📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 কঠিন আচরণের মোকাবিলা

📄 কঠিন আচরণের মোকাবিলা


পরিপূর্ণ ইসলামিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও পুরো সমাজের সাথে মানিয়ে নিতে শিশুদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়। কিশোর বয়সে ব্যবহারিক বা আচরণগত ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেলেও নিজ পরিবারে কিন্তু আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। যে ধরনের সমস্যাই হোক না কেন, সন্তানদের সাথে শাসকসুলভ আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিক বা অন্যান্য কারণে তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ওপর ভিত্তি করে পিতা-মাতার উচিত সমস্যাগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা। যেমন:
* মাত্রা
* সময়কাল
* জেদ
সন্তানের আচরণগত সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করব—তা মূলত নির্ভর করে পরিস্থিতি, সন্তান-অভিভাবক সম্পর্ক এবং সন্তানের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতার ওপর। কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পিতা-মাতাকে অবশ্যই রাগান্বিত হওয়া, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং সন্তানদের অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজেদের সমস্যা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে শিশুদের সাহায্য করতে হবে। যেকোনো অবস্থায় তাদের অসম্মান করা কিংবা আত্মসম্মানহীন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাসী সন্তানরা তাদের ভুলের ফলাফল সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকে। তারা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠে নিজেদের পুনর্গঠনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়।
কোনো শিশুর চালচিত্রের আচরণগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য অতিরিক্ত সহনশীলতা প্রয়োজন। কারণ, প্রত্যেক পিতা-মাতারই নিজের সন্তানের ব্যাপারে অনেক বেশি প্রত্যাশা থাকে। সন্তানদের আচরণগত কোনো সমস্যা দেখলে তারা হতাশাও হয়ে পড়েন। কিন্তু আমরা প্রায় ভুলে যাই—'মানুষ মাত্রই ভুল করে।' আমরা আমাদের প্রিয় সন্তানকে সবকিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখতে চাই, কিন্তু আমরা নিজেরাই সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে ব্যর্থ! এই ক্ষেত্রে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।
সন্তানদের মাঝে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণগত সমস্যা দেখা দিলে নিম্নোক্ত ছয়টি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত—

* শান্ত থাকা : কখনো চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করবেন না।
* আত্মবিশ্বাস : অভিভাবক হিসেবে আপনার মাঝে এই সমস্ত বিষয় মোকাবিলার সামর্থ্য রয়েছে—এই বিশ্বাস রাখুন।
* সংগতি : সন্তানরা যেন গ্রহণযোগ্য আচরণে অভ্যস্ত হওয়ার উপায় সম্পর্কে পরিষ্কার ও সংগতিপূর্ণ বার্তা পায়।
* স্বচ্ছতা : সন্তানদের ন্যায়-অন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আবেগকে স্থান দেবেন না। ন্যায়ের ব্যাপারে স্বচ্ছ ও আপসহীন থাকুন।
* নিয়ন্ত্রণ : কখনো রাগান্বিত হবেন না কিংবা জবরদস্তি করবেন না।
* যোগাযোগ : সন্তানের আচরণগত সমস্যা মোকাবিলায় ক্ষেত্রে আপনার জীবনসঙ্গী ও সন্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখুন।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা

📄 সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা


ইসলামি পারিবারিক পরিবেশে সংস্কৃতি ও মাতৃভাষার প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। নিঃসন্দেহে ইসলামি নীতিমালা মুসলিম পরিবার পরিচালনার সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদান করে। সমাজ যতই সেক্যুলার বলুক না কেন, ইসলামে নিষিদ্ধ কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারের জন্য সংগত নয়। মানুষের মাঝে পোশাক, ভাষা, খাদ্য ও সামাজিক প্রথার বৈচিত্র্যতাই মুসলিম উম্মাহর সৌন্দর্য। মৌলিক ইসলামি অনুশাসনই আমাদের বন্ধনকে মজবুত করে।
একটি ইসলামি পারিবারিক পরিবেশে পিতা-মাতার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার চর্চায় কোনো সমস্যা নেই। নিজস্ব সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলাতে ইসলাম কোনো আপত্তি তোলে না, যতক্ষণ না তা ইসলামি অনুশাসনের বাইরে যায়; বরং এটি বহুমাত্রিক সমাজের অপরিহার্য অঙ্গ। এটি এমন এক বৈচিত্র্যময় পরিবেশ তৈরি করে, যা মানবজাতিকে পূর্ণতা দেয়।
কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে আরবি ভাষার জ্ঞান অপরিহার্য। প্রত্যেক শিশুরই পবিত্র কুরআন বোঝার জন্য আরবি ভাষার ওপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা উচিত। সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে মাতৃভাষার অনেক ভূমিকা রয়েছে। আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রে মাতৃভাষার বিকল্প নেই। মাতৃভাষার মাধ্যমে সুগভীরভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো সহজ হয়। মনে রাখতে হবে, মুসলিম সমাজে প্রত্যেকটি ভাষাই সম্মানীয়, ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ। ভাষা মূলত ইসলামি বার্তাই বহন করে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 হালাল ও হারাম

📄 হালাল ও হারাম


আপনার বাড়িটা কত বড় বা আপনার সম্পত্তির পরিমাণ কত—এটা বড়ো প্রশ্ন নয়; বরং যা কিছু ভোগ করা হচ্ছে, তা হালাল কি না—সেটাই বড়ো প্রশ্ন। যখন একটি পরিবার হালালের ওপর ভিত্তি করে চলবে, তখনই শুধু তারা মহান আল্লাহর রহমতের অধিকারী হবে।
আবু হুরায়রা <binary data, 1 bytes> হতে বর্ণিত, রাসুল <binary data, 1 bytes> এরশাদ করেন— 'আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।' মুসনাদে আহমাদ
মহান আল্লাহ এরশাদ করেন— 'ওহে আমার বার্তাবাহকরা! তোমরা হালাল রিজিক গ্রহণ করো, যা তোমাদের রব তোমাদের জন্য হালাল করেছেন (হালাল প্রাণীর গোশত, দুধ, তেল, শাকসবজি ও ফলমূল) এবং সৎকর্ম করো। তোমরা যা করো, তার ব্যাপারে আমি জ্ঞাত।' সুরা মুমিনুন : ৫১
অন্য জায়গায় মহান আল্লাহ বলেন— 'ওহে আমার বিশ্বাসীরা! আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি, তা তোমরা খাও এবং পান করো।' সুরা বাকারা : ১৬২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00