📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 কুরআনের নির্দেশনা

📄 কুরআনের নির্দেশনা


কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঈমান ও কুফরের পূর্ণ পার্থক্য করে দিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায় এবং মুমিনকে এই আদেশ করেছেন যেন সব কুফর ও তার ইবাদত থেকে নিজেকে মুক্ত থাকার ঘোষণা দেয়। আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহিমের ভাষায় মুমিনকে ঈমানের শিক্ষা দিচ্ছেন এভাবে,
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ وَ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءَاؤُا مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ.
নিশ্চয় তোমাদের জন্য ইবরাহিম ও তার সঙ্গীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে, যখন তারা আপন সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। (২২২)
আল্লাহ ছাড়া অন্য যারই ইবাদত করা হয় তা বাতিল, এই ঘোষণা আল্লাহ দিয়েছেন।
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ.
ওরা আল্লাহ ছাড়া যেসব বস্তুকে ডাকে, তা সম্পূর্ণ অসার। আর আল্লাহই মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ। (২২৩)
কুফর থেকেই শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং যারা এই কুফরের ধারকবাহক তাদেরকে থেকেও পূর্ণভাবে বেঁচে থাকার আদেশ করেছেন। আল্লাহ বলে দিয়েছেন, তাদেরকে যেন একজন মুমিন বন্ধু না বানায়। আল্লাহ তাআলা সুরা মায়েদায় উল্লেখ করেন,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَرَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ.
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধু বানিয়ো না। ওরা পরস্পর একে অন্যের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে-কেউ ওদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে ওদেরই মধ্যে (গণ্য) হবে। নিশ্চয় আল্লাহ জালেমদের হেদায়েত দান করেন না। (২২৪)
বন্ধু বানানোর একটি দিক হলো তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা ও তাদের ধর্মীয় উৎসবগুলোতে আনন্দ প্রকাশ করা। হাফেজ যাহাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৪৮ হি.) লেখেন,
قال العلماء : ومن موالاتهم التشبه بهم، وإظهار أعيادهم.
আলেমগণ বলেন, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব রাখার একটি চিত্র হলো, তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা এবং তাদের উৎসব পালন করা। (২২৫)
আর একজন শিরক থেকে মুক্ত মুমিনের গুণাবলিই হলো সে কখনোই শিরক ও মিথ্যার সংমিশ্রণ হয়ে যায় এমন স্থানে যাবে না। শিরক আর মিথ্যার সবচেয়ে বড় প্রকাশস্থল হলো অমুসলিমদের ধর্মীয় একেকটি উৎসব। আল্লাহ তাআলা মুমিনের এই বৈশিষ্ট্যটি এভাবে উল্লেখ করেন,
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ. এবং যারা 'যুরে' উপস্থিত হয় না। (২২৬)
উক্ত আয়াতের 'যুর' শব্দের ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., প্রখ্যাত তাবেয়ي মুফাসসির মুজাহিদ, মুহাম্মাদ বিন সিরিন এবং যাহহাক রহ.-সহ একদল সালাফ থেকে বর্ণিত আছে যে, এই আয়াতে 'যুর' শব্দের অর্থ হলো মুশরিকদের উৎসব। মুফাসসির ইবনে কাসির রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৭৪ হি.) লেখেন,
وقال أبو العالية، وطاوس، ومحمد بن سيرين، والضحاك، والربيع بن أنس، وغيرهم : هي أعياد المشركين.
আবুল আলিয়া, তাউস, মুহাম্মাদ বিন সিরিন, যাহহাক, রবি ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ এবং অন্য উলামায়ে কেরাম বলেন, 'যুর' অর্থ হলো মুশরিকদের উৎসব। (২২৭)
হাফেজ যাহাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৪৮ হি.) বলেন,
وقد مدح الله من لا يشهد أعياد الكفار ولا يحضرها، قال تعالى : وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ... [الفرقان : ۲۷] ، فمفهومه أن من يشهدها ويحضرها يكون مذموماً ممقوتاً، لأنه يشهد المنكر ولا يُمكنه أن يُنكره، وقد قال النبي ﷺ : ومن رأى منكم مُنْكَراً فَلْيُغَيره بيده، فإن لم يَسْتَطِعْ فبلسانه، فإن لم يَسْتَطِعْ فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان».
যারা কাফেরদের উৎসব প্রত্যক্ষ করে না, তাতে উপস্থিত হয় না, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ.
এবং যারা 'যুরে' উপস্থিত হয় না। (২২৮)
এর অর্থ হলো, যে-কেউ এটি প্রত্যক্ষ করবে এবং এতে উপস্থিত থাকবে, সে নিন্দনীয় এবং ঘৃণার পাত্র হবে, কারণ সে মন্দকে প্রত্যক্ষ করছে এবং তাতে আপত্তি করতে বা বাধা দিতে পারছে না। অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো অন্যায় কাজ দেখবে, তখন যদি তার সামর্থ্য থাকে তাহলে হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, আর যদি তা না থাকে, তাহলে মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, আর যদি সে শক্তিটুকুও না থাকে, তাহলে অন্তর দ্বারা তা ঘৃণা করবে, আর এটা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর। (২২৯)

টিকাঃ
২২২. সুরা মুমতাহিনা : ৪
২২৩. সুরা হজ: ৬২
২২৪. সুরা মায়েদা: ৫১
২২৫. তাশাব্বুহুল খাসিস বি-আহলিল খামিস ফি রদ্দিত তাশাব্বুহি বিল মুশরিকিন, পৃ. ৩৪
২২৬. সুরা ফুরকান: ৭২
২২৭. তাফসিরে ইবনে কাসির, ৬/১৩০। ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ মুজাহিদ রহ.-এর বক্তব্যও উল্লেখ করেছেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন, ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকিম, ১/৪৭৯-৪৮১; তাশাব্বুহুল খাসিস, পৃ. ২৬; আহকামু আহলিয যিম্মাহ, ২/৩৪৬
২২৮. সুরা ফুরকান: ৭২
২২৯. তাশাব্বুহুল খাসিস, পৃ. ৩৪-৩৫

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 হাদিসের শিক্ষা

📄 হাদিসের শিক্ষা


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবন যদি আমরা দেখি, তাহলে তিনি مسلمانوںকে কুফরের বিষ থেকে দূরে রাখতে সাধারণ থেকে সাধারণ বিষয়ে পর্যন্ত কাফেরদের বিপরীত কাজ করার আদেশ দিয়েছেন। কুফরের সামান্য রেশও যেন মুমিনদের জীবনে না পড়ে তাই রাসুলের স্পষ্ট ঘোষণা ছিল,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ.
যেকোনো দলের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ওই দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। (২৩০)
শুধু তাই নয়, অন্য হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও স্পষ্ট করে বলেছেন,
: «خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ : وَفِّرُوا اللَّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ.
তোমরা মুশরিকদের সাথে বৈসাদৃশ্য অবলম্বন করো। দাড়ি না কেটে রেখে দাও এবং গোঁফ খাটো করো। (২৩১)
মুশরিকদের উৎসবে অংশগ্রহণ তো পরের কথা, বাহ্যিক বেশভূষায়ও যেন কোনো মিল না থাকে, এই বিষয়েও নবীজি নির্দেশ দিয়েছেন।
শুধু মুশরিকই নয়, আহলে কিতাব ইহুদি-খ্রিষ্টানদের সাথেও বৈসাদৃশ্য অবলম্বন করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বলেছেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا، لَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ، وَلَا بِالنَّصَارَى.
যে অন্যদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইহুদি এবং নাসারাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করো না। (২৩২)
অমুসলিমদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার মূল কারণই হলো তাদের কুফর থেকে বেঁচে থাকা। এখন তাদের কুফরের সবচেয়ে বড় প্রকাশস্থল-দেব-দেবীর অর্চনা, শিরকি বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত উৎসব, যেখানে সরাসরি কুফরি বিশ্বাস ও আকিদার সর্বোচ্চ প্রকাশ হয়, সেখানকার ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভূমিকা কেমন হবে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনীর দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যান্য বিষয় থেকেও অমুসলিমদের ঈদ ও উৎসবের দিনগুলোতে মুসলিমদের স্বতন্ত্র রাখার বিষয়ে ছিলেন আরও বেশি সতর্ক ও কঠোর। আমরা যদি রাসুলের সিরাতের কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে এর উজ্জ্বল কিছু উদাহরণ দেখতে পাব।
ঘটনা এক
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় আসেন, তখন মদিনায় মুশরিকদের দুটি উৎসব পালিত হতো নাইরোজ আর মেহেরজান নামে।(২০৩) রাসুল তা দেখে স্পষ্ট নিষেধ করলেন এবং জানিয়ে দিলেন, এ সকল ঈদ মুসলমানের জন্য নয়। এর চেয়ে আরও উত্তম ও তাওহিদে পূর্ণ দুটি দিন مسلمانوں দেওয়া হলো। হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত,
عن أنس قال : «قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما، فقال : ما هذان اليومان ؟ قالوا : كنا نلعب فيهما في الجاهلية، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن الله قد أبدلكم بهما خيرا منهما يوم الأضحى، ويوم الفطر».
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, দুটি বিশেষ দিন তারা আনন্দ-উৎসব করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, এই দিনদুটি আসলে কী? তারা উত্তর দেন, জাহেলিয়াতে আমরা এই দুটি দিনে আনন্দ-উৎসব করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা এই দুটি দিনের পরিবর্তে তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। (২৩৪)
ঘটনা দুই
মদিনায় এসে অমুসলিমদের পালিত ঈদ থেকে মুসলিমদের নিষেধ করার পর অন্য আরেকটি ঈদের দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট বলে দেন। ঈদ প্রত্যেক ধর্মের আলাদা আলাদা বিষয়। প্রত্যেক ধর্মেরই রয়েছে নিজেদের স্বতন্ত্র ঈদ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় বললেন,
يا أبا بكر إن لكل قوم عيدا، وهذا عيدنا.
প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ঈদ রয়েছে আর এটি আমাদের ঈদ। (২৩৫)
ঘটনা তিন
মুসলিমদের ঈদ আর আনন্দের দিনগুলোকে চিহ্নিত করে দিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দেন,
يوم عرفة، ويوم النحر، وأيام التشريق، عيدنا أهل الإسلام.
আরাফা, কুরবানি আর তাশরিকের দিন হলো আমাদের মুসলিমদের ঈদ। (২৩৬)
ঘটনা চার
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় একজন মানত করল, অমুক জায়গায় সে উট জবাই করবে। সে আল্লাহর রাসুলের নিকট মাসআলা জানতে চাইলে আল্লাহর রাসুল জিজ্ঞেস করলেন,
هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ؟
সেখানে কি জাহেলি যুগের কোনো মূর্তি ছিল, যার পূজা করা হতো?
লোকেরা বলল, না। পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন,
هَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ؟
সেখানে কি অমুসলিমদের কোনো উৎসব হতো?
লোকেরা বলল, না। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
أَوْفِ بِنَذْرِكَ، فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ...
তুমি তোমার মানত পুরা করো। (এরপর বললেন, এসব প্রশ্ন এজন্য করা হয়েছে) কারণ, আল্লাহর নাফরমানিতে কোনো মানত গ্রহণযোগ্য নয়, এ ধরনের মানত পূরণ করাও জায়েয নয়। (২৩৭)

টিকাঃ
২৩০. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১
২৩১. সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৮৯২
২৩২, সুনানে তিরমিজি, হাদিস ২৬৯৫
২৩৩. আল্লামা খলিল আহমাদ সাহারানপুরি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১৩৪৬ হি.) লেখেন, ব্যাখ্যাকাররা হাদিসে উল্লেখিত 'দুই দিনের' ব্যাখ্যায় লিখেছেন, সে দুটি দিন হলো, নাইরোজ ও মেহেরজানের দিবস। (যা মুশরিকদের দুটি ঈদ ছিল।) বাজলুল মাজহুদ, ৫/২০২
২৩৪. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১১৩৪; সুনানে নাসায়ي, হাদিস ১৫৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১২০০৬ খলিল আহমাদ সাহারানপুরي রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১৩৪৬ হি.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় লেখেন,
قال المظهر : فيه دليل على أن تعظيم النيروز والمهرجان وغيرهما من أعياد الكفار منهي عنه.
মাজহার রহিমাহুল্লাহ বলেন, নাইরোজ ও মেহেরজানসহ কাফেরদের অন্যান্য উৎসবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য হাদিসটি অন্যতম একটি দলিল। বাজলুল মাজহুদ, ৫/২০২, বাবু সালাতিল ঈদাইন
২৩৫. সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৯৬
২৩৬. জামে তিরমিজি, হাদিস ৭৭৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৪১৯
২৩৭. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৩১৩

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান

📄 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান


অমুসলিমদের ঈদ-উৎসব থেকে পূর্ণ বিরত থাকার যে নির্দেশ ও রীতি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়ে গিয়েছেন তা পূর্ণ অনুধাবন করতে পেরেছিলেন হজরত সাহাবায়ে কেরাম রা.। এইজন্য তাদের জীবনের দিকে লক্ষ করলেও দেখা যায় তারা অমুসলিমদের শিরকের এ সকল ঈদ-উৎসব থেকে শক্ত ভাষায় মুসলিম উম্মাহকে নিষেধ করেছেন। হজরত উমর রা. বলেন,
ولا تدخلوا علي المشركين في كنائسهم يوم عيدهم، فإن السخطة تنزل عليهم.
তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিন তাদের গির্জায় যেয়ো না, কেননা তাদের ওপর গজব নাজিল হয়। (২৩৮)
তিনি আরও বলেন,
اجتنبوا أعداء الله في عيدهم.
তোমরা আল্লাহর শত্রুদের উৎসবের দিন তাদের থেকে দূরে থাকো।(২৩৯)
বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও শক্ত ভাষায় আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেন,
من بنى في بلاد الأعاجم فصنع نوروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك حشر معهم يوم القيامة.
যারা মুশরিকদের দেশে অবস্থান করে তাদের নববর্ষ এবং ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে, তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, অবশেষে এভাবেই মারা যায়, কেয়ামতের দিন এদেরকে মুশরিকদের সাথে হাশর করানো হবে।(২৪০)
অমুসলিমদের উৎসব উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা, তাদের উৎসব পালন করা বা সে ব্যাপারে সমর্থন প্রকাশ করাও যে সাহাবায়ে কেরাম পছন্দ করতেন না, তার একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত আলি রা.-এর সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। ইমাম আজম আবু হানিফা রহ.-এর নাতি ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ বলেন,
أَنا إِسْمَاعِيل بن حَمَّاد بن النعمان بن ثابت بن النُّعْمَانِ ابْنِ الْمَرْزُبَانِ من أَبْنَاء فارس الْأَحْرَارِ وَالله ما وقع علينا رق قط ولد جدي في سنة ثَمَانِينَ وَذهب ثابت إلى علي بن أبي طالب رضي الله عنه وَهُوَ صَغِير ودعا لَهُ بِالْبَرَكَةِ فِيهِ وَفِي ذُريَّته ونحن نرجو من الله ان يكون قد اسْتَجَابَ الله ذَلِك لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه فِينَا قَالَ والنعمان بن الْمَرْزُبَان أَبُو ثَابت هُوَ الَّذِي أَهْدَى إِلَى علي بن أبي طالب رضي الله عنه الفالوذج في يَوْم النيروز فَقَالَ نوروزنا كل يوم.
আমি ইসমাইল বিন হাম্মাদ বিন নুমান ইবনে সাবিত ইবনে নুমান ইবনে মারযুবান। আমরা হলাম পারস্যের স্বাধীন মানুষ। আল্লাহর কসম, আমাদের বংশে কখনো দাসত্বের দাগ লাগেনি। আমার দাদা (আবু হানিফা) জন্মগ্রহণ করেন ৮০ হিজরিতে। আমার দাদার বাবা সাবিত যখন ছোট, তখন একবার আলি ইবনে আবু তালিব রা.-এর কাছে যান। আলি রা. তার জন্য এবং তার বংশধরদের জন্য বরকতের দোয়া করে দেন। আল্লাহর কাছে আমাদের আশা, আমাদের বংশের ক্ষেত্রে আলি রা.-এর দোয়া কবুল করে নিয়েছেন। ইসমাইল বলেন, সাবিতের বাবা নুমান ইবনুল মারযুবান হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি পারস্যের নববর্ষের দিন আলি রা.-কে ফালুদা হাদিয়া দিয়েছিলেন। আলি রা. তখন বলেন,
নওরোজনা কুল ইওম।
মুসলমানদের প্রতিটি দিনই তো নববর্ষ! (২৪১)
এই ঘটনার আরেকটি বর্ণনা আছে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন রহিমাহুল্লাহ থেকে। ইবনে সিরিন রহিমাহুল্লাহ বলেন,
أتي علي رضي الله عنه بهدية النيروز فقال : ما هذه؟ قالوا : يا أمير المؤمنين هذا يوم النيروز، قال : فاصنعوا كل يوم فيروز. قال أبو أسامة: كره أن يقول نيروز.
একবার নববর্ষের দিন আলি ইবনে আবু তালিব রা.-এর কাছে হাদিয়া নিয়ে আসা হয়। আলি রা. জিজ্ঞাসা করেন, এটা কী? হাদিয়াদাতা উত্তর দেয়, আমিরুল মুমিনিন, আজ নববর্ষ। উত্তরে আলি রা. বলেন, তোমরা তোমাদের প্রতিটি দিনকে নববর্ষ বানিয়ে আমল করো। আবু উসামা বলেন, তিনি 'নাইরোজ' বলতে অপছন্দ করতেন, তাই 'ফাইরোজ' বলেছেন।
এর ব্যাখ্যায় ইমাম বাইহাকি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৫৮ হি.) বলেন,
وفي هذا كالكراهة لتخصيص يوم بذلك لم يجعله الشرع مخصوصا به.
স্বাভাবিক দিনের পরিবর্তে নববর্ষ হিসাবে আলাদা দিবস উল্লেখ করাটাকে আলি রা. অপছন্দ করেছেন। (২৪২)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হি.) লেখেন,
وأما علي رضي الله عنه، فكره موافقتهم في اسم يوم العيد الذي ينفردون به، فكيف بموافقتهم في العمل.
আলি রা. তাদের উৎসবদিবসের নাম মুখে নিতেই অপছন্দ করছেন, সেখানে তাদের অনুরূপ কর্ম কীভাবে করা যায়? (২৪৩)

টিকাঃ
২৩৮. মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, বর্ণনা ন. ১৬০৯; আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস ১৮৮৬১ ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হি.) লেখেন, وروى البيهقي بإسناد صحيح. বাইহাকি রহিমাহুল্লাহ হাদিসটি সহিহ সনদে রেওয়ায়েত করেছেন। ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, ১/৫৫১
২৩৯. আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস ১৮৮৬২
২৪০. আস-সুনানুল কুবরা, বর্ণনা ন. ১৮৮৬৪। ইবনে রজব হাম্বলি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৯৫ হি.) একই বক্তব্য সনদ ছাড়া আবদুল্লাহ ইবনে উমরের বরাতে উল্লেখ করেছেন। দেখুন, আল-হিকামুল জাদিরাতু বিল ইযাআহ, পৃ. ৫১
২৪১. আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবুহু, পৃ. ১৬; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৬/৩৯৫; আল-খাইরাতুল হিসাব ফি মানাকিবিল ইমামিল আজম আবি হানিফাতান নুমান, পৃ. ২২
২৪২. আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস ১৮৮৬৫; তাশাব্বুহুল খাসিস বি-আহলিল খামিস ফি রদ্দিত তাশাব্বুহি বিল মুশরিকিন, পৃ. ৪৯
২৪৩. ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহিম, ১/৫১৬

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 ফুকাহায়ে কেরামের সমাধান

📄 ফুকাহায়ে কেরামের সমাধান


অমুসলিমদের ঈদ মূলত তাদের কুফরি বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা তাদের কুফর-শিরকের একটি শিয়ার বলেই গণ্য হয়। আর এটাই মূলত সেখানে অংশগ্রহণে এত কঠোরতার মূল কারণ। আর স্পষ্টতই, কুফরের কোনো শিয়ারের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন, তা পছন্দ করা একজন মুমিনের ঈমানকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষ ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়। কুরআন, সিরাতে রাসুল ও এর আলোকে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এজন্যই ফুকায়ায়ে কেরাম অমুসলিমদের ঈদে অংশগ্রহণ করাকে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম বলেছেন। সেদিনের তাজিমকে স্পষ্ট কুফর বলেছেন। ইমাম যাইলায়ি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৭৪৩ হি.) লেখেন,
قال رحمه الله (والإعطاء باسم النيروز والمهرجان لا يجوز أي الهدايا باسم هذين اليومين حرام بل كفر، وقال أبو حفص الكبير رحمه الله لو أن رجلا عبد الله خمسين سنة ثم جاء يوم النيروز، وأهدى لبعض المشركين بيضة يريد به تعظيم ذلك اليوم فقد كفر، وحبط عمله... وقال في الجامع الأصغر رجل اشترى يوم النيروز شيئا لم يكن يشتريه قبل ذلك إن أراد به تعظيم ذلك اليوم كما يعظمه المشركون كفر، وإن أراد الأكل والشرب والتنعم لا يكفر. (تبيين الحقائق ٨٢٢/٦ , كتاب الخنثى, باب مسائل شتى)
নাসাফي রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'নাইরোজ এবং মেহেরজানের দিবস উপলক্ষে কোনো কিছু দেওয়া জায়েয নেই।' অর্থাৎ এই দুটি দিবস উপলক্ষে উপহার দেওয়া হারাম; বরং তা কুফর। আবু হাফস আল-কাবির বলেন, 'কেউ একজন ৫০ বছর আল্লাহ তাআলার ইবাদত করল, অতঃপর নাইরোজের দিবস এলে দিবসের প্রতি সম্মানবোধ করে কোনো মুশরিককে একটি ডিমই হাদিয়া দিলো, তাহলে সে কুফরি করল। তার সব আমল নষ্ট হয়ে গেল।...' যদি কোনো মুসলমান নাইরোজের দিন এমন কিছু ক্রয় করে যা সে অন্য সময় ক্রয় করে না, আর এই ক্রয়ের দ্বারা তার উদ্দেশ্য হয় উক্ত দিনকে সম্মান করা, তাহলে এই ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে। আর যদি সম্মান উদ্দেশ্য না হয়, শুধু খাবার বা অন্য উদ্দেশ্য হয়, তাহলে কাফের হবে না। (২৪৪)
মাওলানা আবদুল মালেক সাহেব দা. বা. বলেন, অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার ও অনুষঙ্গগুলো (যেগুলোর ভিত্তি স্পষ্টত তাদের ধর্মীয় ধ্যানধারণা ও বিশ্বাসের ওপর) কোনো মুসলমান পালন করা অথবা আগে বেড়ে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কিংবা তাদের ধর্মীয় নিদর্শনগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা স্পষ্ট হারাম এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কুফর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। (২৪৫)
এব্যাপারে এত শক্ত অবস্থানের মূল কারণ এটাই যে, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো তাদের ধর্মের একটি প্রতীক। আর কুফরের প্রতীককে সম্মান করা স্পষ্ট কুফর। এ ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত। আল্লামা ইবনুল আলা আল-হিন্দি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৮৬ হি.) লেখেন,
واتفق مشايخنا أن من رأى أمر الكفار حسنا فهو كافر.
আমাদের সকল আলেমের বক্তব্য হলো, কেউ যদি কাফেরের কোনো বিষয়কে ভালো বলে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। (২৪৬)
এইজন্যই সকল মাজহাবের ইমামগণই কাফেরদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণকে নাজায়েয বলেছেন এবং সেখানে উপস্থিত হওয়াকে আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত হওয়ার কারণ বলেছেন। শাফেয়ي মাজহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম লালাকায়ي রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪১৮ হি.) বলেন,
ولا يجوز للمسلمين أن يحضروا أعيادهم، لأنهم على منكر وزُورٍ، وإذا خالط أهل المعروف أهل المنكر بغير الإنكار عليهم كانوا كالراضين به المؤثرين له، فيُخشى من نزول سخط الله على جماعتهم فيعم الجميع، نعوذ بالله من سخطه» (أحكام أهل الذمة، فصل حكم حضور أعياد أهل الكتاب، دار عطاءات أهل العلم-رياض)
মুসলমানদের জন্য কাফেরদের ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিত হওয়া জায়েয নেই। কেননা, তারা মিথ্যা আর ঘৃণিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেগুলো করে। আর যখন সৎলোকেরা কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়াই অসৎ লোকদের সাথে মিশে, তখন স্বভাবতই তারা এ সকল কাজে সন্তুষ্ট রয়েছে এটাই প্রমাণ করে। এ ক্ষেত্রে আশঙ্কা রয়েছে যে, কাফেরসহ এদের সকলের ওপরই আল্লাহর ক্রোধ নিপতিত হবে। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর ক্রোধ থেকে পানাহ চাই। (২৪৭)
অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ তো হারাম, সে সকল অনুষ্ঠান উপলক্ষে অমুসলিমরা যে আয়োজন করে, যেগুলো অন্যসময় مسلمانوں জন্য বৈধ, সেগুলোকেও ফুকাহায়ে কেরাম এই উৎসব উপলক্ষে অপছন্দ করেছেন ও নাজায়েয বলেছেন। ইবনে আবি যায়েদ আল-মালেকি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৩৮৬ হি.) লেখেন,
ﻭﻛﺮﻩ ﻣﺎﻟﻚ ﺍﻟﺮﻛﻮﺏ ﻣﻌﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﺍﻛﺐ ﺍﻟﺘﻲ ﻳﺮﻛﺒﻮﻥ ﻓﻴﻬﺎ ﻷﻋﻴﺎﺩﻫﻢ ﻟﻤﺎ ﻳﺨﺎﻑ ﻣﻦ ﻧﺰﻭﻝ ﺍﻟﺴﺨﻂ ﻋﻠﻴﻬﻢ. ﻭﻛﺮﻩ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ ﺃﻥ ﻳﻬﺪﻱ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻟﻠﻨﺼﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﻋﻴﺪﻩ ﻣﻜﺎﻓﺄﺓ ﻟﻪ، ﻭﻗﺎﻝ ﻫﺬﺍ ﻋﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺗﻌﻈﻴﻢ ﻋﻴﺪﻩ ﻭﻛﻔﺮﻩ. ﻭﻻ ﻳﺒﺎﻉ ﺷﻲﺀ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻣﺼﻠﺤﺔ، ﻋﻴﺪﻫﻢ ﻟﺤﻢ ﻭﻻ ﺇﺩﺍﻡ ﻭﻻ ﺛﻮﺏ ﻭﻻ ﻋﺎﺭﻳﺔ ﺩﺍﺑﺔ، ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ ﻭﻏﻴﺮﻩ : ﻭﻳﻨﺒﻐﻲ ﻟﻺﻣﺎﻡ ﺍﻟﺰﺟﺮ ﻋﻦ ﺫﻟﻚ. (ﺍﻟﻨﻮﺍﺩﺭ ﻭﺍﻟﺰﻳﺎﺩﺍﺕ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺪﻭﻧﺔ ﻣﻦ ﻏﻴﺮﻫﺎ ﻣﻦ ﺍﻷﻣﻬﺎﺕ ٤/ ٨٦٣، ﻓﻲ ﺫﺑﺎﺋﺢ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺃﻛﻞ ﻃﻌﺎﻣﻬﻢ ﻭﻃﻌﺎﻡ ﺍﻟﻤﺠﻮﺱ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ، ﺩﺍﺭ ﺍﻟﻐﺮﺏ ﺍﻹﺳﻼﻣﻲ-ﺑﻴﺮﻭﺕ-)
অমুসলিম তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন উপলক্ষ্যে যেসব বাহনে আরোহণ করে, ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ তাতে তাদের সাথে আরোহণ করতে অপছন্দ করেছেন। কেননা, এতে অমুসলিমদের ওপর আল্লাহর যে ক্রোধ অবতীর্ণ হয় তাতে মুসলিমদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। (২৪৮)

টিকাঃ
২৪৪. তাবয়িনুল হাকায়েক, ৬/২২৮; আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৭৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৭৭; আল-বাহরুর রায়েক, ৫/১৩৩
খলিল আহমাদ সাহারানপুরি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ১৩৪৬ হি.) লেখেন, وإن أراد بالشراء التنعم والتنزه وبالإهداء التحاب جريًا على العادة لم يكن كفرا، لكنه مكروه كراهة التشبه بالكفرة حينئذ فيحترز عنه.
ওই দিনকে সম্মান করা ছাড়া যদি কিছু ক্রয় করে, তাহলে তো কুফর হবে না, তবে কাজটি কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণে মাকরুহ হবে। তাই এ থেকে বেঁচে থাকা দরকার। বাজলুল মাজহুদ, ৫/২০৩
২৪৫. সূত্র, মাসিক আলকাউসার, নভেম্বর ২০১৯ খ্রি., প্রবন্ধ: উদারতা অর্থ আকীদা ও আদর্শের বিসর্জন নয়
২৪৬. ফাতাওয়া তাতারখানিয়্যা, ৭/৩৪৮; শরহু হামওয়ি, ২/৮৮; আল-বাহরুর রায়েক, ৫/১৩৩
২৪৭. আহকামু আহলিজ জিম্মাহ, ২/৪৬
২৪৮. আন-নাওয়াদির ওয়ায-যিয়াদাত, ইবনে আবু যায়েদ আল-মালেকি, ৪/৩৬৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00