📄 কাফেরের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা
জাকাত শুধু মুসলমানকেই দেওয়া যাবে, যারা জাকাত খাওয়ার উপযুক্ত। কোনো কাফেরকে জাকাত দেওয়া বৈধ নয়। তবে জাকাত ছাড়া অন্যান্য যত সদকা রয়েছে, তা ওয়াজিব সদকাই হোক না কেন, তা যেমন মুসলমানদের দেওয়া জায়েজ, তেমনই জিম্মি কাফেরদের দেওয়াও জায়েজ। আর হারবি কাফেরকে কোনো ধরনের সদকা দেওয়া জায়েয নেই। কেননা তাদের সাথে উত্তম আচরণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তাবয়িনুল হাকায়েক গ্রন্থে রয়েছে,
( وصح غيرها ) أي صح دفع غير الزكاة من الصدقات إلى الذي كصدقة الفطر والكفارات وقال أبو يوسف والشافعي لا يجوز ... والحربي خارج بالنص. (تبيين الحقائق ۰۰۳/۱، كتاب الزكاة، باب المصرف)
জাকাত ব্যতীত অন্যান্য সদকা কাফেরদের দেওয়া জায়েজ। যেমন সদকাতুল ফিতর, বিভিন্ন কাফফারা। ইমাম আবু ইউসুফ ও শাফেয়ি রহিমাহুল্লাহ এটাকে নাজায়েয বলেছেন। আর হারবি কাফেরের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে তারা এই হুকুমের বাহিরে থাকবে। (অর্থাৎ তাদেরকে কোনো ধরনের সদকার টাকাও দেওয়া যাবে না।) (১০৪)
'হিদায়া' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,
ولا يجوز أن يدفع الزكاة إلى ذمي... ويدفع إليه ما سوى ذلك من الصدقة. (الهداية، كتاب الزكاة، باب من يجوز دفع الصدقة إليه ومن لا يجوز)
কোনো জিম্মিকে জাকাত দেওয়া জায়েয নেই। তবে অন্যান্য সদকা দেওয়া যাবে। (১০৫)
টিকাঃ
১০৪. তাবয়িনুল হাকায়েক, ১/৩০০
১০৫. হিদায়া, ১/১১১
📄 কাফেরের গিবত করা
কাফের দুই প্রকার। এক. জিম্মি। দুই. হারবি। জিম্মি হলো ওই সমস্ত কাফের যারা ইসলামি ভূখণ্ডে জিজিয়া-কর দিয়ে ইসলামি আইনের অধীনে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। আর হারবি হলো যারা কুফরি রাষ্ট্রে বসবাস করে। জিম্মি কাফেরের গিবত করা নাজায়েজ। কেননা তার জানমাল ও ইজ্জত সকল বিষয় তেমনই নিরাপদ যেমন মুসলমানের জানমাল ও ইজ্জত। তবে হারবি কাফেরের গিবত হারাম নয়। কেননা, কুফরি অবলম্বন ও কুফরি ভূখণ্ডে বসবাসের কারণে তার জানমালের যেখানে নিরাপত্তা নেই, সেখানে তার ইজ্জত কীভাবে নিরাপদ হবে!
তবে এখানে মনে রাখতে হবে, হারবি কাফেরের গিবতে যদি কোনো উল্লেখযোগ্য ফায়েদা না থাকে, তাহলে তা থেকেও বিরত থাকা চাই। কেননা, এক তো হলো, এতে সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নেই। অথচ একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্যই হলো সে অনর্থক কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। দ্বিতীয়ত, গিবত অন্যান্য অভ্যাসের মতোই মানুষের স্বভাবের সাথে মিশে যায়। একবার মানুষের নফস গিবতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক কঠিন।
নাহরুল ফায়েক গ্রন্থে রয়েছে,
لا خفاء في منع غيبة الذمي. (النهر الفائق ٨٤٤/٣، كتاب البيوع، باب البيع الفاسد)
জিম্মিদের গিবত করা নাজায়েয এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।(১০৬)
ইবনে হাজার হাইতামি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৯৭৪ হি.) লেখেন,
وسئل الغزالي في فتاويه عن غيبة الكافر. فقال : هي في حق المسلم محذورة لثلاث علل : الإيذاء وتنقيص خلق الله، فإن الله خالق لأفعال العباد، وتضييع الوقت بما لا يعني. قال : والأولى تقتضي التحريم، والثانية الكراهة، والثالثة خلاف الأولى. وأما الذي فكالمسلم فيما يرجع إلى المنع من الإيذاء؛ لأن الشرع عصم عرضه ودمه وماله... وأما الحربي فليس بمحرم على الأولى ويكره على الثانية والثالثة. (الزواجر في اقتراف الكبائر ۷۲/۲، كتاب النكاح، الكبيرة الثامنة والتاسعة والأربعون بعد المائتين الغيبة والسكوت عليها)
ইমাম গাজালি রহ.-কে কাফেরদের গিবত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, মুসলমানদের ব্যাপারে গিবত করা তিন কারণে নিষিদ্ধ। এক. কষ্ট দেওয়া। দুই. আল্লাহর সৃষ্টির দোষ তালাশ করে তার সম্মানকে খাটো করা। কেননা আল্লাহই তো বান্দার সকল কাজের স্রষ্টা। তিন. অনর্থক কাজে সময় অপচয় করা। প্রথম কারণটি পাওয়া গেলে গিবত হারাম হবে। দ্বিতীয় কারণ পাওয়া গেলে মাকরুহ আর তৃতীয় কারণ পাওয়া গেলে অনুত্তম হবে। জিম্মিদের কষ্ট দেওয়া মুসলমানদের মতোই হারাম। কেননা, ইসলাম তাদের জীবনকে তেমনই নিরাপত্তা দিয়েছে, যেমন মুসলমানের জীবনকে দিয়েছে। হারবি কাফেরদের গিবত প্রথম প্রকারের কারণে হারাম হবে না। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকারের কারণে মাকরুহ হবে।(১০৭)
হজরত আবদুল হাই লাখনবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১৩০৬ হি.) ‘গিবাত কিয়া হ্যায়' এই নামে গিবত বিষয়ে সকলের জন্য উপকারী চমৎকার একটি কিতাব রচনা করেন। সেখানে লেখেন, দ্বিতীয় হলো জিম্মির গিবত করা। জিম্মি বলা হয় ওই সকল কাফেরকে, যারা দারুল ইসলামে অধীনস্থ হয়ে বসবাস করে। এই গিবতও হারাম। কেননা, যখন কাফের মুসলমানদের অধীনস্থ হয়ে গেল তখন তারও জানমাল ও ইজ্জত মুসলমানদের মতোই নিরাপদ ধরা হবে। তৃতীয় হলো হারবি কাফেরের গিবত। অর্থাৎ যে-সকল কাফের ইসলামি রাষ্ট্রের বশ্যতা স্বীকার করেনি। ফিকহের কিতাব থেকে যা বোঝা যায় তা হলো, তাদের গিবত করা হারাম নয়। (১০৮)
গিবত নাজায়েয হওয়ার একটি অন্যতম কারণ হলো গিবতের মাধ্যমে ব্যক্তির ইজ্জতকে নষ্ট করা হয়। আর কাফেরদের গিবতের অনুমতি দ্বারা তাদের ইজ্জত রক্ষার বিষয়টিও অনুমেয়।
টিকাঃ
১০৬. আন-নাহরুল ফায়েক, ৩/৪৪৮
১০৭. আয-যাওজের আন ইকতিরাফিল কাবায়ের, ২/২৭
১০৮. গিবাত কিয়া হ্যায়, পৃ. ১৭
📄 কাফের থেকে সাহায্য গ্রহণ করা
কারও থেকে সাহায্য গ্রহণ করার জন্য এটা জরুরি নয় যে, সে মুসলিম হতে হবে; বরং কাফেরদের অনুগ্রহ ও সহায়তা থেকে উপকৃত হওয়া যাবে। স্বয়ং সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, কখনো কখনো তারা কাফেরদের সাহায্য, সহায়তা ও উপহার-উপঢৌকন গ্রহণ করতেন। তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যেন লেনদেন করা না হয়। অনুরূপ এমনটিও যেন না হয় যে, উপহার গ্রহণ করার কারণে মুসলিমদের ব্যক্তিত্ব অথবা ভূখণ্ড এমন পরিস্থিতির শিকার হয় যে, কাফেররা মুসলিমদের ধর্মীয় এবং সামাজিক বিষয়ে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ পায়, অথবা এর কারণে অতিরিক্ত অবৈধ লেনদেনের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়।
ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৩৭০ হি.) বলেন,
قال أبو جعفر : (ولا ينبغي للمسلمين الاستعانة بالكفار على قتال الكفار، إلا أن يكون حكم الإسلام هو الغالب، فإن كان كذلك واحتيج إليهم : فلا بأس بذلك)
وذلك لأن حكم الكفر إذا كان هو الغالب، فالقهر والغلبة إذا حصلا، كان حكم الكفر هو الظاهر، فصار ذلك قتالا لإظهار حكم الكفر، ولا يجوز للمسلم القتال على إظهار حكم الكفر، وإنما يجوز للمسلمين القتال لإظهار دين الإسلام، ولتكون كلمة الله العليا، فلذلك لم يجز للمسلمين أن يقاتلوا مع الكفار. وأما إذا كان حكم الإسلام هو الظاهر، فإنما جازت الاستعانة بالكفار. (شرح مختصر الطحاوي ۲۹۱/۷ ، كتاب السير والجهاد، باب استعانة المسلمين بالمشركين في الحرب)
আবু জাফর (তহাবি রহ.; মৃত্যু: ৩২১ হি.) বলেন, মুসলিমদের জন্য উচিত নয় কোনো কাফেরের সাথে লড়াই করার সময় অন্য কাফেরের সাহায্য নেওয়া, তবে যদি ইসলামি শাসনক্ষমতা শক্তিশালী হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে তাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলে নিতে পারবে, এতে সমস্যা নেই।
(জাসসাস রহিমাহুল্লাহ এই কথার ব্যাখ্যায় লেখেন,) কারণ কুফরি শাসন যদি শক্তিশালী থাকে, তাহলে বিজয় ও শক্তি অর্জিত হলে তা কুফরি শাসনেরই হবে, ফলত তা হবে কুফরি শাসনের বিজয়ের লড়াই, অথচ মুসলিমের জন্য কুফরি শাসনকে বিজয়ী করার জন্য লড়াই করা মোটেও বৈধ নয়; বরং সে লড়াই করবে ইসলামের বিজয়ের জন্য, আল্লাহর কালিমার বুলন্দির জন্য। তাই মুসলিমদের জন্য বৈধ হবে না কাফেরদের সঙ্গী হয়ে লড়াই করা। আর ইসলামি শাসনব্যবস্থা বিজয়ী থাকা অবস্থায় কাফেরদের সাহায্য নেওয়া জায়েজ।(১০৯)
ইমাম জাসসাস রহিমাহুল্লাহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপনের পর একটি সংশয় তুলে ধরেন যে, কতক রেওয়ায়েতে রয়েছে যে, মুশরিক ও কাফেরদের থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে না। অতঃপর তিনি নিজেই তার জবাব উল্লেখ করেন,
فإنه يحتمل أن يكون في حال قلة المسلمين، بحيث لم يأمن غدرهم وكيدهم. (شرح مختصر الطحاوي ۷۹۱/۷ ، كتاب السير والجهاد، باب استعانة المسلمين بالمشركين في الحرب)
এটি হয়তো মুসলিমদের সংখ্যা কম হলে, কারণ তখন মুসলমানরা কাফেরদের প্রতারণা ও ধোঁকা থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে না।(১১০)
অর্থাৎ এই নিষেধাজ্ঞা তখন আসবে যখন কাফেরদের থেকে সাহায্য নেওয়ায় ইসলাম ও মুসলিমের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার, যদিও উল্লেখিত মাসআলাটি জিহাদে অংশগ্রহণসংশ্লিষ্ট, কিন্তু এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাদের থেকে সাহায্য গ্রহণের মৌলিক নীতিমালা এটিই। এ থেকে জানা গেল যে, বৈধ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে কাফেরদের থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে, তবে তা তখনই, যখন কাফের অনুসৃত হবে না; বরং অনুসারী হবে, এবং এর কারণে মুসলিমদের কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। পক্ষান্তরে এ শর্তগুলোর কোনোটি যদি ছুটে যায়, তাহলে তাদের থেকে সাহায্য গ্রহণ করা জায়েয হবে না।
টিকাঃ
১০৯. শরহে মুখতাসারুত তাহাবি, ৭/১৯২
১১০. শরহে মুখতাসারুত তহাবি, ৭/১৯২ ইমাম ইবনে জামাআ রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৩৩ হি.) এই বিষয়ে খুব চমৎকার বলেছেন,
لا يستعان في الجهاد بمشرك أو ذي إلا إذا علم السلطان حسن رأيه في المسلمين وأمن من خيانتهم، وكان المسلمون قادرين عليهم لو اتفقوا مع العدو، فإذا وجدت هذه الشروط الثلاثة جازت الاستعانة بهم. وقيل : لا يجوز استصحابهم في الجيش مع موافقتهم العدو في المعتقد، فعلى هذا تكون الشروط أربعة. (تحرير الأحكام في تدبير الإسلام ٢٤٤ ، الباب الحادي عشر في فضل الجهاد، ومقدماته، مكتبة دار المنهاج، ط. ٣٣٤١ هـ)
কাফের অথবা মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের থেকে মুসলমানদের যুদ্ধে কোনোপ্রকার সহযোগিতা নিতে হলে তিনটি শর্ত পাওয়া যেতে হবে। যথা: এক. মুসলিমদের ব্যাপারে তাদের সুধারণা। দুই. তাদের পক্ষ থেকে ধোঁকা-প্রতারণা প্রকাশ না হওয়ার নিশ্চয়তা। তিন. তারা যদি কোনোভাবে শত্রুদের সাথে মিলে যায় তাহলে তাদের প্রতিরোধের সামর্থ্য রাখা। এই তিনটি শর্ত পাওয়া গেলে তাদের থেকে সহযোগিতা নেওয়া জায়েজ হবে। এ ছাড়া আরও বলা হয়, মুসলিমদের সেনাঘাঁটিতে তাদের রাখা যাবে না শত্রুদের সাথে আকিদাগত অভিন্নতার দরুন। অতিরিক্ত এই শর্তসহ কাফেরদের থেকে সহযোগিতা নিতে হলে মোট চারটি শর্ত প্রযোজ্য। তাহরিরুল আহকাম, পৃ. ৪৪২
এ থেকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাফেরদের সাথে জোট করার বিধানটিও আশা করি স্পষ্ট হয়ে যাবে। উপরিউক্ত শর্তসাপেক্ষেই শুধু কাফেরদের সাথে রাজনৈতিক জোট করা জায়েজ হবে, অন্যথায় নয়। আল্লাহু আলাম। (আব্দুল্লাহ)
📄 বিদেশি এনজিও (সেবা-সংস্থা) থেকে সহায়তা নেওয়া
বর্তমানে অধিকাংশ অনৈসলামি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদত্ত 'উপহার-উপঢৌকন' সাধারণত ভয়ানক পরিকল্পনার অংশ হয়ে থাকে। তাদের উপহার-উপঢৌকনের দ্বারা কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা শাসককে সহযোগিতা বা সম্মান করা এবং উৎসাহ দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে না, বরং এর মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা—মুসলিমদের বশীভূত করে রাখাই উদ্দেশ্য হয়। অন্যথায় কুফর ও ইসলামের মধ্যে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব এবং চলতে থাকা যুদ্ধসত্ত্বেও এ জাতীয় নিছক উপহারের দৃষ্টান্ত খুবই বিরল।
প্রিয়ভূমি পাকিস্তান এবং অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাজ করা বিভিন্ন বিদেশি এনজিও সম্পর্কে সাধারণত বলা হয় যে, এরা সাহায্য-সহযোগিতা, দারিদ্র্য-দুর্দশা বিমোচন এবং চিকিৎসার সুবিধার প্রতি গুরুত্ব দেয়। অথচ বাস্তবতা হলো এমন নানা ধরনের মুখোশ পড়ে তারা মুসলমানদের মাঝে মিথ্যা দৃষ্টিভঙ্গি ও ভ্রান্ত আকিদা প্রচার করে বিভ্রান্ত করে থাকে এবং মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা আর বিশ্বাস পরিবর্তনের চেষ্টা করে। তারা পশ্চিমা ধ্যানধারণা, সংস্কৃতি ও রীতিনীতিকে ইসলামি সমাজে ছড়িয়ে দেয়। অশ্লীলতা, নগ্নতা ও নির্লজ্জতার বৈধতার পক্ষে কাজ করে ও প্রচার করে। আর এসবই হয় তাদের তৈরি সুখী জীবনের বিভিন্ন মুখরোচক স্লোগানে ও আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তাদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।
তাই যেখানে এই ধরনের ঝুঁকির নিশ্চয়তা রয়েছে, কিংবা সন্তোষজনক মাধ্যমে এ সকল বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়, সেখানে এই ধরনের এনজিওর সাথে সম্পর্ক রাখা কিংবা তার সাহায্য-সহায়তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না।