📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 সাপ্লিমেন্টারি ইসলামিক স্কুল

📄 সাপ্লিমেন্টারি ইসলামিক স্কুল


নিজ ঘরে সকল ধরনের আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রদান নিঃসন্দেহে পিতা-মাতার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য তারা ইভিনিং কিংবা ছুটির দিনে ইসলামিক স্কুল কিংবা মাদরাসায় নিয়মিত পাঠাতে পারেন। সেখানে তারা কুরআন ও ইসলামের অন্যান্য বিষয়াবলি শিখতে পারবে। অনেক সময় নিয়মিত কাজ ফেলে সন্তানদের ইসলামি শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। একই সাথে তারা সন্তানদের এই সমস্ত বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অভাবেও ভোগেন। এ সকল পরিস্থিতিতে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামিক স্কুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্তানদের প্রেরণের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে—
* শিশুরা প্রতিদিন সাত ঘণ্টা এবং সপ্তাহের পাঁচ দিন স্কুলে থাকে। এর পাশাপাশি তারা পরিশ্রান্ত শরীরে অনেকগুলো হোমওয়ার্ক নিয়ে ঘরে ফেরে। ছুটির দিনগুলোতে তাদের শারীরিক ও মানসিকতভাবে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ইসলামিক ক্লাসগুলোর সময় ও পরিধির দিকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষার রুটিনে তারা যেন অনেক বেশি ক্লান্ত না হয়ে যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
* পিতা-মাতার কর্তব্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানসমূহে নিয়মিত পরিদর্শন করা। পাশাপাশি সন্তানদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি, শিক্ষাসামগ্রী ও জায়গা রয়েছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। শুধু একটি হোয়াইট বোর্ড এবং কলমসর্বোচিত উপচে পড়া শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার সর্বোত্তম পরিচয় হতে পারে না।
* সন্তানদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পিতা-মাতাকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে পিতা-মাতা তাদের শিক্ষক ও ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে কথা বলতে পারেন। অনেক ইসলামিক স্কুল রয়েছে, যেগুলোর বুনিয়াদি শিক্ষা পদ্ধতি দ্বারা পরিচালিত। নিয়াত ভালো থাকলেও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের প্রফেশনালিজমের অভাব রয়েছে। আচরণগত সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করতে হয়, তাদের সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা না-ও থাকতে পারে। কিংবা পাঠ পরিকল্পনা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারা উপযুক্ত সময় না-ও দিতে পারে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 মুসলিম সংস্কৃতি তৈরি

📄 মুসলিম সংস্কৃতি তৈরি


মুসলিম অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সন্তানরা আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিতে পারবে। নিজ পরিচয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মাধ্যমেই তারা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবে এবং সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারবে। নিজের পেশার মাধ্যমে সমাজে অর্থনৈতিক অবদান রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবে। নিজের শ্রম, প্রেম ও অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে সমাজের গরিব-দুঃখীদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। আল্লাহর ইচ্ছায় ভারসাম্যপূর্ণ, প্রজ্ঞাবান ও যোগ্য জীবনদশী এবং প্রাজ্ঞ অভিভাবক হয়ে বেড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেবে।
নিবন্ধবদ্ধ কঠোর পরিশ্রমে আমরা তরুণদের উপযোগী এমন এক সংস্কৃতি তৈরি করতে সক্ষম হব, যেখানে আমাদের সন্তানরা গর্ববোধ করতে পারবে। এটি এমন সংস্কৃতি, যেখানে তারা পরিবারের সবার থেকে স্নেহ-ভালোবাসা পাবে; বুঝতে পারবে সবার ক্ষেত্রে উত্তম উপমা প্রদান করছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের অর্জিত জ্ঞান ব্যবহারের সক্ষমতাকে বৃষ্টির পর মাটির প্রতিক্রিয়ার সাথে তুলনা করেছেন। মানুষের অন্তরে উপমা ও গল্পের বিরাট প্রভাব রয়েছে। এগুলো মানুষকে জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে সাহায্য করে।
মুসলিম সংস্কৃতি তৈরি করার ক্ষেত্রে নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার কিংবা অমুসলিমদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। এটি ইসলামি চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীত। সমাজের সকলের সাথে উঠাবসা এবং অপরের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চারদিকের বিশ্ব প্রতিনিয়তই সন্তানদের প্ররোচিত করে এবং সন্দেহের মধ্যে ফেলে দেয়। এখানে তাদের অবারিত করা মতো অনেক অনৈতিক বিষয় রয়েছে। বৃহৎ সমাজের সাথে মেলামেশার আগেই এই সমস্ত বিষয় থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। ইসলামি পরিছন্ন এবং এর নিয়মকানুন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে–যাতে তারা উদ্দেশ্যহীনভাবে বারা পাতার ন্যায় নিজেদের জীবন পরিচালনা না করে; বরং বাতির ন্যায় জ্বলে ওঠে।
তরুণদের সংগঠন ও মসজিদের ভূমিকা : শিশুরা যে বয়স থেকে মসজিদের আবাদি রক্ষা করতে পারে, সেই সময় থেকে তাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া উচিত। এতে তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হয়।
ইসলামের ইতিহাসে মসজিদ সব সময় সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভূমিকা রেখে এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত বর্তমানে অনেক মসজিদই নিষ্ফল; এমনকী সালাতের সময় ছাড়া অন্য সময় বন্ধ থাকে। মসজিদ যদি শুধু সালাতের জন্যই ব্যবহার করা হয়, তাহলে ‘উদ্ধারের পুনঃজাগরণ' খুবই থেকে যাবে। রাসূল ﷺ-এর সময়কার মসজিদগুলো সমাজের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বর্তমান সময়ের মসজিদগুলোও সেভাবে পরিচালনা করতে হবে।
জামাতের সাথে সালাত আদায় ও কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি মসজিদগুলোতেও আরও কিছু সামাজিক কাজের আয়োজন করা উচিত। যেমন: আলোচনা, শিক্ষামূলক ক্লাস, মসজিদ প্রাঙ্গণে শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা ইত্যাদি। মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত প্রধানত অনীহা থেকে সরে এসে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখা। মসজিদের ইমাম সাহেবদের মানুষের সাথে যোগাযোগমূলক দক্ষতা এবং নিজ সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা রাখতে হবে, যাতে তারা শিশু ও বৃদ্ধ সবার সাথে মিশতে পারে। মসজিদের মনস্তত্ত্বিক, পেশাগতভাবে এর পরিচালনা এবং মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমে যুবকদের সুযোগ প্রদান মসজিদের কার্যক্রমের অগ্রভাগে থাকতে হবে।
মুসলিম শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের অন্যতম উপায় হলো–ছোটোকাটো থেকে তাদের বিভিন্ন ইসলামিক আসর নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা সকল ধরনের সমাজকল্যাণমূলক কাজ অংশগ্রহণ করতে পারে। রাসূল ﷺ তরুণ বয়সে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা জন্য ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অভিভাবকদের কর্তব্য হচ্ছে–এসবের সাথে নিজে সম্পৃক্ত হওয়া এবং সন্তানদেরও উৎসাহিত করা। বর্তমানে অনেক সামাজিক সংগঠন রয়েছে, যারা বয়সসন্ধিকালীন সময়ে শিশুদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু শিশুদেরকে অনেক ছোটোকালে থেকেই সমাজ গঠনের কাজে অংশগ্রহণ করানো উচিত। ছোটোকাটো থেকেই সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করার ফলে শিশুরা চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব গ্রহণে সাহসী হয়। এটা তাদের পরবর্তী জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। মুসলিম তরুণ সংগঠনগুলো নিম্নোক্ত সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে–
* সামাজিক অনুষ্ঠান পালন
* কুরআন, ইসলামি জ্ঞান, আরবি ভাষা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির ওপর বিভিন্ন আসরের আয়োজন
* খেলাধুলাসইত বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ
* সমাজবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ
* হোমওয়ার্ক তৈরি এবং ক্যারিয়ার বাছাইয়ে যুবকদের সাহায্য
* প্রশিক্ষণ ও লিডারশিপ প্রোগ্রামের আয়োজন করা।
এই সমস্ত সংগঠন চারপাশের সকলের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করতে তরুণদের সাহায্য করে, যা তাদের সামাজিক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেমেয়েরা খুব সহজেই বন্ধুত্ব তৈরি করতে এবং জানতে পারে। বন্ধু গ্রহণের মাধ্যমে তারা চারদিকের বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারে। পিতা-মাতার কর্তব্য হলো–উপযুক্ত বন্ধু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সন্তানদের সহযোগিতা করা। কারণ, বাচ্চাদের আচার-আচরণে বন্ধু-বান্ধবের সাহচর্যের ভূমিকা অনেক বেশি।
পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়া, যাতে তারা নিজেদের সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে। তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু আদায় করার জন্য এটিই উত্তম পদ্ধতি। এক্ষেত্রে সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগে অভিভাবকরা বিরত থাকবে।
উৎসব : প্রত্যেক সমাজের নিজস্ব উৎসব রয়েছে। আমাদের মুসলিমদের দুটি উৎসব বা ঈদ রয়েছে। একটি দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর, অন্যটি আরাফাতের পরের দিন ইবরাহিম আ-এর ত্যাগকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে উদযাপন করা হয়। সমাজের সবাই একত্রিত হয়ে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত করাই এই দুটি সামাজিক উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। ইসলামি বিনোদনের স্বতন্ত্র রকমের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মুসলিম পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো, সন্তানদের কাছে এই সকল উৎসবকে উপভোগ্য করে তোলা। একই সঙ্গে তাদের মাঝে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের অনুভূতি সৃষ্টি করা। এই ক্ষেত্রে পিতা-মাতা নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে পারেন–
* নিজের কর্ম ও গল্পের মাধ্যমে এই দুটি উৎসবের মূল কারণ ব্যাখ্যা করুন।
* ঘরকে সাজিয়ে রাখুন।
* উৎসবের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের দরিদ্রদের উপহার প্রদান করুন।
* ওই দিনকে স্কুল ও চাকরি-বাকরি থেকে মুক্ত রাখুন।
* নতুন পোশাক তৈরি কিংবা ক্রয় করুন।
* ওই দিনের কার্যকলাপের মসজিদে গমন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে সাক্ষাৎ, শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক খেলাধুলাসইত বিভিন্ন মজার কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখুন।
ছুটির দিন : স্কুলের ছুটির দিন আলস্যের জন্য নয়; বরং এটি সন্তান, পিতা-মাতা উভয়কে একসাথে ছুটি উপভোগের একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই সুযোগে কাজে লাগিয়ে পিতা-মাতা যেমন সন্তানদের সাথে কার্যকার সময় কাটাতে পারেন, তেমনি সন্তানও সৃজনশীল কিছু শিখতে পারে। কারণ, এই দিন তারা স্কুল ও হোমওয়ার্কের চাপে ক্লান্ত থাকে না। পিতা-মাতার উচিত পরিকল্পিত উপায়ে এই দিনটি অতিবাহিত করা এবং সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সন্তানদের খুশি ও ব্যস্ত রাখা।
যদি সামর্থ্যবান হন, তাহলে ছুটির দিনে সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন বিখ্যাত জায়গা ঘুরে আসতে পারেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য পরিচিত দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারেন। কারণ, এই সমস্ত স্থান পরিদর্শন করলে আল্লাহর সৃষ্টির মাহাত্ম্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং ব্যস্ততা ও কোলাহলপূর্ণ
শহরে জীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামিক কালচারাল প্রোগ্রাম এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারেন। কারণ, এর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যতা ও শালীন বিনোদন উপভোগ করা যায়।
এ ছাড়াও রাসূল ﷺ-এর পদাঙ্ক অনুসরণের জন্য সন্তানদের নিয়ে উমরাহয় যেতে পারেন। এতে তারা একটি স্মরণীয় ছুটি কাটানোর পাশাপাশি নিজের বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত দেশে ভ্রমণ করার সুযোগ পাবে।
পিতা-মাতা যদি প্রতিনিয়ত সন্তানদের ইতিবাচক ও কল্যাণমূলক কাজে অভ্যস্ত করাতে পারেন, তাহলে এর মাধ্যমে শিশুরা ঘষের বাইরে না গিয়েও অনেক আনন্দ উপভোগ এবং উপযুক্ত শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। ছুটির দিনগুলো যদি ব্যক্তিগত উন্নতি, মানুষের সাথে যোগাযোগমূলক ও সুস্থ বিনোদনময় না হয়, সময়গুলো যদি কেবল টেলিভিশন ও কম্পিউটারের সামনেই কাটে, তাহলে তা মুসলিম অভিভাবকদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


এ অধ্যায়ে আমি সন্তান প্রতিপালনের সেই সব অবশ্যম্ভাবী দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি, যেগুলো মানবজাতির উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত। মুসলিমদের জন্য প্যারেন্টিং শুধু দুনিয়ার জন্যই কল্যাণকর নয়; আখিরাতের মুক্তির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন আমাদের বলে, সন্তান পিতা-মাতার জন্য 'পরীক্ষা' ও আমানতস্বরূপ। পিতা-মাতার মূল দায়িত্ব হলো সন্তানদের ভালোবাসা, যত্ন ও উপযুক্ত শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর উপযুক্ত প্রতিনিধি হিসেবে তৈরি করা।
এই পৃথিবীতে আল্লাহ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাগান পরিচর্যার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের কর্তব্য হলো–যথার্থ পরিচর্যার মাধ্যমে সেই বাগানকে প্রস্তুত এবং সেখানে বাহারি সুগন্ধি ফুল প্রকৃতিও হওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। কার্যকরভাবে সন্তান প্রতিপালনের পালনের অর্থ হলো, সন্তানদের মাঝে বৈশিক, আদর্শিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বানুভূতি তৈরি। পরিবার এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে পিতা-মাতা একটি সুখী, আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। একটি কল্যাণপূর্ণ ও যত্নশীল পারিবারিক পরিবেশ সন্তানের সাথে পিতা-মাতার মজবুত সম্পর্ক তৈরি করে। এর মাধ্যমে
সন্তানরা সমাজের অন্যান্য মানুষদেরও ভালোবাসে। এই ধরনের পরিবেশের প্রভাব মুসলিমদের আচার-আচরণের ওপর প্রতিফলিত হওয়া উচিত, যা ইসলামি সামাজিক জীবনের সারবত্তা।
অনাদিক যে সকল সন্তান বেখেয়ালি ও রূঢ় স্বভাবের পিতা-মাতার কাছে বেড়ে উঠেছে কিংবা অসূয় পরিবেশে গড়ে উঠেছে, তাদের মধ্যে সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি আগ্রহ তেমন জন্মায় না; বরং তারা সমাজের বোঝা। অভাব শুধু সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হয় না; তা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও হতে পারে। আর্থ-সামাজিক বঞ্চনা সমাজে অস্থিতি সৃষ্টি করে। অনৈতিক নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বঞ্চনা তরুণদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে এবং মনুষ্যত্বের পতন ঘটায়। এই পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিও সমাজের উন্নতি সাধন হতে পারে না।
আমি এমন একধরনের পরিবার গঠনের প্রস্তাব পেশ করেছি, যেখানে প্যারেন্টিং হবে ঈমানের ক্ষেত্রে আপসহীন, পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ ও পরিশ্রমী। এর জন্য প্রয়োজন উত্তম কৌশল, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, নিয়মিত সতর্কতা, উদ্যোগ ও দৃঢ় সংকল্প। মায়ের গর্ভে আসার পর থেকেই সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব শুরু হয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া। এই দায়িত্ব জীবনব্যাপী পালন করতে হয়। সন্তান প্রতিপালনের মধ্যে রয়েছে জন্মের পর থেকেই শিশুদের শারীরিক পুষ্টি নিশ্চিত করা, মানসিক সমর্থন দেওয়া, সামাজিকভাবে গড়ে তোলা এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের প্রচেষ্টা চালানো। জীবনের বিভিন্ন পর্যায় সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পিতা-মাতার জন্য একই সাথে চ্যালেঞ্জিং, দুঃসাধ্যসিক, আনন্দদায়ক ও সুখকর। এর প্রতিদানও বিশাল। তা হলো–দুনিয়ায় সফল হওয়ার তৃপ্তি এবং আখিরাতে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00