📄 কাফেরের সাথে আত্মীয়তা ঠিক রাখার বিধান
সৌহার্দ প্রকাশের অন্যতম একটি হলো, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা। যদি মুসলমানের কোনো কাফের আত্মীয় থাকে, তাহলে তার সাথে অন্তরঙ্গ ভালোবাসা ও বিশ্বাস রাখা শরিয়তে জায়েয নেই। এতৎসত্ত্বেও আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা ও তা বলবত রাখা বৈধ, বরং এটি উত্তম কাজ। শরিয়ত যেখানে আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখার বিধান দিয়েছে, সেখানে কোথাও মুসলমান অথবা কাফেরের মাঝে কোনো ধরনের বিভাজন করেনি। কাজেই মুসলিম-কাফের উভয়ের সাথেই আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক ও বলবত রাখা চাই। যেহেতু আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখা বৈধ, তাই এর আনুষঙ্গিক সকল বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়াও শরিয়ত অনুমোদিত। যেমন খোশগল্প করা, খোঁজখবর রাখা, একে অপরের দুঃখে সান্ত্বনা দেওয়া, জরুরি ও প্রয়োজনীয় সময়ে পরস্পরের সাহায্য-সহায়তা করা ইত্যাদি।
আত্মীয়তা ঠিক রাখার জন্য এসব কাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া 'মুদারাত' (উত্তম আচরণের) অন্তর্ভুক্ত। শরিয়তের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ধরনের বাধা নেই। যেমনটি জাসসাস রহ.-এর বক্তব্য থেকে ইতিপূর্বে স্পষ্ট হয়েছে। ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর 'আস-সিয়ারুল কাবির' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শরহুস সিয়ারিল কাবির'-এ (باب صلة المشرك )মুশরিকদের সাথে আত্মীয়তার অধ্যায়) নামে পৃথক একটি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে বর্ণনা রয়েছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম কাফের আত্মীয়দের সাথে আত্মীয়তা ঠিক রাখতেন এবং এ ব্যাপারে শরিয়তে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। যৌক্তিকভাবে আত্মীয়তা ঠিক রাখা উত্তম কাজ এবং উৎকৃষ্ট স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ এই বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখ করার পর লেখেন,
ولأن صلة الرحم محمود عند كل عاقل وفي كل دين، والإهداء إلى الغير من مكارم الأخلاق. وقال صلى الله عليه وسلم : «بعثت لأتمم مكارم الأخلاق . فعرفنا أن ذلك حسن في حق المسلمين والمشركين جميعا. (شرح السير الكبير ٦٩/١، باب صلة المشرك)
আত্মীয়তার বন্ধন ঠিক রাখা প্রতিটি ধর্মের ও বিবেকবান ব্যক্তির নিকটেই প্রশংসনীয়। অন্যকে উপহার দেওয়া উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে উত্তম স্বভাব পূর্ণ করতে।' এ থেকে জানা গেল, উত্তম আচরণ করা মুসলিম ও কাফের সকলের ক্ষেত্রেই সমান। (৮৭)
মোটকথা, সৌহার্দ-প্রীতি প্রদর্শন করে আত্মীয়তা বজায় রাখার সময় সতর্ক থাকতে হবে যে, এর কারণে যেন শরিয়তের কোনো নিষিদ্ধ এবং অবাধ্য কর্মকাণ্ড প্রকাশ না পায়। যেমন কাফেরের মিথ্যা আকিদার প্রশংসা, সেটির প্রতি সন্তুষ্টি এবং একমত প্রকাশ করা, কাফেরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ ইত্যাদি ইত্যাদি।
টিকাঃ
৮৭. শরহুর সিয়ারিল কাবির, ১/৯৬
📄 কাফেরের প্রতি সহিষ্ণু হওয়া ও সহায়তা করা
এ ক্ষেত্রে যদি নিম্নোক্ত তিনটি শর্ত লক্ষ রাখা হয় তাহলে জায়েজ, অন্যথায় নয়।
প্রথম শর্ত: হারবি কাফের (৮৮) হতে পারবে না। কারণ হারবি ব্যক্তির সাথে এ ধরনের আচরণ করা নিষিদ্ধ। সুরা মুমতাহিনায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
لَّا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَهَرُوا عَلَى إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُوْلَبِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ.
যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়িঘর থেকে বহিষ্কারও করেনি, আল্লাহ তোমাদের তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে ও তাদের প্রতি ইনসাফ করতে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন। আল্লাহ তো তোমাদের কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তোমাদের বহিষ্কারকরণে সহযোগিতা করেছে। আর যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই জালেম। (৮৯), (৯০)
দ্বিতীয় শর্ত : এতে ইসলাম এবং মুসলিমদের কোনো ক্ষতি থাকতে পারবে না।
কাজি সানাউল্লাহ পানিপথি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২২৫ হি.) উপরিউক্ত আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করেন,
ومن هاهنا يظهر أن المنهي عنه إنما هو موالاة أهل الحرب دون مبرتهم بشرط أن لا يضرب المومنين.
নিষিদ্ধ তো শুধু হারবি কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখা, তবে তাদের সাথে ভালো আচরণ করা যাবে এই শর্তে যে, এতে মুমিনদের ক্ষতি হতে পারবে না।(৯১)
বোঝা গেল, কাফেরদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জায়েজ, যতক্ষণ না এর কারণে মুসলিমদের বিপদ ও অনিষ্ট হয়।
স্মরণে থাকা চাই যে, সহায়তা-সহানুভূতি এবং হৃদ্যতা পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার মুসলিমরা। যদি কোনো মুসলিমের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে কাফেরের বিপরীতে মুসলিমের দিকেই প্রথমে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। ফুকাহায়ে কেরাম একটি মাসআলা উল্লেখ করেন যে, যদি জাকাতদাতার এলাকায় জাকাতের উপযুক্ত গরিব থাকে, তাহলে তাদেরকেই জাকাত দেওয়া উত্তম। তাদেরকে না দিয়ে অন্য এলাকার গরিবদের মাঝে বণ্টন করা মাকরুহ। যখন শুধু একটি শহরে থাকার কারণে এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, তখন ইসলামের সাথে সম্পর্ক তো আরও দৃঢ় এবং সম্মানের যোগ্য।
তৃতীয় শর্ত : এই সদাচরণের বিষয়টিতে কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য থাকতে পারবে না।
টিকাঃ
৮৮. হারবি কাফের বলা হয়,
الكفار من أهل الكتاب و المشركين الذين امتنعوا عن قبول دعوة الإسلام، ولم يعقد لهم عقد ذمة ولا أمان، ويقطنون في دار الحرب التي لا تطبق فيها أحكام الإسلام. فهم أعداء المسلمين الذين يعلن عليهم الجهاد مرة أو مرتين كل عام.
এমন আহলে কিতাব ও মুশরিক কাফেরদের যারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং তাদের সাথে মুসলমানদের জিম্মা বা নিরাপত্তা চুক্তি হয়নি। তারা এমন ভূখণ্ডে বসবাস করে যেখানে ইসলামের বিধান বিধিবদ্ধ নয়। এরা হলো মুসলমানদের এমন শত্রু, যাদের সাথে বছরে একবার বা দুইবার জিহাদের ঘোষণা করতে হয়। মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যা, ৭/১২১ (আব্দুল্লাহ)
৮৯. সুরা মুমতাহিনা: ৮-৯
৯০. আল্লামা বুরহানুদ্দিন ইবনে মাযাহ আল-হানাফি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৬১৬ হি.) লেখেন,
ولا بأس أن يصل المسلم المشرك قريباً كان أو بعيداً، محارباً كان أو ذمياً، وأراد بالمحارب المستأمن، فأما إذا كان غير مستأمن فلا ينبغي بأن يصله بشيء، والأصل في ذلك قوله تعالى {لا ينهاكم الله عن الذين لم يقاتلو في الدين (الممتحنه : (৮) الآية إلى آخرها، فالله تعالى بين بأول الآية أنه ما نهانا عن مبرة الذمي، وبين بآخر الآية أنه نهانا عن مبرة أهل الحرب؛ إلا أن المستأمن صار مخصوصاً عن آخر الآية؛ لأن الأمان المؤبد أو المؤقت خلف عن الإسلام في أحكام الدنيا، فكما لا يكون بصلة المسلم بأساً، فلا يكون بصلة المستأمن بأساً، بخلاف غير المستأمن؛ لأنه لم يوجد في حقه ما هو خلف عن الإسلام؛ حتى يلحق بالمسلم في حق هذا الحكم، فبقي داخلاً تحت النهي؛ هذا هو الكلام في صلة المسلم المشرك. كتاب الكراهية في معاملة أهل الذمة) কাফেরদের সাথে ভালো আচরণে কোনো সমস্যা নেই। চাই কাফের জিম্মি হোক বা হারবি মুসতামিন হোক (মুসতামিন, যে মুসলমানদের থেকে নিরাপত্তা নিয়ে ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে)। আর যদি কাফের হারবি হয়, তাহলে তার সাথে সদাচরণ ও শৈথিল্য প্রদর্শন না করাই উচিত। এ ক্ষেত্রে মূল দলিল হলো, কুরআনে বর্ণির সুরা মুমতাহিনার ৭ নম্বর আয়াত। আল্লাহ তাআলা আয়াতের প্রথম অংশে জিম্মي কাফেরদের সাথে সদাচরণে নিষেধ করেননি। আর আয়াতের শেষাংশে হারবি কাফেরের সাথে কোমল আচরণে নিষেধ করেছেন। আর মুসতামিন অন্য আয়াতের কারণে হারবির হুকুম থেকে ভিন্ন হয়েছে।
দুনিয়ার বিধান প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের বিকল্প হিসাবে আমান ধর্তব্য হয়, চাই তা স্থায়ী হোক যেমন জিম্মي, বা সাময়িক হোক যেমন মুসতামিন। একজন মুসলমানের সাথে যেমন সদাচরণে কোনো নিষেধ নেই, তেমনই মুসতামিনের সাথেও সদাচরণে কোনো সমস্যা নেই। (কেননা ইসলাম তার মাঝে না থাকলেও দুনিয়ার বিধানের ক্ষেত্রে তার স্থলাভিষিক্ত সাময়িক নিরাপত্তাচুক্তি আছে) কিন্তু হারবি কাফেরের মাঝে ইসলাম বা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো চুক্তি নেই যে, সে মুসলিমদের মতো সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হবে। সুতরাং সদাচরণ করা যাবে না এই ব্যাপক হুকুমের অধীনেই সে থাকবে। আর এটাই হলো মুসলিম ও কাফেরের মাঝে সদাচরণবিষয়ক মূলনীতি। আল-মুহিতুল বুরহানি, ৮/৭০ (আব্দুল্লাহ)
৯১. আত-তাফসিরুল মাজহারি, ৯/২৬২, সুরা মুমতাহিনা
📄 ইসলামের দাওয়াতের উদ্দেশ্যে সাহায্য করা
কল্যাণ ও কল্যাণকামিতার মাঝে শরিয়তের সীমাবদ্ধতা ও বিধিনিষেধকে অতিক্রম করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, এমন কিছু বলা বা করা যাবে না, যার কারণে তাদের মিথ্যা দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থিত হয় অথবা শরিয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন, তাদের ধর্মীয় কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা; তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এত পরিমাণ দেওয়া যে, ইসলামি ভূখণ্ডে সাধারণ জনগণ এবং দরিদ্র মুসলমানদের দ্বীন ও ঈমানের ওপর এর প্রভাব পড়ে; তাদেরকে বড় পদগুলোতে স্থান দেওয়া ইত্যাদি।
উপরিউক্ত তিনটি শর্ত লক্ষ রেখে কাফেরদের সাহায্য ও সহায়তা করা, তাদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা বৈধ, আর যদি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে যেকোনো কাফেরকে সহযোগিতা করা অথবা উপহার-উপঢৌকন দেওয়া কেবল জায়েজই নয়, বরং একধরনের উত্তম প্রতিদানের (সওয়াব) কাজ। শরহুস সিয়ারিল কাবির কিতাবে রয়েছে,
وإذا طمع في إسلامهم فهو مندوب إلى أن يؤلفهم فيقبل الهدية، ويهدي إليهم، عملا بقوله عليه السلام : تهادوا تحابوا» (شرح السير الكبير، باب هدية أهل الحرب)
যদি তাদের (কাফেরদের) ইসলাম গ্রহণের আশা থাকে, তাহলে তাদের প্রতি হৃদ্যতা দেখানো উত্তম কাজ। তাই তারা হাদিয়া দিলে তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে এবং তাদের কাছেও হাদিয়া পাঠানো যাবে, এতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী تَهَادَوْا تَحَابُوا -'তোমরা পরস্পর হাদিয়া দাও, পরস্পর হৃদ্যতা বিনিময় করো', এই বাণীর প্রতি আমল হয়।(৯২)
টিকাঃ
৯২. শরহুস সিয়ারিল কাবির, ১/১২৩
📄 অসুস্থ কাফেরকে দেখতে যাওয়া এবং তার দুঃখে সান্ত্বনা দেওয়া
জিম্মি কাফেরকে দেখাশোনা করা এবং তার দুঃখে সান্ত্বনা দেওয়ার ক্ষেত্রে শরিয়তে কোনো আপত্তি নেই, কারণ এ দুটিই আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার প্রকার, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ।
আল্লামা শামি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২৫২ হি.) বলেন,
(قوله وجاز عيادته أي عيادة مسلم ذميا نصرانيا أو يهوديا، لأنه نوع بر في حقهم وما نهينا عن ذلك، وصح أن النبي ﷺ «عاد يهوديا مرض بجواره» هداية... وفي النوادر جار يهودي أو مجوسي مات ابن له أو قريب ينبغي أن يعزيه، ويقول أخلف الله عليك خيرا منه، وأصلحك وكان معناه أصلحك الله ﺑﺎﻻﺳﻼﻡ ﻳﻌﻨﻲ ﺭﺯﻗﻚ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﻭﺭﺯﻗﻚ ﻭﻟﺪﺍ ﻣﺴﻠﻤﺎ ﻛﻔﺎﻳﺔ. (ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻹﺑﺎﺣﺔ، ﻓﺼﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﻴﻊ)
জিম্মি ইহুদি হোক বা খ্রিষ্টান, তাদের শুশ্রূষা করা জায়েজ। কারণ এটি তাদের প্রতি একধরনের সহানুভূতি, যে ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করা হয়নি। আর এটা প্রমাণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পার্শ্ববর্তী এক ইহুদি অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যান। ... 'নাওয়াদির' কিতাবে উল্লেখ আছে, ইহুদি বা অগ্নিপূজারি প্রতিবেশীর সন্তান বা নিকটাত্মীয় কেউ মারা গেলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া (মুসলিমের জন্য) উচিত, তখন সে বলবে, 'আল্লাহ আপনাকে এর চেয়ে ভালো কিছু দান করুন, এবং আপনার মঙ্গল করুন।' মঙ্গল করার অর্থ হলো আল্লাহ আপনাকে ইসলাম (গ্রহণের তাওফিক) দান করুন, আর আপনাকে একটি মুসলিম সন্তান দান করুন। (৯৩)
কিছু কিছু ফিকহি শাখাগত মাসআলায় এ (দেখাশোনা বা সান্ত্বনার) ক্ষেত্রে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাথে جار তথা প্রতিবেশীর শর্ত করা হয়। কিন্তু এই শর্ত আবশ্যকীয় কোনো শর্ত নয়, কারণ দেখাশোনা বৈধ হওয়ার যে কারণ বিবৃত হয়েছে, সেটি 'হারবি' না হলে প্রতিবেশী ও দূরে বসবাসকারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
আল্লামা হামাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১০৯৮ হি.) 'আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ের'- এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই শর্তটি আবশ্যকীয় শর্ত নয়। (৯৪)
তেমনইভাবে কিছু কিতাবে 'আহলে কিতাব'- এই শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। অমুসলিম যদি আহলে কিতাব হয়, তাহলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে বা তার সেবাশুশ্রূষা করা যাবে। তবে মাজুসি বা অন্য কোনো ধর্মের হলে তা করা যাবে না। এটা কিছু ফকিহের মত হলেও প্রাধান্যযোগ্য বক্তব্য হলো, যেকোনো জিম্মি অমুসলিমের সেবা-শুশ্রূষা করা যাবে। আল্লামা শিলবি রহিমাহুল্লাহ 'তাবয়িনুল হাকায়েক' গ্রন্থের টীকায় ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, অগ্নিপূজকদেরও সেবাশুশ্রুষা করা যাবে।
টিকাঃ
৯৩. ফাতাওয়ায়ে শামি, ৬/৩৮৮
৯৪. শরুল আশবাহ লিল-হামাবি, ৩/৪০২