📄 জবাব
একদিকে লেখার শুরুতে যেসব সুস্পষ্ট নস উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোতে কাফেরদের সাথে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা স্পষ্ট ও কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এগুলো অস্পষ্ট দলিল। 'ভালোবাসা' বিবাহের এমন অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, যা তা থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। এজন্যই বিবাহের অনুমতি আর ভালোবাসার সম্পর্ক না রাখার নসগুলো সাংঘর্ষিক নয়। বিপরীত কথা তখন হতো, একদিকে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখতে স্পষ্ট নিষেধ করা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে স্পষ্ট অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আসলে বিষয়টি এমন নয়।
আল্লামা জাসসাস রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
الآية إنما اقتضت النهي عن الوداد، والتحاب، فأما نفس عقد النكاح فلم تتناوله الآية، وإن كان قد يصير سببا للموادة، والتحاب، فنفس العقد ليس هو الموادة، والتحاب إلا أنه يؤدي إلى ذلك فاستحسنوا له غيرهن. (أحكام القرآن ١١٤/١، مطلب : الدهن المتنجس يجوز الانتفاع به بغير الأكل ويجوز بيعه بشرط بیان عيبه
আয়াতের ভাষ্য হলো, কাফেরদের সাথে পারস্পরিক অন্তরঙ্গতা রাখা অবৈধ, তবে তাদের সাথে কেবল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে উল্লিখিত আয়াত (এ বিষয়ে নীরব) অন্তর্ভুক্ত করে না, যদিও বিবাহের এই চুক্তিটি কখনো কখনো গভীর ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতার মাধ্যম হয়ে থাকে, কিন্তু বিবাহের চুক্তিটিই ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতাকে আবশ্যক করে না। তবে যেহেতু এটি সেদিকে মানুষকে ধাবিত করে, তাই ফকিহগণ আহলে কিতাব মহিলাদের বিবাহ না করে মুসলিম মহিলাদের বিবাহ করাকেই উত্তম বলেছেন। (১৯৭)
মনে রাখা চাই যে, স্বভাবজাত মুহাব্বত যা মনের অজান্তেই আসে এমন ভালোবাসা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে মানুষ মুকাল্লাফ নয়, তাই যদি আহলে কিতাব স্ত্রীর প্রতি স্বভাবজাত ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন করার কিছু নেই।
টিকাঃ
১৯৭. আহকামুল কুরআন, ২/১৮