📄 কথার চেয়ে কাজ কঠিন
সন্তান প্রতিপালনের এই পথ অনেক উত্থান-পতন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ, যা অভিভাবক-সন্তান উভয়ের ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। সৎ ও আত্মনিয়ন্ত্রণশীল পিতা-মাতা নিজেদের ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার গড়িমসি আশ্রয় নেয় না। অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তারা দৃঢ় ও সুপরিকল্পিত উপায়ে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখে। সৃষ্ট পরিকল্পনাহীন সন্তান প্রতিপালন এখনো দুঃখে কোনো প্রকার ব্যাথা বা পথনির্দেশিকা ছাড়া করার নামান্তর।
পিতা-মাতা পরস্পরের পরিপূরক দক্ষতা ও স্বভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, যা সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। কিছু কাজ মায়ের জন্য সহজ, কিছু কাজ বাবার জন্য সহজ। সন্তান প্রতিপালনের পুরো কাজটি পিতা-মাতার উভয় সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধিত হয়। পিতা-মাতা উভয়ই লক্ষ্য একই গন্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য উভয় সমন্বিত পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল সমন্বিত পরিকল্পনা অভাবে পরিবারে মৌনপর্থ্যতা ও সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হতে পারে। ‘যদি প্রস্তুত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন, তবে ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত হন।’ আমাদের কার্যক্রম এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রবণতাটা রয়েছে।
আমরা শিক্ষকদের কাছে প্রত্যাশা করি, তারা যেন সন্তানদের পড়াশোনার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পেছনে যথেষ্ট সময় ব্যয় করা। কিন্তু সন্তানদের যথাস্থানে গড়ে তোলার জন্য নিজেদের সময় দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায়! সন্তান প্রতিপালনের সর্বোচ্চ ফলাফল লাভের জন্য এবং সুব্যবস্থা বিকাশের জন্য সচেতন পিতা-মাতা নিজেদের সার্বিক ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা এর পেছনে ব্যয় করে। কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যে অর্জন তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।
আমরা কোনো ভুল করে না—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আমরা সবাই ভুল করি, কিন্তু চিন্তাশীল অভিভাবক নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই স্বীকার করে এবং সন্তান প্রতিপালনের পুরো প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা সন্তানদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমস্যাকে হ্রাস করে এবং পরিবারে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখে।
রাসূল বলেন—
‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।’ বুখারী ও মুসলিম
সন্তান প্রতিপালনের এই পথ অনেক উত্থান-পতন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ, যা অভিভাবক-সন্তান উভয়ের ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। সৎ ও আত্মনিয়ন্ত্রণশীল পিতা-মাতা নিজেদের ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার গড়িমসি আশ্রয় নেয় না। অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তারা দৃঢ় ও সুপরিকল্পিত উপায়ে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখে। সৃষ্ট পরিকল্পনাহীন সন্তান প্রতিপালন এখনো দুঃখে কোনো প্রকার ব্যাথা বা পথনির্দেশিকা ছাড়া করার নামান্তর।
পিতা-মাতা পরস্পরের পরিপূরক দক্ষতা ও স্বভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, যা সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। কিছু কাজ মায়ের জন্য সহজ, কিছু কাজ বাবার জন্য সহজ। সন্তান প্রতিপালনের পুরো কাজটি পিতা-মাতার উভয় সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধিত হয়। পিতা-মাতা উভয়ই লক্ষ্য একই গন্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য উভয় সমন্বিত পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল সমন্বিত পরিকল্পনা অভাবে পরিবারে মৌনপর্থ্যতা ও সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হতে পারে। ‘যদি প্রস্তুত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন, তবে ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত হন।’ আমাদের কার্যক্রম এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রবণতাটা রয়েছে।
আমরা শিক্ষকদের কাছে প্রত্যাশা করি, তারা যেন সন্তানদের পড়াশোনার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পেছনে যথেষ্ট সময় ব্যয় করা। কিন্তু সন্তানদের যথাস্থানে গড়ে তোলার জন্য নিজেদের সময় দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায়! সন্তান প্রতিপালনের সর্বোচ্চ ফলাফল লাভের জন্য এবং সুব্যবস্থা বিকাশের জন্য সচেতন পিতা-মাতা নিজেদের সার্বিক ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা এর পেছনে ব্যয় করে। কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যে অর্জন তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।
আমরা কোনো ভুল করে না—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আমরা সবাই ভুল করি, কিন্তু চিন্তাশীল অভিভাবক নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই স্বীকার করে এবং সন্তান প্রতিপালনের পুরো প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা সন্তানদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমস্যাকে হ্রাস করে এবং পরিবারে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখে।
রাসূল বলেন—
‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।’ বুখারী ও মুসলিম
📄 আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা
‘ওহে বিশ্বাসীরা! তোমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ সুরা আত-তাহরীম: ৬
এই আয়াতটি মুসলিমদের ওপর আরোপিত আসমানি দায়িত্বের সারমর্ম বহন করে। একজন মুসলিমের নৈতিক ও আবাসিক কর্তব্য হলো—কাছের ব্যক্তিদের সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সন্তানের সবচেয়ে কাছের ব্যক্তি এবং জিম্মাদার হলো পিতা-মাতা। জিম্মাদার হিসেবে পিতা-মাতার এই কর্তব্যকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব মুসলিম জীবনের অপরিহার্য অংশ। ইসলামের প্রকৃত অস্তিত্বকে যথাযথ ও স্বাভাবিক উপায়ে জারি রাখার জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতার অবশ্য কর্তব্য হলো—সন্তানদের মাঝে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে তাদের মনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনুভূতি তৈরি করা।
বিভিন্ন বাস্তবিক কারণে অনেক পিতা-মাতার পক্ষে একাকী এমন কঠিন দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর হয় না। সেক্ষেত্রে সমাজের দায়িত্ব হলো—পরস্পরের মাঝে একটি যোগসূত্র (Network) তৈরি করা এবং সমাজের প্রত্যেকেই এই যোগসূত্রের আওতায় আনার চেষ্টা করা। অন্যান্য সমাজের ন্যায় মুসলিম সমাজেও কিছু ‘দুর্দশা’ পরিবার থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সমাজের কর্তব্য হলো—এই সকল পরিবারকে সহায়তার জন্য পরিকল্পিত কাঠামো নির্মাণ করা। সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব প্রধানত পিতা-মাতার ওপরই বর্তায়। সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা নিজ সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পালন করল কি না, তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে সমাজের খুব বেশি কিছু করার নেই।
কুরআন বলে— ‘একজন অপরজনের বোঝা বহন করবে না এবং কারও ওপর সাম্রাজ্যতত্ত্ব বোঝা চাপানো হয় না।’
বস্তুত পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য কাজ করা প্রত্যেক মানুষেরই কর্তব্য।
‘ওহে বিশ্বাসীরা! তোমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ সুরা আত-তাহরীম: ৬
এই আয়াতটি মুসলিমদের ওপর আরোপিত আসমানি দায়িত্বের সারমর্ম বহন করে। একজন মুসলিমের নৈতিক ও আবাসিক কর্তব্য হলো—কাছের ব্যক্তিদের সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সন্তানের সবচেয়ে কাছের ব্যক্তি এবং জিম্মাদার হলো পিতা-মাতা। জিম্মাদার হিসেবে পিতা-মাতার এই কর্তব্যকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব মুসলিম জীবনের অপরিহার্য অংশ। ইসলামের প্রকৃত অস্তিত্বকে যথাযথ ও স্বাভাবিক উপায়ে জারি রাখার জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতার অবশ্য কর্তব্য হলো—সন্তানদের মাঝে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে তাদের মনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনুভূতি তৈরি করা।
বিভিন্ন বাস্তবিক কারণে অনেক পিতা-মাতার পক্ষে একাকী এমন কঠিন দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর হয় না। সেক্ষেত্রে সমাজের দায়িত্ব হলো—পরস্পরের মাঝে একটি যোগসূত্র (Network) তৈরি করা এবং সমাজের প্রত্যেকেই এই যোগসূত্রের আওতায় আনার চেষ্টা করা। অন্যান্য সমাজের ন্যায় মুসলিম সমাজেও কিছু ‘দুর্দশা’ পরিবার থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সমাজের কর্তব্য হলো—এই সকল পরিবারকে সহায়তার জন্য পরিকল্পিত কাঠামো নির্মাণ করা। সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব প্রধানত পিতা-মাতার ওপরই বর্তায়। সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা নিজ সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পালন করল কি না, তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে সমাজের খুব বেশি কিছু করার নেই।
কুরআন বলে— ‘একজন অপরজনের বোঝা বহন করবে না এবং কারও ওপর সাম্রাজ্যতত্ত্ব বোঝা চাপানো হয় না।’
বস্তুত পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য কাজ করা প্রত্যেক মানুষেরই কর্তব্য।
📄 সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের দায়িত্ব
সন্তান আগমনের মুহূর্তে বাবা-মায়ের মন প্রবল আগ্রহ-উত্তীপনায় ভরপুর থাকে। তারা অগাধ ভালোবাসা ও আবেগ ঢেলে দিয়ে সন্তানের অতিরিক্ত যত্ন নিতে উন্মুক্ত হয়ে থাকে। সন্তান ও পিতা-মাতার মধ্যকার এই সম্পর্কই একটি পরিবারের মূল ভিত্তি। যখন এই সম্পর্ক খাঁটি ও দৃঢ় ভালোবাসায় রূপায়িত হয়, তখন তা ভাই-বোন, চাচা-চাচিসহ পরিবারের সবাইকে পারস্পরিক ভালোবাসার চাদরে আবৃত করে।
‘মানুষ সামাজিক জীব’—বড়োদের এই বুলিটি মূল্যবান এক ধারণা বহন করে। এর অর্থ হলো—সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের মধ্যে এমন এক সম্পর্ক গড়ে ওঠা অপরিহার্য, যার ভিত্তিতে তারা পারস্পরিক কর্তব্য সম্পূর্ণরূপে পালন করতে পারে। মূলত সামাজিক সম্পর্ক সবার অন্তরে প্রশান্তি তৈরি করে। অন্যের অধিকার আদায়, মানুষকে সাহায্য করা এবং কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই সমাজের সেবা করা নিঃসন্দেহে দ্বীনের অন্যতম কাজ। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি আসে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মানুষ নিজের নিজের চাহিদা পূরণের জন্য স্বার্থপর জীবনযাপন করে। যে সমাজে প্রত্যেকেই নিজের ‘ভূমি’ নিয়ে মগ্ন থাকে, সে সমাজ থেকে মানবতা দূরে সরে যায়। এই ধরনের সমাজ অর্থাল্লিঙ্গা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিপূর্ণ। তারা এমন এক বস্তুবাদে অভ্যস্ত, যেখানে মানুষ একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এটা মূলত ‘জোর যার মুল্লুক তার’ ধারণারই প্রসার ঘটায়। এর মাধ্যমে সমাজের সিংহভাগ মানুষের শ্রমের বিনিময়ে ক্ষুদ্র একটি অংশ ধনী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এই ধরনের সমাজ কখনো প্রকৃত উন্নতি লাভ করতে পারে না। কারণ, এখানে প্রভাবশালী ধনীরা ক্ষমতার দাপটে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নৈতিকতার তোয়াক্কা করে না। সমাজের অন্যান্য সদস্যরাও এই ‘স্ট্যাটাস’ অর্জনের জন্য নিজেদের বিক্রিয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অসংখ্য সামাজিক সমস্যা এই সমাজকে এমনভাবে পঙ্গু করে রাখে, তা একটি বিশৃঙ্খলপূর্ণ ভাগাড়ে পরিণত হয়। ফলে বাস্তবিক অর্থে এই সমাজে কোনো মানুষই সুখী হয় না।
ইসলাম মানুষের সৃজনশীলতা ও নতুনত্বকে উৎসাহিত করে, কিন্তু অধিকতর জোর দেয় সামাজিক দায়িত্বশীলতার দিকে। এটি মানুষকে তাৎক্ষণিক আত্মতৃপ্তির পরিবর্তে ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতাবোধের শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে যথোপযুক্ত উপায়ে সন্তান প্রতিপালনের অংশ হিসেবে সন্তানকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে না দেখে সমাজের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করাও শেখায়। যখন প্রত্যেকটি পরিবার নিজেদেরকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে, সকলের কল্যাণের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তখন এই সমাজ শ্রেষ্ঠতম সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়।
সন্তান আগমনের মুহূর্তে বাবা-মায়ের মন প্রবল আগ্রহ-উত্তীপনায় ভরপুর থাকে। তারা অগাধ ভালোবাসা ও আবেগ ঢেলে দিয়ে সন্তানের অতিরিক্ত যত্ন নিতে উন্মুক্ত হয়ে থাকে। সন্তান ও পিতা-মাতার মধ্যকার এই সম্পর্কই একটি পরিবারের মূল ভিত্তি। যখন এই সম্পর্ক খাঁটি ও দৃঢ় ভালোবাসায় রূপায়িত হয়, তখন তা ভাই-বোন, চাচা-চাচিসহ পরিবারের সবাইকে পারস্পরিক ভালোবাসার চাদরে আবৃত করে।
‘মানুষ সামাজিক জীব’—বড়োদের এই বুলিটি মূল্যবান এক ধারণা বহন করে। এর অর্থ হলো—সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের মধ্যে এমন এক সম্পর্ক গড়ে ওঠা অপরিহার্য, যার ভিত্তিতে তারা পারস্পরিক কর্তব্য সম্পূর্ণরূপে পালন করতে পারে। মূলত সামাজিক সম্পর্ক সবার অন্তরে প্রশান্তি তৈরি করে। অন্যের অধিকার আদায়, মানুষকে সাহায্য করা এবং কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই সমাজের সেবা করা নিঃসন্দেহে দ্বীনের অন্যতম কাজ। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি আসে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মানুষ নিজের নিজের চাহিদা পূরণের জন্য স্বার্থপর জীবনযাপন করে। যে সমাজে প্রত্যেকেই নিজের ‘ভূমি’ নিয়ে মগ্ন থাকে, সে সমাজ থেকে মানবতা দূরে সরে যায়। এই ধরনের সমাজ অর্থাল্লিঙ্গা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিপূর্ণ। তারা এমন এক বস্তুবাদে অভ্যস্ত, যেখানে মানুষ একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এটা মূলত ‘জোর যার মুল্লুক তার’ ধারণারই প্রসার ঘটায়। এর মাধ্যমে সমাজের সিংহভাগ মানুষের শ্রমের বিনিময়ে ক্ষুদ্র একটি অংশ ধনী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এই ধরনের সমাজ কখনো প্রকৃত উন্নতি লাভ করতে পারে না। কারণ, এখানে প্রভাবশালী ধনীরা ক্ষমতার দাপটে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নৈতিকতার তোয়াক্কা করে না। সমাজের অন্যান্য সদস্যরাও এই ‘স্ট্যাটাস’ অর্জনের জন্য নিজেদের বিক্রিয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অসংখ্য সামাজিক সমস্যা এই সমাজকে এমনভাবে পঙ্গু করে রাখে, তা একটি বিশৃঙ্খলপূর্ণ ভাগাড়ে পরিণত হয়। ফলে বাস্তবিক অর্থে এই সমাজে কোনো মানুষই সুখী হয় না।
ইসলাম মানুষের সৃজনশীলতা ও নতুনত্বকে উৎসাহিত করে, কিন্তু অধিকতর জোর দেয় সামাজিক দায়িত্বশীলতার দিকে। এটি মানুষকে তাৎক্ষণিক আত্মতৃপ্তির পরিবর্তে ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতাবোধের শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে যথোপযুক্ত উপায়ে সন্তান প্রতিপালনের অংশ হিসেবে সন্তানকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে না দেখে সমাজের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করাও শেখায়। যখন প্রত্যেকটি পরিবার নিজেদেরকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে, সকলের কল্যাণের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তখন এই সমাজ শ্রেষ্ঠতম সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়।
📄 ইতিবাচক প্যারেন্টিং; একটি সৃজনশীল প্রচেষ্টা
বাগানের চারাগাছ আর স্কুলের (নার্সারি) শিশুর মধ্যে চমৎকার একটা মিল রয়েছে। চারাগাছের যথাযথ পরিচর্যা করা হলে তা একদিন ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ রূপে রূপ নেয়। একইভাবে একটি শিশুর যথাযথ পরিচর্যা করা হলে সে ক্রমান্বয়ে একজন সফল ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে।
অঙ্কুর পরিচর্যার ক্ষেত্রে অবহেলা করলে তা যেমন অনেক ধরনের সমস্যা নিয়ে বড়ো হয়, ঠিক তেমনি কোনো শিশুর লালন-পালনে অবহেলা করা হলে সে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও আত্ম-ধ্বংসাত্মক জীবনাবর্তের মধ্যে দিয়ে বড়ো হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, উন্নতমানের খাবার, পোশাক ও বাসস্থান প্রদান করার মাঝেই কেবল সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; বরং সন্তানদের সহমর্মিতা প্রদান, তাদের সাথে বোঝাপড়া, মানসিক সাহায্য, তাদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি এবং তাদের এই পৃথিবীতে চলার মতো যোগাযোগসম্পন্ন করে গড়ে তোলাও সন্তান পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিতা-মাতার মূল দায়িত্ব হলো পরিবারের মধ্যে একটি শান্ত, নিরাপদ ও সন্তোষপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা, যা সন্তানদের মনে আত্মবিশ্বাসের জোগান এবং তাদের হৃদয় ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে—যাতে তারা এই ভালোবাসার আলোকাচ্ছন্নতা সমাজের অন্য মানুষদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে পারে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যদি সৎ গুণাবলিসম্পন্ন হয়, তাহলে এর ফলাফল পুরো সমাজ ভোগ করে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব। তবে এটি কেবল একক পরিবারের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন সমাজের প্রত্যেকের পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টা।
দুর্ভাগ্যবশত অনেক পিতা-মাতা সন্তান প্রতিপালনে অনেক গা ছাড়াভাব। এ যেন ‘কারও জন্য করা’ বা ‘করতে হয়, তাই করে’। তারা সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্বটিকে অনেকটা ‘আকস্মিক’ (Accidental) বলেই মনে করে। এর জন্য তাদের না থাকে কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা, না থাকে কোনো প্রস্তুতি। আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত এই দায়িত্বের গভীরতা ও গুরুত্বের ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণাই থাকে না। তারা সন্তানদের বহুমুখী চাহিদা পূরণ করে কি না, কিন্তু তাদের আধ্যাত্মিকতার তোঁয়াজ দিতে পারে না। ফলে যখন তারা কোনো সামাজিক কিংবা মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়, তখন আত্মস্বীকৃতির তীব্র অভাব ও প্রয়োজন অনুভব করে। এই পর্যায়ে তারা আবেগতাড়িত হয়ে অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে এবং সন্তানদের দূরে ঠেলে দেয়। এটা কোনোভাবেই সন্তান প্রতিপালনের আদর্শ পদ্ধতি হতে পারে না; বরং আদর্শ পদ্ধতি ঠিক এর বিপরীত।
সচেতন পিতা-মাতা অল্প বয়স থেকেই সন্তানদের সাথে আন্তরিকভাবে মেলামেশা করে। যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাদেরকে যোগ্য সঙ্গ দেয়। ফুলকুরির ন্যায় তাদের মাথায় পরশ বুলিয়ে দেয়। যখন সন্তান সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করে, তখন পরিবারকে তারা আন্তরিক, সমভাবাপন্ন ও সহায়ক হিসেবে পাশে পায়।
সন্তান প্রতিপালন আর দশটা সৃজনশীল প্রচেষ্টার মতোই একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। কিন্তু এটি সহজ হয়ে যায়, যখন পিতা-মাতা সন্তানদের পাটনার হিসেবে বিবেচনা করে। এমন পাটনার, যাদের সাথে মতদ্বন্দ্বে একসঙ্গে কাজ করা যায়। সচেতন পিতা-মাতা কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অগ্রিম পদক্ষেপ নেয় এবং সমস্যা জটিল আকার ধারণ করার আগেই সমাধানের ব্যবস্থা করে। সন্তানদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তারা রাশভারী ও কঠোর হওয়ার পরিবর্তে কোমল ও অমায়িক হয়। তাদের সাথে দূরত্ব তৈরির পরিবর্তে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে।
সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এর প্রতি রুষ্ট কোনো সদস্যের দ্বারা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই সন্তানদের সামাজিক করে গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি একজন অভিভাবক নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী সন্তানকে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে; বাকি ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করবে।
বাগানের চারাগাছ আর স্কুলের (নার্সারি) শিশুর মধ্যে চমৎকার একটা মিল রয়েছে। চারাগাছের যথাযথ পরিচর্যা করা হলে তা একদিন ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ রূপে রূপ নেয়। একইভাবে একটি শিশুর যথাযথ পরিচর্যা করা হলে সে ক্রমান্বয়ে একজন সফল ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে।
অঙ্কুর পরিচর্যার ক্ষেত্রে অবহেলা করলে তা যেমন অনেক ধরনের সমস্যা নিয়ে বড়ো হয়, ঠিক তেমনি কোনো শিশুর লালন-পালনে অবহেলা করা হলে সে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও আত্ম-ধ্বংসাত্মক জীবনাবর্তের মধ্যে দিয়ে বড়ো হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, উন্নতমানের খাবার, পোশাক ও বাসস্থান প্রদান করার মাঝেই কেবল সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; বরং সন্তানদের সহমর্মিতা প্রদান, তাদের সাথে বোঝাপড়া, মানসিক সাহায্য, তাদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি এবং তাদের এই পৃথিবীতে চলার মতো যোগাযোগসম্পন্ন করে গড়ে তোলাও সন্তান পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিতা-মাতার মূল দায়িত্ব হলো পরিবারের মধ্যে একটি শান্ত, নিরাপদ ও সন্তোষপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা, যা সন্তানদের মনে আত্মবিশ্বাসের জোগান এবং তাদের হৃদয় ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে—যাতে তারা এই ভালোবাসার আলোকাচ্ছন্নতা সমাজের অন্য মানুষদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে পারে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যদি সৎ গুণাবলিসম্পন্ন হয়, তাহলে এর ফলাফল পুরো সমাজ ভোগ করে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব। তবে এটি কেবল একক পরিবারের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন সমাজের প্রত্যেকের পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টা।
দুর্ভাগ্যবশত অনেক পিতা-মাতা সন্তান প্রতিপালনে অনেক গা ছাড়াভাব। এ যেন ‘কারও জন্য করা’ বা ‘করতে হয়, তাই করে’। তারা সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্বটিকে অনেকটা ‘আকস্মিক’ (Accidental) বলেই মনে করে। এর জন্য তাদের না থাকে কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা, না থাকে কোনো প্রস্তুতি। আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত এই দায়িত্বের গভীরতা ও গুরুত্বের ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণাই থাকে না। তারা সন্তানদের বহুমুখী চাহিদা পূরণ করে কি না, কিন্তু তাদের আধ্যাত্মিকতার তোঁয়াজ দিতে পারে না। ফলে যখন তারা কোনো সামাজিক কিংবা মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়, তখন আত্মস্বীকৃতির তীব্র অভাব ও প্রয়োজন অনুভব করে। এই পর্যায়ে তারা আবেগতাড়িত হয়ে অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে এবং সন্তানদের দূরে ঠেলে দেয়। এটা কোনোভাবেই সন্তান প্রতিপালনের আদর্শ পদ্ধতি হতে পারে না; বরং আদর্শ পদ্ধতি ঠিক এর বিপরীত।
সচেতন পিতা-মাতা অল্প বয়স থেকেই সন্তানদের সাথে আন্তরিকভাবে মেলামেশা করে। যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাদেরকে যোগ্য সঙ্গ দেয়। ফুলকুরির ন্যায় তাদের মাথায় পরশ বুলিয়ে দেয়। যখন সন্তান সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করে, তখন পরিবারকে তারা আন্তরিক, সমভাবাপন্ন ও সহায়ক হিসেবে পাশে পায়।
সন্তান প্রতিপালন আর দশটা সৃজনশীল প্রচেষ্টার মতোই একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। কিন্তু এটি সহজ হয়ে যায়, যখন পিতা-মাতা সন্তানদের পাটনার হিসেবে বিবেচনা করে। এমন পাটনার, যাদের সাথে মতদ্বন্দ্বে একসঙ্গে কাজ করা যায়। সচেতন পিতা-মাতা কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অগ্রিম পদক্ষেপ নেয় এবং সমস্যা জটিল আকার ধারণ করার আগেই সমাধানের ব্যবস্থা করে। সন্তানদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তারা রাশভারী ও কঠোর হওয়ার পরিবর্তে কোমল ও অমায়িক হয়। তাদের সাথে দূরত্ব তৈরির পরিবর্তে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে।
সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এর প্রতি রুষ্ট কোনো সদস্যের দ্বারা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই সন্তানদের সামাজিক করে গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি একজন অভিভাবক নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী সন্তানকে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে; বাকি ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করবে।