📄 দুর্বল প্যারেন্টিং-এর কারণ
যোগ্য সন্তান ও তদারকির মাধ্যমে সন্তানদের যথাযথভাবে প্রতিপালন করা এবং তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য যোগ্য করে তোলার নাম সার্থক প্যারেন্টিং। এর বিপরীতটাই হলো দুর্বল প্যারেন্টিং। দুর্বল প্যারেন্টিং-এর কিছু কারণ রয়েছে—যেগুলোর ব্যাপারে প্রত্যেকের সচেতন থাকা জরুরি। যেমন:
• অজ্ঞতা : সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কে অজ্ঞতা দুর্বল প্যারেন্টিং-এর প্রধান কারণ। অধিকাংশ পিতা-মাতাই সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি সম্পর্কে জানে না কিংবা জানলেও এই ব্যাপারে তাদের কোনো পরিষ্কার ধারণা থাকে না। অনেক পিতা-মাতা মনে করে, সন্তান আপনাআপনি সবকিছু শিখে নেবে এবং স্বাবলম্বী হবে।
• সন্তান ভূমিষ্ঠের পর সবকিছু যথাযথভাবে সম্ভব হবে এবং তারা নিজেরা থেকেই পিতা-মাতার পন্থা অনুসরণ করবে—এরুপ ধারণা পোষণ করার ফলাফল খুবই মারাত্মক। সন্তান প্রতিপালন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা জীবনের অন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ দিকের মতোই সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং কঠোর পরিশ্রমের দাবি রাখে। এই বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করার অর্থ হলো—সন্তানদের ভবিষ্যৎকে বিপদের মাঝে ফেলে দেওয়া।
• এর মানে আবার এই নয়, সন্তানদের উপযুক্ত উপায়ে গড়ে তোলার জন্য পিতা-মাতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে; বরং এর অর্থ হলো—পিতা-মাতাকে অবশ্যই মৌলিক দুটি বিষয় অর্জন করতে হবে:
• সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান লাভ করা, যাতে সন্তানদের আল্লাহর ইবাদতের জন্য সর্বোচ্চ উপায়ে গড়ে তোলা যায়।
• সমাজ ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করা, যাতে সন্তানদের আদর্শ নাগরিকরূপে এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
• আত্মতৃপ্তি : পিতা-মাতার অতিরিক্ত আত্মতৃপ্তির ফলে সন্তানরা বিপথে যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্যারেন্টিং প্রক্রিয়ার দুর্বল করে দেয়। পিতা-মাতা যখন শিশু সন্তানদের অসুস্থ সঙ্গ, মাদকাসক্তি এবং সমাজবিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার খবর শুনলে ভয়, তখন তারা খুব স্বাভাবিকভাবেই ভাবে, ‘আমার সন্তান এগুলো করতেই পারে না!’ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—বিপদ সকল জায়গায় ছড়িয়ে আছে এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এই সকল বিপদ আমাদের ঘরে এসেও হানা দিচ্ছে। তাই সন্তানদের উপযুক্ত বয়সে সকল ধরনের সম্ভাব্য বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে এবং এ ব্যাপারে একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সন্তানদের সর্বদা সন্দেহের চোখে দেখাটা দেখতেও নিষেধ।
• উদাসীনতা : উদাসীনতার কারণে অনেক পিতা-মাতা সন্তানদের বিপথের দিকে ঠেলে দেয় অথবা তাদের যোগ্যরূপে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। পিতা-মাতাকে সন্তানের মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক চাহিদার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি, জীবনের প্রথম দিন থেকে তাদের মধ্যে বিভিন্ন গুণাবলির সন্নিবেশ ঘটাতে হবে। উদাসীন অভিভাবক সন্তানদের প্রয়োজনে ভালো সঙ্গও গ্রুমিংও করে এবং বিশ্বাস করে, তারা বড়ো হওয়ার পর নিজেরাই এসব সামলে নেবে। এই মানসিকতা সন্তানদের জন্য নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।
প্রস্তাবিত হওয়ার সাথে সাথে সন্তানদের একটা ভালো-মন্দ চরিত্র আপনা থেকেই তৈরি হয়ে যায়। যদি পিতা-মাতা শৈশবের থেকেই সন্তানের চরিত্র গঠনের ব্যাপারে সচেতন না হয়, তাহলে প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা পিতা-মাতার পক্ষে আর সম্ভব হয় না। তাই সূচনালগ্ন থেকেই সন্তানের সার্বিক ব্যাপারে পিতা-মাতাকে সচেতন থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতার ঘাটতি: অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণেও অনেক সময় প্যারেন্টিং-এ দুর্বলতা তৈরি হয়। নতুন পিতা-মাতা মধ্যে অবধারিতভাবেই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে। কিন্তু এটাকে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করে বসে থাকার কিংবা ভুল করার সুযোগ নেই। কারণ, আমরা এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে এই ব্যাপারে জানার জন্য অসংখ্য তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। নতুন পিতা-মাতা নিজেদের শৈশবকালে প্রতিপালিত হওয়ার স্মৃতি এবং সমাজের অন্যান্য অভিজ্ঞ অভিভাবকদের নিকট সন্তান প্রতিপালনের উপায় সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। অভিজ্ঞতার অভাব কখনো যৌক্তিক অজুহাত হতে পারে না।
পূর্বসূরিদের অনুসৃত পদ্ধতির অনুসরণ: সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি অবস্থান ও পরিবেশ ভেদে কিছুটা পরিবর্তন হয়। এক্ষেত্রে পুরাতনকে সর্বসাকুল্যে আঁকড়ে না ধরে যুগোপযোগী পদ্ধতি অবলম্বন জরুরি; অন্যথায় প্র্যাকটিসে প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। যদিও সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সকল মুসলিমের লক্ষ্য ও প্রেরণা একই দিকে নিবদ্ধ, তবুও আমরা যে সমাজে বসবাস করি, সে সমাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পদ্ধতির অনুসরণই শ্রেয়। বর্তমানে অনেক মুসলিম প্রবাসে অবস্থান করেন। সেখানকার অবস্থান ও পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্ষেত্রে তাদের পুনর্বিন্যাসিত পদ্ধতি নতুন পরিবেশের প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।
পারিবারিক বিপদ: দুর্ঘটনা, অভাব ও দুর্ভাগ্য কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই একটি পরিবারকে গ্রাস করে নিতে পারে, যা বেদনা এবং দীর্ঘস্থায়ী দুঃখের কারণ হতে পারে। যেকোনো ক্ষেত্রে পারিবারিক সমস্যা অভিভাবকদের ওপর কঠিন চাপ সৃষ্টি করে। কারও সাহায্য ছাড়া এই দায়িত্ব পালন খুবই কঠিন। এই ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব পুরো পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন, যেন সন্তানরা নিজেদের অবস্থান হারিয়ে না ফেলে এবং সন্তান প্রতিপালনের মতো কঠিন ও ভারী দায়িত্ব অসাধারণভাবেশত কেবল একজন অভিভাবকের কাঁধে না পড়ে।
জীবনের চাপ: আধুনিক জীবন হচ্ছে ইঁদুর দৌঁড়ের ন্যায়। আর্থিক ও ক্যারিয়ারসংক্রান্ত দায়িত্ব এবং সামাজিক ব্যস্ততার কারণে অনেক অভিভাবক দিশা হারিয়ে ফেলেন। একই সঙ্গে অনেকগুলো দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
দুঃজনকভাবে, বর্তমান সময়ে জীবনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের কাছে সন্তানের আধ্যাত্মিক চাহিদাকে গৌণ মনে করা হচ্ছে। মানুষ সাধারণত নিজের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তার জন্য বিশেষ সময় বরাদ্দ রাখে। মানুষ সন্তান প্রতিপালনের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করতে চায় না। এর অর্থ দাঁড়ায়—তারা সন্তান প্রতিপালনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না; অথচ সন্তান তার পিতা-মাতার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। এটি এমন একটি মূল্যবান বিষয়, যা যাবতীয় বৈষয়িক সম্পদ ও ক্যারিয়ারের চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ হয়ে আসতে সক্ষম। তাই সন্তানকে উপেক্ষা করে বাহ্যিক সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
যোগ্য সন্তান ও তদারকির মাধ্যমে সন্তানদের যথাযথভাবে প্রতিপালন করা এবং তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য যোগ্য করে তোলার নাম সার্থক প্যারেন্টিং। এর বিপরীতটাই হলো দুর্বল প্যারেন্টিং। দুর্বল প্যারেন্টিং-এর কিছু কারণ রয়েছে—যেগুলোর ব্যাপারে প্রত্যেকের সচেতন থাকা জরুরি। যেমন:
• অজ্ঞতা : সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কে অজ্ঞতা দুর্বল প্যারেন্টিং-এর প্রধান কারণ। অধিকাংশ পিতা-মাতাই সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি সম্পর্কে জানে না কিংবা জানলেও এই ব্যাপারে তাদের কোনো পরিষ্কার ধারণা থাকে না। অনেক পিতা-মাতা মনে করে, সন্তান আপনাআপনি সবকিছু শিখে নেবে এবং স্বাবলম্বী হবে।
• সন্তান ভূমিষ্ঠের পর সবকিছু যথাযথভাবে সম্ভব হবে এবং তারা নিজেরা থেকেই পিতা-মাতার পন্থা অনুসরণ করবে—এরুপ ধারণা পোষণ করার ফলাফল খুবই মারাত্মক। সন্তান প্রতিপালন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা জীবনের অন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ দিকের মতোই সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং কঠোর পরিশ্রমের দাবি রাখে। এই বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করার অর্থ হলো—সন্তানদের ভবিষ্যৎকে বিপদের মাঝে ফেলে দেওয়া।
• এর মানে আবার এই নয়, সন্তানদের উপযুক্ত উপায়ে গড়ে তোলার জন্য পিতা-মাতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে; বরং এর অর্থ হলো—পিতা-মাতাকে অবশ্যই মৌলিক দুটি বিষয় অর্জন করতে হবে:
• সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান লাভ করা, যাতে সন্তানদের আল্লাহর ইবাদতের জন্য সর্বোচ্চ উপায়ে গড়ে তোলা যায়।
• সমাজ ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করা, যাতে সন্তানদের আদর্শ নাগরিকরূপে এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
• আত্মতৃপ্তি : পিতা-মাতার অতিরিক্ত আত্মতৃপ্তির ফলে সন্তানরা বিপথে যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্যারেন্টিং প্রক্রিয়ার দুর্বল করে দেয়। পিতা-মাতা যখন শিশু সন্তানদের অসুস্থ সঙ্গ, মাদকাসক্তি এবং সমাজবিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার খবর শুনলে ভয়, তখন তারা খুব স্বাভাবিকভাবেই ভাবে, ‘আমার সন্তান এগুলো করতেই পারে না!’ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—বিপদ সকল জায়গায় ছড়িয়ে আছে এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এই সকল বিপদ আমাদের ঘরে এসেও হানা দিচ্ছে। তাই সন্তানদের উপযুক্ত বয়সে সকল ধরনের সম্ভাব্য বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে এবং এ ব্যাপারে একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সন্তানদের সর্বদা সন্দেহের চোখে দেখাটা দেখতেও নিষেধ।
• উদাসীনতা : উদাসীনতার কারণে অনেক পিতা-মাতা সন্তানদের বিপথের দিকে ঠেলে দেয় অথবা তাদের যোগ্যরূপে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। পিতা-মাতাকে সন্তানের মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক চাহিদার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি, জীবনের প্রথম দিন থেকে তাদের মধ্যে বিভিন্ন গুণাবলির সন্নিবেশ ঘটাতে হবে। উদাসীন অভিভাবক সন্তানদের প্রয়োজনে ভালো সঙ্গও গ্রুমিংও করে এবং বিশ্বাস করে, তারা বড়ো হওয়ার পর নিজেরাই এসব সামলে নেবে। এই মানসিকতা সন্তানদের জন্য নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।
প্রস্তাবিত হওয়ার সাথে সাথে সন্তানদের একটা ভালো-মন্দ চরিত্র আপনা থেকেই তৈরি হয়ে যায়। যদি পিতা-মাতা শৈশবের থেকেই সন্তানের চরিত্র গঠনের ব্যাপারে সচেতন না হয়, তাহলে প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা পিতা-মাতার পক্ষে আর সম্ভব হয় না। তাই সূচনালগ্ন থেকেই সন্তানের সার্বিক ব্যাপারে পিতা-মাতাকে সচেতন থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতার ঘাটতি: অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণেও অনেক সময় প্যারেন্টিং-এ দুর্বলতা তৈরি হয়। নতুন পিতা-মাতা মধ্যে অবধারিতভাবেই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে। কিন্তু এটাকে অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করে বসে থাকার কিংবা ভুল করার সুযোগ নেই। কারণ, আমরা এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে এই ব্যাপারে জানার জন্য অসংখ্য তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। নতুন পিতা-মাতা নিজেদের শৈশবকালে প্রতিপালিত হওয়ার স্মৃতি এবং সমাজের অন্যান্য অভিজ্ঞ অভিভাবকদের নিকট সন্তান প্রতিপালনের উপায় সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। অভিজ্ঞতার অভাব কখনো যৌক্তিক অজুহাত হতে পারে না।
পূর্বসূরিদের অনুসৃত পদ্ধতির অনুসরণ: সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি অবস্থান ও পরিবেশ ভেদে কিছুটা পরিবর্তন হয়। এক্ষেত্রে পুরাতনকে সর্বসাকুল্যে আঁকড়ে না ধরে যুগোপযোগী পদ্ধতি অবলম্বন জরুরি; অন্যথায় প্র্যাকটিসে প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। যদিও সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সকল মুসলিমের লক্ষ্য ও প্রেরণা একই দিকে নিবদ্ধ, তবুও আমরা যে সমাজে বসবাস করি, সে সমাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পদ্ধতির অনুসরণই শ্রেয়। বর্তমানে অনেক মুসলিম প্রবাসে অবস্থান করেন। সেখানকার অবস্থান ও পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্ষেত্রে তাদের পুনর্বিন্যাসিত পদ্ধতি নতুন পরিবেশের প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।
পারিবারিক বিপদ: দুর্ঘটনা, অভাব ও দুর্ভাগ্য কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই একটি পরিবারকে গ্রাস করে নিতে পারে, যা বেদনা এবং দীর্ঘস্থায়ী দুঃখের কারণ হতে পারে। যেকোনো ক্ষেত্রে পারিবারিক সমস্যা অভিভাবকদের ওপর কঠিন চাপ সৃষ্টি করে। কারও সাহায্য ছাড়া এই দায়িত্ব পালন খুবই কঠিন। এই ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব পুরো পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন, যেন সন্তানরা নিজেদের অবস্থান হারিয়ে না ফেলে এবং সন্তান প্রতিপালনের মতো কঠিন ও ভারী দায়িত্ব অসাধারণভাবেশত কেবল একজন অভিভাবকের কাঁধে না পড়ে।
জীবনের চাপ: আধুনিক জীবন হচ্ছে ইঁদুর দৌঁড়ের ন্যায়। আর্থিক ও ক্যারিয়ারসংক্রান্ত দায়িত্ব এবং সামাজিক ব্যস্ততার কারণে অনেক অভিভাবক দিশা হারিয়ে ফেলেন। একই সঙ্গে অনেকগুলো দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
দুঃজনকভাবে, বর্তমান সময়ে জীবনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের কাছে সন্তানের আধ্যাত্মিক চাহিদাকে গৌণ মনে করা হচ্ছে। মানুষ সাধারণত নিজের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তার জন্য বিশেষ সময় বরাদ্দ রাখে। মানুষ সন্তান প্রতিপালনের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করতে চায় না। এর অর্থ দাঁড়ায়—তারা সন্তান প্রতিপালনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না; অথচ সন্তান তার পিতা-মাতার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। এটি এমন একটি মূল্যবান বিষয়, যা যাবতীয় বৈষয়িক সম্পদ ও ক্যারিয়ারের চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ হয়ে আসতে সক্ষম। তাই সন্তানকে উপেক্ষা করে বাহ্যিক সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
📄 মহৎ কিছুর প্রস্তুতি
ইসলামের মূল উদ্দেশ্য হলো—এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেখানে মানবজাতি হতে সকল ধরণের অজ্ঞতা ও জাহেলিয়াত থেকে মুক্ত। আর এটার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হবে সবার অন্তরগুলোকে শিক্ষিত ও মুক্ত করা।
একসময় ইসলাম পালনের অর্থই ছিল জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করা। নন্দনতত্ত্ব (Aesthetic) থেকে প্রাণিবিদ্যা (Zoology) সর্বক্ষেত্রেই মুসলিমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ইসলাম এই ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে মুসলিমরা বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হয়। এককথায়—শুদ্ধু পরোক্ষ নিরীক্ষকের ভূমিকা পালন না করে সমাজের একজন মূল্যবান ও সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতে ইসলাম নির্দেশনা দেয়।
পূর্বে মুসলিমরা সারা বিশ্বে শাসক ও ভূমিকায় ছিল; যদিও তারা সংখ্যালঘু ছিল এবং জনসংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। তারা একদিকে সন্তানদের কাছে, অন্যদিকে পুরো সমাজের কাছে ইসলামের প্রকৃত বাণী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। আসমানি বিধানের ভিত্তিতে তারা এমন একটি সভ্যতার সীমানা বিস্তৃত করেছিল, যেখানে কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি ছিল না।
তত্সময়ের মুসলিমদের চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অন্যান্য সকল ধর্মের নারী-পুরুষ ও শিশু দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইসলাম ও এই মানুষদের অন্তরে প্রশান্তি জুগিয়েছে এবং বিভিন্ন বিশ্বাসে পরিপূর্ণ সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের ইতিবাচক পরিবর্তনে আগ্রহী করে তোলা। সন্তানরা যেন সমাজে আত্মবিশ্বাসের সাথে চলতে পারে, সেজন্য পিতা-মাতার উচিত তাদের জন্য সৃষ্টিশীল ও ভালোবাসায় পূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই ক্ষেত্রে সন্তানদের দ্বীন ও দুনিয়ার জ্ঞান শিক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে তাদের উচ্চাভিলাষী লক্ষ অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। এটি এমন লক্ষ্য, যা দুনিয়াবি মান-মর্যাদা ও অর্থ-বিত্তের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অগ্রুতে ঠাঁট হতে শেখাবে।
এই বইয়ের পরবর্তী অংশে আমি এমন কতগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব, যা সচেতন অভিভাবকদের চিন্তার খোরাক জোগাবে।
ইসলামের মূল উদ্দেশ্য হলো—এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেখানে মানবজাতি হতে সকল ধরণের অজ্ঞতা ও জাহেলিয়াত থেকে মুক্ত। আর এটার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হবে সবার অন্তরগুলোকে শিক্ষিত ও মুক্ত করা।
একসময় ইসলাম পালনের অর্থই ছিল জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করা। নন্দনতত্ত্ব (Aesthetic) থেকে প্রাণিবিদ্যা (Zoology) সর্বক্ষেত্রেই মুসলিমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ইসলাম এই ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে মুসলিমরা বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হয়। এককথায়—শুদ্ধু পরোক্ষ নিরীক্ষকের ভূমিকা পালন না করে সমাজের একজন মূল্যবান ও সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতে ইসলাম নির্দেশনা দেয়।
পূর্বে মুসলিমরা সারা বিশ্বে শাসক ও ভূমিকায় ছিল; যদিও তারা সংখ্যালঘু ছিল এবং জনসংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। তারা একদিকে সন্তানদের কাছে, অন্যদিকে পুরো সমাজের কাছে ইসলামের প্রকৃত বাণী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। আসমানি বিধানের ভিত্তিতে তারা এমন একটি সভ্যতার সীমানা বিস্তৃত করেছিল, যেখানে কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি ছিল না।
তত্সময়ের মুসলিমদের চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অন্যান্য সকল ধর্মের নারী-পুরুষ ও শিশু দলে ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইসলাম ও এই মানুষদের অন্তরে প্রশান্তি জুগিয়েছে এবং বিভিন্ন বিশ্বাসে পরিপূর্ণ সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
পিতা-মাতার উচিত সন্তানদের ইতিবাচক পরিবর্তনে আগ্রহী করে তোলা। সন্তানরা যেন সমাজে আত্মবিশ্বাসের সাথে চলতে পারে, সেজন্য পিতা-মাতার উচিত তাদের জন্য সৃষ্টিশীল ও ভালোবাসায় পূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই ক্ষেত্রে সন্তানদের দ্বীন ও দুনিয়ার জ্ঞান শিক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে তাদের উচ্চাভিলাষী লক্ষ অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। এটি এমন লক্ষ্য, যা দুনিয়াবি মান-মর্যাদা ও অর্থ-বিত্তের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অগ্রুতে ঠাঁট হতে শেখাবে।
এই বইয়ের পরবর্তী অংশে আমি এমন কতগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব, যা সচেতন অভিভাবকদের চিন্তার খোরাক জোগাবে।