📄 মুরতাদের সম্পদ ও মালিকানার বস্তুর বিধান
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনটি মাসায়েল-
১. মুরতাদের সম্পদের বিধান।
২. মুরতাদের ওয়ারিস হওয়ার বিধান।
৩. মুরতাদের ঋণের হুকুম।
সম্পদের বিধানের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার রায় হলো, যেহেতু মুরতাদকে হত্যাই করে ফেলা হবে, তাই তার সকল সম্পদ থেকে তার মালিকানা বাতিল হয়ে যাবে। সে আর তার সম্পদের মালিক থাকবে না। তবে যেহেতু তার ইসলাম গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুরও সম্ভাবনা রয়েছে, তাই মালিকানা বাতিল হওয়ার বিষয়টি স্থগিত থাকবে। যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে নেয়, তাহলে পূর্বের মতোই সকল সম্পদের মালিক থেকে যাবে। আর যদি মুরতাদ অবস্থায় তাকে হত্যা করে ফেলা হয়, তাহলে তার সম্পদ ওয়ারিসদের হয়ে যাবে। আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ রহ.-এর নিকট শুধু মুরতাদ হওয়ার মাধ্যমেই তার মালিকানা বাতিল হবে না। যখন তাকে এই অপরাধে হত্যা করা হবে বা সে মুরতাদ হয়ে কোনো দারুল হারবে স্থায়ীভাবে চলে যাবে তখন বাতিল হবে। তুহফাতুল ফুকাহা গ্রন্থে রয়েছে,
ومنها حكم مال المرتد وتصرفاته قال أبو حنيفة إنه موقوف فإن مات أو قتل على ردته أو لحق بدار الحرب بطل جميع ذلك إلا أن يدعي ولد جارية له فيثبت نسبه وتصير الجارية أم ولد له، وإن أسلم صح ذلك كله لأن ماله موقوف عنده بين أن يصير لورثته من وقت الردة وبين أن يبقى له إذا أسلم فالتصرفات المبنية عليه كذلك، وعند أبي يوسف تصرفاته صحيحة مثل تصرف الصحيح، وعند محمد تصرفاته مثل تصرف المريض لا تصح تبرعاته إلا من الثلث لأن عندهما ملكه باق بعد الردة وإنما يزول بالموت والقتل وإلحاق بدار الحرب. (تحفة الفقهاء ۱۳/۳، كتاب السير، باب أخذ الجزية، ط. دار الكتب العلمية)
অর্থাৎ, ইমাম আবু হানিফার মতে, মুরতাদের সম্পদ ও সকল ধরনের হস্তক্ষেপ স্থগিত থাকবে। যদি মুরতাদ অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয় অথবা সে দারুল হারবে চলে যায়, তাহলে এ সবকিছু বাতিল হয়ে যাবে। আর মুসলমান হলে মালিকানাও থাকবে এবং তার হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে। ইমাম আবু ইউসুফের মতে একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতোই মুরতাদ ব্যক্তির সকল হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে। আর ইমাম মুহাম্মাদের মতে এমন ব্যক্তির সম্পদ ও তার হস্তক্ষেপ মুমূর্ষু ব্যক্তির হুকুমে। অর্থাৎ তার সকল বিষয় সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যেই কার্যকর হবে। মোটকথা, ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের নিকট মুরতাদ হওয়ার পরেও ব্যক্তির মালিকানা বাকি থাকবে। তবে এই অবস্থায় তাকে হত্যা করা হলে বা দারুল হারবে চলে গেলে মালিকানা বাতিল হয়ে যাবে। (১৮৫)
টিকাঃ
১৮৫. তুহফাতুল ফুকাহা, ৩/৩১০
📄 মুরতাদের ওয়ারিশের হুকুম
কোনো ব্যক্তি যদি মুরতাদ অবস্থায় মারা যায়, তাহলে তার সম্পদের দুটি অবস্থা হয়।
ক. ওই সকল সম্পদ যা সে ইসলামে থাকাবস্থায় কামাই করেছে। সর্বসম্মতিক্রমে এই সম্পদ মুরতাদের ওয়ারিসগণ পাবে।
খ. ওই সকল সম্পদ যা সে মুরতাদ অবস্থায় কামাই করেছে। এ নিয়ে ইমাম আবু হানিফা আর ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফার মতে এই সম্পদ 'মালে ফাই' (১৮৬) বলে গণ্য হবে। আর সাহেবাইনের নিকট এই সম্পদগুলোও ওয়ারিসরা পাবে। 'আল-জামিউস সগির' গ্রন্থে রয়েছে,
مُرْتَد لَهُ مَال اكْتَسبهُ فِي حَالَ الْإِسْلَام وَمَال اكْتَسبهُ فِي حَالَ الرَّدَّةِ فَأَسلم فَهُوَ لَهُ وَإِن لحق بدار الحَرْب أَو مَاتَ على ردته فَمَا كَانَ لَهُ حَالَ الْإِسْلَامِ فَهُوَ لَوَرِثَته وَمَا كَانَ فِي حَالَ الرَّدَّة فَهُوَ فَيْء وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَمُحَمّد (رحمهما الله) جَميع ذَلِك لورثته. (الجامع الصغير ص ٦٠٤ ، كتاب السير، باب الارتداد و اللحاق بدار الإسلام، ط. دار الأيمان سهارنبور)
মুরতাদ ব্যক্তি মুসলমান থাকাবস্থায় অথবা মুরতাদ হয়ে যাওয়ার পর যে সম্পদ অর্জন করেছে, সবগুলোই তার মালিকানাধীন হবে, যদি সে ইসলাম কবুল করে নেয়। তবে মুরতাদ হওয়ার পর সে যদি কোনো দারুল হারবে চলে যায়, তাহলে মুসলমান থাকাবস্থায় যা কামিয়েছে তা ওয়ারিসরা পাবে আর মুরতাদ অবস্থায় যা কামিয়েছে তা 'মালে ফাই' বলে গণ্য হবে। এটা ইমাম আবু হানিফার মত। আর সাহেবাইনের (আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ) নিকট ব্যক্তির উভয় অবস্থার কামানো সব মালই তার ওয়ারিসরা পাবে। (১৮৭)
ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ রচিত 'কিতাবুল আসল' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,
قلت : أرأيت الرجل إذا ارتد عن الإسلام فاكتسب مالا في ردته أيكون ميراثا بين ورثته؟ قال : لا، ولكن يكون فيئا في بيت المال. قلت : ولم؟ قال : لأنه اكتسبه وهو مرتد حلال دمه بمنزلة أهل الحرب. وقال أبو يوسف ومحمد : نرى أن ما اكتسبه في ردته ميراث لورثته، ونرى عتقه في ردته جائزا، ولا يكون شيء مما اكتسبه في دار الإسلام فيئا، إلا أن محمدا قال في ذلك : هو فيما أعتق أو باع أو اشترى بمنزلة المريض.... قلت : فإن أبى أن يسلم فقتله الإمام أيقسم ماله بين ورثته على فرائض الله تعالى؟ قال : نعم. قلت : فهل بلغك في هذا أثر؟ قال : نعم، بلغنا عن علي بن أبي طالب أنه قتل مرتدا وقسم ماله بين ورثته على فرائض الله تعالى. وبلغنا نحو من ذلك عن علي وعبد الله بن مسعود.
قلت : أرأيت الرجل إذا ارتد عن الإسلام هل تقسم ماله بين ورثته وهو مقيم في الدار قبل أن تقتله؟ قال : لا . قلت : فإن لحق بأرض الحرب ثم رفع ذلك إلى الإمام هل تقسم ماله بين ورثته؟ قال : نعم. قلت : وتعد هذا بمنزلته لو مات؟ قال : نعم. (الأصل ٥٩٤/٧ ، باب الأحكام في الارتداد عن الإسلام، تــ د محمد بوينوكالن)
অর্থাৎ, ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর নিকট মুরতাদ অবস্থায় অর্জিত সম্পদ 'মালে ফাই' বলে গণ্য হবে। তা ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন হবে না। কেননা ইরতেদাদের কারণে সে হত্যাযোগ্য হয়ে হারবিদের হুকুমে হয়ে গেছে। আর সাহেবাইনের নিকট ইরতেদাদ অবস্থায় অর্জিত সম্পদ ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন হবে। কেননা দারুল ইসলামে অর্জিত সম্পদ 'মালে ফাই' হয় না। তবে ইমাম মুহাম্মাদের নিকট মুরতাদ অবস্থায় নেককাজে খরচ করা, যেমন গোলাম আজাদ ইত্যাদিতে সে মুমূর্ষু ব্যক্তির হুকুমে হবে। অর্থাৎ, এ সকলকিছু তার এক-তৃতীয়াংশের মাঝেই কার্যকর হবে।... মুরতাদ দ্বিতীয়বার ইসলাম কবুল করা থেকে বিরত থাকার ফলে যদি ইমাম তাকে হত্যা করে, তাহলে তার মাল ওয়ারিসদের মাঝে ইসলাম অনুযায়ী বণ্টন হবে। এর দলিল হলো হজরত আলি রা.-এর আমল, তিনি এক মুরতাদকে হত্যা করে তার সম্পদ ইসলাম অনুযায়ী ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করেছেন। তেমনইভাবে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও এমন বর্ণনা রয়েছে। হ্যাঁ, হত্যার পূর্বে যতক্ষণ সে দারুল ইসলামে আছে তার সম্পদ ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করা হবে না। যদি মুরতাদ হয়ে সে কোনো দারুল হারবে চলে যায়, তাহলে সে মৃত ব্যক্তির হুকুমে চলে যাবে আর তার সম্পদ ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করা হবে। (১৮৮)
আল-ইখতিয়ার গ্রন্থে রয়েছে,
ويزول ملكه عن أمواله زوالا مراعى، فإن أسلم عادت إلى حالها، وإن مات أو قتل أو لحق بدار الحرب وحكم بلحاقه عتق مدبروه وأمهات أولاده وحلت الديون التي عليه ونقلت أكسابه في الإسلام إلى ورثته المسلمين، وأكساب الردة فيء. (الاختيار لتعليل المختار ٦٤١/٤ ، كتاب السير، فصل المرتد)
মুরতাদের মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে যাবে তবে তা রক্ষিত থাকবে। যদি সে ইসলাম কবুল করে, তাহলে তার মালিকানা পূর্বের মতো থাকবে। আর যদি মারা যায় বা তাকে হত্যা করা হয় অথবা সে কোনো দারুল হারবে চলে যায় এবং কাজির পক্ষ থেকে তাকে দারুল হারবে সম্পৃক্ত হওয়ার হুকুম লাগিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তার ওপর যে মেয়াদী ঋণ ছিল তা তৎক্ষণাৎ আদায় করা হবে। ইসলাম অবস্থায় সে যা সম্পদ কামিয়েছে তা ওয়ারিসদের হয়ে যাবে আর মুরতাদ অবস্থায় যা কামিয়েছে তা 'মালে ফাই' বলে গণ্য হবে। (১৮৯)
টিকাঃ
১৮৬. কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার পরে যদি যুদ্ধ ছাড়াই তাদের সম্পদ হস্তগত হয়, তাহলে সেটাকে মালে ফাই বলা হয়। (আব্দুল্লাহ)
১৮৭. আল-জামিউস সগির, পৃ. ৪০৬
১৮৮. আল-আসল, ইমাম মুহাম্মদ, ৭/৪৯৫
১৮৯. আল-ইখতিয়ার, ৪/১৪৬
📄 মুরতাদের ঋণের হুকুম
যদি মুরতাদ ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যায়, তাহলে সাহেবাইনের নিকট তার রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পদ থেকে তা পরিশোধ করা হবে, চাই তা ইসলামে থাকা অবস্থার কামাই হোক বা মুরতাদ হওয়ার পরের। ইমাম আবু হানিফা থেকে এই বিষয়ে একাধিক বক্তব্য বর্ণনা করা হয়। একটি বর্ণনা হলো, মুসলমান থাকা অবস্থায় যে ঋণ তা সে অবস্থার কামাই থেকে পরিশোধ করা হবে। আর মুরতাদ অবস্থার ঋণ মুরতাদ অবস্থার কামাই দিয়ে পূরণ করা হবে। তবে গ্রহণযোগ্য বর্ণনা হলো, প্রথমত মুসলমান থাকা অবস্থার সম্পদ দিয়েই ঋণ আদায় করার চেষ্টা করা হবে। তবে ঋণ যদি এত বেশি হয় যা মুসলমান অবস্থার সম্পদ দিয়ে পূরণ সম্ভব না, তখন মুরতাদ অবস্থার সম্পদ দিয়ে ঋণ পূরণ করা হবে। (১৯০) আল-ইখতিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে,
وحلـت الـديـون الـتـي عـلـيـه ونقلـت أكسابه في الإسلام إلى ورثته المسلمين، وأكساب الردة فيء (سم)، وتقضى ديون الإسلام من كسب الإسلام، وديون الردة من كسبها (سم)، فإن عاد مسلما فما وجده في يد وارثه من ماله أخذه. (الاختيار لتعليل المختار ٦٤١/٤ ، كتاب السير، فصل المرتد)
মুরতাদের মেয়াদী ঋণ তৎক্ষণাৎ আদায় করা হবে। ইসলাম অবস্থায় সে যা কামিয়েছে তা ওয়ারিসরা পাবে আর মুরতাদ অবস্থার সম্পদ 'মালে ফাই' বলে গণ্য হবে। মুসলমান থাকা অবস্থায় সে যে ঋণগ্রস্ত হয়েছিল তা মুসলমান অবস্থার সম্পদ থেকে আদায় করা হবে। আর মুরতাদ অবস্থারটা সে অবস্থার সম্পদ থেকে। মুরতাদ ব্যক্তি যদি পুনরায় ইসলাম কবুল করে দারুল হারব থেকে চলে আসে, তখন ওয়ারিসদের কাছে তার যে সম্পদ তখন থাকবে সে ফিরিয়ে নিতে পারবে। (১৯১)
টিকাঃ
১৯০. বাদায়েউস সানায়ে, ৭/১৩৯, কিতাবুস সিয়ার, বায়ানু আহকামিল মুরতাদ্দিন
১৯১. আল-ইখতিয়ার, ৪/১৪৭
📄 মুরতাদের হস্তক্ষেপে বিধান
মুরতাদের হস্তক্ষেপ চার প্রকারের।
১. ওই সকল হস্তক্ষেপ যা সর্বসম্মতিক্রমে কার্যকর হবে। সেগুলো হলো যার জন্য কোনো ধর্ম শর্ত নয়। যেমন তালাক।
২. ওই সকল হস্তক্ষেপ যা সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল। সেগুলো হলো যার জন্য আসমানي ধর্ম শর্ত। যেমন বিবাহ, জবাইকৃত পশু হালাল হওয়া।
৩. সে সমস্ত হস্তক্ষেপ যা সর্বসম্মতিক্রমে স্থগিত থাকবে। যেমন শিরকতে মুফাওয়াজা। (১৯২) কেননা শিরকতে মুফাওয়াজা সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো উভয় শরিক সকল ধরনের অধিকারে সমান হওয়া। আর মুরতাদ অনেক অধিকারেই মুসলমানের সমান নয়।
৪. ওই সকল হস্তক্ষেপ যা কার্যকর হওয়া আর না হওয়ার বিষয়টি ফকিহদের মাঝে মতানৈক্যপূর্ণ। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ভাড়া ইত্যাদি। ইমাম আবু হানিফার নিকট এ সকল হস্তক্ষেপ স্থগিত থাকবে। যদি ইসলাম কবুল করে তাহলে কার্যকর হবে, অন্যথায় নয়। আর সাহেবাইনের নিকট এ সকল হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে। বাকি ইমাম মুহাম্মাদের নিকট এমন ব্যক্তির হুকুম মুমূর্ষু ব্যক্তির মতো। তার সকল হস্তক্ষেপ শুধু সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মাঝে কার্যকর হবে। আর ইমাম আবু ইউসুফের নিকট স্বাভাবিক মানুষের মতো পুরো সম্পদের মাঝেই তার হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে।
জামিউস সগির গ্রন্থে আছে,
مرتد أعتق أو وهب أو باع أو اشترى ثم أسلم جاز ما صنع وإن لحق أو مات على ردته بطل ذلك كله وقال أبو يوسف ومحمد (رحمهما الله) يجوز ما صنع في الوجهين وقال محمد رحمه الله هو في ذلك بمنزلة المريض. (الجامع الصغير ص ٦٠٤، كتاب السير، باب الارتداد و اللحاق بدار الإسلام، ط. دار الأيمان সেহারনপুর। وليرجع للاستزادة : الهداية في شرح بداية المبتدي، شرح السير الكبير، باب ما يوافق من أمر المرتدين ومالا يوقف من ذلك)
মুরতাদ যদি গোলাম আজাদ করে বা কোনো হাদিয়া দেয় অথবা কোনো ক্রয়-বিক্রয় করে, এ সকল লেনদেনের বিধান হলো, সে যদি ইসলাম কবুল করে তাহলে কার্যকর হবে। আর যদি এই অবস্থায় সে মারা যায় বা দারুল হারবে চলে যায়, তাহলে এসব হস্তক্ষেপ বাতিল বলে গণ্য হবে।(১৯৩)
ফায়েদা : এই মতানৈক্য মুরতাদ পুরুষের সাথে প্রযোজ্য। আল্লাহ না করুন, যদি কোনো নারী মুরতাদ হয়, তাহলে হানাফিদের নিকট যেহেতু তাকে হত্যা করা ওয়াজিব নয়, তাই তার এ সকল হস্তক্ষেপ কার্যকর হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৯২. শিরকতে মুফাওয়াজা বলা হয়, এমন শিরকত যেখানে শরিকদের সবকিছুতেই একরকম হতে হয়, এমনকি উভয়ের ধর্মও এক হতে হয়।
১৯৩. আল-জামিউস সগির