঞা ও সতর্কতার সাথে যথাসময়ে পদক্ষেপ গ্রহণই এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে।