📄 সন্তান আমানত ও পরীক্ষাস্বরূপ
সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে পিতা-মাতার প্রতি আমানতস্বরূপ। অন্যকথায়, সন্তানদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহ পিতা-মাতার ওপর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি পিতা-মাতাকে নির্দেশনাও দিয়েছেন যথোপযুক্ত উপায়ে সন্তানদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই আমানতের খেয়ানত করার অর্থ হলো—আল্লাহর দেওয়া আমানতের খেয়ানত করা। আমরা যদি নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করে সন্তান প্রতিপালনের কাজটি সম্পাদন করতে চাই এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধির আশা পোষণ করি, তবে সর্বাগ্রে সন্তান লালন-পালনের প্রকৃতি, এর পুরস্কার ও শাস্তির ব্যাপারে সম্যক ধারণা লাভ করতে হবে।
দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জনের জন্য জীবনে কোন কোন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা জ্ঞানবান মুসলিম মাত্রই অনুধাবন করতে পারে। তবুও তাদের উপলব্ধিকেও এই বিষয়টি থাকা উচিত—সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য কেবল খাদ্য, বস্ত্র ও জাগতিক সামগ্রীই যথেষ্ট নয়; বরং নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও আদর্শিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের গড়ে তোলাও আবশ্যক। যাতে তারা সমাজের একজন ভালো মানুষ ও আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।
সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি মূলত তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গলজনক বিষয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, যা পিতা-মাতার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ এবং পরকালীন জীবনে ভালো ফলাফল অর্জন নির্ভর করে সন্তান প্রতিপালনে সফল হওয়ার ওপর।
বান্দা পরকালে নিজের মর্যাদার্দাকে সমুন্নত অবস্থায় দেখে বলবে— 'হে আল্লাহ! আমি এই মর্যাদার অধিকারী কীভাবে হলাম?’ আল্লাহ বলবেন-‘মৃত্যুর পর তোমার সন্তানরা তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, সে কারণে তুমি এই মর্যাদার অধিকারী হয়েছ।' আহমাদ ও ইবনে মাজাহ
সন্তান প্রতিপালনের পুরস্কার যেমন বিশাল, তেমনি এর ব্যর্থতার শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর। একজন শিশুর যত্নের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার, বিশেষত মাতার শারীরিক উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান বড়ো হওয়ার সাথে সাথে পিতা- মাতার মাঝে শ্রদ্ধা বাড়তে থাকে; তার স্বাস্থ্য, পড়াশোনা ও বিভিন্ন সামাজিক বেরি পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে। এই শঙ্কা বা উদ্বেগ অমূলক নয়; কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে সচেতন পিতা-মাতার মনে রাখতে হবে, আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল আল্লাহর ইবাদতের জন্যই। তাই সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পেরেশানি যেন আমাদের আল্লাহর ইবাদতকে বিমুখ করতে না পারে, সে ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে।
'ওহে, যারা বিশ্বাস করো! তোমাদের সম্পদ ও সন্তানাদি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে না সরিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি তা করবে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।' সুরা মুনাফিকুন : ৯
একজন বিশ্বাসী নিজ সন্তান থেকে প্রাপ্ত সকল পরিতৃপ্তি ও দুঃখের জন্য আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে পিতা-মাতার প্রতি আমানতস্বরূপ। অন্যকথায়, সন্তানদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহ পিতা-মাতার ওপর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি পিতা-মাতাকে নির্দেশনাও দিয়েছেন যথোপযুক্ত উপায়ে সন্তানদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই আমানতের খেয়ানত করার অর্থ হলো—আল্লাহর দেওয়া আমানতের খেয়ানত করা। আমরা যদি নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করে সন্তান প্রতিপালনের কাজটি সম্পাদন করতে চাই এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধির আশা পোষণ করি, তবে সর্বাগ্রে সন্তান লালন-পালনের প্রকৃতি, এর পুরস্কার ও শাস্তির ব্যাপারে সম্যক ধারণা লাভ করতে হবে।
দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জনের জন্য জীবনে কোন কোন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা জ্ঞানবান মুসলিম মাত্রই অনুধাবন করতে পারে। তবুও তাদের উপলব্ধিকেও এই বিষয়টি থাকা উচিত—সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য কেবল খাদ্য, বস্ত্র ও জাগতিক সামগ্রীই যথেষ্ট নয়; বরং নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও আদর্শিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের গড়ে তোলাও আবশ্যক। যাতে তারা সমাজের একজন ভালো মানুষ ও আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।
সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি মূলত তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গলজনক বিষয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়, যা পিতা-মাতার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ এবং পরকালীন জীবনে ভালো ফলাফল অর্জন নির্ভর করে সন্তান প্রতিপালনে সফল হওয়ার ওপর।
বান্দা পরকালে নিজের মর্যাদার্দাকে সমুন্নত অবস্থায় দেখে বলবে— 'হে আল্লাহ! আমি এই মর্যাদার অধিকারী কীভাবে হলাম?’ আল্লাহ বলবেন-‘মৃত্যুর পর তোমার সন্তানরা তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, সে কারণে তুমি এই মর্যাদার অধিকারী হয়েছ।' আহমাদ ও ইবনে মাজাহ
সন্তান প্রতিপালনের পুরস্কার যেমন বিশাল, তেমনি এর ব্যর্থতার শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর। একজন শিশুর যত্নের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার, বিশেষত মাতার শারীরিক উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান বড়ো হওয়ার সাথে সাথে পিতা- মাতার মাঝে শ্রদ্ধা বাড়তে থাকে; তার স্বাস্থ্য, পড়াশোনা ও বিভিন্ন সামাজিক বেরি পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে। এই শঙ্কা বা উদ্বেগ অমূলক নয়; কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে সচেতন পিতা-মাতার মনে রাখতে হবে, আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল আল্লাহর ইবাদতের জন্যই। তাই সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পেরেশানি যেন আমাদের আল্লাহর ইবাদতকে বিমুখ করতে না পারে, সে ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে।
'ওহে, যারা বিশ্বাস করো! তোমাদের সম্পদ ও সন্তানাদি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে না সরিয়ে দেয়। যে ব্যক্তি তা করবে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।' সুরা মুনাফিকুন : ৯
একজন বিশ্বাসী নিজ সন্তান থেকে প্রাপ্ত সকল পরিতৃপ্তি ও দুঃখের জন্য আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
📄 এক বিরাট দায়িত্ব
সন্তান প্রতিপালন মানে কেবল পিতৃত্ব কিংবা মাতৃত্ব নয়। পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব শুধু শারীরিক প্রক্রিয়ার ফলাফল, কিন্তু সন্তান প্রতিপালন হচ্ছে জীবন প্রক্রিয়ার একটি সচেতন কার্যক্রম। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া—যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আর একজন নাবালক অপরিপক্ক মানুষের শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচর্যা এবং তার উন্নতি সাধনের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাই সন্তান প্রতিপালনের জন্য মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক পরিপক্কতা প্রয়োজন। কারণ, প্রত্যেক অভিভাবককে একই সঙ্গে একজন শিক্ষক, পরামর্শক ও আধ্যাত্মিক পথনির্দেশকের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
পিতা-মাতা মানুষ, প্রকৃতিরও কারণে তাঁদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো পিতা-মাতাই সন্তান প্রতিপালনে শতভাগ সফল হতে পারে না। আর সন্তান প্রতিপালনের এই অনিচ্ছাকৃত ভুল ভুলের কারণে কোনো পিতা-মাতাই বিচার দিবসে পাকড়াও হবে না। তথাপি পিতা-মাতাকে এই ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়া উচিত। কেননা, তাদের ওপর কাঁধে অর্পিত হয়েছে আল্লাহর প্রতিনিধি প্রতিপালনের ভারী বোঝা।
পরিবার হচ্ছে পৃথিবীর ভেতর ভোরের একটি ক্ষুদ্র পৃথিবী; যেখানে আল্লাহর দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে দায়িত্ব পালন এবং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এখানে পারস্পরিক ভালোবাসা, আন্তরিকতা, আপস, সম্মাননাসহ বিভিন্ন মানবিক বৈশিষ্ট্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যেকার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে।
ব্যক্তি নয়; একটি সমাজ গড়ে উঠে পরিবারের ওপর ভিত্তি করে। নতুন শিশুর জন্মের সাথে সাথে একটি নতুন পারিবারিক ইউনিট গড়ে উঠে। অভিভাবকদের কর্তব্য হলো—নিজের সক্ষমতাকে পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় এবং এমন একটি পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করা, যাতে সন্তানরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করতে পারে।
সন্তান প্রতিপালন মানে কেবল পিতৃত্ব কিংবা মাতৃত্ব নয়। পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব শুধু শারীরিক প্রক্রিয়ার ফলাফল, কিন্তু সন্তান প্রতিপালন হচ্ছে জীবন প্রক্রিয়ার একটি সচেতন কার্যক্রম। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া—যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আর একজন নাবালক অপরিপক্ক মানুষের শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচর্যা এবং তার উন্নতি সাধনের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাই সন্তান প্রতিপালনের জন্য মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক পরিপক্কতা প্রয়োজন। কারণ, প্রত্যেক অভিভাবককে একই সঙ্গে একজন শিক্ষক, পরামর্শক ও আধ্যাত্মিক পথনির্দেশকের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
পিতা-মাতা মানুষ, প্রকৃতিরও কারণে তাঁদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো পিতা-মাতাই সন্তান প্রতিপালনে শতভাগ সফল হতে পারে না। আর সন্তান প্রতিপালনের এই অনিচ্ছাকৃত ভুল ভুলের কারণে কোনো পিতা-মাতাই বিচার দিবসে পাকড়াও হবে না। তথাপি পিতা-মাতাকে এই ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়া উচিত। কেননা, তাদের ওপর কাঁধে অর্পিত হয়েছে আল্লাহর প্রতিনিধি প্রতিপালনের ভারী বোঝা।
পরিবার হচ্ছে পৃথিবীর ভেতর ভোরের একটি ক্ষুদ্র পৃথিবী; যেখানে আল্লাহর দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে দায়িত্ব পালন এবং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এখানে পারস্পরিক ভালোবাসা, আন্তরিকতা, আপস, সম্মাননাসহ বিভিন্ন মানবিক বৈশিষ্ট্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যেকার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে।
ব্যক্তি নয়; একটি সমাজ গড়ে উঠে পরিবারের ওপর ভিত্তি করে। নতুন শিশুর জন্মের সাথে সাথে একটি নতুন পারিবারিক ইউনিট গড়ে উঠে। অভিভাবকদের কর্তব্য হলো—নিজের সক্ষমতাকে পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় এবং এমন একটি পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করা, যাতে সন্তানরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করতে পারে।
📄 কথার চেয়ে কাজ কঠিন
সন্তান প্রতিপালনের এই পথ অনেক উত্থান-পতন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ, যা অভিভাবক-সন্তান উভয়ের ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। সৎ ও আত্মনিয়ন্ত্রণশীল পিতা-মাতা নিজেদের ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার গড়িমসি আশ্রয় নেয় না। অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তারা দৃঢ় ও সুপরিকল্পিত উপায়ে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখে। সৃষ্ট পরিকল্পনাহীন সন্তান প্রতিপালন এখনো দুঃখে কোনো প্রকার ব্যাথা বা পথনির্দেশিকা ছাড়া করার নামান্তর।
পিতা-মাতা পরস্পরের পরিপূরক দক্ষতা ও স্বভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, যা সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। কিছু কাজ মায়ের জন্য সহজ, কিছু কাজ বাবার জন্য সহজ। সন্তান প্রতিপালনের পুরো কাজটি পিতা-মাতার উভয় সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধিত হয়। পিতা-মাতা উভয়ই লক্ষ্য একই গন্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য উভয় সমন্বিত পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল সমন্বিত পরিকল্পনা অভাবে পরিবারে মৌনপর্থ্যতা ও সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হতে পারে। ‘যদি প্রস্তুত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন, তবে ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত হন।’ আমাদের কার্যক্রম এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রবণতাটা রয়েছে।
আমরা শিক্ষকদের কাছে প্রত্যাশা করি, তারা যেন সন্তানদের পড়াশোনার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পেছনে যথেষ্ট সময় ব্যয় করা। কিন্তু সন্তানদের যথাস্থানে গড়ে তোলার জন্য নিজেদের সময় দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায়! সন্তান প্রতিপালনের সর্বোচ্চ ফলাফল লাভের জন্য এবং সুব্যবস্থা বিকাশের জন্য সচেতন পিতা-মাতা নিজেদের সার্বিক ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা এর পেছনে ব্যয় করে। কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যে অর্জন তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।
আমরা কোনো ভুল করে না—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আমরা সবাই ভুল করি, কিন্তু চিন্তাশীল অভিভাবক নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই স্বীকার করে এবং সন্তান প্রতিপালনের পুরো প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা সন্তানদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমস্যাকে হ্রাস করে এবং পরিবারে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখে।
রাসূল বলেন—
‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।’ বুখারী ও মুসলিম
সন্তান প্রতিপালনের এই পথ অনেক উত্থান-পতন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ, যা অভিভাবক-সন্তান উভয়ের ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। সৎ ও আত্মনিয়ন্ত্রণশীল পিতা-মাতা নিজেদের ওপর প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার গড়িমসি আশ্রয় নেয় না। অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তারা দৃঢ় ও সুপরিকল্পিত উপায়ে নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখে। সৃষ্ট পরিকল্পনাহীন সন্তান প্রতিপালন এখনো দুঃখে কোনো প্রকার ব্যাথা বা পথনির্দেশিকা ছাড়া করার নামান্তর।
পিতা-মাতা পরস্পরের পরিপূরক দক্ষতা ও স্বভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, যা সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। কিছু কাজ মায়ের জন্য সহজ, কিছু কাজ বাবার জন্য সহজ। সন্তান প্রতিপালনের পুরো কাজটি পিতা-মাতার উভয় সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধিত হয়। পিতা-মাতা উভয়ই লক্ষ্য একই গন্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য উভয় সমন্বিত পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল সমন্বিত পরিকল্পনা অভাবে পরিবারে মৌনপর্থ্যতা ও সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হতে পারে। ‘যদি প্রস্তুত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন, তবে ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত হন।’ আমাদের কার্যক্রম এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রবণতাটা রয়েছে।
আমরা শিক্ষকদের কাছে প্রত্যাশা করি, তারা যেন সন্তানদের পড়াশোনার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পেছনে যথেষ্ট সময় ব্যয় করা। কিন্তু সন্তানদের যথাস্থানে গড়ে তোলার জন্য নিজেদের সময় দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায়! সন্তান প্রতিপালনের সর্বোচ্চ ফলাফল লাভের জন্য এবং সুব্যবস্থা বিকাশের জন্য সচেতন পিতা-মাতা নিজেদের সার্বিক ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা এর পেছনে ব্যয় করে। কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যে অর্জন তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।
আমরা কোনো ভুল করে না—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আমরা সবাই ভুল করি, কিন্তু চিন্তাশীল অভিভাবক নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই স্বীকার করে এবং সন্তান প্রতিপালনের পুরো প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা সন্তানদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমস্যাকে হ্রাস করে এবং পরিবারে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখে।
রাসূল বলেন—
‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।’ বুখারী ও মুসলিম
📄 আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা
‘ওহে বিশ্বাসীরা! তোমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ সুরা আত-তাহরীম: ৬
এই আয়াতটি মুসলিমদের ওপর আরোপিত আসমানি দায়িত্বের সারমর্ম বহন করে। একজন মুসলিমের নৈতিক ও আবাসিক কর্তব্য হলো—কাছের ব্যক্তিদের সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সন্তানের সবচেয়ে কাছের ব্যক্তি এবং জিম্মাদার হলো পিতা-মাতা। জিম্মাদার হিসেবে পিতা-মাতার এই কর্তব্যকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব মুসলিম জীবনের অপরিহার্য অংশ। ইসলামের প্রকৃত অস্তিত্বকে যথাযথ ও স্বাভাবিক উপায়ে জারি রাখার জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতার অবশ্য কর্তব্য হলো—সন্তানদের মাঝে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে তাদের মনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনুভূতি তৈরি করা।
বিভিন্ন বাস্তবিক কারণে অনেক পিতা-মাতার পক্ষে একাকী এমন কঠিন দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর হয় না। সেক্ষেত্রে সমাজের দায়িত্ব হলো—পরস্পরের মাঝে একটি যোগসূত্র (Network) তৈরি করা এবং সমাজের প্রত্যেকেই এই যোগসূত্রের আওতায় আনার চেষ্টা করা। অন্যান্য সমাজের ন্যায় মুসলিম সমাজেও কিছু ‘দুর্দশা’ পরিবার থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সমাজের কর্তব্য হলো—এই সকল পরিবারকে সহায়তার জন্য পরিকল্পিত কাঠামো নির্মাণ করা। সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব প্রধানত পিতা-মাতার ওপরই বর্তায়। সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা নিজ সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পালন করল কি না, তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে সমাজের খুব বেশি কিছু করার নেই।
কুরআন বলে— ‘একজন অপরজনের বোঝা বহন করবে না এবং কারও ওপর সাম্রাজ্যতত্ত্ব বোঝা চাপানো হয় না।’
বস্তুত পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য কাজ করা প্রত্যেক মানুষেরই কর্তব্য।
‘ওহে বিশ্বাসীরা! তোমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ সুরা আত-তাহরীম: ৬
এই আয়াতটি মুসলিমদের ওপর আরোপিত আসমানি দায়িত্বের সারমর্ম বহন করে। একজন মুসলিমের নৈতিক ও আবাসিক কর্তব্য হলো—কাছের ব্যক্তিদের সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সন্তানের সবচেয়ে কাছের ব্যক্তি এবং জিম্মাদার হলো পিতা-মাতা। জিম্মাদার হিসেবে পিতা-মাতার এই কর্তব্যকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব মুসলিম জীবনের অপরিহার্য অংশ। ইসলামের প্রকৃত অস্তিত্বকে যথাযথ ও স্বাভাবিক উপায়ে জারি রাখার জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতার অবশ্য কর্তব্য হলো—সন্তানদের মাঝে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে তাদের মনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনুভূতি তৈরি করা।
বিভিন্ন বাস্তবিক কারণে অনেক পিতা-মাতার পক্ষে একাকী এমন কঠিন দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর হয় না। সেক্ষেত্রে সমাজের দায়িত্ব হলো—পরস্পরের মাঝে একটি যোগসূত্র (Network) তৈরি করা এবং সমাজের প্রত্যেকেই এই যোগসূত্রের আওতায় আনার চেষ্টা করা। অন্যান্য সমাজের ন্যায় মুসলিম সমাজেও কিছু ‘দুর্দশা’ পরিবার থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সমাজের কর্তব্য হলো—এই সকল পরিবারকে সহায়তার জন্য পরিকল্পিত কাঠামো নির্মাণ করা। সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব প্রধানত পিতা-মাতার ওপরই বর্তায়। সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা নিজ সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পালন করল কি না, তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে সমাজের খুব বেশি কিছু করার নেই।
কুরআন বলে— ‘একজন অপরজনের বোঝা বহন করবে না এবং কারও ওপর সাম্রাজ্যতত্ত্ব বোঝা চাপানো হয় না।’
বস্তুত পরিবার, সমাজ ও মানবতার জন্য কাজ করা প্রত্যেক মানুষেরই কর্তব্য।