📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 শেষ কিছু নিবেদন

📄 শেষ কিছু নিবেদন


১। অমুসলিমদের সাথে مسلمانوں সম্পর্কের ধরন কেমন হবে? এই বিষয়ে শরিয়তের দিকনির্দেশনা কী? এটি বর্তমান সময়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হওয়ার মতো জরুরি একটি মাসআলা।
২. কুফরের অনেক প্রকার রয়েছে। কেউ জন্মগত কাফের আর কেউ ইসলামের নেয়ামত পাওয়ার পর কুফর গ্রহণ করে নেয়। কুফরের আরেকটি প্রকার হলো, যে নিজেকে কাফের বলে, অথবা কাফের না বললেও নিজের অবস্থানকে ইসলাম বা মুসলিম বলে দাবি করে না। এর বিপরীত হলো নিজের কুফরকে ইসলাম বলে চালিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জোরাজুরি করা। এই দৃষ্টিতে কুফরের অসংখ্য প্রকার হয় এবং প্রতি প্রকারের কাফেরের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রও একরকম নয়, বরং প্রতিটির বিশ্লেষণ রয়েছে যা এই কিতাবে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করা হয়েছে।
৩। শরিয়ত ও সুস্থ বিবেকের দৃষ্টিতে কুফর নিজেই একটি অপরাধ আর কাফের একজন অপরাধী। বস্তুবাদের এই যুগে মানুষ এটাকে যে নামে ও শিরোনামেই ব্যক্ত করুক অথবা যে রং ও ঢঙেই উপস্থাপন করুক, শরিয়তের দৃষ্টিতে কুফর সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং সবচেয়ে জঘণ্য অপরাধ এবং অসংখ্য অপরাধের গোড়া। দুনিয়ার সকল আইনেই অপরাধী ও নিরপরাধ নির্ণয়ের নিজস্ব মাপকাঠি ও প্রয়োগক্ষেত্র রয়েছে। সে বিবেচনায় অপরাধী ও নিরপরাধীর সাথে আচরণে পার্থক্য করা হয়। সকলের সাথে সমান আচরণ করা হয় না। ইসলামেও কাফের ও মুসলমানের সাথে একরকম আচরণ রাখা হয়নি। বড় আফসোসের বিষয় হলো, বর্তমানে মানুষ চুরি, ডাকাতি, জিনা ও গুম-খুনকে অপরাধ মনে করে কিন্তু এটাকে অপরাধই মনে করে না। অথচ কুফর হলো এই সকল অপরাধ থেকেও আরও বড় অন্যায় ও সকল অপরাধের মূল!
৪। মুসলিম-অমুসলিম সম্পর্ক নিয়ে যারা লিখেছে, তাদের পদস্খলনের দুটি বড় কারণ রয়েছে—
ক. শরিয়তের নুসুস ও ফুকাহায়ে কেরামের গবেষণার ব্যাপারে উদাসীনতা। অনেক আলেম তো এই বিষয়ে লেখার সময় শরিয়তের টেক্সটের দিকেও তেমন ভ্রুক্ষেপ করেন না। অথবা এক-দুটি বিক্ষিপ্ত ও আংশিক নস সামনে রেখে লিখে ফেলেন। জানি না কোন উদ্দেশ্যে তারা এই কাজটি করেন। যাইহোক, এটা অনেক বড় ভুল এবং বহু পথভ্রষ্টতার রাস্তা। সঠিক পদ্ধতি তো হলো, শরিয়তের সকল নসকে সামনে রেখে দ্বীনের মূলনীতির অধীনে থেকে মাসআলা সমাধানের চিন্তাভাবনা করা।
কিছু মানুষ তো এমন আছে শরিয়তের নস তো সামনে রাখে, কিন্তু ফুকাহায়ে কেরামের গবেষণার সাথে উদাসীনতার পরিচয় দেয় ও সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। এটাও একটি ভুল পদ্ধতি এবং বহু পদস্খলনের কারণ। যার মাঝে ইজতেহাদ করার কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা ও উপযুক্ততা না থাকে— বর্তমানে সে অবস্থাই বিরাজমান— তাদের জন্য ফুকাহায়ে কেরামের গবেষণা ও সিদ্ধান্তের বাহিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এ ছাড়া মাসআলার সঠিক সমাধান ও প্রকৃত শরয়ि বিধান পর্যন্ত পৌঁছা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
খ. এই মাসআলায় অসংখ্য ভুল ও পদস্খলনের দ্বিতীয় কারণ হলো কুফরকে অপরাধ মনে না করা। অথচ কুফরই হলো সবচেয়ে বড় অপরাধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00