📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 সাহাবায়ে কেরামের অপছন্দ ও তার মৌলিক কারণ

📄 সাহাবায়ে কেরামের অপছন্দ ও তার মৌলিক কারণ


ওপরে জানা গেল যে কিতাবি নারীর সাথে বিবাহ সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ। তবে এ কথাও নির্দ্বিধায় বলা যায়, তা বৈধ হওয়া সত্ত্বেও এতে অনেকগুলো সমস্যা ও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে বহুসংখ্যক সাহাবি এবং পূর্বসূরিগণ একে অপছন্দ করতেন। নিজেদের সম্পর্কিত লোকদের তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিতেন। এমনকি হজরত উমরের মতো বলিষ্ঠ, দায়িত্ববান ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন অঞ্চলে নিযুক্ত সাহাবিদের প্রতি এই নির্দেশ জারি করেছিলেন, যারা কিতাবি মহিলাকে বিবাহ করেছে তারা যেন তালাক দিয়ে দেয়।
আল্লামা ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ বলেন,
إذا ثبت هذا فالأولى أن لا يتزوج كتابية؛ لأن عمر قال للذين تزوجوا من نساء أهل الكتاب : طلقوهن فطلقوهن إلا حذيفة، فقال له عمر : طلقها. قال : تشهد أنها حرام؟ قال : هي جمرة، طلقها. قال : تشهد أنها حرام؟ قال : هي جمرة. قال : قد علمت أنها جمرة، ولكنها لي حلال. فلما كان بعد طلقها، فقيل له : ألا طلقتها حين أمرك عمر؟ قال : كرهت أن يرى الناس أني ركبت أمرا لا ينبغي لي. (المغني ۹۲۱/۷ ، مسألة حرائر نساء أهل الكتاب وذبائحهم)
সুতরাং আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ না করাই উত্তম। যারা কিতাবি মহিলাকে বিবাহ করেছিল, উমর রা. তাদেরকে তালাকের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা সে নির্দেশমতে তালাক দিয়েছিল। তবে হুজাইফা রা. তালাক দেননি। তখন উমর রা. তাকে বললেন, তালাক দাও। তিনি বললেন, আপনি কি মনে করেন, সে হারাম? উমর রা. বললেন, না, সে আগুনের অঙ্গার। উমর রা. আবার বললেন, তাকে তালাক দাও। তিনি বললেন, আপনি কি মনে করেন, সে হারাম? উমর রা. বললেন, না, সে আগুনের অঙ্গার। হুজাইফা রা. বললেন, আমি জানি সে আগুনের অঙ্গার, তবে সে আমার জন্য বৈধ। পরে যখন সে কিতাবি মহিলাকে হুজাইফা রা. তালাক দিলেন, তখন তাকে বলা হলো, যখন উমর বলেছিলেন তখন কেন তালাক দেননি? তিনি বললেন, আমি অপছন্দ করেছি যে মানুষ মনে করবে, আমি কিতাবিকে বিয়ে করে কোনো মন্দ কাজ করেছি। (৬১)
কিতাবি বিবাহ বৈধ হওয়া সত্ত্বেও এ থেকে বিরত থাকতে বলার প্রধান কারণ হলো, বিবাহের মাধ্যমে কিতাবি স্ত্রীর পরিবারের সাথে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি তৈরি হয়ে যায় যা একটি শারীরিক ও মানসিক ব্যাপার। আর সাধারণত অধিকাংশ মানুষ এতটা সংযমী নয় যে, সৌজন্য প্রদর্শন করতে গিয়ে কিতাবি আত্মীয়দের সাথে শরিয়তের নিষিদ্ধ সম্পর্ক ও সম্প্রীতিতে জড়িয়ে পড়া থেকে নিজেকে সংবরণ করতে পারবে।
তাই সাধারণত এমন হয় যে, এই সম্পর্কই অনেক অনেক মন্দ কাজের উৎস হয়ে ওঠে এবং এই সম্পর্কের কারণে আহলে কিতাব শ্বশুরালয়ের হস্তক্ষেপের দরজা খুলে যায়। যা কখনো কখনো পুরো পরিবারকে পূর্ণমাত্রায় বিপথগামী করার মাধ্যম হয়। ইতিহাসে এর উদাহরণও কম নয়।
পবিত্র কুরআনও মৌলিকভাবে এ প্রভাবের স্বীকৃতি দিয়েছে, তাই কাফের পুরুষের সাথে মুসলিম নারীর বিয়ে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপটে আল্লাহর এই বাণী রয়েছে, 'ওদেরকে আগুনের দিকে ডেকে নেওয়া হচ্ছে।' এর অর্থ এই যে, এই লোকেরা বিবাহের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্যদেরকে বিচ্যুত করে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর নারী যেহেতু আনুগত্যশীল এবং অধীনস্থ, তাই তার ক্ষেত্রে এই বিপদগুলো বাস্তব, যার কারণে কাফেরদের সাথে সম্পূর্ণরূপে মুসলিম নারীর বিবাহ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। আর স্বামী মুসলমান আর স্ত্রী কিতাবি, সেখানে এই সমস্যাগুলো এতটা প্রবল নয়। যার কারণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও এই মৌলিক কারণটিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই যেখানে এ ধরনের বিপদ নিশ্চিত বিদ্যমান থাকে, সেখানে কিতাবি নারীকে বিবাহ করাও নিষিদ্ধ হবে।
আল্লামা কাসানি রহিমাহুল্লাহ বলেন,
ولأن في إنكاح المؤمنة الكافر خوف وقوع المؤمنة في الكفر؛ لأن الزوج يدعوها إلى دينه، والنساء في العادات يتبعن الرجال فيما يؤثرون من الأفعال ويقلدونهم في الدين إليه وقعت الإشارة في آخر الآية بقوله - عز وجل : {أولئك يدعون إلى النار : لأنهم يدعون المؤمنات إلى الكفر، والدعاء إلى الكفر دعاء إلى النار؛ لأن الكفر يوجب النار، فكان نكاح الكافر المسلمة سببا داعيا إلى الحرام فكان حراما. (بدائع الصنائع ١٧٢/٢، كتاب النكاح، فصل إسلام الرجل إذا كانت المرأة مسلمة، ط. دار الكتب العلمية)
কাফেরের সাথে মুমিন নারীর বিবাহের মাধ্যমে নারীর কুফরে পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্বামী তাকে স্বীয় ধর্মের দিকে ডাকবে, আর স্ত্রীগণ সাধারণত স্বামীরা যেসব কাজে প্রভাব ফেলে সেসব ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করে এবং দ্বীনধর্মের ক্ষেত্রে তাদের অন্ধ অনুকরণ করে থাকে। এদিকেই আয়াতের শেষাংশে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তারা তো আগুনের দিকে আহ্বান করে। কারণ কাফের পুরুষরা মুমিন নারীদেরকে কুফরের দিকে আহ্বান করে। আর কুফর হলো জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। সুতরাং কাফেরের সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ হারামের দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং বিবাহও হারাম হবে। (৬২)
আল্লামা ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ আরেকটি বিপদের দিকেও ইঙ্গিত করেছিলেন,
ولأنه ربما مال إليها قلبه ففتنته، وربما كان بينهما ولد فيميل إليها. (المغني ٩٢١/٧، مسألة حرائر نساء أهل الكتاب وذبائحهم)
কারণ কখনো স্বামীর মন স্ত্রীর দিকে ঝুঁকে পড়লে স্বামী তার দ্বারা ফিতনার শিকার হবে। আবার এমনও হতে পারে যে, তাদের কোনো সন্তানের মায়ায় স্ত্রীর দিকে ঝুঁকে পড়বে। (৬৩)

টিকাঃ
৬১. আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৭/১২৯
৬২. বাদায়েউস সানায়ে, ২/১৭১
৬৩. আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৭/১৩০

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 অমুসলিমের জবাই করা প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিধান

📄 অমুসলিমের জবাই করা প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিধান


জবাই হালাল হওয়ার জন্য জবাইকারী কোনো আসমানি ধর্মে বিশ্বাসী হওয়া আবশ্যক। তাই আহলে কিতাব ব্যতীত সবধরনের কাফের, মুরতাদ, কাদিয়ানি ইত্যাদির জবাই করা পশুর গোশত সর্বাবস্থায় হারাম। আর আহলে কিতাব ইহুদি-খ্রিষ্টানের জবাই মূলতভাবে হালাল। তবে শর্ত হলো, তারা বাস্তবেই ইহুদি বা খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসী হতে হবে এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে জবাই করতে হবে।
তাই কেউ যদি কেবল জাতীয়তা বা আদমশুমারিতে খ্রিষ্টান বা ইহুদি গণ্য হয়, আর আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, নবীগণ ও আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি তাদের কিতাবমতে বিশ্বাস না রাখে, তাহলে সে মুলহিদ বলে বিবেচিত হবে; তার জবাই করা পশু হারাম। এমনইভাবে প্রকৃত কোনো আহলে কিতাব যদি স্বীয় ধর্ম অনুযায়ী জবাই না করে তাও হারাম।
বিদগ্ধ মহলের অভিজ্ঞতা হলো, বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসরত মানুষ সাধারণত শুধু নামেই খ্রিষ্টান বা ইহুদি, তারা সর্বশক্তিমান আল্লাহর অস্তিত্ব এবং আল্লাহর উলুহিয়াতে বিশ্বাস করে না। পুনরুত্থান ও পরকালে বিশ্বাস করে না, তাই এই ধরনের লোকদের জবাই করা পশু এবং তাদের দেশগুলোর গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।(৬৪) তবে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা যায় যে, খ্রিষ্টান বা ইহুদিধর্মের প্রকৃত বিশ্বাসীরাই সেখানে জবাই করে এবং জবাই করার সময় তাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি যত্নবান থাকে, তাহলে খাওয়া যেতে পারে।
ইমাম সারাখসি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৮৩ হি.) 'মাবসুত' কিতাবে লেখেন,
ولا بأس بصيد اليهودي والنصراني وذبيحتهما لقوله تعالى { وطعام الذين أوتوا الكتاب حل لكم } والمراد الذبائح، إذ لو حمل على ما هو سواها من الأطعمة لم يكن لتخصيص أهل الكتاب بالذكر معنى، ولأنهم يدعون التوحيد فيتحقق منهم التسمية قصدا، ولو علم المسلم أنه سمى المسيح لم يحل له أكله. (المبسوط، كتاب الصيد، صيد اليهودي والنصراني وذبيحتهما)
(এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের শিকার ও তাদের গোশত খেতে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, এবং আহলে কিতাবের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল।) তাদের খাদ্য দ্বারা উদ্দেশ্য তাদের জবাই করা প্রাণী। কারণ যদি এর দ্বারা পশু ছাড়া অন্যান্য খাবারই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তাহলে আহলে কিতাবকে উল্লেখ করার বিশিষ্টতা বাকি থাকে না। আহলে কিতাবের জবাই বৈধ হওয়ার কারণ হলো তারা তাওহিদের দাবিদার, যার মাধ্যমে তাদের থেকে আল্লাহর নাম নেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। তবে কোনো মুসলমান যদি জানতে পারে যে, মাসিহের নামে জবাই করা হয়েছে, তাহলে তা বৈধ নয়। (৬৫)
'মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি'-তে রয়েছে,
“إن المقصود بأهل الكتاب هم اليهود والنصارى الذين يؤمنون بأصول دينهم وإن كانوا كفارا بدين الإسلام لادعائهم عقيدة التثليث، وتكفير من يدعي الحل، أما الذين لا يؤمنون بالله ولا بنبي ولا بكتاب منزل كالدهرية فهم ليسوا بأهل الكتاب ولا يطبق عليهم أحكامهم ولو كانوا مدرجين ضمن تعداد أهل الكتاب.
إن النصارى في الوقت الحاضر قد انسلخوا عن التقيد بالقيود الدينية في أمر الذبح فلم يعودوا يلتزمون بقيود دينهم فيه فلا تكون ذبائحهم حلالا، إلا إذا علم في لحم معين أنه ذبح على يد نصراني ملتزم بالطريقة الشرعية في الذبح فتكون حلالا، وبناء عليه فلا يجوز أكل اللحوم المبيعة في أسواقهم التي لا يعرف ذابحها".
"আহলে কিতাব বলতে সেই ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বোঝানো হয়েছে যারা তাদের মৌলিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী, যদিও তারা ত্রিত্ববাদ, কাফফারা ইত্যাদি ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করে। তবে যারা আল্লাহ, কোনো নবী এবং আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করে না, তারা বস্তুবাদী। কিতাবধারীদের উপর আহলে কিতাবের বিধান প্রযোজ্য হবে না, যদিও তারা খ্রিস্টান বা ইহুদি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়।"
বর্তমানে খ্রিস্টানরা পশু জবাই করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তারা তাদের ধর্মীয় বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কা করে না। তাই তাদের জবাই করা পশু হালাল নয়, তবে যদি কোনো বিশেষ মাংস সম্পর্কে জানা যায় যে এটি কোনো প্রকৃত খ্রিস্টান দ্বারা বৈধ পদ্ধতিতে জবাই করা হয়েছে, তবে তা হালাল। সুতরাং তাদের বাজারে বিক্রি হওয়া মাংস, যেগুলোর জবাইকারী সম্পর্কে জানা যায় না, সেগুলো হালাল নয়। (৬৬)

টিকাঃ
৬৪. এই কথা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ২০১৬ সালের বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনই যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, 'ইংল্যান্ডে খ্রিষ্টানদের ছাড়িয়ে নাস্তিকরাই এখন সংখ্যাগুরু'। প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে দিচ্ছি-
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে নাস্তিকরাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ, সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে খ্রিষ্টানরা। সর্বশেষ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। ২০১৪ সালের 'ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিচিউড' জরিপের তথ্য অনুযায়ী ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এখন নাস্তিক বা কোনো ধর্মের অনুসারী নন এমন মানুষ ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১১ সালের জরিপে এই সংখ্যা ছিল ২৫ শতাংশ। তখনও পর্যন্ত খ্রিষ্টানরাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ।... সেন্ট মেরি'স ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির স্টিফেন বুলিভান্ট বলেন, ব্রিটেনে জনসংখ্যার অনুপাতে কোনো ধর্মের অনুসারী নন এমন মানুষের সংখ্যা স্পষ্টতই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, যারা জরিপে কোনো ধর্মের অনুসারী নন বলে নিজেদের চিহ্নিত করছেন, তাদের অনেকেই কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী হিসাবেই বেড়ে উঠেছেন। (আব্দুল্লাহ)
প্রতিবেদেন লিংক: https://www.bbc.com/bengali/news/2016/05/160524_atheists_outnumber_christians_in_england_and_wales
৬৫. আল-মাবসুত, সারাখসি, ১১/২৪৬
৬৬. মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি, ভলিউম ২, পৃ. ১৯৭৩১

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 আহলে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য কারা

📄 আহলে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য কারা


ইসলামে কিছু বিষয়ে সাধারণ কাফের ও আহলে কিতাবদের মাঝে পার্থক্য করা হয়েছে। যেমন, আহলে কিতাবদের জবাই করা গোশত খাওয়া ও আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করা বৈধ। কিন্তু সাধারণ কাফেরদের জবাই করা গোশত হালাল নয় আর তাদের নারীদের বিবাহ করা বৈধ নয়। তাহলে প্রশ্ন হলো কুরআনে বর্ণিত 'আহলে কিতাব' দ্বারা কারা উদ্দেশ্য? এই বিষয়ে আমাদের হানাফি উলামায়ে কেরামের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।
ক. কিছু ফকিহের মত হলো, কুরআনে বর্ণিত 'আহলে কিতাব' শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক, যা সকল আসমানি কিতাবের ধারকদের বোঝায়। তাই যারাই কোনো আসমানي ধর্মের অনুসারী এবং তাদের কাছে আসমানি কিতাব রয়েছে, তারাই 'আহলে কিতাব' হিসাবে গণ্য হবে। এই মতানুযায়ী 'আহলে কিতাব' শব্দটি শুধুই ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের সাথেই বিশেষায়িত নয়। বরং যে সম্প্রদায়ের কাছেই কোনো আসমানি কিতাব রয়েছে, যেমন জাবুর কিতাবের অনুসারী, হজরত ইবরাহিম আ.-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া কিতাবের অনুসারী, তারা সবাই আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর অন্য সাধারণ কাফেরদের থেকে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের যে-সকল বিধানে ভিন্নতা রয়েছে, এদের ক্ষেত্রেও সেগুলো প্রযোজ্য হবে।
আল্লামা যাইলায়ি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৪৩ হি.) বলেন,
ثم كل من يعتقد دينا سماويا، وله كتاب منزل كصحف إبراهيم وشيث وزبور داود عليهم السلام فهو من أهل الكتاب فتجوز مناكحتهم وأكل ذبائحهم خلافا للشافعي فيما عدا اليهود والنصارى والحجة عليه ما تلونا. (تبيين الحقائق ٠۱۱/۲، كتاب النكاح، فصل في المحرمات)
সুতরাং যারাই কোনো আসমানي ধর্মের অনুসারী এবং তাদের কাছে আসমানي ধর্মগ্রন্থ রয়েছে, যেমন হজরত ইবরাহিম ও শিশ আ.-এর সহিফাসমূহ, হজরত দাউদ আ.-এর জাবুর, তারাই আহলে কিতাব বলে গণ্য হবে এবং তাদের জবাই করা গোশত খাওয়া যাবে ও তাদের নারীদের বিবাহ করা জায়েয হবে। (৬৭)
ইবনে আবেদিন শামি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১২৫২ হি.) লেখেন,
والكتابي من يعتقد دينا سماويا أي منزلا بكتاب كاليهود والنصارى. (رد المحتار، كتاب الجهاد، فصل في الجزية)
আহলে কিতাব হলো যারা কোনো আসমানي ধর্মে বিশ্বাস করে এবং আসমানي কোনো কিতাবও রয়েছে। যেমন ইহুদি ও খ্রিষ্টান। (৬৮)
বিশেষ দ্রষ্টব্য, শামি রহিমাহুল্লাহ এখানে ইহুদি ও খ্রিষ্টানকে উদাহরণ হিসাবে এনেছেন, এই দুই প্রকারেই আহলে কিতাব সীমাবদ্ধ এমনটা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
খ. আরেকদল ফকিহদের মত হলো, আহলে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য শুধুই ইহুদি ও খ্রিষ্টান। অন্যান্য আসমানي ধর্মের বিশ্বাসী ও প্রবক্তারা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতকে নিজেদের পক্ষে দলিল হিসাবে পেশ করেন,
وَهَذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ أَن تَقُولُوا إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ.
আর এটি এমন কিতাব, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময়। অতএব এর অনুসরণ করো এবং (আল্লাহকে) ভয় করতে থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি মেহেরবানি করা হয়; (তা এজন্য অবতরণ করেছি), যাতে তোমরা এ কথা না বলো যে, কিতাব তো শুধু আমাদের পূর্ববর্তী দুটি সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ করা হয়েছিল, আর আমরা তাদের পঠনপাঠন সম্পর্কে বেখবরই ছিলাম। (৬৯)
ইমাম মাতুরিদি রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতকে দলিল হিসাবে এভাবে পেশ করেন, আয়াতের মাঝে কাফেরদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হচ্ছে না, বরং আলোচনার প্রেক্ষিতে সকল কাফেরকে এটা শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, এখন তোমাদের সামনে যে কুরআন রয়েছে, সত্যনিষ্ঠ হয়ে তা গভীরভাবে অধ্যয়ন করো, যাতে কেয়ামতের দিন এই অজুহাত পেশ না করতে হয়, আসমানি কিতাব তো আমাদের পূর্বের দুই দল তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের দেওয়া হয়েছে, আমরা তো তা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। (তাই আমাদের অপারগ মনে করে আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত।)
আর ইমাম কুদিরি রহিমাহুল্লাহ এভাবে দলিল পেশ করেন, (যদি ধরেও নিই) আয়াতে কাফেরদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন যেহেতু কাফেরদের এই দাবিকে খণ্ডন করেনি, তাই এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আহলে কিতাব শুধুই দুটি দল-ইহুদি ও খ্রিষ্টান।
ইমাম মাতুরিদি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৩৩৩ হি.) লেখেন,
فالمجوسية ليست عندنا من أهل الكتاب والدليل على ذلك قول الله تعالى : ( وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ أَنْ تَقُولُوا إِنَّمَا أُنْزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا فأخبر الله تعالى أن أهل الكتاب طائفتان؛ فلا يجوز أن يجعلوا ثلاث طوائف، وذلك خلاف ما دل عليه القرآن. (تفسير الماتريدي ٣٦٤/٣، تحت سورة المائدة : ٥)
অগ্নিপূজকরা আমাদের নিকট আহলে কিতাব নয়। তার দলিল হলো আল্লাহ তাআলার এই ইরশাদ,
وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ أَنْ تَقُولُوا إِنَّمَا أُنْزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا.
এই আয়াতে আল্লাহ এই সংবাদ দিচ্ছেন যে, আহলে কিতাব হলো দুটি দল। তাই আহলে কিতাবকে তিন দল বানানো সঠিক হবে না। অন্যথায় কুরআন যে বিষয়ের ওপর নির্দেশ করছে (আহলে কিতাব দুটিই দল), তার বিপরীত হয়ে যাবে। (৭০)
ইমাম কুদুরি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪২৮ হি.) উল্লেখ করেন,
لغافلين. ولم يرد سبحانه ذلك عليهم، ولو كانوا كاذبين لرد كذبهم؛ لأنه تعالى : لنا : قوله تعالى : {إنما أنزل الكتاب على طائفتين من قبلنا وإن كنا عن دراستهم لا يحكي عنهم الكذب ويترك إنكاره. (التجريد ٠٤٢٦/٢١، كتاب الجزية، مسألة : المجوس لا كتاب له.)
আমাদের দলিল হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী,
إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ.
আল্লাহ তাআলা এখানে কাফেরদের বক্তব্য খণ্ডন করেননি, যদি কাফেরদের এই বক্তব্য মিথ্যা হতো, তাহলে আল্লাহ তাআলা তা খণ্ডন করতেন। কেননা আল্লাহ তাআলা কোনো মিথ্যা বর্ণনা করে তা খণ্ডন না করে রেখে দেন না। (৭১)
উপরিউক্ত আলোচনার সারমর্ম হলো, আহলে কিতাব দ্বারা কারা উদ্দেশ্য এই বিষয়ে হানাফি আলেমদের দুধরনের মত পাওয়া যায়। তবে এই মতানৈক্যের আপাত কোনো ফলাফল নেই। কেননা, বর্তমান সময়ে তাওরাত ও ইনজিলের অনুসারী ছাড়া আর অন্য কোনো আসমানي কিতাবের অনুসারী বা তার দাবিদারের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। আর যদি থাকেও, তাহলে আমরা জানি না।
যাইহোক, এতটুকুতে তো সবাই একমত, আহলে কিতাব হওয়ার জন্য আসমানي কিতাবের অনুসারী হতে হবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা জামাত যদি কোনো আসমানي কিতাবে বিশ্বাসীই না হয়, বা আসমানي কিতাবের অনুসারী দাবি করে, কিন্তু সে কিতাব যে আসমানي তার পক্ষে ইসলামي জ্ঞানভান্ডারে কোনো প্রমাণ নেই, তাহলে এরা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এ থেকে বোঝা গেল, কাদিয়ানি ও যে-সকল শিয়া কুফরি আকিদা লালন করে, তাদের আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করা ও তাদের ওপর আহলে কিতাবের বিধান প্রয়োগ করা ভুল।(৭২)
এ থেকে বোঝা গেল যে, কাদিয়ানিরা মোটেও আহলে কিতাবদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের ওপর আহলে কিতাবের বিধিবিধান জারি করা একেবারেই ভুল। কেননা, তারা যে ওহির ওপর ঈমান আনে তা কোনো ধর্ম অনুযায়ীই আসমানي ওহি নয়। এমনইভাবে যে-সকল শিয়া কুফরি আকিদা লালন করে, তারাও কোনোভাবেই আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদি কথার কথা হিসাবে মেনেও নেওয়া হয় যে, তারা কুরআন সঠিক হওয়ার বিশ্বাস রাখে, তবু আকিদাগত দিক থেকে যেহেতু কিছু কুফর লালন করে, এই হিসাবে তারা জিন্দিক বলে গণ্য হবে, আহলে কিতাব বলে গণ্য হবে না। কেননা, পারিভাষিক অর্থে আহলে কিতাব হওয়ার জন্য কুরআনে কারিম ব্যতীত অন্য কোনো আসমানي কিতাবের ওপর ঈমান রাখা আবশ্যক। যেহেতু তারা কুরআনের প্রতি বিশ্বাসের দাবি রাখে, এজন্য তারা হয়তো মুসলমান হবে এবং তাদের ওপরে মুসলমানদের বিধিবিধান জারি হবে, অথবা (নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করার পরেও কুফরি আকিদা লালন করার কারণে) জিন্দিক কাফের বলে গণ্য হবে। এমনইভাবে হিন্দুদেরকেও আহলে কিতাব বলে সাব্যস্ত করা পুরোপুরি ভুল।

টিকাঃ
৬৭. তাবয়িনুল হাকায়েক, ২/১১০
৬৮. ফাতাওয়ায়ে শামি, ৪/১৯৮
৬৯. সুরা আনআম: ১৫৬
৭০. তাফসিরে মাতুরিদি, ৩/৪৬৩
৭১. আত-তাজরিদ, ১২/৬২৪০
৭২. অর্থাৎ কাদিয়ানি ধর্মে বিশ্বাসীদের জবাই করা গোশত খাওয়া বা তাদের নারীদের বিবাহ করা স্পষ্টই হারাম। তেমনইভাবে কুফরি আকিদায় বিশ্বাসী শিয়াদের জবাই করা গোশত খাওয়া ও তাদের নারীদের বিবাহ করা অবৈধ। (আব্দুল্লাহ)

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠিত অঞ্চলে অন্যধর্মের প্রচার-প্রসার করা

📄 ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠিত অঞ্চলে অন্যধর্মের প্রচার-প্রসার করা


যে-সকল কাফের ইসলামি আইনকানুন মেনে ইসলামি ভূখণ্ডে বসবাস করে, তাদেরকে জিম্মি বলা হয়। তাদের জানমাল ও ইজ্জত-সম্মান মুসলমানদের মতো রক্ষিত ও নিরাপদ। এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু বিধানে মুসলমান ও জিম্মির বিধান সমান। কিন্তু তা সত্ত্বেও জিম্মিদের এই অনুমতি নেই যে, তারা ইসলামি ভূখণ্ডে নিজেদের ধর্মমত প্রচার করবে। বরং তাদের সকল ধর্মীয় কাজ তাদের নিজেদের লোকদের মাঝে ও উপাসনালয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা জরুরি। ধর্মমত প্রচারের যত মাধ্যম হতে পারে, সকল বিষয়েই এই বিধান প্রযোজ্য। এমনকি মুসলমানদের কোনো সভায় তাদের ধর্মীয় কোনো প্রতীক প্রকাশ করাও নিষিদ্ধ। ইসলামি ভূখণ্ডের শাসকদেরও এই বিষয়ে অনুমতি দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। এ থেকে এই বিধানও স্পষ্ট হয় যে, মুসলিম নামধারী কোনো দল বা ব্যক্তি যদি সুস্পষ্ট কোনো কুফরী বিশ্বাস লালন করে তাহলে তারা সেগুলোর প্রচার করতে পারবে না এবং এই শিরোনামে কোনো প্রতিষ্ঠান বা উপাসনালয়ও তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তার একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইনই কার্যকর ও বিজয়ী থাকবে। তাই কুফরি মতবাদ বা ধর্মের প্রচারের অনুমতি দেওয়া বা প্রচারের বিষয়টি জানতে পেরেও তা এড়িয়ে যাওয়া মূলত এই উদ্দেশ্যের সাথে স্পষ্ট বিদ্রোহের শামিল। তেমনই যে-সকল কাজ ও চিন্তা জিম্মিদের ধর্মমত অনুযায়ীও ভুল ও ভ্রান্ত, সেগুলোর প্রচার ও প্রকাশ থেকেও ইসলামি ভূখণ্ডে নিষেধ করা হবে।
'বাদায়েয়ুস সানায়ে' গ্রন্থে রয়েছে,
ولا يمكنون من إظهار صليبهم في عيدهم؛ لأنه إظهار شعائر الكفر، فلا يمكنون من ذلك في أمصار المسلمين، ولو فعلوا ذلك في كنائسهم لا يتعرض لهم وكذا لو ضربوا الناقوس في جوف كنائسهم القديمة لم يتعرض لذلك؛ لأن إظهار الشعائر لم يتحقق، فإن ضربوا به خارجا منها لم يمكنوا منه لما فيه من إظهار الشعائر... وإنما يكره ذلك في أمصار المسلمين، وهي التي يقام فيها الجمع والأعياد والحدود؛ لأن المنع من إظهار هذه الأشياء؛ لكونه إظهار شعائر الكفر في مكان إظهار شعائر الإسلام، فيختص المنع بالمكان المعد لإظهار الشعائر وهو المصر الجامع.
(وأما) إظهار فسق يعتقدون حرمته كالزنا وسائر الفواحش التي هي حرام في دينهم، فإنهم يمنعون من ذلك سواء كانوا في أمصار المسلمين، أو في أمصارهم ومدائنهم وقراهم. (بدائع الصنائع ٤١١/٧ ، كتاب السير، فصل في بيان حكم الغنائم وما يتصل به، ط. دار الكتب العلمية)
খ্রিষ্টানদেরকে তাদের ঈদ উৎসবের দিন ক্রুশ প্রকাশ্যে বের করার সুযোগ দেওয়া হবে না। কেননা এতে কুফরি প্রতীকের প্রকাশ হয়। ফলে মুসলমানদের শহরে তারা তা করতে পারবে না। যদি তারা তা নিজেদের পুরাতন গির্জার মধ্যে করে, তাহলে বাধা দেওয়া হবে না। কেননা এতে কুফরি প্রতীকের প্রকাশ হয় না। যদি গির্জার বাহিরে করে, তাহলে তা করতে পারবে না, কেননা এতে কুফরি প্রতীক প্রকাশ হয়। এ ধরনের বিষয়গুলো শুধু মুসলিমদের শহরগুলোতেই নিষিদ্ধ। আর মুসলিমদের শহর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যেখানে জুমা, ঈদ এবং হদ (শরিয়তনির্ধারিত দণ্ডবিধি) কায়েম করা হয়। আর এই সকল জিনিস প্রকাশ্যে করা থেকে নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো, এর মাধ্যমে ইসলামের প্রতীকগুলো প্রকাশ পাওয়ার স্থানে কুফরের প্রতীকগুলো প্রকাশ করা হয়। এতে কুফরি প্রতীক ও ইসলামের প্রতীক একই স্থানে প্রকাশ হওয়া আবশ্যক হয়। তাই নিষেধাজ্ঞা শুধু সে সকল স্থানের সাথেই থাকবে, যা ইসলামের প্রতীক প্রকাশের স্থান আর তা হলো শহর।
আর যে-সকল গোনাহের কাজ জিম্মিদের ধর্মমত অনুযায়ীও হারাম, যেমন জিনা ও ওই সকল বেহায়া এবং নির্লজ্জ কাজসমূহ, যেগুলো তাদের ধর্মেও হারাম, সেগুলোও প্রকাশ্যে করা থেকে বিরত রাখা হবে। চাই তা মুসলমানদের শহরে হোক বা তাদের শহরে বা গ্রামে হোক। (৭৩)

টিকাঃ
৭৩. বাদায়েউস সানায়ে, ৭/১১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00