📄 কাফেরদের প্রতি ভালোবাসার প্রকার ও বিধান
কাফেরদের সাথে আন্তরিক ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব রাখা হারাম। আর যদি এই ভালোবাসার ভিত্তি হয় তাদের ভ্রান্ত ধর্ম ও বিশ্বাসকে ভালো জ্ঞান করা, তবে তা স্পষ্ট কুফর। যদি তা ধর্মবিশ্বাসের কারণে না হয়, বরং পার্থিব কোনো কল্যাণ লাভ বা সৎ গুণগরিমার কারণে হয়, তাহলে সেটি কুফরি নয় বটে, তবে শরিয়তে তা নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ।
হজরত মাওলানা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ সাহেব রহিমাহুল্লাহ একটি প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন, মুসলমানদের জন্য কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব লালন করা এবং মুসলমানদের বাদ দিয়ে কাফেরদের সাথে মেলামেশার প্রতি মুহাব্বত রাখা নাজায়েজ ও হারাম। (৪০)
টিকাঃ
৪০. কিফায়াতুল মুফতি, ১৩/১৩৮
📄 কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা : একটি ভুল বোঝাবুঝি
একটি ধারণা অনেকের মাঝে কাজ করে, কাফেরের সাথে সম্পর্ক নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তার কুফরি বিশ্বাসকে সমর্থন করার সাথে শর্তযুক্ত। অর্থাৎ কেউ যদি কুফরি বিশ্বাসকে সমর্থন না করে, তাহলে কাফেরের সাথে বন্ধুত্ব করতে কোনো বাধা নেই। আসলে বিষয়টি এমন নয়। বরং স্বাভাবিকভাবেই কাফেরের সাথে বন্ধুত্ব রাখা অবৈধ। তবে এতটুকু প্রার্থক্য রয়েছে যে, তার কুফরি আকিদা-বিশ্বাসের কারণে মুহাব্বত রাখা কেবল অবৈধ বা গোনাহই নয়, বরং সুস্পষ্ট কুফর। আর পার্থিব বিষয়াদিতে বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া কাফেরদের সাথে মিত্রতা করা কুফরি নয় বটে, তবে তাও নিষিদ্ধ। আর কুফর ও কুফরির কারণ, অনুষঙ্গ ও উপসর্গ ইত্যাদির প্রতি মুহাব্বত নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয় হওয়া তো আকল, নৈতিক বিচারবোধ ও শরিয়তের দৃষ্টিতে একদমই স্পষ্ট। তাই সে সম্পর্ক নিয়ে বিস্তর ও জোরালো আলোচনার বিশেষ প্রয়োজন নেই। বাকি নিছক পার্থিব বিষয়ে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাখ্যা, অজুহাত অনুপ্রবেশ করার ছিদ্র ছিল, তাই এই সম্পর্ক নিয়ে জোরালো আলোচনার প্রয়োজন। আর কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহে ইসলামিতে এই অংশ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এর একটি বড় কারণ এটিও যে, যদিও ভালোবাসার উৎস ধর্মীয় কোনো বিষয় নাও হয়, বরং পার্থিব উদ্দেশ্যেই হয়, তবুও এই সম্পর্ক ও বন্ধুত্বই ক্রমান্বয়ে কুফর, কুফরের আচার-অনুষ্ঠান, কুফরি ধারণা-বিশ্বাস ও অভ্যাসের প্রতি ব্যক্তিকে কোমল ও নমনীয় বানিয়ে ফেলে। দেখা যায়, ব্যক্তি কার্যত কোনো কুফরি করার পদক্ষেপ না নিলেও কুফর ও তার পাপাচারের প্রতি ব্যক্তির ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অনুশোচনাবোধ একেবারেই দুর্বল হয়ে যায়। কারণ কোনো জিনিসের প্রতি ভালোবাসা একজন মানুষকে অন্ধ ও বধির করে ফেলে, যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
এ কারনেই ফকিহগণ কাফেরদের সাথে সম্পর্ক ও ভালোবাসার সকল দিককে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন, যদিও সে সম্পর্ক কুফরের প্রতি সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে না হয়।
ইমাম জাসসাস (মৃত্যু: ৩৭০ হি.) এ বিষয়ক বেশ কিছু আয়াত ও হাদিস একত্র করার পর বলেছেন,
فنهى بعد النهي عن مجالستهم وملاطفتهم عن النظر إلى أموالهم، وأحوالهم في الدنيا... فهذه الآي والآثار دالة على أنه ينبغي أن يعامل الكفار بالغلظة والجفوة دون الملاطفة والملاينة، ما لم تكن حال يخاف فيها على تلف نفسه أو تلف بعض أعضائه أو ضررا كبيرا يلحقه في نفسه، فإنه إذا خاف ذلك جاز له إظهار الملاطفة والموالاة من غير صحة اعتقاد.
কাফেরদের সাথে ওঠাবসা ও নমনীয় আচরণ করতে বারণ করার সাথে সাথে তাদের ধনসম্পদ ও দুনিয়াবি প্রাচুর্যের দিকে তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। এই আয়াতসমূহ ও হাদিসগুলো নির্দেশ করে যে, কাফেরদের সাথে কঠোরতা ও অবজ্ঞার আচরণ করা উচিত, কোমল ও নমনীয় হওয়া যাবে। না। তবে যদি তার জীবন ধ্বংস, বা কোনো অঙ্গহানি ঘটার আশঙ্কা থাকে, অথবা বাস্তবই কোনো বড়ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। এ জাতীয় আশঙ্কা থাকলে বাহ্যিকভাবে কাফেরের সাথে নম্রতা ও মিত্রতার আচরণ করা যাবে। তবে অন্তরের বিশ্বাস ঠিক থাকতে হবে।(৪১)
ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৬০৬ হি.) লিখেছেন,
والقسم الثالث : وهو كالمتوسط بين القسمين الأولين، هو أن موالاة الكفار بمعنى الركون إليهم والمعونة، والمظاهرة، والنصرة إما بسبب القرابة، أو بسبب المحبة مع اعتقاد أن دينه باطل فهذا لا يوجب الكفر إلا أنه منهي عنه، لأن الموالاة بهذا المعنى قد تجره إلى استحسان طريقته والرضا بدينه، وذلك يخرجه عن الإسلام فلا جرم هدد الله تعالى فيه فقال : ومن يفعل ذلك فليس من الله في شيء. (التفسير الكبير ٢٩١/٨، سورة آل عمران (۳) : آية (۸২)
তৃতীয় প্রকার: এটি প্রথম দুপ্রকারের মধ্যবর্তী একটি প্রকার। অর্থাৎ কাফেরদের সাথে মিত্রতার আরেকটি প্রকার হলো তাদের ধর্ম ভ্রান্ত এটা বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও কোনো নিকটাত্মীয় সম্পর্কের কারণে বা ভালোবাসা- মহব্বতের কারণে তাদের দিকে ঝুঁকে যাওয়া, সাহায্য করা এবং তাদের সমর্থন করা। এ প্রকারটি কুফরি না হলেও তা নিষিদ্ধ। এমন মিত্রতা ব্যক্তিকে কাফেরদের রীতিনীতি ও ধর্মের প্রতি অভিভূত ও দুর্বল করে তুলবে। যা তাকে (একসময়) ইসলামের সীমানা থেকে বের করে দেবে। তাই তো আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় কাজের প্রতি ভয় প্রদর্শন করে বলেছেন, যে এমন করবে আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।(৪২)
এই বক্তব্যে স্পষ্টই রয়েছে, কাফেরদের ধর্মের প্রতি কোনো মুহাব্বত না থাকলেও তাদের সাথে আন্তরিকতা রাখা জায়েয নেই।
আল্লামা আবুস সাউদ রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৯৮২ হি.) লেখেন,
{لَا يَتَّخِذِ المؤمنون الكافرين أَوْلِيَاء نُهوا عن موالاتهم لقرابة أو صداقة جاهلية ونحوهما من أسباب المصادقة والمعاشرة كما في قوله سبحانه {يَا أَيُّهَا الذينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوّى وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاء} وقوله تعالى {لَا تَتَّخِذُواْ اليهود والنصارى أَوْلِيَاء حتى لا يكون حبهم ولا بغضهم إلا لله تعالى أو عن الاستعانة بهم في الغزو وسائر الأمور الدينية.
'মুমিনরা যেন কাফেরদের বন্ধু না বানায়', এই আয়াতে কাফেরদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বা জাহেলি বন্ধুত্ব ইত্যাদি সামাজিক কোনো কারণে মিত্রতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।(৪৩)
পূর্বোক্ত বক্তব্য থেকে এখানে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেবল ধর্মীয় বিষয়াদির বিবেচনায় কাফেরদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও বন্ধুত্ব করা নিষিদ্ধ বিষয়টি এমন নয়, বরং আত্মীয়তা ও নিছক সোহর্দ-সম্প্রীতি ইত্যাদির ভিত্তিতেও তাদের সাথে মিত্রতা রাখা অবৈধ।
'তাফসিরে মাজহারি'-তে এসেছে,
نهوا عن موالاتهم بقرابة أو صداقة ونحو ذلك أو عن الاستعانة بهم في الغزو وسائر الأمور الدينية من دون المؤمنين فيه اشارة إلى أن ولايتهم لا يجتمع ولاية المؤمنين لأجل منافاة بين ولاية المتعادين، ففي ولاية الكفار قبح بالذات وقبح بالعرض بالحرمان عن ولاية المؤمنين.... (التفسير المظهري ٢٣/٢، مكتبة الرشيدية الباكستان)
কাফেরদের সাথে আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব ও অন্য কোনো কারণে মিত্রতা করা; যুদ্ধবিগ্রহ বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজে মুসলমানদের পরিবর্তে তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থী হওয়া নিষিদ্ধ। এ থেকে এও বোঝা যায়, কাফেরের সাথে মিত্রতা আর মুমিনদের সাথে মিত্রতা একত্র হয় না। কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব তো সত্তাগতভাবেই খারাপ, সাথে আরেকটি অনিষ্ট হলো এতে মুসলিমদের বন্ধুত্ব থেকে ব্যক্তি বঞ্চিত হয়।... (৪৪)
টিকাঃ
৪১. আহকামুল কুরআন, জাসসাস, ২/২৮৯
৪২. আত-তাফসিরুল কাবির, ৮/১৯২
৪৩. তাফসিরে আবিস সাউদ, ২/২৩
৪৪. তাফসিরে মাজহারি, ২/৩২
📄 ঘৃণা কাফেরের প্রতি, না কুফরের প্রতি
কাফেরদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখার যে বিধান এখানে বলা হয়েছে, এর ওপর একটি আপত্তি এই উত্থাপিত হয়, 'ঘৃণা ও বিদ্বেষ কাফেরের প্রতি নয়, বরং কুফরের প্রতি। কারণ কাফেররাও তো মানুষ। মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণা না রাখাই উচিত। ঘৃণা তো হবে তার কর্মের প্রতি।'
এই আপত্তিটি কখনো বিভিন্ন ধর্মীয় ঢঙে উল্লেখ করা হয়, আবার কখনো এমন নিষ্পাপ ভঙ্গিতে উল্লেখ করা হয় যে, সাধারণ মুসলমান ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো না জানা থাকার কারণে এতে বেশ পেরেশান হয় এবং ধোঁকায়ও পতিত হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো, এই আপত্তিটির কয়েকটি দিক হতে পারে—
ক. ওপরের কথা দ্বারা যদি উদ্দেশ্য এটা হয় যে, কোনো মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের মূল ভিত্তি কারও ব্যক্তিত্ব বা সত্তা নয়, বরং ব্যক্তির ঘৃণিত ও নিন্দিত চিন্তা ও কর্মই হলো তাকে ঘৃণা করার মূল ভিত্তি, যেগুলো সে স্বেচ্ছায় করেছে। এই হিসাবে উপরিউক্ত কথাটি ভুল নয়। বরং ইসলামের মূলনীতির সাথেও এটা সামঞ্জস্যশীল। কেননা ইসলাম সকল মানুষকেই 'আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি' হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং তার প্রচার ও প্রসার করে। জাতপাতের কোনো ধারণা ইসলামে নেই। ইসলাম কোনো বংশ বা দলকে সম্মান ও অসম্মানের মাপকাঠি নির্ধারণ করেনি। কুফর ও জুলুমের মতো ঘৃণিত অপরাধ করে কোনো ব্যক্তি নিজের অযোগ্যতার পরিচয় দিলে তার এই পদক্ষেপ নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য হবে, কিন্তু যখনই সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে সংশোধন করে নেবে, তখনই সে পূর্বের ইজ্জত ও সম্মান ফিরে পাবে। কিন্তু কোনো কাফেরের ব্যক্তিত্বকেই যদি ঘৃণার মাপকাঠি বানিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সে ইসলাম কবুল করার পরও ঘৃণিতই থেকে যেত, কিন্তু বিষয়টা বাস্তবে তেমন নয়।
খ. আর এই বাহ্যত নিষ্পাপ স্লোগানের উদ্দেশ্য যদি এটা হয় যে, আমাদের ঘৃণা শুধু 'কুফর' গুণটির সাথে। কিন্তু এই গুণের ধারক কাফেরের সাথে আমাদের কোনো ঘৃণা নেই, বরং তার এই গুণকে ঘৃণা করে তাকে ভালোবাসাই উচিত, তাহলে এটা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল ও একটি অবাস্তব দাবি। এটা শুধু মানুষের কল্পনাতেই সম্ভব, বাস্তব জীবনে এটার প্রয়োগ অসম্ভব। কেননা 'ব্যক্তি' ও 'তার অর্জিত গুণ' এ দুটিকে পৃথক করার কোনো মাপকাঠি তৈরি কি আদৌ সম্ভব? এটার কল্পনাও কি কেউ করতে পারবে? কেননা ব্যক্তিই তো ঘৃণিত 'গুণটি' নিজের মাঝে ধারণ করে, সেই 'গুণের' কারণে শাস্তি ব্যক্তিকেই পেতে হয়, ব্যক্তির সে 'গুণ'-কে শাস্তি দেওয়া হয় না। এই দাবি ও চিন্তাও কি আদৌ সম্ভব, চুরিকে শাস্তি দেওয়া হোক, চোরকে নয়!
📄 কাফেরদেরকে সম্মান প্রদর্শন করার বিধান
ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রদর্শন করা। কারও প্রতি ভালোবাসা যখন হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে যায়, তখন তার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি বাড়তে থাকে, যে ভক্তি-শ্রদ্ধার উৎস হলো ভালোবাসা ও অগাধ আস্থা। পাশাপাশি ভক্তি- শ্রদ্ধার কারণে ভালোবাসায় আরও শক্তি সঞ্চারিত হয়। আর এক-দুজনের মাঝে এ জাতীয় শ্রদ্ধা-ভক্তির সম্পর্ক দেখে অন্য মুসলমানরাও কাফেরদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে কাফেরকে সম্মান প্রদর্শন করাও মৌলিকভাবে নাজায়েজ।
আল্লামা ইবনে নুজাইম রহিমাহুল্লাহ লিখেছেন,
ولا يبدأ الذي بسلام إلا لحاجة ولا يزاد في الجواب على وعليك، وتكره مصافحته، ويحرم تعظيمه.(الأشباه والنظائر ص ٠٨٢، الفن الثالث، أحكام الذمي)
জিম্মিকে (৪৫) আগে সালাম দেবে না এবং সে সালাম দিলে উত্তরের ক্ষেত্রে শুধু ‘ওয়া আলাইকা’ (অর্থাৎ, তোমার প্রতিও অনুরূপ) এতটুকুর বেশি বলবে না। তবে জরুরত হলে আগে সালাম দিতে পারবে। তার সাথে মুসাফাহা করা মাকরুহ। আর তাকে শ্রদ্ধা জানানো হারাম।(৪৬)
আল্লামা হামাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ১০৯৮ হি.) 'কাফেরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হারাম'-এর টীকায় উল্লেখ করেছেন,
قوله : ويحرم تعظيمه قال في الذخيرة : ولو قام المسلم له إن كان تعظيما له أو لغنائه كره، وإن كان لطمعه في الإسلام فلا بأس به، وجزم الطرسوسي بأنه إن قام تعظيما لذاته وما هو عليه كفر (انتهى) . ولا بأس هنا في كلامه للإباحة لا لما تركه أولى. (غمز عيون البصائر في شرح الأشباه والنظائر ١٠٤/٣، باب أحكام الذمي)
কোনো মুসলমানের জন্য কাফেরের প্রতি শ্রদ্ধাবশতঃ বা তার সম্পদের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে দাঁড়ানো মাকরুহ। তবে যদি কাফেরের ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হয়ে দাঁড়ায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই। তারসুসি রহিমাহুল্লাহ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, যদি কাফেরের ব্যক্তিগত কুফরি অবস্থানের কারণে দাঁড়ায়, তবে সে কাফের হয়ে যাবে। আর 'তবে যদি কাফেরের ইসলাম গ্রহণের প্রতি আগ্রহী হয়ে দাঁড়ায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই' কথা দ্বারা দাঁড়ানো সাধারণভাবেই বৈধ এটা বোঝানো হয়েছে। 'না দাঁড়ানো উত্তম' এই অর্থে নয়।(৪৭)
বলাবাহুল্য, ইসলামের দাওয়াত প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্মান প্রদর্শন বৈধ, এটা সৌজন্য (মুদারত) প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে।
টিকাঃ
৪৫. ইসলামি ভূখণ্ডের স্বাভাবিক আইনকানুন মেনে নিয়ে ও জিজিয়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে যে কাফের দারুল ইসলামে বাস করে। (আব্দুল্লাহ)
৪৬. আল-আশবাহ ওয়ান-নাজায়ের, ইবনে নুজাইম, ২৮০
৪৭. গামযু উয়ুনিল বাসায়ের শারহুল আশবাহ ওয়ান-নাজায়ের, ৩/৪০১