📄 কাফেরের প্রতি সহিষ্ণু হওয়া ও সহায়তা করা
এ ক্ষেত্রে যদি নিম্নোক্ত তিনটি শর্ত লক্ষ রাখা হয় তাহলে জায়েজ, অন্যথায় নয়।
প্রথম শর্ত: হারবি কাফের (৮৮) হতে পারবে না। কারণ হারবি ব্যক্তির সাথে এ ধরনের আচরণ করা নিষিদ্ধ। সুরা মুমতাহিনায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
لَّا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَهَرُوا عَلَى إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُوْلَبِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ.
যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়িঘর থেকে বহিষ্কারও করেনি, আল্লাহ তোমাদের তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে ও তাদের প্রতি ইনসাফ করতে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন। আল্লাহ তো তোমাদের কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তোমাদের বহিষ্কারকরণে সহযোগিতা করেছে। আর যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই জালেম। (৮৯), (৯০)
দ্বিতীয় শর্ত : এতে ইসলাম এবং মুসলিমদের কোনো ক্ষতি থাকতে পারবে না।
কাজি সানাউল্লাহ পানিপথি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২২৫ হি.) উপরিউক্ত আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করেন,
ومن هاهنا يظهر أن المنهي عنه إنما هو موالاة أهل الحرب دون مبرتهم بشرط أن لا يضرب المومنين.
নিষিদ্ধ তো শুধু হারবি কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখা, তবে তাদের সাথে ভালো আচরণ করা যাবে এই শর্তে যে, এতে মুমিনদের ক্ষতি হতে পারবে না।(৯১)
বোঝা গেল, কাফেরদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জায়েজ, যতক্ষণ না এর কারণে মুসলিমদের বিপদ ও অনিষ্ট হয়।
স্মরণে থাকা চাই যে, সহায়তা-সহানুভূতি এবং হৃদ্যতা পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার মুসলিমরা। যদি কোনো মুসলিমের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে কাফেরের বিপরীতে মুসলিমের দিকেই প্রথমে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। ফুকাহায়ে কেরাম একটি মাসআলা উল্লেখ করেন যে, যদি জাকাতদাতার এলাকায় জাকাতের উপযুক্ত গরিব থাকে, তাহলে তাদেরকেই জাকাত দেওয়া উত্তম। তাদেরকে না দিয়ে অন্য এলাকার গরিবদের মাঝে বণ্টন করা মাকরুহ। যখন শুধু একটি শহরে থাকার কারণে এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, তখন ইসলামের সাথে সম্পর্ক তো আরও দৃঢ় এবং সম্মানের যোগ্য।
তৃতীয় শর্ত : এই সদাচরণের বিষয়টিতে কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য থাকতে পারবে না।
টিকাঃ
৮৮. হারবি কাফের বলা হয়,
الكفار من أهل الكتاب و المشركين الذين امتنعوا عن قبول دعوة الإسلام، ولم يعقد لهم عقد ذمة ولا أمان، ويقطنون في دار الحرب التي لا تطبق فيها أحكام الإسلام. فهم أعداء المسلمين الذين يعلن عليهم الجهاد مرة أو مرتين كل عام.
এমন আহলে কিতাব ও মুশরিক কাফেরদের যারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং তাদের সাথে মুসলমানদের জিম্মা বা নিরাপত্তা চুক্তি হয়নি। তারা এমন ভূখণ্ডে বসবাস করে যেখানে ইসলামের বিধান বিধিবদ্ধ নয়। এরা হলো মুসলমানদের এমন শত্রু, যাদের সাথে বছরে একবার বা দুইবার জিহাদের ঘোষণা করতে হয়। মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যা, ৭/১২১ (আব্দুল্লাহ)
৮৯. সুরা মুমতাহিনা: ৮-৯
৯০. আল্লামা বুরহানুদ্দিন ইবনে মাযাহ আল-হানাফি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৬১৬ হি.) লেখেন,
ولا بأس أن يصل المسلم المشرك قريباً كان أو بعيداً، محارباً كان أو ذمياً، وأراد بالمحارب المستأمن، فأما إذا كان غير مستأمن فلا ينبغي بأن يصله بشيء، والأصل في ذلك قوله تعالى {لا ينهاكم الله عن الذين لم يقاتلو في الدين (الممتحنه : (৮) الآية إلى آخرها، فالله تعالى بين بأول الآية أنه ما نهانا عن مبرة الذمي، وبين بآخر الآية أنه نهانا عن مبرة أهل الحرب؛ إلا أن المستأمن صار مخصوصاً عن آخر الآية؛ لأن الأمان المؤبد أو المؤقت خلف عن الإسلام في أحكام الدنيا، فكما لا يكون بصلة المسلم بأساً، فلا يكون بصلة المستأمن بأساً، بخلاف غير المستأمن؛ لأنه لم يوجد في حقه ما هو خلف عن الإسلام؛ حتى يلحق بالمسلم في حق هذا الحكم، فبقي داخلاً تحت النهي؛ هذا هو الكلام في صلة المسلم المشرك. كتاب الكراهية في معاملة أهل الذمة) কাফেরদের সাথে ভালো আচরণে কোনো সমস্যা নেই। চাই কাফের জিম্মি হোক বা হারবি মুসতামিন হোক (মুসতামিন, যে মুসলমানদের থেকে নিরাপত্তা নিয়ে ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে)। আর যদি কাফের হারবি হয়, তাহলে তার সাথে সদাচরণ ও শৈথিল্য প্রদর্শন না করাই উচিত। এ ক্ষেত্রে মূল দলিল হলো, কুরআনে বর্ণির সুরা মুমতাহিনার ৭ নম্বর আয়াত। আল্লাহ তাআলা আয়াতের প্রথম অংশে জিম্মي কাফেরদের সাথে সদাচরণে নিষেধ করেননি। আর আয়াতের শেষাংশে হারবি কাফেরের সাথে কোমল আচরণে নিষেধ করেছেন। আর মুসতামিন অন্য আয়াতের কারণে হারবির হুকুম থেকে ভিন্ন হয়েছে।
দুনিয়ার বিধান প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের বিকল্প হিসাবে আমান ধর্তব্য হয়, চাই তা স্থায়ী হোক যেমন জিম্মي, বা সাময়িক হোক যেমন মুসতামিন। একজন মুসলমানের সাথে যেমন সদাচরণে কোনো নিষেধ নেই, তেমনই মুসতামিনের সাথেও সদাচরণে কোনো সমস্যা নেই। (কেননা ইসলাম তার মাঝে না থাকলেও দুনিয়ার বিধানের ক্ষেত্রে তার স্থলাভিষিক্ত সাময়িক নিরাপত্তাচুক্তি আছে) কিন্তু হারবি কাফেরের মাঝে ইসলাম বা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো চুক্তি নেই যে, সে মুসলিমদের মতো সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হবে। সুতরাং সদাচরণ করা যাবে না এই ব্যাপক হুকুমের অধীনেই সে থাকবে। আর এটাই হলো মুসলিম ও কাফেরের মাঝে সদাচরণবিষয়ক মূলনীতি। আল-মুহিতুল বুরহানি, ৮/৭০ (আব্দুল্লাহ)
৯১. আত-তাফসিরুল মাজহারি, ৯/২৬২, সুরা মুমতাহিনা
📄 ইসলামের দাওয়াতের উদ্দেশ্যে সাহায্য করা
কল্যাণ ও কল্যাণকামিতার মাঝে শরিয়তের সীমাবদ্ধতা ও বিধিনিষেধকে অতিক্রম করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, এমন কিছু বলা বা করা যাবে না, যার কারণে তাদের মিথ্যা দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থিত হয় অথবা শরিয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন, তাদের ধর্মীয় কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা; তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এত পরিমাণ দেওয়া যে, ইসলামি ভূখণ্ডে সাধারণ জনগণ এবং দরিদ্র মুসলমানদের দ্বীন ও ঈমানের ওপর এর প্রভাব পড়ে; তাদেরকে বড় পদগুলোতে স্থান দেওয়া ইত্যাদি।
উপরিউক্ত তিনটি শর্ত লক্ষ রেখে কাফেরদের সাহায্য ও সহায়তা করা, তাদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা বৈধ, আর যদি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে যেকোনো কাফেরকে সহযোগিতা করা অথবা উপহার-উপঢৌকন দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং একধরনের উত্তম প্রতিদানের (সওয়াব) কাজ। শরহুস সিয়ারিল কাবির কিতাবে রয়েছে,
وإذا طمع في إسلامهم فهو مندوب إلى أن يؤلفهم فيقبل الهدية، ويهدي إليهم، عملا بقوله عليه السلام : تهادوا تحابوا» (شرح السير الكبير، باب هدية أهل الحرب)
যদি তাদের (কাফেরদের) ইসলাম গ্রহণের আশা থাকে, তাহলে তাদের প্রতি হৃদ্যতা দেখানো উত্তম কাজ। তাই তারা হাদিয়া দিলে তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে এবং তাদের কাছেও হাদিয়া পাঠানো যাবে, এতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী تَهَادَوْا تَحَابُوا -'তোমরা পরস্পর হাদিয়া দাও, পরস্পর হৃদ্যতা বিনিময় করো', এই বাণীর প্রতি আমল হয়।(৯২)
টিকাঃ
৯২. শরহুস সিয়ারিল কাবির, ১/১২৩
📄 অসুস্থ কাফেরকে দেখতে যাওয়া এবং তার দুঃখে সান্ত্বনা দেওয়া
জিম্মি কাফেরকে দেখাশোনা করা এবং তার দুঃখে সান্ত্বনা দেওয়ার ক্ষেত্রে শরিয়তে কোনো আপত্তি নেই, কারণ এ দুটিই আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার প্রকার, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ।
আল্লামা শামি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২৫২ হি.) বলেন,
(قوله وجاز عيادته أي عيادة مسلم ذميا نصرانيا أو يهوديا، لأنه نوع بر في حقهم وما نهينا عن ذلك، وصح أن النبي ﷺ «عاد يهوديا مرض بجواره» هداية... وفي النوادر جار يهودي أو مجوسي مات ابن له أو قريب ينبغي أن يعزيه، ويقول أخلف الله عليك خيرا منه، وأصلحك وكان معناه أصلحك الله ﺑﺎﻻﺳﻼﻡ ﻳﻌﻨﻲ ﺭﺯﻗﻚ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻭﺭﺯﻗﻚ ﻭﻟﺪﺍ ﻣﺴﻠﻤﺎ ﻛﻔﺎﻳﺔ. (ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻹﺑﺎﺣﺔ، ﻓﺼﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﻴﻊ)
জিম্মি ইহুদি হোক বা খ্রিষ্টান, তাদের শুশ্রূষা করা জায়েজ। কারণ এটি তাদের প্রতি একধরনের সহানুভূতি, যে ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করা হয়নি। আর এটা প্রমাণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পার্শ্ববর্তী এক ইহুদি অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যান। ... 'নাওয়াদির' কিতাবে উল্লেখ আছে, ইহুদি বা অগ্নিপূজারি প্রতিবেশীর সন্তান বা নিকটাত্মীয় কেউ মারা গেলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া (মুসলিমের জন্য) উচিত, তখন সে বলবে, 'আল্লাহ আপনাকে এর চেয়ে ভালো কিছু দান করুন, এবং আপনার মঙ্গল করুন।' মঙ্গল করার অর্থ হলো আল্লাহ আপনাকে ইসলাম (গ্রহণের তাওফিক) দান করুন, আর আপনাকে একটি মুসলিম সন্তান দান করুন। (৯৩)
কিছু কিছু ফিকহি শাখাগত মাসআলায় এ (দেখাশোনা বা সান্ত্বনার) ক্ষেত্রে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাথে جار তথা প্রতিবেশীর শর্ত করা হয়। কিন্তু এই শর্ত আবশ্যকীয় কোনো শর্ত নয়, কারণ দেখাশোনা বৈধ হওয়ার যে কারণ বিবৃত হয়েছে, সেটি 'হারবি' না হলে প্রতিবেশী ও দূরে বসবাসকারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
আল্লামা হামাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১০৯৮ হি.) 'আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ের'- এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই শর্তটি আবশ্যকীয় শর্ত নয়। (৯৪)
তেমনইভাবে কিছু কিতাবে 'আহলে কিতাব'- এই শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। অমুসলিম যদি আহলে কিতাব হয়, তাহলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে বা তার সেবাশুশ্রূষা করা যাবে। তবে মাজুসি বা অন্য কোনো ধর্মের হলে তা করা যাবে না। এটা কিছু ফকিহের মত হলেও প্রাধান্যযোগ্য বক্তব্য হলো, যেকোনো জিম্মি অমুসলিমের সেবা-শুশ্রূষা করা যাবে। আল্লামা শিলবি রহিমাহুল্লাহ 'তাবয়িনুল হাকায়েক' গ্রন্থের টীকায় ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, অগ্নিপূজকদেরও সেবাশুশ্রুষা করা যাবে।
টিকাঃ
৯৩. ফাতাওয়ায়ে শামি, ৬/৩৮৮
৯৪. শরুল আশবাহ লিল-হামাবি, ৩/৪০২
📄 কাফেরদের জন্য দোয়া করা
১. কোনো ব্যক্তি কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য মাগফেরাতের দোয়া করা জায়েয নয়, তাই সান্ত্বনা দেওয়ার কালে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা কাম্য। কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُوْلِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ.
নবী ও ঈমানদারদের পক্ষে মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা সংগত নয়, যদিও তারা আত্মীয়স্বজন হোক, যখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তারা দোজখি। (৯৫)
আল-বাহরুর রায়েক গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,
والحق أنه يكون عاصيا بالدعاء للكافر بالمغفرة غير عاص بالدعاء بالمغفرة لجميع المؤمنين. (البحر الرائق ٠٥٣/١، كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة، آداب الصلاة)
সঠিক কথা হলো কাফেরদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করার দ্বারা ব্যক্তি গোনাহগার হবে। কিন্তু সমস্ত মুসলমানের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করার দ্বারা গোনাহগার হবে না। (৯৬)
আন-নাহরুল ফায়েক গ্রন্থে আরও উল্লেখ হয়েছে,
(ودعا) لنفسه ولأبويه المؤمنين والمؤمنات أما الدعاء للكافرين بالمغفرة فلا يجوز بل ادعى القرافي المالكي البهنسي أنه كفر. (النهر الفائق ٤٢٢/١، كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة)
নিজের জন্য, নিজের মুসলিম পিতামাতার জন্য মাগফেরাতের দোয়া করা জায়েজ। আর কাফেরদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করা জায়েয নয়। বরং কারাফি আল-মালেকি রহিমাহুল্লাহ তো দাবি করেছেন যে, এটা (কাফেরদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করা) কুফর। (৯৭)
বাকি রইল জীবিত কাফেরদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করার বিধান। এই বিষয়ে ফকিহদের মাঝে মতানৈক্য দেখা যায়। কতক আহলে ইলমের মতে তা জায়েজ। 'আল-মুতাসার মিনাল মুখতাসার' কিতাবে উল্লেখ হয়েছে,
ومما يدل على جواز الاستغفار للمشرك مادام حيا قوله صلى الله عليه وسلم : اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون. (المعتصر من المختصر من مشكل الآثار ١٢١/١ ، كتاب الجنائز، باب في الاستغفار للمشرك)
জীবিত কাফেরের জন্য মাগফেরাতের দোয়া জায়েয হওয়ার দলিল হলো, যেমনটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদযুদ্ধের সময় করেছেন- হে আল্লাহ আমার কওমকে ক্ষমা করে দেন, কেননা তারা জানে না। (৯৮)
আর কতকের মতে কুরআনে মাগফেরাতের দোয়া করতে যে নিষেধ করা হয়েছে তা ব্যাপক অর্থেই করা হয়েছে। তাই জীবিত ও মৃত সব কাফেরই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে। ইমাম কুরতুবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৬৭১ হি.) বলেন,
فإن الله لم يجعل للمؤمنين أن يستغفروا للمشركين فطلب الغفران للمشرك مما لا يجوز. فإن قيل : فقد صح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم أحد حين كسروا رباعيته وشجوا وجهه : (اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون) فكيف يجتمع هذا مع منع الله تعالى رسوله والمؤمنين من طلب المغفرة للمشركين. قيل له : إن ذلك القول من النبي صلى الله عليه وسلم إنما كان على سبيل الحكاية عمن تقدمه من الأنبياء والدليل عليه ما رواه مسلم عن عبد الله قال : كأني أنظر إلى النبي صلى الله عليه وسلم يحكي نبيا من الأنبياء ضربه قومه وهو يمسح الدم عن وجهه ويقول : (رب اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون). (الجامع لأحكام القرآن ৩7২/৮, تحت سورة التوبة الآية : 311)
অর্থাৎ, মুমিনদের জন্য কাফেরের মাগফেরাত চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। (১৯)
কিন্তু বাহ্যত এটাই মনে হয় যে, যদি জীবিত কাফেরের জন্য তার কুফরি অবস্থায় মাগফেরাতের দোয়া করা হয়, তাহলে তা নাজায়েয হবে। তবে যদি এভাবে মাগফেরাত চাওয়া হয় যে, কাফেরের যেন সঠিক ধর্ম ইসলাম কবুলের তাওফিক হয়, তাহলে দোয়া করার সুযোগ আছে। এতে কোনো সমস্যা নেই। (১০০)
২. হেদায়েত ও সত্য দ্বীন গ্রহণের তাওফিক হয়, এজন্য দোয়া করা। এটা সম্পূর্ণ জায়েজ। বরং কেউ যদি ইখলাসের সাথে দোয়া করে, তাহলে সে অবশ্যই অনেক বড় একটি সওয়াবের কাজ করল। আর এটা হলো তাবলিগের একটি নীরব পদ্ধতি।
৩. দীর্ঘজীবন, নিরাপত্তার জন্য ও সুখশান্তির জন্য দোয়া করা। এখানেও মতানৈক্য রয়েছে। কারও নিকট জায়েয আর কারও নিকট নিষেধ। তবে মাসআলাটির মূল ভিত্তি এটাই মনে হয়, যে দোয়া করছে তার উদ্দেশ্য কী সেটা দেখতে হবে। যদি উদ্দেশ্য হয়, দীর্ঘজীবন পেলে এবং সুখশান্তিময় জীবন লাভ করলে কাফের ব্যক্তিটি ইসলাম গ্রহণ করবে, অথবা দীর্ঘজীবী হলে তার জিজিয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের উপকার হবে, এমন উদ্দেশ্য হলে এ ধরনের দোয়ায় কোনো সমস্যা নেই। আর যদি উদ্দেশ্য হয় কুফর নিয়ে সে দীর্ঘজীবী হোক, তাহলে স্পষ্টই এটা নিষিদ্ধ। 'তাবয়িনুল হাকায়েক' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,
ولو دعا له بالهدى جاز؛ لأنه عليه الصلاة والسلام قال اللهم أهد قومي فإنهم لا يعلمون، ولو دعا له بطول العمر قيل لا يجوز؛ لأن فيه التمادي على الكفر، وقيل يجوز؛ لأن في طول عمره نفعا للمسلمين بأداء الجزية فيكون دعاء لهم، وعلى هذا الاختلاف الدعاء له بالعافية. (تبيين الحقائق ٠٣/٦، كتاب الكراهية، فصل في البيع)
অর্থাৎ, কাফেরের জন্য হেদায়েতের দোয়া করা জায়েজ। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাফেরদের হেদায়েতের দোয়া করেছেন। কাফেরদের দীর্ঘজীবী হওয়ার দোয়া করা জায়েয নয়, কেননা এতে কুফরের ওপর দীর্ঘজীবনের দোয়া হয়। আবার কেউ বলেছেন জায়েজ। কেননা কাফের দীর্ঘজীবী হলে সে জিজিয়া দেবে, এতে মুসলমানদের কল্যাণ। ফলে এখানে মুসলমানদের পক্ষেই দোয়া করা হচ্ছে। কাফেরের জন্য আরোগ্যের দোয়া করার ব্যাপারেও একই মতভেদ রয়েছে।(১০১)
'মিনহাতুস সুলুক' গ্রন্থে বদরুদ্দিন আইনি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৮৫৫ হি.) বলেন,
(ولو قال للذمي : أطال الله بقائك : لم يجز لأن فيه التمادي على الكفر (إلا إذا نوى به) أي بهذا الدعاء (إطالة بقائه لأجل أن يسلم، أو لمنفعة الجزية) لأن الدعاء فيهما لا يرجع إلى الذمي. (منحة السلوك في شرح تحفة الملوك ص ٤٥٣، كتاب الجهاد، الفصل الثاني)
জিম্মিকে এই কথা বলা, 'আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুক', জায়েয নেই। কেননা, এতে কুফরের ওপর দীর্ঘজীবিতা চাওয়া হয়। তবে যদি এই নিয়তে এই কথা বলা হয় যে, সে দীর্ঘজীবী হলে ইসলাম গ্রহণ করবে বা জিজিয়া আদায় করবে, তাহলে এই দুই সুরতে তা জায়েজ। কেননা এখানে জিম্মির জন্য দোয়া করা হচ্ছে না। (১০২)
টিকাঃ
৯৫. সুরা তাওবা: ১১৩
৯৬. আল-বাহরুর রায়েক, ১/৩৫০
৯৭. আন-নাহরুল ফায়েক, ১/২২৪
৯৮. আল-মুতাসার মিনাল মুখতাসার, ১/১২১
১০০. রিপ কালচার ও কিছু কথা: বর্তমানে আমাদের সমাজে বড় ভয়ংকর বিকৃত সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যেটাকে বলা হয় 'রিপ কালচার'। বিভিন্ন অমুসলিম সেলেব্রেটি মারা গেলে তার মৃত্যুতে শোক জানানো হয় এবং তার জন্য ক্ষমাপার্থনা ও মৃত জীবনে সে যেন ভালো থাকে সে দোয়া করা হয়। এতে বেশ প্রচলিত একটি বাক্য হলো RIP (Rest in peace)। অর্থাৎ ওপারে ভালো থেকো। মুসলিম সন্তানরা এমন ব্যক্তির সম্পর্কে ওপারে ভালো থাকার দোয়া করছে, যে সারাজীবন মানুষের নৈতিকতা ধ্বংসের কাজ করে গেছে। এমন মানুষের ওপারে ভালোর দোয়া করছে, যে জীবনভর আখেরাতে অবিশ্বাস করে গেছে এবং মানুষকে সে অবিশ্বাসের দিকে আহ্বান করে গেছে। এর থেকে বড় আফসোসের বিষয় আর কী হতে পারে! এটা বড়ই দুঃখজনক। আমাদের সন্তানদের এ থেকে আমাদের বিরত রাখা, ইসলামের সঠিক জ্ঞান দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এই মাসআলাসংক্রান্ত একটি আয়াত লেখক ওপরে পেশ করেছেন। এখানে আমরা এ সংক্রান্ত আরও একটি প্রসিদ্ধ আয়াত ও কয়েকজন ইমামের বক্তব্য দেখব। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ.
আর তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে আপনি কক্ষনো তার (জানাজার) নামাজ পড়বেন না এবং তার কবরের সামনে দাঁড়াবেনও না। তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করেছে এবং নাফরমান অবস্থায়ই মারা গেছে। সুরা তাওবা: ৮৪ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট হাম্বলি ফকিহ আল্লামা বাহুতি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১০৫১ হি.) বলেন,
وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ، أن المراد عند أكثر المفسرين : القيام للدعاء والاستغفار. (كشاف القناع، كتاب الجنائز، شروط صلاة الجنازة)
কুরআনের বাণী, 'আপনি তার কবরের সামনে দাঁড়াবেন না', অধিকাংশ মুফাসসিরের নিকট এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো, কাফেরদের জন্য দোয়া ও ক্ষমাপার্থনা করার জন্য দাঁড়াবেন না। কাশশাফুল কিনা, ৪/২৪২
সুরা তাওবার ১১৩ নম্বর আয়াতের (যে আয়াতটি মূল লেখক উল্লেখ করেছেন) ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবি আল-মালেকি রহিমাহুল্লাহ বলেন, هذه الآية تضمنت قطع موالاة الكفار حيهم وميتهم فإن الله لم يجعل للمؤمنين أن يستغفروا للمشركين فطلب الغفران للمشرك مما لا يجوز. (تفسير القرطبي ٣٧٢/٧، تحت سورة التوبة : آية ۳۱۱، دار الكتب المصرية)
এই আয়াতের মর্মার্থই হলো কাফেরদের সাথে মৃত বা জীবিত সর্বাবস্থায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সুতরাং কোনো মুশরিকের জন্য ক্ষমাপার্থনা করা নাজায়েজ। তাফসিরে কুরতুবি, ৮/২৭৩ হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত ইমাম সারাখসি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৮৩ হি.) মৃত কাফেরের জন্য দোয়ার বিষয়ে লেখেন, وإذا اختلط موتى المسلمين بموتى الكفار فإن كانت الغلبة للمسلمين غسلوا وصلي عليهم إلا من عرف أنه كافر لأن الحكم للغلبة والمغلوب لا يظهر حكمه مع الغالب وإن كانت الغلبة لموتى الكفار لا يصلى عليهم إلا من عرف أنه مسلم بالسيما فإذا استويا لم يصل عليهم عندنا لأن الصلاة على الكفار منهي عنها. (المبسوط ٤٥/٢، كتاب الصلاة، باب الشهيد، دار الكتب العلمية)
...আমাদের নিকট কাফেরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা নিষেধ। আল-মাবসুত, ২/৫৪ একটি সংশয় ও তার জবাব: যখন কোনো স্পষ্ট কাফের বা দ্বীনবিদ্বেষী মৃত্যুবরণ করে আর কিছু মানুষ 'ওপারে ভালো থাকবেন' এমন আবেগঘন বক্তব্য দিতে থাকে, তখন আলেম-উলামা ও দ্বীনদার শ্রেণি 'এমন কাজ করা ইসলামে নাজায়েজ, কাফেরের প্রতি এভাবে ভালোবাসা প্রকাশ ঈমানের জন্য ক্ষতিকর' বলে সতর্ক করে, তখন একদল সেকুলার রাম-বাম আর ঈমানহীন বুদ্ধিজীবী অথবা অজ্ঞ মুসলিমদের খুবই আবেগতাড়িত সুরে বলতে দেখা যায়, 'সে কাফের হলেও একজন মানুষ তো! একজন মানুষের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা কেন সমস্যা! কেন একজন মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে এভাবে বলা হবে, সে জাহান্নামি! ধর্ম কি এভাবে অমানবিকতা শিক্ষা দেয়!'
সেকুলার আর লিবারেল নফসের পূজারি বুদ্ধিজীবীদের এই বক্তব্যে অনেক মুসলমানই বিভ্রান্ত হয়! তারাও তাদের সাথে সুর মিলায়। অথচ একটু ভালো করে লক্ষ করলেই দেখা যায়, 'মানবতা' বলে চিৎকার দিয়ে ভালোবাসার যে মাপকাঠি ঠিক করে তারা ইসলামের স্পষ্ট বিধানকে পেছনে টেলে দিচ্ছে, মানবতা নামক এই মাপকাঠি শুধুই ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়। সময়ে সময়ে এই সেকু-লিবারেলদের এই মানবতা নামক মিথ্যা মাপকাঠির চেহারা থেকে পর্দা খসে পড়ে। একটি ছোট্ট উদাহরণ দেখা যাক। কিছুদিন পূর্বে (১৪ আগস্ট ২০২৩ খ্রি.) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আল্লামা সাঈদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। তখন এ দেশের শাহবাগী, জাতীয়তাবাদী, লিবারেল ও সেকুলার লোকেরা আনন্দে-উল্লাসে ফেটে পড়ে! শুধুই কি উল্লাস! বরং তার মৃত্যুতে কেউ শোক প্রকাশ করলে তার সাথে ঘৃণ্য আচরণ করতেও এরা দ্বিধাবোধ করেনি। আল্লামা সাঈদীর মৃত্যুতে (এমন আরও অসংখ্য ঘটনায়) তারা কিন্তু মানবিকতার বয়ান নিয়ে হাজির হচ্ছে না। সাঈদীকে একজন মানুষ হিসাবে তারা কল্পনা করতে পারছে না! তারা মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর ঘৃণার কিন্তু আরেকটি মূল্যবোধ ও মাপকাঠি নিয়ে আসছে, তা হলো একাত্তরের রাজাকার! অর্থাৎ একজন মানুষ মানুষ হওয়ার পরেও যখন তাকে রাজাকার বলে ধরে নেওয়া হবে, জীবদ্দশায় তো তাকে ভালোবাসার প্রশ্নই ওঠে না, মৃত্যুবরণ করার পরেও তাকে ঘৃণা করতে হবে, তার প্রতি সামান্য ভালোবাসা দেখানো দেশের সাথে গাদ্দারির শামিল বলে ধর্তব্য হবে! তার অপকর্মগুলো মানুষকে স্পষ্ট করতে হবে, যেন মানুষ তাকে ভালো না বাসে। এমনকি এই বিষয়ে ন্যূনতম কোনো ছাড় নেই।
এতে স্পষ্টই যে, সেকুলাঙ্গার আর জাতীয়তাবাদীদের নিকট একজন মানুষ মানুষ হওয়ার পরেও তাকে ভালোবাসা ও ঘৃণার ভিন্ন মাপকাঠি রয়েছে। আর তাতে তাদের রয়েছে জিরো টলারেন্স! এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই! এই হলো মানুষের বানানো মাপকাঠির দ্বিচারিতা ও ধোঁকাবাজি।
জি, ঠিক এমনই ইসলামেরও রয়েছে মানুষ মানুষ হওয়ার পরেও তাকে ভালোবাসা ও ঘৃণা করার ভিন্ন একটি মাপকাঠি। আর তা হলো ঈমান-কুফর। একজন মানুষের ব্যাপারে যখন এটা প্রমাণিত হবে যে সে মুসলিম, এতটুকুই যথেষ্ট তার প্রতি আমার ভালোবাসা থাকার। অপরদিকে কারও ব্যাপারে যদি এটা প্রমাণিত হয় যে সে কাফের, এতটুকুই যথেষ্ট সে মানুষ হিসাবে যেমনই হোক তাকে ঘৃণা করার, তাকে শত্রু বিবেচনা করার। যেখানে কোনো দ্বিচারিতা নেই, নেই কোনো ধোঁকাবাজি।
যখন দুটি মতাদর্শেরই মানুষকে ভালোবাসা আর ঘৃণার আলাদা মূল্যবোধ আর মূল্যায়নের মাপকাঠি আছে, সেখানে ইসলামেরটা উগ্রতা আর সেকুলার-লিবারেলেরটা মানবতা! এটা কি দ্বিচারিতা নয়! এটা কি ধোঁকাবাজি নয়! (আব্দুল্লাহ)
১০১. তাবয়িনুল হাকায়েক, ৬/৩০
১০২. মিনহাতুস সুলুক, পৃ. ৩৫৪