📄 জবাব
এই আপত্তির ওপর আমরা যতই চিন্তাভাবনা করব, ততই এই সত্যটি ফুটে উঠবে যে, প্রকৃতপক্ষে এই আপত্তির মৌলিক উৎস হলো কুফর ও ইসলামের বৈশিষ্ট্য, উভয়ের প্রকৃত অবস্থান, কুফরের অস্বাভাবিক ক্ষতি এবং ইসলামের বিবিধ উপকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞতা, বা সেগুলো স্মরণে না রাখা। কুফর অর্থ অকৃতজ্ঞতা, অসম্মান, অবাধ্যতা এবং উপকারকারীর অকৃতজ্ঞ হওয়া। অথচ ইসলাম হলো আনুগত্য ও অনুসরণের সমষ্টি। কুফর গ্রহণ করার কারণে ব্যক্তি যে বেইনসাফি, বরং বিদ্রোহ ও অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, তার প্রতিকার স্বরূপ তার প্রতিও এই আচরণ করা হয়, তাহলে আপত্তি আসবে কেন?
ইসলামি শরিয়তের মহানুভবতা ও পরম অনুগ্রহ যে, কুফরের মতো বিশাল অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বাবস্থায় বিদ্রোহকে সমর্থন করে না, বরং জিম্মি হয়ে ও শান্তিচুক্তির মাধ্যম বেঁচে থাকার সুযোগ দেয় এবং মুসলিমদের অনুরূপ তাদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষিত ও নিরাপদ বলে ঘোষণা করে। শুধু নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিষিদ্ধ, যা পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
কাফেরদের সাথে সম্পর্কের এই সীমারেখা কাফেরদের নিজেদের জন্যও খুব উপকারী এবং সমস্ত দূরত্ব বাদ দিয়ে মুসলমানরা তাদের সাথে মেশা তাদের জন্যও ক্ষতিকর। এর কারণে তাদের মৌলিক দুর্বলতার অনুভূতি হবে।
অন্যদিকে এই বিভাজনরেখা ইসলামি সমাজ ও মুসলিম ব্যক্তিবর্গের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কুফর ও ইসলামের মধ্যে যদি দূরত্ব ও কার্যত পার্থক্য না থাকে, তাহলে আশঙ্কা রয়েছে শয়তানের অনুসারীরা মুসলিমদের বিশাল অংশকে ইরতেদাদ ও ধর্মত্যাগের দিকে নিয়ে যাবে।
এখানে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হওয়া উচিত, মুসলিম-কাফেরের বিভেদরেখা ঠিক রাখার অর্থ এই নয় যে, কাফেরের সাথে অন্যায় আচরণ করা হবে এবং তার জানমাল বা ইজ্জত বিনা কারণে লঙ্ঘিত হবে, বরং শরিয়ত এই নৃশংসতার দরজাকেও বন্ধ করে দিয়েছে। ভালোবাসা ও মুহাব্বত না থাকা এক জিনিস, আর জুলুম ও অন্যায় করা ভিন্ন জিনিস। শরিয়ত প্রথম মতকে সমর্থন দেয়। জুলুম ও অন্যায়ের প্রতি মোটেও প্রশ্রয় দেয় না।