📘 মুসলিম নারীর পর্দা 📄 পর্দার শর্ত সমূহ

📄 পর্দার শর্ত সমূহ


এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি আমরা কুরআনের আয়াতে, সুন্নাতে নাবীর এবং সালাফাদের বাণীসমূহের অনুগামী হই তাহলে আমাদের জন্য স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, মহিলা যখন ঘর থেকে বের হবে তখন তার উপর সমস্ত শরীর ঢাকা অবশ্য কর্তব্য হয়ে যায়। দু' হাতলী ও চেহারা ব্যতীত সৌন্দর্যের কিছু প্রকাশ করতে পারবে না, তা যে ধরনের বা ফ্যাশনের পোষাক হোক। এতে নিম্নের শর্তগুলি আমরা পেয়ে থাকি।

১। স্বতন্ত্র অঙ্গ ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা।
২। কোন সাজ-সজ্জায় সজ্জিত না হওয়া।
৩। পরিহিত কাপড় পুরু হতে হবে; স্বচ্ছ, পাতলা হবে না।
৪। প্রশস্ত ঢিলা-ঢালা হওয়া, সংকীর্ণ না হওয়া।
৫। সুঘ্রাণ ও সুগন্ধি লাগিয়ে বের হতে পারবে না।
৬। পুরুষের পোষাকের সাদৃশ্য হতে পারবে না।
৭। কাফিরদের পোষাকের সাথে সাদৃশ্য হতে পারবে না।
৮। প্রসিদ্ধ কোন পোষাক হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় : জেনে রাখা উচিত যে, কিছু শর্ত আছে যা শুধু মহিলাদের জন্যই নয় বরং তাতে মহিলা-পুরুষ উভয়েই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেটা প্রকাশ্য। অনুরূপভাবে কিছু শর্ত আছে যা সাধারণভাবেই হারাম। চাই মহিলা ঘরে থাকুক আর বাহিরে থাকুক। যেমন শেষের তিনটি শর্ত। এখন আমরা শর্তগুলির বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং তার দলীল উল্লেখ করবো।

📘 মুসলিম নারীর পর্দা 📄 প্রথম শর্ত : স্বতন্ত্র অঙ্গ ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা

📄 প্রথম শর্ত : স্বতন্ত্র অঙ্গ ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা


মহান আল্লাহ সূরা নূরে ৩১ নং আয়াতে বলেন:
“হে নাবী! ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হিফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতাপুত্র, ভগ্নিপুত্র, অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনা মুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। হে মু'মিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্র কাছে তাওবা করো যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা নূর ৩১)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: “হে নাবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” (সূরা আহযাব ৫৯)

প্রথম আয়াতে মহিলাদের সমস্ত সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখা স্পষ্টভাবে ওয়াজিব প্রমাণিত হয়। আগন্তুকের সামনে মোটেও প্রকাশ করা যাবে না তবে অনিচ্ছা সত্ত্বে যা প্রকাশ হয়ে পড়ে। পর্দার ইচ্ছা করে থাকলে এ ব্যাপারে ধরা হবে না। আল্লামা হাফিয ইবনু কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেন: যা গোপন রাখা সম্ভব নয় তা ব্যতীত আগন্তুকের নিকট সৌন্দর্য প্রকাশ করা যাবে না। ইবনু মাসউদ (রাযি.) বলেন: যেমন চাদর, পোষাক; যে উজ্জ্বল কাপড় আরবের মহিলারা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে এবং তাদের কাপড় ঝুলিয়ে পরতে অসুবিধা নেই। কেননা নিম্নভাগে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন : আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : উহুদের দিবসে লোকজন যখন নাবী ﷺ-এর সামনে হতে পলায়ন করল তখন আবূ তালহা নাবী ﷺ-কে ঢাল স্বরূপ রক্ষা করলেন... আমি 'আয়িশাহ ও উম্মু সুলাইমকে দেখলাম তাঁরা কোমরে কাপড় বেঁধেছেন। আমি তাদের পায়ের পিণ্ডলী দেখলাম। তাঁরা পিঠের উপর বহন করে লোকদেরকে পানি পান করাচ্ছেন।

হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী বলেন : এ ঘটনা ছিল পর্দার বিধান অবতীর্ণের পূর্বে। এতে বুঝা যায় যে, এটা দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল না! আমি বলব : ‘যা প্রকাশমান তা ব্যতীত’ এর ব্যাখ্যায় যে অর্থ উল্লেখ করলাম তা পূর্বে উল্লেখিত আয়াতের উদ্দেশ্য। আর এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাফগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন : এর অর্থ হলো প্রকাশ্য পোষাক। কেউ বলেছেন, এর অর্থ সুরমা, অলংকার, চেহারা ইত্যাদি। এ সকল কথাই আল্লামা ইবনু জারীর তাঁর তাফসীরে সহাবা (রাযি.), তাবিয়ীগণ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এ স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য দ্বারা চেহারা ও দু' হাতের পাঞ্জা হওয়াকে চয়ন করেছেন। তিনি বলেন: সর্বোত্তম ও সঠিক কথা হলো এটাই যে, এর অর্থ হলো: চেহারা ও দু'হাতের পাঞ্জা এর অন্তর্ভুক্ত।

ইবনু আতিয়্যা বলেন: আয়াতের শব্দ বিন্যাস দ্বারা আমার নিকটে এ হুকুম স্পষ্ট যে, মহিলারা নির্দেশিত যে, তারা তাদের সৌন্দর্যের গোপনীয় কোন অংশকে প্রকাশ করার চেষ্টা করবে না এবং চলাচলের প্রয়োজনে যা প্রকাশ করা একান্ত প্রয়োজন বা গঠনমূলক কার্যক্ষেত্রে যা জরুরী হয়ে পরবে, এরূপ ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রয়োজন যা প্রকাশ করে দেয় তা স্বতন্ত্র, আর তা মার্জনীয়।

আল্লামা কুরতুবী (রহ.) বলেন: এটা উত্তম কথা যে, সলাতে, হাজ্জে স্বভাবগত ও ইবাদাতগতভাবে চেহারা ও দু'কজি প্রকাশ প্রাধান্য পাবে। আবূ দাউদ 'আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন : 'আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আসমাআ বিনতে আবী বাক্র (রাযি.) পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট প্রবেশ করলেন। রসূলুল্লাহ ﷺ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেনঃ হে আসমাআ! নারী যখন যৌবনে পদার্পণ করে তখন তার এটা ব্যতীত প্রকাশ করা বৈধ নয়। তিনি চেহারা ও দু' কজ্জির দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন।

এই মতকে আরও শক্তিশালী করে জাবির বিন 'আবদিল্লাহর বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিবসে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে সলাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি মহিলাদের নিকট এসে ওয়ায নসীহত করে বললেন : তোমরা সদাক্বাহ করো। একজন মহিলা—যার দু'গাল লালচে কালো দাগ মিশ্রিত ছিল—সে বলল: কেন হে আল্লাহ্র রসূল? রসূল বললেন : তোমরা অধিক অনুযোগ কর ও স্বামীর অবাধ্য হয়ে থাকো। তখন মহিলাগণ তাদের অলংকার বিলালের চাদরে কানের দুল ও আংটি ফেলতে লাগল।

ইবনু 'আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, খাশ'য়াম গোত্রের একজন মহিলা বিদায় হাজ্জে রসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। ফযল বিন 'আব্বাস (রাযি.) ঐ মহিলাটির দিকে তাকাতে ছিলেন আর ঐ মহিলা খুবই সুন্দরী ছিলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ ﷺ ফযলের থুতনী ধরে তার চেহারা অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলেন। ইমাম ইবনু হাযম বলেন: যদি চেহারা পর্দা হতো তাহলে রসূলুল্লাহ ﷺ চেহারা আবৃত করার নির্দেশ দিতেন। অথচ তিনি শুধু ফযলের চেহারা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।

সহল বিন সা'দ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একজন মহিলা রসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে নিজেকে দান করার প্রস্তাব দিলে নাবী ﷺ তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন। এতে প্রমাণিত হয় বিবাহের উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডল দেখা বৈধ। মা 'আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, মু'মিন মহিলাগণ চাদরে ঢেকে ফজরের সলাতে উপস্থিত হতেন, আঁধারের কারণে তাদেরকে চেনা যেত না। অর্থাৎ আলো থাকলে চেনা যেত, যা চেহারা খোলা থাকার প্রমাণ।

ফাতেমা বিনতে কাইসকে নাবী ﷺ ইদ্দত পালনের জন্য উম্মু মাকতুমের বাড়ি যেতে বলেন কারণ তিনি অন্ধ ছিলেন, সেখানে তিনি চাদর খুলে রাখতে পারতেন। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে চেহারা ও দু'হাত আবৃত করা অপরিহার্য ফরয নয়।

তদ্রূপ আল্লাহ বলেছেন: “তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের উদ্দেশে সজোরে পদক্ষেপ না করে।” (সূরা নূর ৩১)। এ আয়াতে প্রমাণ করে যে, মহিলাদের পা ঢেকে রাখাও ওয়াজিব। ইবনু 'উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত হাদীসে নাবী ﷺ মহিলাদের আঁচল এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখতে বলেছেন যাতে পা ঢাকা থাকে।

চাদর বা জিলবাব সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: “তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।” (সূরা আহযাব ৫৯)। জিলবাব হলো সেই চাদর যা সাধারণ কাপড়ের ওপর দিয়ে পরা হয়। যখন এই আয়াত নাযিল হয় তখন আনসারী মহিলাগণ তাদের মাথার ওপর চাদর এমনভাবে জড়িয়ে বের হতেন যেন তাদের মাথার ওপর কাক বসে আছে।

পরিশেষে, অধিকাংশ উলামাদের অভিমত হলো—চেহারা ও দু'হাত পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য এবং তাকওয়ার খাতিরে তা ঢেকে রাখা উত্তম।

টিকাঃ
* মহিলাদের হাতের বাহুর অর্ধেক পরিমাণ প্রকাশের অনুমতি দেয়ার কথা সহীহ সূত্রে বর্ণিত নয় বরং তা মুনকার ও যঈফ।
* (মুসলিম ৩/১৭, নাসায়ী ১/২৩৩, দারিমী ১৩৩, বাইহাকী ৩/২৯৬, ৩০০ আহমাদ।) কেউ যদি বলে এটা পর্দার বিধানের পূর্বে ছিল, এটা দ্বারা পরে দলীল পেশ করা বৈধ হবে না।
* উম্মে আতিয়্যাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নাবী মহিলাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন ঈদের সলাতে বের হয়... এ হাদীসে প্রমাণিত হয় মহিলাগণ ঈদের সলাতে চাদর পরিহিত হয়ে পর্দার সাথে বের হতেন।
১. বুখারী ৩/২৯৫, ৪/৫৪, ১১/৮, মুসলিম ৪/১০১, আবূ দাউদ ১/২৮৬, নাসায়ী ২/৫, ইবনু হাযম ৩/২১৮, ইবনু মাজাহ ২/৩১৪, মলিক ১/৩০৯, বাইহাকী, তিরমিযী ১/১৬৭ বুলাক ছাপা।
* সহীহ মুসলিম ৪/১৯৫, ১৯৬, ৮/২০৩, এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়।
* বুখারী ২/২৭৩, আবূ দাউদ ১/১৭৪, বাইহাকী ৩/৩০৭, নাসায়ী ১/২২৭, আহমাদ ১/৩৩১, ইবনু জারুদ আল মুনতাক ২৬৩ নং।
* তিরমিযী ৩/৪৭, ইমাম তিরমিযী বলেন: এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

📘 মুসলিম নারীর পর্দা 📄 চেহারা পর্দা করার বিধান

📄 চেহারা পর্দা করার বিধান


আজকের দিনের বহুসংখ্যক আলিম এ মতের দিকে গিয়েছেন যে, নারীর চেহারা সতরের অন্তর্ভুক্ত। তাই নারী চেহারা প্রকাশ করতে পারবে না। বরং প্রকাশ করা হারাম। তাদের কথা প্রত্যাখ্যানের জন্য এ আলোচনাই যথেষ্ট।

জেনে রাখা দরকার যে, চেহারা ও দু' কব্জি পর্দা করার সুন্নাতের ভিত্তি রয়েছে। নাবী ﷺ-এর কথা দ্বারা সংবাদ এসেছে যে, “মুহরিম নারী নিকাব পরবে না এবং হাতমোজা পরবে না।” (বুখারী)। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন, এটা প্রমাণ করে যে নিকাব এবং হাতমোজা সাধারণ মহিলাদের নিকট খুবই পরিচিত ছিল যা দ্বারা তারা চেহারা ও হাত ঢেকে রাখত।

এ ব্যাপারে কিছু হাদীস নিম্নরূপ:
১. 'আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার বিধান নাযিলের পর সাওদাহ (রাযি.) প্রকৃতির প্রয়োজনে বের হলেন। 'উমার (রাযি.) তাকে দেখে চিনে ফেললেন। তখন নাবী ﷺ বললেন, তোমাদের প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
২. ইফকের ঘটনার সময় মা 'আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, সফওয়ান বিন মুয়াত্তাল আমাকে দেখে চিনতে পারল কারণ সে আমাকে পর্দার বিধানের পূর্বে দেখেছিল। তখন আমি আমার চেহারা চাদর দিয়ে ঢেকে নিলাম।
৩. ইহরাম অবস্থায় 'আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আমাদের পাশ দিয়ে যখন আরোহীরা যেত তখন আমরা মাথার ওপর থেকে চাদর চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দিতাম, তারা চলে গেলে আবার সরিয়ে নিতাম।
৪. আসমাআ বিনতে আবী বাক্র (রাযি.) বলেন, আমরা পুরুষদের সামনে আমাদের চেহারা ঢেকে রাখতাম।

এ সকল প্রমাণ দ্বারা বুঝা যায় যে, নাবী ﷺ-এর পত্নীগণ এবং সাহাবী মহিলাগণ সাধারণ অবস্থায়ও চেহারা ঢেকে রাখতেন, যা একটি উত্তম ও প্রশংসনীয় কাজ। তবে এটি সলাতের বা হজ্জের ইহরামের মতো কোনো বিশেষ অবস্থায় ফরয বা আবশ্যিক করা হয়নি, বরং সাধারণ পর্দার অংশ হিসেবে একে গ্রহণ করা হয়েছে। হাফসাহ বিনতে সীরীন বৃদ্ধ বয়সেও চাদর দ্বারা চেহারা ঢেকে রাখতেন এবং একে ‘তাকওয়া’ বা ‘পরিচ্ছন্নতা’র অংশ মনে করতেন।

সুতরাং, বোরকা বা নিকাব দ্বারা চেহারা আবৃত করা শরী'আত সম্মত ও প্রশংসনীয়। যারা এটি করবে তারা উত্তম কাজ করবে, আর যারা শুধু চেহারা ও হাত খোলা রেখে বাকি শরীর পর্দা করবে তাদের কোনো গুনাহ হবে না।

📘 মুসলিম নারীর পর্দা 📄 দ্বিতীয় শর্ত : সাজ-সজ্জায় সজ্জিত না হওয়া

📄 দ্বিতীয় শর্ত : সাজ-সজ্জায় সজ্জিত না হওয়া


মহান আল্লাহ সূরা নূরে বলেছেন: “তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।” (সূরা নূর ৩১)। এ আয়াত মহিলাদের সৌন্দর্যের দিকে যখন পুরুষদের দৃষ্টি পড়ে তখন তাদের আবৃত করার প্রকাশ্য সকল কাপড়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মহান আল্লাহ আরও বলেন, “তোমরা তোমাদের বাড়ীতে অবস্থান করবে মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।” (সূরা আহযাব ৩৩)।

নাবী ﷺ বলেছেন: তিন প্রকার ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না—১) যে জামা'আত ত্যাগ করেছে, ২) যে গোলাম পলায়ন করেছে এবং ৩) ঐ স্ত্রী যার স্বামী অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে যথেষ্ট ভরণপোষণ দিয়ে গেছে, কিন্তু এরপরও সে বাইরে সৌন্দর্য প্রদর্শন (তাবারুজ) করে বেড়ায়।

তাবারুজ বলতে বোঝায় নারী তার সৌন্দর্যকে এমনভাবে প্রকাশ করা যা দ্বারা সে পুরুষদের প্রলুব্ধ করে। জিলবাব বা চাদরের উদ্দেশ্যই হলো নারীর রূপ ঢেকে রাখা। যদি জিলবাব নিজেই কারুকার্যখচিত বা আকর্ষণীয় হয়, তবে তা পর্দার উদ্দেশ্য ব্যাহত করে। ইমাম যাহাবী বলেন, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় রঙিন কাপড়, রেশম বা স্বর্ণালঙ্কার প্রকাশ করা অভিশপ্ত কাজ।

নাবী ﷺ মহিলাদের থেকে বাইয়াত নেয়ার সময় অন্যতম শর্ত দিতেন যে—তারা যেন জাহিলী যুগের মতো নিজেদের সাজ-সজ্জা প্রদর্শন না করে। 'আবদুল্লাহ বিন আম্র (রাযি.) বলেন, উমাইমাহ বিনতে রুকাইকাহ যখন বাইয়াত নিতে এলেন, নাবী ﷺ তাকে বললেন: “আমি তোমার বাইয়াত নিচ্ছি যে... তুমি জাহিলী যুগের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে না।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px