📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 ফুকাহায়ে কেরামের সমাধান

📄 ফুকাহায়ে কেরামের সমাধান


অমুসলিমদের ঈদ মূলত তাদের কুফরি বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা তাদের কুফর-শিরকের একটি শিয়ার বলেই গণ্য হয়। আর এটাই মূলত সেখানে অংশগ্রহণে এত কঠোরতার মূল কারণ। আর স্পষ্টতই, কুফরের কোনো শিয়ারের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন, তা পছন্দ করা একজন মুমিনের ঈমানকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষ ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়। কুরআন, সিরাতে রাসুল ও এর আলোকে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এজন্যই ফুকায়ায়ে কেরাম অমুসলিমদের ঈদে অংশগ্রহণ করাকে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম বলেছেন। সেদিনের তাজিমকে স্পষ্ট কুফর বলেছেন। ইমাম যাইলায়ি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৭৪৩ হি.) লেখেন,
قال رحمه الله (والإعطاء باسم النيروز والمهرجان لا يجوز أي الهدايا باسم هذين اليومين حرام بل كفر، وقال أبو حفص الكبير رحمه الله لو أن رجلا عبد الله خمسين سنة ثم جاء يوم النيروز، وأهدى لبعض المشركين بيضة يريد به تعظيم ذلك اليوم فقد كفر، وحبط عمله... وقال في الجامع الأصغر رجل اشترى يوم النيروز شيئا لم يكن يشتريه قبل ذلك إن أراد به تعظيم ذلك اليوم كما يعظمه المشركون كفر، وإن أراد الأكل والشرب والتنعم لا يكفر. (تبيين الحقائق ٨٢٢/٦ , كتاب الخنثى, باب مسائل شتى)
নাসাফي রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'নাইরোজ এবং মেহেরজানের দিবস উপলক্ষে কোনো কিছু দেওয়া জায়েয নেই।' অর্থাৎ এই দুটি দিবস উপলক্ষে উপহার দেওয়া হারাম; বরং তা কুফর। আবু হাফস আল-কাবির বলেন, 'কেউ একজন ৫০ বছর আল্লাহ তাআলার ইবাদত করল, অতঃপর নাইরোজের দিবস এলে দিবসের প্রতি সম্মানবোধ করে কোনো মুশরিককে একটি ডিমই হাদিয়া দিলো, তাহলে সে কুফরি করল। তার সব আমল নষ্ট হয়ে গেল।...' যদি কোনো মুসলমান নাইরোজের দিন এমন কিছু ক্রয় করে যা সে অন্য সময় ক্রয় করে না, আর এই ক্রয়ের দ্বারা তার উদ্দেশ্য হয় উক্ত দিনকে সম্মান করা, তাহলে এই ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে। আর যদি সম্মান উদ্দেশ্য না হয়, শুধু খাবার বা অন্য উদ্দেশ্য হয়, তাহলে কাফের হবে না। (২৪৪)
মাওলানা আবদুল মালেক সাহেব দা. বা. বলেন, অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার ও অনুষঙ্গগুলো (যেগুলোর ভিত্তি স্পষ্টত তাদের ধর্মীয় ধ্যানধারণা ও বিশ্বাসের ওপর) কোনো মুসলমান পালন করা অথবা আগে বেড়ে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কিংবা তাদের ধর্মীয় নিদর্শনগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা স্পষ্ট হারাম এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কুফর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। (২৪৫)
এব্যাপারে এত শক্ত অবস্থানের মূল কারণ এটাই যে, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো তাদের ধর্মের একটি প্রতীক। আর কুফরের প্রতীককে সম্মান করা স্পষ্ট কুফর। এ ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত। আল্লামা ইবনুল আলা আল-হিন্দি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৮৬ হি.) লেখেন,
واتفق مشايخنا أن من رأى أمر الكفار حسنا فهو كافر.
আমাদের সকল আলেমের বক্তব্য হলো, কেউ যদি কাফেরের কোনো বিষয়কে ভালো বলে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। (২৪৬)
এইজন্যই সকল মাজহাবের ইমামগণই কাফেরদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণকে নাজায়েয বলেছেন এবং সেখানে উপস্থিত হওয়াকে আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত হওয়ার কারণ বলেছেন। শাফেয়ي মাজহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম লালাকায়ي রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪১৮ হি.) বলেন,
ولا يجوز للمسلمين أن يحضروا أعيادهم، لأنهم على منكر وزُورٍ، وإذا خالط أهل المعروف أهل المنكر بغير الإنكار عليهم كانوا كالراضين به المؤثرين له، فيُخشى من نزول سخط الله على جماعتهم فيعم الجميع، نعوذ بالله من سخطه» (أحكام أهل الذمة، فصل حكم حضور أعياد أهل الكتاب، دار عطاءات أهل العلم-رياض)
মুসলমানদের জন্য কাফেরদের ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিত হওয়া জায়েয নেই। কেননা, তারা মিথ্যা আর ঘৃণিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেগুলো করে। আর যখন সৎলোকেরা কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়াই অসৎ লোকদের সাথে মিশে, তখন স্বভাবতই তারা এ সকল কাজে সন্তুষ্ট রয়েছে এটাই প্রমাণ করে। এ ক্ষেত্রে আশঙ্কা রয়েছে যে, কাফেরসহ এদের সকলের ওপরই আল্লাহর ক্রোধ নিপতিত হবে। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর ক্রোধ থেকে পানাহ চাই। (২৪৭)
অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ তো হারাম, সে সকল অনুষ্ঠান উপলক্ষে অমুসলিমরা যে আয়োজন করে, যেগুলো অন্যসময় مسلمانوں জন্য বৈধ, সেগুলোকেও ফুকাহায়ে কেরাম এই উৎসব উপলক্ষে অপছন্দ করেছেন ও নাজায়েয বলেছেন। ইবনে আবি যায়েদ আল-মালেকি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৩৮৬ হি.) লেখেন,
ﻭﻛﺮﻩ ﻣﺎﻟﻚ ﺍﻟﺮﻛﻮﺏ ﻣﻌﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﺍﻛﺐ ﺍﻟﺘﻲ ﻳﺮﻛﺒﻮﻥ ﻓﻴﻬﺎ ﻷﻋﻴﺎﺩﻫﻢ ﻟﻤﺎ ﻳﺨﺎﻑ ﻣﻦ ﻧﺰﻭﻝ ﺍﻟﺴﺨﻂ ﻋﻠﻴﻬﻢ. ﻭﻛﺮﻩ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ ﺃﻥ ﻳﻬﺪﻱ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻟﻠﻨﺼﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﻋﻴﺪﻩ ﻣﻜﺎﻓﺄﺓ ﻟﻪ، ﻭﻗﺎﻝ ﻫﺬﺍ ﻋﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺗﻌﻈﻴﻢ ﻋﻴﺪﻩ ﻭﻛﻔﺮﻩ. ﻭﻻ ﻳﺒﺎﻉ ﺷﻲﺀ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻣﺼﻠﺤﺔ، ﻋﻴﺪﻫﻢ ﻟﺤﻢ ﻭﻻ ﺇﺩﺍﻡ ﻭﻻ ﺛﻮﺏ ﻭﻻ ﻋﺎﺭﻳﺔ ﺩﺍﺑﺔ، ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ ﻭﻏﻴﺮﻩ : ﻭﻳﻨﺒﻐﻲ ﻟﻺﻣﺎﻡ ﺍﻟﺰﺟﺮ ﻋﻦ ﺫﻟﻚ. (ﺍﻟﻨﻮﺍﺩﺭ ﻭﺍﻟﺰﻳﺎﺩﺍﺕ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺪﻭﻧﺔ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﻫﺎ ﻣﻦ ﺍﻷﻣﻬﺎﺕ ٤/ ٨٦٣، ﻓﻲ ﺫﺑﺎﺋﺢ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺃﻛﻞ ﻃﻌﺎﻣﻬﻢ ﻭﻃﻌﺎﻡ ﺍﻟﻤﺠﻮﺱ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ، ﺩﺍﺭ ﺍﻟﻐﺮﺏ ﺍﻹﺳﻼﻣﻲ-ﺑﻴﺮﻭﺕ-)
অমুসলিম তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন উপলক্ষ্যে যেসব বাহনে আরোহণ করে, ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ তাতে তাদের সাথে আরোহণ করতে অপছন্দ করেছেন। কেননা, এতে অমুসলিমদের ওপর আল্লাহর যে ক্রোধ অবতীর্ণ হয় তাতে মুসলিমদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। (২৪৮)

টিকাঃ
২৪৪. তাবয়িনুল হাকায়েক, ৬/২২৮; আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৭৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৭৭; আল-বাহরুর রায়েক, ৫/১৩৩
খলিল আহমাদ সাহারানপুরি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ১৩৪৬ হি.) লেখেন, وإن أراد بالشراء التنعم والتنزه وبالإهداء التحاب جريًا على العادة لم يكن كفرا، لكنه مكروه كراهة التشبه بالكفرة حينئذ فيحترز عنه.
ওই দিনকে সম্মান করা ছাড়া যদি কিছু ক্রয় করে, তাহলে তো কুফর হবে না, তবে কাজটি কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণে মাকরুহ হবে। তাই এ থেকে বেঁচে থাকা দরকার। বাজলুল মাজহুদ, ৫/২০৩
২৪৫. সূত্র, মাসিক আলকাউসার, নভেম্বর ২০১৯ খ্রি., প্রবন্ধ: উদারতা অর্থ আকীদা ও আদর্শের বিসর্জন নয়
২৪৬. ফাতাওয়া তাতারখানিয়্যা, ৭/৩৪৮; শরহু হামওয়ি, ২/৮৮; আল-বাহরুর রায়েক, ৫/১৩৩
২৪৭. আহকামু আহলিজ জিম্মাহ, ২/৪৬
২৪৮. আন-নাওয়াদির ওয়ায-যিয়াদাত, ইবনে আবু যায়েদ আল-মালেকি, ৪/৩৬৮

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 একটি প্রসিদ্ধ আপত্তি

📄 একটি প্রসিদ্ধ আপত্তি


অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও তাদের ঈদসমূহে অংশগ্রহণের ব্যাপারে একটি প্রসিদ্ধ আপত্তি তোলা হয়, আরে ভাই, আমরা তো সেখানে তাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করতে বা তাদের পূজা করতে যাই না, আমরা উৎসব হিসাবে একটু আনন্দ করতে যাই। এই খোঁড়া ও অন্তঃসারশূন্য আপত্তির জবাবে আমরা এতটুকু বলব, যা বহু শতাব্দী পূর্বে ইমাম যাহাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৪৮ হি.) বলে দিয়েছেন। তিনি লেখেন,
فإن قال قائل : إنا لا نقصد التشبه بهم؟ فيقال به : نفس الموافقة في أعيادهم و ومواسمهم حرام.... إذ لو قصده كفر، لكن نفس الموافقة و المشاركة لهم في ذلك حرام. تشبه الخسيس بأهل الخميس في رد التشبه بالمشركين ص ٠٣، دار عمار، ط. ٨٠٤١ هـ)
কেউ যদি বলে, এর দ্বারা মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য করা তো আমাদের উদ্দেশ্য নয়; তাহলে তাকে বলুন, মুশরিকদের সাথে উৎসব ও পার্বণে মিলে যাওয়া এবং খোদ অংশগ্রহণ করাটাই হারাম।... আর কাফেররা যে উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণ করে সে উদ্দেশ্যে একজন মুমিন অংশগ্রহণ করলে তো সে কাফেরই হয়ে যাবে। কিন্তু শুধু তাদের সাথে অংশগ্রহণটাই হারাম। (২৪৯)

টিকাঃ
২৪৯. তাশাব্বুহুল খাসিস বি-আহলিল খামিস, পৃ. ৩০

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে তাদের অভিনন্দন জানানো

📄 অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে তাদের অভিনন্দন জানানো


ঈদ যখন একটি ধর্মীয় শিয়ারের অন্তর্ভুক্ত, তখন ঈদ উপলক্ষে কোনো কাফেরকে অভিনন্দন জানানোর অর্থ কুফরি শিয়ারকে সম্মান দেখানো। যা সম্পূর্ণ হারাম এবং ক্ষেত্রবিশেষ একজন মুমিনকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
অভিনন্দন তো অনেক দূরের বিষয়, কেউ যদি কাফেরদের এই ধর্মীয় উৎসবকে সুন্দর বলে বা কল্যাণকর মনে করে, তাহলেও ফুকাহায়ে কেরام তার ব্যাপারে শক্ত শব্দ উচ্চারণ করেছেন। আল্লামা আবুল আলা আল-হিন্দি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৭৮৬ হি.) লেখেন,
اجتمع المجوس يوم النيروز فقال مسلم : خوب رسم نهاده اند أو قال : نيك آئي نهاده اند، خيف عليه الكفر.
নাইরোজের দিনে অগ্নিপূজকদের সমাগমকে যদি কোনো মুসলিম 'খুব ভালো অনুষ্ঠান এটি', অথবা 'এটি ভালো প্রভাব ফেলল' ইত্যাদি বলে, তাহলে তার ব্যাপারে কুফরির আশঙ্কা রয়েছে।(২৫০)
ইবনে আবদুল বার রহিমাহুল্লাহ বলেন,
ولا يبدأ أحد من أهل الذمة بالسلام ولا يقصدون بتهيئته
জিম্মিকে আগে সালাম দেবে না, এবং তাদেরকে অভিনন্দন জানাবে না।(২৫১)
হাম্বলি মাজহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম হাজাবি রহিমাহুল্লাহ বলেন,
وتحرم تهنئتهم.
কাফেরদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম।
এই কথার ব্যাখ্যায় বাহুতি রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
لأنه تعظيم لهم.
শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো তাদেরকে সম্মান করা।(২৫২)
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওযি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৫১ হি.) সুন্দর ভাষায় বলেছেন,
وأما التهنئة بشعائر الكفر المختصة به فحرام بالاتفاق، مثل أن يُهنئهم بأعيادهم وصومهم، فيقول : عيد مبارك عليك، أو تهنأ بهذا العيد ونحوه فهذا إن سلم قائله من الكفر فهو من المحرمات، وهو بمنزلة أن تُهنئة بسجوده للصليب بل ذلك أعظم إثماً عند الله، وأشدّ مقتاً من التهنئة بشرب الخمر وقتل النفس وارتكاب الفرج الحرام ونحوه . وكثير ممن لا قدر للدين عنده يقع في ذلك، ولا يدري قبح ما فعل، فمن هنا عبد بمعصية أو بدعة أو كفر فقد تعرض لمقت الله وسخطه
কোনো কুফরি আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, 'তোমাদের উৎসব শুভ হোক' কিংবা 'তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক' কিংবা এ জাতীয় অন্য কোনো কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরির পর্যায়ে নাও পৌঁছে, তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সেজদা দেওয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য গোনাহ। এটি মদ্যপান, হত্যা ও জিনা ইত্যাদির মতো অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই, তাদের অনেকে এ گোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, অথচ তারা এ گোনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোনো গোনাহের কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরি কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায়, সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে। (২৫৩)
মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানي সাহেব লেখেন,
غیر مسلموں کے تہوار ظاہر ہے کہ ان کے مشرکانہ اعتقادات پر مبنی ہوتے ہیں، اور مسلمان ہونے کی حیثیت سے ہمارے لئے شرک سے براءت اور بے تعلقی کا اظہار ضروری ہے، اس لے ان تہواروں میں مسلمانوں کا شریک ہونا جائز نہیں، فقہاء نے بھی بہت سختی کے ساتھ اس سے منع فرمایا۔
فتاوي سے منع فرمایا ہے : الخروج إلى نيروز المجوس والموافقة معهم فيما يفعلون في ذلك اليوم كفر (الفتاوى البزازية على هامش الهندية : ٣٣٣/٦ ، النوع السادس في التشبيه كتاب الفاظ تكون اسلاما أو كفرا أو خطأ.)
چونکہ یہ تہوار مشرکانہ فکر پر مبنی ہے، اس لئے ان پر مبارک باد دینا گویا ان کے نقطہ نظر کی تائید ہے، اس لئے اس سے بھی گریز کرنا چاہئے۔ چناچہ فقہاء نے مجوسیوں کو نیروز کی مبارک باد دینے سے منع کیا ہے اور اس سلسلہ میں کہا ہے :
‘قال مسلم خوب سیرت نهادند يكفر (الفتاوى التاتارخانية : ٢٢٥/٥، ملاحظا হু: (ফাতাওয়া বাযযাযিয়্যা: ৬/৩৩৩)।
বাহ্যিকভাবেই বোঝা যায়, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো তাদের শিরকি আকিদার ওপর ভিত্তি করে হয়। আর মুসলিম হওয়ার কারণে আমাদের ওপর আবশ্যক হলো, শিরক থেকে মুক্ত এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া। কাজেই তাদের ধর্মীয় উৎসবে মুসলিমদের অংশগ্রহণ জায়েয নয়। ফুকাহায়ে কেরাম এ ব্যাপারে খুব শক্তভাবে নিষেধ করেছেন।
মূর্তিপূজকদের নাইরোজ দিবস উপলক্ষে বের হওয়া এবং দিবস উপলক্ষে তারা যা করে, সেগুলো করা কুফর। (২৫৪)
যেহেতু এটি শিরকি আকিদার ওপর ভিত্তি করে হয়, তাই সে উপলক্ষে তাদের শুভেচ্ছা জানানোর কারণে কেমন জানি তাদের (শিরকি) আকিদার ব্যাপারে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অতএব তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ফুকাহায়ে কেরাম মূর্তিপূজকদের নাইরোজের দিবস উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে নিষেধ করেছেন। যেমন তারা বলেছেন,
যদি কোনো মুসলিম বলে, খুব সুন্দর অনুষ্ঠান। তাহলে সে কুফরি করল। (২৫৫) (২৫৬)
ভারতের প্রখ্যাত আলেম শাহিমুরাদাবাদের মুফতি শাব্বির আহমাদ কাসেমি হাফিজাহুল্লাহ লেখেন,
مسلمانوں کیلئے غیر مسلموں کے تہوار میں شریک ہو کر مبارکباد دینا حرام اور کفر کے قریب پونچا دیتا ہے، اس سے دور رہنا ہر مسلمان پر واجب ہے۔
মুসলমানদের জন্য কাফেরদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মুবারকবাদ দেওয়া ও শুভেচ্ছা জানানো হারাম। যা ব্যক্তিকে কুফরের পর্যায়ে নিয়ে যায়। এ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। (২৫৭)
জামিয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া বানুরি টাউনের ফাতাওয়া,
غیر مسلموں کے مذہبی تہوار کے موقع پر انہیں مبارک باد دینا یا ان کی جانب سے ان کے نظریہ کے مطابق کسی مسلمان کو اس دن کی تعظیم کے متعلق کلمات کہنا اور مسلمان کا جواب میں مبارک باد دینا دونوں جائز نہیں۔ ابتداء مبارک باد دینا یا مبارک بادی کا جواب دینا گویا ان کے نقطۂ نظر کی تائید ہے، جب کہ غیر مسلموں کے مذہبی تہوار مشرکانہ اعتقادات پر مبنی ہوتے ہیں۔ مسلمان ہونے کی حیثیت سے ہمارے لیے شرک سے بے زاری اور لا تعلقی کا اظہار ضروری ہے، اور مذہبی اعتقادات میں شرعی احکام کی تعمیل لازم ہے، اس سلسلہ میں کسی کی رضا یا ناراضی کی پرواہ نہیں کرنی چاہیے، مخلوق کی اطاعت اور ان کی رضا کی بجائے خالق کی اطاعت اور اس کی رضا کو مقدم رکھنا لازم ہے؛ لہذا دیوالی کی مبارک باد دینا یا مبارک بادی کے جواب میں مبارک باد کے کلمات کہنا جائز نہیں۔ اور اگر اس سے ان کے دین کی تعظیم یا اس پر رضامندی مقصود ہو تو کفر کا اندیشہ ہے۔
অমুসলিমদের কোনো ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে অভিনন্দন জানানো বা কোনো মুসলমানকে তাদের ধর্মের মতো করে সেই দিনটির জন্য সম্মানসূচক কোনো বাক্য বলা ও বিনিময়ে অপর মুসলিম অভিনন্দন জানানো বৈধ নয়। প্রথমত, অভিনন্দন জানানো বা অভিনন্দনের জবাব দেওয়ায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করা হয়। অন্যদিকে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো বহুশ্বরবাদী বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে হয়। একজন মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য শিরক থেকে অনাগ্রহ ও বিচ্ছিন্নতা প্রদর্শন করা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসে শরিয়তের বিধিবিধান মেনে চলা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে কারও সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির তোয়াক্কা করা যাবে না। সৃষ্টির আনুগত্য ও সন্তুষ্টির পরিবর্তে স্রষ্টার আনুগত্য ও সন্তুষ্টিকেই অগ্রগামী রাখতে হবে। তাই দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানো বা শুভেচ্ছার জবাবে অভিনন্দনজাতীয় শব্দ ব্যবহার জায়েয নেই। আর যদি এর অর্থ তাদের ধর্মকে সম্মান করা বা সম্মানের ব্যাপারে সমর্থন দেওয়া হয়, তাহলে কুফর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। (২৫৮)
শরিয়তের এমন স্পষ্ট বিধান থাকার পরেও আজ দুনিয়ার সামান্যকিছু অর্জনের জন্য মুসলিম সন্তানদের দেখা যায় খুব আয়োজন করে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানাতে! ফুকাহায়ে কেরাম মুখে একটু বলাকেই কতটা কঠিনভাবে দেখেছেন, সেখানে আজ তো পকেটের টাকা খরচ করে পোস্টার বানিয়ে কুফরি শব্দ দিয়ে তৈরি শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়া হয়! আরও দুঃখজনক হলো, এই কাজগুলোতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইসলামের নামে রাজনীতি করা ব্যক্তিবর্গ! গণতান্ত্রিক ভোটের রাজনীতির দোহাই দিয়ে এই হারাম কাজে এই শ্রেণিকেই সবচেয়ে বেশি লিপ্ত দেখা যায়। আমাদের ছোট মনে এই কথাটুকু বুঝে আসে না, আল্লাহর বেঁধে দেওয়া হারামের গণ্ডি মাড়িয়ে আল্লাহর জন্য মানুষ কীসের রাজনীতি করে! সাথে মনে আরেকটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, যে ব্যক্তি ক্ষমতার জন্য আল্লাহর হারামের গণ্ডিকে পদদলিত করতে পারে, সে কাল ক্ষমতায় গিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে যে আরও অসংখ্য বিধানের গলায় ছুরি চালাবে না তার নিশ্চয়তা কি আছে? সে যে ক্ষমতার জন্য ইসলাম ছেড়ে দেবে না, তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে? আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়ার সবচেয়ে দামি বস্তু নিজের ঈমানকে রক্ষা করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।

টিকাঃ
২৫০. ফাতাওয়া তাতারখানিয়্যা, ৭/৩৪; শরহু হামওয়ি, ২/৮৮; আল-বাহরুর রায়েক, ৫/১৩৩
২৫১. আল-কাফি ফি ফিকহি আহলিল মাদিনাহ, ২/১১৩৩
২৫২. কাশশাফুল কিনা, ৭/২৫৮
২৫৩. আহকামু আহলিয যিম্মাহ, ১/২৯৩
২৫৪. ফাতাওয়া বাযযাযিয়্যা, ৬/৩৩৩
২৫৫. ফাতাওয়া তাতারখানিয়্যা, ৫/৫২২
২৫৬. কিতাবুল ফাতাওয়া, ১/৩০৫, ঈমানিয়্যাত অধ্যায়
২৫৭. ফাতাওয়ায়ে কাসেমিয়া, ২৪/২৫০, প্রশ্ন ন. ১০৮৭৭
২৫৮. ফতোয়া নং: ১৪৪২০৩২০১৪৫০ লিংক : https://www.banuri.edu.pk/readquestion/dewali-ki-mubark-badi-ka-jawab-dena-144203201450/13-11-2020

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00