📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বর্ণনা ও ফুকাহায়ে কেরামের অভিমত

📄 সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বর্ণনা ও ফুকাহায়ে কেরামের অভিমত


বিভিন্ন হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট যে ঈমানের দৃঢ় শিকল হলো আল্লাহ তাআলার জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহ তাআলার জন্য বিদ্বেষ পোষণ করা। এটি এমন এক কাজ যা না হলে আমল ও ইবাদতের পূর্ণ স্বাদ অনুভব হবে না। কোনো মুসলমানের ঈমান কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন তার শত্রুতা-মিত্রতা কেবল আল্লাহ তাআলার বিধিনিষেধের অনুগামী হয়। আল্লাহর জন্যই কারও সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা আবার আল্লাহর জন্যই কারও থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা হবে।
সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে,
ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﻣﻦ ﺃﺣﺐ ﻟﻠﻪ ﻭﺃﺑﻐﺾ ﻟﻠﻪ ﻭﺃﻋﻄﻰ ﻟﻠﻪ ﻭﻣﻨﻊ ﻟﻠﻪ ﻓﻘﺪ ﺍﺳﺘﻜﻤﻞ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ . ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﺅﺩ ﺑﺮﻗﻢ : ٩٧٦٤ ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻨﺔ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺪﻟﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺯﻳﺎﺩﺓ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﻭﻧﻘﺼﺎﻧﻪ .
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, আল্লাহর জন্য বিদ্বেষ রাখে, আল্লাহর জন্য দান করে এবং আল্লাহর জন্যই তা থেকে বিরত থাকে, তার ঈমানের পূর্ণতা লাভ হয়েছে। (১৬)
মুসান্নাফে ইবনে আবু শাইবাতে আছে,
ﻋﻦ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻗﺎﻝ : ﺃﻭﺛﻖ ﻋﺮﻯ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﺍﻟﺤﺐ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺒﻐﺾ ﻓﻴﻪ .
মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, ঈমানের মজবুত হাতল হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য বিদ্বেষ রাখা। (১৭)

টিকাঃ
১৬. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৬৮১
১৭. মুসান্নাফে ইবনে আবু শাইবা, ৬/১৭০ এই বক্তব্যটি সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আবু শাইবা ও ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ তাদের সনদে বারা ইবনে আজেব থেকে রেওয়ায়েত করেন, أوثق عرى الإيمان الحب في الله والبغض في الله (المصنف برقم : ٩٥٠١٣، مسند أحمد برقم : ٤٢٥٨١)
ঈমানের মজবুত হাতল হলো আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা। শায়েখ আওয়ামা দা. বা. এই হাদিসের ব্যাপারে লেখেন, فالحديث صحيح بهذه الشواهد. হাদিসটি সহিহ।
মুসান্নাফে ইবনে আবু শাইবা, ১৫/৬২০ (আব্দুল্লাহ)

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 কাফেরদের সাথে মিত্রতায় বড় ধরনের ফিতনার আশঙ্কা

📄 কাফেরদের সাথে মিত্রতায় বড় ধরনের ফিতনার আশঙ্কা


ইমাম ইবনে কাসির রহিমাহুল্লাহ সুরা আনফালের এক আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, মুসলমানরা পরস্পর ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে যেন সীমা রক্ষা করে চলে। কোনো মুসলমান অপর মুসলমান ভাই ব্যতীত কোনো কাফেরকে যেন বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। কারণ এটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ
আর যারা কাফের তারা একে অপরের বন্ধু। যদি তোমরা তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও মহাবিপর্যয় ঘটবে। (১৮)
আল্লামা ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন,
ومعنى قوله إلا تفعلوه تكن فتنة في الأرض وفساد كبير أي إن لم تجانبوا المشركين وتوالوا المؤمنين وإلا وقعت فتنة في الناس وهو التباس الأمر واختلاط المؤمنين بالكافرين فيقع بين الناس فساد منتشر عريض طويل.
যদি তোমরা মুশরিকদের থেকে দূরত্ব অবলম্বন না করো এবং মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন না করো, তাহলে মানুষের মাঝে ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে। আর তা হলো, পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাওয়া এবং মুমিন-কাফের একীভূত হয়ে যাওয়া। যার কারণে মানুষের মাঝে সুদীর্ঘ ও বিস্তৃত বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। (১৯)

টিকাঃ
১৮. সুরা আনফাল : ৭৩
১৯. তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা আনফাল ৪/৯৮

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 জালেম ও কাফেরকে ঘৃণা করা আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামাতের আকিদার অংশ

📄 জালেম ও কাফেরকে ঘৃণা করা আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামাতের আকিদার অংশ


ইমাম তাহাবি রহিমাহুল্লাহ ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আহলুস সুন্নাহর আকিদাসমূহ একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকায় একত্র করেছেন। সেখানে মুমিনের প্রতি বন্ধুত্ব আর কাফেরের সাথে শত্রুতার আকিদাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইমাম তাহাবি বলেন,
ونحب أهل العدل والأمانة ونبغض أهل الجور والخيانة.
আমরা ন্যায়নিষ্ঠ ও ইনসাফকারীদের ভালোবাসি আর অপরাধী ও খেয়ানতকারীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি।(২০)
বলাবাহুল্য, অপরাধ, জুলুম ও খেয়ানতের বড় একটি বহিঃপ্রকাশই হলো কুফরি গ্রহণ করা। আমাদের সালাফদের আকিদার কিতাবসমূহে এই মাসআলাটির অন্তর্ভুক্তি দ্বারা বিষয়টি তাদের নিকটও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার কিছুটা আঁচ করা যায়।

টিকাঃ
২০. আকিদাতুত তাহাবি, পৃ. ৮০

📘 মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক সীমারেখা ও বিধিবিধান > 📄 অত্যাচারী ও পাপিষ্ঠকে ভালোবাসা কবিরা গোনাহ

📄 অত্যাচারী ও পাপিষ্ঠকে ভালোবাসা কবিরা গোনাহ


অত্যাচারী ও ফাসেক ব্যক্তির সাথে ভালোবাসা ও মুহাব্বত রাখাকে উলামায়ে কেরাম কবিরা গোনাহের তালিকাভুক্ত করেছেন। কবিরা গোনাহসংক্রান্ত গ্রন্থাদির মধ্যে বিস্তর ও বিশদ আলোচনাসমৃদ্ধ গ্রন্থ হলো আল্লামা ইবনে হাজার হাইতামি (মৃত্যু: ৯৭৪ হি.) রচিত 'আয-যাওয়াজের আন-ইকতিরাফিল কবায়ের' নামক গ্রন্থটি। লেখক উক্ত গ্রন্থে মানুষের জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৪৬৭টি কবিরা গোনাহের উল্লেখ করেছেন। সে তালিকার ৫৪ ও ৫৫ নম্বরে জালেম ও ফাসেকের (প্রকাশ্যে গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তির) সাথে বন্ধুত্ব রাখা ও সৎ লোকদের সাথে বিদ্বেষ রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,
الكبيرة الرابعة والخامسة والخمسون : محبة الظلمة أو الفسقة بأي نوع كان فسقهم، وبغض الصالحين.
একটি কবিরা হলো, অত্যাচারী ও যেকোনো ধরনের পাপিষ্ঠের প্রতি ভালোবাসা রাখা আর নেককার ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ রাখা।(২১)
বিস্তারিত জানতে বইটি অবশ্যপাঠ্য। ইবনে হাজার হাইতামির পর আল্লামা বিরকিবি আল-হানাফি রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৯৮১ হি.) এ বিষয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণসহ 'আত-তারিকাতুল মুহাম্মাদিয়া' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। সেখেনে 'অন্তর'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট গোনাহের আলোচনায় ৪১ নম্বরে তিনি উল্লেখ করেন,
(حب الفسقة والركون إلى الظلمة ) ( قال الله تعالى ولا تركنوا إلى الذين ظلموا} [هود : ٣١١] أخرج الإمام أبو داود عن عبد الله بن بريدة، عن أبيه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «لا تقولوا للمنافق : سيد، فإنه إن يك سيدا فقد أسخطتم ربكم عز وجل، وضده البغض في الله تعالى لكل عاص لعصيانه، لا سيما المبتدعين و الظلمة لكون معصيتهم متعدية، فلا بد من إظهار البغض لهم، إن لم يخف بخلاف غيرهما من العصاة.
'ফাসেকদের ভালোবাসা ও জালেমদের পক্ষ নেওয়া'। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আর তোমরা জালেমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না'। ইমাম আবু দাউদ রহিমাহুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ বর্ণনা করেন, তোমরা মুনাফিককে নেতা বলো না। কেননা সে যদি নেতা হয়, তাহলে তো তোমরা তোমাদের রবকে ক্রোধান্বিত করলে। এর বিপরীত হলো আল্লাহর জন্য কোনো গোনাহগারকে তার গোনাহের কারণে ঘৃণা করা। বিশেষত বিদআতি ও জালেম লোকদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা। কেননা তাদের গোনাহ অন্যকে আক্রান্ত করে। তাই আবশ্যক হলো তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা, যদি কোনো ভয়ের আশঙ্কা না থাকে। (২২)
পূর্বোক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট যে, যে-সকল পাপিষ্ঠের পাপকর্ম সংক্রাকম, তাদের প্রতি কেবল আন্তরিক ঘৃণা পোষণ করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রয়োজনের সময় (হেকমত ও মাসলাহাত বিবেচনায় রেখে) সেই ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করাও জরুরি। তবে কখনো ধর্মীয় কোনো স্বার্থে তা প্রকাশ না করারও অনুমতি রয়েছে। 'মুদারাত'- সংক্রান্ত আলোচনায় আরও বিস্তারিত আসবে ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
২১. আয-যাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবাইর, ১/১৮৩
২২. আত-তারিকাতুল মুহাম্মাদিয়‍্যাহ, পৃ. ৩১৮, আল-মাকতাবাতুল হাক্কানিয়্যাহ, পেশাওয়ার

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00