📄 পড়ার গুরুত্ব
একটা অভ্যাস ছোটোবেলা থেকেই আমাদের সন্তানদের মাথায় গেঁথে দিতে হবে, তা হচ্ছে—বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং বই পড়ার অভ্যাস। এটা হচ্ছে একটা জাতির সফলতার সূচক এবং সভ্যতার নির্দেশক। একটি শিক্ষিত সমাজ শুধু তাদের সমস্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও পথ দেখায়।
‘বই’ শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার উপাদান নয়; বরং এটি উপভোগ ও বিনোদনেরও উৎস। এটি শিশুর মাথায় নতুন পৃথিবীর সন্ধান দেয়, যেখানে সে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যায়। একটা ভালো বই পাঠকের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ জোগায়। চিন্তা করার সক্ষমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও গোঁড়ামিকেও তৈরি করে। যখন আমরা পড়ি, তখন অনেক বেশি সচেতন হই। কেননা, বই পড়ার মাধ্যমে আমরা অন্য একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও মতামত জানতে পারি। এটি আমাদের চিন্তার জগৎকে শাণিত করতে এবং আমাদের উদ্দেশ্যাবলিকে আরও বড়োটা করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বই আমাদের এবং আমাদের বাচ্চাদের জীবনের সাথী হওয়া উচিত। প্রত্যেক অভিভাবকের কর্তব্য হলো—সন্তানদের ছোটোবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা। প্রত্যেকটি মুসলিম পরিবারের উচিত বাসায় বই রাখা এবং সুস্থ হলে ছোটো আকারের একটি লাইব্রেরিও গড়ে তোলা। যখন শিশুরা সহজে হরেক রকমের মজাদার এবং চিন্তা-ভাবনা উদ্দীপক বই দেখবে, তখন তারা নিজ থেকেই তা পড়া শুরু করবে। এতে তাদের চিন্তার স্তর উন্নত হবে।
📄 অভিভাবক-স্কুল পার্টনারশিপ
পিতা-মাতা সন্তানদের ভালোভাবে জানেন, কিন্তু বাচ্চাদের শিক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা সব সময় তাদের থাকে না। আবার শিক্ষকদের শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা থাকে, কিন্তু তারা বাচ্চা সম্পর্কে পিতা-মাতার চেয়ে বেশি জানেন না। তাই এক্ষেত্রে বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
এটা অপরিহার্য, পিতা-মাতা প্রশ্ন করার মাধ্যমে বাচ্চা থেকে জেনে নেবে—সে আজ সারাদিন স্কুলে কী কী করেছে। কিছু বাচ্চা আছে যারা খুব সহজেই সবকিছু বিস্তারিত বলতে পছন্দ করে। আবার কিছু আছে, যাদের থেকে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে বা প্রশ্ন করার মাধ্যমে জেনে নিতে হয়। পিতা-মাতা যদি যথেষ্ট সময় ও মনোযোগের সাথে তাদের কথা শোনেন, তবে তারা নিজের স্কুল অভিজ্ঞতা
অভিভাবকদের সাথে শেয়ার করতে আগ্রহী হবে। পিতা-মাতা উচিত সন্তানদের সকল ভালো কাজ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করা। তাদের প্রত্যেকটি এটা তাদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়াবে।
পিতা-মাতা উভয়েরই উচিতো মাধ্যমেও শিক্ষকদের সাথে বসে নিজ চোখে বাচ্চাদের ক্লাসওয়ার্ক দেখা। যদি বাচ্চাদের পড়াশোনা অথবা তাদের সঠিক উন্নতির ব্যাপারে কোনো কারণে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়, তবে দ্রুত প্রাসঙ্গিক কোনো শিক্ষককে এই ব্যাপারে অবহিত করতে হবে। শিক্ষকদের ভালোভাবে মান্য করার জন্য স্কুল ও বাড়ির মধ্যে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক থাকতে হবে। অনেক স্কুল আছে, যারা বিভিন্ন জরিপ ও প্রশ্নমালার মাধ্যমে অভিভাবকদের স্কুলের কাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত করে, এমনকি কোনো কোনো জায়গায় তাদের গভর্নিং বডিতেও রাখেন। এ সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য হলো—পিতা-মাতা যেন সন্তানদের পড়াশোনায় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য গঠনমূলক মন্তব্য করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতে পারেন। পেছনে বসে একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা বা অপ্রসন্ন প্রকাশ করা ইসলামে অপছন্দনীয়।
পিতা-মাতার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো—সন্তানকে যেখানে দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপারে ভালো জ্ঞান রাখা। স্কুলে সম্প্রতি কী কী ঘটেছে, স্কুলের কারিকুলাম এবং স্কুলের শক্তির জায়গা এবং দুর্বল দিক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। প্রতিষ্ঠানে মতামত ব্যক্ত করা কিংবা চিন্তা-বিনিময়ের ক্ষেত্রে বিনয়ের সাথে, এমনকি প্রয়োজনে দৃঢ় হওয়া উচিতো। স্কুল অপরিবর্তনশীল জায়গা নয়; সেখানে দশকে পর দশকে একই বিষয় পড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়।
শিশুদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেড়ে উঠা নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্ক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক শিক্ষাবিদগণ সব সময় বাচ্চাদের জন্য বাড়ির পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানিক পরিবেশের মিলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্কুলের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক একটি শিশুর স্কুলে পারফরমেন্সের উন্নতি এবং তার আচার-ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অভিভাবক ও শিক্ষক সংঘ, পিতা-মাতার সাথে মিটিং ইত্যাদি সমন্বিত প্রচেষ্টা অভিভাবকদের সাথে স্কুলের শক্তিশালী যোগসূত্র তৈরি করে, যা শিশুর জন্য অনেক কল্যাণ বয়ে আনে। ইসলাম একটি শিশুর পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটি নিরাপদ বসবার পরিবেশ, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকে।