📘 মুসলিম মস্তিষ্ক বিজ্ঞানের অনবদ্য গল্প 📄 সূর্যোদয়

📄 সূর্যোদয়


জুমার নামাজের পর আমাদের আলোচনার আয়োজন চলছে। অর্থাৎ কোনো এক বন্ধ দোকানের খোঁজ করছি আমরা। তার সামনে থাকা টুল-বেঞ্চিতে বসে আমাদের জ্ঞানের আড্ডা চলবে। অবশেষে এমন দোকান পেয়ে গেলাম।
বসার পর প্রথমেই তারিক বলল—'আজ তোদের এক অসাধারণ গল্প শোনাব—আল বেরুনির মৃত্যু।'
'টাইটেলটা তো চরম!' আমি বললাম।
'আল বেরুনির মৃত্যু বর্ণনাকারীর ভাষাতেই বলছি—
"আমি শুনতে পেলাম, আল বেরুনি মারা যাচ্ছে। তাকে শেষ একবার দেখার জন্য তাড়াহুড়ো করে তার বাসায় উপস্থিত হলাম। বোঝাই যাচ্ছিল, সে আর বেশি সময় থাকছে না। যখন আশেপাশের মানুষ আমার উপস্থিতির ব্যাপারে তাকে জানাল, তখন তিনি চোখ খুলে বললেন—তুমি কি অমুক? আমি হ্যাঁ বললাম। তিনি বললেন—শুনতে পেরেছি, তুমি ইসলামের উত্তরাধিকার আইনসংক্রান্ত একটি জটিল সমস্যার সমাধান জানো। তারপর তিনি একটি বিখ্যাত প্রশ্নের প্রতি ইঙ্গিত করলেন—যা পূর্বের ফকিহদের মাথা খারাপ করে দিয়েছিল। আমি বললাম—আবু রায়হান! এই সময়ে? আর আল বেরুনি উত্তর দিলেন—তোমার কি মনে হয় না, অজ্ঞ থেকে মৃত্যুবরণ করার চেয়ে জেনে মৃত্যুবরণ করাই অধিক উত্তম? নিজ অন্তরে বেদনা নিয়ে আমি তাকে আমার সমাধান ব্যাখ্যা করলাম। তারপর তার থেকে বিদায় নিলাম। তার বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পেলাম—আল বেরুনি মারা গেছেন।"'
আমি ও সিনান স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম। কিছুক্ষণ পর বললাম—‘আচ্ছা, একটা জিনিস অনেক দিন ধরে তোদের জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম—বাংলাদেশে ইসলামের প্রভাব কীরকম?’
সিনান বলল—‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে তো পড়েছিসই—মুসলিম শাসনামল ছিল বাংলার স্বর্ণযুগ।’
‘আর ইউরোপিয়ানদের?’
তারিক হাসতে হাসতে উত্তর দিলো—‘আর বলিস না। আমাদের দেশের জন্য তো তারা ছিল You're-a-pee-in!’
সিনান বলল—‘আবারও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই থেকেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে—ক্লাস সিক্স থেকেই তো ইংরেজরা কী করেছে আমাদের দেশে—তা দেখানো হচ্ছে।’
তারিক বলল—‘বুঝেছি আমি। তুই জুনিয়র স্কুলে থাকাকালে একটুও পড়ালেখা করতি না। তোর আউফাউ প্রশ্ন শেষ হয়েছে এখন? সিরিয়াস একটা জিনিস জানতে হবে আমার।’
‘তো বল না! তোর মুখ চেপে ধরে আছি নাকি আমি?’
‘আচ্ছা সিনান, ইসলামি স্বর্ণযুগের পতন হলো কীভাবে? ব্যাপারটা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দিন ধরেই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। নিজে বের করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু মেলাতে পারছি না।’
‘হুম, পতন নিয়ে অনেক ক্যাচাল।’ সিনান উত্তর দিলো—‘এমনিতে ইসলামি স্বর্ণযুগ ধরা হতো অষ্টম হতে ১৩শ শতাব্দী পর্যন্ত। জর্জ সার্টনও এমনই বলেন। কিন্তু তার মারা যাওয়ার মাত্র ২০ বছরের মধ্যেই এমন এমন তথ্য পাওয়া যায়, যার কারণে ইতিহাসবিদরা এই সময়কাল বাড়াতে বাধ্য হন। ২১ শতাব্দীতে এসে আধুনিক স্কলাররা একে ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত বাড়ান। কিছু কিছু বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ একে ১৭শ শতাব্দী পর্যন্তও নিয়ে গিয়েছেন। আবার ডেভিড কিং বলেন—১৮শ শতাব্দীর শুরুর দিকেও ইরানে উচ্চমানের জ্যোতির্বিদ্যাসংক্রান্ত যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছিল।
ডেভিড কিং যেসব মাইন্ডব্লোইয়িং তথ্য দিয়েছেন, কী বলব। শুধু ইরানেই দুই লাখের বেশি ম্যানুস্ক্রিপ্ট পড়ে আছে—যেগুলো ঘাঁটা হয়নি। ১৯৯৯ সালে ডেভিড কিং গবেষণা করার জন্য সেখানে যান। তিনি সেখানে ৮০০০ ম্যানুস্ক্রিপ্ট নির্বাচন করেন গবেষণা করার জন্য। সেখানে গণিত আর জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে চারশতরও বেশি বই ছিল। তার মধ্যে অনেকগুলো এমন ছিল—যেগুলো হারিয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া হতো। মুসলিমদের লেখা মোট ৫০ লাখ ম্যানুস্ক্রিপ্ট বর্তমানে পাওয়া যায়।'
'৫০ লাখ!' অজান্তেই আমার মুখ থেকে বের হয়ে গেল।
'কিছু স্কলারের মতে ৮০ লাখ। প্রশ্ন হচ্ছে, এর কতগুলো সম্পাদিত হয়েছে? সেগুলো গবেষণা করার পর আরও কী কী বের হবে, কে জানে!'
'আচ্ছা, পতনের মূল কারণটা কী?' তারিক জিজ্ঞেস করল।
'দাঁড়া, মাইন্ডব্লোইয়িং তথ্য এখনও শেষ হয়নি। এবার খবর দিচ্ছেন, জর্জ স্যালিবা। তিনি বলেন—১২শ হতে ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত কোনোমতে রিসার্চ হয়েছে।'
তারিক বলল—'কোনোমতে মানে কী? ইবনুন নাফিস তো ১২শ শতকের পরে, বদিউজ্জামান জাজারিও পরে; কোনোমতে ঘাঁটাঘাঁটি করে এসব পেলে ভালোভাবে ঘেঁটে কী পাবে!'
সিনান মুচকি হাসি দিয়ে বলল— 'প্রফেসর স্যালিবা আরও বলেন, ১৬শ শতাব্দীর পর কোনো গবেষণাই হয়নি। আসলে পতন যে হতেই হবে, তেমন কোনো কথা নেই। সম্পূর্ণ গবেষণা শেষ হওয়া পর্যন্ত এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে যদি একটি কালচারের তুলনায় অন্য কালচারে বিজ্ঞান নিয়ে বেশি কাজ শুরু হয়, তখন এমনিই মনে হয় যে প্রথম বিশ্বে পতন ঘটেছে। মুসলিম বিশ্বের জন্য ব্যপারটা খুব সম্ভবত অমনই। আর দর্শনের ক্ষেত্রে মূলত ওই রকম পতন হয়ইনি। কথা হচ্ছে—পরবর্তীকালের মুসলিম দার্শনিকদের কোনোরকম প্রভাব পশ্চিমা দার্শনিকদের ওপর পড়েনি; যার কারণে অযাচিতভাবে ওরিয়েন্টালিস্টরা ধরে নেয়—মুসলিম বিশ্বের দর্শনে মাইমনিডিসের পর চরম ধস নেমেছে। না খুঁজেই তারা ভেবে নেয় যে—নেই।
ছোটোখাটো কিছু পয়েন্ট আলোচনা করি। এক. মোঙ্গল আক্রমণ, ক্রুসেড, স্পেন হারানো, মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল—মোটকথা যুদ্ধের পরিবেশে বিজ্ঞান হয় না। দুই. প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগ। মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন সময় অসংখ্য মানুষ মারা যায়। তিন. ভাষার পরিবর্তন। বিজ্ঞানের ভাষা আরবি ছিল। কিন্তু পরে তা পালটে যায়। তাই মুসলিমরা আপডেটেড কাজ পড়ে বাউন্স ব্যাক করতে পারেনি। চার. ইসলাম প্র্যাকটিস ছেড়ে দেওয়া। অনেকে এটাকে কুকথা বলবে, কিন্তু লজিক্যালিই এটা ঠিক। ইবনে খালদুন বলেন—“অপচয় শুধু একটা ইসলামবিরোধী কাজই নয়; বরং ইসলামি স্বর্ণযুগের পতনেরও বড়ো একটা কারণ।” আর যেহেতু ইসলামি প্যারাডাইমে কাজ হতো, তাই এটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কারণ হিসেবে থাকবে। ডোনাল্ড হিল আর আহমাদ ইউসুফ হাসানের মতো বড়ো বড়ো স্কলাররাও এই মত গ্রহণ করেন। পাঁচ. প্যাট্রোনেজ প্রবলেম। ইবনে খালদুনের মতে—ট্রেড রুটগুলো মোঙ্গলরা ধ্বংস করে দেয়। মুসলিমদের অর্থনীতিতে এটার খুবই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্পেন থেকে মুসলিমদের বের করে দেওয়ার পরও অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর, টাকা ছাড়া বিজ্ঞান করা অসম্ভব। ইসলামের চাঁদের অধঃপতনের এগুলো কেবল কয়েকটা কারণ।'
'আচ্ছা!' তারিক এমনভাবে চিল্লিয়ে উঠল, যেন এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে গিয়েছে। 'তাহলে এই সময়ই ইসলামের পূর্ণ চন্দ্রের পতাকাকে অর্ধচন্দ্র বানিয়ে দেওয়া হয়।' তারপর দাঁত দেখাল।
সিনান বিরক্তির ভাব নিয়ে বলল—'ওয়াও তারিক! এত মাসে তোর চিন্তাধারার চমৎকার উন্নতি ঘটেছে।'
'আমি জানি।' তারিক মহাখুশি।
'আচ্ছা, আরও কিছু কথা বলি। মোঙ্গলদের তাণ্ডবের ব্যাপার তো জানা আছে। তারপর, লাইব্রেরিয়ান আমাদের বলেছিলেন, অসংখ্য লাইব্রেরির বই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। লক্ষ করবি, এমন একজন মধ্যযুগীয় মুসলিম লেখকও নেই— মনে কর—১০০টার মতো কাজ করেছেন, যার সবগুলোই পাওয়া যায়।
সেটা নাহয় গেল। মুসলিমদের বিজ্ঞানকে উড়িয়ে দিয়ে স্পেনের খ্রিষ্টানরা কী করল? লাখ লাখ মুসলিমকে খুন আর আহত করে তাদের নিশ্চয়ই নিজেদের স্বর্ণযুগ প্রতিষ্ঠা করার কথা ছিল। প্রতিবেদন আছে, ১৫ শতকে স্পেনে ১০ লাখ ৫ হাজার বই পোড়ানো হয়। ইউরোপের প্রথম অ্যাস্ট্রনমিক্যাল অবজারভেটরি স্প্যানিশ মুসলিমদের তৈরি করা। কিন্তু যখন খ্রিষ্টানরা এটার দখল নিল, তারা বুঝল না—কী করবে এটা দিয়ে। অসাধারণ অবজারভেটরিটাকে ঘণ্টা বাজানোর টাওয়ারে পরিণত করে দেওয়া হলো!'
সিনান চালিয়ে গেল—'এত এত বই গায়েব করে দেওয়ার পর এখন যা জানছি, তাতেই শিহরন জাগে। সেসব বই থাকলে কী হতো—একবার চিন্তা করে দেখ। স্প্যানিশ ইতিহাসবিদ উলিক বার্ক বলেন—প্রতিষ্ঠানগুলো উজ্জ্বল ছিল মুসলিমদের শাসনে, মরে যায় যখন মুসলিমরা চলে যায়; আর ৪০০ বছরের আলো ও শিক্ষার পর আন্দালুসিয়া আবার পতিত হয় সেই খ্রিষ্টান শাসনের তলে, অজ্ঞতা ও বর্বরতার একটি অবস্থার মধ্যে।
১৭শ শতাব্দীর পর থেকে বিভিন্ন মুসলিম দেশ কলোনাইজ করা শুরু হয়। এই সময়ই সব মাটিতে মিশে যায়। ব্যক্তিগতভাবে এটাকে আমি সবচেয়ে বড়ো কারণ হিসেবে দেখি আপাতত।'
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর দীর্ঘশ্বাস ফেললাম—‘কী ইতিহাস ছিল রে অাখি, পৃথিবীতে সবচেয়ে ওপরে, সবচেয়ে বেশি ধনী ছিলাম আমরা। সেই স্পেনের পতনের পর সব শেষ হয়ে গেল!’
‘নাহ, তারপরও আমরাই সবচেয়ে বেশি ধনী ছিলাম। আফ্রিকায়, মালির মানসা মুসার কাছে বলতে গেলে অসীম পরিমাণে ধন-দৌলত ছিল। তিনি নিজে ইসলামের আলিম ছিলেন এবং অন্যদের শিক্ষিত করে তোলার জন্য মালিতে খুব উন্নত সেন্টারও খুলেছিলেন।
এমনকী তার পরেও অটোমান সাম্রাজ্যে ইসলামের ভূমিগুলোতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ছিল। এরপর মাঝের ২০০ বছর হয়তো-বা আমাদের জন্য এত ভালো কাটেনি, কিন্তু এখন? আবারও আমাদের টাকার কোনো অভাব নেই। কাতার, সৌদি আরব, আরব আমিরাতের থেকে কতগুলো মানুষ আছে—যারা বিভিন্ন ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবের মালিক? নিজ দেশে যে বিশ্বমানের ইউনিভার্সিটি নেই—সেটা দেখবে না। এই হলো আজকের মুসলিমদের অবস্থা। এইখানেও পশ্চিমাদের নকল করতে গিয়ে সমস্যায় ভুগছে মুসলিমরা।'
তারিক বলল—'চোরা কপি! নকলের কাজও ঠিকমতো করে না এরা। শুধু বিনোদনের জগৎকে কপি মারে, শিক্ষার অংশকে কপি করার চিন্তা মাথায় আসে না। সেটাও নকল করে অবশ্য, কিন্তু ওই চোরা, ডাকাইত্যা কপি! ঠিকঠাক উন্নয়ন করতে পারে না।'
সিনান বলল—'ঠিক বলেছিস রে। একটি জিনিস দেখ, ট্র্যান্সলেশন মুভমেন্টের সময় সকল বই না, শুধু নির্দিষ্টসংখ্যক বই অনুবাদ করাতে মুসলিমরা যে টাকা খরচ করে, তা বর্তমানের UK-এর মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের মোট বাজেটের দ্বিগুণ। সবচেয়ে সেরা মানের স্কলারদের বেতন ছিল বর্তমান সময়ের অ্যাথলিটদের বেতনের সমান।'
সিনানের কথাগুলো শুনে চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে।
'আর এখন দেখ, মুসলিমরা শিক্ষায় খুবই কম টাকা ইনভেস্ট করে। ১৯৯০ সালের একটি হিসাবে দেখা গিয়েছিল, মুসলিম বিশ্বে GDP-এর ১%-এর অর্ধেকেরও কম বৈজ্ঞানিক গবেষণার পেছনে ব্যয় হয়। ধীরে ধীরে অবশ্য তা বাড়ছে। বিশাল উন্নয়ন লক্ষ করা যাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ!
কলোনাইজেশনে ফিরে যাই চল। কলোনাইজেশনের ফলে কলোনাইজড মস্তিষ্কের অনেক মানুষ গড়ে ওঠে। আসলে এটা সব সময় তাদের প্ল্যান ছিল, যেন আঞ্চলিক মানুষদের নিজ চিন্তাধারায় এনে পাশ্চাত্যের দাস বানিয়ে রাখা যায়। বর্তমানে কলোনিয়াল পিরিয়ড নেই, কিন্তু কলোনিয়াল মস্তিষ্কের মানুষ রয়ে গেছে। কিছু উদাহরণ দেখবি? মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক তো বলতে গেলে তুর্কিতে ইসলামই ব্যান করে দেন। মিশরে আর ইরানেও মুহাম্মাদ আলি, জামাল আব্দুল নাসের আর রেজা শাহ পাহলভি মুসলিমদের ওপর অত্যাচার চালাতে থাকে। ইতিহাস থেকে কিছুই শিখল না তারা। ইসলামকে সরিয়ে বিজ্ঞান আনবে মনে করেছিল, অথচ আগের বিজ্ঞান ছিল ইসলামের কারণেই। শেষে ফল কী হলো? তারিকের মাথা!'
'আমি কী করলাম!'
'না মানে তোর মাথা থেকে সব সময় অসাধারণ সব লজিক বের হয় তো, সেজন্য বললাম। এই সময়ের মুসলিম সংস্কারকরা বেশিরভাগই চেয়েছে, পাশ্চাত্যের অনুসরণ করে মুসলিমদের ওপরে তুলতে। এখন পশ্চিমে যে টেকনোলজি আর যে ডেটা ডেভেলপ হয়েছে, সেসব আমাদের লাগবে। কিন্তু অত্যন্ত সাবধান থাকা উচিত ছিল, যেন তাদের ভাবধারাটা আমাদের মাঝে চলে না আসে। দুঃখজনকভাবে সেটাই হয়ে যায় উলটো।
এখন মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ পশ্চিম ছাড়া আর কিছু বোঝে না। দ্যাখ, মুসলিম বিশ্বের প্যারাডাইম অনুযায়ী এখানে শিক্ষা প্রয়োজন। জোর-জবরদস্তি করে অন্যটা চাপালে ফল ভালো হয় না। এই সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা মুসলিমদের ধ্যানধারণার বিপরীত ছিল। যার কারণে দেখা যায় অসংখ্য সমস্যা। “নতুন বিশ্বের জন্য নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন” এই কথা যদি কেউ বলে, তাহলে সিম্পল জবাব হচ্ছে—মুসলিমরা নিজ ট্র্যাডিশন থেকে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা ডেভেলপ করবে। পশ্চিমকে কপি করা স্টুপিডিটি। মুসলিমদের নিজেদের কালচারাল আইডেন্টিটি অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন; সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা না।
সেক্যুলার ভাবধারার প্রতিষ্ঠা মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। গোল্ডেন এইজে মাদরাসায় বিভিন্ন ইসলামি সাবজেক্টের সাথে সায়েন্স সব সময়ই পড়ানো হতো। আসলে ইসলামি ফ্রেমওয়ার্কে জ্ঞান অন্বেষণকে ঐশ্বরিক আদেশ আর মানব অস্তিত্বের অধিবিদ্যাগত বাস্তবতা হতে প্রাপ্ত নৈতিকতা থেকে আলাদা করা যায় না। সব ধরনের জ্ঞান একটা ইন্টেগ্রেটেড সিস্টেমের মাঝে পড়ানো হতো। কিন্তু সেক্যুলার সিস্টেম দুটোকে আলাদাভাবে দেখে। এটা পুরো একটা এপিস্টেমিক পরিবর্তন, যার সাথে মুসলিমরা কখনোই খাপ খাওয়াতে পারেনি।
মুসলিমদের মাঝে পাশ্চাত্যের ধ্যানধারণার দাস টাইপের মানুষরা তো আছেই। সাথে দিয়ে যারা ট্র্যাডিশনাল মুসলিম, তাদের ওপর পর্যন্ত কলোনিয়ালিজম ও ওরিয়েন্টালিজমের বাজে প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে অসংখ্য মুসলিম এসব দ্বারা প্রভাবিত, কিন্তু তারা সেটা বোঝেও না। একটা উদাহরণ দিই—
১৮৬৬ সালে ভারতীয় উলামার একটি গ্রুপ দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন। দারুল উলুম দেওবন্দের কারিকুলাম দারস-ই নিজামির একটা রিফর্মড ভার্সন দ্বারা বিশালভাবে প্রভাবিত ছিল। এই দারস-ই নিজামি শিক্ষাধারার জন্য আমাদের ১৮শ শতকের স্কলার মুল্লাহ নিজামুদ্দিন সাহলাভিতে ফিরে যেতে হবে। দারস-ই নিজামির কারিকুলাম মূল শিক্ষা ধারায় ইঞ্জিনিয়ারিং, জ্যোতির্বিদ্যা, মেডিসিন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্র্যাডিশনাল ইন্টেগ্রেটেড ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা। এই মূল কারিকুলামে থাকা এই উলুম আল মানকুল মানে মস্তিষ্কপ্রসূত জ্ঞানের প্রধান প্রধান অংশগুলো দেওবন্দি রিফর্মে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এই কাজটাকে জাস্টিফাই করার জন্য তারা বলে—যাদের মডার্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রয়োজন আছে, তারা মাদরাসা সিস্টেমের বাইরের সেক্যুলার স্কুল-কলেজে গেলেই পারে। এই চিন্তাধারাই দেখিয়ে দেয়—কীভাবে মুসলিমরা নিজেরাই নিজেদের ট্র্যাডিশনাল কেন্দ্রীভূত জ্ঞানব্যবস্থাকে খণ্ড-বিখণ্ডে ভেঙে ফেলে কলোনিয়াল সিস্টেম থেকে আসা সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা ও চিন্তা-চেতনার বিজয়ের দ্বার খুলে দেয়!'
মন খারাপ হলো অনেক এসব জানতে পেরে। 'এসএসসি পর কী করবি সিনান?' জিজ্ঞেস করলাম।
'স্টাডি রিথিংক ও রি-অর্গানাইজ করব।'
'কীরকম?'
'আমার কাছে মনে হতে শুরু করেছে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য বা ইন্টেলেকচুয়াল ট্র্যাডিশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাটা বিশাল সমস্যা। তাই ১৪শ বছরে মুসলিমদের ইন্টেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্টের সামগ্রিক ধারণা রাখা প্রয়োজন। আমার মনে হয় সেটা করতে পারলে অনেক প্রবলেম সলভ করা যাবে। সামগ্রিকভাবে বিজ্ঞানের ইতিহাসও আবার স্টাডি প্রয়োজন।
আর মুসলিম বিজ্ঞানীদের ইতিহাস স্টাডির গুরুত্ব মেইনলি দুই দিক থেকে দেখি—আমাদের ইতিহাসে আমরা কী করেছি সেটা তুলে ধরা; নিজেদের জাতির জন্য তো গুরুত্বপূর্ণই, সাথে দিয়ে এর ফলে ইউরোসেন্ট্রিজম রিফিউট হবে। ইসলামি স্বর্ণযুগ নিয়ে অসংখ্য ভুল ধারণার ছড়াছড়ি আছে; এসব ঠিক করতে হবে। দ্বিতীয়টা হলো—বিজ্ঞানের সাথে ইসলামের সম্পর্ক কেমন ছিল, কীভাবে ছিল সেসব যাচাই করা। ক্লাসিক্যাল মুসলিম বিশ্বের বৈজ্ঞানিক চিন্তা-কাঠামো বোঝাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তারপর আধুনিক দর্শন, ফিলোসফি অব সায়েন্সও জানা প্রয়োজন। কুরআন, সিরাহ স্টাডি তো আছেই। এসএসসির পর সব প্রায়োরিটাইজ করব। '
উঠে বাসার দিকে হাঁটা দিলাম তিনজনে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দেখা-সাক্ষাৎ কমিয়ে দেবো। এসএসসির প্রস্তুতি নিতে হবে এখন। আলোচনার বদলে নিজেদের স্টাডিতে বেশি নজর দিতে হবে। আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে সিনান বলে গেল—
'আর... যদি কোনো সময় মুসলিম বিজ্ঞানীদের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো রকম সন্দেহ জাগে, শুধু আকাশের দিকে তাকাবি আর ভাববি, ওপরে যতগুলো তারা দেখতে পাচ্ছি, তার মধ্যে যতগুলোর নামকরণ করা হয়েছে, তার বেশির ভাগই অ্যারাবিক। '

টিকাঃ
১. Abdus Salam, Islam and Science: Concordance or Conflict? UNESCO House, Paris, 27 April, 1984.
২. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ২০১৭) p: 158.
৩. Muzaffar Iqbal, p: 124
৪. George Saliba, ch. 7.
৫. ড. এহসানুল করিম, মুসলিম ইতিহাসের ঘটনাপঞ্জি p: 57 ibid
৬. Peter Adamson, Golden Ages: The Later Traditions in Philosophy in the Islamic World op. cit.
৭. James E. McClellan and Harold Dorn (edt), Science and Technology in World History (John Hopkins University Press, 2006) p: 103-115; Ahmad Y. Hassan and Donald Routledge Hill, Islamic Technology: An Illustrated History; (Cambridge University Press, 1986) p: 282; আরও দেখুন: Armen Firman. The Fall of Science in Muslim Lands The Muslim Vibe.
৮. আ.ফ.ম আব্দুল হক ফরিদী op. cit. vol. 1, p: 461
৯. এইচ কামেন, দ্যা স্প্যানিশ ইনকুইজিশন, in ড. এহসানুল করিম, মুসলিম ইতিহাসের ঘটনাপঞ্জি (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফেব্রুয়ারি ২০১৫) p: 61; Jonathan Lyons op. cit.
১০. Abu Zakariya, The Eternal Challenge: A Journey Through the Miraculous Qur'an (onereason, 2015) p: 93.
১১. John Green, 'Mansa Musa and Islam in Africa - Crash Course World History #16' online video, Crash Course.
১২. Firas al-Khateeb, Lost Islamic History. Op. cit.
১৩. Melvin Bragg, 'In Our Time Al-Kindi'. bbcnews.com. 28 June 2012; available at: http://www.bbc.co.uk/programmes/b01k2bv8
১৪. Karen Armstrong, Islam: A Short History op. cit.
১৫. 'Social Science and Economics' in 'The World' in Salim al- Hassani op. cit.
১৬. ফয়সাল মালিক, মাদরাসা, রিফর্ম ও মুসলিমদের জ্ঞানতাত্ত্বিক কলোনাইজেশন, অনুবাদ : আরমান ফিরমান, Medium, tinyurl.com/y5vgxdfx.
১৭. Amber Haque. "Psychology from Islamic Perspective: Contributions of Early Muslim Scholars and Challenges to Contemporary Muslim Psychologists' Journal of Religion and Health, Vol. 43, No. 4 (2004): 357-377.
১৮. John Walbridge, God and Logic in Islam: The Caliphate of Reason (Cambridge University Press, 2011) p: 99.
১৯. ফয়সাল মালিক op. cit.
২০. Sajid Muhammad Qasmi, Madrasa Education Framework (Delhi: MANAK Publications Pvt. Ltd, 2005) as cited in ফয়সাল মালিক
২১. Nidhal Guessoum. 'Islam and Science: The Next Phase of Debates' Zygon. 50:4 (2015).
২২. P. Kunitzsch, The Arabs and The Stars: Texts and Traditions on the Fixed Stars, and Their Influence in Medieval Europe (Variorum: Aldershot, 1989)

📘 মুসলিম মস্তিষ্ক বিজ্ঞানের অনবদ্য গল্প 📄 Glossary

📄 Glossary


• Automata: স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলন সম্ভব এমন সরল যন্ত্র।
• Classical Period (ক্লাসিক্যাল পিরিয়ড): সাধারণভাবে ১৬ শতক পর্যন্ত ইসলামের ক্লাসিক্যাল পিরিয়ড ধরা হয়। তবে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কথা বলেন। অনেকে ১৮ শতক পর্যন্ত বাড়ান, অনেকে বলেন বাগদাদের পতন অর্থাৎ ১২৫৮ পর্যন্ত হচ্ছে ইসলামের ক্লাসিক্যাল পিরিয়ড। টার্মিনোলজির ভিন্নতার কারণেও পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এই বইয়ে ১৬ শতক পর্যন্তই ইসলামের ক্লাসিক্যাল পিরিয়ড ধরা হয়েছে।
• Colonialism (কলোনিয়ালিজম): অন্য দেশের ওপর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষমতা লাভের প্রচেষ্টা; নিজ দেশের মানুষদের দ্বারা সে দেশের জায়গা দখল করা, সে দেশের মানুষের নিজ দেশের কালচারাল দাসে পরিণত করা এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে শোষণ করা।
• Continuity (কন্টিনুইটি): কোনো কিছু হঠাৎ একটা জাতিতে উৎপত্তি লাভ করে না; বরং আগের কাজের ওপর ভর করেই অন্য জাতি উন্নততর কাজ সাধন করে—এটা কন্টিনুইটি থিসিস নামে পরিচিত। মডার্ন সায়েন্সের ক্ষেত্রে এক বিজ্ঞানীর কাজ অন্যান্য বিজ্ঞানী স্টাডি করে, একাডেমিয়ায় সকল কিছু কানেক্টেড; একজন এক কাজ করছে, অন্যজন বিচ্ছিন্নভাবে আরেক জায়গায় একই ধরনের কাজ করে সময় নষ্ট করছে—এমন হয় না; বরং কাজের মাঝে সামগ্রিক ধারাবাহিকতা থাকে।
• Cryptography (ক্রিপ্টোগ্রাফি): সংখ্যা, শব্দ, চিহ্ন দ্বারা তৈরি কোডেড ম্যাসেজ বানানোর প্রক্রিয়া। তথ্য গোপন করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
• Revisionism (রিভিশনিজম): ইসলামের ওয়েস্টার্ন স্টাডির ক্ষেত্রে একটা ধারা, যেখানে একেবারে মৌলিক লেভেলে ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন ভিত্তিমূলক জিনিসের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা হয়।
• Rosetta Stone (রসেটা স্টোন): প্রাচীন মিশরীয় রাজা পঞ্চম টলেমি অ্যাপিফ্যানিসের একটি আদেশনামা। পাথরের ওপর লেখা। ওপরে ও মধ্যে প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় লেখা একটা হায়ারোগ্লিফিক স্ক্রিপ্টে, আরেকটা ডিমোটিক স্ক্রিপ্টে। নিচে প্রাচীন গ্রিক ভাষায় লেখা। তিন ভাষায় একই জিনিস লিখা থাকায় এর মাধ্যমে শেষে প্রাচীন মিশরীয় ভাষার বর্ণমালা ভেদ করা সম্ভব হয়।
• Royal Society (রয়‍্যাল সোসাইটি) : ইংল্যান্ডের একটি সায়েন্টিফিক ইমপ্রুভমেন্ট অর্গানাইজেশন; পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে একটিভ থাকা সায়েন্টিফিক সোসাইটি। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ ও ফান্ডিং-এ ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ স্থানে। রবার্ট হুক, আইজ্যাক নিউটন এবং ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সেরা বিজ্ঞানীরা এর সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
• Scientific Realism ও Anti-Realism: রিয়ালিস্টরা বলে, বিজ্ঞান আমাদের মহাবিশ্বের একটা বাস্তব চিত্র দেয়; তো এখানে ভালো একটা থিওরি আমাদের সত্যে পৌঁছে দেয়। ইন্দ্রিয়গতভাবে পর্যবেক্ষণ (Empirical Observation) করা যায় না—এমন বিষয়সমূহের ব্যাপারেও বিজ্ঞান যেসব তত্ত্ব দেয়, সেগুলো বাস্তব। অন্যদিকে অ্যান্টি-রিয়ালিস্টরা বলে, বিজ্ঞান ইন্দ্রিয়গতভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য নয়—এমন জিনিসের ব্যাপারে ভালো মানের একটা ধারণা করে কেবল; কোনো কিছুর ব্যাপারে ধারণা পর্যবেক্ষণগতভাবে ভালো মানের হলে এরপর তা সত্য কী মিথ্যা তাতে কিছু যায় আসে না। এখানে যেসব বস্তুগতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব না, সেসবের বাস্তবে অস্তিত্ব নেই বলে ধরা হয়। যেসব জিনিস বস্তুগতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব, সেসবের ব্যাপারে সঠিক বুঝ পাওয়ার জন্য 'অবাস্তব' কিছু বিষয় নিয়ে আসা হয়; যার ব্যাপারে একটা পর্যবেক্ষণমূলক ধারণা বিজ্ঞানীরা করেন। উদাহরণ : রিয়ালিস্ট বলবে ইলেকট্রন আছে, অ্যান্টি-রিয়ালিস্ট বলবে, সরাসরি ইন্দ্রিয়গতভাবে পর্যবেক্ষণ সম্ভব না তাই এটা অস্তিত্বহীন; তবে ইলেকট্রনের ধারণা একটা ভালো মানের ধারণা—যা পর্যবেক্ষণমূলক বিজ্ঞানে কাজে লাগে। ইলেক্ট্রনের ধারণা সঠিক, তবে বাস্তবে ইলেকট্রনের অস্তিত্ব নেই। অ্যান্টি-রিয়ালিস্টরা বলে, ইলেক্ট্রনের মতো বস্তুগুলোর বাস্তবে অস্তিত্ব না থাকলেও এর ধারণার প্রয়োগ সঠিক পর্যবেক্ষণমূলক ফলাফল এনে দেয়। ইলেক্ট্রন বাস্তবে আছে কী নেই—সেই আলোচনাই অপ্রয়োজনীয়। তো রিয়ালিস্টরা বলে—সত্য হচ্ছে বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য; অ্যান্টি-রিয়ালিস্টরা বলে—কেবল পর্যবেক্ষণমূলক সঠিকত্বই বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য। অ্যান্টি-রিয়ালিস্টদের মতে—বিজ্ঞান মেটাফিজিক্যাল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না, রিয়ালিস্টদের মতে পারে।
• Synthetic Biology (সিনথেটিক বায়োলজি): ফিজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে নতুন ধরনের বায়ো-টেকনোলজিক্যাল বস্তু তৈরি করার ফিল্ড।
• Transmutation (ট্রান্সমিউটেশন): বিভিন্ন পরীক্ষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে এক পদার্থকে আরেক পদার্থে রূপান্তরের প্রচেষ্টা।
• Apogee (অ্যাপোজি): পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান কোনো বস্তুর কক্ষপথের যে বিন্দু পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে।
• আশআরিয়‍্যা (أشعرية): ধর্মের ধর্মতত্ত্ব (Theology) থাকে। মানে ধর্মের মধ্যে থাকা মানুষের কিছু জিনিস বিশ্বাস করতে হয়। এই এক সেট বিশ্বাসের গঠনমূলক স্টাডিকে বলে ধর্মতত্ত্ব। ইসলামে একজন মুসলিম কী বিশ্বাস করবে; সেটা নিয়ে তিনটা মডেল আছে। যথা—আশআরি, মাতুরিদি ও আসারি/হাম্বলি/সালাফি। আশআরি ধর্মতত্ত্ব ইসলামের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত ধর্মতত্ত্ব। এটার উদ্ভব আবুল হাসান আশআরির (মৃত্যু ৯৩৫) অনুসারীদের থেকে। ১১শ শতকে আশআরিদের ক্ষমতায় উত্থান হয়।
• ফায়লাসুফ (فیلسوف): Philosopher-এর জন্য ব্যবহার করা আরবি শব্দ। ক্লাসিক্যাল সময়ের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে 'নিওপ্ল্যাটোনাইজড দার্শনিক' বোঝায়; নিরপেক্ষভাবে দার্শনিক না।
• বাইতুল হিকমা (House of Wisdom): ৯ম শতকে আব্বাসি খলিফা আল মামুন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বৃহৎ লাইব্রেরি ও সায়েন্টিফিক ট্র্যান্সলেশন সেন্টার। বানু মুসা ব্রাদার্স, আল কিন্দির মতো বিজ্ঞানীরা এখানে কাজ করতেন।
• মুলহিদ (ملحد): ধর্মত্যাগকারী। শারিয়াহর পরিভাষায় ইসলামি টার্মিনোলজি ব্যবহার করে, তবে তার বিকৃতি ঘটায়—এমন মানুষ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px