📄 কাফের থেকে সাহায্য গ্রহণ করা
কারও থেকে সাহায্য গ্রহণ করার জন্য এটা জরুরি নয় যে, সে মুসলিম হতে হবে; বরং কাফেরদের অনুগ্রহ ও সহায়তা থেকে উপকৃত হওয়া যাবে। স্বয়ং সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, কখনো কখনো তারা কাফেরদের সাহায্য, সহায়তা ও উপহার-উপঢৌকন গ্রহণ করতেন। তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যেন লেনদেন করা না হয়। অনুরূপ এমনটিও যেন না হয় যে, উপহার গ্রহণ করার কারণে মুসলিমদের ব্যক্তিত্ব অথবা ভূখণ্ড এমন পরিস্থিতির শিকার হয় যে, কাফেররা মুসলিমদের ধর্মীয় এবং সামাজিক বিষয়ে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ পায়, অথবা এর কারণে অতিরিক্ত অবৈধ লেনদেনের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়।
ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৩৭০ হি.) বলেন,
قال أبو جعفر : (ولا ينبغي للمسلمين الاستعانة بالكفار على قتال الكفار، إلا أن يكون حكم الإسلام هو الغالب، فإن كان كذلك واحتيج إليهم : فلا بأس بذلك)
وذلك لأن حكم الكفر إذا كان هو الغالب، فالقهر والغلبة إذا حصلا، كان حكم الكفر هو الظاهر، فصار ذلك قتالا لإظهار حكم الكفر، ولا يجوز للمسلم القتال على إظهار حكم الكفر، وإنما يجوز للمسلمين القتال لإظهار دين الإسلام، ولتكون كلمة الله العليا، فلذلك لم يجز للمسلمين أن يقاتلوا مع الكفار. وأما إذا كان حكم الإسلام هو الظاهر، فإنما جازت الاستعانة بالكفار. (شرح مختصر الطحاوي ۲۹۱/۷ ، كتاب السير والجهاد، باب استعانة المسلمين بالمشركين في الحرب)
আবু জাফর (তহাবি রহ.; মৃত্যু: ৩২১ হি.) বলেন, মুসলিমদের জন্য উচিত নয় কোনো কাফেরের সাথে লড়াই করার সময় অন্য কাফেরের সাহায্য নেওয়া, তবে যদি ইসলামি শাসনক্ষমতা শক্তিশালী হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে তাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলে নিতে পারবে, এতে সমস্যা নেই।
(জাসসাস রহিমাহুল্লাহ এই কথার ব্যাখ্যায় লেখেন,) কারণ কুফরি শাসন যদি শক্তিশালী থাকে, তাহলে বিজয় ও শক্তি অর্জিত হলে তা কুফরি শাসনেরই হবে, ফলত তা হবে কুফরি শাসনের বিজয়ের লড়াই, অথচ মুসলিমের জন্য কুফরি শাসনকে বিজয়ী করার জন্য লড়াই করা মোটেও বৈধ নয়; বরং সে লড়াই করবে ইসলামের বিজয়ের জন্য, আল্লাহর কালিমার বুলন্দির জন্য। তাই মুসলিমদের জন্য বৈধ হবে না কাফেরদের সঙ্গী হয়ে লড়াই করা। আর ইসলামি শাসনব্যবস্থা বিজয়ী থাকা অবস্থায় কাফেরদের সাহায্য নেওয়া জায়েজ।(১০৯)
ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপনের পর একটি সংশয় তুলে ধরেন যে, কতক রেওয়ায়েতে রয়েছে যে, মুশরিক ও কাফেরদের থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে না। অতঃপর তিনি নিজেই তার জবাব উল্লেখ করেন,
فإنه يحتمل أن يكون في حال قلة المسلمين، بحيث لم يأمن غدرهم وكيدهم. (شرح مختصر الطحاوي ۷۹۱/۷ ، كتاب السير والجهاد، باب استعانة المسلمين بالمشركين في الحرب)
এটি হয়তো মুসলিমদের সংখ্যা কম হলে, কারণ তখন মুসলমানরা কাফেরদের প্রতারণা ও ধোঁকা থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে না।(১১০)
অর্থাৎ এই নিষেধাজ্ঞা তখন আসবে যখন কাফেরদের থেকে সাহায্য নেওয়ায় ইসলাম ও মুসলিমের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার, যদিও উল্লেখিত মাসআলাটি জিহাদে অংশগ্রহণসংশ্লিষ্ট, কিন্তু এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাদের থেকে সাহায্য গ্রহণের মৌলিক নীতিমালা এটিই। এ থেকে জানা গেল যে, বৈধ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে কাফেরদের থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে, তবে তা তখনই, যখন কাফের অনুসৃত হবে না; বরং অনুসারী হবে, এবং এর কারণে মুসলিমদের কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। পক্ষান্তরে এ শর্তগুলোর কোনোটি যদি ছুটে যায়, তাহলে তাদের থেকে সাহায্য গ্রহণ করা জায়েয হবে না।
টিকাঃ
১০৯. শরহে মুখতাসারুত তাহাবি, ৭/১৯২
১১০. শরহে মুখতাসারুত তহাবি, ৭/১৯২ ইমাম ইবনে জামাআ রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৩৩ হি.) এই বিষয়ে খুব চমৎকার বলেছেন,
لا يستعان في الجهاد بمشرك أو ذي إلا إذا علم السلطان حسن رأيه في المسلمين وأمن من خيانتهم، وكان المسلمون قادرين عليهم لو اتفقوا مع العدو، فإذا وجدت هذه الشروط الثلاثة جازت الاستعانة بهم. وقيل : لا يجوز استصحابهم في الجيش مع موافقتهم العدو في المعتقد، فعلى هذا تكون الشروط أربعة. (تحرير الأحكام في تدبير الإسلام ٢٤٤ ، الباب الحادي عشر في فضل الجهاد، ومقدماته، مكتبة دار المنهاج، ط. ٣٣٤١ هـ)
কাফের অথবা মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের থেকে মুসলমানদের যুদ্ধে কোনোপ্রকার সহযোগিতা নিতে হলে তিনটি শর্ত পাওয়া যেতে হবে। যথা: এক. মুসলিমদের ব্যাপারে তাদের সুধারণা। দুই. তাদের পক্ষ থেকে ধোঁকা-প্রতারণা প্রকাশ না হওয়ার নিশ্চয়তা। তিন. তারা যদি কোনোভাবে শত্রুদের সাথে মিলে যায় তাহলে তাদের প্রতিরোধের সামর্থ্য রাখা। এই তিনটি শর্ত পাওয়া গেলে তাদের থেকে সহযোগিতা নেওয়া জায়েজ হবে। এ ছাড়া আরও বলা হয়, মুসলিমদের সেনাঘাঁটিতে তাদের রাখা যাবে না শত্রুদের সাথে আকিদাগত অভিন্নতার দরুন। অতিরিক্ত এই শর্তসহ কাফেরদের থেকে সহযোগিতা নিতে হলে মোট চারটি শর্ত প্রযোজ্য। তাহরিরুল আহকাম, পৃ. ৪৪২
এ থেকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাফেরদের সাথে জোট করার বিধানটিও আশা করি স্পষ্ট হয়ে যাবে। উপরিউক্ত শর্তসাপেক্ষেই শুধু কাফেরদের সাথে রাজনৈতিক জোট করা জায়েজ হবে, অন্যথায় নয়। আল্লাহু আলাম। (আব্দুল্লাহ)
📄 বিদেশি এনজিও (সেবা-সংস্থা) থেকে সহায়তা নেওয়া
বর্তমানে অধিকাংশ অনৈসলামি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদত্ত 'উপহার-উপঢৌকন' সাধারণত ভয়ানক পরিকল্পনার অংশ হয়ে থাকে। তাদের উপহার-উপঢৌকনের দ্বারা কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা শাসককে সহযোগিতা বা সম্মান করা এবং উৎসাহ দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে না, বরং এর মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা—মুসলিমদের বশীভূত করে রাখাই উদ্দেশ্য হয়। অন্যথায় কুফর ও ইসলামের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব এবং চলতে থাকা যুদ্ধসত্ত্বেও এ জাতীয় নিছক উপহারের দৃষ্টান্ত খুবই বিরল।
প্রিয়ভূমি পাকিস্তান এবং অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাজ করা বিভিন্ন বিদেশি এনজিও সম্পর্কে সাধারণত বলা হয় যে, এরা সাহায্য-সহযোগিতা, দারিদ্র্য-দুর্দশা বিমোচন এবং চিকিৎসার সুবিধার প্রতি গুরুত্ব দেয়। অথচ বাস্তবতা হলো এমন নানা ধরনের মুখোশ পড়ে তারা মুসলমানদের মাঝে মিথ্যা দৃষ্টিভঙ্গি ও ভ্রান্ত আকিদা প্রচার করে বিভ্রান্ত করে থাকে এবং মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা আর বিশ্বাস পরিবর্তনের চেষ্টা করে। তারা পশ্চিমা ধ্যানধারণা, সংস্কৃতি ও রীতিনীতিকে ইসলামি সমাজে ছড়িয়ে দেয়। অশ্লীলতা, নগ্নতা ও নির্লজ্জতার বৈধতার পক্ষে কাজ করে ও প্রচার করে। আর এসবই হয় তাদের তৈরি সুখী জীবনের বিভিন্ন মুখরোচক স্লোগানে ও আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তাদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।
তাই যেখানে এই ধরনের ঝুঁকির নিশ্চয়তা রয়েছে, কিংবা সন্তোষজনক মাধ্যমে এ সকল বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়, সেখানে এই ধরনের এনজিওর সাথে সম্পর্ক রাখা কিংবা তার সাহায্য-সহায়তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না।
📄 কাফেরকে দাওয়াত দেওয়া ও মেহমানদারি করা এবং তার সাথে একত্রে খাওয়া দাওয়া করা
যদি কোনো কাফের ইসলামি ভূখণ্ডের আইনকানুন মেনে চলে, তাহলে তাকে দাওয়াতে আমন্ত্রণ করা বৈধ, সে কোনো মুসলিমকে আমন্ত্রণ করতে চাইলে মুসলিমের জন্য তা গ্রহণ করার অনুমতি আছে। অনুরূপ সে যদি খানা খাওয়াতে চায়, তাহলেও অনুমতি আছে; তবে এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত তিনটি শর্ত লক্ষ রাখা বাধ্যতামূলক—
প্রথম শর্ত : খানা হালাল হওয়া, যদি গোশত হয় তাহলে বৈধ পন্থায় জবাইকৃত হওয়া। 'আল-মুহিতুল বুরহানি' গ্রন্থে উল্লেখ আছে,
وَلَا بَأْسَ بِطَعَامِ الْمَجُوسِ كُلِّهِ إِلَّا الذَّبِيحَةَ، فَإِنَّ ذَبِيحَتَهُمْ حَرَامٌ، قَالَ عَلَيْهِ السَّلَامُ : سُنُّوا بِالْمَجُوسِ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ غَيْرَ نَاكِحِي نِسَائِهِمْ، وَلَا آكِلِي ذَبَائِحِهِمْ. (المحيط البرهاني ٢٦٣/٥ ، كتاب الاستحسان والكراهة، الفصل السادس عشر في معاملة أهل الذمة)
অগ্নিপূজারিদের সকল খাবার খাওয়া যাবে, কেবল তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত ছাড়া। কারণ তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া হারাম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অগ্নিপূজকদের সাথে আহলে কিতাবদের মতোই আচরণ করো। তবে তাদের মহিলাদের বিয়ে করবে না এবং তাদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাবে না।(১১১)
দ্বিতীয় শর্ত: আমন্ত্রণটা কোনো জরুরত বা আত্মীয়তা ঠিক রাখা অথবা অন্য কোনো বৈধ উদ্দেশ্যে হতে হবে এবং তা মাঝেমধ্যে হতে হবে, নিয়মিত নয়। কেননা নিয়মিত হতে থাকলে তাদের সাথে অন্তরের মুহাব্বত হয়ে যাওয়ার একটি আশঙ্কা রয়েছে, যা শরিয়তে নিষিদ্ধ এবং তা আরও অসংখ্য অন্যায় কাজের মাধ্যম হয়ে যাবে। আল্লামা ইবনে মাজাহ বুখারি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৬১৬ হি.) বিষয়টি উল্লেখ করেছেন,
ولم يذكر محمد رحمه الله الأكل مع المجوسي ومع غيره من أهل الشرك أنه هل يحل أم لا، وحكي عن الحاكم عبد الرحمن الكاتب أنه إن ابتلي به المسلم مرة أو مرتين فلا بأس به، فأما الدوام عليه يكره؛ لأنا نهينا عن مخالطتهم وموالاتهم وتكثير سوادهم، وذلك لا يتحقق في الأكل مرة أو مرتين، إنما يتحقق بالدوام عليه. (المحيط البرهاني ٢٦٣/٥ ، كتاب الاستحسان والكراهة، الفصل السادس عشر في معاملة أهل الذمة)
মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ অগ্নিপূজক ও অন্যান্য মুশরিকদের সাথে খাওয়া বৈধ কি বৈধ না তা উল্লেখ করেননি। আর হাকিম আবদুর রহমান আল-কাতেব থেকে বর্ণিত আছে যে, মুসলমান এক বা দুইবার এর সম্মুখীন হলে তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু নিয়মিত এমনটি করা মাকরুহ; কারণ আমাদেরকে তাদের সাথে মিশতে, বন্ধুত্ব করতে এবং তাদের দল ভারী করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর দুয়েকবার খাওয়ার দ্বারা এমনটি সাধারণত হয় না, বরং বারবার ও নিয়মিত খেলেই হয়। (১১২)
থানবি রহ.-এর 'ইমদাদুল ফাতাওয়ায়' একটি প্রশ্ন ও তার জবাবে মাসআলাটি সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো-
প্রশ্ন: কোনো খ্রিষ্টানের সাথে খানা খাওয়া যাবে কি না? যদি এক পাত্রে ও দস্তরখানে খেতে হয়, তাহলে তখন কী করতে হবে? একসাথে খাওয়ার সময় সাধারণত মিশতে হয়, তো তাদের সাথে মেলামেশা কি নিষিদ্ধ?
উত্তর: কাফেরদের সাথে অপ্রয়োজনে মেলামেশা ও সম্পর্ক রাখা নিষেধ, আর তাদের সাথে খানা খাওয়াও অপ্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। (১১০)
মুফতি কিফায়াতুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের সম্পর্কে লিখেছেন, অপ্রয়োজনে তাদের সাথে মেলামেশা করা এবং তাদের সাথে পানাহারের সম্পর্ক রাখা জায়েয নেই, কারণ এতে দ্বীনের ক্ষতি হওয়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে, হঠাৎ কখনো একসাথে খাওয়া হয়ে গেলে সমস্যা নেই। (১১৪)
তৃতীয় শর্ত : আমন্ত্রণে শরিয়তে নিষিদ্ধ কিছু থাকতে পারবে না। অতএব যদি আমন্ত্রণের কারণে আমন্ত্রণকারী বা আমন্ত্রিত মুসলিম কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ের সম্মুখীন হয় এবং এ ব্যাপারে সে পূর্ব থেকেই জানে, তাহলে এমন আমন্ত্রণের আয়োজন করা বা তা গ্রহণ করা অবৈধ। যেমন-
ক. কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ, অথবা তাদেরকে নিজের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া। কেননা এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দেওয়ার অর্থ তাদেরকে সম্মান করা। যা জায়েয নেই। ইসলামি আইনজ্ঞগণ তো জিম্মিদের সাথে মুসাফাহা করাও নিষেধ করেছেন, কেননা এতে তাদেরকে সম্মান করা হয়। আল্লামা ইবনে মাজাহ বুখারি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৬১৬ হি.) লেখেন,
ويكره مصافحة الذمي؛ لأن فيه توقير الذمي. (المحيط البرهاني ٧٢٣/٥، كتاب الاستحسان، الفصل الثامن في السلام، وتشميت العاطس)
জিম্মির সাথে মুসাফাহা করা মাকরুহ। কেননা এতে জিম্মিকে সম্মান করা হয়। (১১৫)
খ. কোনো সাধারণ পার্থিব আমন্ত্রণে যাওয়া, যেখানে তারা প্রকাশ্যে কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে।
গ. এমন অনুষ্ঠান যেখানে নারী-পুরুষ একত্রে মিলিত হয়, কিংবা কোনো ভুল এজেন্ডা পূর্ণ করার জন্য পরিকল্পিত প্রোগ্রামসমূহে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি ইত্যাদি। ‘ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া’-তে উল্লেখিত আছে,
وذكر القاضي الإمام ركن الإسلام على السغدي أن المجوسي إذا كان لا يزمزم فلا بأس بالأكل معه وإن كان يزمزم فلا يأكل معه لأنه يظهر الكفر والشرك ولا يأكل معه حال ما يظهر الكفر والشرك (الفتاوى الهندية ٧٤٣/٥، كتاب الكراهية الباب الرابع عشر في أهل الذمة والأحكام التي تعود إليهم)
ইমাম সুগদি রহিমাহুল্লাহ বলেন, অগ্নিপূজক যদি খানা খাওয়ার সময় মুখ বন্ধ করে আওয়াজ না করে-মূলত মাজুসিরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসমতে মুখ বন্ধ রেখে একধরনের আওয়াজ করে থাকে-তাহলে তখন তার সাথে খাওয়া যাবে, আর যদি আওয়াজ করে তাহলে তার সাথে খাওয়া যাবে না; কেননা (এর দ্বারা) সে কুফর ও শিরক প্রদর্শন করে, আর এমতাবস্থায় তার সাথে খানা খাওয়া যাবে না। (১১৬)
শাহ আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ১২৩৯ হি.)-এর দিকে সম্পৃক্ত ‘ফাতাওয়ায়ে আজিজিয়্যা’-তে এমন বিষয়ক একটি প্রশ্নের বিশদ জবাব দেওয়া হয়েছে, যার সারাংশ হলো, কাফেদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করা, তাদের সাথে বসে খাবার খাওয়ার মধ্যে যদি কোনো অবৈধ বিষয় সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে এতে অংশগ্রহণ করা জায়েজ নেই। আর যদি এতে কোনো অবৈধ বিষয় না থাকে, তাহলে কদাচিৎ একবার খাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একে নিয়মিত রূপ দেওয়া মাকরুহ, কেননা তাদের সাথে মেশা ও হৃদ্যতা রাখা এবং তাদের দল ভারী করা অবৈধ। (১১৭)
টিকাঃ
১১১. আল-মুহিতুল বুরহানি, ৫/৩৬২
১১২. আল-মুহিতুল বুরহানি, ৫/৩৬২
১১৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৯/৪২৯, কিতাবুল হাযরি ওয়াল-ইবাহাত, বাবু মুআমালাতিল মুসলিমিন বি-আহলিল কিতাব ওয়াল-মুশরিকিন, শাব্বির আহমাদ কাসেমির তাহকিককৃত নুসখা
১১৪. কিফায়াতুল মুফতি, ১০/১২৫, কিতাবুল হাযরি ওয়াল-ইবাহাত, বাবুল মুওয়ালাত মাআল কুফফার ওয়াল-ফাসাকাহ ফিসকাহ, ইদারাতুল ফারুক, করাচি
১১৫. আল-মুহিতুল বুরহানি, ৫/৩২৮
১১৬. আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া, ৫/৩৪৭
১১৭. ফাতাওয়ায়ে আযিযিয়্যাহ, পৃ. ৬১০
📄 জিম্মি কাফেরের জানাযায় রক্ষার গুরুত্ব
কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা ও মিত্রতার যে বিধানাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্থ এই নয় যে, ইসলাম কাফেরদের সাথে নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতাকে উৎসাহিত করে বা কাফেরদের প্রতি অন্যায় ও খারাপ আচরণের সুযোগ দেয়। বরং বাস্তবতা হলো, যখন একজন অমুসলিম কোনো ইসলামি ভূখণ্ডের আইন মেনে সেখানে বসতি স্থাপন করে, তখন ইসলামধর্ম তার জানমাল, পাশাপাশি তার সম্মান ও মর্যাদার নিরাপত্তার স্বীকৃতি দেয়, সে খেলাফত বা ইমারতের জিম্মায় চলে আসে। তখন তাকে সাধারণ মুসলমানদের মতো দেশের একজন নাগরিক হিসাবে ইসলামের দেওয়া সকল বৈধ অধিকারের সুযোগ দেওয়া হয়। অনুরূপ শাসকের মতো সাধারণ মুসলিমদের ক্ষেত্রেও একই বিধান যে, তারা অমুসলিম নাগরিকদের সাথে ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে আচরণ করবে। কোনো নির্যাতন ও সহিংসতা এবং অন্যায় দেখাবে না।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ألا من ظلم معاهدا أو انتقصه أو كلفه فوق طاقته أو أخذ منه شيئا بغير طيب نفس فأنا حجيجه يوم القيامة. (سنن أبي داؤد برقم : ٢٥٠٣، كتاب الخراج والفيء والإمارة، باب تعشير أهل الذمة إذا اختلفوا بالتجارات )
সাবধান! যে কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তির প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখাবে অথবা তাকে অপদস্থ করবে কিংবা তার ওপর সাধ্যাতীত বিষয় চাপিয়ে দেবে অথবা তার থেকে তার অসন্তুষ্টিতে কিছু নেবে, কেয়ামতের দিন আমি তার বিপক্ষে বাদী হবো।(১১৮)
ইমাম বাইহাকি রহিমাহুল্লাহ তার সনদে অতিরিক্ত কিছু শব্দ বর্ণনা করেন,
ألا ومن قتل معاهدا له ذمة الله وذمة رسوله حرم الله عليه ريح الجنة، وإن ريحها لتوجد من مسيرة سبعين خريفا. (السسن الكبرى ٤٤٣/٩، باب لا يأخذ المسلمون من ثمار أهل الذمة ولا أموالهم شيئا بغير أمرهم إذا أعطوا ما عليهم، وما ورد من التشديد في ظلمهم وقتلهم)
চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নিরাপত্তায়, তাকে কেউ হত্যা করলে তার জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাতের সুঘ্রাণ নেওয়া হারাম করে দেবেন, অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ সত্তর বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।(১১৯)
এই বর্ণনাগুলোতে জিম্মি কাফেরের জানমাল এবং আবরু সংরক্ষিত ও নিরাপদ হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে, আর এত কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যে, যে-কেউ তার সাথে নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতা দেখাবে, কেয়ামতের দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে সে মুসলিমের বিপক্ষে বাদী হবেন। হত্যা করার ক্ষেত্রেও কঠিন হুমকি দিয়েছে যে, তার হত্যাকারী জান্নাতে তো যাবেই না, বরং সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।
এসব বর্ণনার কারণে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন যে, অকারণে কোনো জিম্মি কাফেরের উপর অসাধ্য বিষয় চাপিয়ে দেওয়া এবং তাদের হতাশ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও গোনাহের কাজ। যদি 'কাফের' শব্দে তাদের ডাকার কারণে তাদের কষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে তাকে সে শব্দে ডাকা ঠিক নয়। আল-বাহরুর রায়েক গ্রন্থে উল্লেখিত রয়েছে,
لو قال ليهودي أو مجوسي يا كافر يأثم إن شق عليه. اهـ (البحر الرائق ٧٤/٥، كتاب الحدود، قذف مملوكا أو كافرا بالزنا أو مسلما بیا فاسق)
যদি কেউ কোনো (জিম্মি) ইহুদি অথবা অগ্নিপূজককে ‘হে কাফের’ বলে ডাকে, আর তাতে সে কষ্ট পায়, তাহলে মুসলমান گোনাহগার হবে। (১২০)
টিকাঃ
১১৮. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩০৫২
১১৯. আস-সুনানুল কুবরা, ৯/৩৪৪
১২০. ৫/৪৭