📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


এ অধ্যায়ে আমি সন্তান প্রতিপালনের সেই সব অবশ্যম্ভাবী দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি, যেগুলো মানবজাতির উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত। মুসলিমদের জন্য প্যারেন্টিং শুধু দুনিয়ার জন্যই কল্যাণকর নয়; আখিরাতের মুক্তির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন আমাদের বলে, সন্তান পিতা-মাতার জন্য 'পরীক্ষা' ও আমানতস্বরূপ। পিতা-মাতার মূল দায়িত্ব হলো সন্তানদের ভালোবাসা, যত্ন ও উপযুক্ত শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর উপযুক্ত প্রতিনিধি হিসেবে তৈরি করা।
এই পৃথিবীতে আল্লাহ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাগান পরিচর্যার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের কর্তব্য হলো–যথার্থ পরিচর্যার মাধ্যমে সেই বাগানকে প্রস্তুত এবং সেখানে বাহারি সুগন্ধি ফুল প্রকৃতিও হওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। কার্যকরভাবে সন্তান প্রতিপালনের পালনের অর্থ হলো, সন্তানদের মাঝে বৈশিক, আদর্শিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বানুভূতি তৈরি। পরিবার এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে পিতা-মাতা একটি সুখী, আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। একটি কল্যাণপূর্ণ ও যত্নশীল পারিবারিক পরিবেশ সন্তানের সাথে পিতা-মাতার মজবুত সম্পর্ক তৈরি করে। এর মাধ্যমে
সন্তানরা সমাজের অন্যান্য মানুষদেরও ভালোবাসে। এই ধরনের পরিবেশের প্রভাব মুসলিমদের আচার-আচরণের ওপর প্রতিফলিত হওয়া উচিত, যা ইসলামি সামাজিক জীবনের সারবত্তা।
অনাদিক যে সকল সন্তান বেখেয়ালি ও রূঢ় স্বভাবের পিতা-মাতার কাছে বেড়ে উঠেছে কিংবা অসূয় পরিবেশে গড়ে উঠেছে, তাদের মধ্যে সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি আগ্রহ তেমন জন্মায় না; বরং তারা সমাজের বোঝা। অভাব শুধু সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হয় না; তা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও হতে পারে। আর্থ-সামাজিক বঞ্চনা সমাজে অস্থিতি সৃষ্টি করে। অনৈতিক নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বঞ্চনা তরুণদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে এবং মনুষ্যত্বের পতন ঘটায়। এই পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিও সমাজের উন্নতি সাধন হতে পারে না।
আমি এমন একধরনের পরিবার গঠনের প্রস্তাব পেশ করেছি, যেখানে প্যারেন্টিং হবে ঈমানের ক্ষেত্রে আপসহীন, পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ ও পরিশ্রমী। এর জন্য প্রয়োজন উত্তম কৌশল, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, নিয়মিত সতর্কতা, উদ্যোগ ও দৃঢ় সংকল্প। মায়ের গর্ভে আসার পর থেকেই সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব শুরু হয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া। এই দায়িত্ব জীবনব্যাপী পালন করতে হয়। সন্তান প্রতিপালনের মধ্যে রয়েছে জন্মের পর থেকেই শিশুদের শারীরিক পুষ্টি নিশ্চিত করা, মানসিক সমর্থন দেওয়া, সামাজিকভাবে গড়ে তোলা এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের প্রচেষ্টা চালানো। জীবনের বিভিন্ন পর্যায় সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পিতা-মাতার জন্য একই সাথে চ্যালেঞ্জিং, দুঃসাধ্যসিক, আনন্দদায়ক ও সুখকর। এর প্রতিদানও বিশাল। তা হলো–দুনিয়ায় সফল হওয়ার তৃপ্তি এবং আখিরাতে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00