📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 কাফের নর-নারীকে বিবাহ করার বিধান

📄 কাফের নর-নারীকে বিবাহ করার বিধান


কাফের দুধরনের হয়ে থাকে। এক. আহলে কিতাব তথা ইহুদি, খ্রিষ্টান। দুই. আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য কাফের। উলামায়ে কেরামের প্রায় সকলেই একমত যে, আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যান্য কাফের নর-নারীর সাথে কোনো মুসলমান নর- নারীর বিবাহ বৈধ নয়। আল্লামা ইবনে কুদামা হাম্বলি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৬২০ হি.) বলেন,
وسائر الكفار غير أهل الكتاب، كمن عبد ما استحسن من الأصنام والأحجار والشجر والحيوان، فلا خلاف بين أهل العلم في تحريم نسائهم وذبائحهم. (المغني ١٣١/٧، باب فصل النكاح من الكفار غير أهل الكتاب ط مكتبة القاهرة)
আহলে কিতাব ব্যতীত অন্য সকল কাফের যারা নিজেদের পছন্দমতো মূর্তি, পাথর, গাছপালা এবং পশুপাখির উপাসনা করে, তাদের সাথে মুসলমানদের বিবাহ এবং তাদের জবাই করা পশু খাওয়া মুসলমানদের জন্য নাজায়েয হওয়ার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। (৫৫)

টিকাঃ
৫৫. আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৭/১৩১

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 আহলে কিতাবের সাথে বিবাহের দুই সুরত

📄 আহলে কিতাবের সাথে বিবাহের দুই সুরত


এক. মুসলিম নারী আহলে কিতাব কোনো পুরুষকে বিবাহ করা। এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে একে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছেন।
وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا. তোমরা নিজেদের নারীদের মুশরিক পুরুষদের কাছে বিবাহ দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। (৫৬)
তেমনইভাবে সুরা মুমতাহিনার নিম্নের আয়াতে এই ধরনের বিবাহকে আল্লাহ তাআলা নাজায়েয বলেছেন।
فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ. তোমরা মুমিন নারীদের কাফেরদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ো না। এই নারীরা কাফেরদের জন্য বৈধ নয় ও কাফেররাও এই নারীদের জন্য বৈধ নয়। (৫৭)
যার কারণে উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত মত হলো, কোনো মুসলিম নারীর জন্য কোনো আহলে কিতাব পুরুষকে বিবাহ করা বৈধ নয়।
আল্লামা কাসানি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৫৮৭ হি.) বলেন,
لا يجوز إنكاح المؤمنة الكافر لقوله تعالى : {ولا تنكحوا المشركين حتى يؤمنوا}. (بدائع الصنائع ۱۷۲/۲، كتاب النكاح، فصل إسلام الرجل إذا كانت المرأة مسلمة، ط. دار الكتب العلمية)
মুসলমান নারীকে কাফেরের সাথে বিবাহ দেওয়া জায়েয নয়। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী, 'তোমরা নিজেদের নারীদের মুশরিক পুরুষদের কাছে বিবাহ দিয়ো না যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে।' (৫৮)
আল্লামা ওয়াহবা যুহাইলি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১৪৩৬ হি.) বলেন,
يحرم بالإجماع زواج المسلمة بالكافر، لقوله تعالى : { وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا} وقوله تعالى : { فإن علمتموهن مؤمنات فلا ترجعوهن إلى الكفار لا هن حل لهم ولا هم يحلون لهن}. (الفقه الإسلامي وأدلته للزحيلي ٢٥٦٦/٩، القسم السادس : الأحوال الشخصية، فصل زواج المسلمة بالكافر.)
উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত, কাফেরের সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ হারাম।(৫৯)
দুই. আহলে কিতাবের সাথে বিবাহের দ্বিতীয় সুরত হলো, মুসলিম পুরুষ আহলে কিতাব কোনো মহিলাকে বিয়ে করা। এটি উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত মতানুযায়ী মৌলিকভাবে জায়েজ। তবে বর্তমান জামানায় আদমশুমারিতে পরিচয়ধারী বহু খ্রিষ্টান-ইহুদি পাওয়া যায় ঠিক, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আহলে কিতাব খ্রিষ্টান-ইহুদি পাওয়া যায় না। কারণ তারা খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মানুযায়ী আল্লাহ, পয়গম্বর ও আসমানি কিতাবসমূহের ওপর ঈমান রাখে না। এই কারণে এই যুগে নামেমাত্র আহলে কিতাবের সাথে বিবাহ বৈধ নয়। তাই বিবাহের পূর্বে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করতে হবে।
মুসলিম পুরুষ কর্তৃক কিতাবি মহিলাকে বিবাহ বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ বলেন,
وحرائر نساء أهل الكتاب وذبائحهم حلال للمسلمين) ليس بين أهل العلم بحمد الله، اختلاف في حل حرائر نساء أهل الكتاب. وممن روي عنه ذلك عمر، وعثمان، وطلحة، وحذيفة وسلمان، وجابر، وغيرهم. قال ابن المنذر : ولا يصح عن أحد من الأوائل أنه حرم ذلك. (المغني ٩٢١/٧، مسألة حرائر نساء أهل الكتاب وذبائحهم)
আহলে কিতাব স্বাধীন মহিলাকে বিবাহ করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের কারও দ্বিমত নেই। এ ব্যাপারে হজরত উমর, উসমান, তালহা, হুজাইফা, সালমান ও জাবের রা. প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে। ইবনুল মুনযির রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'কিতাবি মহিলাকে বিবাহ করা হারাম' পূর্বসূরি কারও থেকে এমন মত প্রমাণিত নয়। (৬০)

টিকাঃ
৫৬. সুরা বাকারা: ২২১
৫৭. সুরা মুমতাহিনা: ১০
৫৮. বাদায়েউস সানায়ে, ২/২৭১
৫৯. আল-ফিকহুল ইসলামি, ৯/৬৬৫২
৬০. আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৭/১২৯

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 সাহাবায়ে কেরামের অপছন্দ ও তার মৌলিক কারণ

📄 সাহাবায়ে কেরামের অপছন্দ ও তার মৌলিক কারণ


ওপরে জানা গেল যে কিতাবি নারীর সাথে বিবাহ সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ। তবে এ কথাও নির্দ্বিধায় বলা যায়, তা বৈধ হওয়া সত্ত্বেও এতে অনেকগুলো সমস্যা ও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে বহুসংখ্যক সাহাবি এবং পূর্বসূরিগণ একে অপছন্দ করতেন। নিজেদের সম্পর্কিত লোকদের তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিতেন। এমনকি হজরত উমরের মতো বলিষ্ঠ, দায়িত্ববান ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন অঞ্চলে নিযুক্ত সাহাবিদের প্রতি এই নির্দেশ জারি করেছিলেন, যারা কিতাবি মহিলাকে বিবাহ করেছে তারা যেন তালাক দিয়ে দেয়।
আল্লামা ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ বলেন,
إذا ثبت هذا فالأولى أن لا يتزوج كتابية؛ لأن عمر قال للذين تزوجوا من نساء أهل الكتاب : طلقوهن فطلقوهن إلا حذيفة، فقال له عمر : طلقها. قال : تشهد أنها حرام؟ قال : هي جمرة، طلقها. قال : تشهد أنها حرام؟ قال : هي جمرة. قال : قد علمت أنها جمرة، ولكنها لي حلال. فلما كان بعد طلقها، فقيل له : ألا طلقتها حين أمرك عمر؟ قال : كرهت أن يرى الناس أني ركبت أمرا لا ينبغي لي. (المغني ۹۲۱/۷ ، مسألة حرائر نساء أهل الكتاب وذبائحهم)
সুতরাং আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ না করাই উত্তম। যারা কিতাবি মহিলাকে বিবাহ করেছিল, উমর রা. তাদেরকে তালাকের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা সে নির্দেশমতে তালাক দিয়েছিল। তবে হুজাইফা রা. তালাক দেননি। তখন উমর রা. তাকে বললেন, তালাক দাও। তিনি বললেন, আপনি কি মনে করেন, সে হারাম? উমর রা. বললেন, না, সে আগুনের অঙ্গার। উমর রা. আবার বললেন, তাকে তালাক দাও। তিনি বললেন, আপনি কি মনে করেন, সে হারাম? উমর রা. বললেন, না, সে আগুনের অঙ্গার। হুজাইফা রা. বললেন, আমি জানি সে আগুনের অঙ্গার, তবে সে আমার জন্য বৈধ। পরে যখন সে কিতাবি মহিলাকে হুজাইফা রা. তালাক দিলেন, তখন তাকে বলা হলো, যখন উমর বলেছিলেন তখন কেন তালাক দেননি? তিনি বললেন, আমি অপছন্দ করেছি যে মানুষ মনে করবে, আমি কিতাবিকে বিয়ে করে কোনো মন্দ কাজ করেছি। (৬১)
কিতাবি বিবাহ বৈধ হওয়া সত্ত্বেও এ থেকে বিরত থাকতে বলার প্রধান কারণ হলো, বিবাহের মাধ্যমে কিতাবি স্ত্রীর পরিবারের সাথে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি তৈরি হয়ে যায় যা একটি শারীরিক ও মানসিক ব্যাপার। আর সাধারণত অধিকাংশ মানুষ এতটা সংযমী নয় যে, সৌজন্য প্রদর্শন করতে গিয়ে কিতাবি আত্মীয়দের সাথে শরিয়তের নিষিদ্ধ সম্পর্ক ও সম্প্রীতিতে জড়িয়ে পড়া থেকে নিজেকে সংবরণ করতে পারবে।
তাই সাধারণত এমন হয় যে, এই সম্পর্কই অনেক অনেক মন্দ কাজের উৎস হয়ে ওঠে এবং এই সম্পর্কের কারণে আহলে কিতাব শ্বশুরালয়ের হস্তক্ষেপের দরজা খুলে যায়। যা কখনো কখনো পুরো পরিবারকে পূর্ণমাত্রায় বিপথগামী করার মাধ্যম হয়। ইতিহাসে এর উদাহরণও কম নয়।
পবিত্র কুরআনও মৌলিকভাবে এ প্রভাবের স্বীকৃতি দিয়েছে, তাই কাফের পুরুষের সাথে মুসলিম নারীর বিয়ে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপটে আল্লাহর এই বাণী রয়েছে, 'ওদেরকে আগুনের দিকে ডেকে নেওয়া হচ্ছে।' এর অর্থ এই যে, এই লোকেরা বিবাহের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্যদেরকে বিচ্যুত করে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর নারী যেহেতু আনুগত্যশীল এবং অধীনস্থ, তাই তার ক্ষেত্রে এই বিপদগুলো বাস্তব, যার কারণে কাফেরদের সাথে সম্পূর্ণরূপে মুসলিম নারীর বিবাহ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। আর স্বামী মুসলমান আর স্ত্রী কিতাবি, সেখানে এই সমস্যাগুলো এতটা প্রবল নয়। যার কারণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও এই মৌলিক কারণটিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই যেখানে এ ধরনের বিপদ নিশ্চিত বিদ্যমান থাকে, সেখানে কিতাবি নারীকে বিবাহ করাও নিষিদ্ধ হবে।
আল্লামা কাসানি রহিমাহুল্লাহ বলেন,
ولأن في إنكاح المؤمنة الكافر خوف وقوع المؤمنة في الكفر؛ لأن الزوج يدعوها إلى دينه، والنساء في العادات يتبعن الرجال فيما يؤثرون من الأفعال ويقلدونهم في الدين إليه وقعت الإشارة في آخر الآية بقوله - عز وجل : {أولئك يدعون إلى النار : لأنهم يدعون المؤمنات إلى الكفر، والدعاء إلى الكفر دعاء إلى النار؛ لأن الكفر يوجب النار، فكان نكاح الكافر المسلمة سببا داعيا إلى الحرام فكان حراما. (بدائع الصنائع ١٧٢/٢، كتاب النكاح، فصل إسلام الرجل إذا كانت المرأة مسلمة، ط. دار الكتب العلمية)
কাফেরের সাথে মুমিন নারীর বিবাহের মাধ্যমে নারীর কুফরে পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্বামী তাকে স্বীয় ধর্মের দিকে ডাকবে, আর স্ত্রীগণ সাধারণত স্বামীরা যেসব কাজে প্রভাব ফেলে সেসব ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করে এবং দ্বীনধর্মের ক্ষেত্রে তাদের অন্ধ অনুকরণ করে থাকে। এদিকেই আয়াতের শেষাংশে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তারা তো আগুনের দিকে আহ্বান করে। কারণ কাফের পুরুষরা মুমিন নারীদেরকে কুফরের দিকে আহ্বান করে। আর কুফর হলো জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। সুতরাং কাফেরের সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ হারামের দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং বিবাহও হারাম হবে। (৬২)
আল্লামা ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ আরেকটি বিপদের দিকেও ইঙ্গিত করেছিলেন,
ولأنه ربما مال إليها قلبه ففتنته، وربما كان بينهما ولد فيميل إليها. (المغني ٩٢١/٧، مسألة حرائر نساء أهل الكتاب وذبائحهم)
কারণ কখনো স্বামীর মন স্ত্রীর দিকে ঝুঁকে পড়লে স্বামী তার দ্বারা ফিতনার শিকার হবে। আবার এমনও হতে পারে যে, তাদের কোনো সন্তানের মায়ায় স্ত্রীর দিকে ঝুঁকে পড়বে। (৬৩)

টিকাঃ
৬১. আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৭/১২৯
৬২. বাদায়েউস সানায়ে, ২/১৭১
৬৩. আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৭/১৩০

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 অমুসলিমের জবাই করা প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিধান

📄 অমুসলিমের জবাই করা প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিধান


জবাই হালাল হওয়ার জন্য জবাইকারী কোনো আসমানি ধর্মে বিশ্বাসী হওয়া আবশ্যক। তাই আহলে কিতাব ব্যতীত সবধরনের কাফের, মুরতাদ, কাদিয়ানি ইত্যাদির জবাই করা পশুর গোশত সর্বাবস্থায় হারাম। আর আহলে কিতাব ইহুদি-খ্রিষ্টানের জবাই মূলতভাবে হালাল। তবে শর্ত হলো, তারা বাস্তবেই ইহুদি বা খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসী হতে হবে এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে জবাই করতে হবে।
তাই কেউ যদি কেবল জাতীয়তা বা আদমশুমারিতে খ্রিষ্টান বা ইহুদি গণ্য হয়, আর আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, নবীগণ ও আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি তাদের কিতাবমতে বিশ্বাস না রাখে, তাহলে সে মুলহিদ বলে বিবেচিত হবে; তার জবাই করা পশু হারাম। এমনইভাবে প্রকৃত কোনো আহলে কিতাব যদি স্বীয় ধর্ম অনুযায়ী জবাই না করে তাও হারাম।
বিদগ্ধ মহলের অভিজ্ঞতা হলো, বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলোতে বসবাসরত মানুষ সাধারণত শুধু নামেই খ্রিষ্টান বা ইহুদি, তারা সর্বশক্তিমান আল্লাহর অস্তিত্ব এবং আল্লাহর উলুহিয়াতে বিশ্বাস করে না। পুনরুত্থান ও পরকালে বিশ্বাস করে না, তাই এই ধরনের লোকদের জবাই করা পশু এবং তাদের দেশগুলোর গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।(৬৪) তবে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা যায় যে, খ্রিষ্টান বা ইহুদিধর্মের প্রকৃত বিশ্বাসীরাই সেখানে জবাই করে এবং জবাই করার সময় তাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি যত্নবান থাকে, তাহলে খাওয়া যেতে পারে।
ইমাম সারাখসি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৮৩ হি.) 'মাবসুত' কিতাবে লেখেন,
ولا بأس بصيد اليهودي والنصراني وذبيحتهما لقوله تعالى { وطعام الذين أوتوا الكتاب حل لكم } والمراد الذبائح، إذ لو حمل على ما هو سواها من الأطعمة لم يكن لتخصيص أهل الكتاب بالذكر معنى، ولأنهم يدعون التوحيد فيتحقق منهم التسمية قصدا، ولو علم المسلم أنه سمى المسيح لم يحل له أكله. (المبسوط، كتاب الصيد، صيد اليهودي والنصراني وذبيحتهما)
(এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের শিকার ও তাদের গোশত খেতে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, এবং আহলে কিতাবের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল।) তাদের খাদ্য দ্বারা উদ্দেশ্য তাদের জবাই করা প্রাণী। কারণ যদি এর দ্বারা পশু ছাড়া অন্যান্য খাবারই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, তাহলে আহলে কিতাবকে উল্লেখ করার বিশিষ্টতা বাকি থাকে না। আহলে কিতাবের জবাই বৈধ হওয়ার কারণ হলো তারা তাওহিদের দাবিদার, যার মাধ্যমে তাদের থেকে আল্লাহর নাম নেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। তবে কোনো মুসলমান যদি জানতে পারে যে, মাসিহের নামে জবাই করা হয়েছে, তাহলে তা বৈধ নয়। (৬৫)
'মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি'-তে রয়েছে,
“إن المقصود بأهل الكتاب هم اليهود والنصارى الذين يؤمنون بأصول دينهم وإن كانوا كفارا بدين الإسلام لادعائهم عقيدة التثليث، وتكفير من يدعي الحل، أما الذين لا يؤمنون بالله ولا بنبي ولا بكتاب منزل كالدهرية فهم ليسوا بأهل الكتاب ولا يطبق عليهم أحكامهم ولو كانوا مدرجين ضمن تعداد أهل الكتاب.
إن النصارى في الوقت الحاضر قد انسلخوا عن التقيد بالقيود الدينية في أمر الذبح فلم يعودوا يلتزمون بقيود دينهم فيه فلا تكون ذبائحهم حلالا، إلا إذا علم في لحم معين أنه ذبح على يد نصراني ملتزم بالطريقة الشرعية في الذبح فتكون حلالا، وبناء عليه فلا يجوز أكل اللحوم المبيعة في أسواقهم التي لا يعرف ذابحها".
"আহলে কিতাব বলতে সেই ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বোঝানো হয়েছে যারা তাদের মৌলিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী, যদিও তারা ত্রিত্ববাদ, কাফফারা ইত্যাদি ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করে। তবে যারা আল্লাহ, কোনো নবী এবং আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করে না, তারা বস্তুবাদী। কিতাবধারীদের উপর আহলে কিতাবের বিধান প্রযোজ্য হবে না, যদিও তারা খ্রিস্টান বা ইহুদি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়।"
বর্তমানে খ্রিস্টানরা পশু জবাই করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তারা তাদের ধর্মীয় বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কা করে না। তাই তাদের জবাই করা পশু হালাল নয়, তবে যদি কোনো বিশেষ মাংস সম্পর্কে জানা যায় যে এটি কোনো প্রকৃত খ্রিস্টান দ্বারা বৈধ পদ্ধতিতে জবাই করা হয়েছে, তবে তা হালাল। সুতরাং তাদের বাজারে বিক্রি হওয়া মাংস, যেগুলোর জবাইকারী সম্পর্কে জানা যায় না, সেগুলো হালাল নয়। (৬৬)

টিকাঃ
৬৪. এই কথা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ২০১৬ সালের বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনই যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, 'ইংল্যান্ডে খ্রিষ্টানদের ছাড়িয়ে নাস্তিকরাই এখন সংখ্যাগুরু'। প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে দিচ্ছি-
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে নাস্তিকরাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ, সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে খ্রিষ্টানরা। সর্বশেষ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। ২০১৪ সালের 'ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিচিউড' জরিপের তথ্য অনুযায়ী ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এখন নাস্তিক বা কোনো ধর্মের অনুসারী নন এমন মানুষ ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১১ সালের জরিপে এই সংখ্যা ছিল ২৫ শতাংশ। তখনও পর্যন্ত খ্রিষ্টানরাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ।... সেন্ট মেরি'স ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির স্টিফেন বুলিভান্ট বলেন, ব্রিটেনে জনসংখ্যার অনুপাতে কোনো ধর্মের অনুসারী নন এমন মানুষের সংখ্যা স্পষ্টতই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, যারা জরিপে কোনো ধর্মের অনুসারী নন বলে নিজেদের চিহ্নিত করছেন, তাদের অনেকেই কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী হিসাবেই বেড়ে উঠেছেন। (আব্দুল্লাহ)
প্রতিবেদেন লিংক: https://www.bbc.com/bengali/news/2016/05/160524_atheists_outnumber_christians_in_england_and_wales
৬৫. আল-মাবসুত, সারাখসি, ১১/২৪৬
৬৬. মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি, ভলিউম ২, পৃ. ১৯৭৩১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00