📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 ইন্টারফেইথ ধর্মীয় ঐক্যের দর্শন

📄 ইন্টারফেইথ ধর্মীয় ঐক্যের দর্শন


কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দ্বারা সাব্যস্ত যে, ইসলামের সূর্য উদিত হওয়ার পর ইসলাম ভিন্ন কোনো ধর্ম ও মতাদর্শকে সত্য মনে করা এবং তার অনুসরণ করা সম্পূর্ণ ভ্রষ্টতা ও হারাম। তাছাড়া পরকালে মুক্তির জন্য নিছক আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা যথেষ্ট নয়, বরং মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর সর্বশেষ নবীরূপে বিশ্বাস করা এবং তাঁর আনীত ধর্মকে সত্যায়ন করা আবশ্যক। আর ইসলামের দাওয়াত পৌঁছার পর ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা তা গ্রহণ না করলে তারা কাফের, তাদের শেষ পরিণতি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। পূর্বের ধর্মমত যত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করুক না কেন, তার কোনো মূল্য নেই।
প্রথম ১৮ শতকে ইহুদি ষড়যন্ত্রে 'ধর্মীয় ঐক্যের' দর্শন সৃষ্টি হয়। যার মূল ইশতেহার ছিল, ইসলাম-ইহুদি-খ্রিষ্ট ইত্যাদি সকল ধর্মই সত্য ও অনুসরণযোগ্য। অতএব, নির্দিষ্ট কোনো ধর্মে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। সমগ্র মানবতার অধিকার আছে, তারা যে ধর্ম খুশি তা গ্রহণ করতে পারবে। কেউ যদি নিজের ধর্মকেই পরম সত্য ভাবে, তাহলে সে সাম্প্রদায়িক, সেকেলে, নির্দিষ্টি গণ্ডিবদ্ধ, সংকীর্ণমনা ইত্যাদি। মুসলিম সমাজে জামালুদ্দিন আফগানি (ও তার ছাত্র মুহাম্মাদ আবদুহু-অনুবাদক)-সহ কিছু ব্যক্তি প্রথম থেকেই এই দর্শন প্রচার-প্রসারে এবং বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার কাজে নিয়োজিত ছিল।
বাস্তব কথা হলো, সকল ধর্মের প্রতি ন্যায্যতা ও সমতার খোলসে ধর্মীয় ঐক্যের নামে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও চরম অজ্ঞতাপূর্ণ একটি দর্শন আবিষ্কৃত হয় তখন। আর ইহুদি জাতি, যারা এই দর্শনের জন্মদাতা এবং বিশ্ববাসীকে তা গিলানোর কাজে নিয়োজিত, কিছুতেই অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ন্যায় ও ইনসাফের জন্য তা তৈরি করেনি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঘৃণা, হিংসা, মন্দ চরিত্র চর্চায় মজে থাকা এই অভিশপ্ত জাতির কাছে এমন ভালো কিছু কীভাবে আশা করা যায়?! বরং এটা ছিল ইতিহাসের খাতায় লিপিবদ্ধ বেদনাবিধূর ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার জন্য নিকৃষ্ট ইহুদি জাতির আরেকটি নতুন কূটকৌশলমাত্র। এরাই হজরত ঈসা আ.কে আরশে উত্তোলনের পর তার আসমানি ধর্ম ও শিক্ষাদীক্ষাকে বিকৃত করে তা শেষ করে দেওয়ার জন্য সেন্ট পল নামক এক ব্যক্তিকে হজরত ঈসার 'শিষ্য' হিসাবে উপস্থাপন করে। এই পল তখন খ্রিষ্টধর্মের নাম ব্যবহার করে নতুন এক ধর্ম সৃষ্টি করে। সুযোগসন্ধানী এই ইহুদিজাতিই ইসলামের উত্থানের পর হজরত উসমান রা.-এর শাসনামলে আবদুল্লাহ ইবনে সাবার মুসলমান হওয়ার গল্প সাজায়। তাকে ব্যবহার করে ইসলামধর্মকে মিটিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করে। এই এক ফিতনার কারণে সেই সময় থেকে আজ অবধি লক্ষ লক্ষ মানুষ ইসলাম থেকে বঞ্চিত হয়ে কুফর ও গোমরাহির অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে দুনিয়া ত্যাগ করছে।
উপরিউক্ত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইসলামধর্মের আবির্ভাব এবং এর দাওয়াত পৌঁছার পরও অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদকে সত্য মনে করা কিংবা পরকালের মুক্তির জন্য ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মমত অনুসরণকে সঠিক মনে করা কুফর যা পরিহার করা ফরজ। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ড. বকর বিন আবদুল্লাহ আবু জায়েদ কর্তৃক রচিত 'আল-ইবতাল লি-নাজারিয়াতিল খালত বাইনা-দ্বীনিল ইসলাম ওয়া গাইরিহি' গ্রন্থটি। (২৮)

টিকাঃ
২৮. বাংলায় এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ১. 'ইসলাম ও পশ্চিমা সভ্যতা; দুটো জীবনব্যবস্থার সংঘাত' বইয়ের 'ইন্টারফেইথ রিলিজিয়ন: পুরান কুফর নতুন বোতলে' প্রবন্ধটি, প্রকাশনা: চেতনা প্রকাশন; ২. ইন্টারফেইথ, মুহিউদ্দিন মাযহারী, প্রকাশনা: দারুল ইলম

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 কাফেরদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা

📄 কাফেরদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা


প্রতিটি জাতি ও ধর্মের বিভিন্ন উৎসব ও বিচিত্র সংস্কৃতি রয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রত্যেকেই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ও সমাবেশের আয়োজন করে থাকে। এগুলোর কিছু তো এমন যা কেবল পার্থিব বিষয়াদিসংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে। আর বেশিরভাগই প্রত্যেকের স্ব স্ব ধর্মবিশ্বাসের শিকড় থেকে উৎসারিত হয়।
কাফেরদের যে-সকল উৎসব ধর্মীয় ভিত্তিতে পালিত হয়, কোনো মুসলমানের জন্য সেগুলোতে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়, বরং এটা মারাত্মক গোনাহের কাজ। কারণ ঈদ-উৎসব-অনুষ্ঠান ইত্যাদি প্রত্যেক ধর্মের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও প্রতীক হয়ে থাকে। আর মুসলমানের জন্য কাফেরদের প্রতীক, শ্লোগান ইত্যাদী ধারণ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। হাদিস শরিফে এসেছে,
من تشبه بقوم فهو منهم. (مصنف عبد الرزاق ٢٦٤/٠١ ، باب حلق القفا والزهد، ط التأصيل الثانية)
যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে। (২৯)
ইবনে মাসউদ রা. বলেন,
إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : من كثر سواد قوم، فهو منهم، ومن رضي عمل قوم كان شريك من عمل به. انتهى. [إتحاف الخيرة المهرة بزوائد المسانيد العشرة ٥٣١/٤ ، باب فيمن دعي إلى وليمة فجاء ليدخل فسمع لهوا فرجع. نصب الراية ٦٤٣/٤ ، كتاب الجنايات باب ما يوجب القصاص]
আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে কোনো সম্প্রদায়ের দল ভারী করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। যে কোনো সম্প্রদায়ের কাজে সন্তুষ্ট থাকবে, সে ওই কাজের অংশগ্রহণকারী গণ্য হবে। (৩০)
আর যদি নিছক বাহ্যিকভাবে তাদের সাথে মেলামেশা ও ওঠাবসা করা উদ্দেশ্য না হয়, বরং-
এক. অন্তর দিয়ে তাদেরকে ও তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে ভালো মনে করে।
দুই. ধারাবাহিক কোনো কুফরি-শিরকি কাজে লিপ্ত থাকে।
তিন. কুফরি আচার-অনুষ্ঠানকে জায়েজ ও বৈধ বলে জ্ঞান করে।
চার. কুফর ও কাফেরদের বিষয়ে প্রদত্ত শরিয়তের জোরালো ও সুনির্দিষ্ট বিধানকে মানবতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বিবেচনা করে।
তাহলে এসব শুধু গোনাহই নয়, বরং কুফর আবশ্যক করে। যার ফলে ব্যক্তির ঈমান ও ইসলাম কিছুই টিকে না। 'আল-বাহরুর রায়েক' প্রণেতা আল্লামা ইবনে নুজাইম মিসরি তো 'কুফরের কারণসমূহ'-এর আলোচনায় একথা পর্যন্ত লিখেছেন,
ويكفر بخروجه إلى نيروز المجوس والموافقة معهم فيما يفعلونه في ذلك اليوم وبشرائه يوم نيروز شيئا لم يكن يشتريه قبل ذلك تعظيما للنيروز لا للأكل والشرب وبإهدائه ذلك اليوم للمشركين ولو بيضة تعظيما لذلك اليوم. (البحر الرائق ٩٢١/٥، كتاب السير، باب أحكام المرتدين)
অগ্নিপূজকদের নাইরোজ (৩১) উৎসবে বের হওয়া, সেদিনের কাজকর্মে তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করা, পানাহারের উদ্দেশ্য ব্যতীত শুধুই নাইরোজকে সম্মান করার জন্য সেদিন কিছু ক্রয় করা যা অন্যদিন ক্রয় করা হয় না, এই দিনের মহত্ত্ব বজায় রাখার জন্য কোনোকিছু কাফেরদের উপহার দেওয়া, চাই তা একটি ডিমই হোক, এসব কাজের কারণে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়। (৩২)
'জামিয়ুল ফুসুলাইন'-এ (২/১৭৪) আছে,
اجتمع المجوس يوم النيروز فقال مسلم : خوب رسم نهاده اند، أو قال : نيك اثر نهاده، خيف عليه الكفر. (جامع الفصولين ٤٧١/٢، الفصل الثامن والثلاثون)
নাইরোজের দিনে অগ্নিপূজকদের জমায়েতকে যদি কোনো মুসলিম 'খুব ভালো অনুষ্ঠান এটি', অথবা 'এটি ভালো প্রভাব ফেলল' ইত্যাদি বলে, তাহলে তার কাফের হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। (৩৩)
'মাজমাউল আনহুর'-এ রয়েছে,
ويكفر بخروجه إلى نيروز المجوس والموافقة معهم فيما يفعلونه في ذلك اليوم وبشرائه يوم نيروز شيئا لم يكن يشتريه قبل ذلك تعظيما للنيروز لا للأكل والشرب وبإهدائه ذلك اليوم للمشركين ولو بيضة تعظيما لذلك اليوم ولا يكفر بإجابة دعوة مجوس وحلق رأس ولده.
ويكفر بوضع قلنسوة المجوس على رأسه على الصحيح إلا لتخليص الأسير أو لضرورة دفع الحر والبرد عند البعض وقيل إن قصد به التشبيه يكفر وكذا شد الزنار في وسطه. (مجمع الأنهر ٨٥٦/١، كتاب السير باب المرتد، ألفاظ الكفر أنواع)
অগ্নিপূজকদের সাথে নাইরোজের উৎসবে বের হওয়া, এবং সেদিনের কার্যকর্মে তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ, পানাহারের উদ্দেশ্য ব্যতীত, নাইরোজকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে সেদিন কিছু ক্রয় করা। এ ছাড়াও এই দিনের মহত্ত্ব বজায় রাখার জন্য কাফেরদের কিছু উপহার দেওয়া, চাই তা একটি ডিমই হোক। এসব কাজের কারণে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়। তবে কোনো অগ্নিপূজকের দাওয়াত গ্রহণ করলে বা তার সন্তানের মাথা মুণ্ডালে কাফের হয় না। সঠিক মত অনুসারে অগ্নিপূজকের টুপি পরলে কাফের হয়ে যায়, তবে যদি বন্দিমুক্তির উদ্দেশ্যে বা ঠান্ডা-গরম থেকে বাঁচার প্রয়োজনে পড়ে, তবে ভিন্ন কথা। একদল আলেম বলেছেন, তবে যে কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করার জন্য টুপি পড়ে থাকে, সে কাফের হয়ে যাবে। একই নিয়ম কোমরে বেল্ট পরার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। (৩৪)
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তার বিখ্যাত ‘ইকতিজাউস সিরাতিল মুসতাকিম’ গ্রন্থে এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। কাফেরদের সাথে আচার-আচরণে এ জাতীয় যে ভুলভ্রান্তি হয় তা নিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ পেশ করেছেন। তিনি সেখানে অনেক মাসআলা সম্পর্কে বিস্তর কথা বলেছেন। আহলে ইলমদের অবশ্যই তা অধ্যয়নে রাখা উচিত। (৩৫)

টিকাঃ
২৯. মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, ১০/৪৬২
৩০. মুসনাদে আবু ইয়ালার সূত্রে ইমাম বুসিরি ও যাইলায়ি রহিমাহুল্লাহ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। দেখুন, ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারাহ, ৪/১৩৫ ও নসবুর রয়াহ, ৪/৩৪৬
৩১. আরবিতে 'নাইরোজ' শব্দটির মূল হলো ফারসি 'নওরোজ'। অর্থাৎ, নববর্ষ। পারস্যের পাশাপাশি মিশরের লোকেরাও এই দিবস পালন করত। হাফেজ যাহাবি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭৪৮ হি.) লেখেন, فأما النيروز، فإن أهل مصر يبالغون في عمله، ويحتفلون به، وهو أول يوم من سنة القبط، ويتخذون ذالك اليوم عيدا...، وهو أول فصل الخريف. নওরোজ হলো কিবতি বর্ষের প্রথম দিন। এই দিন মিশরীয়রা বাড়াবাড়ি রকমের আমল করে। সবাই উৎসবের জন্য সমবেত হয়। এটি কিবতিদের বাৎসরিক প্রথম দিবস। এই দিবসটিকে তারা ঈদ বা উৎসবের দিন হিসাবে গ্রহণ করে। বসন্তের প্রথম দিনকে বলা হয় নওরোজ। তাশাব্বুহুল খাসিস বি-আহলিল খামিস ফি রদ্দিত তাশাব্বুহি বিল মুশরিকিন, পৃ. ৪৯ (আব্দুল্লাহ)
৩২. আল-বাহরুর রায়েক, ৫/১৩৩
৩৩. জামিউল ফুসুলাইন, ২/১৮৪
৩৪. মাজমাউল আনহুর, ১/৬৯৮
৩৫. অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বর্তমানে একটি মহামারি রূপ ধারণ করেছে। তার থেকে আরও ভয়ঙ্কর যে বিষয়টি মুসলিমদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তা হলো, কিছু 'আলেমে সু'-এর বিভ্রান্তি! তারা প্রচার করছে কাফেরদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো বা সামাজিক প্রথা হিসাবে এ সকল দিনে হাদিয়া আদান-প্রদান নাজায়েয বা হারাম নয়, বরং উত্তম কাজ! আল্লাহ এ সকল আলেমের ভ্রান্তি থেকে উম্মতকে হেফাজত করুক। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় বিস্তারিত একটি প্রবন্ধ বইয়ের শেষে যুক্ত করা হয়েছে। দেখুন, পরিশিষ্ট এক, পৃ. ১৫৯। (আব্দুল্লাহ)

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 ক্রিসমাসে (বড়দিনে) অংশগ্রহণ

📄 ক্রিসমাসে (বড়দিনে) অংশগ্রহণ


বর্তমানে যাদের খ্রিষ্টান বলা হয় তারা ক্রিসমাসের নামে ২৫ ডিসেম্বরে যিশুর জন্মদিবস পালন করে। যা তাদের একটি ধর্মীয় উৎসব। তাদের এ দাবি ঐতিহাসিক, যৌক্তিক ও ধর্মীয় দিক থেকে কতটুকু সঠিক সেটা ভিন্ন বিষয়। যার উদঘাটনে আলেমগণ অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও যেহেতু এটা তাদের ধর্মীয় উৎসব, তাই এতে যোগদান করা, আনন্দ প্রকাশ করা, মুবারকবাদ দেওয়া, অথবা এর নামে চলমান কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা এবং তাদের সাথে কেক কাটা—এ সবই শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ এবং গুরুতর অপরাধ। এসবে পূর্ণ সতর্ক না থাকলে ব্যক্তির কাফের হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কাও রয়েছে। শহিদ আল্লামা ইবনুন নাহহাস দিমাশকি (মৃত্যু: ৮১৪ হি.) অত্যন্ত দুঃখের সাথে লিখেছেন,
واعلم أن أقبح البدع وأشنعها موافقة المسلمين للنصارى في أعيادهم بالتشبه بهم في مأكلهم وأفعالهم والهدية إليهم وقبول ما يهدونه من مأكلهم في أعيادهم. وقد عانى هذه البدعة أهل بلاد مصر، وفي ذلك من الوهن في الدين وتكثير سواد النصارى والتشبه بهم ما لا يخفى.
সবচেয়ে খারাপ এবং নিকৃষ্ট বিদআত হলো, মুসলমানদের পক্ষ থেকে খ্রিস্টানদের ঈদ-উৎসবের সময় তাদের সামঞ্জস্য গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ঈদ উৎসবের সাথে একাত্মতা পোষণ করা। যেমন, তাদের মত খাবার খাওয়া, কাজকর্ম করা, তাদের কাছে উপঢৌকন পাঠানো এবং তারা যে খাবার উপহার পাঠায় তা গ্রহণ করা ইত্যাদি। মিশরের জনগণ এই মারাত্মক বিদআতে নিমজ্জিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর মাধ্যমে ইসলামধর্মকে দুর্বল হিসাবে প্রদর্শন করা, খ্রিষ্টানদের দল ভারী করা এবং তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা, এই তিনটি গুরুতর অপরাধ বিদ্যমান। (৩৬)
পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দখলদারি ও আধিপত্যের কারণে মুসলমানদের জন্য একটি বড় ট্র্যাজেডি হলো, মুসলিম দেশ ও মুসলিম সমাজেও বড়দিনের নামে বিভিন্ন সমাবেশ ও উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে অংশগ্রহণকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই মুসলমান! বড় পরিতাপের বিষয় হলো একেই সহনশীলতা ও উদারতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। দুঃখজনক হলো, পত্রিকার রিপোর্টে দেখা গেছে, সম্প্রতি দেশের অনেক কর্ণধার বড়দিনের এই উদযাপনে অত্যন্ত গর্বভরে অংশ নিয়েছে। তার থেকেও বিপজ্জনক বিষয় হলো, যারা এ মারাত্মক অন্যায় থেকে বারণ করেন, তাদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি, নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেওয়া হয়। যা কখনো বেশ কয়েকটি ধর্মীয় অকাট্য বিধানের পরিপন্থী হয় এবং ধর্মকে অপমান, উপহাস ও অবমাননার দিকে নিয়ে যায়, যার কারণে ব্যক্তি কাফেরে পর্যবসিত হয়।

টিকাঃ
৩৬. তামবিহুল গাফেলিন আন আমালিল জাহেলিন, ইবনুন নাহহাস, ৫০০

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 কাফেরকে ভাই বলার বিধান

📄 কাফেরকে ভাই বলার বিধান


যদি কোনো কাফের বংশ ও আত্মীয়তার দিক থেকে ভাই হয়, তাহলে তাকে এই অর্থে ভাই বলতে কোনো সমস্যা নেই। একইভাবে, মানবজাতির অংশ হওয়ার কারণে বা একই জাতি ও স্বদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে কাউকে ভাই বলা যেতে পারে। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এই দিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আল্লামা আইনি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৮৫৫ হি.) বলেন,
قوله : (المسلم أخو المسلم)، يعني أخوه في الإسلام، وكل شيئين يكون بينهما اتفاق تطلق عليهما اسم الأخوة. (عمدة القاري كتاب في اللقطة، باب لا يظلم المسلم المسلم ولا يسلمه)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী, 'মুসলমান মুসলমানের ভাই', এই হাদিসের মর্ম হলো ইসলামে তারা পরস্পর ভাই। প্রত্যেক ওই বস্তু যা পরস্পরের মাঝে ঐক্য হয় তাতে ভ্রাতৃত্বের প্রয়োগ করা যাবে। (৩৭)
তবে ইসলামের শিক্ষা হলো, ভাতৃত্ব বন্ধনের মূলভিত্তি ধর্মের ওপরই হওয়া কাম্য। সুরা হুজুরাতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ. মুমিনরা পরস্পর ভাই। সুতরাং আপনি তাদের মাঝে সংশোধন করে দিন। (৩৮)
রাসুলের অনেক হাদিসেও এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এটাই এমন আদর্শ ভ্রাতৃত্ব যাতে পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব বাধ সাধতে পারে না; পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই একজন মুসলমান বাস করুক, সে সকল মুসলমানেরই ভাই। পৃথিবীতে বসবাসকারী সকল মুসলমান ভাই ভাই; চাই রং, জাতি, চেহারা এবং ভাষা যতই আলাদা হোক না কেন। অতএব আত্মিক সম্পর্ক, অন্তরের মুহাব্বত ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে কোনো কাফের মুসলমানের ভাই হতে পারে না। আর যেহেতু এই ধরনের সম্পর্ক কাফেরদের সাথে রাখা জায়েয নেই, তাই এগুলোর ভিত্তিতে কাউকে ভাই ডাকাও শরিয়তে নিষিদ্ধ। (৩৯)

টিকাঃ
৩৭. উমদাতুল কারি, ১২/২৮৯
৩৮. সুরা হুজুরাত: ১০
৩৯. এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, মাকতুবাতে শাইখুল ইসলাম হজরত মাদানি এবং ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম যাকারিয়া, ৮/২১২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00