📄 আরব ভূখণ্ডে অমুসলিমদের বসবাস
আরব ভূখণ্ডে কোনো কাফেরকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া জায়েয নেই। বেশ কিছু হাদিসে কাফেরদের জাযিরাতুল আরব থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। তাই আরবের পুরো ভূখণ্ডে কোনো কাফেরকে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে সেই কাফের শ্রমিক বা মজদুর হিসাবে হোক কিংবা মালিক ও মনিব হিসাবে থাকুক, কোনো অবস্থাতেই হুকুমের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ও পার্থক্য আসবে না। সেখানে তাদের জন্য সর্বাবস্থায় স্থায়ী বসবাস নিষিদ্ধ। প্রত্যেক মুসলমান এই বিষয়ে আদিষ্ট যে, আরবের এই নির্দিষ্ট ভূমিকে অমুসলিমদের বসবাস থেকে পবিত্র রাখতে নিজের সাধ্যমতো ভূমিকা রাখবে। ফকিহগণ এটাও লিখেছেন যে, আরবের ভূমিতে কোনো অমুসলিমের জিম্মي হয়ে থাকারও অনুমতি নেই। আর যদি স্থায়ী বসবাসের জন্য না হয়, বরং ব্যবসা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অমুসলিমরা সেখানে আসতে চায় এবং তাতে দ্বীনের কল্যাণবিরোধী কিছু না থাকে, তাহলে শাসকদের জন্য সাময়িকভাবে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সহিহ বুখারিতে হজরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, বৃহস্পতিবার যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসুস্থতা ও মৃত্যযন্ত্রণা বেড়ে গেল, তখন তিনি তিনটি বিষয়ে উম্মতকে অসিয়ত করে যান। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি ছিল,
أخرجوا المشركين من جزيرة العرب.
(صحيح البخاري برقم : ۸۸۸۲ كتاب الجزية والموادعة، باب إخراج اليهود من جزيرة العرب)
মুশরিকদের জাযিরাতুল আরব (আরব উপদ্বীপ) থেকে বের করে দাও।
'শরহুস সিয়ারিল কাবির' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,
وليس ينبغي أن يترك في أرض العرب كنيسة ولا بيعة ولا بيت نار في شيء من الأمصار والقرى، وكذلك لا ينبغي أن يظهر فيها بيع الخمر والخنزير بحال من الأحوال. لأن هذا كله يبنى على سكنى أهل الذمة فيها، وهم لا يمكنون من استدامة السكنى في أرض العرب كرامة لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فإنه موضع ولادته ومنشئه، وإلى ذلك أشار رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بقوله : «لا يجتمع في أرض العرب دينان... وإذا دخلها مشرك تاجرا على أن يتجر ويرجع إلى بلاده لم يمنع من ذلك، وإنما يمنع من أن يطيل فيها المكث حتى يتخذ فيها مسكنا... حتى إذا أراد رجل من أهل الذمة أن ينزل أرض العرب، مثل المدينة ومكة والطائف والربذة ووادي القرى، فإنه يمنع من ذلك.... وقد بينا أن أرض العرب من عذيب إلى مكة طولا ومن عدن أبين إلى أقصى حجر باليمن بمهرة عرضا. (شرح السير الكبير، كتاب سهمان الخيل والرجالة في الغنائم باب ما لا يكون لأهل الحرب من إحداث الكنائس والبيع وبيع الخمور)
আরবের কোনো জমিন, চাই তা শহর হোক বা গ্রাম, সেখানে কোনো গির্জা, অগ্নিপূজকদের উপাসনালয় রাখা জায়েয হবে না। তেমনইভাবে সেখানে কোনো অবস্থাতেই প্রকাশ্যে শূকর ও মদ ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে না। কেননা মদ ও শূকর জিম্মিদের বসবাসের ওপর ভিত্তি করেই রাখতে দেওয়া হয়। আর তাদের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেই। (এর একটি কারণ তো হলো) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান বজায় রাখা, কেননা তিনি এই জমিনে বড় হয়েছেন ও এখানেই বেড়ে উঠেছেন। (আরেকটি কারণ হলো) এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক হাদিসে বিষয়টি বলে গিয়েছেন, 'আরবের জমিনে দুই ধর্ম একত্র হবে না।' ...কোনো অমুসলিম যদি সেখানে ব্যবসার জন্য আসে এবং আবার নিজ দেশে ফিরে যায়, তাহলে তাকে বাধা দেওয়া হবে না। তবে যদি দীর্ঘসময় অবস্থান করে যে, এখানেই আবাস গেড়ে বসে, তাহলে তাকে নিষেধ করা হবে। ...এমনকি কোনো জিম্মي যদি আরবের ভূমিতে, যেমন মক্কা, মদিনা, তায়েফ, ওয়াদিউল কুরা ইত্যাদি জায়গায় এসে জিম্মা চুক্তির মাধ্যমে বসবাস করতে চায়, তাহলেও তাকে সে অনুমতি দেওয়া হবে না। আরবের ভূখণ্ডের সীমানা হলো দৈর্ঘ্যে জাহিদ থেকে নিয়ে মক্কা পর্যন্ত আর প্রস্থে আদমে আবিয়ান থেকে নিয়ে ইয়েমেনের মারা নামক স্থানের সর্বশেষ পাথর পর্যন্ত।(৮১)
টিকাঃ
৮১. শরহুস সিয়ারিল কাবির, ১/১৫৪১
📄 কাফেরদের মসজিদে প্রবেশের বিধান
কাফেরদের জন্য মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশের অধিকার রয়েছে কি না, এই বিষয়ে মুজতাহিদ আলেমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।
ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আরও বেশ কিছু আলেমের মত হলো, কাফেররা মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে না। মুসলমানদের দায়িত্ব হলো, কাফেরদের মসজিদে প্রবেশ থেকে দূরে রাখবে। অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা ও অন্য ইমামদের মত হলো, কাফেরদের মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ নয়। তবে মসজিদে প্রবেশে তাদেরকে মসজিদের পূর্ণ আদব ও সম্মানের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে এবং কোনো রকম বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা না থাকতে হবে। হানাফি ফকিহ ইমাম কাসানি রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
ولا بأس بدخول أهل الذمة المساجد عندنا وقال مالك رحمه الله والشافعي لا يحل لهم دخول المسجد الحرام. (بدائع الصنائع ٨٢١/٥، کتاب الاستحسان، ط. دار الكتب العلمية)
আমাদের হানাফি উলামায়ে কেরামের নিকট জিম্মিদের মসজিদে প্রবেশে কোনো সমস্যা নেই। ইমাম মালেক ও শাফেয়ি বলেন, জিম্মিদের মসজিদে হারামে প্রবেশ বৈধ নয়। (৮২)
টিকাঃ
৮২. বাদায়েউস সানায়ে, ৫/১২৮