📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 প্রাথমিক স্কুল বাছাই

📄 প্রাথমিক স্কুল বাছাই


এই বয়সে সন্তানরা কী উপায়ে শিক্ষা অর্জন করবে, তা বাছাই করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এটা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। সুতরাং ধীরে-সুস্থে, চিন্তা-ভাবনা করে این ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দেরি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য চারটি বড়ো ধরনের অপশন রয়েছে—

* সরকারিভাবে পরিচালিত স্থানীয় স্কুল
* প্রাইভেট স্কুল
* ইসলামিক স্কুল এবং
* হোম স্কুলিং।
সাধ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী পছন্দসই যেকোনো স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করান। মাঝেমধ্যে সন্তানরা কোন পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং তাদের মূল্যায়ন সাত ঘণ্টা কোন পরিবেশে ব্যয় করছে—তা দেখার উদ্দেশ্যে স্কুল ভিজিট করুন। স্কুলের শিক্ষক ও অন্যান্য স্টাফরা কী ধরনের আচার-আচরণে অভ্যস্ত, তা জানার জন্য স্কুল ভিজিটের কোনো বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় লক্ষ রাখা উচিত, সেগুলো হলো—শ্রেণিকক্ষের আকার এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা, শ্রেণিকক্ষের অবস্থা এবং বিনোদন স্থান, শিক্ষাদানে শিক্ষকদের আগ্রহ, স্কুল স্টাফদের আচরণ, পাঠদান এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানের গৃহীত পদক্ষেপ ইত্যাদি।
স্কুল নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত—

* প্রাইভেট স্কুলের ব্যয় কি বহন করা সম্ভব?
* আশপাশের এলাকায় কোন স্কুল রয়েছে?
* স্কুলগুলো কোন ধরনের নীতি ও সংস্কৃতি ধারণ করে?
* স্কুলের ডেমোগ্রাফি কী ধরনের?
* ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গী কীরকম?
* শিক্ষক ও অন্যান্য স্টাফের আচরণ কী ধরনের?
* সেখানে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়?
* স্কুলের ব্যাপারে পরিদর্শন রিপোর্ট প্রতিবেদন, শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকের মন্তব্য কী?
* স্কুলের এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস কতটুকু মানসম্মত?
* আপনি কি মনে করেন, আপনার সন্তানের জন্য উক্ত স্কুল উপযুক্ত?

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 স্কুলজীবনের শুরু

📄 স্কুলজীবনের শুরু


স্কুলজীবনের শুরুটা শিশুদের জন্য খুবই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের স্বাধীন শেখার জীবনের শুরু হয়। স্কুলে তারা নানা ধরনের শিক্ষা এবং অনেক বন্ধু তৈরির সুযোগ পায়। কিছু কিছু শিশু স্কুলজীবনের শুরুতে একা একা শাহজাদের সাথে স্কুলে যাওয়াকে উপভোগ করে। আবার কিছু শিশু ভয় পায়। অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে স্কুলের এই কাঠামোগত নিয়মকানুন এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য পিতা-মাতা থেকে বা পরিবেশের বাইরে থাকায় অভ্যস্ত হতে সময় লাগে। তারা সময়মতো নিজেদের ভয় ও বিরক্তি প্রকাশ করতে পারে না, যা তাদের আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন নিয়ে আসে। সেখানে তাদের আরও বেশি কান্না, অস্থিরতা, আঙুল চোবা ইত্যাদি বিষয় দেখা দেয়।
এই সময়টা অভিভাবকদের কাছে খুবই কঠিন একটি সময়। কেননা, কোনো পিতা-মাতা এই সন্তানকে অনুসুখী দেখতে চায় না। শিশুদের এমন আচরণগত পরিবর্তনের জন্য তাদের কোনো শাস্তি কিংবা বকাঝকা করা উচিত নয়। কারণ, এতে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। বাবা-মায়ের উচিত হলো—স্কুলের সাথে আলাপ করে ছেলেমেয়েদের স্কুলের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করা। যত্ন ও সংবেদনশীলতা প্রয়োগ করলে এ সময়টা খুব দ্রুত পার হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 প্রাইমারি স্কুলে কিছু সমস্যা

📄 প্রাইমারি স্কুলে কিছু সমস্যা


প্রাইমারি স্কুলে সাধারণত কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়। এর মধ্যে কিছু সমস্যার জন্য হয় স্কুল থেকে। তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক কোনো আচরণ দেখা দেওয়ার আগেই অভিভাবকদের এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
ক. স্কুলভীতি : নতুন কিছুতে ভয় পাওয়া মানবীয় চরিত্রের একটি সহজাত বিষয়। শিশুদের মধ্যে কিছু সাধারণ ভয় কাজ করে, যা কম সময়ই থাকে। কিন্তু এ সময়টা অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। কিছু শিশু কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই স্কুলে যেতে চায় না। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার কর্তব্য হলো—আগে কারণ নির্ধারণ করা। অর্থাৎ সে কি ক্লাসের শিক্ষক কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় কারণে যেতে চায় না, নাকি এর পেছনে কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা জড়িত, নাকি শিক্ষক মনের ভয়। অনেক সময় শিশুরা মায়েদের থেকে দূরে থাকার কারণে দুশ্চিন্তায় ভোগে। নির্দিষ্ট কারণ আছে এবং সময় ও ধৈর্যের ব্যাপার। কেননা, বসের স্তর দ্বারা কারণ অনেক সময় শিশুরা তাদের মনের আবেগো ভালোভাবে ব্যক্ত করতে পারে না। কারণ যাই হোক, পিতা-মাতার উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, তাদের প্রচুর ভালোবাসা ও আশ্বাস দেওয়া। শিক্ষকদের সহয়তা নিয়ে সঠিক কারণ নির্ধারণ করা এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
খ. হেনস্তার শিকার (Bullying) : কিছু বাচ্চা আছে, যারা প্রচুর হইচুল্লোড় ও আনন্দ করতে ভালোবাসে; বিশেষ করে খেলার মাঠে। কিছু আছে নির্জনবাসী, আবার কিছু আছে দুরন্ত। যারা কোলাহল সৃষ্টি করে, তাদের কেউ কেউ আক্রমণাত্মকও হতে পারে। তারা অন্যান্য শিশুদের হেনস্তা করে। বিশেষ করে তারা কোনো নিরীহ শিশু পেলেই হেনস্তা করার পায়তারা করে। এটি মৌখিক, মানসিক কিংবা শারীরিক যেকোনো ধরনের হতে পারে। হেনস্তার শিকার শিশুরা স্কুলে যেতে এমনকী বড়োদের সাথে কথা বলতেও অনায়াসে প্রকাশ করে। যদি অভিভাবকগণ এ রকম কোনো লক্ষণ শিশুদের মাঝে দেখতে পায়, তাহলে তাদের উচিত দ্রুত স্কুলে গিয়ে এর সমাধানে শিক্ষকদের সাথে কথা বলা।
গ. আত্মসম্মানবোধের সংকট: প্রত্যেক মানুষের জীবনে আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষকে জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শক্তি যোগায়। সন্তানদের আত্মসম্মানবোধ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অবদান সবচেয়ে বেশি। পিতা-মাতা যদি তাদের স্নেহ করে, তাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে, তাদের অর্জনগুলোর স্বীকৃতি দেয়, তাহলে বাচ্চাদের আত্মসম্মানবোধ বাড়ে। অন্যদিকে তারা যদি পিতা-মাতা থেকে সব সময় নেতিবাচক ও খারাপ আচরণ ও চাহনি পায়, তাহলে তাদের আত্মসম্মানবোধ কমে যায়।
কিছু বাচ্চা আছে অনেক বেশি লাজুক। তাদের লজ্জাবোধের ২ টি কারণ হতে পারে–
১. শালীনতা
২. আক্রান্তিকতা
এর মধ্যে শালীনতাকে ইসলাম শুধু পছন্দই করে না; বরং উৎসাহ দেয়। অন্যদিকে আক্রান্তিকতা হলো আত্মবিশ্বাসদের সম্পূর্ণ বিপরীত। একজন মুসলিমের কখনোই আক্রান্তিকতা হওয়া উচিত নয়। আত্মবিশ্বাসহীন শিশুরা পরনির্ভরতাওয় ও ভোগে। তাই শিশুদের থেকে আক্রান্তিকতা দূর করতে হবে।
ঘ. আচরণগত সমস্যা: বাচ্চারা সাধারণত চায় তাদের আশপাশের মানুষগুলো সব সময় তাদের অনেক ভালোবাসুক, তাদের ভালোবাসাকে গ্রহণ করুক, তাদের সাথে সংবেদনশীল আচরণ করুক বা ভালো কথা বলুক। যদি কোনো কারণে তারা মনে করে, তাদের পিতা-মাতা বা শিক্ষকরা তাদের মূল্যায়ন করছে না, তাহলে তারা নিজেদের প্রত্যাখ্যাত মনে করে। পিতা-মাতা যদি অনবরত নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করতে থাকে বা কথা কাটাকাটি করতে থাকে,
তাহলে বাসার বা পরিচিতি জীবনে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। শিশুরা এসব সমস্যার জন্য নিজেদের দোষী মনে করে এবং হীনম্মন্যতায় ভোগে।
কিছু বাচ্চার মধ্যে খারাপ সামাজিক আচরণও লক্ষ করা যায়। তারা বিভিন্ন নিয়মকানুন ভঙ্গ করে এবং দুশ্চিন্তা থেকে বেঁচে থাকতে চায়। আবার কিছু শিশু সমাজ থেকে নিজেদের আলাদা করে, শিশুসুলভ আচরণ থেকে দূরে থেকে এবং সবসময় থেকে বাঁচতে চায়। এ প্রক্রিয়া হালকা কিংবা তীব্রও হতে পারে। যেসব বাচ্চা সবার সাথে খারাপ সামাজিক আচরণ করে, তারাই নীরবে কষ্ট ভোগে। পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের অবশ্যই শিশুদের আচরণগত পরিবর্তনের দিকে লক্ষ রাখা উচিত। দ্রুত খুঁজে বের করা দরকার, এই পরিবর্তন কি বাসার পরিবেশের কারণে হচ্ছে, নাকি স্কুলের পরিবেশের কারণে। শিশুদের আশ্বস্ত করতে হবে, এটা তাদের সমস্যা না। ধৈর্যের সাথে তাদের ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান করা দরকার। যখন শিশুরা অনুভব করে, নির্ভরযোগ্যোরা তাদের কথা শোনে এবং তাদের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করে, তখন তারা চরম ব্যবহার থেকে আস্তে আস্তে দূরে আসার চেষ্টা করে।
ঙ. প্রতিভার জন্য চ্যালেঞ্জ : বড়ো হওয়ার সাথে সাথে স্পষ্ট হতে থাকে, শিশুরা সাধারণ প্রতিভাবান নাকি অস্বাভাবিক প্রতিভাবান; তারা সহজেই বুঝতে পারে, নাকি আলাদা যত্নের দরকার পরে? বাচ্চারা যদি অস্বাভাবিক প্রতিভাবান হয়, তাহলে সাধারণত পিতা-মাতা তাদের নিয়ে গর্ব করে। তবে, মেধাবী বিষয় সব বিষয়েই তারা পারদর্শী হবে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো— সব শিশু প্রতিভাবান হলেই সামাজিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ক হয় না। এটি একটি বড়ো সমস্যা। ছোটোবেলা থেকেই বাচ্চাদের ভালো ফলাফলের দিকে নজর দিয়ে অভিভাবকগণ পিতা-মাতাই বাচ্চাদের অনুভূতিসংক্রান্ত বা মনস্তাত্ত্বিক চাহিদার কথা ভুলে যান। তারা ভুলেই যান, বাচ্চাদের সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সবদিক থেকেই তৈরি করা পিতা-মাতার একটি বড়ো দায়িত্ব। শিশুরা অনেক বুদ্ধির অধিকারী হতে পারে, তাই বলে পিতা-মাতার উচিত নয় তাদের এই মেধাকে অসৎ কোনো কাজে ব্যবহার করা; বরং তাদের পরিকল্পনা করা দরকার, কীভাবে শিশুর এই প্রতিভা কল্যাণকর কাজে লাগানো যায়।
অনেক অভিভাবক সন্তানদের ছোটোবেলা থেকেই নানান কথা বলে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। যেমন: ‘তোমাকে এ অর্জন করতে হবে, তোমাকে ক্লাসে প্রথম হতে হবে, ওই বাচ্চার চেয়ে বেশি অর্জন করতে হবে’ ইত্যাদি।
এসবের দ্বারা পিতা-মাতার উদ্দেশ্য হলো অন্যান্যদের সামনে গর্ব করা। কিন্তু একজন মুসলিমের জীবনের সফলতা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় ভালো হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের প্রতিজ্ঞা সমাজে কিংবা সাধারণ মানুষের কতটুক কাজ লাগে–এটাও সফলতার জন্য বিবেচ্য বিষয়।
১৯৯০ দশকের শেষ পর্বে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিশ্বয় বালিকা সোফিয়া ইউসুফের কথা স্মরণ করা যায়। অল্প বয়সইে তার খ্যাতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার জীবনের বিপদগুলো একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। শিশু বয়সকে উপভোগ করার পরিবর্তে তাকে সে সময় মিডিয়া ও পরিবারের চাপ সামলাতে হয়েছিল। এখন সারা বিশ্বের সব শিক্ষাবিদ একমত– শিশু যত জ্ঞানী বা প্রতিভাবান হোক না কেন, তাদের কোনো বিষয়ে এমন চাপ দেওয়া উচিত নয়–যা তার শৈশব জীবনের আনন্দ-উপভোগকে নষ্ট করে দেয়।
চ. শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা : কিছু শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুলে অতিরিক্ত যত্নের দরকার পড়ে। কারণ, শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে তারা কিছু সমস্যার মধ্যে থাকে। এতে আপাত দৃষ্টিতে তাদের অপরিষ্কার মনে হয়। এটা তাদের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের উচিত বাচ্চাদের স্কুলজীবনের শুরুতেই এই ধরনের সমস্যা সতর্কতার সাথে চিহ্নিত করা।
সাধারণত নিচের সমস্যাগুলোর কারণে অপরিপক্ক মনে হতে পারে—
শারীরিক সমস্যা: সুস্থ শরীর শিশুর কার্যকর উপায়ে শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিকভাবে কিছু বিষয় আছে, যা পড়াশোনায় প্রভাব বিস্তার করে। যেমন: শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি। শারীরিকভাবে সুস্থ না হলে শিশুরা পড়াশোনায় কিছুটা ধীর লয় হয়। ফলে তাদের বাড়তি যত্নের দরকার পড়ে।
কাল্পনিক সমস্যা: স্পেশাল নিড্স গ্রুপের শিশুদের মধ্যে বড়ো একটি অংশ আছে, যারা আন্ডারওয়েট থাকে। এই ধরনের শিশুরা সাধারণত বয়সরে সাথে পাল্লা দিয়ে ভাষা ও জ্ঞানে পরিপক্ক হতে পারে না। এই ভাষাগত সমস্যার কারণে তারা ক্লাসে অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। তাই বিষয়গুলো তাদের কাছে কঠিন লাগে এবং পড়াশোনায় তারা অমনোযোগী হয়।
বিক্ষিপ্ততা বা আচরণগত সমস্যা: অনেক শিশু আচরণগত কিংবা আবেগের দিক থেকে নিয়ন্ত্রণহীনতা ভোগে। এই ধরনের শিশুর ক্লাসের অন্যদের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে ক্রমান্বয়ে তাদের আত্মসম্মানবোধ কমতে থাকে এবং তারা একাডেমিক কারিকুলামের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাধ্য হয়।
ভাষাগত সমস্যা: একটা ওর জন্মগত কাঠিন্য না জানার কারণে অথবা কোন পরিবেশে কীভাবে কথা বলতে হবে–তা না জানার কারণে শিশুদের মধ্যে সাধারণত কথা শুনতে পারা এবং বলতে পারার সমস্যা দেখা যায়। এর কারণ তারা ক্লাসে শিক্ষকের কথা ভালোভাবে শুনতে পায় না বা বুঝতেও না, তা ভালোভাবে বলতে বা উপস্থাপন করতে পারে না। এই কারণে তারা ক্লাসে পিছিয়ে পড়ে।
সামাজিক সমস্যা: শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি সুন্দর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ দরকার। যখন তারা একটি উপযুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তখন তারা নিজেদের মুক্তভাবে মেলে ধরতে পারে, স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে এবং যেকোনো কিছু দ্রুত শিখতে পারে। কিন্তু যদি একটি শিশুর বেড়ে ওঠা একটি ভালো পরিবেশে না হয়, তবে সে ভালোবাসাহীন বা স্নেহহীনভাবে কৈশোরে পা রাখে।
বিশেষ ব্যবহারিক প্রয়োজন মানেই এটা বোঝায় না, সে অক্ষম বা দুর্বল। আল্লাহ একক মানুষকে একক গুণাবলি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সবাই কোনো না কোনো দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সবাইরেই তার প্রকৃত কোনো না কোনো সক্ষমতা তৈরি করেছেন। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে কিছু শক্তির জায়গা এবং কিছু দুর্বলতার জায়গা রয়েছে। সুতরাং পিতা-মাতার কখনোই উচিত নয় সন্তানদের অন্য সহোদর কিংবা বন্ধুদের সাথে তুলনা করার মাধ্যমে তাদের ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া। অথবা আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করে দিতে পারে। যদি কোনো বাচ্চার মধ্যে বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অভিভাবকদের উচিত দ্রুত এক্সপার্টের সাথে পরামর্শের মাধ্যমে তা মূল্যায়ন এবং তার জন্য যথার্থ স্কুল খুঁজে বের করা।
ছ. দ্বীন দাওয়া
‘সে সকল বিশ্বাসীরা সফল হয়েছে, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী এবং অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে।’ সুরা মুমিনুন : ১-৩
অন্যান্য মানুষের সাথে ভাবের আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এর দ্বারা একজন মানুষের চরিত্র ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটে।
একক্ষেত্রে মুখের ভাষা মূল বিষয়। মুখের ভাষা হওয়ায় একজন মানুষ যেমন মহান আল্লাহ তায়ালার ও মানুষের খুব কাছের মানুষ হতে পারে, তেমনি মুখের ভাষা খারাপ হওয়ার কারণে সে মহান রব ও অন্যান্য মানুষের থেকেও পরিণত হতে পারে। একজন মুসলিমকে অন্যের সাথে কথা বলার সময় শালীন ভাষা প্রয়োগের দিকে অবশ্যই জোর দিতে হবে। একজন সৎ ও ভদ্র মানুষ আচরণের ক্ষেত্রে খুবই বিনয়ী ও রুচিশীল হয়। ভাষাই হচ্ছে সভ্যতা ও রুচিশীলতার ক্ষেত্রে অনাবশ্যক প্রশ্ন। সমাজ যখন পতনের দিকে এগোয়, অশালীন ভাষা তখন সমাজে লুকিয়ে পড়ে।
একটি সুখী পরিবার পরিচালনা করতে ও এবং সমাজে সবার সাথে সুন্দর সৌন্দর্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে শালীন ভাষা প্রয়োগ করা অপরিহার্য। আমাদের উচিত খুব সুন্দর ও শালীনভাবে সবার সাথে কথা বলা; এমনকি বাচ্চাদের সাথেও, যেমনটা আমরা তাদের থেকে আশা করি। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে মূল্যবোধহীন আধুনিক সংস্কৃতির প্রভাবে শালীন ভাষা সমাজ থেকে উঠে যাচ্ছে। বলতে রাস্তা-ঘাটে, অনলাইন দুনিয়ায়, খেলার মাঠে পর্যন্ত আধুনিক বিনোদনের ভাষা হিসেবে স্পষ্টত নোংরা ও নিষিদ্ধ ভাষার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। বলা চলে, এটাই এখন সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে।
মুসলিম অভিভাবকদের নিষিদ্ধ করা উচিত, যাতে কোনোভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও ক্লিপ বা টেলিভিশনের দ্বারা এসব খারাপ অভ্যাসে সন্তানরা জড়িয়ে না পড়ে। যদি কখনো খেয়াল করেন, আপনার বাচ্চা স্কুল থেকে বাসায় আসার সময় কিছু খারাপ শব্দ নিয়ে এসেছে, তবে মনে রাখবেন–এটা আপনার জন্য বড়ো ধরনের বিপদসংকেত। এক্ষেত্রে স্পষ্টত তাদের তাদের বলে দিতে হবে, কেন এমন শব্দের ব্যবহার ভালো নয়। এগুলো তাদের অভ্যাসে পরিণত হওয়ার আগে ভালোটা খুবই জরুরি।
মুসলিম পিতা-মাতার কখনোই উচিত নয় ইসলামের বেসিক আদর্শের সাথে আপস করা। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাথে এবং সমাজের অন্যান্যদের সাথে কীরকম আচরণ করছে, তা পিতা-মাতাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
একজন মুসলিম হতাশ কিংবা রাগান্বিত হতে পারে–এটা কোনো বিষয় নয়, কিন্তু তাকে অবশ্যই তার মুখের ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে।

📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 পড়ার গুরুত্ব

📄 পড়ার গুরুত্ব


একটা অভ্যাস ছোটোবেলা থেকেই আমাদের সন্তানদের মাথায় গেঁথে দিতে হবে, তা হচ্ছে—বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং বই পড়ার অভ্যাস। এটা হচ্ছে একটা জাতির সফলতার সূচক এবং সভ্যতার নির্দেশক। একটি শিক্ষিত সমাজ শুধু তাদের সমস্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও পথ দেখায়।
‘বই’ শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার উপাদান নয়; বরং এটি উপভোগ ও বিনোদনেরও উৎস। এটি শিশুর মাথায় নতুন পৃথিবীর সন্ধান দেয়, যেখানে সে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যায়। একটা ভালো বই পাঠকের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ জোগায়। চিন্তা করার সক্ষমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও গোঁড়ামিকেও তৈরি করে। যখন আমরা পড়ি, তখন অনেক বেশি সচেতন হই। কেননা, বই পড়ার মাধ্যমে আমরা অন্য একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও মতামত জানতে পারি। এটি আমাদের চিন্তার জগৎকে শাণিত করতে এবং আমাদের উদ্দেশ্যাবলিকে আরও বড়োটা করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বই আমাদের এবং আমাদের বাচ্চাদের জীবনের সাথী হওয়া উচিত। প্রত্যেক অভিভাবকের কর্তব্য হলো—সন্তানদের ছোটোবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা। প্রত্যেকটি মুসলিম পরিবারের উচিত বাসায় বই রাখা এবং সুস্থ হলে ছোটো আকারের একটি লাইব্রেরিও গড়ে তোলা। যখন শিশুরা সহজে হরেক রকমের মজাদার এবং চিন্তা-ভাবনা উদ্দীপক বই দেখবে, তখন তারা নিজ থেকেই তা পড়া শুরু করবে। এতে তাদের চিন্তার স্তর উন্নত হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00