📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 আধুনিক ইলহাদ ও জানাদাকা

📄 আধুনিক ইলহাদ ও জানাদাকা


বর্তমান জামানায় ইলহাদ ও জানদাকার তুফান চলছে যা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না! নিত্যদিন নতুন নতুন ফিতনা ও রংবেরঙের পথভ্রষ্টতা সমাজে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ এগুলো দ্রুত শেষ করে দিন। আমিন। বড় দুঃখজনক বিষয় হলো, অতীতের তুলনায় বর্তমানে ইলহাদ ও জানদাকার আসবাব ও উপকরণ ও সেগুলোর উপযোগী পরিবেশ অনেক বেশি। যার কারণে অসংখ্য রূপে সেগুলো প্রকাশিত হচ্ছে। মৌলিকভাবে ইলহাদ ও জানদাকার দুটি বাহ্যিক সুরত রয়েছে। এক. দ্বীনের আকৃতি ধারণ করা জানদাকা। দুই. দুনিয়ার শিরোনামে ছড়ানো জানদাকা।
প্রথম সুরত কাদিয়ানি, আগাখানি, রাফেজি, মুনকিরিনে হাদিস ইত্যাদি দলগুলোর রূপে প্রকাশ হয়। এরা নিজেদের কাজগুলোকে ইসলামের নামে প্রকাশ করে, কিন্তু কুফরি বিশ্বাস ও মতবাদ নিজেদের মাঝে পোষণ করে। নিজেদের খুব জোরেশোরে মুসলমান বলে প্রকাশ করে। সাথে দ্বীনের বহু অকাট্য বিষয় অস্বীকার করে। আবার মানুষকেও নিজেদের এই সকল গোমরাহি ও কুফরের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। উম্মতের একটি বড় অংশ এদের ফিতনার জালে আটকা পড়ে সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গোমরাহির অতল সমুদ্রে হারিয়ে গিয়েছে।
আর দ্বিতীয় সুরত যা দুনিয়ার শিরোনামে প্রকাশ হয়। সেটা হলো ইসলামের বিপরীত বিভিন্ন জীবনব্যবস্থাকে নিজেদের জন্য বেছে নেয় এবং সেগুলোকে অনেকটা ধর্মের মতোই গ্রহণ করে থাকে। এই মতাদর্শের ফিতনা বোঝার জন্য আবুল হাসান আলি নদবির ছোট্ট পুস্তিকা (ردة ولا أبا بكر) (চারদিকে রিদ্দাহের ফিতনা, নেই কোনো আবু বকর) পড়া যেতে পারে। যার উর্দু অনুবাদও রয়েছে। (১৯৬)
মনে রাখা দরকার, সাধারণ কুফর থেকেও উম্মাহর জন্য জানদাকা বেশি ক্ষতিকর। কেননা তা আস্তিনের ভেতরে থেকে মুসলিমদের মাঝে দ্বীনের নামে কুফর ছড়িয়ে দেয়। ইসলামের নামে তাদের পথভ্রষ্টতা প্রচার করতে থাকে, যার কারণে ইসলামের ঐক্যের মাঝে ফাটল সৃষ্টি হয়। তাদের কথার ধোঁকায় পড়ে কত মুসলমান মনের অজান্তেই ইসলামের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন! কিন্তু একজন সাধারণ কাফেরের দ্বারা এমন ক্ষতি হয় না। এজন্য উম্মতের রাহবারগণের ও কল্যাণকামীদের উচিত এ সকল জিন্দিক থেকে নিশ্চিন্ত না হয়ে যাওয়া, বরং তাদের ব্যাপারে যে শরয়ि বিধান আছে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাওয়া। আর যেখানে তা সম্ভব নয়, সেখানে এই গোমরাহি থেকে উম্মাহর ঈমানের সম্পদ বাঁচানোর জন্য নিজেদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাওয়া।

টিকাঃ
১৯৬. বইটির চমৎকার বাংলা অনুবাদ করেছেন শ্রদ্ধেয় মাওলানা হাসান আজিজ হাফিজাহুল্লাহ 'ধর্মহীনতার ভয়াল স্রোত; নেই কোনো আবু বকর' নামে। প্রকাশ করেছে সঞ্জীবন প্রকাশনী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00