📘 মুসলিম প্যারেন্টিং > 📄 স্কুলপূর্ব সময়ে চাইল্ডকেয়ারে রাখা

📄 স্কুলপূর্ব সময়ে চাইল্ডকেয়ারে রাখা


অধিকাংশ দেশেই পাঁচ-ছয় বছরের আগে শিশুদের ফুলটাইম শিক্ষার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে না।
যে সব পিতা-মাতা সন্তানের সাথে ঘরে অবস্থান করে, তাদের জন্য কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সিলেবাসের প্রয়োজন নেই। তবে সচেতন পিতা-মাতা ছোটোকালে থেকেই নিজ ঘরে সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ রাখে। তারা সন্তানদের বয়স ও পরিপক্কতা অনুযায়ী তাদের সাথে আচরণ করে, যাতে করে স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজ ঘর একটি আদর্শিক পরিচর্যাকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুরা ওই সকল ব্যক্তির পরিচর্যা থেকে বেশি উপকার লাভ করতে পারে, যারা তাদের পৃথিবীর অন্য সকলের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশেই উপযুক্ত সময়সূচি অর্জন করা সম্ভব হয়।
শিশুরা যখন তিন বছর কিংবা চার বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ো উপনীত হয়, তখন অভিভাবকরা ছোটো সন্তানদের সপ্তাহে কিছু সময়ের জন্য নার্সারি স্কুল (কিংবা প্রি-স্কুলে) পাঠানোর চিন্তা করতে পারেন। এটি তাদের স্কুল রুটিনে অভ্যস্ত হতে সাহায্য করবে।
যে সকল নারী সন্তান জন্মদানের চেয়ে ফুলটাইম বাইরে কাজ করাকে বেশি প্রাধান্য দেন, তারা একপর্যায়ে হতাশায় ভোগেন। মানসিক যন্ত্রণা এবং মা হয়ে ঘরে অবস্থান করার মতো সামাজিক জীবনে উপভোগের অভাবই তাদের হতাশার মূল কারণ। তারা তখন নিজেদের আয়-উপার্জনের অর্থহীনতা এবং স্বাধীনতার অভাব অনুভব করতে থাকেন। এই সবকিছুই যৌক্তিক ও স্বাভাবিক অনুভূতি। পারতপক্ষে, মাতৃত্ব একটি সম্মান; একই সঙ্গে এক বিরাট সুযোগ। সবাই এই সুযোগ পায় না। শৈশবকালের প্রাথমিক বছরগুলো খুব দ্রুতই কেটে যায়। তাই সন্তান স্কুল যাওয়ার বয়সে উপনীত হওয়ার পর মা চাইলে পুনরায় বাইরে পুরোদ্যমে কাজ করতে পারেন।
নতুন সন্তানের আগমন অতিরিক্ত আর্থিক চাপের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। ইসলাম পুরুষের ওপর পরিবারের আর্থিক উপার্জনের দায়িত্ব অর্পণ করে। এই সময় মায়ের দায়িত্ব হচ্ছে, যত বেশি সম্ভব ঘরে অবস্থান এবং নিজ সন্তানদের দেখভাল করা। এ সময়ে বিলাসিতাপূর্ণ আয়েশ পূরণ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। ঘরে অবস্থানকারী মায়ের যত্নে থেকে সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যেও শিশুরা অনেক ভালো থাকতে পারে।
মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য উভয়ের বাইরে কাজ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এই ক্ষেত্রে এমন কিছু উপায় রয়েছে, যার ফলে সন্তানদের কোনো ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। পিতা-মাতা যেকোনো একজন পার্ট-টাইম অথবা তাদের উভয়জন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের-সুবিধাজনক সময়ে ঘরে অবস্থান করতে পারেন। তা ছাড়া পরিবারের অন্যান্য সমস্যা যেমন : দাদা-দাদি কিংবা অন্যান্য বন্ধু-বান্ধবের কাছে নিজ সন্তানের দায়িত্ব দেওয়া যায়, যা সম্পূর্ণ পারিবারিক এবং ইসলামিক পরিবেশে সন্তানদের দেখভাল করার জন্য অগ্রহি প্রকাশ করে। এই ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অপরিহার্য কর্তব্য হলো—বাসায় যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ সন্তানদের সাথে সার্থক ও উপভোগ্য সময় কাটানো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00