📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 অমুসলিমের জবাই করা প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিধান

📄 অমুসলিমের জবাই করা প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিধান


জবাই হালাল হওয়ার জন্য জবাইকারী কোনো আসমানি ধর্মে বিশ্বাসী হওয়া আবশ্যক। তাই আহলে কিতাব ব্যতীত সবধরনের কাফের, মুরতাদ, কাদিয়ানি ইত্যাদির জবাই করা পশুর গোশত সর্বাবস্থায় হারাম। আর আহলে কিতাব ইহুদি-খ্রিষ্টানের জবাই মূলতভাবে হালাল। তবে শর্ত হলো, তারা বাস্তবেই ইহুদি বা খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসী হতে হবে এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে জবাই করতে হবে।
তাই কেউ যদি কেবল জাতীয়তা বা আদমশুমারিতে খ্রিষ্টান বা ইহুদি গণ্য হয়, আর আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, নবীগণ ও আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি তাদের কিতাবমতে বিশ্বাস না রাখে, তাহলে সে মুলহিদ বলে বিবেচিত হবে; তার জবাই করা পশু হারাম। এমনইভাবে প্রকৃত কোনো আহলে কিতাব যদি স্বীয় ধর্ম অনুযায়ী জবাই না করে তাও হারাম।
বিদগ্ধ মহলের অভিজ্ঞতা হলো, বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসরত মানুষ সাধারণত শুধু নামেই খ্রিষ্টান বা ইহুদি, তারা সর্বশক্তিমান আল্লাহর অস্তিত্ব এবং আল্লাহর উলুহিয়াতে বিশ্বাস করে না। পুনরুত্থান ও পরকালে বিশ্বাস করে না, তাই এই ধরনের লোকদের জবাই করা পশু এবং তাদের দেশগুলোর গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।(৬৪) তবে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা যায় যে, খ্রিষ্টান বা ইহুদিধর্মের প্রকৃত বিশ্বাসীরাই সেখানে জবাই করে এবং জবাই করার সময় তাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি যত্নবান থাকে, তাহলে খাওয়া যেতে পারে।
ইমাম সারাখসি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৮৩ হি.) 'মাবসুত' কিতাবে লেখেন,
ولا بأس بصيد اليهودي والنصراني وذبيحتهما لقوله تعالى { وطعام الذين أوتوا الكتاب حل لكم } والمراد الذبائح، إذ لو حمل على ما هو سواها من الأطعمة لم يكن لتخصيص أهل الكتاب بالذكر معنى، ولأنهم يدعون التوحيد فيتحقق منهم التسمية قصدا، ولو علم المسلم أنه سمى المسيح لم يحل له أكله. (المبسوط، كتاب الصيد، صيد اليهودي والنصراني وذبيحتهما)
(এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের শিকার ও তাদের গোশত খেতে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, এবং আহলে কিতাবের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল।) তাদের খাদ্য দ্বারা উদ্দেশ্য তাদের জবাই করা প্রাণী। কারণ যদি এর দ্বারা পশু ছাড়া অন্যান্য খাবারই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তাহলে আহলে কিতাবকে উল্লেখ করার বিশিষ্টতা বাকি থাকে না। আহলে কিতাবের জবাই বৈধ হওয়ার কারণ হলো তারা তাওহিদের দাবিদার, যার মাধ্যমে তাদের থেকে আল্লাহর নাম নেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। তবে কোনো মুসলমান যদি জানতে পারে যে, মাসিহের নামে জবাই করা হয়েছে, তাহলে তা বৈধ নয়। (৬৫)
'মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি'-তে রয়েছে,
“إن المقصود بأهل الكتاب هم اليهود والنصارى الذين يؤمنون بأصول دينهم وإن كانوا كفارا بدين الإسلام لادعائهم عقيدة التثليث، وتكفير من يدعي الحل، أما الذين لا يؤمنون بالله ولا بنبي ولا بكتاب منزل كالدهرية فهم ليسوا بأهل الكتاب ولا يطبق عليهم أحكامهم ولو كانوا مدرجين ضمن تعداد أهل الكتاب.
إن النصارى في الوقت الحاضر قد انسلخوا عن التقيد بالقيود الدينية في أمر الذبح فلم يعودوا يلتزمون بقيود دينهم فيه فلا تكون ذبائحهم حلالا، إلا إذا علم في لحم معين أنه ذبح على يد نصراني ملتزم بالطريقة الشرعية في الذبح فتكون حلالا، وبناء عليه فلا يجوز أكل اللحوم المبيعة في أسواقهم التي لا يعرف ذابحها".
"আহলে কিতাব বলতে সেই ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বোঝানো হয়েছে যারা তাদের মৌলিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী, যদিও তারা ত্রিত্ববাদ, কাফফারা ইত্যাদি ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করে। তবে যারা আল্লাহ, কোনো নবী এবং আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করে না, তারা বস্তুবাদী। কিতাবধারীদের উপর আহলে কিতাবের বিধান প্রযোজ্য হবে না, যদিও তারা খ্রিস্টান বা ইহুদি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়।"
বর্তমানে খ্রিস্টানরা পশু জবাই করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তারা তাদের ধর্মীয় বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কা করে না। তাই তাদের জবাই করা পশু হালাল নয়, তবে যদি কোনো বিশেষ মাংস সম্পর্কে জানা যায় যে এটি কোনো প্রকৃত খ্রিস্টান দ্বারা বৈধ পদ্ধতিতে জবাই করা হয়েছে, তবে তা হালাল। সুতরাং তাদের বাজারে বিক্রি হওয়া মাংস, যেগুলোর জবাইকারী সম্পর্কে জানা যায় না, সেগুলো হালাল নয়। (৬৬)

টিকাঃ
৬৪. এই কথা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ২০১৬ সালের বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনই যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, 'ইংল্যান্ডে খ্রিষ্টানদের ছাড়িয়ে নাস্তিকরাই এখন সংখ্যাগুরু'। প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে দিচ্ছি-
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে নাস্তিকরাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ, সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে খ্রিষ্টানরা। সর্বশেষ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। ২০১৪ সালের 'ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিচিউড' জরিপের তথ্য অনুযায়ী ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এখন নাস্তিক বা কোনো ধর্মের অনুসারী নন এমন মানুষ ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১১ সালের জরিপে এই সংখ্যা ছিল ২৫ শতাংশ। তখনও পর্যন্ত খ্রিষ্টানরাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ।... সেন্ট মেরি'স ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির স্টিফেন বুলিভান্ট বলেন, ব্রিটেনে জনসংখ্যার অনুপাতে কোনো ধর্মের অনুসারী নন এমন মানুষের সংখ্যা স্পষ্টতই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, যারা জরিপে কোনো ধর্মের অনুসারী নন বলে নিজেদের চিহ্নিত করছেন, তাদের অনেকেই কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী হিসাবেই বেড়ে উঠেছেন। (আব্দুল্লাহ)
প্রতিবেদেন লিংক: https://www.bbc.com/bengali/news/2016/05/160524_atheists_outnumber_christians_in_england_and_wales
৬৫. আল-মাবসুত, সারাখসি, ১১/২৪৬
৬৬. মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি, ভলিউম ২, পৃ. ১৯৭৩১

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 আহলে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য কারা

📄 আহলে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য কারা


ইসলামে কিছু বিষয়ে সাধারণ কাফের ও আহলে কিতাবদের মাঝে পার্থক্য করা হয়েছে। যেমন, আহলে কিতাবদের জবাই করা গোশত খাওয়া ও আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করা বৈধ। কিন্তু সাধারণ কাফেরদের জবাই করা গোশত হালাল নয় আর তাদের নারীদের বিবাহ করা বৈধ নয়। তাহলে প্রশ্ন হলো কুরআনে বর্ণিত 'আহলে কিতাব' দ্বারা কারা উদ্দেশ্য? এই বিষয়ে আমাদের হানাফি উলামায়ে কেরামের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।
ক. কিছু ফকিহের মত হলো, কুরআনে বর্ণিত 'আহলে কিতাব' শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক, যা সকল আসমানি কিতাবের ধারকদের বোঝায়। তাই যারাই কোনো আসমানي ধর্মের অনুসারী এবং তাদের কাছে আসমানি কিতাব রয়েছে, তারাই 'আহলে কিতাব' হিসাবে গণ্য হবে। এই মতানুযায়ী 'আহলে কিতাব' শব্দটি শুধুই ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাথেই বিশেষায়িত নয়। বরং যে সম্প্রদায়ের কাছেই কোনো আসমানি কিতাব রয়েছে, যেমন জাবুর কিতাবের অনুসারী, হজরত ইবরাহিম আ.-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া কিতাবের অনুসারী, তারা সবাই আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর অন্য সাধারণ কাফেরদের থেকে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের যে-সকল বিধানে ভিন্নতা রয়েছে, এদের ক্ষেত্রেও সেগুলো প্রযোজ্য হবে।
আল্লামা যাইলায়ি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৪৩ হি.) বলেন,
ثم كل من يعتقد دينا سماويا، وله كتاب منزل كصحف إبراهيم وشيث وزبور داود عليهم السلام فهو من أهل الكتاب فتجوز مناكحتهم وأكل ذبائحهم خلافا للشافعي فيما عدا اليهود والنصارى والحجة عليه ما تلونا. (تبيين الحقائق ٠۱۱/۲، كتاب النكاح، فصل في المحرمات)
সুতরাং যারাই কোনো আসমানي ধর্মের অনুসারী এবং তাদের কাছে আসমানي ধর্মগ্রন্থ রয়েছে, যেমন হজরত ইবরাহিম ও শিশ আ.-এর সহিফাসমূহ, হজরত দাউদ আ.-এর জাবুর, তারাই আহলে কিতাব বলে গণ্য হবে এবং তাদের জবাই করা গোশত খাওয়া যাবে ও তাদের নারীদের বিবাহ করা জায়েয হবে। (৬৭)
ইবনে আবেদিন শামি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২৫২ হি.) লেখেন,
والكتابي من يعتقد دينا سماويا أي منزلا بكتاب كاليهود والنصارى. (رد المحتار، كتاب الجهاد، فصل في الجزية)
আহলে কিতাব হলো যারা কোনো আসমানي ধর্মে বিশ্বাস করে এবং আসমানي কোনো কিতাবও রয়েছে। যেমন ইহুদি ও খ্রিষ্টান। (৬৮)
বিশেষ দ্রষ্টব্য, শামি রহিমাহুল্লাহ এখানে ইহুদি ও খ্রিষ্টানকে উদাহরণ হিসাবে এনেছেন, এই দুই প্রকারেই আহলে কিতাব সীমাবদ্ধ এমনটা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
খ. আরেকদল ফকিহদের মত হলো, আহলে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য শুধুই ইহুদি ও খ্রিষ্টান। অন্যান্য আসমানي ধর্মের বিশ্বাসী ও প্রবক্তারা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতকে নিজেদের পক্ষে দলিল হিসাবে পেশ করেন,
وَهَذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ أَن تَقُولُوا إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ.
আর এটি এমন কিতাব, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময়। অতএব এর অনুসরণ করো এবং (আল্লাহকে) ভয় করতে থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি মেহেরবানি করা হয়; (তা এজন্য অবতরণ করেছি), যাতে তোমরা এ কথা না বলো যে, কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্ববর্তী দুটি সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ করা হয়েছিল, আর আমরা তাদের পঠনপাঠন সম্পর্কে বেখবরই ছিলাম। (৬৯)
ইমাম মাতুরিদি রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতকে দলিল হিসাবে এভাবে পেশ করেন, আয়াতের মাঝে কাফেরদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হচ্ছে না, বরং আলোচনার প্রেক্ষিতে সকল কাফেরকে এটা শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, এখন তোমাদের সামনে যে কুরআন রয়েছে, সত্যনিষ্ঠ হয়ে তা গভীরভাবে অধ্যয়ন করো, যাতে কেয়ামতের দিন এই অজুহাত পেশ না করতে হয়, আসমানি কিতাব তো আমাদের পূর্বের দুই দল তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের দেওয়া হয়েছে, আমরা তো তা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। (তাই আমাদের অপারগ মনে করে আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত।)
আর ইমাম কুদিরি রহিমাহুল্লাহ এভাবে দলিল পেশ করেন, (যদি ধরেও নিই) আয়াতে কাফেরদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন যেহেতু কাফেরদের এই দাবিকে খণ্ডন করেনি, তাই এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আহলে কিতাব শুধুই দুটি দল-ইহুদি ও খ্রিষ্টান।
ইমাম মাতুরিদি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৩৩৩ হি.) লেখেন,
فالمجوسية ليست عندنا من أهل الكتاب والدليل على ذلك قول الله تعالى : ( وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ أَنْ تَقُولُوا إِنَّمَا أُنْزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا فأخبر الله تعالى أن أهل الكتاب طائفتان؛ فلا يجوز أن يجعلوا ثلاث طوائف، وذلك خلاف ما دل عليه القرآن. (تفسير الماتريدي ٣٦٤/٣، تحت سورة المائدة : ٥)
অগ্নিপূজকরা আমাদের নিকট আহলে কিতাব নয়। তার দলিল হলো আল্লাহ তাআলার এই ইরশাদ,
وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ أَنْ تَقُولُوا إِنَّمَا أُنْزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا.
এই আয়াতে আল্লাহ এই সংবাদ দিচ্ছেন যে, আহলে কিতাব হলো দুটি দল। তাই আহলে কিতাবকে তিন দল বানানো সঠিক হবে না। অন্যথায় কুরআন যে বিষয়ের ওপর নির্দেশ করছে (আহলে কিতাব দুটিই দল), তার বিপরীত হয়ে যাবে। (৭০)
ইমাম কুদুরি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪২৮ হি.) উল্লেখ করেন,
لغافلين. ولم يرد سبحانه ذلك عليهم، ولو كانوا كاذبين لرد كذبهم؛ لأنه تعالى : لنا : قوله تعالى : {إنما أنزل الكتاب على طائفتين من قبلنا وإن كنا عن دراستهم لا يحكي عنهم الكذب ويترك إنكاره. (التجريد ٠٤٢٦/٢١، كتاب الجزية، مسألة : المجوس لا كتاب له.)
আমাদের দলিল হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী,
إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ.
আল্লাহ তাআলা এখানে কাফেরদের বক্তব্য খণ্ডন করেননি, যদি কাফেরদের এই বক্তব্য মিথ্যা হতো, তাহলে আল্লাহ তাআলা তা খণ্ডন করতেন। কেননা আল্লাহ তাআলা কোনো মিথ্যা বর্ণনা করে তা খণ্ডন না করে রেখে দেন না। (৭১)
উপরিউক্ত আলোচনার সারমর্ম হলো, আহলে কিতাব দ্বারা কারা উদ্দেশ্য এই বিষয়ে হানাফি আলেমদের দুধরনের মত পাওয়া যায়। তবে এই মতানৈক্যের আপাত কোনো ফলাফল নেই। কেননা, বর্তমান সময়ে তাওরাত ও ইনজিলের অনুসারী ছাড়া আর অন্য কোনো আসমানي কিতাবের অনুসারী বা তার দাবিদারের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। আর যদি থাকেও, তাহলে আমরা জানি না।
যাইহোক, এতটুকুতে তো সবাই একমত, আহলে কিতাব হওয়ার জন্য আসমানي কিতাবের অনুসারী হতে হবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা জামাত যদি কোনো আসমানي কিতাবে বিশ্বাসীই না হয়, বা আসমানي কিতাবের অনুসারী দাবি করে, কিন্তু সে কিতাব যে আসমানي তার পক্ষে ইসলামي জ্ঞানভান্ডারে কোনো প্রমাণ নেই, তাহলে এরা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এ থেকে বোঝা গেল, কাদিয়ানি ও যে-সকল শিয়া কুফরি আকিদা লালন করে, তাদের আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করা ও তাদের ওপর আহলে কিতাবের বিধান প্রয়োগ করা ভুল।(৭২)
এ থেকে বোঝা গেল যে, কাদিয়ানিরা মোটেও আহলে কিতাবদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের ওপর আহলে কিতাবের বিধিবিধান জারি করা একেবারেই ভুল। কেননা, তারা যে ওহির ওপর ঈমান আনে তা কোনো ধর্ম অনুযায়ীই আসমানي ওহি নয়। এমনইভাবে যে-সকল শিয়া কুফরি আকিদা লালন করে, তারাও কোনোভাবেই আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদি কথার কথা হিসাবে মেনেও নেওয়া হয় যে, তারা কুরআন সঠিক হওয়ার বিশ্বাস রাখে, তবু আকিদাগত দিক থেকে যেহেতু কিছু কুফর লালন করে, এই হিসাবে তারা জিন্দিক বলে গণ্য হবে, আহলে কিতাব বলে গণ্য হবে না। কেননা, পারিভাষিক অর্থে আহলে কিতাব হওয়ার জন্য কুরআনে কারিম ব্যতীত অন্য কোনো আসমানي কিতাবের ওপর ঈমান রাখা আবশ্যক। যেহেতু তারা কুরআনের প্রতি বিশ্বাসের দাবি রাখে, এজন্য তারা হয়তো মুসলমান হবে এবং তাদের ওপরে মুসলমানদের বিধিবিধান জারি হবে, অথবা (নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করার পরেও কুফরি আকিদা লালন করার কারণে) জিন্দিক কাফের বলে গণ্য হবে। এমনইভাবে হিন্দুদেরকেও আহলে কিতাব বলে সাব্যস্ত করা পুরোপুরি ভুল।

টিকাঃ
৬৭. তাবয়িনুল হাকায়েক, ২/১১০
৬৮. ফাতাওয়ায়ে শামি, ৪/১৯৮
৬৯. সুরা আনআম: ১৫৬
৭০. তাফসিরে মাতুরিদি, ৩/৪৬৩
৭১. আত-তাজরিদ, ১২/৬২৪০
৭২. অর্থাৎ কাদিয়ানি ধর্মে বিশ্বাসীদের জবাই করা গোশত খাওয়া বা তাদের নারীদের বিবাহ করা স্পষ্টই হারাম। তেমনইভাবে কুফরি আকিদায় বিশ্বাসী শিয়াদের জবাই করা গোশত খাওয়া ও তাদের নারীদের বিবাহ করা অবৈধ। (আব্দুল্লাহ)

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠিত অঞ্চলে অন্যধর্মের প্রচার-প্রসার করা

📄 ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠিত অঞ্চলে অন্যধর্মের প্রচার-প্রসার করা


যে-সকল কাফের ইসলামি আইনকানুন মেনে ইসলামি ভূখণ্ডে বসবাস করে, তাদেরকে জিম্মি বলা হয়। তাদের জানমাল ও ইজ্জত-সম্মান মুসলমানদের মতো রক্ষিত ও নিরাপদ। এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু বিধানে মুসলমান ও জিম্মির বিধান সমান। কিন্তু তা সত্ত্বেও জিম্মিদের এই অনুমতি নেই যে, তারা ইসলামি ভূখণ্ডে নিজেদের ধর্মমত প্রচার করবে। বরং তাদের সকল ধর্মীয় কাজ তাদের নিজেদের লোকদের মাঝে ও উপাসনালয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা জরুরি। ধর্মমত প্রচারের যত মাধ্যম হতে পারে, সকল বিষয়েই এই বিধান প্রযোজ্য। এমনকি মুসলমানদের কোনো সভায় তাদের ধর্মীয় কোনো প্রতীক প্রকাশ করাও নিষিদ্ধ। ইসলামি ভূখণ্ডের শাসকদেরও এই বিষয়ে অনুমতি দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। এ থেকে এই বিধানও স্পষ্ট হয় যে, মুসলিম নামধারী কোনো দল বা ব্যক্তি যদি সুস্পষ্ট কোনো কুফরী বিশ্বাস লালন করে তাহলে তারা সেগুলোর প্রচার করতে পারবে না এবং এই শিরোনামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা উপাসনালয়ও তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তার একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইনই কার্যকর ও বিজয়ী থাকবে। তাই কুফরি মতবাদ বা ধর্মের প্রচারের অনুমতি দেওয়া বা প্রচারের বিষয়টি জানতে পেরেও তা এড়িয়ে যাওয়া মূলত এই উদ্দেশ্যের সাথে স্পষ্ট বিদ্রোহের শামিল। তেমনই যে-সকল কাজ ও চিন্তা জিম্মিদের ধর্মমত অনুযায়ীও ভুল ও ভ্রান্ত, সেগুলোর প্রচার ও প্রকাশ থেকেও ইসলামি ভূখণ্ডে নিষেধ করা হবে।
'বাদায়েয়ুস সানায়ে' গ্রন্থে রয়েছে,
ولا يمكنون من إظهار صليبهم في عيدهم؛ لأنه إظهار شعائر الكفر، فلا يمكنون من ذلك في أمصار المسلمين، ولو فعلوا ذلك في كنائسهم لا يتعرض لهم وكذا لو ضربوا الناقوس في جوف كنائسهم القديمة لم يتعرض لذلك؛ لأن إظهار الشعائر لم يتحقق، فإن ضربوا به خارجا منها لم يمكنوا منه لما فيه من إظهار الشعائر... وإنما يكره ذلك في أمصار المسلمين، وهي التي يقام فيها الجمع والأعياد والحدود؛ لأن المنع من إظهار هذه الأشياء؛ لكونه إظهار شعائر الكفر في مكان إظهار شعائر الإسلام، فيختص المنع بالمكان المعد لإظهار الشعائر وهو المصر الجامع.
(وأما) إظهار فسق يعتقدون حرمته كالزنا وسائر الفواحش التي هي حرام في دينهم، فإنهم يمنعون من ذلك سواء كانوا في أمصار المسلمين، أو في أمصارهم ومدائنهم وقراهم. (بدائع الصنائع ٤١١/٧ ، كتاب السير، فصل في بيان حكم الغنائم وما يتصل به، ط. دار الكتب العلمية)
খ্রিষ্টানদেরকে তাদের ঈদ উৎসবের দিন ক্রুশ প্রকাশ্যে বের করার সুযোগ দেওয়া হবে না। কেননা এতে কুফরি প্রতীকের প্রকাশ হয়। ফলে মুসলমানদের শহরে তারা তা করতে পারবে না। যদি তারা তা নিজেদের পুরাতন গির্জার মধ্যে করে, তাহলে বাধা দেওয়া হবে না। কেননা এতে কুফরি প্রতীকের প্রকাশ হয় না। যদি গির্জার বাহিরে করে, তাহলে তা করতে পারবে না, কেননা এতে কুফরি প্রতীক প্রকাশ হয়। এ ধরনের বিষয়গুলো শুধু মুসলিমদের শহরগুলোতেই নিষিদ্ধ। আর মুসলিমদের শহর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যেখানে জুমা, ঈদ এবং হদ (শরিয়তনির্ধারিত দণ্ডবিধি) কায়েম করা হয়। আর এই সকল জিনিস প্রকাশ্যে করা থেকে নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো, এর মাধ্যমে ইসলামের প্রতীকগুলো প্রকাশ পাওয়ার স্থানে কুফরের প্রতীকগুলো প্রকাশ করা হয়। এতে কুফরি প্রতীক ও ইসলামের প্রতীক একই স্থানে প্রকাশ হওয়া আবশ্যক হয়। তাই নিষেধাজ্ঞা শুধু সে সকল স্থানের সাথেই থাকবে, যা ইসলামের প্রতীক প্রকাশের স্থান আর তা হলো শহর।
আর যে-সকল গোনাহের কাজ জিম্মিদের ধর্মমত অনুযায়ীও হারাম, যেমন জিনা ও ওই সকল বেহায়া এবং নির্লজ্জ কাজসমূহ, যেগুলো তাদের ধর্মেও হারাম, সেগুলোও প্রকাশ্যে করা থেকে বিরত রাখা হবে। চাই তা মুসলমানদের শহরে হোক বা তাদের শহরে বা গ্রামে হোক। (৭৩)

টিকাঃ
৭৩. বাদায়েউস সানায়ে, ৭/১১৩

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 ইসলামি ভূখণ্ডে অমুসলিমদের উপাসনালয় তৈরির বিধান

📄 ইসলামি ভূখণ্ডে অমুসলিমদের উপাসনালয় তৈরির বিধান


ইসলামি ভূখণ্ডে অমুসলিমদের ইবাদতখানা, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি তৈরি করা জায়েয নেই। চাই তারা ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, অথবা যেকোনো ধরনের কাফেরই হোক না কেন। (৭৪) কেননা, এই সকল ইবাদতখানায় আল্লাহর সাথে শিরক করা হয়, ইসলামি দৃষ্টিতে এগুলো উপাসনালয় বলারও উপযুক্ততা রাখে না। ইসলামি শাসনের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য যেহেতু মুসলমানদের দ্বীন ও ঈমান রক্ষার সর্বাত্মক ব্যবস্থা করা এবং যেখানেই ঈমানের ওপর কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে সেগুলোকে সম্ভাব্য সকল উত্তম পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করে দূর করার ব্যবস্থা করা; সাথে অমুসলিম জিম্মিরা যেন মুসলমান ও ইসলামি অনুপম শিক্ষাকে সঠিকভাবে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পায় এবং স্বেচ্ছায় ইসলাম ও মুসলমানকে বুঝতে পারে সেটা নিশ্চিত করা; এইজন্য ইসলামের শিয়ারগুলোকে বিজয়ী রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইসলামি প্রতীকগুলোর সাথে কুফর ও শিরকের কেন্দ্রগুলোকে রাখার কোনো নৈতিক কারণ নেই। তাই ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠিত ভূখণ্ডে অমুসলিমদের উপাসনালয় তৈরির বিষয়টি কিছু ব্যাখ্যাসাপেক্ষ।
ক. জাযিরাতুল আরবের (৭৫) মাঝে কোনো অমুসলিমের বসবাস করারই অধিকার নেই। তাই সেখানে তাদের উপাসনালয় তৈরির প্রশ্নই আসে না।
খ. জাযিরাতুল আরবের বাহিরে অন্যান্য ইসলামি ভূখণ্ডে অমুসলিমদের নতুন কোনো উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করা জায়েয নয়। হ্যাঁ, যদি কোনো পুরাতন উপাসনালয় থাকে, উদাহরণত, কোনো কুফরি ভূখণ্ড মুসলমানরা বিজয় করে নেয় আর সেখানে পূর্ব থেকেই অমুসলিমদের উপাসনালয় থেকে থাকে, এখন ইসলামي শাসনের অধীনে আসার পর জিম্মিদের বসতি সেখানে বেশি থাকে, তাহলে পুরাতন সে উপাসনালয়সমূহ মেরামত করা যাবে।
গ. উপরিউক্ত বিধান শহর ও গ্রাম সবখানেই প্রযোজ্য হবে। কিছু কিতাবে ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায় যে, গ্রামে যদি জিম্মিরা নতুন কোনো উপাসনালয় তৈরি করতে চায়, তাহলে সে সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অসংখ্য দলিলের বিপরীত হওয়ার কারণে এই বক্তব্যটিকে ফকিহগণ দুর্বল ও অপ্রাধান্যযোগ্য আখ্যায়িত করেছেন। আর যে-সকল ফকিহ এই বক্তব্যটিকে ইমাম আবু হানিফা থেকে প্রমাণিত মনে করেছেন, তারা এর একটি উপযোগী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, গ্রাম দ্বারা শুধুই জিম্মি বসবাস করে এমন গ্রাম উদ্দেশ্য, যেখানে ইসলামের প্রতীক বিজয়ী নয়। যাইহোক, এই বর্ণনা দিয়ে মুসলমানদের সাধারণ শহরে বা গ্রামে অমুসলিমদের উপাসনালয় তৈরির বিষয়ে দলিল পেশ করা সঠিক হবে না।
ঘ. যে-সকল জায়গায় উপাসনালয় মেরামতের অনুমতি রয়েছে সেখানে উদ্দেশ্য হলো, কাফেররা যদি নিজেদের ইবাদতখানা মেরামত করাতে চায়, তাহলে সে সুযোগ রয়েছে। মুসলিম শাসক তা থেকে তাদের বাধা দেবে না। কিন্তু ইসলামি শাসকের সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া বা সে কাজে সহযোগিতা করা জায়েয হবে না।
'তাবয়িনুল হাকায়েক' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,
قال رحمه الله (ولا تحدث بيعة ولا كنيسة في دارنا) لقوله عليه الصلاة والسلام لا خصاء في الإسلام ولا كنيسة ... والمراد بالنهي عن الكنيسة إحداثها، أي لا تحدث في دار الإسلام كنيسة في موضع لم تكن فيه وبيت النار كالكنيسة....
قال رحمه الله ( ويعاد المنهدم من الكنائس والبيع القديمة) لأنه جرى التوارث من لدن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا بترك الكنائس في أمصار المسلمين، ولا يقوم البناء دائما، فكان دليلا على جواز الإعادة، ولأن الإمام لما أقرهم عهد إليهم الإعادة، لأن الأبنية لا تبقى دائما، ولا يمكنون من نقلها إلى موضع آخر، لأنه إحداث في ذلك الموضع في الحقيقة، والصومعة بمنزلة الكنيسة، لأنها تبنى للتخلي للعبادة كالكنيسة، بخلاف موضع الصلاة في البيت، لأنه تبع للسكنى، وهذا في الأمصار دون القرى، لأن الأمصار هي التي تقام فيها شعائر الإسلام، فلا يعارض بإظهار ما يخالفها، ولهذا يمنعون من بيع الخمر والخنازير وضرب الناقوس خارج الكنيسة في الأمصار لما قلنا، ولا يمنعون من ذلك في قرية لا تقام فيها الجمع والحدود، وإن كان فيها عدد كثير لأن شعائر الإسلام فيها غير ظاهرة، وقيل : يمنعون في كل موضع لم تشع فيه شعائرهم، لأن في القرى بعض الشعائر فلا تعارض بإظهار ما يخالفها من شعائر الكفر، والمروي عن أبي حنيفة، كان في قرى الكوفة لأن أكثر أهلها أهل الذمة، وفي أرض العرب يمنعون من ذلك كله ولا يدخلون فيها الخمر والخنازير، ويمنعون من اتخاذها المشركون مسكنا لما روي عن ابن عباس رضي الله عنهما «أنه عليه الصلاة والسلام قال في مرضه الذي مات فيه : أخرجوا المشركين من جزيرة العرب رواه أحمد والبخاري ومسلم، وعن عمر رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لأخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب حتى لا أدع فيها إلا مسلما رواه أحمد ومسلم والترمذي وصححه، وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت آخر ما عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن قال «لا يترك بجزيرة العرب دينان». وعن أبي عبيدة بن الجراح أنه قال آخر ما تكلم به رسول الله صلى الله عليه وسلم أخرجوا يهود أهل الحجاز وأهل نجران من جزيرة العرب رواهما أحمد، وأجلى عمر اليهود والنصارى من أرض الحجاز فيما رواه البخاري. (تبيين الحقائق ۹۷۲/۳، كتاب السير، باب العشر والخراج، فصل في الجزية)
ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের উপাসনালয় আমাদের ভূখণ্ডে (দারুল ইসলামে) নতুন তৈরি করতে দেওয়া হবে না। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'ইসলামে পুরুষের জন্য অণ্ডকোষ কর্তন করা এবং (ইসলামের ভূমিতে) গির্জা তৈরি করা বৈধ নয়।' গির্জা তৈরির নিষেধাজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, 'নতুন তৈরি করা যাবে না।' অর্থাৎ ইসলামি ভূখণ্ডে পূর্বে ছিল না এমন কোনো স্থানে নতুন গির্জা তৈরি করা যাবে না। অগ্নিপূজকদের উপাসনালয়ের হুকুমও গির্জার মতোই। যে পুরাতন গির্জাগুলো ভেঙে যাবে, সেগুলোকে মেরামত ও নতুন করে তৈরি করা যাবে। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আজ পর্যন্ত এটাই মুসলমানদের কর্মপন্থা ছিল, পুরাতন গির্জাগুলোকে তারা অক্ষত রেখেছেন। যেহেতু ভবন সর্বদা ঠিক থাকে না (তাতে নির্মাণজনিত বিভিন্ন ত্রুটি তৈরি হয়), তাই এটা এ কথার দলিল যে, গির্জার ভবন পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করতে দেওয়া হবে। কেননা যখন মুসলিম শাসক গির্জাগুলোকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছেন, এর অর্থ তিনি এই অনুমতিও দিয়েছেন যে এগুলোর পুনর্নির্মাণ করা যাবে।(৭৬)
তবে গির্জা এক স্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যাবে না। কেননা তা মূলত নতুন নির্মাণের অন্তর্ভুক্ত। (আর ইসলামি ভূখণ্ডে নতুন গির্জা নির্মাণ জায়েয নেই।) পাদরির আশ্রম বা মঠ গির্জার হুকুমে। কেননা সেগুলো মূলত গির্জার মতোই উপাসনার জন্য তৈরি করা হয়। তবে ঘরের কোণে ব্যক্তিগত উপাসনালয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানের হুকুম ভিন্ন। কেননা তা মূলত ঘরেরই অনুগামী হয়। (তাই অমুসলিমরা যেমন নিজেদের জন্য নতুন ঘর তৈরি করতে পারবে, তেমনই ঘরের সাথে ব্যক্তিগত উপাসনালয়ও তৈরি করতে পারবে)।... ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ থেকে গ্রামে উপাসনালয় তৈরির যে বক্তব্যটি বলা হয়, তা হলো কুফার ওই গ্রামের বিষয়ে, যেখানে অধিকাংশ অধিবাসী জিম্মি।
জাযিরাতুল আরবের মাঝে ওপরের সবকিছু থেকেই নিষেধ করা হবে, কাফেররা সেখানে মদ বা শূকর নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। মুশরিকরা সেখানে বসবাসের জন্য থাকতে পারবে না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুশয্যায় থাকাকালে বলেছেন, 'মুশরিকদের আরবের ভূখণ্ড থেকে বের করে দাও।' ইমাম আহমাদ, বুখারি ও মুসলিম রহিমাহুল্লাহ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হজরত উমর রা. বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, 'অবশ্যই আমি পুরো আরবের ভূখণ্ড থেকে ইহুদি ও খ্রিষ্টানকে বের করে দেবো। শুধু মুসলমানদেরকেই এখানে (অধিবাসী হিসাবে) রাখব।' হাদিসটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম ও তিরমিজি রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি রহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেষ অসিয়ত এটা ছিল যে, 'আরবের ভূখণ্ডে দুই ধর্মকে রাখা যাবে না।' হজরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ যে কথাটি বলেছেন তা হলো, 'মদিনা ও নাজরানের ইহুদিদের আরব থেকে বের করে দাও।' শেষোক্ত দুটি হাদিস ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। সহিহ বুখারির বর্ণনানুযায়ী হজরত উমর রা. তার শাসনামলে আরব থেকে সকল ইহুদি ও খ্রিষ্টানকে বের করে দিয়েছেন।(৭৭)
'আদ-দুররুল মুখতার' গ্রন্থে রয়েছে,
(ولا) يجوز أن (يحدث بيعة، ولا كنيسة ولا صومعة، ولا بيت نار، ولا مقبرة) ولا صنما حاوي (في دار الإسلام) ولو قرية في المختار فتح. (ويعاد المنهدم) أي لا ما هدمه الإمام، بل ما انهدم أشباه في آخر الدعاء برفع الطاعون.
দারুল ইসলামে ইহুদিদের উপাসনালয়, গির্জা, পাদরিদের মঠ, অগ্নিপূজকদের উপাসনালয়, অমুসলিমদের কবরস্থান এবং মূর্তি বানানো জায়েয নেই। অগ্রাধিকারযোগ্য বক্তব্য হলো, শহরের মতো গ্রামেও এগুলো করা যাবে না। পুরাতন উপাসনালয় যেগুলো ভেঙে গেছে, সেগুলোর নবনির্মাণ করা যাবে। অর্থাৎ, যেগুলো দুর্যোগে নিজে থেকেই ভেঙে গেছে। মুসলিম শাসক যেগুলো ভেঙেছে সেগুলোর পুনর্নির্মাণ করা যাবে না।
শামি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২৫৮ হি.) এই কথার ব্যাখ্যায় লেখেন,
مطلب لا يجوز إحداث كنيسة في القرى ومن أفتى بالجواز فهو مخطئ ويحجر عليه قوله ولو قرية في المختار) نقل تصحيحه في الفتح عن شرح شمس الأئمة السرخسي في الإجارات ثم قال : إنه المختار، وفي الوهبانية إنه الصحيح من المذهب الذي عليه المحققون إلى أن قال : فقد علم أنه لا يحل الإفتاء بالإحداث في القرى لأحد من أهل زمامنا بعدما ذكرنا من التصحيح والاختيار للفتوى وأخذ عامة المشايخ ولا يلتفت إلى فتوى من أفتى بما يخالف هذا، ولا يحل العمل به ولا الأخذ بفتواه، ويحجر عليه في الفتوى ويمنع لأن ذلك منه مجرد إتباع هوى النفس وهو حرام لأنه ليس له قوة الترجيح، لو كان الكلام مطلقا فكيف مع وجود النقل بالترجيح والفتوى فتنبه لذلك، والله الموفق. مطلب تهدم الكنائس من جزيرة العرب ولا يمكنون من سكناها قال في النهر : والخلاف في غير جزيرة العرب، أما هي فيمنعون من قراها أيضا لخبر لا يجتمع دينان في جزيرة العرب» . اهـ قلت : الكلام في الإحداث مع أن أرض العرب لا تقر فيها كنيسة ولو قديمة فضلا عن إحداثها لأنهم لا يمكنون من السكنى بها للحديث المذكور كما يأتي وقد بسطه في الفتح وشرح السير الكبير وتقدم تحديد جزيرة العرب أول الباب المار. (رد المحتار، كتاب الجهاد، فصل في الجزية، مطلب في أحكام الكنائس)
'গ্রহণযোগ্য মত হলো গ্রাম হলেও করা যাবে না', 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থে ইমাম সারাখসির উদ্ধৃতিতে এই মতটির বিশুদ্ধতা বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর ইবনুল হুমাম রহিমাহুল্লাহ বলেন, এটাই গ্রহণযোগ্য মত। 'ওয়াহবানিয়্যাহ' গ্রন্থে রয়েছে, এটাই হলো সঠিক মাজহাব। মুহাক্কিকগণ এই মতের ওপরই প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। তিনি তো এটাও বলেছেন যে, অধিকাংশ আলেম এই মতটিই গ্রহণ করেছেন এবং একেই বিশুদ্ধ মাজহাব বলে উল্লেখ করেছেন, এরপর আর বর্তমান সময়ের কোনো আলেমের জন্য দারুল ইসলামের গ্রামগুলোতে নতুন করে অমুসলিমদের উপাসনালয় বানানো জায়েজের ফাতাওয়া দেওয়া বৈধ হবে না। কেউ যদি এখন এর বিপরীত মতের ফাতাওয়া দেয়, তাহলে তার ওপর আমল করা বা তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করার সুযোগ নেই। যে এমন ফাতাওয়া দেবে তার ফাতাওয়ার ওপর আমল করা বৈধ হবে না এবং এমন ব্যক্তিকে ফাতাওয়া দেওয়ার কাজ থেকে বিরত রাখা হবে। কেননা সে শুধু প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ে এমন ফাতাওয়া দিয়ে থাকবে। আর প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ে ফতোয়া দেওয়া হারাম। কারণ, যদি প্রাধান্য দেওয়া ছাড়া স্বাভাবিকভাবেই এই মতটি উল্লেখ করা হতো, তবুও এমন ব্যক্তির তারজিহ দেওয়ার মতো যোগ্যতা নেই। তাহলে ফুকাহায়ে কেরামের স্পষ্ট তারজিহ ও ফতোয়া থাকার পরেও তার ফতোয়া কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? সুতরাং, এ ব্যাপারটিতে সতর্ক থাকো। আর আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা...
'আন-নাহরুল ফায়েক' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, এই ইখতেলাফ আরবের ভূমির ক্ষেত্রে নয়। সেখানে গ্রামেও গির্জা বানানো জায়েয নেই। হাদিসে উল্লেখ আছে, দুই ধর্ম আরবের ভূমিতে একসাথে হতে পারবে না। শামি রহিমাহুল্লাহ বলেন, ওপরে যে ইখতেলাফ তা মূলত নতুন গির্জা বানানোর ক্ষেত্রে। আর আরবের ভূমিতে তো গির্জা ইত্যাদি অক্ষত রাখাই জায়েয নেই, চাই তা পুরাতনই হোক কেন, তাহলে সেখানে নতুন গির্জা তৈরির তো প্রশ্নই ওঠে না। কেননা পূর্বে হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে যে, কাফেররা আরবের ভূমিতে থাকতে পারবে না। (৭৮)
ইমাম শামি রহিমাহুল্লাহ অপর এক জায়গায় লেখেন,
ذكر الشرنبلالي في رسالة في أحكام الكنائس عن الإمام السبكي أن معنى قولهم لا نمنعهم من الترميم ليس المراد أنه جائز نأمرهم به بل بمعنى نتركهم وما يدينون فهو من جملة المعاصي التي يقرون عليها كشرب الخمر ونحوه ولا نقول : إن ذلك جائز لهم، فلا يحل للسلطان ولا للقاضي أن يقول لهم افعلوا ذلك ولا أن يعينهم عليه، ولا يحل لأحد من المسلمين أن يعمل لهم فيه، ولا يخفى ظهوره وموافقته لقواعدنا. (رد المحتار، كتاب الجهاد، فصل في الجزية، مطلب في أحكام الكنائس)
ইমাম শুরুনবুলালি রহিমাহুল্লাহ অমুসলিমদের উপাসনালয়ের বিধানসংক্রান্ত যে পুস্তিকা রচনা করেছেন তাতে সুবকি রহিমাহুল্লাহ থেকে একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন, 'পুরাতন গির্জা নতুন করে নির্মাণে নিষেধ করা হবে না'- এটার উদ্দেশ্য এই নয় যে, এই কাজটি একটি জায়েয কাজ, যার আদেশ আমরা তাদের করব। এটার উদ্দেশ্য হলো, আমরা তাদেরকে তাদের ধর্মমত অনুযায়ী চলতে ছেড়ে দিচ্ছি। মদ ইত্যাদি খাওয়ার মতোই এটাও একটি গোনাহের কাজ। আমরা এটা বলব না যে, এগুলো তাদের জন্য জায়েয ও নৈতিক। সুতরাং কোনো মুসলিম শাসক বা বিচারপতির জন্য অমুসলিমদের পুরাতন গির্জা পুনর্নির্মাণের আদেশ করা এবং তাতে সহযোগিতা করা জায়েয হবে না। কোনো মুসলমানের জন্য সেখানে কাজ করা জায়েয হবে না। আর এটা একদমই স্পষ্ট বিষয়, যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আর ইমাম সুবকির এই বক্তব্য আমাদের মাজহাবের মূলনীতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।(৭৯)
ইমাম মাওয়ারদি রহিমাহুল্লাহ ইসলামي শাসননীতি সংক্রান্ত 'আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থে লেখেন,
ولا يجوز أن يحدثوا في دار الإسلام بيعة ولا كنيسة، فإن أحدثوها هدمت عليهم، ويجوز أن يبنوا ما استهدم من بيعهم وكنائسهم العتيقة. (الأحكام السلطانية ص ٧٢٢ ، الباب الثالث عشر : في وضع الجزية والخراج)
দারুল ইসলাম-ইসলামি বিধিবিধান প্রতিষ্ঠিত অঞ্চলে অমুসলিমদের উপাসনালয় নতুন করে তৈরি করা জায়েয নেই। যদি তারা নতুন নির্মাণ করে, তাহলে তা ভেঙে ফেলতে হবে। তবে পুরাতন উপাসনালয় ভেঙে গেলে তার পুনর্নির্মাণ করা যাবে।(৮০)

টিকাঃ
৭৪. যেমন কাদিয়ানি বা গোঁড়া রাফেজিদের মসজিদের নামে নিজেদের ইবাদতখানা, বাহায়ি বা হিজবুত তাওহিদের কোনো ধর্মশালা ইত্যাদি। (আব্দুল্লাহ)
৭৫. জাযিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপের সীমানা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বৃহৎ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। উত্তরে: ইরাক এবং জর্ডান। উত্তর-পূর্বে: কুয়েত। পূর্বে: কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন (যা সউদি আরবের সাথে কিং ফাহদ সেতু দ্বারা সংযুক্ত)। দক্ষিণে: ইয়েমেন। দক্ষিণ-পূর্বে : ওমান। পশ্চিমে: লোহিত সাগর। (আব্দুল্লাহ)
৭৬. পুরাতন গির্জা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে উল্লেখযোগ্য। এক. পুরাতন গির্জা যদি কোনো দুর্যোগে ভেঙে যায় বা পুরাতন হয়ে তার অবকাঠামো ধসে পড়ে, তাহলে তার পুনর্নির্মাণ করা যাবে। কিন্তু যদি মুসলিম শাসক তা কোনো কারণে ভেঙে ফেলে বা বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেটা পুনর্নির্মাণ করা জায়েয নেই। কেউ যদি এমনটা করে তাহলে সে মুসলিম শাসককে ছোট করল, ইসলামের বদলে কুফরকে সাহায্য করল। তাই তাকে এর জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। শামি রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
(قوله أشباه) حيث قال في فائدة نقل السبكي الإجماع على أن الكنيسة إذا هدمت ولو بغير وجه لا يجوز إعادتها ذكره السيوطي في حسن المحاضرة. قلت : يستنبط منه أها إذا قفلت، لا تفتح ولو بغير وجه كما وقع ذلك في عصرنا بالقاهرة في كنيسة بحارة زويلة قفلها الشيخ محمد بن إلياس قاضي القضاة، فلم تفتح إلى الآن حتى ورد الأمر السلطاني بفتحها فلم يتجاسر حاكم على فتحها، ولا ينافي ما نقله السبكي قول أصحابنا يعاد المنهدم لأن الكلام فيما هدمه الإمام لا فيما تهدم فليتأمل. اهـ قال الخير الرملي في حواشي البحر أقول : كلام السبكي عام فيما هدمه الإمام وغيره في كلام الأشباه يخص الأول. والذي يظهر ترجيحه العموم لأن العلة فيما يظهر أن في إعادتها بعد هدم المسلمين استحفافا بهم، وبالإسلام وإخمادا لهم وكسرا لشوكتهم، ونصرا للكفر وأهله غاية الأمر أن فيه افتياتا على الإمام فيلزم فاعله التعزير. (رد المحتار، كتاب الجهاد، فصل في الجزية، مطلب إذا هدمت الكنيسة ولو بغير وجه لا تجوز إعادتها)
দুই. পুরাতন গির্জা পুনর্নির্মাণের সময় ঠিক ততটুকুই নির্মাণ করতে পারবে, যা পূর্বে ছিল। পূর্বের অবকাঠামো থেকে বাড়ানো যাবে না, বা আরও জাঁকজমক করে করা যাবে না। আল্লামা শিলবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১০২১ হি.) লেখেন,
وقوله القديمة أي على قدر البناء الأول ويمنع من الزيادة على البناء الأول. (تبيين الحقائق مع حاشية الشلبي، كتاب السير، باب العشر والخراج، فصل في الجزية ) 'পুরাতন উপাসনালয় তৈরিতে বাধা দেওয়া হবে না' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, প্রথম অবকাঠামোর যে পরিমাণ ছিল তা। প্রথম অবকাঠামো থেকে বড় করে নির্মাণে বাধা দেওয়া হবে। (আব্দুল্লাহ)
৭৭. তাবয়িনুল হাকায়েক ৩/২৭৯
৭৮. ফাতাওয়ায়ে শামি ৪/২০২
৭৯. ফাতাওয়ায়ে শামি ৪/২০৪
৮০. আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ২২৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00