📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 ইসলামিক আদব

📄 ইসলামিক আদব


নির্দিষ্ট সময়ে কিছু আমল করার নাম ইসলাম নয়; বরং ইসলাম হচ্ছে জীবনের পূর্ণাঙ্গ একটা পদ্ধতি, যা একজন ব্যক্তিকে জীবনের প্রত্যেকটা ধাপে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করবে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতেও সাহায্য করে।
কীভাবে খেতে হয়, কীভাবে পান করতে হয়, অন্য মানুষদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়—সবই ইসলামে শেখায়। যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ ইসলামিক আদব মেনে চলে, তখন পুরো সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হয়। সে সমাজ অন্ধকারে বাতিঘরের ন্যায় ঝলঝল করে থাকে, তখন অন্যান্য সমাজ তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়।
একটা শিশুর খাওয়া ও পান করার আদব, খেলাধুলা, কথা বলা সবকিছুই তার পরিবারের পরিচয় বহন করে। একটি সুন্দর চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে কোনো কিছুকে নগন্য মনে করা যায় না। আবূ হাফস উমর ইবনে আবি সালামা রা. বলেন— ‘আমি রাসূল ﷺ-এর ঘরে বড়ো একটি শিশু ছিলাম। যখন আমি খেতে বসতাম, আমার বেখেয়াল হাত প্লেটের চারপাশ দিয়ে ঘুরত। রাসূল ﷺ বলতেন—“আল্লাহর নাম নিয়ে ডান হাতে শুরু করো এবং কাছ থেকে শুরু করো।” তখন থেকে তিনি আমাকে যেভাবে শিখিয়েছেন, সেভাবে আমি খাওয়া চেষ্টা করি।’ বুখারী ও মুসলিম
মুসলমানদের সমাজজীবনে আদব হচ্ছে আবশ্য। আদব ছাড়া মুসলিম সমাজ কল্পনাও করা যায় না। নবুয়ত পাওয়ার পর নবি করিম ﷺ-এর ব্যবহার ছিল চমৎকার। তিনি তাঁর আশপাশের মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দরদি ছিলেন। তিনি খুব সুন্দর ও মোলায়েম ভাষায় কথা বলতেন এবং অন্যদের সাথে ভালো ব্যবহার করার শিক্ষা দিতেন। এর জন্য তিনি কোনো প্রকার বিনিময় গ্রহণ করতেন না। তাই সাধারণতা তাঁকে অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে বড়ো সফলতা।
ইসলামে আদবের যে অপরিহার্য উপাদানগুলো প্রতিটি অভিভাবকের শেখা এবং সন্তানদের শেখানো উচিত, তা হলো—
অভিভাবন: কীভাবে অন্য একজন মুসলিম বা অমুসলিমকে অভিবাদন জানাবে, কে প্রথমে কাকে সালাম দেবে এবং কীভাবে একজন সালামের জবাব দেবে ইত্যাদি বিষয়গুলো সন্তানদের উত্তম উপায়ে শেখানো উচিত।
অনুমতি: অন্য কারও রুমে কিংবা বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কীভাবে অনুমতি দিতে হয়, তা বাচ্চাদের শেখাতে হবে।
কথা বলা: কীভাবে নিজ স্বরে কথা বলবে এবং বড়োদের ইজ্জতের সাথে সম্বোধন করবে। প্রতিদিন কথা বলার ক্ষেত্রে কোন কোন ভালো শব্দগুলো চয়ন করবে। কথা বলার সময় কোন পরিস্থিতিতে ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ প্রভৃতি ইসলামিক শব্দগুলো চয়ন করবে।
অধিকার রক্ষা: যত ছোটোখাটো অধিকারই হোক কেন, অভিভাবকদের পূরণ করা কর্তব্য। সন্তানদের সাথে তাদের কখনোই এমন ওয়াদা করা উচিত নয়, যা তারা পূরণ করতে পারবেন না। এমনটি হলে তাদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে, যা সন্তানদের মিথ্যার দিকে উৎসাহিত করবে। সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে—কোনো বিষয়ে ওয়াদা করলে তা অবশ্যই পূরণ করতে হয়; তা যত ছোটোখাটো হোক না কেন।
সময়ানুবর্তিতা: অভিভাবকদের উচিত তাদের প্রত্যেকটা কাজ সময়মতো করা: তা হতে পারে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, নামাজ পড়া অথবা কোনো দাওয়াতও অংশগ্রহণ করা। এতে সন্তানরাও পিতা-মাতার সাথে সাথে তাদের কাজগুলো সময়মতো করার উৎসাহ পাবে।
খাওয়া ও পান করা: একটা পরিবারের জন্য এটা খুব ভালো অভ্যাস যে, প্রতি বেলা খাবারের শুরুতে ও শেষে দুয়া পাঠ করে খাবে। শুধু হালাল খাবারই নয়; বরং সুষম খাদ্য গ্রহণও অত্যন্ত হতে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে—তারা কীভাবে খাবে এবং পান করবে। দাঁড়িয়ে বা রাস্তায় হেঁটে খাওয়া পরিহার করতে হবে।
ভালো আচরণ: দৃষ্টি নত রাখা, হাসি মুখে থাকা, হাঁটার ক্ষেত্রে নম্রতা ইত্যাদি; যখন অন্য কোনো ব্যক্তি মুখে থাকে, তখন একজনের সাথে ফিসফিস করে কথা না বলা, কোনো কিছু শেয়ার করা, অন্য কারও বিপদে হাসাহাসি না করাই একজন মুসলিমের চরিত্র। এই বিষয়গুলো সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে।
এর মধ্যে অনেক কিছু আছে, যা খুবই সহজ এবং আমরা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে তা খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পারি।
পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: অনেক ইবাদতের প্রথম শর্ত হচ্ছে পবিত্রতা। যেমন: নামাজ, কুরআন স্পর্শ করা ইত্যাদি। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
'نِقْهَرُ مَيَّتَا مَهِّمَاهُ فِفْرَانَ وَلَا الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَطْهَارَ إِنَّ اللهَ يَشْغَلُ بِهِمْ خَيْرًا وَلَا يَمَسَّهَا'
নিশ্চয় এটা মহিমান্বিত কুরআন, যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে। যারা সম্পূর্ণ পবিত্র, তারা ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না।' সূরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯
আল্লাহ নিজে পবিত্র এবং তিনি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতাকে ভালোবাসেন। 'আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং তাদেরও, যারা নিজেদের পবিত্র রাখে।' সূরা বাকারা: ২২২
অজু পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম পদ্ধতি। রাসূল ﷺ বলেন—
'সালাত বেহেশতে চাবি আর অজু সালাতের চাবি।' তিরমিযি: ৪
আমরা কুরআন-হাদিস থেকে অজুপ্রীতি ও বাহ্যিক পবিত্রতার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারি, যা ঈমানের বড়ো একটি অংশ এবং এটা একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাবিত করে।
শারীরিক পবিত্রতার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি সর্বদা নজর দিতে হবে—
* গোসল শারীরিক পবিত্রতা অর্জনের প্রধান মাধ্যম। গোসল ফরজের কারণ এবং ফরজ গোসলের পদ্ধতি বাচ্চারা একটু বড়ো হওয়ার সাথে সাথেই শেখাতে হবে। বাচ্চাদের যদি শুক্রবার সকালে গোসল দেওয়া হয়, তবে তা অনেক ভালো। এতে শুধু কীভাবে গোসল করতে হয় তা-ই শেখাবে না; বরং জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে তারা জানতে পারবে।
* অজু পবিত্রতা অর্জনের দ্বিতীয় পদ্ধতি। সর্বদা অজু অবস্থায় থাকা খুবই ফজিলতপূর্ণ একটি কাজ। এটা দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে মনে আধ্যাত্মিক শক্তি জোগায়। জীবনের শুরুতেই সন্তানদের অজুর নিয়ম শিক্ষা এবং অজু অবস্থায় থাকতে উৎসাহ দিতে হবে। এক্ষেত্রে পানির পর্যাপ্ত ব্যবহার ও অপচয় রোধে তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়াও জরুরি।
* হাতের নখ থাকবে ছোটো ও পরিষ্কার। ছেলে বাচ্চাদের চুল ছোটো করে কাটাতে হবে। আর ছেলেমেয়ে সবার চুল পরিষ্কার রাখার শিক্ষা দিতে হবে। নিয়মিত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়তে হবে। বাচ্চাদের সব সময় পরিষ্কার কাপড় পরানো অভিভাবকদের কর্তব্য।
বাড়ির পরিবেশ বাচ্চাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। তাই বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে হবে। যে বাড়িতে খাবারের জিনিস থাকে এলোমেলোভাবে পড়ে থাকে, ময়লা জামা-কাপড়ের বাক্স জায়গামতো থাকে না এবং কাগজপত্র যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে, সে বাড়ি কখনো সুন্দরভাবে বসবাস কিংবা ইবাদত-বন্দেগির জন্য যথোপযুক্ত নয়। এটা বলার সুযোগ নেই, বাড়িরঘরের সবকিছু গুছিয়ে রাখা সব সময় মায়ের দায়িত্ব। একটি পরিবারে গুছিয়ে রাখা পরিবারের সকল সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
লজ্জা : লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লজ্জা মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্যও বটে। সৃষ্টির প্রথম মানুষদ্বয় নিজেদের শরীর আবৃত করার মাধ্যমে তাঁদের সহজাত প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ করেছিলেন। নিচের হাদিসগুলোতে লজ্জা সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে—
'ঈমানের ৭০টিরও বেশি শাখা রয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে লজ্জা।' সহিহ বুখারি
'অশ্লীলতা সবকিছুকে বিকৃত করে, আর হায়া বা লজ্জা সবকিছুকে আকর্ষণ করে।' তিরমিযি
লজ্জাহীনতা সমাজ খুব দ্রুত যৌনতাচার ছড়ায়। তাই আমাদের উচিত সন্তানদের ঘর থেকেই লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। কিছু পন্থা আছে, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা সন্তানদের হায়া বা লজ্জাবোধ শেখাতে পারি—
* ১০ বছর বয়সেই সন্তানদের বিছানা আলাদা করে দিন। আর যৌবনে পা দিলেই ছেলে ও মেয়ের জন্য আলাদা বেডরুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
* পরিবারের সকল সদস্যকে আরেকজনের রুমে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে প্রবেশের শিক্ষা দিতে হবে।
* পরিবারের সদস্যদের উচিত একে অপরের সামনে কাপড় পরিধান কিংবা খোলা থেকে বিরত থাকা। পরিবারের সকলের জন্য পোশাক পরিধানের নীতিমালা প্রয়োজন। পরিবারের সবাই যদি মাহরাম হয়, তাদের ক্ষেত্রে পর্দার বিধান কার্যকর নয়। তবে সবাই যেন নিজের সতরের থেকে পোশাক পরে-এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
* সাত বছরের ওপরের শিশুরা যেন একসঙ্গে গোসল না করে, যদিও তারা সমলিঙ্গের হয়।
* কারও সাথে অশ্লীল আলোচনা থেকে যেন বিরত থাকে। কোনো ধরনের অশ্লীল মুভি কিংবা প্রোগ্রাম দেখায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে। বর্তমান সময়ে সকল প্রকার মিউজিকের বিশাল এক অংশ শালীনতা থেকে বহু দূরে। কোনো মুসলিম পরিবারে যেন এই ধরনের মিউজিকের অনুমতি না থাকে, সাইয়েদকে খেয়াল রাখতে হবে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 শ্রবণের নীতিমালা

📄 শ্রবণের নীতিমালা


শিশুরা কথা বলার সময় অযৌক্তিকভাবে কথা পুনরাবৃত্তি করে। মাঝেমধ্যে তারা এমন কথা বলে, যার পরিষ্কার কোনো অর্থ নেই। এভাবেই তারা অন্যদের সাথে মেলামেশা করতে শিখে। তাদের কথা শোনার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অধিক ধৈর্যের প্রয়োজন। নিষ্পত্তাদ্বারে কারও কোনো কিছু গ্রহণ করার দক্ষতা এক বড়ো গুণ। মানুষের মধ্যে অধিক কথার এবং কম শোনার প্রবণতা বেশি। তবে আমাদের দুই কান এবং এক মুখের পেছনের প্রজ্ঞাকে আচরণের মাধ্যমে প্রতিফলিত করতে হবে।
সক্রিয়ভাবে শ্রবণ করার অর্থ হলো—কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তা বোঝার চেষ্টা করা। আপনি যখন কারও কথা সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারবেন, তখন সে অনুযায়ী কাজ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। অবুঝ সন্তানরা কোনো ধরনের সহমর্মিতা চাচ্ছে কি না, কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সাহায্য চাচ্ছে কি না, কারও আলিঙ্গন প্রত্যাশা করছে কি না অথবা কথা বলার জন্য কাউকে পাশে চাচ্ছে কি না, সেদিকে পিতা-মাতাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
পিতা-মাতা যখন সন্তানদের কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে, তখন তাদের মধ্যে এই ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়—পিতা-মাতার কাছে তাদের কথার কিছুটা হলেও মূল্য রয়েছে। এটি তাদের পিতা-মাতার কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করারও শিক্ষা প্রদান করে। মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ। তিনি যখন কারও কথা শুনতেন, তখন পূর্ণ মনোযোগ সহকারে শুনতেন। তিনি বাবার দিকে তাকিয়ে কথা শুনতেন এবং নিজ শরীরকে তাঁর দিক ফিরিয়ে নিতেন। এটি প্রকৃতপক্ষে শিশুদের অন্যদের মূল্যায়ন করার প্রশিক্ষণ দেয়। পাশাপাশি তা তাদের চারপাশের মানুষের সাথে আরও বেশি করে মেলামেশায় অত্যন্ত শুভ ফল দেয়।
উত্তর দেওয়ার সময় পিতা-মাতার কর্তব্য হলো—সন্তানদের সাথে সুন্দর উপায়ে অর্থপূর্ণ কথা বলা, যাতে তারা তা বুঝতে পারে। রাসূল ﷺ একজন মনোযোগী শ্রোতা এবং উত্তম বক্তা ছিলেন।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন—
'রাসূল ﷺ এমন পরিষ্কারভাবে কথা বলতেন, যাতে শ্রোতারা তাঁর কথা পুরোপুরি বুঝতে পারতেন।' আবু দাউদ
ওই সমস্ত পরিবার সুখী হয় এবং কম হতাশায় ভোগে, যেখানে সবাই সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। কারণ, তখন পরিবারের সবার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়, তারা প্রত্যেকে নিজেদের কথাগুলো উপস্থাপনা করতে পারে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 সংযম

📄 সংযম


পিতা-মাতার দায়িত্ব হচ্ছে শিশুদের সাথে উপযোগী আচরণ করা এবং তাদের সামর্থ্যের বাইরে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা। আমাদের কমবেশি তাৎক্ষণিক ফলাফলের আশা করা ঠিক নয়। কারণ, সন্তানদের লালন-পালন এক দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ। আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় আখিরাতে যার ফলাফল প্রত্যাশা করি।
'আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।' সূরা বাকারা : ২৮৬
আমাদের মুসলিমদের জীবনযাপনে অর্থ, সময় ও শক্তি-সামর্থ্য ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
'নিজের হাত গলায় বেঁধে রেখো না এবং তাকে একেবারেই খোলাও ছেড়ে দিও না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অক্ষম হয়ে যাবে।' সূরা বনি ইসরাইল : ২৯
'তারা যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং উভয় প্রান্তিকের মাঝামাঝি তাদের ব্যয় ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।' সূরা ফুরকান : ৬৭
রাসূল ﷺ বলেন—
'উত্তম আচরণ, স্থিরতা ও মধ্যমপন্থা নবুয়তের ২৫ ভাগের ২৯ ভাগ।' আবু দাউদ ও তিরমিযি
'রাসূল ﷺ-কে যখন দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি বিষয় পছন্দ করার কথা বলা হতো, তখন তিনি তুলনামূলক সহজটিকে বাছাই করে নিতেন; যতক্ষণ না সেটি অবৈধ কোনো কিছু হতো। নিষিদ্ধ কিছু হলে তিনি তা গ্রহণ করতেন না।' বুখারি

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 কঠিন আচরণের মোকাবিলা

📄 কঠিন আচরণের মোকাবিলা


পরিপূর্ণ ইসলামিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও পুরো সমাজের সাথে মানিয়ে নিতে শিশুদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়। কিশোর বয়সে ব্যবহারিক বা আচরণগত ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেলেও নিজ পরিবারে কিন্তু আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। যে ধরনের সমস্যাই হোক না কেন, সন্তানদের সাথে শাসকসুলভ আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিক বা অন্যান্য কারণে তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ওপর ভিত্তি করে পিতা-মাতার উচিত সমস্যাগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা। যেমন:
* মাত্রা
* সময়কাল
* জেদ
সন্তানের আচরণগত সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করব—তা মূলত নির্ভর করে পরিস্থিতি, সন্তান-অভিভাবক সম্পর্ক এবং সন্তানের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতার ওপর। কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পিতা-মাতাকে অবশ্যই রাগান্বিত হওয়া, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং সন্তানদের অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজেদের সমস্যা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে শিশুদের সাহায্য করতে হবে। যেকোনো অবস্থায় তাদের অসম্মান করা কিংবা আত্মসম্মানহীন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাসী সন্তানরা তাদের ভুলের ফলাফল সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকে। তারা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠে নিজেদের পুনর্গঠনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়।
কোনো শিশুর চালচিত্রের আচরণগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য অতিরিক্ত সহনশীলতা প্রয়োজন। কারণ, প্রত্যেক পিতা-মাতারই নিজের সন্তানের ব্যাপারে অনেক বেশি প্রত্যাশা থাকে। সন্তানদের আচরণগত কোনো সমস্যা দেখলে তারা হতাশাও হয়ে পড়েন। কিন্তু আমরা প্রায় ভুলে যাই—'মানুষ মাত্রই ভুল করে।' আমরা আমাদের প্রিয় সন্তানকে সবকিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখতে চাই, কিন্তু আমরা নিজেরাই সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে ব্যর্থ! এই ক্ষেত্রে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।
সন্তানদের মাঝে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণগত সমস্যা দেখা দিলে নিম্নোক্ত ছয়টি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত—

* শান্ত থাকা : কখনো চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করবেন না।
* আত্মবিশ্বাস : অভিভাবক হিসেবে আপনার মাঝে এই সমস্ত বিষয় মোকাবিলার সামর্থ্য রয়েছে—এই বিশ্বাস রাখুন।
* সংগতি : সন্তানরা যেন গ্রহণযোগ্য আচরণে অভ্যস্ত হওয়ার উপায় সম্পর্কে পরিষ্কার ও সংগতিপূর্ণ বার্তা পায়।
* স্বচ্ছতা : সন্তানদের ন্যায়-অন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আবেগকে স্থান দেবেন না। ন্যায়ের ব্যাপারে স্বচ্ছ ও আপসহীন থাকুন।
* নিয়ন্ত্রণ : কখনো রাগান্বিত হবেন না কিংবা জবরদস্তি করবেন না।
* যোগাযোগ : সন্তানের আচরণগত সমস্যা মোকাবিলায় ক্ষেত্রে আপনার জীবনসঙ্গী ও সন্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00