📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 মুরতাদ হওয়ার হেকমত

📄 মুরতাদ হওয়ার হেকমত


এটাই হলো সকল আপত্তির মৌলিক জবাব। এ ছাড়া সাধারণ কাফের আর মুরতাদের বিধানের পার্থক্যের অন্যতম একটি হেকমত এটা বুঝে আসে যে, মুরতাদের সম্পর্ক একসময় ইসলামের সাথে ছিল। সে ইসলামধর্ম স্বীকার করত এবং তাকে নিজের ধর্ম জানত। কোনো বিষয়কে ধর্ম মানার অর্থই হলো তাকে জীবনের সবকিছু থেকে বেশি সম্মান করা। যার কারণে মানুষ নিজের জানমাল সবকিছু কুরবান করে দিতে পারে। এখন কোনো বিশ্বাসকে নিজের ধর্ম হিসাবে কবুল করে নেওয়ার পর তা ছেড়ে দিয়ে বিপরীত কোনো বিশ্বাস মেনে নেওয়ার একটি আবশ্যকীয় অর্থ এই দাঁড়ায় যে, সম্ভবত তার আগের ধর্মে কোনো দুর্বলতা রয়েছে। নাহলে যে ধর্মের জন্য সে জীবন দিতে প্রস্তুত তা কেন ছেড়ে দেবে!
জ্ঞানী ও অনুসন্ধানী মানসিকতার মানুষদের কাছে কোনো ব্যক্তির এমন আচরণ তেমন প্রভাব সৃষ্টিকারী হবে না। কিন্তু জনসাধারণের জন্য এটা বড় ধরনের বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয় যে, একজনের দেখাদেখি অন্যরাও কোনো দুনিয়ার লোভে পড়ে ঈমান বিক্রি করে বসবে। ইসলাম ত্যাগকারী ব্যক্তি সমাজে যত গ্রহণযোগ্য হবে, ততই তার অনিষ্টতা সমাজকে গ্রাস করতে থাকবে। আর এটা শুধুই ধারণাপ্রসূত বক্তব্য নয়। বরং সমাজের একটি চরম বাস্তবতা। তা ছাড়া ইসলামের শত্রুপক্ষ অতীত ও বর্তমানে এগুলোকে ইসলামের বিরুদ্ধে একটি কৌশল হিসাবে ব্যবহার করেছে। ইসলামের নেয়ামত থেকে মানুষদের বিরত রাখতে ইহুদিরা যে-কয়টি অপকৌশল ও চক্রান্ত করেছে তার মধ্যে এটা অন্যতম। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন,
وَقَالَت طَائِفَةٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ ءَامِنُوا بِالَّذِي أُنزِلَ عَلَى الَّذِينَ ءَامَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا ءَاخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ.
কিতাবিদের একদল অন্যদের বলছে, তোমরা দিনের শুরুতে তা মেনে নাও যা মুসলমানদের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে, অতঃপর দিনের শেষে তা প্রত্যাখ্যান করো, হয়তো এতে মুসলমানরা স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে। (১৭৫)
এ থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, ইরতেদাদ মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ। যদিও এই বিদ্রোহ বাহ্যিক দৃষ্টিতে কোনো সশস্ত্র বিদ্রোহ নয়, কিন্তু ক্ষতির প্রভাবের দিক থেকে এটি সশস্ত্র বিদ্রোহের থেকেও বেশি ভয়ংকর। এর মাধ্যমে ইসলামের ব্যাপারে অন্তরে সংশয় তৈরি হয়। এজন্য পুরো দুনিয়ায় বিদ্রোহের শাস্তি যেমন মৃত্যুদণ্ড, বিদ্রোহী ব্যক্তি যদি নিজ থেকে আত্মসমর্পণ করে তাহলে তো মাফ পায়, অন্যথায় তাকে হত্যা করে রাষ্ট্রকে এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা হয়, তেমনই ইসলামধর্মেও ইরতেদাদের এটাই শাস্তি—হয়তো সে পুনরায় ইসলামধর্মে ফিরে আসবে, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। তবে ইসলামের মহানুভবতা হলো তার ওপর অতিরিক্ত এই অনুগ্রহ করা হবে যে, তাকে সাথে সাথে হত্যা করা হবে না, বরং প্রয়োজনানুযায়ী চিন্তা-ফিকির করার সময় দেওয়া হবে এবং ইসলামের ব্যাপারে কোনো সংশয়ের কারণে যদি সে ধর্ম ত্যাগ করে থাকে তাহলে তা দূর করার চেষ্টা করা হবে।

টিকাঃ
১৭৫. সুরা আলে ইমরান: ৭২

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 মুরতাদের সাথে বিভিন্ন প্রকারের সম্পর্ক ও তার হুকুম

📄 মুরতাদের সাথে বিভিন্ন প্রকারের সম্পর্ক ও তার হুকুম


কাফেরদের সাথে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ককে আমরা তিন প্রকারে ভাগ করেছিলাম।
১. ধর্মীয় সম্পর্ক। অর্থাৎ বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রাখা, বিয়েশাদি করা ইত্যাদি।
২. সামাজিকতা প্রদর্শন। যার মাঝে দাওয়াত, মেহমানদারি, পরস্পরকে সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করা, হাদিয়া-তোহফার আদান-প্রদান করা ইত্যাদি সামাজিক বিভিন্ন বিষয়।
৩. ব্যবসায়িক লেনদেন। প্রথম প্রকারের সম্পর্ক তো কাফেরদের সাথে নাজায়েজ। তবে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে আহলে কিতাব নারীদের বিবাহের অনুমতি রয়েছে। যা বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। সৌজন্যমূলক আচরণেরও বিভিন্ন শর্তের সাথে অনুমতি আছে। বাকি ব্যবসায়ী বিষয়ে মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে মূলগত তেমন পার্থক্য নেই। তবে কখনো বহিরাগত কারণে কিছু শর্ত আরোপ হয়, যার আলোচনাও গত হয়েছে।
এটা তো সাধারণ কাফেরদের সাথে বিধান। আর মুরতাদের সাথে বিধানের কিছু মূলনীতি হলো-
ক. প্রথম প্রকার সম্পর্ক অন্য কাফেরদের মতো তার সাথেও নাজায়েজ।
খ. দ্বিতীয় প্রকারের সম্পর্ক সাধারণ কাফেরদের সাথে শর্তসাপেক্ষে জায়েয হলেও হারবি কাফেরদের সাথে জায়েয নয়। আর মুরতাদ মূলত হারবি কাফেরের হুকুমে। একজন হারবির জানমাল যেমন অনিরাপদ, তেমনই একজন মুরতাদের জানমালও অনিরাপদ। এইজন্য সাধারণ অবস্থায় মুরতাদের সাথে কোনোরকম সম্পর্ক রাখা, তাদের সাহায্য করা, তাদের দাওয়াত কবুল করা বা মেহমানদারি করা শরিয়তে নিষিদ্ধ।
ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৩৭০ হি.) লেখেন,
وهذا يدل على أن علينا ترك مجالسة الملحدين وسائر الكفار عند إظهارهم الكفر والشرك وما لا يجوز على الله تعالى إذا لم يمكننا إنكاره وكنا في تقية من تغييره باليد أو اللسان. (أحكام القرآن ٦٦١/٤، تحت سورة الأنعام، باب النهي عن مجالسة الظالمين)
মুলহিদ আর সকল কাফের-যখন তারা বিভিন্ন শিরকে লিপ্ত হয়, তাদের সাথে ওঠাবসা করা থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য আবশ্যক। যখন আমাদের পক্ষে হাত ও জবান দিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিরোধ সম্ভব নয়। (১৭৬)
'উরানিয়্যিনবাসীর' হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৬৭৬ হি.) লেখেন,
قلت قد ذكر في هذا الحديث الصحيح أنهم قتلوا الرعاة وارتدوا عن الإسلام وحينئذ لا يبقى لهم حرمة في سقي الماء ولا غيره وقد قال أصحابنا لا يجوز لمن معه من الماء ما يحتاج إليه للطهارة أن يسقيه لمرتد يخاف الموت من العطش ويتيمم ولو كان ذميا أو يهيمة وجب سقيه ولم يجز الوضوء به حينئذ والله أعلم. (شرح مسلم للنووي ٣٤١/١١، كتاب القسامة والمحاربين والقصاص والديات)
সহিহ হাদিসে উল্লেখ হয়েছে, যখন উরানিয়্যিনবাসী মেষপালকদের হত্যা করে এবং ইসলামধর্ম ত্যাগ করে, তখন আর তাদেরকে পানি পান করানো বা ইত্যাদি কিছুর বৈধতা বাকি থাকে না। আমাদের শাফেয়ي উলামায়ে কেরাম বলেন, কোনো ব্যক্তির কাছে যদি পবিত্রতা অর্জন পরিমাণ পানি থাকে আর এমতাবস্থায় সে কোনো মুরতাদকে পানির পিপাসায় মৃত্যুবরণ করতে দেখে, তাহলে তার জন্য তায়াম্মুম করে সে পানি মুরতাদকে পান করানো জায়েয নেই। অথচ যদি জিম্মي হয় বা কোনো চতুষ্পদ জানোয়ারের এমন অবস্থা হয়, তাহলে তখন তাদেরকে পানি পান না করিয়ে অজু করা জায়েয হবে না। (১৭৭)

টিকাঃ
১৭৬. আহকামুল কুরআন, ৪/১৬৬
১৭৭. শরহে মুসলিম, ১১/১৪৩

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 মুরতাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক

📄 মুরতাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক


গ. মুরতাদের সাথে ক্রয়-বিক্রয়, ভাড়া দেওয়া ইত্যাদি যত লেনদেন আছে এগুলো যদি কেউ করে, ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে তা স্থগিত থাকবে। যদি মুরতাদ ইসলাম পুনরায় কবুল করে নেয়, তাহলে এ সকল বিষয় কার্যকর হবে, অন্যথায় নয়। আর ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের নিকট এ সকল লেনদেন কার্যকর হবে। ইমাম আবু হানিফার কথাই অগ্রগণ্য।
মনে রাখতে হবে, এখানে যে মতানৈক্য তা শুধুই মুরতাদের তাসাররুফাত (অর্থাৎ যত ধরনের লেনদেন ইত্যাদি রয়েছে) কার্যকর হওয়া নিয়ে, জায়েয হওয়া নিয়ে নয়। কোনো চুক্তি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্থগিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তা নাজায়েজ। এ থেকে বোঝা গেল মুরতাদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় মূলগতভাবে নাজায়েয কিছু নয়। কিন্তু ধর্মত্যাগের কারণে সে যেহেতু বিদ্রোহ করেছে আর ইসলামي শরিয়ত মোতাবেক এমন ব্যক্তিকে তিন দিনের বেশি জীবিত রাখা যায় না, তাই দ্বীনি আত্মমর্যাদাবোধ ও ইসলামের দাবি এটাই যে, এমন ব্যক্তির সাথে কোনো ধরনের লেনদেনের সম্পর্ক না রাখা। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের এই দুশমনকে নিজের দুশমন মনে করা। তাই এমন ব্যক্তির সাথে লেনদেন করা দ্বীনি আত্মমর্যাদার পরিপন্থী।
এ থেকে এটাও স্পষ্ট যে, এই হুকুম সে সময়ের সাথে প্রযোজ্য হবে, যখন এই লেনদেন শুধুই ব্যবসায়ের পর্যায়ে থাকে। যদি এই ব্যবসায়ের সম্পর্কের কারণে এমন কোনো আশঙ্কা দেখা দেয়-
ক. ব্যবসায়ের সম্পর্ক রাখা মুসলমান মুরতাদের বাহ্যিক আচরণ দেখে নিজেও ধর্মত্যাগের দিকে ঝুঁকে যাবে।
খ. অথবা ইসলামের বিষয়ে কোনো সংশয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গ. মুসলিম ব্যবসায়ী নিজের ব্যাপারে এমন হবে না, কিন্তু তার কারণে অন্য মুসলিমদের উপরিউক্ত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ঘ. অথবা মুরতাদ এ সকল লেনদেনের কারণে নিজের নাজায়েয পদক্ষেপে আরও দৃঢ় হবে। এ সকল সুরতে মুসলমানদের জন্য মুরতাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখাও জায়েয হবে না। বরং বিরত থাকাই জরুরি।
ইমাম সারাখসি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৮৩ হি.) বলেন,
ولا يمنع التجار من دخول دار الحرب بالتجارات ما خلا الكراع، والسلاح، فإنهم يتقوون بذلك على قتال المسلمين فيمنعون من حمله إليهم، وكذلك الحديد، فإنه أصل السلاح قال الله تعالى {وأنزلنا الحديد فيه بأس شديد} [الحديد : ٥٢]. (المبسوط ۹۸/۰۱، كتاب السير، باب صلح الملوك والموادعة)
ব্যবসায়ীদের ব্যবসার জন্য দারুল হারবে প্রবেশে নিষেধ করা হবে না। তবে ঘোড়া ও অস্ত্রের ব্যবসাতে তাদের নিষেধ করা হবে। কেননা এগুলোর দ্বারা দারুল হারববাসী মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শক্তিশালী হবে। তাই সেখানে এগুলোর ব্যবসা করতে বাধা দেওয়া হবে। তেমনইভাবে লোহাও। কেননা, এটাই অস্ত্রের মূল। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, 'আমি নাজিল করেছি লোহা। তাতে আছে প্রচণ্ড রণশক্তি।(১৭৮)
শরহুস সিয়ার গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,
ولا بأس بأن يبيع المسلمون من المشركين ما بدا لهم من الطعام والثياب وغير ذلك، إلا السلاح والكراع، والسبي سواء دخلوا إليهم بأمان أو بغير أمان. لأنهم يتقوون بذلك على قتال المسلمين، ولا يحل للمسلمين اكتساب سبب تقويتهم على قتال المسلمين، وهذا المعنى لا يوجد في سائر الأمتعة. ثم هذا الحكم إذا لم يحاصروا من حصونهم، فأما إذا حاصروا حصنا من حصونهم فلا ينبغي لهم أن يبيعوا من أهل الحصن طعاما ولا شرابا ولا شيئا يقويهم على المقام. لأنهم إنما حاصروهم لينفذ طعامهم وشرابهم حتى يعطوا بأيديهم ويخرجوا على حكم الله تعالى، ففي بيع الطعام وغيره منهم اكتساب سبب تقويتهم على المقام في حصنهم، بخلاف ما سبق، فإن أهل الحرب في دارهم يتمكنون من اكتساب ما يتقوون به على المقام، لا بطريق الشراء من المسلمين، فأما أهل الحصن لا يتمكنون من ذلك بعد ما أحاط المسلمون بهم، فلا يحل لأحد من المسلمين أن يبيعهم شيئا من ذلك. ومن فعله فعلم به الإمام أدبه على ذلك لارتكابه ما لا يحل. (شرح السير الكبير ، كتاب سهمان الخيل والرجالة في الغنائم، باب هدية أهل الحرب)
মুসলমানরা মুশরিকদের সাথে কাপড়, খাদ্যজাত বস্তু ইত্যাদির ব্যবসা করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ঘোড়া, অস্ত্র ও গোলাম বিক্রি করতে পারবে না। চাই মুসলমানরা সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে প্রবেশ করুক বা নিরাপত্তা ছাড়া। কেননা এতে দারুল হারববাসী মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শক্তিশালী হবে। কোনো মুসলমানের জন্য এটা বৈধ নয়, মুসলমানের বিরুদ্ধে তারা কাফেরদের শক্তি অর্জনের কারণ হবে। আর এই বিষয়টি অন্যান্য বিষয়ে পাওয়া যায় না। (তাই সেগুলো বিক্রিতে কোনো সমস্যা নেই) আর যদি মুসলমানরা কাফেরদের কোনো দুর্গ অবরোধ করে, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। কেননা অবরোধ চলাকালে তাদের নিকট খাবারদাবার ইত্যাদি এমন কোনোকিছুই বিক্রি করা জায়েয হবে না, যার মাধ্যমে তারা দৃঢ় থাকবে। কেননা মুসলমানরা তাদের অবরোধ এজন্যই করেছে যে, তাদের খাদ্যদ্রব্য শেষ হয়ে যাবে এবং তারা বাধ্য হয়ে আল্লাহর বিধানের সামনে বের হয়ে আসবে। আর খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি বিষয়গুলো তাদের কাছে তখন বিক্রি করার দ্বারা তারা দুর্গে অবিচল থাকার শক্তি জোগাবে। এর বিপরীতে যখন মুসলিমদের অবরোধ থাকবে না, তখন কাফেররা নিজেরাই মুসলিমদের থেকে ক্রয় ছাড়াই নিজেদের খাদ্য ইত্যাদি বিষয়ে শক্তি অর্জনে সক্ষম। (তাই তখন আর যুদ্ধের শক্তি জোগায় না এমন যেকোনোকিছু বিক্রিতে কোনো সমস্যা নেই।) আর মুসলমানরা দুর্গ অবরোধের পর তখন আর তাদের পক্ষে এমনটা সম্ভব নয়। তাই তখন কোনো মুসলমানের জন্য তাদের কাছে কিছুই বিক্রি করা জায়েয হবে না। সুতরাং কোনো মুসলমান যদি কিছু বিক্রি করে, তাহলে শাসক জানতে পারলে তাকে নিষিদ্ধ কাজের জন্য শাস্তি দেবে।(১79)
'শরহে মুখতাসারুত তহাবি' গ্রন্থে রয়েছে,
قال : (وكره بيع السلاح من أهل الفتنة، وفي عساكر الفتنة، ولا بأس ببيعه في الأمصار، وممن لا نعرفه من أهل الفتنة). وكل ذلك لأن في بيعه من أهل الفتنة معونة لهم عليها، كما يكره بيع السلاح من أهل الحرب. (شرح مختصر القدوري ٠٦٥/٨، كتاب الكراهية)
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও তাদের ফৌজের নিকট অস্ত্র বিক্রি করা জায়েয নেই। তবে শহর অঞ্চলে অস্ত্র বিক্রয় করতে কোনো সমস্যা নেই এবং এমন ব্যক্তির কাছেও বিক্রয় করতে কোনো সমস্যা নেই, যাদেরকে আমরা বিশৃঙ্খলাকারী হিসাবে চিনি না। আর এটা এজন্য যে, তাদের কাছে কিছু বিক্রি করা তাদেরকে সাহায্য করার নামান্তর।(১৮০)
হিদায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে,
ولا ينبغي أن يباع السلاح من أهل الحرب ولا يجهز إليهم لأن النبي عليه الصلاة والسلام نهى عن بيع السلاح من أهل الحرب وحمله إليهم ولأن فيه تقويتهم على قتال المسلمين فيمنع من ذلك وكذا الكراع لما بينا وكذا الحديد لأنه أصل السلاح وكذا بعد الموادعة لأنها على شرف النقض أو الانقض فكانا حربا علينا. (الهداية، كتاب السير، باب الموادعة ومن يجوز أمانه، مدخل)
দারুল হারবের বাসিন্দাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা বা তার বন্দোবস্ত করে দেওয়া জায়েয নেই। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দারুল হারবীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে ও তাদের কাছে তা নিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন। কেননা এতে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শক্তিশালী হয়। ফলে তা থেকে নিষেধ করা হবে। পূর্বোক্ত কারণে ঘোড়ার বিধানও একই হবে। তেমনই লোহার বিধানও, কেননা তাই অস্ত্র তৈরির মূল। সন্ধিবদ্ধ কাফেরের (ব্যক্তি হোক বা রাষ্ট্র) সাথেও একই বিধান (অর্থাৎ, সন্ধি অবস্থায়ও তাদের কাছে অস্ত্র বা যুদ্ধের কোনো সামান বিক্রি জায়েয হবে না।—অনুবাদক)। কেননা সন্ধি তো শেষ হবে, আর সন্ধি শেষ হলেই তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে।(১৮১)

টিকাঃ
১৭৮. আল-মাবসুত, ১০/৮৯
১৭৯. শরহুস সিয়ারিল কাবির পৃ. ১২৪২
১৮০. শরহে মুখতাসারুত তহাবি, ৮/৫৬০
১৮১. হিদায়া ২/৩৮২

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 মুলহিদ ও জিন্দিক বিষয়ে একটি সম্মিলিত ফাতাওয়া বিশ্লেষণ

📄 মুলহিদ ও জিন্দিক বিষয়ে একটি সম্মিলিত ফাতাওয়া বিশ্লেষণ


এটা স্পষ্ট থাকা দরকার যে, মুলহিদ ও জিন্দিকের সাথে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কের যে বিধান এখানে বলা হয়েছে, এটাই হলো শরিয়তের মূল বিধান। এখন চাই রিদ্দা ও জানদাকায় একজন ব্যক্তি লিপ্ত হোক বা পুরো সমাজ, বিধান তাই হবে যা ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে। আজ থেকে ৪৫ বছর পূর্বে জামিয়া ইসলামিয়া বানুরি টাউনের প্রধান মুফতি ওয়ালি হাসান খান টুনকি রহিমাহুল্লাহ 'আকাবারে মাজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুয়ত' থেকে প্রেরিত এক প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত একটি ফাতাওয়া লেখেন। যা সে সময়ের উপমহাদেশের নির্ভরযোগ্য সুপ্রসিদ্ধ আলেমদের কাছে পাঠানো হয়। অধিকাংশ আলেম ফাতাওয়াটিকে সত্যায়িত করেন এবং সঠিক বলে মত ব্যক্ত করেন। সেখানে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয় যে, কাদিয়ানিদের সাথে সবরকম লেনদেন করা নাজায়েজ।
কিছু ঘরানা থেকে এখন এই ফাতাওয়ার ওপর আপত্তি তোলা হচ্ছে যে, ফিকহের কিতাবে মুরতাদের সাথে সংশ্লিষ্ট যে বিধান রয়েছে তা থেকে সম্মিলিত ফাতাওয়া ভিন্ন এবং এই ফাতাওয়া ভুল। আর কিছু ঘরানা থেকে একটি ব্যাপক মূলনীতি এটাও বলা হচ্ছে যে, মুলহিদ ও জিন্দিকের সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক—ব্যবসা, লেনদেন ইত্যাদি অকাট্য হারাম!
বাস্তবতা হলো, এই উভয় কথাই সঠিক নয়। বরং সঠিক কথা হলো তাই, যা আমরা ওপরে উল্লেখ করেছি। ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়ে আমাদের হানাফি আলেমদের দুটি মত রয়েছে, এক বক্তব্যমতে এদের সকল হস্তক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। আরেক মত অনুযায়ী তা স্থগিত থাকবে। কিন্তু তাদের সাথে লেনদেন—যা ওপরে উল্লেখ হয়েছে—সত্তাগতভাবে হারাম নয়। বরং আনুষঙ্গিক কারণে তাতে নিষেধাজ্ঞা এসে যায়। আর সে আনুষঙ্গিক বিষয়টি যত বৃদ্ধি পাবে, হুকুমের কঠোরতাও ততটাই বৃদ্ধি পাবে। সে ফাতাওয়াতে এই বিষয়টি স্পষ্ট করেই বলা আছে। অতিরিক্ত ফায়েদার জন্য উক্ত ফাতাওয়ার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখানে নকল করছি।
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তি বা দল যদি কোনো নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারের ওপর ঈমান আনে, তাহলে উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। তার কুফরির বিষয়টি কোনো ধরনের সন্দেহ ছাড়া সুনিশ্চিত। এ ছাড়া যদি তার ভেতরে নিম্নোক্ত কারণগুলোও বিদ্যমান থাকে-
১. তারা ইসলামের লেবাস পরে মুসলিমদের ঈমানের ওপর হামলা চালায় এবং পুরো মুসলিমজাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে।
২. মুসলিমদের শারীরিক, আর্থিক এবং সকলপ্রকার ক্ষতি করতে তারা দ্বিধা করে না।
৩. তাদের বস্তুগত শক্তি ও সম্পদের উন্নতি নির্ভর করে মুসলিমদের শোষণের ওপর, তাদের কলকারখানা ও ইন্ডাস্ট্রিগুলো মুসলমানদের দ্বারাই পরিচালিত হয়, তারা ইসলামি দেশের বড় বড় পদে উত্তীর্ণ হওয়ার এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।
৪. ইসলামবিরোধী বহিরাগত শক্তি; ইহুদি ও খ্রিষ্টান এবং ভারতের ইসলামবিদ্বেষী শাসকদের সাথে তাদের যোগসূত্র রয়েছে। মূলত তাদের উদ্দেশ্য হলো, ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পারস্পরিক সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে মুসলমানদের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া। বরং একটি ইসলামি রাজ্যকে বিদ্রোহের এবং বিপ্লবের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্মুখীন করে দেওয়া।
৫. এই ফিতনা থেকে রাষ্ট্র ও ধর্মকে বাঁচানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে শাসক বা শাসকের তরফ থেকে কোনো প্রত্যাশা নেই এবং তাদের অপরাধের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা হবে বলেও আশা করা যায় না।
এ সকল পরিস্থিতিতে ফিতনা নির্মূল করতে হলে মুসলিমদের করণীয় কী? এবং এ ব্যাপারে শরয়ि জিম্মাদারিই-বা কী?
এ সকল পরিস্থিতিতে এমন দল বা ব্যক্তির অবৈধ আগ্রাসন দমন করতে নিম্নোক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া জায়েয বা আবশ্যক হবে? যেমন-
ক. মুসলিম উম্মাহ সে ব্যক্তি বা দলের সাথে ভাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করবে।
খ. তাদের সাথে সালাম-মোসাফাহা, ওঠাবসা, এমনকি বিয়েশাদিতেও অংশগ্রহণ করবে না। বরং সামাজিকভাবে তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে।
গ. তাদের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন বৈধ হবে কি না?
ঘ. তাদের ফ্যাক্টরি থেকে কি পণ্য ক্রয় করা যাবে? নাকি পরিপূর্ণরূপে অর্থনৈতিক বয়কট করতে হবে?
ঙ. তাদের বিদ্যালয়, হোটেল এবং রিসোর্টগুলোতে যাওয়া বৈধ হবে কি না?
চ. তাদের সাথে কি সম্প্রীতি বজায় রাখা যাবে?
ছ. তাদের কলকারখানায় প্রস্তুতকৃত পণ্য ব্যবহার করা যাবে কি না? মোটকথা, তাদেরকে পরিপূর্ণরূপে সামাজিক বয়কট করা বৈধ নাকি অবৈধ? তাদেরকে সরল পথে আনার জন্য কি সকল মুসলমানের ওপর বয়কটের হুকুম আরোপ হবে? যেহেতু এ ছাড়া অন্য কোনো পন্থা বাকি নেই।
উত্তর: কুরআন, হাদিস ও উম্মতের অকাট্য ইজমা দ্বারা এটা প্রমাণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী। তাঁর পর আর কোনো নবী আসবে না। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর প্রত্যেক নবুয়তের দাবিদার সুনিশ্চিত কাফের।
আর যারা নবুয়তের দাবিদারদের সত্য মনে করবে এবং তাদের অনুসরণীয় মনে করবে তারাও কাফের ও মুরতাদ হয়ে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। এই ধরনের লোকের কুফর ও ইরতেদাদের সাথে যদি প্রশ্নে উল্লেখিত কারণসমূহের কোনো একটি কারণও পাওয়া যায়, তাহলে কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহে ইসলামي অনুযায়ী এরা ইসলামي সহমর্মিতা পাওয়ারও উপযুক্ত নয়। মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব হলো এদের সাথে সবধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা-কথা বলা, ওঠাবসা করা, লেনদেন করা ইত্যাদি ত্যাগ করা। এমন কোনো সম্পর্ক তাদের সাথে রাখা যার দ্বারা তাদের ইজ্জত-সম্মান প্রকাশ পায়, অথবা তাদের শক্তি ও প্রভাব অর্জন হয় তা মুসলমানদের জন্য জায়েয নেই। হারবি কাফের ও ইসলামের শত্রুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নর বিষয়ে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ফিকহে ইসলামিতে যার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
এই কথা স্পষ্ট জেনে রাখা দরকার যে, যে-সকল হারবি কাফের মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, মুসলমানদের কষ্ট দেয়, ইসলামي পরিভাষাগুলোকে বিকৃত করে ইসলাম নিয়ে ঠাট্টা করে এবং বন্ধুরূপী শত্রু হয়ে মুসলমানদের সম্মিলিত শক্তির মাঝে ফাটল ধরানোর কাজ করে, ইসলাম তাদের সাথে কঠিন থেকে কঠিন আচরণের আদেশ দেয়। উত্তম আচরণের অনুমতি তো শুধু ওই সকল কাফেরের ক্ষেত্রে, যারা মুসলমানদের কষ্ট দেয় না ও হারবি নয়। অন্যথায় যুদ্ধরত কাফেরদের সাথে তো কঠোর আচরণের আদেশ রয়েছে।
ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কাফের তো বহু দূরের বিষয়, যদি মুসলমানের মধ্যেই কোনো নিকৃষ্ট পাপীর আবির্ভাব হয়, তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সম্পর্ক ছিন্ন করা, কথাবার্তা, লেনদেন বন্ধ করে দিয়ে সর্বদিক থেকে তাকে একঘরে করে দেওয়ার আদেশও সুন্নত ও শরিয়তে রয়েছে।
এই বিষয়ে প্রথম দায়িত্ব ইসলামي রাষ্ট্রের ওপরই আসে, আর তা হলো, এমন ফিতনাবাজ মুরতাদদের ওপর শরিয়তের বিধান 'যারা ইসলামধর্ম ত্যাগ করবে তাদের হত্যা করো' কার্যকর করে শিকড়সহ উপড়ে ফেলে মুসলিম উম্মাহকে এই ফিতনা থেকে রক্ষা করা। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশেদিন বিশৃঙ্খলাকারী ফিতনাবাজ ও মুরতাদদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন তা কারও কাছে অজানা নয়। আর পরবর্তী মুসলিম শাসকরাও এই ফরজ দায়িত্বের বিষয়ে ছাড় দেয়নি।
কিন্তু যদি মুসলিম শাসকরা এ ধরনের লোকদেরকে প্রাপ্য শাস্তি না দেয় বা তাদের ব্যাপারে কোনো আশাও না থাকে, তাহলে এই ফরজ দায়িত্ব মুসলমানের ওপর আরোপিত হবে। তারা তাদের দায়িত্বের মধ্যে থেকে এই ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করবে। মোটকথা, বিদ্রোহ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নেফাকি, মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া, মুসলমানদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা এবং মুরতাদ, যুদ্ধরত কাফের, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের সাথে জোট গঠন করার কারণে প্রশ্নে বর্ণিত ব্যক্তি ও দলকে সবধরনের বয়কট করা শুধু জায়েজই নয়, বরং ওয়াজিব। যদি মুসলমানদের কোনো দল বা সমাজ এই ফিতনাকে দূর করার এই বয়কটে ত্রুটি করে, তাহলে তাদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। (১৮২)

টিকাঃ
১৮২. অলি হাসান খান টুনকি রহ.-এর ফাতাওয়ার এই অংশটুকু নেওয়া হয়েছে 'কাদিয়ানিয়ো কে সাত মুওয়ালাত', পৃষ্ঠা ৬৪-৮৩ থেকে। আরও দেখুন, ফাতাওয়ায়ে বাইয়িনাত, ১/২১৮-২৪১ এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে, এটা হজরতের ফাতাওয়ার প্রথম অংশ। পুরো ফাতাওয়া প্রায় ২০ পৃষ্ঠার। পরে এই ফাতাওয়া উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের কাছে প্রেরণ করা হয়। অধিকাংশ আলেম ও প্রতিষ্ঠানই এই ফাতাওয়ার সাথে একমত হন ও একে সত্যায়িত করেন। এই ফাতাওয়া এবং আলেমদের সত্যায়নসহ এক খণ্ডে স্বতন্ত্র বই আকারে প্রকাশ করে মারকাজে সিরিজিয়া, লাহোর। যার নাম দেওয়া হয় 'কাদিয়ানিয়ো কে মুকাম্মাল বায়ক্যাট প্যার মুত্তাফিকা ফাতাওয়া' (কাদিয়ানিদের পূর্ণ বয়কটবিষয়ক সম্মিলিত ফাতাওয়া)। (মুফতি উবাইদুর রহমান)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00