📄 ঘৃণা কাফেরের প্রতি, না কুফরের প্রতি
কাফেরদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখার যে বিধান এখানে বলা হয়েছে, এর ওপর একটি আপত্তি এই উত্থাপিত হয়, 'ঘৃণা ও বিদ্বেষ কাফেরের প্রতি নয়, বরং কুফরের প্রতি। কারণ কাফেররাও তো মানুষ। মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণা না রাখাই উচিত। ঘৃণা তো হবে তার কর্মের প্রতি।'
এই আপত্তিটি কখনো বিভিন্ন ধর্মীয় ঢঙে উল্লেখ করা হয়, আবার কখনো এমন নিষ্পাপ ভঙ্গিতে উল্লেখ করা হয় যে, সাধারণ মুসলমান ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো না জানা থাকার কারণে এতে বেশ পেরেশান হয় এবং ধোঁকায়ও পতিত হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো, এই আপত্তিটির কয়েকটি দিক হতে পারে—
ক. ওপরের কথা দ্বারা যদি উদ্দেশ্য এটা হয় যে, কোনো মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের মূল ভিত্তি কারও ব্যক্তিত্ব বা সত্তা নয়, বরং ব্যক্তির ঘৃণিত ও নিন্দিত চিন্তা ও কর্মই হলো তাকে ঘৃণা করার মূল ভিত্তি, যেগুলো সে স্বেচ্ছায় করেছে। এই হিসাবে উপরিউক্ত কথাটি ভুল নয়। বরং ইসলামের মূলনীতির সাথেও এটা সামঞ্জস্যশীল। কেননা ইসলাম সকল মানুষকেই 'আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি' হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং তার প্রচার ও প্রসার করে। জাতপাতের কোনো ধারণা ইসলামে নেই। ইসলাম কোনো বংশ বা দলকে সম্মান ও অসম্মানের মাপকাঠি নির্ধারণ করেনি। কুফর ও জুলুমের মতো ঘৃণিত অপরাধ করে কোনো ব্যক্তি নিজের অযোগ্যতার পরিচয় দিলে তার এই পদক্ষেপ নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য হবে, কিন্তু যখনই সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে সংশোধন করে নেবে, তখনই সে পূর্বের ইজ্জত ও সম্মান ফিরে পাবে। কিন্তু কোনো কাফেরের ব্যক্তিত্বকেই যদি ঘৃণার মাপকাঠি বানিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সে ইসলাম কবুল করার পরও ঘৃণিতই থেকে যেত, কিন্তু বিষয়টা বাস্তবে তেমন নয়।
খ. আর এই বাহ্যত নিষ্পাপ স্লোগানের উদ্দেশ্য যদি এটা হয় যে, আমাদের ঘৃণা শুধু 'কুফর' গুণটির সাথে। কিন্তু এই গুণের ধারক কাফেরের সাথে আমাদের কোনো ঘৃণা নেই, বরং তার এই গুণকে ঘৃণা করে তাকে ভালোবাসাই উচিত, তাহলে এটা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল ও একটি অবাস্তব দাবি। এটা শুধু মানুষের কল্পনাতেই সম্ভব, বাস্তব জীবনে এটার প্রয়োগ অসম্ভব। কেননা 'ব্যক্তি' ও 'তার অর্জিত গুণ' এ দুটিকে পৃথক করার কোনো মাপকাঠি তৈরি কি আদৌ সম্ভব? এটার কল্পনাও কি কেউ করতে পারবে? কেননা ব্যক্তিই তো ঘৃণিত 'গুণটি' নিজের মাঝে ধারণ করে, সেই 'গুণের' কারণে শাস্তি ব্যক্তিকেই পেতে হয়, ব্যক্তির সে 'গুণ'-কে শাস্তি দেওয়া হয় না। এই দাবি ও চিন্তাও কি আদৌ সম্ভব, চুরিকে শাস্তি দেওয়া হোক, চোরকে নয়!
📄 কাফেরদেরকে সম্মান প্রদর্শন করার বিধান
ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রদর্শন করা। কারও প্রতি ভালোবাসা যখন হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে যায়, তখন তার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি বাড়তে থাকে, যে ভক্তি-শ্রদ্ধার উৎস হলো ভালোবাসা ও অগাধ আস্থা। পাশাপাশি ভক্তি- শ্রদ্ধার কারণে ভালোবাসায় আরও শক্তি সঞ্চারিত হয়। আর এক-দুজনের মাঝে এ জাতীয় শ্রদ্ধা-ভক্তির সম্পর্ক দেখে অন্য মুসলমানরাও কাফেরদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে কাফেরকে সম্মান প্রদর্শন করাও মৌলিকভাবে নাজায়েজ।
আল্লামা ইবনে নুজাইম রহিমাহুল্লাহ লিখেছেন,
ولا يبدأ الذي بسلام إلا لحاجة ولا يزاد في الجواب على وعليك، وتكره مصافحته، ويحرم تعظيمه.(الأشباه والنظائر ص ٠٨٢، الفن الثالث، أحكام الذمي)
জিম্মিকে (৪৫) আগে সালাম দেবে না এবং সে সালাম দিলে উত্তরের ক্ষেত্রে শুধু ‘ওয়া আলাইকা’ (অর্থাৎ, তোমার প্রতিও অনুরূপ) এতটুকুর বেশি বলবে না। তবে জরুরত হলে আগে সালাম দিতে পারবে। তার সাথে মুসাফাহা করা মাকরুহ। আর তাকে শ্রদ্ধা জানানো হারাম।(৪৬)
আল্লামা হামাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১০৯৮ হি.) 'কাফেরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হারাম'-এর টীকায় উল্লেখ করেছেন,
قوله : ويحرم تعظيمه قال في الذخيرة : ولو قام المسلم له إن كان تعظيما له أو لغنائه كره، وإن كان لطمعه في الإسلام فلا بأس به، وجزم الطرسوسي بأنه إن قام تعظيما لذاته وما هو عليه كفر (انتهى) . ولا بأس هنا في كلامه للإباحة لا لما تركه أولى. (غمز عيون البصائر في شرح الأشباه والنظائر ١٠٤/٣، باب أحكام الذمي)
কোনো মুসলমানের জন্য কাফেরের প্রতি শ্রদ্ধাবশতঃ বা তার সম্পদের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে দাঁড়ানো মাকরুহ। তবে যদি কাফেরের ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হয়ে দাঁড়ায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই। তারসুসি রহিমাহুল্লাহ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, যদি কাফেরের ব্যক্তিগত কুফরি অবস্থানের কারণে দাঁড়ায়, তবে সে কাফের হয়ে যাবে। আর 'তবে যদি কাফেরের ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হয়ে দাঁড়ায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই' কথা দ্বারা দাঁড়ানো সাধারণভাবেই বৈধ এটা বোঝানো হয়েছে। 'না দাঁড়ানো উত্তম' এই অর্থে নয়।(৪৭)
বলাবাহুল্য, ইসলামের দাওয়াত প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্মান প্রদর্শন বৈধ, এটা সৌজন্য (মুদারত) প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে।
টিকাঃ
৪৫. ইসলামি ভূখণ্ডের স্বাভাবিক আইনকানুন মেনে নিয়ে ও জিজিয়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে যে কাফের দারুল ইসলামে বাস করে। (আব্দুল্লাহ)
৪৬. আল-আশবাহ ওয়ান-নাজায়ের, ইবনে নুজাইম, ২৮০
৪৭. গামযু উয়ুনিল বাসায়ের শারহুল আশবাহ ওয়ান-নাজায়ের, ৩/৪০১
📄 কাফেরের শুভাকাঙ্ক্ষী করা
শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রকাশের একটি পদ্ধতি হলো প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা। সুতরাং পূর্বে শ্রদ্ধা করার ক্ষেত্রে যে ধরনের বিধান বলা হয়েছে, প্রশংসার ক্ষেত্রেও সে বিধান প্রয়োগ হবে। অর্থাৎ কেউ যদি অন্তরঙ্গতা বা শ্রোতাদের অন্তরে কোনো শরয়ি কারণ ছাড়া কাফেরের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জাগানোর জন্য কাফেরের গুণকীর্তন করে, তবে তাও নাজায়েজ। ইমাম আবু দাউদ রহিমাহুল্লাহ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন,
حدثنا عبيد الله بن عمر بن ميسرة، حدثنا معاذ بن هشام، حدثني أبي، عن قتادة، عن عبد الله بن بريدة عن أبيه، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا تقولوا للمنافق : سيد، فإنه إن يك سيدا، فقد أسخطتم ربكم عز وجل (سنن أبي داود برقم : ٧٧٩٤ ، كتاب الآداب، باب لا يقول المملوك : ربي وربتي، ت شعيب الأرنؤوط)
তোমরা কোনো মুনাফিককে সাইয়েদ (নেতা) বলো না। কারণ মুনাফিককে সাইয়েদ বলা আল্লাহ তাআলার ক্রোধের কারণ। (৪৮)
মুনাফিককে নেতা বলা আল্লাহর গোসসার কারণ কেন হয়? এর একটি বড় কারণ হলো 'সাইয়েদ বা নেতা' অত্যন্ত সম্মানসূচক শব্দ আর মুনাফিক তার নেফাক ও কপটতার কারণে এমন সম্মানের অযোগ্য। আল্লামা মুযহিরি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৭২৮ হি.) উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন,
(فقد أسخطتم ربكم)؛ أي : أغضبتم ربكم؛ لأنكم قد عظمتم كافرا، وتعظيم الكافر يخالف رضا الله وأمره. (المفاتيح في شرح المصابيح ٧٥١/٥، کتاب الآداب، باب الأسامي)
'তোমরা তোমাদের রবকে অসন্তুষ্ট করেছ'-এর মর্ম হলো, তোমরা কাফেরদের সম্মান করে তোমাদের প্রতিপালককে রাগান্বিত করেছ। আর কাফেরের সম্মান আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে সাংঘর্ষিক। (৪৯)
অর্থাৎ মুনাফিক যেহেতু আল্লাহর আইনে সম্মানের পাত্র নয়, তাই তাকে নেতা ডেকে শ্রদ্ধা করাই আল্লাহ তাআলার ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণ। সুতরাং যে মুনাফিক তার কুফরি লুকিয়ে রেখে চলে, তাকে সম্মান করা যদি এমন ভয়াবহ হয়, তাহলে প্রকাশ্যে কুফরের মহড়ায় লিপ্ত কাফেরদের সম্মান করা তো আরও আগে বেড়েই নিষিদ্ধ হবে।
এখানে নিষিদ্ধতার মৌলিক কারণ হলো কাফেরের প্রশংসা-স্তুতি। তা কেবল 'সাইয়েদ' শব্দের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সম্মানসূচক ও স্তুতিজ্ঞাপক সবধরনের শব্দ-বাক্যের ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে দ্বীনি কোনো স্বার্থে বিশেষ প্রয়োজনে তা বৈধ। যার বিবরণ মুদারাত প্রসঙ্গে আলোচনা করা হবে।
ইমাম বাইহাকি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৫৮ হি.) 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে এ সম্পর্কিত আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন,
عن أنس قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلّم : إذا مدح الفاسق غضب الرب واهتز له العرش. (شعب الإيمان ٩٠٥/٦ ، باب حفظ اللسان، ط مكتبة الرشد)
আনাস রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পাপিষ্ঠের প্রশংসায় মহান আল্লাহ রাগান্বিত হন। এমনকি তাঁর আরশও কেঁপে ওঠে।(৫০)
আর কাফের যেহেতু সর্বনিকৃষ্ট পর্যায়ের পাপাচারে লিপ্ত থাকে, তাই সে তো বহু আগেই আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হওয়ার উপযুক্ত। আল্লামা তিবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু : ৭৪৩ হি.) উক্ত হাদিসে উল্লেখিত 'তাঁর আরশ কেঁপে ওঠে'-এর ব্যাখ্যায় বলেন,
قوله : ((اهتز له العرش)) اهتزاز العرش عبارة عن وقوع أمر عظيم وداهية دهياء؛ لأن فيه رضى بما فيه سخط الله وغضبه، بل يقرب أن يكون كفرا؛ لأنه يكاد أن يفضي إلى استحلال ما حرمه الله تعالى، وهذا هو الداء العضال لأكثر العلماء والشعراء، والقراء والمرائين في زماننا هذا. وإذا كان هذا حكم من مدح الفاسق، فكيف بمن مدح الظالم وركن إليه ركونا؟. (الكاشف عن حقائق السنن ১৩১৩/০১ বাব হিফজুল লিসান ওয়াল গীবাহ ওয়াশ শতম, ত মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল বায)
'আরশ কেঁপে ওঠা'-এর মাধ্যমে ঘোরতর ও ভয়াবহতার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কারণ পাপিষ্ঠের প্রশংসা করার অর্থ হলো আল্লাহর ক্রোধের বস্তুর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। বরং এমন কাজ কুফরের নিকটবর্তী হয়ে যায়। কেননা এতে একরকম ব্যক্তিকে আল্লাহর হারাম করা বস্তুকে হালাল জ্ঞান করার দিকে পরিচালিত করার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই ভয়ংকর ব্যাধিতেই আমাদের সময়ের অধিকাংশ আলেম, কবি, লেখক-সাহিত্যিক ও চাটুকাররা পতিত, যে ফাসেককে শুধু প্রশংসা করে তার হুকুমই যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির হুকুম কেমন হবে যে জালেমের প্রশংসা করে এবং তার দিকে ধাবিত হয়!(৫১)
যদি কোনো কাফেরের ষড়যন্ত্র ও অনিষ্ট থেকে নিজে বাঁচার জন্য বা অন্য মুসলমানদের বাঁচানোর জন্য প্রশংসা করা হয়, কিংবা ইসলাম গ্রহণের দাওয়াতের স্বার্থে কেউ কাফেরের প্রশংসা করে তাতে সমস্যা নেই। তবে শর্ত হলো প্রশংসায় বাস্তবতাবিবর্জিত অতি উচ্চ বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। বরং তার প্রশংসায় বাস্তবাশ্রিত কথাবার্তার ভেতরেই থাকতে হবে। কোনো কুফরি অথবা অবৈধ অভ্যাসের কারণে তার প্রশংসা করা যাবে না। কারণ কুফরি অথবা কুফরিকে আবশ্যক করে এমন বিষয়ের প্রশংসা করাকে ফকিহগণ কুফর আখ্যা দিয়েছেন। যার কারণে দ্বীনি স্বার্থে প্রশংসা করার ক্ষেত্রেও এই শর্তগুলোর প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি। বলাবাহুল্য, কাফের রাষ্ট্রগুলোর প্রশংসার ক্ষেত্রেও এসব বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। (৫২)
টিকাঃ
৪৮. সুনানে আবু দাউদ, ৪৯৭৭
৪৯. আল-মাফাতিহ ফি শরহিল মাসাবিহ, ৫/১৫৭
৫০. শুআবুল ঈমান, বাইহাকি, ৬/৫০৯ হাফেজ বুসিরি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৮৪০ হি.) বলেন,
قال أبو يعلى : هذا من حفظي، له شاهد من حديث بريدة بن الحصيب، رواه أبو داود والنسائي بإسناد صحيح، والحاكم وقال صحيح الإسناد. (إتحاف الخيرة المهرة بزوائد المسانيد العشرة ٤٨/٦، كتاب الآداب، باب ما جاء في مدح الصدق وذم الكذب والمدح)
এই হাদিসের শাওয়াহেদ রয়েছে যা সহিহ সনদে প্রমাণিত। ইতহাফুল খিয়ারাহ, ৬/৮৪ ইবনে হাজার আসকালানি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৮৫২ হি.) বলেন,
أخرجه أبو يعلى وبن أبي الدنيا في الصمت وفي سنده ضعف فتح الباري لابن حجر ٨٧٤/٠١، كتاب الآداب، باب ما يكره من التمادح)
হাদিসের সনদে দুর্বলতা রয়েছে। ফাতহুল বারি, ১০/৪৭৮ (আব্দুল্লাহ)
৫১. আল-কাশিফ আন হাকায়িকিস সুনান, ১০/৩১৩১
৫২. ওপরে উল্লেখিত ফিকহি বক্তব্যগুলো ও এর ব্যাখ্যার আলোকে কাফের শিক্ষক বা কোনো কাফেরের অধীনতার কারণে প্রশংসার বিধানটিও স্পষ্ট হয়ে যায়। যদি কোনো কাফেরের শিষ্যত্ব গ্রহণে বা অধীনতার ফলে দ্বীনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে ইচ্ছাকৃতভাবে তার শিষ্যত্ব বা অধীনতা গ্রহণ জায়েয হবে না। আর এমন আশঙ্কা যদি না থাকে তাহলেও তাদের প্রতি অন্তরে ভালোবাসা রাখা জায়েয নেই। বাকি রইল নিজের দ্বীনের ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে ও তাদের প্রতি মুহাব্বত না রেখে তাদের সম্মান বা গুণকীর্তন করা কি জায়েয হবে? এর বিধান হলো, সাধারণ অবস্থাতে তাদের সম্মান ও গুণকীর্তন করা থেকে বিরত থাকাই উচিত। তবে বাস্তবিকই যদি 'উপকার অর্জন', যেমন তার ইসলাম গ্রহণের আশা ও 'ক্ষতি থেকে বাঁচা', যেমন জানের হেফাজত, বা সার্টিফিকেট আটকে না দেওয়া ইত্যাদির প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন প্রয়োজন পরিমাণ মৌখিক সম্মান ও প্রশংসা করার সুযোগ রয়েছে। (মুফতি উবাইদুর রহমান)
📄 কাফের আত্মীয়ের দাফন-কাফনের বিধান
যদি কোনো মুসলমানের কাফের আত্মীয় মারা যায় এবং তার দাফন-কাফন করার মতো কেউ না থাকে, এমতাবস্থায় মুসলিম কাফের আত্মীয়ের কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে মুসলমানদের কাফন-দাফনের মতো হতে পারবে না। অর্থাৎ, তার শরীরে পানি ঢেলে স্বাভাবিকভাবে ধুবে, এরপর একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে মাটি খোদাই করে তাতে রেখে দেবে। মুসলমানদের কবরের মতো কবর করতে পারবে না। মোল্লা আলি কারي রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১০১৪ হি.) লেখেন,
و لومات كافر وله قريب مسلم، غسله كالثوب النجس، ولفه في خرقة، وألقاه في حفرة من غير مراعاة السنة في شيء من ذلك. فتح باب العناية ٠٤٤/١، كتاب الصلاة، باب في الجنائز)
যদি মুসলমানের কাফের আত্মীয় মারা যায় (আর অন্য কোনো কাফের আত্মীয় না থাকে) তাহলে মুসলিম সে আত্মীয়কে নাপাক কাপড় যেভাবে পানি ঢেলে ধৌত করা হয় সেভাবে ধুবে, অতঃপর তাকে একটি সাধারণ কাপড়ে পেঁচিয়ে মাটি খুড়ে রেখে দেবে। এবং এতে দাফনের কোনো সুন্নত পদ্ধতির অনুসরণ করা যাবে না। (৫৩)
টিকাঃ
৫৩. ফাতহু বাবিল ইনায়া, ১/৪৪০